Author: ishika-banerjee

  • PM Modi in Indonesia Visit: ঐতিহাসিক প্রাম্বানান মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী মোদি, সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগ নিল ভারত-ইন্দোনেশিয়া

    PM Modi in Indonesia Visit: ঐতিহাসিক প্রাম্বানান মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী মোদি, সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগ নিল ভারত-ইন্দোনেশিয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়া সফরের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi visits Prambanan Temple) বুধবার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে যোগ্যাকার্তার ঐতিহাসিক প্রাম্বানান (Prambanan) মন্দির পরিদর্শন করেন। প্রায় এক হাজার বছরের পুরনো এই বিশ্ববিখ্যাত হিন্দু মন্দির কমপ্লেক্সের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার যৌথ প্রকল্পেরও সূচনা হয়। মন্দির পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ হেলিকপ্টার থেকে তোলা প্রাম্বানান মন্দিরের মনোরম আকাশপথের একটি ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, “ম্যাজেস্টিক প্রাম্বানান মন্দির!” সফরের আগে তিনি প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে একটি ছবিও পোস্ট করেন। প্রধানমন্ত্রীর এদিন এই মন্দির দর্শনের সঙ্গে সঙ্গেই আরও একবার চর্চায় এসেছে বিভিন্ন দেশে ভারত সরকারের উদ্যোগে মন্দির পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে গত এক দশকে প্রতিবেশী দেশ থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক ঐতিহাসিক মন্দির ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ভারত।

    নবম শতকের স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন

    বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হিসেবে বিবেচিত হয় ইন্দোনেশিয়া। যেখানে এমন এক সুপ্রাচীন শিব মন্দির রয়েছে যা ভারতের প্রাচীন সাংস্কৃতিক প্রভাবের স্বাক্ষ্য বহন করে। প্রায় ১,০০০ বছর পুরনো প্রম্বানন শিব মন্দির ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম হিন্দু মন্দির। জাভা দ্বীপের যোগ্যাকার্তার কাছে অবস্থিত প্রাম্বানান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক অন্যতম হিন্দু স্থাপত্য নিদর্শন। নবম শতকে নির্মিত এই মন্দিরসমূহ শিব, বিষ্ণু ও ব্রহ্মার উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়েছিল। ইতিহাসবিদদের মতে, একাধিক ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং একাদশ শতকে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের ফলে মন্দিরগুলির বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। পরে ১৭শ শতকে এই স্থাপত্য পুনরাবিষ্কৃত হয়। ২০০৬ সালের জাভা ভূমিকম্পেও মন্দির কমপ্লেক্সের ক্ষতি হয়।

    ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য

    ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রাম্বানন মন্দিরটি নবম শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল। ভগবান মহাদেবের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত এই মন্দির চত্বরটি তার চমৎকার স্থাপত্য এবং জটিল কারুকার্যের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। মন্দিরের দেওয়ালে রামায়ণের কাহিনি খোদাই করা আছে। যা ভারতীয় সংস্কৃতি এবং ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ককে তুলে ধরে। প্রাম্বানান মন্দির কমপ্লেক্সে মোট ২৪০টি মন্দিরের কাঠামো রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান প্রাঙ্গণে রয়েছে ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মন্দির। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ৪৭ মিটার উঁচু শিব মন্দির, যার পাশে রয়েছে ব্রহ্মা ও বিষ্ণুর মন্দির। ইউনেস্কো এই মন্দির কমপ্লেক্সকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি দিয়েছে। মন্দিরের পাথরের গায়ে খোদাই করা রয়েছে ইন্দোনেশীয় সংস্করণে রামায়ণের বিভিন্ন কাহিনি। প্রতি বছর মে থেকে অক্টোবর মাসের পূর্ণিমার রাতে মন্দিরের দক্ষিণ প্রান্তে খোলা মঞ্চে বিখ্যাত রামায়ণ ব্যালে মঞ্চস্থ হয়।

    সংরক্ষণে ভারত-ইন্দোনেশিয়ার যৌথ উদ্যোগ

    সফর চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী মোদি ঘোষণা করেন, প্রাম্বানান মন্দির কমপ্লেক্সের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া যৌথভাবে কাজ করবে। এই প্রকল্পে ভারতের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (ASI) ইন্দোনেশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অংশীদারিত্বে প্রাম্বানান কমপ্লেক্সের একাধিক ছোট মন্দিরের সংরক্ষণ ও পুনর্গঠনের কাজ করবে। এই উদ্যোগ দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক নতুন নয়। ঐতিহাসিকদের মতে, বহু শতাব্দী আগে ভারতীয় বণিক থেকে শুরু করে সাধু ও পণ্ডিতগণ সমুদ্রপথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভ্রমণ করেছিলেন। তাঁরা নিজেদের সঙ্গে ভারতীয় সংস্কৃতি, ভাষা, ধর্ম এবং ঐতিহ্য নিয়ে এসেছিলেন। এই কারণেই আজও ইন্দোনেশিয়ায় রামায়ণ ও মহাভারত মঞ্চস্থ হয় এবং একাধিক জায়গায় হিন্দু সংস্কৃতির ঝলক দেখা যায়। ১৯৯১ সাল থেকে মন্দিরটি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রম্বানন মন্দিরটি নবম শতাব্দীতে হিন্দু মাতারাম (মেদাং) সাম্রাজ্যের শাসক রাকাই পিকাতান নির্মাণ করেছিলেন। ঐতিহাসিকদের মতে, মন্দিরটির নির্মাণকাজ আনুমানিক ৮৫০ খ্রিস্টাব্দে শুরু হয়েছিল।

    প্রাম্বানন মন্দিরে পূজার্চনা মোদির

    শুধু পরিদর্শন নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এদিন প্রাম্বানন মন্দিরে পূজার্চনাও করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট যৌথভাবে ‘প্রাম্বানন মন্দিরের জন্য ভারত-ইন্দোনেশিয়া যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ’ প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন। এই উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা আমার সৌভাগ্য যে, আমি সর্বদা ভগবান শিবের সান্নিধ্য লাভের সুযোগ পাই। আমার জন্ম হয়েছিল ভাদনগরে, যেখানে হাতকেশ্বর মহাদেব বিরাজমান। সোমনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ হলো প্রথম জ্যোতির্লিঙ্গ এবং এটি গুজরাটে অবস্থিত; এর উন্নয়নের প্রত্যক্ষ দায়িত্ব আমার ওপর ন্যস্ত। আমার নির্বাচনী এলাকা কাশী (বারাণসী)-তে রয়েছে কাশী বিশ্বনাথ মহাদেব, যাঁর আশীর্বাদ আমি সর্বদা পেয়েছি। কেদারনাথ বা উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দিরের পুনর্নির্মাণই হোক কিংবা এখানে আমার আগমন-এই সব ক্ষেত্রেই সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ শুরু করার সুযোগ আমি পেয়েছি। আমি একে পরম সৌভাগ্য বলে মনে করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানে আমার সফরের আজ তৃতীয় দিন, কিন্তু এখানকার জীবনযাত্রা, কথাবার্তা ও বাতাসে সংস্কৃতির এক সুবাস পাওয়া যাচ্ছে-এমন এক সুবাস যা আমরা ভারতে প্রতিটি মুহূর্তে অনুভব করি। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই সুবাসই আমাদের একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করে। এখানকার মানুষ যেভাবে এই ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করেছেন, তার জন্য আমি তাঁদের ধন্যবাদ জানাই। তাই, ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক এবং এ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারী সকল শাসককে আমি এর জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

  • Indonesia on Indian EVMs: ইভিএম ও নির্বাচন পরিচালনায় ভারতের অভিজ্ঞতায় আগ্রহী ইন্দোনেশিয়া, বড় চুক্তি শীঘ্রই?

    Indonesia on Indian EVMs: ইভিএম ও নির্বাচন পরিচালনায় ভারতের অভিজ্ঞতায় আগ্রহী ইন্দোনেশিয়া, বড় চুক্তি শীঘ্রই?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (Indonesia on Indian EVMs) নিয়ে বিরোধী দলগুলির প্রশ্ন অব্যাহত থাকলেও, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের নির্বাচন প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গণতন্ত্র ইন্দোনেশিয়া এবার ভারতের তৈরি ইভিএমের একটি কাস্টমাইজড সংস্করণ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাকার্তা সফরের সময় এই বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর হয়েছে। ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে নির্বাচন প্রযুক্তি, নির্বাচন পরিচালনার দক্ষতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী সেরা পদ্ধতি বিনিময়ের বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ইভিএম রফতানির পথও প্রশস্ত হতে পারে।

    ভারত থেকে শিখছে জাকার্তা

    প্রায় ২৮.৮ কোটি জনসংখ্যার ইন্দোনেশিয়ায় বর্তমানে কাগজের ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন হয়। তবে ২০২৯ সালের নির্বাচন থেকে ধাপে ধাপে ইলেকট্রনিক ভোটিং চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে সে দেশ। সেই লক্ষ্যে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা, ইভিএম প্রযুক্তি এবং নির্বাচন কমিশনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে একাধিকবার ভারত সফর করেছেন ইন্দোনেশিয়ার নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা। ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনের সময় ইন্দোনেশিয়ার নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলের সদস্য হিসেবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সরেজমিনে দেখেন। সফর শেষে ইন্দোনেশিয়ার নির্বাচন কমিশনার ইধাম হোলিক ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রশংসা করে বলেন, “সবাই দেখেছেন যে নির্বাচন ছিল অবাধ ও সুষ্ঠু। ভারত সত্যিই গণতন্ত্রের দেশ।” তিনি এই অভিজ্ঞতাকে “অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক” বলেও উল্লেখ করেন।

    ভারতে ইভিএম ব্যবহারের ইতিহাস

    ভারতে ইভিএম ব্যবহারের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএম ব্যবহার শুরু হয়। ধাপে ধাপে পরীক্ষার পর ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রথমবার দেশের সব আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। পরে ভোটার ভেরিফায়েবল পেপার অডিট ট্রেল (VVPAT) ব্যবস্থাও যুক্ত হয়, যা বর্তমানে প্রতিটি নির্বাচনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইলেকট্রনিক ভোটিংয়ের ধারণা প্রথম আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (United States of America)। বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে, ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে সেখানে পাঞ্চ কার্ড এবং প্রাইমারি ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেম ব্যবহার শুরু হয়। যদিও সেই সময়কার প্রযুক্তি আজকের ইভিএমের মতো উন্নত বা নিরাপদ ছিল না, তবুও সেটাই ছিল ইলেকট্রনিক ভোটিংয়ের সূচনা পর্ব। ধীরে ধীরে সেই প্রযুক্তি আরও উন্নত হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হতে শুরু করেছে। ভারতে ইভিএমের যাত্রা শুরু হয় অনেক পরে। ১৯৮২ সালে কেরালা-র পারুর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে এই মেশিন ব্যবহার করা হয়। সেই সময় এটি সীমিত পর্যায়ে প্রয়োগ করা হয়েছিল। পরে নির্বাচন কমিশন ধাপে ধাপে প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটায় এবং আইনি কাঠামোর মধ্যেও ইভিএমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    ইভিএম-এর সবচেয়ে বিস্তৃত ও সংগঠিত ব্যবহার ভারতে

    ভারতের ইভিএম ব্যবস্থাকে আলাদা করে তোলে তার গঠন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই মেশিনগুলি সম্পূর্ণ স্ট্যান্ডঅ্যালোন, অর্থাৎ ইন্টারনেটের সঙ্গে কোনও সংযোগ থাকে না। ফলে বাইরের হ্যাকিং বা ডেটা ম্যানিপুলেশনের সম্ভাবনা কার্যত নেই বলেই দাবি করা হয়। পরে ভোটারদের আস্থা বাড়াতে ভিভিপ্যাট বা ভোটার ভেরিফায়েবল পেপার অডিট ট্রেল যুক্ত করা হয়েছে। এতে ভোট দেওয়ার পর একটি কাগজে ভোটের প্রতিফলন দেখা যায়, যা স্বচ্ছতা বাড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলেকট্রনিক ভোটিংয়ের ধারণা বিদেশে শুরু হলেও, বৃহৎ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সফলভাবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভারত অন্যতম উদাহরণ। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে কোটি কোটি ভোটারকে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে এই প্রযুক্তি। সব মিলিয়ে বলা যায়, ইভিএমের জন্ম বিদেশে হলেও, তার সবচেয়ে বিস্তৃত ও সংগঠিত ব্যবহার হয়েছে ভারতে।

    ইভিএমের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন বিরোধীদের

    যদিও দেশে বিভিন্ন সময়ে বিরোধী দলগুলি ইভিএমের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, ভারতের নির্বাচন কমিশন বারবার জানিয়েছে যে ইভিএম সম্পূর্ণ স্ট্যান্ডঅ্যালোন, ইন্টারনেটবিহীন যন্ত্র, যা দূর থেকে হ্যাক বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ভারতের সুপ্রিম কোর্টও একাধিক রায়ে ইভিএম-ভিভিপ্যাট ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা স্বীকার করেছে এবং স্বচ্ছতা বাড়াতে কিছু অতিরিক্ত প্রক্রিয়াগত নির্দেশ দিয়েছে।

    ইন্দোনেশিয়াই প্রথম নয়

    ভারতের ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM) এবং ভোট পরিচালনা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত সমাদৃত ও জনপ্রিয়। উন্নত গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো এবং বিশাল সংখ্যক ভোটারের নির্বাচন সফলভাবে পরিচালনার দক্ষতার কারণে বিশ্বের বহু দেশ ভারতের কাছ থেকে ইভিএম ও প্রযুক্তিগত সহায়তা গ্রহণ করছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইন্দোনেশিয়াই প্রথম নয়, এর আগে ভুটান ভারতের প্রযুক্তিগত সহায়তায় কাস্টমাইজড ইভিএম ব্যবহার করেছে। নেপালেও পরীক্ষামূলকভাবে ভারতীয় ইভিএম সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া নামিবিয়া জাতীয় নির্বাচনে ভারতে নির্মিত ইভিএম ব্যবহার করে এবং পরে ভারতীয় ভিভিপ্যাট ব্যবস্থাও গ্রহণ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-ইন্দোনেশিয়ার এই সম্ভাব্য সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন প্রযুক্তি ও নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে ভারতের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাও আরও বৃদ্ধি পাবে।

  • Shopian Anti-Terror Operation: শোপিয়ানে নিরাপত্তা বাহিনীর এনকাউন্টারে নিহত লস্কর কমান্ডার জাকির গনাই

    Shopian Anti-Terror Operation: শোপিয়ানে নিরাপত্তা বাহিনীর এনকাউন্টারে নিহত লস্কর কমান্ডার জাকির গনাই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) শোপিয়ান (Shopian Anti-Terror Operation) জেলায় দীর্ঘ চার দিনের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে লস্কর-ই-তৈবা (LeT)-র কমান্ডার জাকির গনাই। বুধবার তার দেহ উদ্ধার হওয়ার পর এই অভিযানে বড় সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের মতে, এই অভিযান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ শোপিয়ান জঙ্গিদের ট্রানজিট বা পালানোর পথ হিসেবে আগেও ব্যবহৃত হয়েছে। এই করিডর দক্ষিণ কাশ্মীর থেকে মধ্য কাশ্মীর ও পীর পাঞ্জাল রেঞ্জকে যুক্ত করে।

    জঙ্গি দমন অভিযান অব্যাহত

    গত ৩ জুলাই শোপিয়ানের একটি ঘন আপেল বাগানে নজরদারি ক্যামেরায় দুই জঙ্গির গতিবিধি ধরা পড়ে। শুক্রবার নজরদারি ক্যামেরায় মীমান্দর এলাকায় দুই জঙ্গির গতিবিধি ধরা প঩ড়ে। এরপরই ওই এলাকার ফলের বাগান ঘিরে ফেলে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী। তল্লাশির সময় জওয়ানদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। পালটা জবাব দেয় বাহিনী। এরইমধ্যে দুই জঙ্গির পরিচয় জানতে পেরেছে পুলিশ। তারা দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাঁওয়ের বাসিন্দা লতিফ ও জাকির। ২০২৪ সালে লস্করে যোগ দেয় জাকির। লতিফ গত বছর। রাতে জঙ্গিদের গতিবিধি জানতে সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলিতে আলোর ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি জঙ্গিদমনে বিশেষ পারদর্শী ‘ভিক্টর ফোর্স’কে সেখানে মোতায়েন করা হয়। জঙ্গিদের পালানোর সব পথ সিল করে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে খবর, জঙ্গিদের গোপন ডেরা রয়েছে পাহাড় ঘেরা ঘন জঙ্গলে। জঙ্গলের মধ্যে বেশ কয়েকটি ‘ব্লাইন্ড স্পট’ রয়েছে। যেখানে দিনের বেলাতেও ভালোভাবে দেখা যায় না। তারই সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা ঘনঘন স্থান পালটে ফেলছিল।

    শোপিয়ানের সাতটি গ্রাম জুড়ে তল্লাশি

    এরপরই সেনাবাহিনী, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (CRPF) যৌথভাবে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। একাধিক গ্রাম ঘিরে চলতে থাকে সাঁড়াশি অভিযান। এনকাউন্টারের পরও এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে গুলির শব্দ শোনা যায়। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, জাকির গনাইয়ের সঙ্গে থাকা অপর এক লস্কর জঙ্গি লতিফ এখনও এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাকে খুঁজে বের করতে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে শোপিয়ানের সাতটি গ্রাম জুড়ে তল্লাশি চলছে। সেনাবাহিনীর বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট ভিক্টর ফোর্স অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে সম্ভাব্য পালানোর পথগুলো ঘিরে ফেলেছে। রাতের অভিযান চালাতে আলোকসজ্জারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, গ্রীষ্মকালের ঘন পাতার আচ্ছাদন ও বিস্তীর্ণ ফলের বাগান জঙ্গিদের আত্মগোপনের সুযোগ করে দিচ্ছে, ফলে অভিযান পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি জঙ্গিদের পাশাপাশি স্থানীয় জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং নতুন নিয়োগ রুখতে জাকির গনাইয়ের মৃত্যু ও লতিফকে গ্রেফতার বা নিকেশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

  • FIFA World Cup 2026: শেষ ১৩ মিনিটের মেসি-ঝড়! বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইৎজারল্যান্ড, লড়াই করে হার মিশরের

    FIFA World Cup 2026: শেষ ১৩ মিনিটের মেসি-ঝড়! বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইৎজারল্যান্ড, লড়াই করে হার মিশরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্যালারিতে থাকা সমর্থকেরা কাঁদতে শুরু করেছিলেন। ধারাভাষ্যকারেরা বলছিলেন, মেসিকে আর ১৫ মিনিটের জন্য বিশ্বকাপে দেখা যাবে। ঠিক তখনই লাউতারো মার্তিনেজকে নামালেন স্কালোনি। মেসিও সরে গেলেন একেবারে ডান প্রান্তে। বক্সের মধ্যে লোক বাড়াতে গিয়ে মেসিকে ছেড়ে দিল মিশরের রক্ষণ। সেরাদের জন্য ওই টুকুই যথেষ্ট। শুরু হল মেসি-ম্যাজিক (Lionel Messi)। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কোনও দিন ০-২ পিছিয়ে থেকে খেলা জেতেনি আর্জেন্টিনা। এমনকি, ড্র পর্যন্ত করেনি তারা। সে দিক থেকে দেখতে গেলে এটা আর্জেন্টিনার সেরা প্রত্যাবর্তন। শেষ ১৩ মিনিটের মেসি-ঝড়ে ০-২ পিছিয়ে থাকা ম্যাচ ৩-২ জিতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। মিশরের পিরামিডের নীচে চাপা পড়ে যাওয়া আর্জেন্টিনাকে টেনে তুললেন মেসিই। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ সুইৎজারল্যান্ড।

    ১৩ মিনিটের ঝর আর্জেন্টিনার

    আক্রমণ, মাঝমাঠ থেকে রক্ষণ, এদিন বার বার ভুল করেছে আর্জেন্টিনা। মিশরের বিরুদ্ধে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল এক সময়। কিন্তু ১৩ মিনিটের ঝরে হারের মুখ থেকে জয় ছিনিয়ে এনেছে মেসির আর্জেন্টিনা। বিতর্ক থাকবে। ফাউল থেকে মিশরের গোল বাতিল, কিন্তু ম্যাচের শেষ ১৩ মিনিট যে মেসির ছিল, তা অতিবড় সমালোচকও মানবেন। ওই ১৩ মিনিটে লিয়োনেল মেসি ঢেকে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার সব ত্রুটি। ৭৯ মিনিট। ডান প্রান্ত থেকে বক্সে ক্রস বাড়ালেন মেসি। হেডে গোল করে আর্জেন্টিনার সেরা প্রত্যাবর্তনের শুরুটা করলেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। চার মিনিট পর গোল করার দায়িত্ব মেসি নিজেই নিলেন। তাঁর ক্রসে যে আক্রমণ শুরু, তা শেষ হল তাঁর পায়েই। ফিরতি বলে জোরালো শটে জাল কাঁপিয়ে দিলেন তিনি। দেখে মনে হচ্ছিল খেলা অতিরিক্ত সময়ে এগোচ্ছে। ঠিক তখনই ডান প্রান্ত থেকে লাউতারো মার্তিনেজের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোল করলেন এঞ্জো ফের্নান্দেজ।

    কেন এখনও দলের ভরসা মেসি

    আরও এক বার দলের রক্ষাকর্তা হয়ে দেখা দিলেন মেসি। হ্যাঁ, তিনি আবার সহজ পেনাল্টি ফস্কেছেন। চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীয়। হ্যাঁ, তাঁর ফ্রি কিক পোস্টে লেগে বেরিয়ে গিয়েছে। হ্যাঁ, ৭২ মিনিট পর্যন্ত তিন মার্কারের দাপটে মিশরের বক্সে ঢুকতে পারছিলেন না তিনি। সেই মেসিই ৭৩ মিনিট থেকে ডান প্রান্তে সরে গেলেন। ব্যস, সেখানেই শেষ মিশর। জায়গা তৈরি করলেন নিজের জন্য। গোল করালেন। গোল করলেন। এই ম্যাচেও আর্জেন্টিনার সেরা খেলোয়াড় তিনিই। আর সেই কারণেই অসাধ্যসাধনের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। অঝোরে কেঁদেছেন। সতীর্থদের জড়িয়ে ধরেছেন। সতীর্থেরা তাঁকে ঘাড়ে তুলে লাফিয়েছেন। মেসির কান্না বুঝিয়েছে, কতটা চাপে ছিলেন তিনি। সতীর্থদের উল্লাস বুঝিয়েছে, মেসি না থাকলে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যেত তাঁদের। শুরু থেকে ধীরে চলো নীতি নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এত স্লো বিল্ড আপে মিশরের মতো গতিশীল দলকে চাপে রাখা মুশকিল। সেটাই হল এদিন। ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা হাসানের ক্রসে হেডে গোল করে মিশরকে প্রথমেই এগিয়ে দিলেন ইব্রাহিম। তারপরেই গোল জিকোর। ম্যাচের ৭৫ মিনিট পর্যন্ত মাঠে দাপট ছিল মিশরেরই।

    মিশরের প্রতিবাদ, বিস্ফোরক অভিযোগ হাসানের

    আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে দু’গোলে এগিয়ে গিয়েও বিশ্বকাপে হেরে গিয়েছে মিশর। বিদায় নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন দলের কোচের হোসাম হাসান। জানালেন, মেসিকে বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখতেই তাঁদের জোর করে হারানো হয়েছে। প্রতারণা করা হয়েছে তাঁদের সঙ্গে। হাসান বলেন, “ফেয়ার প্লে-কে কোনও রকম সম্মান দেখানোই হল না। পেনাল্টি বাতিল করে দেওয়া হল। ভার-ও পরীক্ষা করার প্রয়োজন মনে করল না। দ্বিতীয় গোল অদ্ভুত ভাবে বাতিল করা হয়েছে। সেখানেও ভার পরীক্ষা করা হয়নি। অথচ আমরা সবাই দেখেছিলাম কী ভাবে পিছন থেকে জার্সি ধরে টানা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “রেফারি ভাল ছিলেন না। অবিচার করেছেন আমাদের সঙ্গে। শুরু থেকে আমাদের বিরুদ্ধে সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন। উনি চাননি আমরা জিতি। এই ম্যাচ চুরি করা হয়েছে। আমাদের দোষ ছিল না।” মেসিকে বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখতে বা বিশ্বকাপ জেতাতেই ফিফা এই কাজ করছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাসান। তাঁর কথায়, “ওরা বোধহয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে চায়। হয়তো চায় মেসি আরও কিছু ক্ষণ খেলুক। ফুটবলে কিছু বাইরের শক্তিও রয়েছে যাদের সামনে কৌশলগত বুদ্ধি কাজে লাগে না। আর্জেন্টিনা সমস্ত বিভাগে ফিফার সাহায্য পাচ্ছে।”

    পেনাল্টি মিস, লজ্জার নজিরও মেসির

    তিনি গোল করছেন। গোল করাচ্ছেন। প্রতি ম্যাচে নেমে একের পর এক রেকর্ড ভাঙছেন। কিন্তু পাশাপাশি একটি লজ্জার রেকর্ডও গড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে এই রেকর্ড আর কারও নেই। বার বার একটি ভুল করছেন তিনি। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি ফস্কেছেন মেসি। মিশরের বিরুদ্ধে ২১ মিনিটের মাথায় নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকোকে বক্সের মধ্যে মিশরের ডিফেন্ডার ফাউল করায় পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পট থেকে জঘন্য শট মারেন মেসি। গোলরক্ষকের বাঁ দিক দিয়ে গোল করার চেষ্টা করেন তিনি। সেই শট সহজে বাঁচিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মুস্তাফা বোশের। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধেও পেনাল্টি ফস্কেছিলেন মেসি। সে বারও গোলরক্ষকের বাঁ দিক দিয়ে গোল করতে গিয়ে বাইরে মেরে বসেন মেসি। এর আগে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে আইসল্যান্ড ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে পেনাল্টি ফস্কেছিলেন মেসি।

    বিশ্বকাপে টানা ন’ম্যাচে গোলের নজির

    গত বার থেকে ধরলে বিশ্বকাপে টানা ন’ম্যাচে গোল করলেন মেসি, যে রেকর্ড কারও নেই। বিশ্বকাপের সর্বাধিক গোলের সংখ্যায় কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে ফারাক বাড়ালেন মেসি। তাঁর গোলের সংখ্যা ২১। এমবাপের ১৯। চলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলও মেসির। ৮টি গোল করেছেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপের সব ম্যাচে গোল করেছেন মেসি। কোয়ার্টার ফাইনালে লিয়োনেল মেসিদের প্রতিপক্ষ সুইৎজারল্যান্ড। এদিন কলম্বিয়া-সুইৎজারল্যান্ডের রাউন্ড অফ ১৬-র ম্যাচের নিষ্পত্তি হল টাইব্রেকারে। অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত গোল করতে পারেনি কোনও দলই। সুইৎজারল্যান্ড এবং কলম্বিয়া দু’দলই রক্ষণ আগলে আক্রমণে ওঠার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে দু’দলই বেশ কিছু গোলের সুযোগ নষ্ট করেছে। স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতাই ম্যাচ টেনে নিয়ে গিয়েছে টাইব্রেকার পর্যন্ত। প্রায় সমানে সমানে লড়াই হলেও কলম্বিয়ার দাপট তুলনায় বেশি ছিল। কিন্তু ভাগ্য লিখেছিল অন্য কথা। টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে সুইৎজারল্যান্ডের কাছে হার মানতে হল কলম্বিয়াকে।

  • India Indonesia Ties: নতুন উচ্চতায় ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক! ব্রহ্মোস ও অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত জাকার্তার

    India Indonesia Ties: নতুন উচ্চতায় ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক! ব্রহ্মোস ও অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত জাকার্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন উচ্চতায় পৌঁছল ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক (India Indonesia Ties)। দু দিনের বাণিজ্যিক সফরে ইন্দোনেশিয়া (BrahMos Deal)গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সফরে প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals), প্রযুক্তি, ডিজিটাল সংযোগ, সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) এবং শিক্ষা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশ একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, ইন্দোনেশিয়ার ভারতের তৈরি ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং অ্যাস্ট্রা বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত।

    ব্রহ্মোস নিয়ে চুক্তি

    ইন্দোনেশিয়া ভারত-রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল সিস্টেম কিনতে প্রায় ৬৩০ মিলিয়ন ডলারের বড় চুক্তি করেছে। ফিলিপিন্সের পর দ্বিতীয় এশিয়া মহাদেশের দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া এই অত্যাধুনিক অস্ত্র সংগ্রহ করল। কূটনীতিকদের একাংশের মতে পাকিস্তান, চিন এবং বাংলাদেশকে আটকাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশের সঙ্গে এই কৌশলগত সম্পর্ক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বৈঠকে উভয় নেতা দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার অঙ্গীকার করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “এই চুক্তি শুধু অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় নয়, বরং আমাদের দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাস ও নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রতীক।” প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোও এই চুক্তিকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির মাইলফলক বলে অভিহিত করেন। ব্রহ্মোস চুক্তির আওতায় ভারতের ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেস ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে এবং ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড (বিডিএল) বেসরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থা রিপাবলিকর্পের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই মিসাইল সিস্টেম ইন্দোনেশিয়ার উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ও সমুদ্রসীমা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে। সুপারসনিক গতির এই ক্রুজ মিসাইল সমুদ্র ও স্থল উভয় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ইন্দোনেশিয়া এর আগে ব্রহ্মোসের কিছু সংস্করণ কিনলেও এবারের চুক্তি আরও বড় আকারের এবং অতিরিক্ত ব্যাটারি সংযোজনসহ।

    ক্ষেপণাস্ত্র ‘অস্ত্র’ নিয়ে আশ্বাস

    একই বৈঠকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য অস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র ‘অস্ত্র’ (Astra) নিয়ে। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই অত্যাধুনিক মিসাইল ইন্দোনেশিয়ার বিমানবাহিনীর সু-৩০ ফাইটার জেটে যুক্ত করা হবে। এর ফলে ইন্দোনেশিয়ার বিমান বাহিনীর আকাশ যুদ্ধের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। অস্ত্র মিসাইল দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম এবং আধুনিক যুদ্ধবিমানের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মুখে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলছে। ইন্দোনেশিয়া এই অঞ্চলের বৃহত্তম দেশ এবং তার সমুদ্রসীমা বিশাল। ব্রহ্মোস ও অস্ত্রের মতো অস্ত্র সংগ্রহ তাদের নৌ ও বিমান শক্তিকে আরও দুর্ভেদ্য করে তুলবে।

    নতুন যুগের সূচনা

    মঙ্গলবার জাকার্তার মেরদেকা প্রাসাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Jakarta) এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর বৈঠকের পর এই ঘোষণা করা হয়। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে তিন দেশের সফরের প্রথম পর্যায় হিসেবে ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এরপর তিনি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফর করবেন। যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “২০১৮ সালে গড়ে ওঠা ভারত-ইন্দোনেশিয়া সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব আজ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। উন্নয়ন, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও শিক্ষাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমি নিশ্চিত, ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কের এক নতুন স্বর্ণযুগের সূচনা হল।”

    সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে চুক্তি

    প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার কোস্ট গার্ড ভারত মহাসাগরে যৌথভাবে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে কাজ করবে। দুই দেশই একটি মুক্ত, উন্মুক্ত ও আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “ইন্দো-প্যাসিফিক নিয়ে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে। ভারত সবসময়ই আসিয়ান (ASEAN)-এর কেন্দ্রীয় ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।” অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো বলেন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া এমন একটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল চায়, যা হবে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক।

    গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে সিদ্ধান্ত

    বৈঠকে প্রতিরক্ষার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, কৃষি, স্বাস্থ্য, টেলিকম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও উদ্ভাবন, নির্বাচন পরিচালনা এবং মহাকাশ সহযোগিতা-সহ প্রায় এক ডজন ক্ষেত্রে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত হল ক্রিটিক্যাল মিনারেলস নিয়ে অংশীদারিত্ব। ভারত ইন্দোনেশিয়ার স্টিল, নিকেল এবং রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ করবে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলগত খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

    সাবাং বন্দরের উন্নয়ন

    এছাড়া মালাক্কা প্রণালীর প্রবেশমুখে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাবাং বন্দর যৌথভাবে উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশ। ভারতের গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের কাছাকাছি অবস্থিত এই বন্দর ভবিষ্যতে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সামুদ্রিক যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ব্লু ইকোনমি, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং বন্দর উন্নয়নেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    ইন্দোনেশিয়ায় ইউপিআই

    দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (IIM) বেঙ্গালুরু ইন্দোনেশিয়ায় তাদের একটি ক্যাম্পাস স্থাপন করবে। পাশাপাশি ভারতের ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (UPI)-কে ইন্দোনেশিয়ার ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে, যাতে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা ও পর্যটকদের লেনদেন আরও সহজ হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “ভারতের ইউপিআই ইন্দোনেশিয়ার পেমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে। এর ফলে ব্যবসা করা যেমন সহজ হবে, তেমনই ভ্রমণকারীদের জন্যও আর্থিক লেনদেন অনেক সুবিধাজনক হবে।”

    পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

    বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে ভারত মনে করে, সংলাপ ও কূটনীতির গুরুত্ব আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় বেশি। ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারত এখনও দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান (Two-State Solution) এবং স্থায়ী শান্তির পক্ষে তার অবস্থান বজায় রেখেছে।” ভারতীয় কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফরে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সংক্রান্ত চুক্তিগুলি শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই আরও মজবুত করবে না, বরং সমগ্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি এবং প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

     

     

     

     

  • New Delhi Terror Module: দিল্লিতে পাক মদতপুষ্ট দুই জঙ্গি মডিউল ভেঙে দিল পুলিশ, গ্রেফতার ৬

    New Delhi Terror Module: দিল্লিতে পাক মদতপুষ্ট দুই জঙ্গি মডিউল ভেঙে দিল পুলিশ, গ্রেফতার ৬

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানী দিল্লিতে (New Delhi Terror Module) পাকিস্তান-সমর্থিত দুই পৃথক জঙ্গি মডিউলের হদিশ পেল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। এই ঘটনায় মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি হ্যান্ডলার শাহজাদ ভাট্টির নির্দেশে কাজ করছিল। একটি মডিউলের লক্ষ্য ছিল দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা বা পুলিশ প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো, অন্যটি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অস্ত্র পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ঘটনার তদন্ত চলছে। ধৃতদের জেরা করে পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক এবং ভারতে তাদের সহযোগীদের সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

    আইএসআই-এর প্রচ্ছন্ন মদতে চলত কাজ

    দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার প্রমোদ সিং কুশওয়াহ জানান, প্রথম মডিউলটি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর হ্যান্ডলার রানা হুনাইনের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছিল। রানা হুনাইন শাহজাদ ভাট্টির ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলেও দাবি পুলিশের। এই মডিউলকে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা পুলিশ ভবনে পেট্রোল বোমা হামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এই মামলায় বিজয় ঘাট এলাকা থেকে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে তিনটি পেট্রোল বোমা এবং ২,০০০ টাকা উদ্ধার হয়েছে। ধৃতরা হল উত্তরপ্রদেশের মুজফ্‌ফরনগরের বাসিন্দা ২৪ বছরের দানিশ ওরফে চাঁদ মিয়া এবং ২০ বছরের সালমান। পুলিশের দাবি, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দানিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে রানা হুনাইনের সংস্পর্শে আসে। তাকে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও পুলিশ প্রতিষ্ঠানের রেকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই কাজ সম্পন্ন করলে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। দানিশের বন্ধু সালমানকে হামলার ভিডিও ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাকেও ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি।

    অমৃতসর থেকে অস্ত্রের চালান সংগ্রহ

    অন্যদিকে, দ্বিতীয় মডিউলটি সীমান্ত (Pak Based Terror Module) পেরিয়ে পাকিস্তান থেকে ড্রোনের মাধ্যমে পাঠানো অস্ত্র ভারতে পৌঁছে দেওয়ার কাজে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ। এই চক্রটি আইএসআই-এর আরেক হ্যান্ডলার হাসান গুজ্জরের নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছিল। গুজ্জরও শাহজাদ ভাট্টির সহযোগী বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই মামলায় কালিন্দি কুঞ্জ এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে তিনটি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি পাঞ্জাবের অমৃতসর থেকে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম তায়্যাব (২৭), জুবায়ের খান (২৪), আলি ফজল (২৬) এবং মালকিয়াত সিং (৩৬)। তদন্তে জানা গিয়েছে, তায়্যাবও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে হাসান গুজ্জরের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে। গুজ্জরের নির্দেশে জুবায়ের খান অমৃতসর থেকে অস্ত্রের চালান সংগ্রহ করে এবং পরে তা আলি ফজলের হাতে তুলে দেয়। অভিযোগ, দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশে ক্রেতাদের কাছে সেই অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা ছিল। এছাড়া পাকিস্তান থেকে পাঠানো অর্থ ভারতে জঙ্গি কার্যকলাপ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলেও দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ।

  • PM Modi on Shyama Prasad: ‘অনন্য জাতি-নির্মাতা, তাঁর জীবন জন আন্দোলনের প্রেরণা’, শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে বিদেশ থেকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন মোদির

    PM Modi on Shyama Prasad: ‘অনন্য জাতি-নির্মাতা, তাঁর জীবন জন আন্দোলনের প্রেরণা’, শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে বিদেশ থেকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রবাদী সরকার হলে রাষ্ট্রনায়করা সম্মান পায়। তাদের বিচারধারা দর্শন অনুযায়ী সরকার চালিত হয়। কলকাতায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই অভিমত প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মিলন মেলায় সোমবার সাড়ম্বরে পালিত হয় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (PM Modi on Shyama Prasad) জন্মজয়ন্তী। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকীতে আজ তাঁকে স্মরণ করছে গোটা দেশ। দেশের চারদিকে যে বিচারধারা ছড়িয়ে পড়েছে, তার বীজকে আজ স্মরণ করছে দেশ।”

    বাংলায় শ্যামপ্রসাদের জন্মদিন পালন

    বিজেপির প্রাণপুরুষ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। অথচ তাঁর রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেই এতদিন ধুমধাম করে বিজেপি শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিন পালন করতে পারেনি বলে অভিযোগ। বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পরে বিজেপির উদ্যোগে সরকারি ও দলগত ভাবে শ্যামাপ্রসাদের ১২৫তম জন্মদিবস উদযাপন ছিল নজরকাড়া। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিদেশ থেকে ভার্চুয়ালি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সশরীর এ দিন হাজির ছিলেন কলকাতায়। বাংলায় বিজেপি ক্ষমতা দখলের পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন এ রাজ্যে শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ ফুট উঁচু মূর্তি বসবে। একই সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিন ৬ জুলাইকে সরকারি ছুটি হিসেবেও ঘোষণা করেন তিনি। তার জন্য সোমবার কলকাতায় এসে বাং‍লার মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন শাহ। ইএম বাইপাসের ধারে মিলন মেলা প্রাঙ্গণে শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলে‍ন, ‘এ রাজ্যে বিজেপির সরকার তৈরির পরে আমি শুভেন্দুদাকে ফোন করে বলেছিলাম, শ্যামাপ্রসাদের একটি মূর্তি বানানোর জন্য এবং তাঁর জন্মদিনকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করার জন্য। মুখ্যমন্ত্রী কথা রেখেছেন।’

    বাংলাকে পাকিস্তান হতে দেয়নি

    সোমবারই ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড সফরে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ ভিডিয়ো বার্তায় তিনি বলেন, ‘৬ জুলাই জাতীয়তাবাদ এবং নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শে বিশ্বাসী কোটি কোটি দেশবাসীর কাছে বিশেষ একটি দিন। তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল পাণ্ডিত্য, জনসেবা এবং উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধের এক অসাধারণ মিশ্রণ। আধুনিক ভারতের খুব কম নেতার মধ্যেই এতগুলি গুণ একসঙ্গে দেখা যায়।’ প্রধানমন্ত্রীর সংযোজন, ‘শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ায় তাঁর যে দূরদর্শী ভাবনা ছিল, তা আজও আমাদের নতুন উদ্দীপনা জোগাচ্ছে। শ্রেষ্ঠ ভারতের যে স্বপ্ন শ্যামাপ্রসাদ দেখেছিলেন, আজ আমাদের কাঁধে তা পূরণ করার দায়িত্ব। বাংলাকে ভারত থেকে আলাদা করার চক্রান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু উনি জনমত তৈরি করেন, আন্দোলন করেন। পশ্চিমবঙ্গের পবিত্র ভূমি থেকে জাতীয়তাবাদের যে তুফান গোটা বাংলাকে পাকিস্তান হতে দেয়নি, সেই বিস্মৃত অধ্যায় আজ সবার সামনে তুলে ধরতে হবে।’ মোদির কথায়, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন একটি জন আন্দোলনের প্রেরণা যুগিয়েছে। ভারতে এক দার্শনিক আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে। জনসঙ্ঘ যে সময় তৈরি হয়, সেই সময় চারিদিকে কংগ্রেসের জয়জয়কার জনপ্রিয়তা ছিল। ভিন্ন ভাবধারার কোনও জায়গা ছিল না। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সেই প্রতিকূলতাকে চ্যালেঞ্জ করেই সংগঠন তৈরি করেছেন।

    ভারতের ঐক্য, মর্যাদা এবং অগ্রগতির জন্য নিবেদিত

    সমাজমাধ্যমে ‘ভারত কেশরী’ শ্যামাপ্রসাদের উদ্দেশে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনে জ্ঞানচর্চা, সাহস এবং জাতির সেবার প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের সংকল্প ছিল। তিনি ভারতের ঐক্য, মর্যাদা এবং অগ্রগতির জন্য নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন।’’ প্রয়াত জনসঙ্ঘ-প্রতিষ্ঠাতার অবদান সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র জুড়ে বিস্তৃত ছিল জানিয়ে মোদি লিখেছেন, ‘‘তিনি (শ্যামাপ্রসাদ) ছিলেন একজন অসাধারণ চিন্তাবিদ এবং শিক্ষাবিদ, যিনি উদ্ভাবনমুখী ও ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষাকে সমর্থন করেছিলেন। শিল্পমন্ত্রী হিসেবে তিনি শিল্পে স্বনির্ভরতার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ক্ষেত্র এবং তাঁর সম্পর্কিত জীবিকা যেন সমৃদ্ধ হয়, তা নিশ্চিত করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে দুর্ভিক্ষের সময় তাঁর মানবিক প্রচেষ্টা সঙ্কটাপন্ন মানুষের প্রতি তাঁর গভীর সহানুভূতির প্রতিফলন। সর্বোপরি, ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতার প্রতি তাঁর অটল অঙ্গীকার আজও অনুপ্রেরণার এক চিরস্থায়ী উৎস হয়ে রয়েছে। আমরা যখন একটি বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছি, তাঁর দূরদর্শিতা আমাদের পথকে আলোকিত করে চলেছে।’’

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর রহস্যমৃত্যু

    শ্যামাপ্রসাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কলকাতায় এসে ভারত ভাগের ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে নিশানা করলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে। তুললেন, শ্যামাপ্রসাদের ‘রহস্যমৃত্যু’র প্রসঙ্গও। সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববাংলা মেলা প্রাঙ্গণে শাহের বক্তৃতায় গোড়াতেই এসেছে নেহরুর মন্ত্রিসভা থেকে শ্যামাপ্রসাদের ইস্তফার ঘোষিত ও প্রত্যক্ষ কারণ— ১৯৫০ সালের এপ্রিল মাসে স্বাক্ষরিত ‘নেহেরু-লিয়াকত (পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী) চুক্তি’ বা ‘দিল্লি চুক্তি’। শাহ বলেন, ‘‘আমি সেই পদত্যাগপত্র দেখেছি। চুক্তিটি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় অধ্যয়ন করে বলেছিলেন যে, তাতে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বসবাসকারী হিন্দুদের কথা চিন্তাই করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘ভারতে থেকে যাওয়া মুসলমানদের কথা চিন্তা করা হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান, বাংলাদেশের হিন্দুদের কথা ভাবা হয়নি। এই চুক্তি একতরফা। তাই আমি ইস্তফা দিচ্ছি।’’ জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রসঙ্গ তুলে শাহের মন্তব্য, ‘‘শ্যামাপ্রসাদ যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেই স্বপ্নই পূরণ করছেন।’’ সেই সঙ্গে তাঁর প্রতিশ্রুতি, ‘‘ভারতের জমি থেকে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে বার করে ভারতকে পূর্ণ সুরক্ষিত বানাব।’’ নেহরুর জমানায় কাশ্মীরের জেলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘সন্দেহজনক মৃত্যু’ হয়েছিল জানিয়ে শাহ বলেন, ‘‘কিন্তু কংগ্রেস কোনও দিন তার তদন্ত করায়নি।’’

    মৃত্যুর ৬৩ বছর পরে শ্যামাপ্রসাদকে স্মরণ তাঁর রাজ্যের

    ৬৩ বছর পরে শ্যামাপ্রসাদের দলের সরকার সিএএ এনে হিন্দুদের নাগরিকত্ব দিচ্ছে জানিয়ে শাহ বলেন, ‘‘শুভেন্দু আমাদের রোজ বলছেন। তাঁকে বলছি, নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ যেটুকু বাকি আছে, তা-ও দ্রুত করে দেব।’’ মৃত্যুর ৬৩ বছর পরে শ্যামাপ্রসাদের নিজের রাজ্যে তাঁর স্মারক তৈরি হচ্ছে জানিয়ে শাহ সোমবার বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গকে আবার যিনি সমগ্র ভারতের প্রেরণাকেন্দ্র বানানোর কাজ শুরু করেছেন, আমার সেই মিত্র পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অনেক অভিনন্দন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দলের সরকার হল। তাঁর বিচারধারার সরকার হল। দেশভক্তদের সরকার হল। তাই শ্যামাপ্রসাদের নিজের রাজ্যে তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করা হচ্ছে।’’

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ইনস্টিটিউট

    সোমবার দুপুরে নিউ টাউনের ইকো পার্কে শ্যামাপ্রসাদের (Amit Shah on Shyama Prasad) মূর্তির ভিত্তিস্থাপন করেন শাহ। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি শুধু শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি প্রতিষ্ঠার ভূমিপুজো নয়। এটা সোনার বাংলার সঙ্কল্পকে বাস্তবায়িত করার ভূমিপুজো। শুভেন্দু অধিকারীকে অনেক অনেক অভিনন্দন। যেখানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত গবেষণা করার জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ইনস্টিটিউটও হবে।’ শাহের দাবি, শ্যামাপ্রসাদ এমন বীজ বপন করেছিলেন ভারতীয় জনসঙ্ঘের রূপে, যা ভারতের সব জাতীয়তাবাদী শক্তিকে একত্রিত করেছিল। তাঁর বপন করা বীজ আজ বটবৃক্ষের রূপ নিয়ে গোটা দেশকে ফল দিচ্ছে। এদিন ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতেও যান শাহ।

    শ্যামাপ্রসাদ মিউজিয়াম

    এর সূত্র ধরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘হুগলির জিরাটে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটেটি সরকার কিনে নিয়েছে। সেখানে মিউজিয়াম হবে। সূর্যকে যেমন চাপা দিয়ে রাখা যায় না, তেমনই শ্যামাপ্রসাদের আদর্শকেও চাপা দিয়ে রাখা যাবে না।’ বন্দে মাতরম রচনার ১৫০ বছর, শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ বছর জন্মদিবস এসেছে একই বছরে। শাহের কথায়, ‘এই ঘটনা বিধির বড় সঙ্কেত। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যে বন্দে মাতরমের রচনা করেছিলেন, তার মাধ্যমে ভারতের সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের ভিত তৈরির কাজ হয়েছিল। এর চেয়ে ভাল মণিকাঞ্চন যোগ কোথাও হয় না।’’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ হোক, অখণ্ড ভারতের সঙ্কল্প হোক, সব বিচারধারার একটাই গঙ্গোত্রী— শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

     

     

     

     

     

  • FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপ থেকে বিদায় রোনাল্ডোর! বাজিমাত স্পেনের, বালোগুনকে বোতলবন্দি করে শেষ আটে বেলজিয়াম

    FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপ থেকে বিদায় রোনাল্ডোর! বাজিমাত স্পেনের, বালোগুনকে বোতলবন্দি করে শেষ আটে বেলজিয়াম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) স্বপ্নই রয়ে গেল। ইচ্ছাপূরণ হল না ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের কাছে ০-১ হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল পর্তুগাল। একমাত্র গোল মিকেল মেরিনোর, যিনি পরিবর্ত হিসাবে নেমে নিয়মিত গোল করার কারণে ‘সুপার সাব’ নামে অভিহিত হন। তাঁর গোলেই রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেল। ৪১ বছরের ফুটবলারকে অবসর নিতে হচ্ছে বিশ্বকাপ ছাড়াই। গত দু’দিন বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় ছিল আমেরিকার স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড বিতর্ক। বসনিয়া ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পরেও তাঁর সাসপেনশন প্রত্যাহার করে নেয় ফিফা। জানা যায়, হোয়াইট হাউসের সরাসরি হস্তক্ষেপে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পও প্রকাশ্যে জানান, তিনি ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। ফিফার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিবাদ জানায় বেলজিয়াম। লিখিত আবেদনও করে তারা। তাতে অবশ্য সিদ্ধান্ত বদলায়নি। কিন্তু এদিন বেলজিয়াম বুঝিয়ে দিল, জোর করে কাউকে জেতানো যায় না। মাঠের বাইরে যা-ই হোক না কেন, আসল খেলাটা হয় মাঠে। ৯০ মিনিটে। সেখানেই আমেরিকাকে উড়িয়ে দিল বেলজিয়াম। ৪-১ গোলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল বেলজিয়াম। সেখানে তাদের সামনে স্পেন।

    বিশ্বকাপ ছেড়ে যেতে খারাপ লাগছে

    ডালাস স্টেডিয়ামে রেফারি অ্যান্টনি টেলরের শেষ বাঁশিটা বাজার বেশ কিছু ক্ষণ ইস্পাতকঠিন মুখে দাঁড়িয়ে রইলেন রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)। শুকনো মুখে এ দিক-ও দিক তাকালেন। বোধহয় বোঝার চেষ্টা করছিলেন কী ঘটে গিয়েছে। সতীর্থ থেকে বিপক্ষ, সকলেই এসে একে একে সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছিলেন। কিছুই ছুঁতে পারছিল না তাঁকে। এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। তবে দলের হয়ে হয়তো খেলবেন আরও কিছুদিন। চোখে জল নিয়ে রোনাল্ডো বলেন, “এ ভাবে বিশ্বকাপ ছেড়ে যেতে খারাপ লাগছে। আমি সবটা দিয়েছি। নিজের সেরাটা দিয়েছি। এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ ছিল। হ্যাঁ, আমার বিশ্বকাপ কেরিয়ার শেষ।” কয়েক সেকেন্ড থেমে রোনাল্ডো আবার বলেন, “কিন্তু দেশের হয়ে অবসরের বিষয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নেব না। সময় আছে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাব। তার পর সিদ্ধান্ত নেব।” ৪১ বছরের রোনাল্ডো জানিয়েছেন, তিনি তাড়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চান না। কারণ, এই দলের এখনও তাঁকে প্রয়োজন রয়েছে। রোনাল্ডো বলেন, “আমি তাড়়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্ত নেব না। রাগ বা আবেগের মাথায় কোনও সিদ্ধান্ত নেব না। সব দিক ভেবে সিদ্ধান্ত নেব। পর্তুগালের হয়ে তো ভালই খেলছি। দলকে এখনও আমার দরকার।”

    দল ভালো খেলেছে, ভাগ্য খারাপ

    পর্তুগাল ভক্ত নন। অথচ অনেকেই এ দিন চাইছিলেন রোনাল্ডো জিতুন। বিশ্বকাপ হাতে তুলতে না পারুন। অন্তত আরও কিছু দিন বিশ্বকাপের মঞ্চে যেন দেখা যায় তাঁকে। কিন্তু ফাইনালের দু’সপ্তাহ আগেই রোনাল্ডোর যাত্রা থেমে গেল। থামিয়ে দিল প্রতিবেশী দেশ স্পেন। এই দলের বিরুদ্ধেই ২০১৮-য় হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। সেই রোনাল্ডো এবং এই রোনাল্ডোর মধ্যে অনেক তফাত। এই রোনাল্ডোর ক্ষিপ্রতা, আগ্রাসন, গতি— সব কিছুই উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। এ দিন দু’-একটি এমন বল পেলেন যেখানে থেকে বছর দুয়েক আগেও অনায়াসে গোল করতে পারতেন। মিস্ করার পর হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে যতই বোঝাতে চান যে ইঞ্চিখানেকের ব্যবধান, রোনাল্ডো জানতেন অসম্ভবকে সম্ভব করার ক্ষমতা আর তাঁর নেই। অথচ পর্তুগাল যে হারার মতো খেলেছে এ কথা বলা যাবে না। বরং ম্যাচের বেশ কিছুটা সময় তাদের আধিপত্য ছিল। গ্রুপ পর্বে বা নকআউট পর্বের ম্যাচগুলিতে পর্তুগালের খোলনলচে বেরিয়ে পড়লেও, স্পেনের বিরুদ্ধে তারা লড়াই করছিল সমানে-সমানে। সংযুক্তি সময়ে মিকেল মেরিনোর গোলে জিতেছে স্পেন। রোনাল্ডোর মতে, তাঁদের ভাগ্য খারাপ ছিল। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে যেতে খুব কষ্ট হয়। কিন্তু কিছু করার নেই। আমাদের দল খুব ভাল খেলেছে। খেলার ফল যে কোনও দিকে যেতে পারত। ওদের ভাগ্য ভাল ছিল। আমরা হেরেছি ঠিক। কিন্তু মাথা উঁচু করে বিদায় নেব।” যতই বলুন চোখের জল বাধ মানছিল না। রোনাল্ডো বুঝতে পারছিলেন, এই মঞ্চে আর আসা হবে না। এটাই শেষ বার। আরও এক বার খালি হাতেই ফিরতে হল তাঁকে।

    বেলজিয়ামের সামনে দাঁড়াতে পারলেন না বালোগুন

    জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সামনে তাঁকে সপাটে জবাব দিল বেলজিয়াম। প্রতিপক্ষের সর্বাধিক গোলদাতাকে জোর করে খেলানোর সিদ্ধান্তই বোধহয় তাতিয়ে দিয়েছিল রুডি গার্সিয়ার দলকে। নইলে যে বেলজিয়াম গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে রাউন্ড অফ ৩২ পর্যন্ত খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে জিতেছে, তারাই আমেরিকাকে উড়িয়ে দিল। গোটা ম্যাচে এক বারের জন্যও মনে হয়নি বেলজিয়াম চাপে রয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা ম্যাচ খেলল তারা। উল্টে বালোগুনকেই দেখে মনে হল নিজেকে খোলসের ভিতর ঢুকিয়ে ফেলেছেন। হয়তো লাল কার্ড বিতর্ক তাঁর মাথায় এখনও রয়েছে। বেলজিয়ামের ডিফেন্ডারদের খুব বেশি চ্যালেঞ্জ করলেন না। যে কয়েকটি সুযোগ পেলেন কাজে লাগাতে পারলেন না। শেষ দিকে একটি শট মারলেও তা থেকে গোল হয়নি। বালোগুনকে জোর করে খেলিয়ে খুব একটা লাভ হল না মৌরিসিয়ো পোচেত্তিনোর দলের। উল্টে ৯০ মিনিট ধরে আমেরিকার খেলায় একটা অস্বস্তি চোখে পড়ল।

    ফিফাকে জবাব বেলজিয়ামের

    বেলজিয়াম যেন জবাব দেওয়ার জন্য নেমেছিল। প্রথম ১০ মিনিটেই আমেরিকার গোলে পাঁচটি শট মারে তারা। মার্কিন গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ হিমশিম খাচ্ছিলেন। একই অবস্থা ছিল দলের রক্ষণের। আগের ম্যাচে সেনেগালের বিরুদ্ধে যে ডি কেটেলায়েরেকে দেখতে পাওয়া যায়নি, বেলজিয়ামের সেই স্ট্রাইকার এই ম্য়াচে দাপট দেখালেন। জোড়া গোল করলেন তিনি। প্রথমার্ধে ফ্রি কিক থেকে অবশ্য এক গোল শোধ করেন টিলমান। ব্যস, সে টুকুই। তার বেশি কিছু করতে দেখা যায়নি আমেরিকাকে। গোটা ম্যাচে আমেরিকার রক্ষণ সমস্যায় ফেলেছে। বেলজিয়ামের তৃতীয় গোল তারই ফসল। বক্সের বাইরে বেরিয়ে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের পায়ে তা তুলে দেন ফ্রিজ। ভানাকেন দূর থেকেই শট মারেন। জালে জড়ায় বল। প্রথম একাদশে সুযোগ পাননি রোমেলু লুকাকু। আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও পরিবর্ত হিসাবে নেমে গোল করলেন তিনি। বুঝিয়ে দিলেন, গোল করতে বেশি ক্ষণ সময় তাঁর লাগে না।

     

     

     

     

  • PM Modi in Jakarta: ইন্দোনেশিয়ায় রাজকীয় সংবর্ধনা! যুদ্ধবিমানের এসকর্টে জাকার্তায় পৌঁছল প্রধানমন্ত্রী মোদির বিশেষ বিমান

    PM Modi in Jakarta: ইন্দোনেশিয়ায় রাজকীয় সংবর্ধনা! যুদ্ধবিমানের এসকর্টে জাকার্তায় পৌঁছল প্রধানমন্ত্রী মোদির বিশেষ বিমান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক : তিন দেশ সফরের প্রথম পর্বে সোমবার ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় (PM Modi in Jakarta) পৌঁছালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করার পর সে দেশের বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিমানকে এসকর্ট করে নিয়ে আসে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রথায় অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এই সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অভ্যর্থনা জানায় ইন্দোনেশিয়া (India Indonesia Relation)। জাকার্তায় পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। বিমানবন্দরে তাঁকে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

    ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক

    প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর আমন্ত্রণে ৬ থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া সফরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ২০১৮ সালে ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ককে কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে উন্নীত করার পর এটি প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর এবং ইন্দোনেশিয়ায় তাঁর চতুর্থ সফর। সফরসূচি অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ায় থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রী সেখানের ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং রাষ্ট্রপতি প্রাবোও-র সঙ্গে ইয়োগিয়াকার্তার ঐতিহাসিক প্রাম্বানান মন্দির প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করবেন। এই মন্দির ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম হিন্দু মন্দির হিসেবে পরিচিত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন। এই ঐতিহাসিক মন্দিরকে দুই দেশের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক বন্ধনের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক সহযোগিতা

    এই সফরে প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের তৈরি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র রফতানিও এই সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া আসিয়ান অঞ্চলে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২৪.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ায় ১৩০টিরও বেশি ভারতীয় সংস্থা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করছে।

    গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে আলোচনা

    দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বের মোট নিকেল মজুদের প্রায় ২১ শতাংশ ইন্দোনেশিয়ার দখলে। পাশাপাশি তামা, বক্সাইট ও টিন উৎপাদনেও দেশটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উৎপাদক। ফলে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ ও সহযোগিতা বাড়ানো এই সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। প্রধানমন্ত্রীর এই তিন দিনের সরকারি সফরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পর্যালোচনার পাশাপাশি কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

    এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফর

    ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড-এই তিন দেশে ছয় দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশ ছাড়ার আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী জানান, সফরের প্রথম দফায় ৬ থেকে ৮ জুলাই তিনি ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তোর আমন্ত্রণে সে দেশ সফর করবেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি উল্লেখ করেন, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের ‘কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ বা ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে। ইন্দোনেশিয়া সফর শেষে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের আমন্ত্রণে মেলবোর্নে যাবেন নরেন্দ্র মোদি। এই সফরে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, মোবিলিটি, উদীয়মান ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, ক্রীড়া এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এর মাধ্যমে ভারত-অস্ট্রেলিয়া কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেও তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সফরের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে যাবেন। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছরের মার্চ মাসে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে গতি এসেছে, এই সফর তাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। এখানে মূলত অর্থনৈতিক, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হবে।

    ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ ও ‘মহাসাগর ভিশন’

    প্রধানমন্ত্রী মোদি জোর দিয়ে বলেন, পূর্ব ও দক্ষিণ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দুই গুরুত্বপূর্ণ দেশ ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া এবং পরবর্তীতে নিউজিল্যান্ড সফর ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ (Act East Policy) এবং ‘মহাসাগর ভিশন’ (MAHASAGAR Vision)-কে আরও সুদৃঢ় করবে। একই সঙ্গে এটি একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি হিসেবে প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর (Prabowo Subianto) ভারত সফরের পর এটি প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রথম দ্বিপাক্ষিক ইন্দোনেশিয়া সফর। জাকার্তায় পৌঁছে এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি লেখেন, “জাকার্তায় পৌঁছেছি। বিমানবন্দরে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর আন্তরিক অভ্যর্থনায় আমি আপ্লুত। ২০১৮ সালে আমরা ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ককে কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে উন্নীত করেছিলাম, যার সুফল দুই দেশের মানুষই পাচ্ছেন। এই সফর দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।”

     

     

     

     

  • Pahalgam Attack: পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদ! এনআইএ-র চার্জশিটে উঠে এল লস্কর প্রধানের নাম

    Pahalgam Attack: পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদ! এনআইএ-র চার্জশিটে উঠে এল লস্কর প্রধানের নাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার মূল চক্রী পাক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সইদ (Hafiz Saeed)। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের (Pahalgam Attack) তদন্তে সোমবার অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। জম্মুতে এনআইয়ের বিশেষ আদালতে পেশ করা অতিরিক্ত চার্জশিটে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা পাকিস্তানের জঙ্গি নেতা তথা লস্কর-ই তইবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদের নাম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে যুক্ত করেছে। এনআইএ-র তরফে হাফিজের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি, ২০২৩ এবং ইউএপিএ-র একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বলা হয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়েছেন সন্ত্রাসী সংগঠন লস্করের প্রতিষ্ঠাতা।

    সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে এনআইএ-র দাবি

    এর আগেও একাধিক সংঘঠিত অপরাধে এই পাক জঙ্গি নেতার যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে প্রতিবারই পাকিস্তান ভারতের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নয়া দিল্লির বিরুদ্ধে পাকবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করে আসছে। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের জেরে গত বছর মে মাসে দু’দেশের মধ্যে সংঘর্ষ নিয়েও পাকিস্তান বিশ্বব্যাপী ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কথা প্রচার করে। এর আগে গত ডিসেম্বরে এনআইএ’র প্রথম চার্জশিটে পাকিস্তান এবং জম্মু-কাশ্মীরের জঙ্গিদের নাম থাকলেও মূল ষড়যন্ত্রকারীর বিষয়ে তদন্ত চলমান বলে জানানো হয়েছিল। সোমবার জমা করা অতিরিক্ত চার্জশিটে এনআইএ বলেছে, পাকিস্তানে বসে লস্কর-ই তইবা নেতা পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে। তার পরিকল্পনা মত হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করা হয়। এই ব্যাপারে তদন্তকারীরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করেছে এনআইএ।

    কোন কোন ধারায় অভিযুক্ত হাফিজ

    এই মামলার তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত ১,৫৯৭ পৃষ্ঠার চার্জশিট পেশ করেছে এনআইএ। সোমবার এই মামলার সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করা হয় এনআইএ-র তরফে। যেখানে পহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত বিবরণ, সেখানে হাফিজ সইদের ভূমিকা-সহ অন্যান্য খুঁটিনাটি তথ্য প্রমাণ যুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই মামলায় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রথম চার্জশিট পেশ করেছিল এনআইএ। সেখানে পাক হ্যান্ডেলার সাজিদ জাট, অপারেশন মহাদেবে নিহত তিন সন্ত্রাসী এবং গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করে। একইসঙ্গে লস্কর ও তার শাখা টিআরএফ-এর ভূমিকা, হামলার পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পরিচালনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগামে জঙ্গিরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৬ জন পর্যটককে হত্যা করে। ওই ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় এনআইএ-র হাতে। নানা দেশি-বিদেশি সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এনআইএ নিশ্চিত হয়েছে, মুম্বই হামলার মত পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডও সরাসরি পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হয়েছিল। বিশদ তদন্তে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা জানতে পারে ওই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ছিল হাফিজ সইদ। ‌পাক জঙ্গি নেতার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সহিংতা ছাড়াও ইউএপিএ-র একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

LinkedIn
Share