Author: ishika-banerjee

  • Red Fort Blast Case: উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা, লখনউয়ে বাপু ভবন ও বড়া ইমামবাড়ায় বিস্ফোরণের ছক! তথ্য সামনে আনল এনআইএ

    Red Fort Blast Case: উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা, লখনউয়ে বাপু ভবন ও বড়া ইমামবাড়ায় বিস্ফোরণের ছক! তথ্য সামনে আনল এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লখনউয়ে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা, বাপু ভবন ও বড়া ইমামবাড়াকে লক্ষ্য করে বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক ভেস্তে দিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। ২০২৫ সালে লাল কেল্লায় বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তরা লখনউয়ের (Blast in Lucknow) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ও জনবহুল এলাকায় গোপনে রেকি চালিয়ে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি হামলার পরিকল্পনা করছিল।

    কীভাবে হামলার পরিকল্পনা

    এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত মুজাম্মিল শাকিল অনলাইনে লখনউয়ের বিভিন্ন রাসায়নিক দোকানের খোঁজ করছিলেন, যেখান থেকে ট্রাইঅ্যাসিটোন ট্রাইপারঅক্সাইড (TATP) তৈরির উপকরণ সংগ্রহ করা সম্ভব। অত্যন্ত শক্তিশালী ও অস্থিতিশীল এই বিস্ফোরককে “মাদার অফ স্যাটান” নামেও ডাকা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার (Red Fort Blast Case) কাছে যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছিল, তাতেও এই বিস্ফোরকই ব্যবহার করা হয়েছিল। এনআইএ আরও জানিয়েছে, শাহিন সঈদ মুজাম্মিলের নির্দেশে সম্ভাব্য রাসায়নিক সরবরাহকারীদের একটি হাতে লেখা তালিকা তৈরি করেছিলেন। পরে তদন্তে বাজেয়াপ্ত মোবাইল ফোন থেকে সেই নথি উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার মতে, এটি বড়সড় নাশকতার প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।

    কোথায় কোথায় হামলার ছক

    তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের ২৫ থেকে ৩০ অগাস্টের মধ্যে মুজাম্মিল ও শাহিন ফরিদাবাদ থেকে লখনউয়ে গিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানের রেকি চালান। অভিযুক্তরা উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা, বাপু ভবন, আমিনাবাদ, লালবাগ এবং ঐতিহাসিক বড়া ইমামবাড়া চত্বরে ঘোরাফেরা করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জনসমাগম খতিয়ে দেখেছিল বলে অভিযোগ। তদন্তকারী সংস্থার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “ওরা বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি ব্যবহার করে এই ভবনগুলির কাছে বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করছিল। জনবহুল এলাকা ও প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলিকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল।”

    আন্তঃরাজ্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে

    এনআইএ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে। আর্থিক লেনদেন, ডিজিটাল তথ্য, যোগাযোগের রেকর্ড এবং আন্তঃরাজ্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই তথ্যগুলি ১৪ মে এনআইএ-র জমা দেওয়া প্রায় ৭,৫০০ পাতার চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, লখনউয়ের এই রেকি আসলে বৃহত্তর জঙ্গি চক্রের অংশ, যা আল-কায়েদা ঘনিষ্ঠ একটি সংগঠনের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত বহু-শহরভিত্তিক নাশকতা পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছে যানজটে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। সেই হামলায় ১৫ জনের মৃত্যু হয় এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হন। তদন্তকারীদের দাবি, এই হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল একদল চরমপন্থায় প্রভাবিত উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি, যাদের মধ্যে চিকিৎসকরাও ছিলেন।

  • CM Suvendu Adhikari: ‘বয়কটের রাজনীতি’র উল্টো পথে শুভেন্দুর সরকার, মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে যোগ দিয়ে কাকলি বললেন “প্রশাসন সবার”

    CM Suvendu Adhikari: ‘বয়কটের রাজনীতি’র উল্টো পথে শুভেন্দুর সরকার, মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে যোগ দিয়ে কাকলি বললেন “প্রশাসন সবার”

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) প্রশাসনিক বৈঠকে বেনজির ছবি কল্যাণীতে। তৃণমূলের জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর বৈঠকে যোগ দিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)। শুধু তিনিই নন, উত্তর ২৪ পরগনার তিন তৃণমূল বিধায়কও ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠকে। মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠক ছিল। এপিজে আবদুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া ও হুগলি জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত হন কাকলি। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন দেগঙ্গার সদ্য নির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক আনিসুর রহমান বিদেশ, স্বরূপনগরের বিনা মণ্ডল এবং হাড়োয়ার আবদুল মতিন।

    উন্নয়নের স্বার্থে বৈঠকে সকলকে ডাক

    রাজ্যে সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ঘোষণা করেছিলেন, প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে। বৈঠকে সকলেই আমন্ত্রণ পাবেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বয়কটের রাজনীতি’র উল্টো পথে হেঁটেই উন্নয়নের স্বার্থে এহেন সিদ্ধান্ত নেন শুভেন্দু। সেই মতো এদিন কল্যাণীর বৈঠকে তৃণমূল সাংসদ এবং বিধায়কদেরও ডাকা হয় বলে খবর। সেই আমন্ত্রণ পেয়েই এদিন বৈঠকে যোগ দেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ আরও তিন তৃণমূল বিধায়ক। এখানে রাজনীতি নেই, বলে মত বিজেপির। একই কথা বলছেন তৃণমূল বিধায়কেরাও। বিনার কথায়, ‘‘আমি আমার বিধানসভা এলারকার উন্নয়নের জন্য প্রশাসনিক বৈঠকে এসেছি।’’ হাড়োয়ার বিধায়ক বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার ডেকেছে। তাই এসেছি। আগে কী হয়েছে, বলতে পারব না। বিধায়ক হিসেবেই এসেছি।’’ দেগঙ্গার বিধায়ক আনিসুর বলেন, ‘‘আমার বিধানসভা এলাকার অধিকাংশই প্রান্তিক জায়গা। সার্বিক উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকারের সহযোগিতা কাম্য।’’

    ‘‘প্রশাসন সবার’’

    তবে শুভেন্দুর বৈঠকে কাকলির উপস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’। সম্প্রতি কাকলিকে তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ওই দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু অভিমানী কাকলি সমাজমাধ্যমে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, ‘‘৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪-তে পথ চলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।’’ ঘটনাক্রমে রবিবারই বারাসত সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতির পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। ফলে শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর উপস্থিতিকে ইঙ্গিতবহ বলে মনে করা হচ্ছে। শুভেন্দুর বৈঠকে যোগদান নিয়ে কাকলি একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেন, “প্রশাসন সবার।”

  • Padma Awards: রাষ্ট্রপতি ভবনে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ৬৬ পদ্ম সম্মান প্রদান, মরণোত্তর পদ্মবিভূষণে সম্মানিত ধর্মেন্দ্র

    Padma Awards: রাষ্ট্রপতি ভবনে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ৬৬ পদ্ম সম্মান প্রদান, মরণোত্তর পদ্মবিভূষণে সম্মানিত ধর্মেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পদ্ম পুরস্কার’ (Padma Awards) প্রদান ঘিরে সোমবার নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে (Rashtrapati Bhawan) ছিল সাজ-সাজ রব। ২৫ মে, পড়ন্ত বিকেলে দিল্লির রাইসিনা হিলসে রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রথম ‘সিভিল ইনভেস্টিচার সেরিমনি’-তে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (President Draupadi Murmu) হাত থেকে ‘পদ্মশ্রী’ (Padmashri) সম্মান গ্রহণ করলেন দেশের কৃতীরা। চলতি বছরে ভারত সরকারের তরফে মোট ১৩১টি পদ্ম সম্মানের (Padma Awards) কথা ঘোষণা করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ৫টি পদ্মবিভূষণ, ১৩টি পদ্মভূষণ এবং ১১৩টি পদ্মশ্রী সম্মান। সোমবারের অনুষ্ঠানে ২টি পদ্মবিভূষণ, ৬টি পদ্মভূষণ এবং ৫৮টি পদ্মশ্রী প্রদান করা হয়। বাকি সম্মানগুলি পরবর্তী পর্বে প্রদান করা হবে বলে সূত্রের খবর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) সামাজিক মাধ্যমে পদ্ম সম্মানপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “এই অসাধারণ ব্যক্তিত্বদের জীবনযাত্রা ও কাজ দেশের সম্মিলিত অগ্রযাত্রাকে সমৃদ্ধ করেছে।”

    বন্দেমাতরম-এর সুরে সূচনা

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-ও পুরস্কারপ্রাপকদের শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁদের সম্মানে এক নৈশভোজের আয়োজন করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে পদ্ম পুরস্কার এখন সমাজের তৃণমূল স্তরের প্রকৃত পরিবর্তনকারীদের সম্মান জানানোর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ‘বন্দে মাতরম’-এর বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনার মাধ্যমে এবং সমাপ্তি ঘটে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সঙ্গে। অনুষ্ঠানে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য প্রখ্যাত বেহালাবাদক এন রাজম-কে পদ্মবিভূষণে সম্মানিত করা হয়। ‘গায়কি অঙ্গ’ শৈলীর মাধ্যমে বেহালায় কণ্ঠসংগীতের আবহ ফুটিয়ে তোলার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত।

    মরণোত্তর ‘পদ্মবিভূষণ’ ধর্মেন্দ্রকে

    গত বছর প্রয়াত হয়েছেন বলিউডের ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র (Dharmendra)। তাঁর অভিনয় জীবনের অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার তাঁকে মরণোত্তর ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করেছে। সোমবার (২৫ মে) রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Draupadi Murmu) হাত থেকে স্বামীর এই মরণোত্তর সম্মান গ্রহণ করলেন ধর্মেন্দ্রর স্ত্রী অভিনেত্রী হেমা মালিনী (Hema Malini)। এদিন হালকা গোলাপি রঙের শাড়িতে অত্যন্ত স্নিগ্ধ বেশে অনুষ্ঠানে হাজির হন হেমা। সাথে ছিলেন তাঁদের ছোট মেয়ে অহনা এবং জামাতা। পুরস্কার গ্রহণের সেই মাহেন্দ্রক্ষণে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি অহনা, দর্শকাসনে বসে তাঁকে অশ্রুসজল চোখে বাবার জন্য গর্বিত হতে দেখা যায়। হেমা মালিনী জানান, ২৫ মে দিনটি তাঁদের পরিবারের কাছে অত্যন্ত আবেগের এবং গুরুত্বপূর্ণ। এদিনের অনুষ্ঠানের পর হেমা মালিনী জানান, ধর্মেন্দ্রর দুই পুত্র সানি এবং ববি— দুজনের সম্মতি ও মত নিয়েই তিনি আজ এই পুরস্কার গ্রহণ করতে এসেছেন।

    কতজন পদ্ম সম্মান পেলেন

    এদিন পদ্মভূষণে সম্মানিত হন প্রাক্তন উত্তরাখণ্ড মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং কোশিয়ারি, ‘অবধান’ শিল্পরীতির পুনর্জাগরণকারী আর গনেশ, কোটাক মাহীন্দ্রা ব্যাঙ্ক-এর প্রতিষ্ঠাতা উদয় কোটাক এবং বিশিষ্ট গ্যাস্ট্রো এন্টারোলজিস্ট কালিপত্তি রামাস্বামী পালানিস্বামী। মরণোত্তর পদ্মভূষণ পান বিজ্ঞাপন জগতের পরিচিত মুখ পীযুষ পান্ডে এবং প্রাক্তন সাংসদ বিজয় কুমার মালহোত্রা। পদ্মশ্রী প্রাপকদের তালিকায় ছিলেন প্রাক্তন সিআরপিএফ ডিজি কে বিজয় কুমার। এছাড়াও লোকসংগীত, সংস্কৃতিচর্চা, পরিবেশ সংরক্ষণ, সমাজসেবা ও চিকিৎসাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন লোকশিল্পী তাগা রাম ভীল, কাঁথা শিল্পী তুপ্তি মুখোপাধ্যায় এবং সমাজকর্মী জনার্দন বাপুরাও বোথে।

    প্রসেনজিতের হাতে পদ্মশ্রী

    অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান। সোমবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে ‘পদ্মশ্রী’ (Padmashri) সম্মান গ্রহণ করলেন টলিউডের সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prasenjit Chatterjee)। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে প্রায় চার দশকের অসামান্য অবদান এবং দীর্ঘ লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান তাঁকে প্রদান করা হলো। এদিন রাষ্ট্রপতি ভবন (Rashtrapati Bhawan) ছিল দেশের বিশিষ্টজনদের মিলনক্ষেত্র। প্রসেনজিৎ ছাড়াও এদিন পদ্ম সম্মানের তালিকায় থাকা ১১ জন বাঙালিকে সম্মানিত করা হয়েছে। বিনোদন জগতের অন্যান্য ব্যক্তিত্বদের মধ্যে গায়িকা অলকা ইয়াগনিক এবং মালয়ালম মেগাস্টার মামুত্তিও তাঁদের প্রাপ্ত সম্মান গ্রহণ করেন। প্রসঙ্গত, ১৯৬৮ সালে ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করে ‘অমরসঙ্গী’-র হাত ধরে বাংলা ছবির অবিসংবাদিত নায়ক হয়ে ওঠা প্রসেনজিতের এই দীর্ঘ পথচলা রূপকথার মতো। বাংলা ছবির দুঃসময়ে অভিভাবকের মতো দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে সাড়ে তিনশোরও বেশি ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। বাংলার সিনেমাপ্রেমীদের কাছে এই মুহূর্তটি তাই অত্যন্ত গর্বের ও আবেগের।

    হরমনপ্রীতের সম্মান গ্রহণ, এলেন না রোহিত

    এদিন রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পদ্মশ্রী সম্মান গ্রহণ করেন হরমনপ্রীত কৌর। তসর রঙের চুড়িদারে সম্মান গ্রহণ করেন হরমনপ্রীত। গতবছর দেশের মাটিতে প্রথমবার মহিলাদের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জেতে ভারত। উইমেন ইন ব্লুর অধিনায়ক ছিলেন হরমনপ্রীত। এদিন উপস্থিত ছিলেন না ভারতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ২০২৪ টি-২০ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রোহিত। গতবছর তাঁর নেতৃত্বে ভারত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও জেতে। রবিবার মুম্বইতে আইপিএলে খেলেছেন রোহিত। জানা গিয়েছে, পদ্ম সম্মান বিভিন্ন কিস্তিতে প্রাপকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, সকল প্রাপকদের একইদিনে দেওয়া হয় না। বিভিন্ন দিনে ধাপে ধাপে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তা দেওয়া হয়। সেই তালিকা তৈরি করে রাষ্ট্রপতি ভবন। এদিনের তালিকায় রোহিতের নাম ছিল না। ফের যেদিন বাকি প্রাপকদের এই সম্মান তুলে দেওয়া হবে, সেদিন উপস্থিত থাকবেন রোহিত। তবে, সেই তারিখের ঘোষণা রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে এখনও করা হয়নি।

    ৯-জন ক্রীড়াবিদকে সম্মান

    রোহিত ও হরমনপ্রীত ছাড়া এ বছর আরও ৯ জন ক্রীড়াবিদ এই সম্মান পাচ্ছেন। প্যারা অ্যাথলিট প্রবীণ কুমার ও হকি কোচ বলদেব সিং এদিন পদ্মশ্রী সম্মান গ্রহণ করেন। এছাড়া ২০২৬ সালের একমাত্র ক্রীড়াবিদ হিসেবে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ সম্মান পদ্মভূষণ পাচ্ছেন বিজয় অমৃতরাজ। ১৯৮৩ সালে তিনি পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন। তারও আগে পেয়েছিলেন অর্জুন পুরস্কার। ভারতীয় ক্রীড়ায় অসামান্য অবদানের জন্য় এবার পদ্মভূষণ পাচ্ছেন তিনি। এর সঙ্গে ভারতীয় মহিলা হকি দলের গোলকিপার সবিতা পুনিয়া পাচ্ছেন পদ্মশ্রী। মরণোত্তর পদ্মশ্রী পাচ্ছেন প্রাক্তন কুস্তি কোচ ভ্লাদিমির মেস্তভিরিশভি। জর্জিয়ার নাগরিক হলেও সুশীল কুমার, যোগেশ্বর দত্ত এবং বজরং পুনিয়াদের মতো অলিম্পিক পদকজয়ীদের কোচিং করিয়েছেন মেস্তভিরিশভি। এছাড়াও পদ্মশ্রী পাচ্ছেন কে পাজানিভেল, তামিলনাড়ুর ঐতিহ্যবাহী সিলামবাম মার্শাল আর্টে অনবদ্য অবদানের জন্য। বুন্দেলখণ্ডের মার্শাল আর্ট বুন্দেলি ওয়ারে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পদ্মশ্রী পাচ্ছেন ভগবানদাস রায়কর।

    পদ্মশ্রী সম্মান গ্রহণের আগে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম

    তিনি মার্শাল আর্টের পাঁচ হাজার বছরের পুরনো ‘সিলামবাম’-এর সাধক। শুধু ভারতে নয়, দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে গোটা বিশ্বে এই খেলার জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে দিয়েছেন । যে কারণে তাঁকে দেওয়া হল পদ্মশ্রী সম্মান। পুদুচেরির কে পাজানিভেল (K Pajanivel)। সোমবার রাষ্ট্রপতি ভবনে পদ্মশ্রী পুরস্কার নিতে গিয়েছিলেন ট্র্যাডিশনাল দক্ষিণ ভারতীয় পোশাকে। সাদা ধুতি ও হাফশার্ট। ঘোষক তাঁর নাম ঘোষণা করতেই পাজানিভেল কার্পেটে উঠে শুয়ে পড়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেন দর্শকাসনের সামনের সারিতে বসে থাকা বিশিষ্ট অতিথিদের। যাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরাও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাশেই বসেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পাজানিভেল সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করতেই নিজের আসন ছেড়ে উঠে এসে তাঁকে তুলে ধরেন মোদি। প্রতিনমস্কার করেন। পুরস্কার গ্রহণের আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন তিনি। পাজানিভেলের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ সকলে।

  • Prashanta Barman: স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে অভিযুক্ত পলাতক বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে নিউটাউনে গ্রেফতার করল পুলিশ

    Prashanta Barman: স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে অভিযুক্ত পলাতক বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে নিউটাউনে গ্রেফতার করল পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে পুলিশের জালে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ (Prasanta Barman)। সল্টলেকের দত্তাবাদের সোনা ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ ও খুনের মামলায় তিনি মূল অভিযুক্ত ৷ সোমবার রাতে নিউটাউনের রাস্তায় মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটানো এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে অভব্য আচরণ ও বচসায় জড়ানোর অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে খুনের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে। তারপর থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন প্রশান্ত। এখানেই শেষ নয়, আরও কীর্তি রয়েছে। সাদা খাতা জমা দিয়ে কীভাবে তিনি বিডিও হয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

    খুনের দায়ে অভিযুক্ত

    গতবছর অক্টোবর মাসে সল্টলেকের দত্তাবাদের বাসিন্দা তথা সোনা ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা নিখোঁজ হন এবং পরে নিউটাউনে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। এই খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে রাজগঞ্জের তৎকালীন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের নাম উঠে আসে। কলকাতা হাইকোর্ট এবং দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্টে তার আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রশান্তকে পদ থেকে অপসারিত করা হয়। পুলিশের খাতায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি ‘পলাতক’ হিসেবে চিহ্নিত রয়েছেন।

    মদ্যপ অবস্থায় অন্য গাড়িকে ধাক্কা

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে নিউটাউনের সর্চি সিগন্যালের কাছে প্রশান্ত বর্মন মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন। সেই সময় একটি বাইকে ধাক্কা মারেন প্রশান্ত। দুর্ঘটনায় বাইক চালক রাস্তায় পড়ে যান। তারপরই রাস্তায় পথচলতি মানুষজন ও স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানাতে এগিয়ে এলে প্রশান্ত বর্মন গাড়ি থেকে নেমে তাঁদের সঙ্গে চূড়ান্ত অভব্যতা শুরু করে বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মদ্যপ অবস্থায় থাকা প্রশান্ত বর্মন স্থানীয় বাসিন্দাদের ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে গালিগালাজ করে এবং চড় মারার হুমকি দেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্য়েই সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ইকোপার্ক থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক করে প্রশান্ত বর্মনকে থানায় নিয়ে যায় ৷ পরবর্তীতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

  • Shamik Bhattacharya: ‘‘১০০ দিনের মধ্যে শিল্পক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হবে’’ বণিক মহলকে আশ্বাসবার্তা শমীকের

    Shamik Bhattacharya: ‘‘১০০ দিনের মধ্যে শিল্পক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হবে’’ বণিক মহলকে আশ্বাসবার্তা শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন সরকার বাংলায় বিনিয়োগের (West Bengal Industry) বন্ধ দুয়ার খুলে দিতে বদ্ধপরিকর। সোমবার কলকাতার ‘ভারত চেম্বার অফ কমার্স’ (Bharat Chamber of Commerce)-এর মঞ্চ থেকে রাজ্যের শিল্পমহল ও বণিকসভাকে আশ্বাস দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। বণিকমহল ও বঙ্গবাসীকে ‘১০০ দিনের’ প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। কলকাতার বুক থেকে বিগত বাম ও তৃণমূল জমানায় বড় বড় কর্পোরেট কোম্পানিগুলির রাজ্য ছাড়ার ঐতিহাসিক ধাক্কাকে চূড়ান্ত লজ্জাজনক ও দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যা দেন শমীক।

    বাংলায় শিল্পের জোয়ার আনতে ম্যাজিক

    এদিন ‘ভারত চেম্বার অফ কমার্স’-এর অনুষ্ঠানে রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেন, “আজ এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছি। আগামী মাত্র ১০০ দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রে আমরা এমন কিছু বৈপ্লবিক পদক্ষেপ করতে চলেছি, যা দেখার পর আপনারা প্রত্যেকে আমাদের নতুন সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করতে বাধ্য হবেন।’’ ব্যবসায়ী ও পুঁজিপতিদের আশ্বস্ত করে রাজ্য বিজেপি সভাপতি মনে করিয়ে দেন, “এই মাটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পবিত্র ভূমি। এটাই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ-বান্ধব অঞ্চল হওয়ার যোগ্য ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিগত জমানার অপশাসনে বাংলার সেই বিপুল সম্ভাবনা কোনও দিন ডানা মেলতেই পারেনি। আমরা এবার যা প্রয়োজনীয়, ঠিক তাই করব।’’

    শিল্পের স্বার্থে সময়োপযোগী ও কড়া আইন

    শমীক জানান, খুব দ্রুত এমন সময়োপযোগী ও কড়া আইন তৈরি করা হবে, যা এ রাজ্যের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের জন্য চূড়ান্ত লাভদায়ক এবং সুরক্ষামূলক হবে। তবে শমীকের সংযোজন, এই কর্মযজ্ঞ কেবল একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে একা করতে পারা সম্ভব নয়। রাজ্যের বুদ্ধিজীবী ও আমজনতাকেও এই পরিবর্তনের পক্ষে জোরালো সওয়াল করতে হবে।

    ক্ষুদ্র শিল্পের নামে কী হচ্ছে?

    এদিন বাংলার শিল্পায়নের (Industrial Sector of Bengal) বেহাল দশা বোঝাতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা ‘এমএসএমই’ (MSME) সেক্টরের বর্তমান করুণ অবস্থার এক জ্বলন্ত উদাহরণ টানেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “আমি নতুন ও বড় বিনিয়োগকারীদের বাংলায় আসার জন্য খোলা আহ্বান জানাচ্ছি। কিন্তু আমাদের রাজ্যে ক্ষুদ্র শিল্পের নামে কী হচ্ছে? একটা সাধারণ পানের দোকান বা চায়ের দোকানকেও এমএসএমই-র তালিকায় রেজিস্টার্ড করিয়ে সংখ্যা বাড়িয়ে বাহবা নেওয়া হচ্ছে! এটাই কি আমাদের কাম্য ছিল? আমাদের এর চেয়ে অনেক উন্নত ও খাঁটি এমএসএমই পরিকাঠামো গড়তে হবে।”

    ভূমি নীতি তৈরি করা জরুরি

    এদিনের অনুষ্ঠান থেকে উত্তরবঙ্গের (North Bengal) দীর্ঘদিনের বঞ্চনা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, উত্তরবঙ্গের পর্যটন (Tourism) থেকে শুরু করে বিশ্ববিখ্যাত চা শিল্প (Tea Industry) – কোনও কিছু নিয়েই আগে সঠিক পরিকল্পনা করা হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে ধুঁকছেন গরিব চা শ্রমিকেরা, ক্ষোভে ফুঁসছেন টেক্সটাইল বা বস্ত্রশিল্পের কারিগররা। একই সঙ্গে শমীক বলেন,  “নতুন শিল্প গড়ার স্বার্থে রাজ্যে একটি অত্যন্ত সুসংহত এবং যুগোপযোগী ‘ল্যান্ড পলিসি’ বা ভূমি নীতি তৈরি করা জরুরি।”

    মহারাষ্ট্রের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তুলনামূলক খতিয়ান

    মহারাষ্ট্রের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তুলনামূলক খতিয়ান দিয়ে শমীক আক্ষেপের সুরে জানান, এক সময় শিল্পে ও অর্থনীতিতে মহারাষ্ট্রের সঙ্গে সমানে সমানে টক্কর দিত পশ্চিমবঙ্গ। আর আজ দেশের মোট এফডিআই (FDI)-এর প্রায় ৩৬ শতাংশ যাচ্ছে একা মহারাষ্ট্রে, সেখানে কলকাতায় সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের হার তলানিতে ঠেকে মাত্র ০.৬ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে! এই চরম লজ্জার অবসান ঘটাতে নতুন ডাবল ইঞ্জিন সরকার পরিকাঠামো ক্ষেত্রে এক বিশাল ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছে।

    বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ভয়হীন পরিবেশ চাই

    শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা এখন এক চূড়ান্ত ডিজিটাল যুগে (Digital Age) বাস করছি। আমাদের রাজ্যকে দ্রুত ডেটা সেন্টার (Data Centers) শিল্পে অংশ নিতে হবে এবং বাইরে থেকে আসা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ভয়হীন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা নিরপেক্ষ প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করে দিতে হবে। বিনিয়োগকারীরা এ রাজ্যে কোটি কোটি টাকা ঢালতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু বিগত সরকার প্রস্তুত ছিল না। তবে এবার আমরা তৈরি।”

    বিগত সরকারের গাফিলতি

    উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে খনিজ তেলের সন্ধান মেলা সত্ত্বেও তা নিয়ে বিগত সরকারের গড়িমসি এবং পরিকাঠামো স্তরের চূড়ান্ত ব্যর্থতা নিয়ে এদিন সুর চড়ান রাজ্য বিজেপি সভাপতি। তাঁর দাবি, পূর্বতন সরকারের কোনও সুনির্দিষ্ট দূরদর্শিতা না থাকায় সেই প্রকল্পের কাজ থমকে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইএম বাইপাসের ওপর চিংড়িঘাটা মেট্রো লাইনের কাজ বছরের পর বছর ধরে কেন আটকে রাখা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শমীক। তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, রাজ্য পালাবদলের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যেই রাজ্যে শিল্প বান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হবে। গড়ে তোলা হবে আত্মনির্ভর বাংলা।

     

     

     

     

     

  • India-US Relation: ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের কড়া নিন্দা! জয়শঙ্কর-ডোভালের সঙ্গে হাই-প্রোফাইল বৈঠক রুবিওর

    India-US Relation: ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের কড়া নিন্দা! জয়শঙ্কর-ডোভালের সঙ্গে হাই-প্রোফাইল বৈঠক রুবিওর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে সফররত মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও (Marco Rubio) রবিবার ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “কিছু বোকা মানুষের মন্তব্য” কখনও আমেরিকার (India-US Relation) প্রকৃত চরিত্রকে তুলে ধরে না। তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বের অন্যতম অভিবাসীবান্ধব দেশ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো বিদ্বেষমূলক মন্তব্যকে গোটা দেশের মানসিকতা বলে মনে করা উচিত নয়। নয়াদিল্লিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের (S. Jaishankar) সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে রুবিওকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। উত্তরে তিনি বলেন, “মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা সময়ে বোকা কথা বলে। এগুলোর অনেকই ট্রোল বা বট অ্যাকাউন্ট থেকেও হতে পারে।”

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদির বড় ভক্ত

    রুবিও আরও বলেন, “এটা শুধু আমেরিকার সমস্যা নয়। বিশ্বের সব দেশেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ খারাপ বা দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করে থাকে। কিন্তু কয়েকজনের বক্তব্য দিয়ে পুরো আমেরিকাকে বিচার করা ঠিক নয়।” তিনি জোর দিয়ে জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিভিন্ন দেশের মানুষের জন্য উন্মুক্ত একটি দেশ। একইসঙ্গে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের দৃঢ়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। রুবিও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ভারতের প্রতি অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। রুবিও বলেন, “প্রেসিডেন্ট ভারতকে ভালোবাসেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির বড় ভক্ত। যদি তিনি ভারতকে গুরুত্ব না দিতেন, তাহলে আমাকে এখানে পাঠাতেন না।”

    ভারত যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মিত্র

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী ডঃ এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন মার্কো রুবিও। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পরমাণু সহযোগিতা এবং মাদক পাচার রুখতে দুই দেশের যৌথ পদক্ষেপের মতো একগুচ্ছ বিষয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে একটি যৌথ সংবাদিক সম্মেলনও করেন তাঁরা। সেখানেই চিন ও ভারত সফরের তুলনা করতে গিয়ে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী বলেন, দুই দেশই গুরুত্বপূর্ণ, তবে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্র এবং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। তাঁর কথায়, “ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ। এটি একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র এবং আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার।”

    পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন!

    এদিকে সাংবাদিক বৈঠকে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার সম্ভাবনা নিয়ে ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কি না জানতে চাওয়া হলে রুবিও জানান, বৈঠকে এই বিষয়টি ওঠেনি। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, পাকিস্তানের মাটি থেকে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলিকে নিয়ে ভারতের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। রুবিও বলেন, “ভারত বরাবরই বলে এসেছে যে পাকিস্তানের ভূখণ্ড থেকে সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন ভারতে হামলা চালায়। সেই উদ্বেগ তাদের সবসময়ই রয়েছে।”

    অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক

    রবিবার ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভালের সঙ্গেও এক মেগা বৈঠকে বসেন মার্কিন বিদেশ সচিব। উল্লেখ্য, রুবিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশসচিব হওয়ার পাশাপাশি সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার (NSA) দায়িত্বেও রয়েছেন। ফলে দুই দেশের দুই শীর্ষ নিরাপত্তা প্রধানের এই বৈঠক আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ এই বৈঠকের কথা জানিয়ে লিখেছে, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ‘কমপ্রিহেনসিভ গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ বা ব্যাপক বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং কৌশলগত প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

    বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা

    দুই দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘ট্রাস্ট’ (TRUST বা Transforming the Relationship Utilising Strategic Technology) উদ্যোগ। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওয়াশিংটন সফরের সময় এই বিশেষ উদ্যোগের ঘোষণা করা হয়েছিল। সমগ্র এই প্রকল্পটির তদারকি সরাসরি দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের (অজিত ডোভাল ও মার্ক রুবিও) অফিস থেকে করা হচ্ছে। এর অধীনে ভারত ও আমেরিকা যৌথভাবে বেশ কয়েকটি অত্যন্ত আধুনিক ও সংবেদনশীল ক্ষেত্রে কাজ করছে:

    • ● সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI): দুই দেশের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন এবং এআই প্রযুক্তির আদানপ্রদান।
    • ● কোয়ান্টাম টেকনোলজি ও মহাকাশ: কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং স্পেস বা মহাকাশ গবেষণায় যৌথ কোলাবোরেশন।
    • ● গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বায়োটেকনোলজি: ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ সরবরাহ এবং জৈবপ্রযুক্তি।
    • ● এআই ইনফ্রাস্ট্রাকচার রোডম্যাপ: এই প্রকল্পের একটি বড় অংশ হলো ভারতে মার্কিন প্রযুক্তির এআই সিস্টেমের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা।

    নজরে ইন্দো-প্যাসিফিক ও সন্ত্রাসবাদ দমন

    বৈঠকের পর ভারতের মার্কিন দূতাবাসের তরফ থেকেও এক্স-এ এক পোস্টে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। আমেরিকার তরফে বলা হয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কাউন্টার-টেররিজম বা সন্ত্রাসবাদ দমন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক (Indo-Pacific) বা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দুই দেশের কৌশলগত সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে। বৈশ্বিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াই করার বিষয়ে দুই এনএসএ-ই নিজেদের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। চার দিনের ভারত সফরে আসা মার্কিন বিদেশসচিবের এই সফরের আসল ক্লাইম্যাক্স এখনও বাকি। আগামিকাল মঙ্গলবার (২৬ মে) নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বহুল চর্চিত ‘কোয়াড’ (QUAD Foreign Ministers’ Meeting) ভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সভাপতিত্বে এই মেগা সম্মেলনে যোগ দিতে চলেছেন আমেরিকার মার্কো রুবিও ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের বিদেশমন্ত্রীরা।

  • Gurindevir Singh: “শীঘ্রই বিশ্ব দেখবে ভারতীয়রাও ১০ সেকেন্ডের নিচে দৌড়তে পারে” রাঁচিতে ইতিহাস গড়ে বার্তা গুরিন্দেভিরের

    Gurindevir Singh: “শীঘ্রই বিশ্ব দেখবে ভারতীয়রাও ১০ সেকেন্ডের নিচে দৌড়তে পারে” রাঁচিতে ইতিহাস গড়ে বার্তা গুরিন্দেভিরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে নতুন যুগের সূচনা। ২০২৬ ন্যাশনাল ফেডারেশন সিনিয়র অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ১০.০৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে ইতিহাস গড়লেন গুরিন্দেভির সিং (Gurindervir Singh)। তিনিই প্রথম ভারতীয় স্প্রিন্টার যিনি ১০.১০ সেকেন্ডের বাধা ভেঙে ‘১০.০’ সেকেন্ডের ঘরে প্রবেশ করলেন। এই নজির গড়ার পর থেকেই তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন উন্মাদনা, অনেকেই তুলনা টানছেন কিংবদন্তী উসেইন বোল্ট-এর (Usain Bolt) সঙ্গে। রাঁচির বীরসা মুন্ডা অ্যাথলেটিক্স স্টেডিয়ামে (Birsa Munda Athletics Stadium) যেন গত ২৪ ঘণ্টায় বদলে গেল ভারতীয় স্প্রিন্টের ইতিহাস। সেমিফাইনালেই প্রথমে ১০.১৭ সেকেন্ড সময় করে জাতীয় রেকর্ড ভাঙেন গুরিন্দেভির।

    গুরিন্দেভিরকে অভিনন্দন ক্রীড়ামন্ত্রীর

    গুরিন্দেভির-এর সেমিফাইনালের রেকর্ড মাত্র কয়েক মিনিট পরেই ১০.১৫ সেকেন্ড দৌড়ে সেই নিজের নামে তুলে নেন অনিমেষ কুজর। ফাইনালে নামার আগে থেকেই তাই উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। একদিকে অনিমেষের দীর্ঘ স্ট্রাইড ও দুরন্ত গতি, অন্যদিকে গুরিন্দেভিরের বিস্ফোরক স্টার্ট— দুই ভিন্ন ধাঁচের স্প্রিন্টারের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বাজিমাত করেন পাঞ্জাবের এই তরুণ। শেষ ২০ মিটারে গতি আরও বাড়িয়ে ১০.০৯ সেকেন্ডে ফিনিশ লাইন স্পর্শ করেন তিনি। অনিমেষও ১০.২০ সেকেন্ড সময় করেন, যা কয়েক মাস আগেও জাতীয় রেকর্ড হিসেবে গণ্য হত। তবে লক্ষ্য এখনও পূরণ হয়নি, বলে জানান গুরিন্দেভির। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য (Mansukh Mandaviya) সোশ্যাল মিডিয়ায় গুরিন্দেভিরকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর দৌড়ের ভিডিওও শেয়ার করেছেন।

    সাফল্যের পথ সহজ ছিল না

    এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। একসময় গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন গুরিন্দেভির। দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, ক্লান্তি এবং পেশিশক্তি হারানোর মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। সেই সময় তাঁর কেরিয়ার প্রায় থমকে যাওয়ার মুখে পড়েছিল। পরে বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ, পুষ্টি ও আধুনিক রিকভারি ব্যবস্থার সাহায্যে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। পাঞ্জাবের জালন্ধরের কাছের গ্রাম থেকে উঠে আসা গুরিন্দেভিরের পাশে শুরু থেকেই ছিলেন তাঁর বাবা, যিনি পাঞ্জাব পুলিশের কনস্টেবল। ২০১৭ সালে এশিয়ান অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতে প্রথমবার নজর কাড়েন তিনি। তারপর দীর্ঘ সংগ্রাম, চোট ও প্রত্যাবর্তনের লড়াই পেরিয়ে আজ তিনি ভারতের দ্রুততম মানব।

    ভারতীয়রাও ১০ সেকেন্ডের নিচে দৌড়তে পারে

    ভারতের ‘ফ্লাইং শিখ’ মিলখা সিং (Milkha Singh)-এর সঙ্গে তাঁর তুলনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। যদিও বিশ্বরেকর্ডধারী উসেইন বোল্টের ৯.৫৮ সেকেন্ড এখনও অনেক দূরের পথ, তবু ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে এই সাফল্যকে ঐতিহাসিক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গুরিন্দেভির ও অনিমেষ— দু’জনেই এখন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার যোগ্যতা অর্জনের পথে। তবে তার থেকেও বড় বিষয়, তাঁরা বদলে দিয়েছেন ভারতীয় স্প্রিন্ট নিয়ে ধারণা। এতদিন যেখানে ১০.৩০-১০.৪০ সেকেন্ডকেই বড় সাফল্য মনে করা হত, সেখানে এখন লক্ষ্য ১০ সেকেন্ডের নিচে নামা। দৌড় শেষে গুরিন্দেভিরের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য, “খুব শিগগিরই বিশ্ব দেখবে ভারতীয়রাও ১০ সেকেন্ডের নিচে দৌড়তে পারে।” ক্রীড়া মহলে গুঞ্জন, রাঁচির ট্র্যাক শুধু একটি রেকর্ডের সাক্ষী থাকল না, বরং ভারতীয় স্প্রিন্টের নতুন স্বপ্নেরও সূচনা করল।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিভার বিকাশ

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে গত কয়েক বছরে ভারতের ক্রীড়াঙ্গনে এক অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটেছে। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, তৃণমূল স্তরের উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণের ফলে দেশের ক্রীড়াজগতে এক আমূল পরিবর্তন এসেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি দীর্ঘদিন ধরেই জাতি গঠনের শক্তি হিসেবে খেলাধুলার বিষয়ে তাঁর সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তিনি ঐক্য প্রচারে, যুবকদের অনুপ্রাণিত করতে এবং ভারতকে একটি আত্মবিশ্বাসী ও উদীয়মান বিশ্বনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে খেলাধুলার ভূমিকার কথা বারবার উল্লেখ করেছেন। তাঁর স্বপ্ন ‘খেলো ইন্ডিয়া’ এবং ‘টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিম’ (TOPS)-এর মতো প্রধান কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে বাস্তবে রূপ পেয়েছে। এই উদ্যোগগুলো দেশের ক্রীড়া জগৎকে নতুনভাবে সাজিয়েছে এবং ভারতকে খেলার দুনিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করেছে। সরকার দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে ক্রীড়া পরিকাঠামোতে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া খাতে বাজেট বরাদ্দ বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়াই এর প্রমাণ। এই আর্থিক সহায়তার ফলে দেশজুড়ে সুনির্দিষ্ট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের উত্থান মূলত তরুণ প্রতিভা শনাক্তকরণ ও লালন-পালনের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। অকৃত্রিম প্রতিভাকে সম্ভাব্য পদকজয়ী খেলোয়াড়ে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

    লক্ষ্য অলিম্পিক্স

    অলিম্পিক্সের মঞ্চে এখন ভারতীয়দের দাপট বেড়েছে। প্রতিটা অলিম্পিক্সেই সোনা জিতছে ভারতের অ্যাথলিটরা। ভারত সরকারও অলিম্পিক্স ও অলিম্পিক্সের খেলা অ্য়াথলিটদের জন্য উন্নত পরিকাঠামো, অনুশীলনের ব্য়বস্থায় জোর দিয়েছে। আগামী ২০৩৬ অলিম্পিক্স আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের। আয়োজক হিসেবে নিজেদের নাম দেখতে চায় ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মনে করেন, অলিম্পিক আয়োজনের দায়িত্ব পেলে ভারতীয় ক্রীড়াজগৎ এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে। এখানে অ্য়াথলিটদের জন্য সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে ভাল পরিকাঠামো দেওয়ার। অলিম্পিক্স আয়োজনের সুযোগ পেলে, সেই বিষয়ে আরও জোর দেওয়া যাবে। প্রধানমন্ত্রী মোদির মতে, দেশের উন্নতিতে স্পোর্টস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তাঁর কাজের ষোল আনা রিটার্ন তিনি পেয়েছেন ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের থেকেও। উঠে এসেছে গুরিন্দেভিরের মতো প্রতিভা। যাদের লক্ষ্য জাতীয় গেমস নয়, অলিম্পিকের পোডিয়াম।

     

     

     

     

     

  • Assam Assembly: অসম বিধানসভায় ইতিহাস, সংস্কৃত ও ৩ জনজাতি ভাষার শপথে উঠে এল ‘বৈচিত্র্যের ভারত’

    Assam Assembly: অসম বিধানসভায় ইতিহাস, সংস্কৃত ও ৩ জনজাতি ভাষার শপথে উঠে এল ‘বৈচিত্র্যের ভারত’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৬তম অসম বিধানসভার (Assam Assembly) প্রথম অধিবেশনেই তৈরি হল ইতিহাস। ২১ মে নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা হয়ে উঠেছিল অসম ও ভারতের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক বিরল প্রতিচ্ছবি। এদিন মোট ১২৪ জন বিধায়ক ৯টি ভিন্ন ভাষায় শপথ নেন। এর মধ্যে কয়েকটি ভাষা এই প্রথম কোনও ভারতীয় বিধানসভার অন্দরমহলে শোনা গেল। ফলে দিনটি অসমের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে

    সংস্কৃতে শপথ নিলেন বিধায়করা

    সবচেয়ে বেশি চর্চায় আসে সংস্কৃত ভাষায় শপথগ্রহণ। বিজেপি-এনডিএ জোটের ১৭ জন বিধায়ক সংস্কৃতে শপথ নেন, যা অসম বিধানসভার ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রাক্তন স্পিকার বিশ্বজিৎ দইমারি, বিজেপি নেতা বিমল বরা, জয়ন্ত মল্ল বরুয়া, ভবেশ কলিতা, ডঃ মৃদুল কুমার দত্ত, এজিপি নেতা পৃথ্বীরাজ রাভা-সহ একাধিক বিধায়ক সংস্কৃতকে বেছে নেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিধায়কদের একযোগে সংস্কৃত ভাষা বেছে নেওয়া ছিল এক ধরনের সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত ঐক্যের বার্তা।

    জনজাতি ভাষার ব্যবহার

    এই অধিবেশনের সবচেয়ে ঐতিহাসিক দিক ছিল তিনটি জনজাতি ভাষার ব্যবহার। প্রথমবার অসম বিধানসভায় কর্বি, রাজবংশী ও রাভা ভাষায় শপথ নেওয়া হয়। পাঁচজন বিজেপি বিধায়ক কর্বি ভাষায়, তিনজন বিধায়ক রাজবংশী ভাষায় এবং একজন বিধায়ক রাভা ভাষায় শপথ নেন। এই ভাষাগুলি সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত নয় এবং সরকারি স্বীকৃতিও সীমিত। তবু বিধানসভার ভিতরে এই ভাষাগুলির উচ্চারণ সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর কাছে এক বড় স্বীকৃতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভাষাভিত্তিক হিসেব অনুযায়ী, ৭৫ জন বিধায়ক অসমিয়া ভাষায় শপথ নেন। ১৭ জন সংস্কৃতে, ৯ জন বাংলায়, ৮ জন বোড়ো ভাষায়, ৫ জন কর্বি ভাষায়, ৩ জন রাজবংশী ভাষায় শপথ নেন। এছাড়া ৪ জন ইংরেজিতে, ১ জন হিন্দিতে এবং ১ জন রাভা ভাষায় শপথ গ্রহণ করেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) বলেন, বিধায়কেরা যাতে নিজেদের সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ ভাষায় শপথ নিতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই আগাম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী অতুল বোরা এবং প্রো-টেম স্পিকার চন্দ্রমোহন পাটোয়রি-র সঙ্গে আলোচনা করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “নিয়ম কখনও মানুষের ভাষা ও পরিচয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো উচিত নয়।”

  • PM Modi on Falta Repoll: ‘গণতন্ত্রের জয়, ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরাজয়’ ফলতায় রেকর্ড ব্যবধানে জয়ের পরে রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন মোদির

    PM Modi on Falta Repoll: ‘গণতন্ত্রের জয়, ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরাজয়’ ফলতায় রেকর্ড ব্যবধানে জয়ের পরে রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে দক্ষিণ ২৪ পরগণার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের (PM Modi on Falta Repoll) নির্বাচনে জয়ী হলেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা। ফলতার এই ঐতিহাসিক ফলাফলের পর বিজেপি প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১,০৯,০২১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে ফলতা বিজয়র পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদির বার্তা, “ফলতাবাসী নিজেদের রায় দিয়ে দিয়েছে! গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। ভয়ভীতি-হুমকি হেরে গিয়েছে।” একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের উন্নতির জন্য, বিকশিত বাংলার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করলেন রাজ্যবাসীর কাছে।

    অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাব

    ফলতায় বিজেপি প্রার্থীর জয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “ফলতা থেকে রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হওয়ার জন্য দেবাংশু পণ্ডাজিকে আন্তরিক অভিনন্দন। এই জয় পশ্চিমবঙ্গের মানুষের বিজেপির প্রতি অটুট আস্থা ও বিশ্বাসেরই প্রতিফলন। রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অসাধারণ কাজ মানুষ প্রত্যক্ষ করছেন, আর সেই কারণেই তাঁরা আমাদের প্রতি আরও আশীর্বাদ ও সমর্থন জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিজেপির সকল কর্মী ও সমর্থকদের তাঁদের অসাধারণ পরিশ্রম ও নিষ্ঠার জন্য আমার আন্তরিক অভিনন্দন। আগামী দিনেও আমরা পশ্চিমবঙ্গের উন্নতি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাব।” নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার দু’সপ্তাহ পরেই এই নির্বাচন হয়েছে। রাজ্যের নতুন সরকার যে ইতিমধ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে, তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীও। তিনি লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ কাজ করে চলেছে, তা মানুষের নজর এড়ায়নি। এই কারণেই পশ্চিমবঙ্গবাসী আবার আমাদের আশীর্বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

    কেন প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ

    রাজনৈতিক মহলের মতে, ফলতার ফল শুধু একটি বিধানসভা আসনে পুনর্নির্বাচনের ফল নয়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড হারবার মডেলের অন্যতম অংশ এই ফলতা। নির্বাচন কমিশন ফলতায় পুনর্নির্বাচন ঘোষণার পর অভিষেক বলেছিলেন, ‘দশ জন্মেও আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলকে দমাতে পারবে না। দিল্লি থেকে যত শক্তশালী, যাকে খুশি আনুন, ক্ষমতা থাকলে ফলতায় লড়ে দেখাও।’ এই ফলতায় ভোটাররা বছরের পর বছর ভোট দিতে পারেননি বলে অভিযোগ। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে ‘দাদাগিরির’ অভিযোগ ওঠে। চব্বিশের লোকসভা ভোটে এই ফলতায় ১ লক্ষ ৬৫ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন অভিষেক। সেই ফলতাতে বিজেপি প্রার্থীর লক্ষাধিক ভোটে জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী বার্তা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। এ বারের নির্বাচনে যে বিজেপি জিতবে, তা প্রত্যাশিতই ছিল। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ভোটের আগেই ময়দান ছেড়েছেন। তবে বিজেপি যে এই বিপুল ব্যবধানে ফলতায় বিজয়ধ্বজা ওড়াবে, তা আগে থেকে অনুমান করতে পারেনি অনেকেই। ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটে জিতেছেন বিজেপির দেবাংশু পান্ডা। তৃণমূল সেখানে নেমে গিয়েছে চতুর্থ স্থানে।

  • Shamik Bhattacharya: রাজ্যের অর্থ-ব্যবস্থার হাল ফেরাতে নির্মলার দরবারে শমীক, তাঁত ও চা শিল্প নিয়ে বিশেষ আলোচনা

    Shamik Bhattacharya: রাজ্যের অর্থ-ব্যবস্থার হাল ফেরাতে নির্মলার দরবারে শমীক, তাঁত ও চা শিল্প নিয়ে বিশেষ আলোচনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের অর্থ-ব্যবস্থার হাল ফেরাতে উদ্যোগী বঙ্গ বিজেপি। কেন্দ্রের কাছ থেকে রাজ্যের বকেয় টাকা পেতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন বঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বাংলায় এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার। তার সুফল বঙ্গবাসীকে দিতে বদ্ধপরিকর বিজেপি। ক্ষমতায় এসেই অন্নপূর্ণা ভান্ডার (Annapurna Bhandar) থেকে ডিএ (DA)-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। এবার কেন্দ্রীয় বকেয়া নিয়ে নির্মলার দরবারে শমীক। জানা গিয়েছে, রাজ্যের দাবিদাওয়া নিয়েই মূলত দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

    শমীক-সীতারমন বৈঠকে কী কী আলোচনা

    দিল্লিতে গিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টচার্য। প্রায় তিনদিন ধরে রাজধানীতে রয়েছেন তিনি। শনিবার সকালে নির্মলা সীতারমনের সঙ্গে দেখা করেন শমীক। সূত্রের খবর, বাংলার অর্থনীতি নিয়ে রাজ্যের কী কী পদক্ষেপ করা উচিত এই মুহূর্তে সেই বিষয়ে কথা হয়েছে। তবে, বৈঠকের সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ যে অংশ, সেটা হল কেন্দ্রীয় বকেয়া। হাজার হাজার কোটি কোটি টাকা যে বকেয়া রয়েছে, তা তৃণমূল জমানায় পাওয়া যায়নি। শুধু তাই নয়, তৃণমূল জমানায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম পরিবর্তন থেকে তাতে দুর্নীতিরও অভিযোগ উঠেছিল। সূত্রের খবর, বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, প্রত্যেকটা ক্ষেত্রকে শোধরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই বিষয়গুলি অর্থমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।

    শমীক ভট্টাচার্য কী বললেন?

    সীতারমনের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “৫০ বছরে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পকে কার্যত ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ এখন পরিযায়ীদের রাজ্য হয়ে গিয়েছে। পরিযায়ী হয়েই সবাই বাইরে চলে যাচ্ছে। মাথাপিছু আয় আজ সবথেকে নীচে এসে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের মহারাষ্ট্র, কর্নাটক ও তামিলনাড়ুর সঙ্গে একই পংক্তিতে দাঁড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সোনার বাংলা তৈরির কথা দিয়েছেন। আমরা সোনার বাংলা তৈরি করব। আমাদের স্বপ্ন আছে এবং স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য নির্দিষ্ট কর্মসূচি আছে, পরিকল্পনা আছে। নির্মলাজি পশ্চিমবঙ্গকে এই অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে কী করে উত্তরণের পথ দেখাতে পারেন, সেই সম্পর্কে তিনি অভিহিত আছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। বাংলার শ্রীহীন অবস্থা থেকে রাজ্যকে বের করে আনা সম্ভব। তারজন্য যা করবার তিনি সেটা করবেন। প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, গৃহমন্ত্রী সবাই মিলে আমরা এই অবস্থা থেকে পশ্চিমবঙ্গকে নিঃসন্দেহে অন্য জায়গায় পৌঁছে দিতে পারব।”

    তাঁত শিল্পের উন্নতিতে কথা

    সূত্রের খবর, অর্থমন্ত্রী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতির আলোচনায় আলাদা করে গুরুত্ব পেয়েছে তাঁত শিল্প এবং টেক্সটাইল হাব। এই বিশেষ সেক্টর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একদা বাংলার তাঁত ছিল জনপ্রিয়। এখন সেই শিল্প ধুঁকছে। কিন্তু রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার সেই ক্ষয়িষ্ণু শিল্পে গতি আনতে বদ্ধপরিকর। তাঁত শিল্পের বিকাশের জন্য আলাদা প্যাকেজ নিয়েও কথআ হয় এদিন।

    চা শিল্পের বিকাশ

    বাংলার চা শিল্পের বিকাশ এবং উন্নয়ন সুনিশ্চিত করতে বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ দেবে কেন্দ্রীয় সরকার৷ ডাবল ইঞ্জিন সরকারের নীতিতেই এ বার করা হবে রাজ্যের চা শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়ন—একথাও জানান বঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য৷ শমীক বলেন, ‘বাংলার চা শিল্প একসময়ে গোটা দেশের গর্ব ছিল৷ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ত আমাদের রাজ্যের চা৷ তৃণমূল সরকারের কার্যকালে রাজ্যের চা শিল্প ধুঁকতে শুরু করেছে৷ গত ১৫ বছরে উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের বিকাশের জন্য বাস্তবে কোনও গঠনমূলক প্রকল্প প্রণয়ন করেনি তৃণমূল সরকার৷ ফলে একের পর চা বাগান দিনে দিনে আর্থিক কষ্টে জর্জরিত হয়ে রুগ্ন হয়ে পড়েছে৷ তারপরেও হুঁশ ফেরেনি বিগত সরকারের৷’তাঁর সংযোজন, ‘রাজ্যের কয়েক লক্ষ মানুষের রুটিরুজি যে শিল্পের সঙ্গে জড়িত, তাকে শেষ হতে দেবো না আমরা৷ কেন্দ্রীয় প্যাকেজকে কাজে লাগিয়ে উত্তরবঙ্গের চা বাগানগুলির সার্বিক বিকাশ ত্বরান্বিত করবে রাজ্য সরকার৷’

    বাংলার বকেয়া-সহ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ

    রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে ফলাফল বেরোলে দেখা যায়, গেরুয়া ঝড়ে কার্যত শোচনীয় অবস্থায় হয়েছে ঘাসফুল শিবিরের। রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে এসে বারবার এখানকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে গেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বরা। শুধু তা-ই নয়, এই পরিস্থিতি থেকে রাজ্যকে তুলে আনার জন্য ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার গড়ার আহ্বান জানান তাঁরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শহরা বাংলাকে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নেওয়া হচ্ছে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক সূত্রে খবর, শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে আলোচনার পর বাংলার বকেয়া-সহ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ করা হবে সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও কথা বলবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তারপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন নির্মলা সীতারমন।

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share