Author: ishika-banerjee

  • Indian Cricket Team: অস্তাচলে সূর্যকুমার, উদয় সূর্যবংশীর! ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড সফরে ভারতের টি২০ দলের অধিনায়ক শ্রেয়স

    Indian Cricket Team: অস্তাচলে সূর্যকুমার, উদয় সূর্যবংশীর! ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড সফরে ভারতের টি২০ দলের অধিনায়ক শ্রেয়স

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় ক্রিকেটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ভারতীয় দলের নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে শ্রেয়স আয়ারের নাম ঘোষণা করল ভারতীয় বোর্ড। গত কয়েক দিন ধরেই এই নিয়ে জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেটে শুরু হয়ে গেল অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারের যুগ। আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড এবং এশিয়ান গেমসের দল নির্বাচনের পরেই এই ঘোষণা করে বিসিসিআই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব দলে জায়গা পাননি। সহ-অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন তিলক বর্মা। যশপ্রীত বুমরাকে আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড সিরিজ না রাখা হলেও এশিয়ান গেমসের দলে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি দলে অবশেষে সুযোগ পেয়েছেন তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী।

    নতুন অধ্যায়ের সূচনা

    আগামী ২৬ জুন থেকে শুরু হতে চলেছে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এর পরপরই ১ জুলাই থেকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হবে টিম ইন্ডিয়া। তারপর রয়েছে ২০২৬ এশিয়ান গেমস। এই দল ঘোষণার সবচেয়ে বড় চমক লুকিয়ে রয়েছে অধিনায়কত্বে। ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বের ব্যাটন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav)। তাঁর পরিবর্তে আয়ারল্যান্ড সফর, ইংল্যান্ড সিরিজ এবং এশিয়ান গেমসে ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়ার গুরুদায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয়েছে শ্রেয়স আয়ারের (Shreyas Iyer) কাঁধে। অনেকেই মনে করছেন, অজিত আগরকরের অধীনে নির্বাচক কমিটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

    উদয় সূর্যবংশীর

    মুম্বইয়ে বোর্ডের সদর দফতরে জাতীয় নির্বাচকদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। সেই বৈঠকেই সূর্যকুমার যাদবকে জাতীয় দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়ে। একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি দল থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে হার্দিক পাণ্ডিয়া এবং রিঙ্কু সিংকে। তবে বড় চমক হিসাবে প্রথমবারের মতো ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েছে মাত্র ১৫ বছর বয়সি বৈভব সূর্যবংশী। আইপিএলে দারুণ পারফরম্যান্স করে আলোচনায় আসা এই কিশোরকে নিয়ে আগে থেকেই আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ঘোষিত তিনটি দলেই তাকে রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ম্যাচে অভিষেক হলে বয়সের দিক থেকে সে ভেঙে দিতে পারে শচীন তেণ্ডুলকরের দীর্ঘদিনের রেকর্ড। ১৬ বছর ২০৫ দিন বয়সে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিলেন লিটল মাস্টার। আর বৈভবের বয়স এখন মাত্র ১৫ বছর ৭১ দিন। ফলে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামলেই সেই রেকর্ড ছাপিয়ে যাবে।

    বৈভবকে নিয়ে আশাবাদী নির্বাচকরা

    জাতীয় নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগরকর সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, আইপিএলে টানা দুই মরশুম ও অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণেই তাকে দলে নেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে। তিনি বলেন, “বৈভব নিজের যোগ্যতায় সুযোগ পেয়েছে। ওর পারফরম্যান্সই ওকে দলে নিতে বাধ্য করেছে। ও খুবই তরুণ। কিন্তু আইপিএলে ও অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে ভালো খেলেছে। আমরা সবাই ওর প্রতিভা ও মানসিক দৃঢ়তা দেখতে পাচ্ছি। সুযোগ পেলে নিজের সামর্থ্য আবারও প্রমাণ করবে বলেই আমরা আশাবাদী।”

    আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরে ভারতের দল: শ্রেয়স আয়ার (অধিনায়ক), অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন, ঈশান কিষন, শিবম দুবে, তিলক বর্মা, নীতীশ কুমার রেড্ডি, অক্ষর পটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর, সি ভি বরুণ, রবি বিষ্ণোই, মহম্মদ সিরাজ, হর্ষিত রানা, আরশদীপ সিংহ, প্রিন্স যাদব, বৈভব সূর্যবংশী।

    এশিয়ান গেমসের নির্বাচিত দল: শ্রেয়স আয়ার (অধিনায়ক), সঞ্জু স্যামসন, ঈশান কিষন, শিবম দুবে, তিলক বর্মা, নীতীশ কুমার রেড্ডি, অক্ষর পটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর, সিভি বরুণ, রবি বিষ্ণোই, হর্ষিত রানা, আর্শদীপ সিংহ, বৈভব সূর্যবংশী, যশপ্রীত বুমরা

  • Survey of Madrasa: ৫ জুলাইয়ের মধ্যে দিতে হবে রিপোর্ট, রাজ্যের সব মাদ্রাসার সমীক্ষার নির্দেশ নবান্নের

    Survey of Madrasa: ৫ জুলাইয়ের মধ্যে দিতে হবে রিপোর্ট, রাজ্যের সব মাদ্রাসার সমীক্ষার নির্দেশ নবান্নের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার (Survey of Madrasa) প্রকৃত চিত্র, পরিকাঠামো এবং শিক্ষার মান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে বিশেষ সমীক্ষার নির্দেশ দিল নবান্ন। ব্লক ও পুরসভা স্তরে থাকা সমস্ত মাদ্রাসার তথ্য সংগ্রহ করতে জেলার প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ জুলাই, ২০২৬-এর মধ্যে জেলাভিত্তিক রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর গত ৫ জুন সমস্ত জেলাশাসকের কাছে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, প্রতিটি ব্লক ও পুরসভা এলাকায় সমীক্ষা চালিয়ে মাদ্রাসাগুলির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

    কোনও মাদ্রাসাই সমীক্ষার বাইরে নয়

    নবান্নের নির্দেশ অনুযায়ী, সরকারি, বেসরকারি, স্বীকৃত, অস্বীকৃত এবং অনুদানপ্রাপ্ত— সব ধরনের মাদ্রাসাই এই সমীক্ষার আওতায় আসবে। রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষার একটি পূর্ণাঙ্গ ও হালনাগাদ তথ্যভান্ডার তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের মতে, এই তথ্যভান্ডার ভবিষ্যতে শিক্ষানীতি প্রণয়ন, শিশু কল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক নজরদারি আরও কার্যকর করতে সাহায্য করবে। সমীক্ষার সময় মূলত চারটি ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহ করা হবে—

    প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা ও আইনি স্বীকৃতি
    পরিকাঠামো ও উপলব্ধ সুযোগ-সুবিধা
    শিক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রমের ধরন
    ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা এবং সামাজিক বিন্যাস

    উদ্বেগের কারণ নেই, জানাল নবান্ন

    সমীক্ষা ঘিরে কোনও ধরনের উদ্বেগের প্রয়োজন নেই বলেও স্পষ্ট করেছে নবান্ন। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগ শুধুমাত্র তথ্য সংগ্রহ ও নীতিনির্ধারণের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। এর ভিত্তিতে কোনও মাদ্রাসা বন্ধ করা হবে না বা পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে না। পাশাপাশি, শিক্ষাবর্ষের স্বাভাবিক কার্যক্রমও এতে ব্যাহত হবে না। তবে, ৫ জুলাইয়ের মধ্যে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা বাধ্যতামূলক, বলে জানিয়েছে নবান্ন। তাই জেলাশাসকদের অবিলম্বে সমীক্ষার কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন এই সমীক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে।

  • Bengal Football: অভিষেকের ক্লাবে কালো টাকা! অরূপ-স্বরূপ জুটির ‘সিন্ডিকেট রাজ’, যুবভারতী থেকে আইএফএ— বিস্ফোরক অভিযোগে চাঞ্চল্য

    Bengal Football: অভিষেকের ক্লাবে কালো টাকা! অরূপ-স্বরূপ জুটির ‘সিন্ডিকেট রাজ’, যুবভারতী থেকে আইএফএ— বিস্ফোরক অভিযোগে চাঞ্চল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিক্ষা-স্বাস্থ্যের পর এবার রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রেও (Bengal Football) দুর্নীতির চিত্র ফুটে উঠছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তৃণমূলের নেতা-কর্মী তথা মন্ত্রী-সাংসদদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে একের পর এক তদন্ত শুরু করছে নয়া সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার সব স্তরের দুর্নীতি রুখতে বদ্ধ পরিকর। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এ বার তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সঙ্গে যুক্ত ডায়মন্ড হারবার এফসি-কে (Diamond Harbour FC) ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলির তদন্ত করতে চলেছে। রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক (Nishith Pramanik) জানিয়েছেন, ক্লাবের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে এবং প্রতিটি অভিযোগই বিস্তারিত ভাবে খতিয়ে দেখা হবে। বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসকেও। তিনি ঘটনাচক্রে বাংলার ফুটবল সংস্থা আইএফএ-র সহ-সভাপতিও। স্বরূপ গ্রেফতার হওয়ার পরেই তাঁর এবং অরূপের বিভিন্ন দুর্নীতিমূলক কাজকর্ম নিয়ে সরব হয়েছেন আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্তও। তাঁর দাবি, জোর করে বৈঠক ভেস্তে দেওয়া, স্পনসর আসতে না দেওয়া, এমনকি যুবভারতীর জেনারেটর নিয়েও সিন্ডিকেটবাজি করা হয়েছে।

    অভিষেকের ক্লাব-এর অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

    এ বছরই আই লিগ (Indian Football League) জিতে আইএসএলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ডায়মন্ড হারবার এফসি। ঠিক তার আগেই ক্লাবকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্লাবের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। সংবাদমাধ্যমকে নিশীথ জানান, ক্লাবের গঠন এবং কার্যকলাপ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়েছে সরকারের কাছে। নিশীথের কথায়, “ডায়মন্ড হারবারের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ পেয়েছি আমরা। সঠিক নিয়ম মেনে ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে কি না তা নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। পাশাপাশি ক্লাব চালানোর অর্থ কোথা থেকে আসে, কোথায় অর্থ খরচ করা হয় তা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আলোচনার জন্য স্পনসরদের ডাকা হতে পারে।”

    ফুটবল-ক্লাব ঘিরেও দুর্নীতি অভিষেকের!

    ডায়মন্ড হারবার যে মাঠে অনুশীলন করে, বিধাননগর স্পোর্টস কমপ্লেক্সের সেই মাঠ জোর করে দখল করে রাখার অভিযোগও জমা পড়েছে। নিশীথ বলেছেন, “দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। তদন্তে যা পাওয়া যাবে তার ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত সব প্রকাশ্যে আনা হবে।”তিনি আরও বলেছেন, “ক্রীড়া দফতর তদন্ত শুরু করেছে। আমরা নিয়মিত আইএফএ-র সঙ্গে আলোচনা করছি। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” নিশীথের দাবি, ডায়মন্ড হারবারের কিছু ফুটবলার সরকারি চাকরি করছেন। নিশীথ বলেন, “আমরা চাই সব ক্লাব ভাল খেলুক এবং উন্নতি করুক। কিন্তু অনৈতিক কোনও কাজ করলে কোনও ভাবেই তা বরদাস্ত করা হবে না।” প্রয়োজন হলে তদন্তে ইডি-র সাহায্যও নেওয়া হবে।

    সল্টলেক স্টেডিয়ামে সিন্ডিকেট-রাজ

    রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসকে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ তোলাবাজি ও নানা অভিযোগে গ্রেফতার করেছে। সল্টলেক স্টেডিয়াম (যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন) চত্বরে তাঁর বিরুদ্ধে জেনারেটর সিন্ডিকেট ও বিভিন্ন আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর রাজ্য ফুটবল মহলেও তাঁর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিগত সরকারের আমলে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বাংলার ফুটবল সংস্থা আইএফএ-র সহ-সভাপতিও হন। সে সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সল্টলেক স্টেডিয়ামে দুর্নীতির জাল বুনেছিলেন স্বরূপ। এমনই দাবি করলেন আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত। তাঁর কথায়, “সল্টলেক স্টেডিয়ামে যারাই খেলা আয়োজন করে, তাদের জেনারেটর ভাড়া নিতে হয়। অথচ সরকারের চারটে জেনারেটর রয়েছে। তবু সেগুলো ব্যবহার করা হয় না। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী এবং স্বরূপের চেনাজানা লোকের থেকে সেটা ভাড়া নিতে হত। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, আইএফএ— সবাইকে একই কাজ করতে হয়েছে। বাইরে থেকে কাউকে ডেকে আনা সম্ভব ছিল না। কারণ ওঁদের লোক পুরো সেট-আপ জানত।”

    সরকার ছাড়া বাংলায় খেলাধুলো চালানো সম্ভব নয়!

    ২০২৩ সালে অনির্বাণ সচিব নির্বাচিত হওয়ার সময় স্বরূপও সহ-সভাপতি হয়েছিলেন। শোনা যায়, তাতেও প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর চাপ ছিল। অনির্বাণ বললেন, “এটা মানতেই হবে যে, সরকার ছাড়া বাংলায় খেলাধুলো চালানো সম্ভব নয়। একটা ম্যাচ করতে হলেও স্টেডিয়াম লাগবে। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর ‘অনুরোধ’ সেই সময়ে রাখা হয়েছিল। উনি বলেছিলেন, আমার ভাই কেন থাকতে পারবে না? ওকেও রাখতে হবে।” অনির্বাণ জানান, স্বরূপ নিজে থেকে কলকাঠি নাড়তেন না। পুরো ব্যাপারটিই করতেন আইএফএ-র গভর্নিং বডিতে থাকা স্বরূপের ‘কাছের লোকেরা’। অনির্বাণ নাম করে তাঁদের ভূমিকার তুলোধনা করলেন। বললেছন, “স্বরূপের সঙ্গে যাঁরা থাকতেন, তাঁরা দিনের পর দিন আইএফএ-কে বিরক্ত করেছেন। রবীন ঘোষ, নজরুল ইসলাম, সৌরভ পালেরা লাগাতার আইএফএ-কে অকারণে চিঠি দিয়েছেন, মামলা করেছেন। অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছেন গভর্নিং বডির বৈঠকে।”

    প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কথা চলত

    আইএফএ সচিবের দাবি, তিনি দায়িত্বে আসার পর প্রথম থেকে এতটা অসহযোগিতা ছিল না। আস্তে আস্তে বাড়তে শুরু করে। অনির্বাণের দাবি, “প্রথমে হয়তো ওঁদের ধারণা হয়েছিল যে, আইএফএ-তে আমি হাতের পুতুল হয়ে থাকব। ওঁরা ইচ্ছেমতো দাপাদাপি করবেন। যখন দেখলেন সেটা হচ্ছে না, তখন ঝামেলা করা শুরু করলেন। প্রথম বছর থেকেই ঝামেলা শুরু হয়েছিল। আইএফএ-র ঘরে বসে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন ওঁরা। অতীতে এই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে কখনও এমন ঘটেনি। স্পনসর সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ক্রীড়ামন্ত্রী সব জানতেন। কিছু সুবিধা হয়নি। ছ’জন ভূমিপুত্র খেলানোর সিদ্ধান্ত প্রায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কোচেস কমিটির বৈঠকে ওঁদের প্রতিনিধিরা বলেছেন, বিশেষ এক জনকেই কোচ করতে হবে। তা হলে কোচেস কমিটির ভূমিকা কী?” সবক্ষেত্রেই বিগত সরকারের একনায়কতন্ত্র চলত বলে দাবি করেন আইএফএ সচিব। রাজ্যে পালা বদলের পর নতুন সরকার ক্রীড়াক্ষেত্রে দুর্নীতি দূর করবে বলেই আশা অনির্বাণের।

  • R Praggnanandhaa: ইতিহাস রচনা প্রজ্ঞানন্দের, নরওয়ে দাবায় প্রথম ভারতীয় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন

    R Praggnanandhaa: ইতিহাস রচনা প্রজ্ঞানন্দের, নরওয়ে দাবায় প্রথম ভারতীয় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নরওয়ে দাবায় (Norway Chess Title) খেতাব জিতলেন ভারতীয় গ্র‌্যান্ডমাস্টার আর প্রজ্ঞানন্দ (R Praggnanandhaa)। শুক্রবার শেষ রাউন্ডে তিনি হারান জার্মানির ভিনসেন্ট কেমারকে। প্রথম ভারতীয় দাবাড়ু হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন চেন্নাইয়ের ২০ বছরের তরুণ। শেষ দিনের খেলা শুরুর আগে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিলেন প্রজ্ঞানন্দ। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে স্নায়ুর চাপ বজায় রেখে ক্লাসিক্যাল বিভাগে জয় তুলে নেন তিনি। এই জয়ের ফলে তিন পয়েন্ট পেয়ে প্রজ্ঞার পয়েন্ট দাঁড়ায় ১৮-তে। যার ফলে তিনি বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় চ‌্যাম্পিয়ন হন।

    প্রজ্ঞানন্দের জয়ের পথ

    দ্বিতীয় বারের মতো নরওয়ে দাবায় অংশ নেওয়া প্রজ্ঞানন্দ শুরুতে কিছুটা ধীর গতিতে এগোলেও প্রতিযোগিতার দ্বিতীয়ার্ধে দুরন্ত ভাবে ঘুরে দাঁড়ান। তার অভিযানের অন্যতম বড় অর্জন ছিল নরওয়ে দাবায় সাত বারের চ্যাম্পিয়ন এবং বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় ম‌্যাগনাস কার্লসেনকে দু’বার হারানো। এই বিরল কীর্তিই তাঁর জয়ের রাস্তাটা অনেকাংশে খুলে দেয়। এদিন প্রজ্ঞানন্দের সেরার সেরা হওয়ার পথ আরও প্রশস্ত হয় যখন শেষ রাউন্ডে ১৫.৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা মার্কিন গ্র্যান্ডমাস্টার ওয়েসলি সো প্রতিদ্বন্দ্বী আলিরেজা ফিরৌজার বিরুদ্ধে ড্র করেন৷ ফলে তাঁদের ম্যাচ গড়ায় আর্মাগেডন টাইব্রেকে। এই ফলাফল ভারতীয় দাবাড়ুর আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দেয়৷ কারণ তিনি জানতেন দশম রাউন্ডে জয় পেলেই ভারতীয় দাবার ইতিহাসে নয়া অধ্যায়ের সূচনা করবেন। সেটাই সত‌্যি হল।

    প্রথম ভারতীয় হিসেবে নজির

    চলতি বছরের শুরুতে ক‌্যান্ডিডেটসে হতাশাজনক ফলের পর নরওয়ে দাবায় নিজের প্রতিভার জোরালো প্রমাণ দিলেন প্রজ্ঞানন্দ। শেষ পর্যায়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন গুকেশ শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে পড়লেও ভারতের আশা বাঁচিয়ে রাখেন প্রজ্ঞানন্দ এবং শেষ পর্যন্ত সেই আশা পূরণ করতেও সমর্থ হন। ২০১৩ সালে প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার পর ভারতীয় দাবার কিংবদন্তি বিশ্বনাথন আনন্দ বা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ডি গুকেশও নরওয়ে দাবার খেতাব অর্জন করতে পারেননি।

  • Saokat Molla Arrested: বাংলাদেশ পালানোর আগেই এনআইএ-র জালে! গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা

    Saokat Molla Arrested: বাংলাদেশ পালানোর আগেই এনআইএ-র জালে! গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে পালানোর আগেই গ্রেফতার ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা (Saokat Molla Arrested)। পালিয়েও মিলল না রেহাই ৷ অবশেষে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র জালে ধরা পড়লেন শওকত। জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে কামালগাজি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে এনআইএ’র আধিকারিকরা। তদন্তকারীরা অনেকদিন ধরেই তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শওকত এলাকা ছাড়া ছিলেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি এবং নজরদারি আরও জোরদার করা হয়। শেষে গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয় বলে খবর। শওকত মোল্লার মেয়ে অবশ্য সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন যে তাঁর বাবা গ্রেফতার হননি, আত্মসমর্পন করেছেন৷

    বাংলাদেশে পালানোর চেষ্টা

    এনআইএ সূত্রে দাবি, তদন্তের চাপ বাড়তেই দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন শওকত মোল্লা। এমনকী, বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন বলেও তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান। সীমান্তবর্তী কয়েকটি রুট নিয়েও খোঁজখবর নিচ্ছিলেন শওকত, এমনই দাবি এনআইএ-র (NIA Arrest Saokat)। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার এনআইএ তথ্য পায় যে শওকত আরও এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে এনআইএ বিএসএফ-কে সতর্ক করে এবং নজরদারি বাড়ানো হয়। তবে শওকত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি জানতে পেরে সীমান্ত পার হওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেন বলে জানা যায়। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত শওকত মোল্লা বা তাঁর আইনজীবীর পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    কোথায় গা-ঢাকা দিয়েছিলেন শওকত

    এনআইএ সূত্রে খবর, দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা বাতিল হতেই কলকাতার কাছাকাছি একটি জায়গায় গা-ঢাকা দিয়েছিলেন শওকত। তদন্তকারীরা পরে জানতে পারেন, শওকত তৃতীয় এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছিলেন। তদন্তের স্বার্থে এনআইএ তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং সেই যোগাযোগের সূত্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। সেই সূত্র ধরেই এনআইএ তাঁর গতিবিধি ট্র্যাক করে। শেষ পর্যন্ত কলকাতায় ফেরার চেষ্টা করার সময় এনআইএ শওকত মোল্লাকে আটক করে। সোনারপুরের কামালগাছি থেকে তাকে ধরা হয়েছে। এরপরই তাকে সরাসরি এনআইএ অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ, ।

    কেন গ্রেফতার শওকত

    ভোটের আগে ভাঙড়ের দক্ষিণ বামুনিয়া এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্তে নেমে তৃণমূল নেতা তথা ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার বাড়িতে হানা দিয়েছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। বুধবার ভোরে জীবনতলায় শওকত মোল্লার বাড়িতে পৌঁছন এনআইএ’র আধিকারিকরা। তবে সেখানে গিয়ে দেখা যায় বাড়িতে তালা ঝুলছে। এরপর তদন্তকারীরা আশপাশের এলাকায় খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তাঁর দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালান। দীর্ঘ সময় ধরে চলে জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য সংগ্রহের কাজ। তদন্তে সহযোগিতা না-করা এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বারবার তলব করা হলেও হাজিরা দেননি বলে অভিযোগ ওঠে দু’বারের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে। প্রথমে তাঁর ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে জেরা করার পর সন্ধ্যায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি শওকতের স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গেও কথা বলেন তদন্তকারীরা। এনআইএ-র এক আধিকারিক সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে বলেন, ‘‘ভাঙড় বোমা বিস্ফোরণ মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আমরা শওকত মোল্লাকে গ্রেফতার করেছি। আজ, অর্থাৎ শনিবার তাঁকে আদালতে পেশ করে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’’

  • India’s GDP: বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার মাঝেও চমক! ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৭%

    India’s GDP: বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার মাঝেও চমক! ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৭%

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখল ভারত। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের প্রকৃত (রিয়েল) জিডিপি বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৭ শতাংশ, যা আগের অর্থবর্ষের ৭.১ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একই সঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিক অর্থাৎ জানুয়ারি-মার্চ পর্বে জিডিপি বৃদ্ধির হার পৌঁছেছে ৭.৮ শতাংশে। শুক্রবার প্রকাশিত পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রকের (MoSPI) প্রভিশনাল জিডিপি অনুমানে এই তথ্য উঠে এসেছে।

    ৩২৩ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়াল প্রকৃত জিডিপি

    মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ ভিত্তিবর্ষের নিরিখে দেশের প্রকৃত জিডিপি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২৩.১২ লক্ষ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবর্ষে ছিল ২৯৯.৮৯ লক্ষ কোটি টাকা। বর্তমান মূল্যে (নমিনাল) ভারতের জিডিপি হয়েছে ৩৪৬.৩৬ লক্ষ কোটি টাকা, যা এক বছরে ৮.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই অঙ্ক ছিল ৩১৮.০৭ লক্ষ কোটি টাকা।

    জিভিএ-তেও শক্তিশালী বৃদ্ধি

    অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড (GVA)-তেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রকৃত জিভিএ বৃদ্ধি পেয়েছে ৭.৯ শতাংশ, যা আগের বছরে ছিল ৭.৩ শতাংশ। প্রকৃত জিভিএর পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ২৯৪.৯১ লক্ষ কোটি টাকা। অন্যদিকে, নমিনাল জিভিএ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৪.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা, যা বছরে ৯.১ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করছে।

    শেষ ত্রৈমাসিকে আরও গতি

    অর্থবর্ষের শেষ তিন মাসে অর্থনীতির গতি আরও বেড়েছে। জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬ ত্রৈমাসিকে প্রকৃত জিডিপি দাঁড়িয়েছে ৮৭.৭৭ লক্ষ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৮১.৪০ লক্ষ কোটি টাকা। ফলে ত্রৈমাসিক বৃদ্ধির হার হয়েছে ৭.৮ শতাংশ। এই সময়ে নমিনাল জিডিপি বেড়ে ৯৪.৬৫ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে, যা ৯.১ শতাংশ বৃদ্ধির সমান। একইসঙ্গে প্রকৃত জিভিএ ৭.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮০.১৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন, নির্মাণ, পরিষেবা, পরিবহণ এবং কৃষি খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স এই প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।

    কৃষি ও পরিকাঠামো খাতের বড় অবদান

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক চিত্র দেখা গিয়েছে। খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়েছে ৫.৩ শতাংশ। ধান, গম এবং অন্যান্য শস্যের উৎপাদন বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ। পরিকাঠামো খাতে সিমেন্ট উৎপাদন বেড়েছে ৮.৭ শতাংশ এবং সমাপ্ত ইস্পাতের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ শতাংশ, যা নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে জোরালো কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এছাড়া বাণিজ্যিক যানবাহন বিক্রি বেড়েছে ১২.৬ শতাংশ এবং তিন চাকার গাড়ির বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে ১২.৮ শতাংশ। গৃহস্থালি যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন ১৭.৪ শতাংশ, যাত্রী পরিবহণ যান ১৪.৭ শতাংশ এবং পণ্যবাহী যান ১৮.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    পরিষেবা ও রফতানি খাতের শক্তিশালী ভূমিকা

    ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে পরিষেবা খাতও বড় ভূমিকা পালন করেছে। আন্তর্জাতিক বিমান যাত্রী ও কার্গো পরিবহণ বেড়েছে ৯.৭ শতাংশ, আর অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৩.৭ শতাংশ। রেলপথে যাত্রী পরিবহণও ৫.৩ শতাংশ বেড়েছে, যা ভ্রমণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণকে নির্দেশ করছে। বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ছবি দেখা গিয়েছে। পণ্য ও পরিষেবা রফতানি বেড়েছে ৯.৩ শতাংশ, যদিও আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১১.১ শতাংশ। বিশেষভাবে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম আমদানি ১৯.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া শিল্প বিনিয়োগ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    রাজস্ব আদায়েও উন্নতি

    কেন্দ্র সরকারের রাজস্ব সংগ্রহেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। শুল্ক (কাস্টমস) আদায় বেড়েছে ১৩.৫ শতাংশ, কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক বেড়েছে ১৩.৯ শতাংশ এবং সিজিএসটি সংগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে ৬.৪ শতাংশ। অন্যদিকে কৃষকদের সহায়তায় সার ভর্তুকি ২১.৭ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই পরিসংখ্যানগুলি ২০২২-২৩ ভিত্তিবর্ষ ধরে তৈরি নতুন জিডিপি সিরিজের আওতায় প্রস্তুত করা হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এই নতুন সিরিজ চালু করা হয়। চতুর্থ ত্রৈমাসিক পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রভিশনাল অনুমানগুলি দ্বিতীয় অগ্রিম অনুমানের পরিবর্তে প্রকাশ করা হয়েছে। শিল্প উৎপাদন, জিএসটি সংগ্রহ, কর্পোরেট ফলাফল, কৃষি উৎপাদন, পরিবহণ, বাণিজ্য এবং সরকারি আর্থিক তথ্যের মতো একাধিক সূচকের ভিত্তিতে এই হিসেব তৈরি করা হয়েছে।

    বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির অন্যতম ভারত

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭.৭ শতাংশে পৌঁছানো এবং শেষ ত্রৈমাসিকে ৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন ভারতের অর্থনীতির দৃঢ়তা ও স্থিতিশীলতার প্রমাণ বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিষেবা খাতের ধারাবাহিক সম্প্রসারণের ফলে ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতিগুলির মধ্যে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করেছে।

  • Firhad Hakim: ছোট লালবাড়িতেও তৃণমূলের শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান! কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা ফিরহাদের

    Firhad Hakim: ছোট লালবাড়িতেও তৃণমূলের শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান! কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা ফিরহাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে মেয়র পদে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। শুক্রবার কলকাতা পুরসভায় একটি সাংবাদিক বৈঠক করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে প্রায় সাড়ে সাত বছর মেয়র পদে ছিলেন কলকাতা বন্দরের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ। শুক্রবার কলকাতা পুরসভার চেয়ারম্যান মালা রায়ের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ফিরহাদ। এর ফলে বিধাননগরের পর এবার ভাঙল কলকাতা পুরসভাও (KMC)। পালাবদলের রাজ্যে পদ ছাড়লেন কলকাতার মেয়র। তিনি এও বলেন, ‘অনেক কাজ অসম্পূর্ণ থেকে গেল’।

    কেন ইস্তফা ফিরহাদের

    ইস্তফা দেওয়ার কারণ জানিয়ে ফিরহাদ বলেন, “দাপটের সঙ্গে কাজ করেছি। যাঁরা পুরসভায় আসতেন, তাঁদের সমস্যার সমাধান করার কাজ করতাম। এখন সেটা সম্ভব হচ্ছে না। চেয়ারের সম্মানহানি করতে পারি না। চেয়ার ধরে বসে থাকলাম অথচ ঢাল নেই, তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার। তাই আমি আজ ইস্তফা দিচ্ছি।” ইস্তফায় দলনেত্রী অনুমোদন দিয়েছেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে ফিরহাদ বলেন, “দলের তরফে আমি অনুমতি চেয়েছিলাম। সসম্মানে চলে যেতে চাই। উনি (মমতা) বলেছেন ঠিক আছে।” রাজ্যের নতুন সরকার ও নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে আবেদনও করেন তিনি। রাজ্যের প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী বললেন, “নতুন সরকারের কাছে ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য। আমরা সকলের এখানে মানুষের জন্য রয়েছি। আমরা মানুষকে সহায়তা করব। মানুষের জন্য কাজ করব। আর যে সর্বতকৃষ্ট কাজ করবে, মানুষ তাঁকেই নির্বাচিত করবে। তাই শুভেচ্ছা দিয়ে আমি এই চেয়ার আজ খালি করলাম।”

    মেয়াদ শেষ হওয়ার মাস পাঁচেক আগেই ইস্তফা

    ফিরহাদ কলকাতা পুরসভার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। ২০০০, ২০০৫ এবং ২০১০ সালে এই ওয়ার্ড থেকেই তৃণমূলের টিকিটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে ফিরহাদ পুরভোটে লড়েননি। ২০১৫ সালে ৮২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রণব বিশ্বাস। ২০১৮ সালে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পর কলকাতার মেয়র হওয়ার পর ওই ওয়ার্ড থেকেই উপনির্বাচনে জিতে আসেন ফিরহাদ। ২০২১ সালে ৮২ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই পুনর্নির্বাচিত হয়েছিলেন। মেয়র হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার মাস পাঁচেক আগেই ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ। ফিরহাদের ইস্তফার সঙ্গেই ছোট লালবাড়িতে (কলকাতার পুরসভার লালরঙা ভবন) তৃণমূল শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান হল বলেই মনে করা হচ্ছে।

  • K Annamalai Quits BJP: মিলল না দৃষ্টিভঙ্গি! দল ছাড়লেন আন্নামালাই, তামিল রাজনীতিতে নয়া চমক

    K Annamalai Quits BJP: মিলল না দৃষ্টিভঙ্গি! দল ছাড়লেন আন্নামালাই, তামিল রাজনীতিতে নয়া চমক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জল্পনার অবসান। ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) ছাড়লেন তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu BJP) প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি কে আন্নামালাই (K Annamalai)। আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করেছে দল। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের কাছে পাঠানো ইস্তফাপত্র গ্রহণের মাধ্যমেই দক্ষিণের রাজনীতিতে এক বড় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘ফ্যান’ কে আন্নামালাই ২০২০ সালে আইএএস পদ থেকে ইস্তফা দেন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য। তবে ৬ বছরেই সেই যাত্রার ইতি হল।

    আন্নামালাইয়ের ইস্তফা গ্রহণ

    শুক্রবার বিজেপির তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন তামিলনাড়ুর প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি কে আন্নামালাইয়ের দলের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা গ্রহণ করেছেন। চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবারই দিল্লিতে গিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির সঙ্গে দেখা করেন আন্নামালাই। উভয় সম্মতিতেই তিনি দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চান বলে জানান। এরপরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষের সঙ্গেও দেখা করেন। তখন দলের তরফে তাঁকে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল। সূত্রের খবর, আন্নামালাইকে রাজ্যসভার সাংসদ পদও অফার করা হয়, কিন্তু তিনি নিজের সিদ্ধান্তেই অনড় ছিলেন। আজ শেষ পর্যন্ত ইস্তফা দিলেন তিনি।

    নতুন দল গঠন আন্নামালাই-এর

    ইস্তফাপত্রে আন্নামালাই লিখেছেন, “জাতীয় দলগুলি কখনও এমন ভাষায় কথা বলে না যা তামিলনাড়ুর মানুষেরা বোঝেন। আমি এই ধারণা বদল করতে চেয়েছিলাম এবং ভিতরে-বাইরে নানা বাধা বিপত্তি সত্ত্বেএ বেশ কিছু সাফল্য পেয়েছিলাম।” বিগত ১৮ মাস ধরে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর বনিবনা হচ্ছে না বলেই জানিয়েছেন আন্নামালাই। ইস্তফাপত্রে লিখেছেন, “আমি শীর্ষ নেতৃত্বের উপরে আর বোঝা চাপাতে চাই না তামিলনাডুর রাজনীতি নিয়ে। শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে আমি এই সিদ্ধান্তে এসেছি যে তামিলনাড়ু নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি মেলে না।” ইস্তফার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন দল গঠনের কথা প্রকাশ্যে জানান তিনি। পাশাপাশি, আগামী তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে নিজের নতুন দলের ব্যানারেই লড়াই করার ইঙ্গিত দেন আন্নামালাই।

    কেন দলত্যাগ আন্নামালাইয়ের

    ৪১ বছর বয়সী প্রাক্তন এই আমলার দলত্যাগ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। সূত্রের খবর, বিজেপি ছেড়ে এবার আন্নামালাই নিজের রাজনৈতিক দল তৈরি করতে পারেন। ২০২০ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্য়েই তাঁকে রাজ্য় বিজেপির ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হয়। এক বছর পরে বিজেপি তাঁকে রাজ্য সভাপতি করে। মাত্র ৩৭ বছর বয়সেই এত বড় পদ পান আন্নামালাই। এরপরে ২০২৩ সালে কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে কো-ইনচার্জও করা হয়। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এআইএডিএমকে-র সঙ্গে জোট বাধা নিয়েই দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। আন্নামালাই যে আসনে লড়তে চেয়েছিলেন, সেই আসন না দেওয়াতেই আরও বিরোধ তৈরি হয়। এআইএডিএমকে-র ইকে পালানিস্বামীর সঙ্গে তাঁর বিরোধের জেরেই এই ইস্তফা বলে মনে করা হচ্ছে।

  • West Bengal Assembly: জাতীয় ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশনে যুক্ত পশ্চিমবঙ্গ, দেশের সব আইনসভা এখন এক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে

    West Bengal Assembly: জাতীয় ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশনে যুক্ত পশ্চিমবঙ্গ, দেশের সব আইনসভা এখন এক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্র সরকারের ‘ওয়ান নেশন–ওয়ান অ্যাপ্লিকেশন’ উদ্যোগের আওতায় জাতীয় ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশন (NeVA)-এ যোগ দিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। বুধবার (৪ জুন) একটি ত্রিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ দেশের শেষ রাজ্য হিসেবে এই ডিজিটাল আইনসভা ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju), আইন ও বিচার প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল (Arjun Ram Meghwal) তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এল মুরুগান (L. Murugan) এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোস (Rathindra Bose)। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    দেশের ৩৩টি আইনসভা একই প্ল্যাটফর্মে

    সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্তির ফলে দেশের ৩৩টি আইনসভা প্রতিষ্ঠান এখন নেভা (NeVA) প্ল্যাটফর্মের আওতায় এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে লোকসভা, রাজ্যসভা এবং ২৮টি রাজ্য ও দিল্লি, জম্মু ও কাশ্মীর এবং পুদুচেরি—এই তিন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা। এছাড়াও অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, তেলঙ্গানা এবং উত্তরপ্রদেশের ছয়টি বিধান পরিষদও ইতিমধ্যে নেভা-র সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এদিন সমঝোতা স্মারকে কেন্দ্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব ড. সত্য প্রকাশ, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পক্ষে প্রধান সচিব সৌমেন্দ্রনাথ দাস এবং রাজ্যের সংসদ বিষয়ক দফতরের বিশেষ সচিব সম্পা ধর।

    পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এই প্রকল্পে যোগ দিতে অনীহা দেখিয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন সরকার বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মতো ‘ওয়ান নেশন–ওয়ান অ্যাপ্লিকেশন’ উদ্যোগেও অংশগ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মতো বৃহৎ আইনসভায় এখনও কাগজের মাধ্যমে ভোটাভুটি হত। কোনও ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা বা কার্যবিবরণীর লাইভ স্ট্রিমিং চালু ছিল না। পূর্ববর্তী সরকার এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি।” মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এর ফলে রাজ্যের মানুষ আধুনিক ও স্বচ্ছ ডিজিটাল আইনসভা ব্যবস্থার সুবিধা থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিলেন।

    কী এই ন্যাশনাল ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশন?

    ন্যাশনাল ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশন (NeVA) হল সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের একটি মিশন মোড প্রকল্প, যার উদ্দেশ্য দেশের সব আইনসভার কার্যক্রমকে ডিজিটাল ও কাগজবিহীন করা। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রশ্নোত্তর, বিল, নোটিস, আশ্বাস, কমিটির কার্যবিবরণী, কার্যতালিকা ও বুলেটিনসহ আইনসভার সমস্ত কাজ ডিজিটালভাবে পরিচালনা করা যায়। পাশাপাশি আইনসভার নথিপত্রের একটি স্থায়ী ডিজিটাল ভান্ডারও তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু পশ্চিমবঙ্গকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল আইনসভায় রূপান্তরের জন্য কেন্দ্রের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই উদ্যোগকে রাজ্যের প্রশাসনিক আধুনিকীকরণ ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন।

     

     

     

     

     

  • Modi on World Environmental Day: বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির, নলবনে বৃক্ষরোপণ মুখ্যমন্ত্রীর

    Modi on World Environmental Day: বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির, নলবনে বৃক্ষরোপণ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণে প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। তিনি পরিবেশ রক্ষায় নিবেদিত সকল ব্যক্তি ও সংগঠনকে অভিনন্দন জানান এবং বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা সময়ের দাবি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একাধিক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী (Modi on World Environmental Day) উল্লেখ করেন যে, গত এক দশকে কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের সবুজ আচ্ছাদন বৃদ্ধি এবং বহু বন্যপ্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাঁর মতে, জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, কার্যকর নীতি, বিজ্ঞানভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং উদ্ভাবন পরিবেশের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

    ভারতীয় সংস্কৃতিতে প্রকৃতির গুরুত্ব

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ভারতের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য দেশের গর্ব। দেশের বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্র অসংখ্য প্রাণী ও মানুষের জীবিকা রক্ষা করে চলেছে।’’ তিনি বিশেষভাবে গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ড, স্নো লেপার্ড, স্লথ বিয়ার এবং চিতাবাঘ সংরক্ষণ কর্মসূচির সাফল্যের কথা তুলে ধরে জানান, ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বন্যপ্রাণী ও বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। তিনি আরও জানান, ‘এক পেড় মা কে নাম’ (Ek Ped Maa Ke Naam) উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ১.১৯ লক্ষ হেক্টর নতুন বনাঞ্চল যুক্ত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ভারতীয় সংস্কৃতিতে প্রকৃতি সংরক্ষণের গভীর ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা ও প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের এই বার্তা ভারতীয় ঐতিহ্য ও জ্ঞানের এক অনন্য প্রতিফলন। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রধানমন্ত্রী দেশের নাগরিকদের পরিবেশ রক্ষায় আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

    কবে থেকে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস

    প্রতিবছর ৫ ই জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব পরিবেশ দিবস। ১৯৭২ সালে ইউনাইটেড নেশনস-এর উদ্যোগে এই দিবসের সূচনা হয়। পরিবেশ রক্ষা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই ছিল যাদের মূল উদ্দেশ্য়। অতিরিক্ত শিল্পায়ন, প্লাস্টিকের ব্যবহার, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এর প্রভাব হিসেবে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা বাড়ছে। তাই পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

    বিশ্ব পরিবেশ দিবসে শাহি বার্তা

    বিশ্ব পরিবেশ দিবসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশবাসীকে প্রকৃতি সংরক্ষণের বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পরিবেশ রক্ষা একটি যৌথ দায়িত্ব। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদন এবং বার্ষিক বনভূমি বৃদ্ধিতে বিশ্বে শীর্ষ তিনটি দেশের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। তাঁর কথায়, পরিবেশ রক্ষা শুধুমাত্র সরকারের কাজ নয়, এটি সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে পরিবেশ সংরক্ষণ আজ একটি বিশ্বজনীন আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণে ভারতের পদক্ষেপের কথাও বলেন তিনি। সৌরশক্তি, ন্যাশনাল গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন এবং লক্ষ লক্ষ বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে ভারত টেকসই উন্নয়নের পথে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। ভারতের বার্ষিক বনভূমি বৃদ্ধির হার বিশ্বের প্রথম তিনটি দেশের মধ্যে অন্যতম। কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) প্রকৃতি রক্ষায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। গত ৬ বছরে তারা ৭.৫ কোটিরও বেশি গাছের চারা রোপণ করেছে এবং সেগুলির সম্পূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ করছে। অমিত শাহ আরও স্পষ্ট করেছেন যে, প্রকৃতি ও পরিবেশকে সুরক্ষিত রেখে একটি সবুজ, নিরাপদ এবং সুস্থ ভারত গড়ে তুলতে ভারত সরকার দায়বদ্ধ।

    পরিবেশ দিবসে মুখ্যমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ

    আজ, শুক্রবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বছরভর বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। এ দিন সকালে সল্টলেকের নলবনে সেই কর্মসূচির সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তু ‘একটি গাছ মায়ের নামে ২০২৬’। নলবনে এ দিন বৃক্ষরোপণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। হাজির ছিলেন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া, লকেট চট্টোপাধ্যায়, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শদাতা সুব্রত গুপ্ত এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্তারা। বৃক্ষরোপণের পরে নলবন ভেড়িতে মাছের চারা ছাড়েন মুখ্যমন্ত্রী।

    রাজ্যেও “এক পেড় মা কে নাম”

    প্রধানমন্ত্রীর “এক পেড় মা কে নাম” প্রকল্পের আদলে রাজ্যেও শুরু হচ্ছে বড়সড় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ। ২০২৪ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন, এবার সেই পথ অনুসরণ করেই পশ্চিমবঙ্গে গাছ লাগানোর বিশেষ অভিযান শুরু করতে চলেছে প্রশাসন। এই কর্মসূচির আওতায় রাজ্যে মোট প্রায় ১.১ কোটি চারাগাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষকেও এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে জেলা ও কলকাতা পুরসভা স্তরে প্রায় ৫ হাজার করে চারাগাছ রোপণ করা হবে। ব্লক স্তরে ১০০টি করে এবং পুরসভা এলাকায় ২০০টি করে চারাগাছ লাগানো হবে। পাশাপাশি বরো স্তরে ৩০০টি করে চারা রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এছাড়া প্রত্যেক বিধায়ককে তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় ১ হাজারটি করে গাছ লাগানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরো প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি সমন্বয় টিমও গঠন করা হয়েছে। এই কর্মসূচি চলবে আগামী ৫ জুন থেকে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত। পরিবেশ রক্ষায় জনসাধারণকে আরও বেশি করে যুক্ত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।

LinkedIn
Share