Author: ishika-banerjee

  • Suvendu Adhikari: রাজ্যে নতুন ৪৪টি জেটি, পৃথক জাহাজ দফতর! জাহাজমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শুভেন্দু অধিকারীর

    Suvendu Adhikari: রাজ্যে নতুন ৪৪টি জেটি, পৃথক জাহাজ দফতর! জাহাজমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শুভেন্দু অধিকারীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে নবান্নে বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল। বৈঠকে সঙ্গে ছিলেন জাহাজ মন্ত্রকের অন্যান্য আধিকারিকরাও। জানা গিয়েছে, রাজ্যের নতুন বন্দরের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতেই এই বৈঠক। এ ছাড়াও রাজ্যের বর্তমান বন্দরগুলোর পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয় এই বৈঠকে। পশ্চিমবঙ্গের উন্নতির জন্য সর্বাগ্রে প্রস্তুত ডাবল ইঞ্জিন সরকার, নবান্নে বৈঠকের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী।

    ৪৪টি নতুন জেটি

    শুভেন্দু জানিয়েছেন, ৪৪টি নতুন জেটি তৈরি করা হবে। তার অনুমোদন এত দিন ঝুলে ছিল। তবে সম্প্রতি ৪১টি জেটির জন্য সরকার অনুমোদন পেয়ে গিয়েছে। সেই অনুযায়ী কাজ শুরু হবে। কপিল মুনির আশ্রম এবং সাগর দ্বীপ নিয়ে সার্বিক ভাবে রাজ্য সরকারের যা অনুরোধ ছিল, কেন্দ্র তা মেনে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরের মেলায় রূপান্তরিত করতে কেন্দ্রের সব রকম সহযোগিতা পাওয়া যাবে। বলাগড়েও বন্দর যোগাযোগ সংক্রান্ত কাজ এবং ভাঙন রোধের পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে। রাজ্যে পৃথক জাহাজ দফতর তৈরি করতে চায় শুভেন্দুর সরকার। কেন্দ্রের সঙ্গে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। যোগ্য আধিকারিকদের এ বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু।

    মমতা সরকারের অপরিকল্পিত ভাবনা

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ২০২২ সালে আদানি গোষ্ঠীকে লেটার অফ ইন্টেন্ট দিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু তারপর দু বছরের বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কাজ না শুরু হওয়ায় রাজ্য সরকার টেন্ডার বাতিলের চিন্তাভাবনা শুরু করে। এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে তত্‍কালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার বৈঠকে আদানি গোষ্ঠীকে দেওয়া লেটার অফ ইন্টেন্ট বাতিল করা হয়। যার নির্যাস, তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প (Tajpur Deep Sea Port) বিশবাঁও জলে। ২০২৩ সালের বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্পের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করবে রাজ্য সরকার। টেন্ডার মূল্য প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকা। এরপর তাজপুর নিয়ে আরও কোনও আলোচনাই হয়নি। রাজ্যের প্রস্তাবিত ওই প্রকল্প নিয়ে ফের চর্চা শুরু হয় বুধবার অর্থাত্‍ ৩ জুন আদানি পোর্টের এমডি করণ আদানির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মিটিংয়ের পর।

    কেন দাঁড়ায়নি প্রকল্প

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর কথায়,‘‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরে মুল্যায়ন করতে গিয়ে দেখেছি, সরকারের হাতে কোনও জমিই ছিল না। আমি তখন বিরোধী দলনেতা হিসেবেও বারবার বলেছিলাম, তাজপুর বন্দরের প্রকল্প কখনও দাঁড়াবে না, যতদিন না রেল, জাতীয় সড়ক যোগাযোগ ও ওয়্যারহাউসের জন্য কয়েক হাজার একর জমি না পাওয়া যায়। ফাইনালি সরকার পরিবর্তন হওয়ার পরে আমাদের আধিকারিকরা যা মূল্যায়ন করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে, ওখানে পোর্ট সম্ভবই নয়। কারণ রাজ্য সরকারের হাতে কোনও জায়গাই নেই। কিন্তু মানুষকে আমরা আশাহত করছি না, আমরা একটি প্রস্তাব দিয়েছি, তাজপুর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবাড়, যেখানে নুনের পুরনো ফ্যাক্টরি ছিল, সেখানে ১৭০০ একর জমি রাজ্য সরকারের হাতে রয়েছে। আমরা এবার এই জমি নিয়েই এগোবো। ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার রেভিনিউ শেয়ারিংয়েও আমরা রাজি আছি।’’

    ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) আরও জানান, সাগরমালায় যুক্ত হবে বাংলা। শিপিং, লজিস্টিকস এবং আমদানি রপ্তানি ব্যবসার জন্য পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প সাগরমালা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, পূর্বতন সরকার ‘অনিচ্ছা এবং অপদার্থতার’ জন্য এই প্রকল্পের অংশ হয়নি। তার ফলে সাগরমালা ১ হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে। এবার কেন্দ্র সরকারের উদ্যোগে বাংলা সাগরমালা ২-এর অধীনে এল। তার ফলে রাজ্যে ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাংলায় হবে বলেই আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর।

     

     

     

     

  • Suvendu Adhikari: দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর! কলকাতায় ওয়াটার মেট্রো, সাগরমালায় যুক্ত হবে বাংলা একগুচ্ছ ঘোষণা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর! কলকাতায় ওয়াটার মেট্রো, সাগরমালায় যুক্ত হবে বাংলা একগুচ্ছ ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জমি না থাকার ফলে তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর (Tajpur Seaport) হওয়া সম্ভব নয়। বিকল্প হিসেবে দাদনপত্রবাড়ে হতে পারে গভীর সমুদ্রবন্দর। বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে এমনটাই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানিয়েছেন, তাজপুরের প্রকল্পটি সম্পর্কে আদানিদের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে। ওই প্রকল্পের জন্য পর্যাপ্ত জমি রাজ্য সরকারের কাছে নেই। তাই তাজপুর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবাড়কে কেন্দ্র করে নতুন পরিকল্পনা সাজিয়েছে সরকার। সেখানে ১৭০০ একর জমি রাজ্যের মালিকানাধীন। বন্দর, উপকূলবর্তী এলাকা এবং কলকাতার নদী সংলগ্ন এলাকা নিয়ে বৃহস্পতিবার নবান্নে একটি বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই নির্দিষ্ট কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর

    পূর্বতন রাজ্য সরকারের আমল থেকেই শোনা গিয়েছিল তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি হবে। তার ফলে বদলে যাবে তাজপুরের চেহারা। বাড়বে কর্মসংস্থান। তবে সে প্রকল্প আজও বাস্তবায়িত হয়নি। রাজ্য সরকারের পালাবদলের পর এই বিষয়ে নজর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার করণ আদানির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বাস্তব সমস্যা উপলব্ধি করেই শিল্পের জন্য বিকল্প পথ খুঁজলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন শুভেন্দু বলেন, “তাজপুরে সরকারের কাছে জমি নেই। তাই সেখানে গভীর সমুদ্রবন্দর হওয়া সম্ভব নয়। তার পরিবর্তে তাজপুর থেকে ১০ কিমি দূরে দাদনপাত্রবাড়ে যেখানে নুনের পুরনো কারখানা ছিল সেখানে ১ হাজার ৭০০ একর জমি রয়েছে। ওই জায়গাটির কথা করণ আদানিকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।” পরবর্তীকালে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলেও জানান তিনি।

    কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা

    কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের সঙ্গেও তাজপুর নিয়ে কথা হয়ে গিয়েছে শুভেন্দুর। তিনি বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে। তিনি অনুমতি দিয়েছেন। তাজপুরের বদলে দাদনপত্রবাড়ে আমরা বাস্তবসম্মত ভাবে এগোব।’’

    ওয়াটার মেট্রো কলকাতায়

    রাজ্য সরকারের পালাবদলের পরই কলকাতার জলপথ পরিবহণে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ভাবনাচিন্তায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, এবার কলকাতায় চালু হতে চলেছে ওয়াটার মেট্রো। এখনও পর্যন্ত দেশের মোট ১৭টি জায়গায় এই পরিষেবা চালু রয়েছে। ১৮ তম শহর হিসাবে যুক্ত হল তিলোত্তমার নাম। প্রথম পর্যায়ে গুয়াহাটি, শ্রীনগর, বারাণসী, অযোধ্যা, প্রয়াগরাজ, পাটনায় চালু হবে ওয়াটার মেট্রো। তেজপুর এবং ডিব্রুগড়েও চালু হওয়ার কথা ওয়াটার মেট্রো। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী বলেন, এবার কলকাতাতেও (Kolkata) চালু হবে ওয়াটার মেট্রো। বলে রাখা ভালো, নদী, খাল, হ্রদ বা জলপথ ব্যবহার করে একটি আধুনিক নৌযান হল ওয়াটার মেট্রো। এটি কলকাতা মেট্রোর মতোই সময় ধরে চলাচল করবে। কলকাতা ও হাওড়ায় রয়েছে হুগলি নদী। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। তাই জলপথে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হলে উপকৃত হবেন বহু যাতায়াতকারী। যন্ত্রচালিত হওয়ায় অতি দ্রুত এক স্থান থেকে অন্যত্র যাতায়াতে সম্ভব। তাই স্বাভাবিকভাবে ওয়াটার মেট্রোর মাধ্যমে যাত্রীরা অতি দ্রুত নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছতে পারবেন। তার উপর আবার এই ওয়াটার মেট্রো পরিবেশবান্ধব। তার ফলে পরিবেশেরও কোনও ক্ষতি হবে না। ভাড়ায় মানুষের নাগালের মধ্যে। তাছাড়া পর্যটনের ক্ষেত্রেও এই ওয়াটার মেট্রো যথেষ্ট আকর্ষণীয়। তাই ওয়াটার মেট্রো চালু হলে কলকাতাবাসী যে যথেষ্ট উপকৃত হবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

    সাগরমালায় যুক্ত হবে বাংলা

    কেন্দ্রের ‘সাগরমালা ২’ প্রকল্পেও পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দুর সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সাগরমালা ১ প্রকল্পে আগের সরকার যুক্ত হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি কমিটি গঠন করার কথা ছিল। কিন্তু ‘সাগরমালা ২’ আবার শুরু হচ্ছে। আমরা তাতে যুক্ত হব। এই প্রকল্পের একটি প্রস্তাবনা আমরা প্রস্তুত করব। পাঁচ বছরের জন্য ২২৭০০ কোটি টাকার প্রস্তাব তৈরি করা হবে। তাতে বন্দরের যোগাযোগ ব্যবস্থা, উপকূল অঞ্চলে মাছ ধরার পরিকাঠামো, সাগর, কাকদ্বীপ, নামখানা, নয়াচর, খেজুরি থেকে শুরু করে ওড়িশার সীমান্ত পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের কষ্ট দূর করতে উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হবে।’’

    কলকাতার সমস্ত ঘাটের সৌন্দর্যায়ন

    কলকাতা নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। শহরের সমস্ত ঘাটের সৌন্দর্যায়ন এবং পুনর্নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, বাগবাজার ঘাট, শোভাবাজার ঘাট, আহিরিটোলা ঘাট, মল্লিকঘাট, বাবুঘাট, রামকৃষ্ণপুর ঘাট, বান্দা ঘাট নিয়ে সরকার কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে দু’টি ঘাটের সৌন্দর্যায়নের কাজ শেষ। বাকিগুলির কাজও দ্রুত শেষ করতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। দুর্গাপুজোর মধ্যেই ঘাটগুলির নবীকরণ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে সরকার। ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব এবং মা সারদাদেবীর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহ্যকে এই ঘাটগুলির সৌন্দর্যায়নে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হবে।

    কলকাতা বন্দরে অবৈধ সিন্ডিকেট

    শহরে জমি জবরদখল এবং বিপজ্জনক বাড়িতে বসতি নিয়েও নবান্নের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, পুরসভাকে এই সংক্রান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। যদি তাঁরা জমি দেন, সরকার আর্থিক ভাবে দুর্বল শ্রেণিকে ঘর বানিয়ে দেবে। এ ছাড়া, কলকাতা বন্দরে অবৈধ সিন্ডিকেট, তোলাবাজি রুখতে এ বার থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষ, পুরসভা, পুলিশ, সিআইএসএফ, কাস্টম্‌স এবং গোয়েন্দা বিভাগ একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

     

     

     

  • FIR Against Mamata: হাদি হত্যা নিয়ে দেশবিরোধী মন্তব্য মমতার! দেশের তথ্য ফাঁসের অভিযোগে এফআইআর দায়ের

    FIR Against Mamata: হাদি হত্যা নিয়ে দেশবিরোধী মন্তব্য মমতার! দেশের তথ্য ফাঁসের অভিযোগে এফআইআর দায়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের ওসমান হাদি হত্যা নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিতর্কিত মন্তব্য গুরুত্ব পেল না পদ্মাপাড়েই। উল্টে ফের মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হল। উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখার জন্য শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পদ থেকে সরতেই কীভাবে দেশের অন্দরের তথ্য ফাঁস করলেন মমতা, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। গত ২ জুন রানি রাসমণি রোডের ভরা সভা থেকে নাম না করে বাংলাদেশের ওসমান হাদি হত্যা নিয়ে বিতর্কিত কথা বলেন মমতা। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে জড়িয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য ছুঁড়ে দেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

    কেন অভিযোগ দায়ের

    আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায় মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে খুন হন বিতর্কিত ওসমান হাদি। হাদির হত্যাকারীরা গত জানুয়ারিতে মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে এ রাজ্যে এলে দুজনকে গ্রেফতার করে রাজ্যের এসটিএফ। এরপর এই নিয়ে ২ জুনের ভরা সভা থেকে মমতা নাম উল্লেখ না করলেও সেই প্রসঙ্গ তুলে ইঙ্গিত করেন, অন্য দেশে খুন হলেও কারা জড়িত তিনি জানেন। নাম জড়ান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও। এতে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। সেই কারণেই রিঙ্কি শিলিগুড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    বাংলাদেশকে ভারতের বিরুদ্ধে করার প্রয়াস

    রিঙ্কি বলেন, “উনি মুখ্য়মন্ত্রী থাকাকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যাই কথা হোক, সেটা এখন বাংলাদেশের একটা হত্যাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে সংগঠিত হত্যা বলে চালাচ্ছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করলেন। বিশ্বদরবারে ভারতের মাথা নত করলেন। বাংলাদেশের হিন্দুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেন। পদে আসার সময় শপথ নিয়েছিলেন যে উনি কোনওদিন দেশের গোপনীয়তা বজায় রাখবেন। যেই না পদ চলে গেছে অমনি উনি মৌলবাদীদের উস্কে দিলেন।” আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ধরনা মঞ্চ থেকে মমতা যে উক্তি করেছেন তা সাংঘাতিক। বাংলাদেশকে ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা। এর ফলে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর আক্রমণ বাড়বে।

    মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

    • ● ১৫২- দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC)
    • ● ১৫৩-দাঙ্গা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উস্কানি, জাতি ও ধর্মের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো
    • ● ১৫৩ এ- ধর্ম, জাতি, ভাষা, বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা, হিংসা, বা ঘৃণা ছড়ানো
    • ● ১৯১ ও ১৯২ ধারা- দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা
    • ● ১৯৬ ধারা-ধর্ম,বর্ণ,ভাষা বা অঞ্চলের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা বা বিদ্বেষ ছড়ানো এবং জনসম্প্রীতি বিনষ্ট করলে
    • ● ৩৫১- কোনও ব্যক্তিকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কাজ করতে বাধ্য করার চেষ্টা
    • ● ৩৫২-ইচ্ছাকৃত ভাবে শান্তি ভঙ্গ করার উদ্দেশ্য

    পাত্তা দিল না বাংলাদেশ

    তবে, বাংলাদেশের মূলধারা রাজনৈতিক দলগুলি তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্য নিয়ে তেমন একটা আগ্রহ দেখায়নি। কোন দলই পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর (West Bengal Ex CM) বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে চায়নি। বাংলাদেশের শাসক দল বিএনপি (BNP) সরকারিভাবে কোন প্রতিক্রিয়া না দিলেও সে দেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ মমতার বক্তব্যকে গুরুত্ব দেননি। তিনি বলেন, উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সদ্য নির্বাচনে হেরে গিয়েছেন। একজন ব্যক্তি বিশেষের কথা নিয়ে সরকারের‌ তরফে প্রতিক্রিয়া দেওয়া উচিত হবে না।

    কী বলেছেন মমতা

    মঙ্গলবার ধর্মতলায় তৃণমূলের ধর্না কর্মসূচিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের একটি হত্যা মামলার আসামি ভারতের মেঘালয় দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। হোম মিনিস্টার তখন আমাকে ফোন করে বলেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ যেন দেশের স্বার্থে এই ব্যাপারে মুখ না খোলে। তিনি আরও বলেন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? সবটাই জানি।’ তৃণমূল নেত্রীর ওই মন্তব্যের পর আলোচনায় আসে বাংলাদেশের ইসলামিক ঐক্য জোটের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ। গত বছর ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় দিন দুপুরে তাঁকে খুন করা হয়। তারই হত্যাকারীদের ভারতীয় পুলিশ গ্রেফতার করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে অনেকেই ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ বলে ধরে নিচ্ছেন। হোম মিনিস্টার বলতে তিনি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ইঙ্গিত করেছেন বলেও মনে করা হচ্ছে। যদিও তিনি অমিত শাহের নাম মুখে আনেননি। ‌ উল্লেখ করেননি হাদির নামও।

    মমতার মন্তব্য উদ্দেশ্য প্রণোদিত

    মঙ্গলবার ধর্মতলার কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত তাদের নাম যদি বলি তাহলে বাংলাদেশের তোলপাড় হবে। ওয়াকিবহাল মহলের অনেকের মতে, মমতার কথায় বাংলাদেশে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছিল। বাস্তবে সে‌ দেশের শাসক-বিরোধী কোনও দলই তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর বক্তব্যকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। বাংলাদেশের একাধিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রের খবর বিএনপি নেতৃত্ব একান্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছে। তারা মনে করছে নির্বাচনে ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রে শাসকদল বিজেপিকে নিশানা করতে এই মন্তব্য করেছেন। বিএনপির এক বর্ষীয়ান নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। সেখানে বিজেপি সরকার গড়েছে। এই পরিস্থিতিতে তার কোন মন্তব্য নিয়ে ভারতের সঙ্গে বিবাদে জড়াতে চায় না বিএনপি। ওই নেতার কথায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে একটি দেশ-বিরোধী পদক্ষেপ। ভারতের রাজনীতির এই অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে, তাই বিএনপি মাথা গলাতে আগ্রহী নয়। হাদির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলে আবেদন জানিয়ে রেখেছে। দুই দেশ যৌথভাবে ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চালাচ্ছে।

  • PM Modi: টলছে নেহরুর আসন! ভারতে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী থাকার নজির গড়ার পথে মোদি

    PM Modi: টলছে নেহরুর আসন! ভারতে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী থাকার নজির গড়ার পথে মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঐতিহাসিক নজির গড়তে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে সবথেকে দীর্ঘ সময় ধরে একটানা দেশের প্রধান (Longest Serving Head of Government) হয়ে কাজ করার রেকর্ড গড়তে চলেছেন তিনি। আগামী ১০ জুন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচিত হতে চলেছে। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) একটানা দেশের দীর্ঘতম সময় দায়িত্বে থাকা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়বেন। তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর (Jawaharlal Nehru) ৬২ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে নতুন নজির স্থাপন করবেন।

    নেহরুর রেকর্ড ভাঙবেন মোদি

    ২০১৪ সালের ২৬ মে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে ১০ জুন, ২০২৬-এ মোদির টানা দায়িত্বকাল দাঁড়াবে ৪,৩৯৯ দিনে। এর ফলে তিনি নেহরুর ৪,৩৯৮ দিনের ধারাবাহিক প্রধানমন্ত্রিত্বের রেকর্ড অতিক্রম করবেন। নেহরু ১৯৫২ সালের ১৩ মে স্বাধীন ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন এবং ১৯৬৪ সালের ২৭ মে তাঁর মৃত্যুর আগে পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। এর আগেই ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই মোদি ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর (Indira Gandhi) দীর্ঘতম টানা প্রধানমন্ত্রিত্বের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যান। ইন্দিরা গান্ধী ১৯৬৬ সালের ২৪ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৭ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত মোট ৪,০৭৭ দিন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

    নেহরু ও মোদির শাসনকাল দুই ভিন্ন যুগের ছবি

    বিশেষজ্ঞদের মতে, নেহরু ও মোদির শাসনকাল দুই ভিন্ন যুগের প্রতিচ্ছবি। নেহরুর সময় ভারতের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৩৪ কোটি। অন্যদিকে ২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার সময় দেশের জনসংখ্যা ১৩১ কোটির বেশি ছিল, যা বর্তমানে ১৪৬ কোটিরও বেশি। দেশের গণতান্ত্রিক পরিসরও কয়েক দশকে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ১৯৫১-৫২ সালের প্রথম লোকসভা নির্বাচনে যেখানে ৫৩টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল, সেখানে ২০১৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয় ৪৬৪ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তা দাঁড়ায় ৭৪৪-এ। একইভাবে ভোটারের সংখ্যা প্রথম সাধারণ নির্বাচনের প্রায় ১৭ কোটি থেকে বেড়ে ২০১৪ সালে ৮৩ কোটিরও বেশি হয়।

    রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও পার্থক্য

    রাজনৈতিক পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও নেহরু ও মোদির সময়ের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। নেহরুর সময় কংগ্রেসের একচ্ছত্র প্রভাব ছিল। ১৯৫২ সালের নির্বাচনে দলটি ৪৮৯টির মধ্যে ৩৬৪টি আসনে জয়ী হয়েছিল। বিপরীতে, মোদির নেতৃত্বে ভারত বহু আঞ্চলিক দল, জোট রাজনীতি এবং তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুগে পরিচালিত হয়েছে। মোদি আরও একটি অনন্য কৃতিত্বের অধিকারী। তিনি প্রথম অ-কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী যিনি টানা দুইবার পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সরকার গঠন করেছেন। পাশাপাশি নেহরুর পর তিনিই প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি ক্ষমতাসীন নেতা হিসেবে পরপর তিনটি লোকসভা নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন।

    দুই যুগের প্রযুক্তিগত পার্থক্য

    প্রধানমন্ত্রী মোদির শাসনামলে দেশের উচ্চশিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোরও উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হয়েছে। ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে আইআইটির সংখ্যা ১৬ থেকে ২৩, আইআইএমের সংখ্যা ১৩ থেকে ২১ এবং এআইআইএমএসের সংখ্যা ৭ থেকে ২৩-এ উন্নীত হয়েছে। প্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও দুই যুগের মধ্যে বিশাল পার্থক্য দেখা যায়। নেহরু এমন এক সময় দেশ পরিচালনা করেছিলেন, যখন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, সামাজিক মাধ্যম বা তাৎক্ষণিক ডিজিটাল যোগাযোগের অস্তিত্ব ছিল না। অন্যদিকে মোদির শাসনকাল কেটেছে ২৪ ঘণ্টার সংবাদমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিবিড় নজরদারির মধ্যে।

    নির্বাচিত সরকার প্রধানের স্বীকৃতি

    প্রসঙ্গত, চলতি বছর মোদি ইতিমধ্যেই গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর সম্মিলিত দায়িত্বকাল ৮,৯৩০ দিন অতিক্রম করে দেশের দীর্ঘতম সময়ের নির্বাচিত সরকারপ্রধানের স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ারে আগেও একাধিক রেকর্ড গড়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনিই গুজরাটের সবথেকে বেশি সময় ধরে থাকা মুখ্যমন্ত্রী। সবথেকে বেশি সময় মুখ্যমন্ত্রীর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রধানমন্ত্রীও মোদিই। একইসঙ্গে তিনি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী যার জন্ম স্বাধীনতার পর। ২০১৪ সাল থেকে পরপর তিনবার লোকসভা নির্বাচনে জয়ের রেকর্ডও রয়েছে তাঁর।

    মোদির একাধিক রেকর্ড

    ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসেন নরেন্দ্র মোদি। ২০১৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন তিনি। এরপর জাতীয় রাজনীতিতে পা রাখেন। ২০১৪ সালের ২৬ মে দেশের ১৪তম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন। তিনিই প্রথম অ-কংগ্রেসী নেতা, যিনি লোকসভায় সম্পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন। অ-কংগ্রেসী প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও তিনি দুইবারের মেয়াদ পূরণ করে, তৃতীয় মেয়াদে দেশ সামলাচ্ছেন। এই বছর ডিজিটাল মাধ্যমেও একাধিক রেকর্ড গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ইউটিউবে তাঁর চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ৩০ মিলিয়ন অর্থাৎ ৩ কোটি পার করেছে। বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রনেতার থেকে তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যা বেশি। ইন্সটাগ্রামে প্রধানমন্ত্রী মোদির ফলোয়ার্সের সংখ্যা পার করেছে ১০০ মিলিয়ন। তিনিই বিশ্বের প্রথম রাজনৈতিক নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধান, যার ফলোয়ার্সের সংখ্যা ১০ কোটির বেশি। এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী মোদির ফলোয়ার্সের সংখ্যা ১০৬.৪ মিলিয়ন। প্রধানমন্ত্রী মোদির দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ছাপ পড়েছে। বিশ্লেষকের মতে, মোদির নেতৃত্বে ভারত এক নতুন রাজনৈতিক ধারায় প্রবেশ করেছে, যার প্রভাব আগামী প্রজন্মেও পড়বে।

  • India Vs New Zealand: ‘ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সিরিজ’! শতবর্ষ উদযাপনে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে খেলবে ভারত

    India Vs New Zealand: ‘ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সিরিজ’! শতবর্ষ উদযাপনে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে খেলবে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইপিএল (IPL 2026) শেষ হতেই ফ্র্যাঞ্চাইজির জার্সি ছেড়ে দেশের জার্সি পরতে দেখা যাবে কোহলি (Virat Kohli), গিলদের (Shubman Gill)। চলতি বছরে নিউজিল্যান্ড সফরে যাচ্ছে ভারতীয় দল (India Vs New Zealand)। যেখানে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে বড় একটি সিরিজ খেলবে তারা। ৪০ দিনের সফরে মোট ১২ ম্যাচের এই সিরিজই হতে চলেছে কিউয়িদের মাটিতে ভারতের অন্যতম বৃহত্তম সফর। এর মধ্যে পাঁচ ম্যাচে মাঠে নামবেন তারকা ক্রিকেটাররা। সবার নজর বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার দিকে। বুধবার পূর্ণাঙ্গ সূচি ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট।

    কবে থেকে শুরু হচ্ছে সিরিজ

    নিউজিল্যান্ড বোর্ডের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২২ অক্টোবর থেকে ১ ডিসেম্বর হতে চলেছে এই সিরিজ। নিউজিল্যান্ডের প্রধান ৫ ভেন্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে ৫ টি-টোয়েন্টি, ৫ ওয়ান ডে ও ২ টেস্ট ম্যাচ খেলবেন স্যান্টনার, গ্লেন ফিলিপ্সরা। মোট ১২ ম্যাচের এই সফর আসলে কিউয়িদের ক্রিকেট ইতিহাসে সবথেকে বড় দ্বিপাক্ষিক সফর হতে চলেছে। অকল্যান্ডে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। দুটি টেস্ট খেলা হবে ওয়েলিংটন ও ক্রাইস্টচার্চে। যেহেতু এই সিরিজের মধ্যে ওয়ান ডে ম্যাচও রয়েছে, তাই এই সিরিজে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাকে খেলতে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে সমর্থকদের কাছে। ওয়ান ডে ম্যাচগুলি শুরু হবে ৪ নভেম্বর থেকে। দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্কের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে এই বিশেষ সিরিজ আয়োজন করা হয়েছে। সফর শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে। তারপর ওয়ানডে সিরিজ এবং শেষে টেস্ট।

    ভারতের বিরুদ্ধে খেলা সব সময় আকর্ষণীয়

    নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের মুখ্য বাণিজ্যিক কর্তা গ্লেন ক্রিচলি এই সিরিজ নিয়ে বলেন, “ক্রিকেটের দুনিয়ায় ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজের মতো বড় আকর্ষণ খুব কমই আছে। আমরা চাই সমর্থকদের এমন অভিজ্ঞতা দিতে, যা তারা আগে পায়নি। শুধু খেলা নয়, ভারত-নিউজিল্যান্ডের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের বন্ধনও উদ্‌যাপন করা হবে। বিরাট কোহলি, জশপ্রীত বুমরাহদের মতো তারকাদের খেলা দেখার সুযোগ পাওয়া সত্যিই বিশেষ ব্যাপার।” অন্যদিকে, আইসিসি তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ‘আয়োজকরা ভারতের মুখোমুখি হবে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি, পাঁচটি ওয়ানডে এবং দু’টি টেস্ট ম্যাচে। মোট ম্যাচের সংখ্যার দিক থেকে এই ১২ ম্যাচের সূচিটি নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের ইতিহাসে বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সফর হতে চলেছে।’ উল্লেখ্য, ২০১৯-২০ মরশুমের পর এই প্রথম নিউজিল্যান্ডে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে ভারত। যদিও কিউয়িরা সম্প্রতি দু’বার ভারত সফরে এসেছে। ২০২৪-২৫ মরশুমে ভারতকে হোয়াইটওয়াশও করেছে। নিউজিল্যান্ডের ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্পিনার ইশ সোধি বলেন, “ভারতের বিরুদ্ধে খেলা সব সময়ই উপভোগ করি। ওরা অসাধারণ দল। তারকা ও প্রতিভায় ভরপুর। সিরিজটা খুব কঠিন হতে চলেছে।”

    ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড সিরিজের সূচি

    টি-টোয়েন্টি

    ২২ অক্টোবর, ক্রাইস্টচার্চ
    ২৪ অক্টোবর, ক্রাইস্টচার্চ
    ২৭ অক্টোবর, ওয়েলিংটন
    ৩০ অক্টোবর, অকল্যান্ড
    ১ নভেম্বর, হ্যামিল্টন

    ওয়ানডে

    ৪ নভেম্বর, অকল্যান্ড
    ৭ নভেম্বর, ওয়েলিংটন
    ১০ নভেম্বর, হ্যামিল্টন
    ১৩ নভেম্বর, মাউন্ট মাউনগানুই
    ১৫ নভেম্বর, মাউন্ট মাউনগানুই

    টেস্ট

    ১৯-২৩ নভেম্বর, ওয়েলিংটন
    ২৭ নভেম্বর-১ ডিসেম্বর, ক্রাইস্টচার্চ

  • Anik Dutta: টলিউডে শোকের ছায়া, গরমের দুপুরে ছাদ থেকে পড়ে রহস্যজনক মৃত্যু পরিচালক অনীক দত্তের

    Anik Dutta: টলিউডে শোকের ছায়া, গরমের দুপুরে ছাদ থেকে পড়ে রহস্যজনক মৃত্যু পরিচালক অনীক দত্তের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টলিউডে ফের শোকের ছায়া। বুধবার দুপুরে আচমকাই ছড়িয়ে পড়ে খবর— গড়িয়াহাটের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন পরিচালক অনীক দত্ত (Anik Dutta)। প্রথমে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানা যায়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। কী করে ছাদ থেকে পড়ে গেলেন অনীক, নেহাত দুর্ঘটনা, না কি অন্য কিছু, এখনও স্পষ্ট নয়। ভরদুপুরে তিনি ছাদে উঠেছিলেন কেন, তাও জানা যায়নি। গড়িয়াহাট থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পরিচালকের মৃত্যুকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।

    কীভাবে ঘটে দুর্ঘটনা

    বুধবার দুপুরে বহুতলের ছ’তলার ছাদ থেকে পড়ে যান তিনি। বহুতলের গা ঘেঁষে থাকা একটি গাছের ডালও ভেঙে যায়। ছাদ থেকে পড়ার সময় অনীক ওই গাছে ধাক্কা খান বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার সময় বাড়িতেই ছিলেন অনীকের স্ত্রী। তবে অনীক দুর্ঘটনাবশত পড়ে যান, না কি নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ ছিল, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। (Anik Dutta Dies)হাসপাতাল সূত্রে খবর, হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই মারা যান অনীক। তাঁর সারা শরীরে চাপ চাপ রক্ত ছিল। মাথায়, কাঁধে, বুকে আঘাত ছিল তাঁর। তাঁকে এমার্জেন্সিতে নিয়ে যাওয়া হলেও, মারা যান। অনীকের স্ত্রী হাসপাতালে রয়েছেন। মেয়ে আসছেন মুম্বই থেকে। দুপুর ৩টে বেজে গিয়েছে বলে আজ ময়নাতদন্ত হবে না। দেহ সংরক্ষণ করা হবে। ময়নাতদন্ত হবে কাল। দেহ নিয়ে কী হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে মেয়ে এসে পৌঁছনোর পর। গড়িয়াহাট থানার একটি টিমও হাসপাতালে রয়েছে। যে চিকিৎসক প্রথন অনীককে দেখেন, জিজ্ঞাসাবাদ কার হবে তাঁকেও।

    বাংলা সিনেমায় ব্যতিক্রমী চিন্তাভাবনা

    বাংলা সিনেমায় ব্যতিক্রমী চিন্তাভাবনা এবং তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনার জন্য আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন অনীক দত্ত (Anik Dutta)। বিজ্ঞাপনের জগৎ থেকে চলচ্চিত্র পরিচালনায় আসা অনীক দত্ত ২০১২ সালে ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ ছবির মাধ্যমে পরিচালনায় আত্মপ্রকাশ করেন। মুক্তির পরই ছবিটি দর্শকমহলে বিপুল সাড়া ফেলে। ভৌতিক আবহের আড়ালে সমাজ ও সময়কে ব্যঙ্গ করার অভিনব ভাষা তাঁকে বাংলা ছবির অন্যতম স্বতন্ত্র নির্মাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়। এরপর একে একে তিনি পরিচালনা করেন ‘আশ্চর্য প্রদীপ’, ‘মেঘনাদবধ রহস্য’, ‘বরুণবাবুর বন্ধু’, ‘অপরাজিত’-র মতো একাধিক আলোচিত ছবি। সত্যজিৎ রায়কে শ্রদ্ধা জানিয়ে তৈরি ‘অপরাজিত’ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছিল দর্শক ও সমালোচক মহলে। তাঁর ছবিতে বারবার উঠে এসেছে মধ্যবিত্ত বাঙালির মনন, সামাজিক টানাপোড়েন এবং সূক্ষ্ম রসবোধ। কেরিয়ারে মোট আটটি ছবি পরিচালনা করেন অনীক দত্ত। তাঁর শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’, যা ২০২৫ সালে মুক্তি পেয়েছিল। কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং নিজস্ব ঘরানার জন্য বরাবরই আলাদা মর্যাদা পেয়েছিলেন তিনি। সুদীর্ঘ কেরিয়ারে একাধিক সম্মান ও পুরস্কার পেয়েছেন অনীক। সেই তালিকায় রয়েছে ‘আনন্দলোক পুরস্কার’, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড’।

  • IPL 2026: দুর্গাপুজোর সময় আইপিএল! তীব্র গরম থেকে ক্রিকেটারদের স্বস্তি দিতে ভাবনা বিসিসিআই-এর

    IPL 2026: দুর্গাপুজোর সময় আইপিএল! তীব্র গরম থেকে ক্রিকেটারদের স্বস্তি দিতে ভাবনা বিসিসিআই-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী বছর থেকে দুর্গাপুজোর সময় হতে পারে আইপিএল (IPL 2026)। বদলে যেতে পারে আইপিএলের সময়। দীর্ঘ দিন ধরেই মার্চে শুরু হয় প্রতিযোগিতা। তা ছ’মাস পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। দু’টি কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে বোর্ড। এমনটাই জানিয়েছেন আইপিএলের চেয়ারম্যান অরুণ ধুমল। আপাতত অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। বরাবরই মার্চ থেকে মে – দেড়মাস হয় আইপিএল। তবে ২০২০ ও ২০২১ সালে কোভিডকালে সেপ্টেম্বরে আয়োজিত হয়েছিল আইপিএল। খুব সম্ভবত ওই সময়েই এবার থেকে আয়োজন করা হতে পারে আইপিএল। প্রবল গরম ও ক্রিকেটারদের অত্যধিক ক্লান্তির কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে আইপিএল কর্তৃপক্ষ।

    কেন পিছোচ্ছে সময়

    আইপিএলের গোড়া থেকেই মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত আইপিএল আয়োজন করা হয়। মাঝে ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনার কারণে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে হয়েছিল আইপিএল। তবে সব ঠিক থাকলে পাকাপাকি ভাবে ওই সময়েই আইপিএল আয়োজন করা হতে পারে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের প্রবল গরম এবং ক্রিকেটারদের ক্লান্তির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ধুমলের মতে, প্রতিযোগিতার সময় পিছোনোর জন্য কোনও চাপ রয়েছে এমন নয়। তা ছাড়া অনুমতি পেতে হবে সম্প্রচারকারী চ্যানেল এবং আইসিসি-রও। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে আইপিএল আয়োজন করা হলে সেই সময় উৎসবের মেজাজে থাকা সমর্থকদের বেশি সংখ্যায় মাঠে টেনে আনা যাবে বলে মত বোর্ডকর্তাদের। ওই সময়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে দুর্গাপুজো, দশেরা, দীপাবলি হয়। ধুমল বলেছেন, “প্রতিযোগিতা কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে সম্প্রচারকারী চ্যানেলের সঙ্গে বৈঠক করে ওদের মতামত জানতে হবে। একটা পরামর্শ অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে আইপিএল হতে পারে। বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে সময়টা খুবই ভাল। কারণ দীপাবলির ঠিক আগে আইপিএল হবে। এর পরের দ্বিপাক্ষিক সূচি দেখতে হবে আমাদের। সেই সময় আইপিএল করা যায় কি না তা বুঝতে হবে।”

    আইসিসি-কেও সূচি বদলাতে হবে

    ধুমল আরও জানান, আইপিএল শুধুমাত্র বিসিসিআই-এর ওপর নির্ভর করে না। যেহেতু এই প্রতিযোগিতায় অনেক বিদেশী প্লেয়াররা খেলে, তাই আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গেও কথা বলা দরকার। আইপিএলের সময়ে কোনও ক্রিকেট ম্যাচ রাখে না আইসিসি, যাতে সব দেশের ক্রিকেটারেরা অংশ নিতে পারেন। আইপিএলের সময় বদলালে আইসিসি-কেও সূচি বদলাতে হবে। এই মুহূর্তে আইপিএল খেলে মোট ১০ দল। ২০২২ সালে যোগ হয়েছে দুই নতুন দল, গুজরাট টাইটান্স ও লখনৌ সুপার জায়েন্টস। মোট ম্যাচ সংখ্যা ৭৪। এই ৭৪ ম্যাচ খেলা হয় দুই মাস জুড়ে। তবে যদি আইপিএল পিছিয়ে দুর্গাপুজোর সময় অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে বিশ্ব ক্রিকেটেও এর প্রভাব পড়বে। তবে যেহেতু বর্তমান সময়ে প্রচন্ড গরমের কারণে প্লেয়ারদের স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়ছে, তাই এই বিষয়ে ভেবে দেখতে পারে আইসিসিও।

  • ED Raid: কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নের বাড়িতে ইডি, আর্থিক দুর্নীতির মামলায় ১০ জায়গায় অভিযান

    ED Raid: কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নের বাড়িতে ইডি, আর্থিক দুর্নীতির মামলায় ১০ জায়গায় অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের (Pinarayi Vijayan) বাড়িতে বুধবার তল্লাশি অভিযানে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED Raid)। ‘কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড’ (সিএমআরএল) সংক্রান্ত এক দুর্নীতি মামলার সূত্র ধরেই এই তল্লাশি। ওই মামলায় জড়িত বিজয়নের কন্যা। শুধু বিজয়নের বাড়ি নয়, এই মামলায় কেরল জুড়ে আরও ন’জয়গায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে ইডি।

    কেন বিজয়নের বাড়িতে ইডি

    এর আগে কেরল হাই কোর্ট সিএমআরএলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। সিএমআরএল আবেদন করেছিল, ইডি তদন্ত যেন দু’সপ্তাহ স্থগিত থাকে। তদন্তে নেমে যেন ইডি সংস্থার কর্মকর্তাদের তলব না করে। পিনারাই বিজয়নের কন্যা টি বীণা-র নামে রয়েছে কোচি মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড (Cochin Minerals and Rutile Limited)। সেই সংস্থায় আর্থিক তছরুপ ও দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করছে। ইডি কর্তাদের উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, বিজয়নের কন্যা টি বীণার সংস্থা ‘এক্সালজিক সলিউশনস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের অংশ হিসেবে পিনারাই বিজয়নের বাড়িতে এই তল্লাশি অভিযান। অভিযোগ এই ‘এক্সালজিক সলিউশনস প্রাইভেট লিমিটেড’ (Exalogic Solutions Pvt Ltd) -কে নাকি সিএমআরএল -এর পক্ষ থেকে নাকি নিয়মিত অর্থ দেওয়া হত। এই অভিযোগ ঘিরেই শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে কোনও পরিষেবা না নিয়েই ওই সংস্থাকে মাসিক অর্থ দেওয়া হয়। আর বিরোধীরা এই নিয়ে নিশানা করেন বিজয়ন পরিবারকে। একাধিকবার অভিযোগ ওঠে দুর্নীতির।

    বিজয়নের কন্যার বিরুদ্ধে অভিযোগ দীর্ঘদিনের

    সম্প্রতি কেরালার পালাবদল হয়েছে। সরকারি বাসভবন ছেড়ে ভাড়া বাড়িতে চলে গিয়েছেন পিনারাই বিজয়ন। জানা গিয়েছে, বুধবার কেরালার ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে ইডি। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (PMLA) অনুসারে, তিরুবনন্তপুরমে বিজয়নের ভাড়া করা বাড়ি-সহ কেরালা জুড়ে মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বিজয়নের কন্যার মালিকানাধীন সংস্থা এক্সালজিক সলিউশনস (Exalogic Solutions)-কে অবৈধভাবে ১.৭২ কোটি টাকা দিয়েছিল সিএমআরএল বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও ওই আইটি সংস্থা সিএমআরএল-কে কোনও পরিষেবা দেয়নি। ওই অভিযোগের তদন্ত করার জন্য ২০২৪ সালে মামলা দায়ের করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডির এই তদন্ত বাতিল করে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে কেরালা হাইকোর্টে আবেদন করেছিল সিএমআরএল। কেরালা হাইকোর্ট ওই পিটিশন খারিজ করে দেওয়ার একদিন পরে এই তল্লাশি চালানো হয়।

  • India China Relation: ‘নাক গলানোর অধিকার নেই কারও’ কড়া জবাব ভারতের, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ নিয়ে কেন চিন-পাক যৌথ বিবৃতি?

    India China Relation: ‘নাক গলানোর অধিকার নেই কারও’ কড়া জবাব ভারতের, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ নিয়ে কেন চিন-পাক যৌথ বিবৃতি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের “অবিচ্ছেদ্য ও অখণ্ড অংশ”। এই বিষয়ে কোনও দেশের মন্তব্য করার “কোনও অধিকার নেই”। চিন ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে জম্মু ও কাশ্মীরের উল্লেখকে দ্ব্যর্থহীন ভাবে সমালোচনা করল ভারত। মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ভারতের অবস্থান সুসংগত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে সুপরিচিত। জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ, দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলই ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ ছিল, আছে এবং সবসময় থাকবে। এ বিষয়ে মন্তব্য করার অধিকার অন্য কোনও দেশের নেই।”

    চিন ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিকে প্রত্যাখ্যান

    মঙ্গলবার জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে চিন-পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, চিন ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে ভারতীয় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীর সংক্রান্ত যে মন্তব্য করা হয়েছে, তা ভারত “স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান” করছে। মে ২৬, ২০২৬-এ প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে ভারত তার দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা কোনওভাবেই আপসযোগ্য নয়। চিন সফরে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেন, তাতেই ফের উঠে আসে কাশ্মীর প্রসঙ্গ। সেই বিবৃতিতে পাকিস্তান চিনকে জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে অবহিত করেছে বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি চিনের তরফে জানানো হয়, রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদের ভিত্তিতে এই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।

    ভারতীয় ভূখণ্ডে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর

    চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (China–Pakistan Economic Corridor) নিয়েও ফের আপত্তি জানায় নয়াদিল্লি। ভারতের দাবি, এই প্রকল্পের একটি অংশ পাকিস্তানের বেআইনি দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। ফলে এই ধরনের উদ্যোগকে ভারত কখনওই মান্যতা দেবে না। বিদেশ মন্ত্রক আরও জানায়, সিপিইসি-সংক্রান্ত কার্যকলাপ নিয়ে ভারত একাধিকবার চিন ও পাকিস্তান—উভয় দেশকেই নিজেদের আপত্তির কথা জানিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, “তথাকথিত চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) প্রকল্পের কয়েকটি ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ডে অবস্থিত। আমরা অন্য কোনও দেশের এমন পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করি, যা ভারতের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ণ করে পাকিস্তানের বেআইনি ও বলপূর্বক দখলদারিকে বৈধতা দেয়। এই বিষয়টি পাকিস্তানি ও চিনা কর্তৃপক্ষকে একাধিক বার স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে।”

    সীমান্ত পারাপার জলসম্পদ সহযোগিতা

    এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আপত্তি তোলে ভারত। চিন ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে ‘সীমান্ত পারাপার জলসম্পদ সহযোগিতা’র কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে ভারতের বক্তব্য, চিন এবং পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি কোনও সীমান্তই নেই। ফলে এই ধরনের সহযোগিতার প্রশ্নই ওঠে না। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে হওয়া তথাকথিত সীমান্ত চুক্তিকে ভারত কখনও স্বীকৃতি দেয়নি। উল্লেখ্য, সেই সময় পাকিস্তান শাকসগাম উপত্যকার প্রায় ৫১৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকা চিনের হাতে তুলে দেয় বলে ভারতের দাবি।

    প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে সমর্থন চিনের

    কূটনৈতিক মহলের মতে, এই যৌথ বিবৃতিতে কাশ্মীর এবং জলসম্পদ প্রসঙ্গ তোলার মাধ্যমে পাকিস্তানকে আরও একবার প্রকাশ্যে সমর্থনের বার্তা দিল বেজিং। একই সঙ্গে ভারতের উপর চাপ তৈরি করার কৌশলও থাকতে পারে এর পিছনে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরের কাছে গওয়াদর বন্দরের কৌশলগত গুরুত্বও এই সম্পর্কের অন্যতম কারণ। চিন দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

    বেজিং-এর প্রাধান্য মেনে নিল ইসলামাবাদ

    অন্যদিকে পাকিস্তান আবারও ‘এক চিন নীতি’র প্রতি সমর্থন জানাতে বাধ্য হয়েছে। অর্থাৎ তাইওয়ানকে চিনের অংশ হিসেবেই মানছে ইসলামাবাদ। চিন সাধারণত বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সফরের সময় এই নীতির প্রতি সমর্থন আদায় করে থাকে। ২৩ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত চিন সফরে ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সফরকালে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। দুই দেশই জানিয়েছে, তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার বিষয়ে নতুন ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।

    কোয়াডের পাল্টা বেজিংয়ের বিবৃতি

    সম্প্রতি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত কোয়াডের বৈঠকে  ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের প্রভাব ঠেকাতেও তৎপর হয়েছে ভারত, আমেরিকা, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার চতুর্দেশীয় অক্ষ বা কোয়াড। মঙ্গলবার দিল্লিতে চতুর্দেশীয় জোটে বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে সেই বার্তাই উঠে এসেছে। চিনকে ঠেকাতে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজিতে যৌথ ভাবে বন্দর বানাবে কোয়াড গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলি। পাশাপাশি রফতানি ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কোয়াড। সরাসরি কোনও দেশের নামোল্লেখ করেনি তারা। ইঙ্গিত ছিল চিনের দিকেই বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ। কারণ, বিরল খনিজ রফতানির ক্ষেত্রে গত বছর থেকে কড়াকড়ি শুরু করেছে চিন। যার প্রভাব পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, এমনকি ভারতেও। কোয়াডের এই ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তেই ধাক্কা খেয়েছে বেজিং, তাই পাকিস্তানকে পাশে নিয়ে এই বিবৃতি, বলে মত বিশেষজ্ঞদের। অন্যদিকে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের পহেলগাঁও হামলারও কড়া নিন্দা করেছে কোয়াড।

    দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কড়া ভারত

    এই আবহেই চিন-পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিকে কেন্দ্র করে ভারত ফের কড়া কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করল। বিশেষ করে কাশ্মীর, লাদাখ এবং সিপিইসি ইস্যুতে নয়াদিল্লি যে কোনও আপসের পথে হাঁটবে না, সেই বার্তাই আরও একবার তুলে ধরা হল। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাশ্মীর ইস্যু এবং বিতর্কিত অঞ্চলে চিন-পাকিস্তানের কৌশলগত সহযোগিতা ঘিরে যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া তারই প্রতিফলন। মোদি সরকারের পরিষ্কার বার্তা, দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিয়ে আপোষ নয়।

  • Quad Meet: পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদ, নজরে চিন! কোয়াড বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

    Quad Meet: পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদ, নজরে চিন! কোয়াড বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কোয়াড (Quad) বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া একযোগে “মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক” গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল। একইসঙ্গে দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত ভয়াবহ জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানাল চার দেশ। মঙ্গলবার হায়দরাবাদ হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও, অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং এবং জাপানের বিদেশমন্ত্রী তোসেমিৎসু মোতেগি। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ এবং শক্তিসম্পদ ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারণ করেছে কোয়াড গোষ্ঠী ৷

    ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি

    মঙ্গলবার সকালে নয়াদিল্লিতে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের নেতৃত্বে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, জাপানের বিদেশমন্ত্রীরা বৈঠক করেন ৷ বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি বলপ্রয়োগ বা জবরদস্তির মাধ্যমে কোনও পক্ষের একতরফাভাবে স্থিতাবস্থা বদলের চেষ্টার বিরোধিতা করেছে কোয়াড দেশগুলি। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করেছে কোয়াড। গুরগাঁওয়ে অবস্থিত ভারতের ইনফরমেশন ফিউশন সেন্টারের মাধ্যমে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে নজরদারি ও তথ্য ভাগাভাগির উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে। এছাড়া ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে “কমন অপারেশনাল পিকচার” তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যাতে সামুদ্রিক নজরদারি আরও শক্তিশালী হয়। আসলে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তিকে রুখে দাঁড়ানোই এর মূল উদ্দেশ্য ৷

    পহেলগাঁও হামলার কড়া নিন্দা

    যৌথ বিবৃতিতে কোয়াড দেশগুলি “সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সীমান্তপারের জঙ্গি কার্যকলাপের” বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। বিশেষভাবে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হওয়া জঙ্গি হামলার উল্লেখ করে তার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, তাদের মদতদাতা ও অর্থ জোগানদাতাদের বিরুদ্ধে “দৃঢ় ও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ”-এর দাবি জানানো হয়েছে।

    দক্ষিণ চিন সাগর ও সমুদ্রপথ নিয়ে উদ্বেগ

    কোয়াড দেশগুলি দক্ষিণ চিন সাগর ও পূর্ব চিন সাগরের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যদিও কোনও দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে “বিপজ্জনক ও জবরদস্তিমূলক কার্যকলাপ”, জলকামান ব্যবহার, জাহাজে ধাক্কা মারা, নৌ চলাচলে বাধা এবং বিতর্কিত অঞ্চলের সামরিকীকরণের বিরোধিতা করা হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে অবাধ নৌ চলাচল ও বাণিজ্য বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশন (United Nations Convention on the Law of the Sea) মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    উত্তর কোরিয়া ও মায়ানমার প্রসঙ্গ

    বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কোয়াড দেশগুলি কোরীয় উপদ্বীপকে সম্পূর্ণ পরমাণু-মুক্ত করার পক্ষে অবস্থান জানায়। অন্যদিকে মায়ানমারের চলমান সংঘর্ষ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে অবিলম্বে হিংসা বন্ধ, বন্দিদের মুক্তি এবং সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    অর্থনীতি, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজে জোর

    বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ও অর্থনৈতিক চাপের প্রসঙ্গ তুলে কোয়াড দেশগুলি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals) নিয়ে নতুন কাঠামো গঠনের ঘোষণা করেছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খনিজ উত্তোলন, প্রক্রিয়াকরণ ও পুনর্ব্যবহারে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো হবে। এছাড়া “কোয়াড ইন্দো-প্যাসিফিক এনার্জি সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ” চালু করে জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীল বাজার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনও একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে।

    প্রযুক্তি, এআই ও আন্ডারসি কেবল

    বৈঠকে ৫জি, ৬জি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। নিরাপদ ডিজিটাল পরিকাঠামো ও নির্ভরযোগ্য সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের ডিজিটাল অর্থনীতির “মেরুদণ্ড” হিসেবে আন্ডারসি কেবল নেটওয়ার্কের সুরক্ষার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কোয়াডের সহায়তায় ২০২৬ সালের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের সব দেশকে আন্ডারসি কেবলের মাধ্যমে সংযুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    দুর্যোগ মোকাবিলা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা

    প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চার দেশ। পাপুয়া নিউ গিনির ভূমিধস ও মায়ানমারের ভূমিকম্পে যৌথ ত্রাণ কার্যক্রমের উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কোয়াড দেশগুলি জানিয়েছে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে তারা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।

    বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের বার্তা

    বৈঠকের শেষে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, “এই আলোচনার বেশির ভাগ অংশ এবং দ্বিপাক্ষিক মত বিনিময়ের অনেকটা জুড়ে ছিল বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিত ৷ আমরা চারজনই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সমুদ্রের ধারে বসবাসকারী গণতান্ত্রিক দেশ ৷ আমরা সুরক্ষিত এবং বাধাহীন সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করেছি ৷” একটি স্বাধীন ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অনেকগুলি দিক ও মাত্রা রয়েছে ৷ কোয়াড গোষ্ঠীর বৈঠকে সেই বিষয়গুলির উন্নতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে ৷ আগামী দিনে বিশ্বে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্ব প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, “আগামী দিনে, অর্থনৈতিক কাজকর্ম হোক বা শক্তিসম্পদের বাণিজ্য বা সমুদ্রে বাণিজ্য, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল বিশ্বে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে ৷ তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোয়াড গোষ্ঠীর দায়িত্বও বৃদ্ধি পাবে এবং আমাদের তার জন্য প্রস্তুত হতে হবে ৷”

LinkedIn
Share