Author: pranabjyoti

  • EU: ট্রাম্পের নয়া শুল্ক আরোপ, প্রতিশোধ নিতে তৈরি হচ্ছে ইউরোপ!

    EU: ট্রাম্পের নয়া শুল্ক আরোপ, প্রতিশোধ নিতে তৈরি হচ্ছে ইউরোপ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (EU) ঘোষিত নয়া শুল্ক আরোপের পর তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী বাণিজ্যিক প্রতিশোধমূলক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে (US Tariffs) ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গ্রিনল্যান্ডকে সমর্থন করা ইউরোপীয় দেশগুলির বিরুদ্ধে এই শুল্ক আরোপের ঘোষণার ফলে ২৭ সদস্যের এই জোটের নেতাদের মধ্যে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে এবং এর মধ্যে দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইউরোপ সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

    গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি (EU)

    এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিকে ঘিরে প্রথমবারের মতো ইইউ তাদের তথাকথিত ‘ট্রেড বাজুকা’ ব্যবহারের কথা ভাববে। শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন এবং ব্রিটেন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কোনও সমঝোতা না হলে ১ জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।” ট্রাম্প দাবি করেন, ডেনমার্কের অধীনস্থ এই ভূখণ্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। গ্রিনল্যান্ডের পক্ষে এসব ইউরোপীয় দেশের অবস্থানের পরেই এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং ওয়াশিংটন ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে বিরোধ তীব্রতর হয়েছে।

    ট্রেড বাজুকা’

    ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার ফলে কূটনৈতিক সম্পর্কে দ্রুত চাপ সৃষ্টি হয় এবং রবিবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় দেশগুলির প্রতিনিধিদের জরুরি বৈঠকে ডাকা হয় (US Tariffs)। বৈঠকে তাৎক্ষণিক পাল্টা পদক্ষেপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ বলেন, “ইইউর ‘ট্রেড বাজুকা’ প্রথমবারের মতো ব্যবহারের এখনই সময় (EU)।” ‘ট্রেড বাজুকা’ বলতে বোঝানো হয় অ্যান্টি-কোয়ার্শন ইনস্ট্রুমেন্ট (ACI)—একটি ব্যবস্থা, যার লক্ষ্য ইইউকে অ-ইইউ দেশগুলির অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় আরও সক্ষম করে তোলা। এই ব্যবস্থার আওতায় ইইউ পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে পারবে, ইউরোপের একক বাজারে মার্কিন কোম্পানিগুলির প্রবেশ সীমিত করতে পারবে এবং লাভজনক ইইউ চুক্তির দরপত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলির অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করতে পারবে। এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্যই হল স্পষ্ট বার্তা দেওয়া—ইইউ তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইইউ কর্তারা জানিয়েছেন, ‘ট্রেড বাজুকা’ কেবল শুল্ক আরোপেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এর মধ্যে রফতানি নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধও থাকতে পারে (EU)।

    সাময়িক বাণিজ্য সমঝোতা

    জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সাময়িক বাণিজ্য সমঝোতার কারণে যে ৯৩ বিলিয়ন ইউরোর পাল্টা শুল্ক আরোপ স্থগিত (US Tariffs) রাখা হয়েছিল, ইইউ এখন সেগুলি কার্যকর করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে। ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বর্তমান পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগের কোনও বিরোধেই এত কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপের কথা ভাবা হয়নি (EU)। পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ আলোচনার ওপর। তবে ইউরোপীয় নেতারা স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি শুল্কের হুমকি বহাল রাখে বা আরও বাড়ায়, তাহলে তারা দ্রুত পদক্ষেপ করতে প্রস্তুত। ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় রবিবার আটটি ইউরোপীয় দেশ যৌথ বিবৃতি দিয়ে গ্রিনল্যান্ডের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের সঙ্গে সম্পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি।” এতে আর্কটিক অঞ্চলে যৌথ নিরাপত্তা স্বার্থের কথাও জোর দিয়ে উল্লেখ করা হয়।

    আর্কটিক নিরাপত্তা

    ন্যাটোর সদস্য দেশগুলি জানায়, আর্কটিক নিরাপত্তা জোরদার করাকে তারা একটি অভিন্ন ট্রান্স-আটলান্টিক অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে (EU)। বিবৃতিতে এই বলেও সতর্ক করা হয়, ওয়াশিংটনের শুল্ক হুমকি দীর্ঘদিনের মিত্রতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং এর ফলে ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কে একটি বিপজ্জনক নিম্নমুখী চক্র শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে (US Tariffs)। ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কোস্তা বলেন, “নতুন শুল্ক হুমকির মুখে আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় ইইউ কঠোর অবস্থান নেবে। ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লেয়েনও একই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “শুল্ক আরোপ ইউরোপ–আমেরিকার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।” এদিকে, ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রবিবার ফোনে ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ন্যাটোভুক্ত মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা ভুল এবং এটি ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ককে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে (EU)।”

    ডাউনিং স্ট্রিটের বিবৃতি

    ডাউনিং স্ট্রিটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “উত্তর মেরু অঞ্চলের নিরাপত্তা ইউরো-আটলান্টিক স্বার্থ রক্ষার জন্য সব ন্যাটো মিত্রেরই অগ্রাধিকার।” এতে আরও বলা হয়, যৌথ ন্যাটো নিরাপত্তা জোরদারের চেষ্টা করার জন্য মিত্রদের ওপর শুল্ক চাপানো কোনওভাবেই যুক্তিযুক্তি ন্যায্য নয় (US Tariffs)। ইইউ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কোনও আপসের পথে হাঁটতে রাজি নয় তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকির জবাবে ইইউ নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা স্থগিত রাখবেন। গত বছরের জুলাই মাসে শুরু হওয়া এই আলোচনা স্থগিত বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন ইউরোপীয় পিপলস পার্টির সহ-সভাপতি সিগফ্রিড মুরেসেন (EU)। মুরেসেন জানান, ইইউ দ্রুত আমেরিকার সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত ছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইইউয়ে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার কথা ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করা। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আপাতত ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    বাণিজ্য আলোচনা

    প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা শুরু হয়েছিল গত বছরের জুলাই মাসে। একে ট্রান্সআটলান্টিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েই গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে(EU)। ট্রাম্পের দাবি, আর্কটিক অঞ্চলে চিন ও রাশিয়া তাদের প্রভাব বাড়াচ্ছে। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের মতে, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও বিপুল খনিজ সম্পদ একে আমেরিকার নিরাপত্তা স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে (US Tariffs)। ডেনমার্ক ও ইইউ ট্রাম্পের এই প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় জার্মানি, সুইডেন ও ফ্রান্স গ্রিনল্যান্ডে ছোট আকারের সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে বলেও অসমর্থিত একটি সূত্রের খবর। তাদের আশঙ্কা, ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপের মতো ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতেও আরও আক্রমণাত্মক কোনও পদক্ষেপ নিতে পারেন। ডেনমার্কও ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে।

    উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা

    কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ সতর্ক করে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যদি ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপ নেন, তাহলে উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (ন্যাটো) ভেঙে পড়তে পারে। একই সঙ্গে ইইউ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বিবেচনা করছে বলে জানা গিয়েছে (US Tariffs)। উল্লেখ্য, এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে গুগল, মেটা এবং এক্সের মতো মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। কারণ ইউরোপজুড়ে তাদের বিশাল ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িত। ইউরোপীয় কর্তাদের মতে, ওয়াশিংটনকে আরও উত্তেজনা বাড়ানো থেকে বিরত রাখতে শক্ত অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা জরুরি হতে পারে।

    ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মার্কিন ভোক্তারাই

    এদিকে, একাধিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের ফলে ইউরোপের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মার্কিন ভোক্তারাই। কারণ চড়া শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইউরোপীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। লেগো ও ফেরারির মতো বিলাসবহুল ও জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের দাম ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এই ক্রমবর্ধমান বিরোধ ন্যাটোর ভাঙন ঘটাতে পারে এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকেও আরও দুর্বল করে তুলতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক দেশই মনে করে আন্তর্জাতিক অংশীদার হিসেবে ট্রাম্পকে বিশ্বাস করা যায় না (US Tariffs)। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে কোনও চুক্তিতে পৌঁছনো বুদ্ধিমানের কাজ হবে না বলেও অভিমত। কারণ এই ধরনের অবস্থার মধ্যে আলোচনা চালিয়ে গেলে তা মার্কিন প্রশাসনের আরও একতরফা ও অস্থিতিশীল পদক্ষেপকে উৎসাহিত করবে বলেই আশঙ্কা।

     

  • BJP: বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি তুঙ্গে, কার হাতে যাচ্ছে রশি?

    BJP: বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি তুঙ্গে, কার হাতে যাচ্ছে রশি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে বিজেপির (BJP) সদর দফতরে তৎপরতা তুঙ্গে। দলটি তাদের পরবর্তী জাতীয় সভাপতিকে নির্বাচনের (Election Process) প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পদে মনোনয়ন জমা পড়বে ১৯ জানুয়ারি, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে ২০ জানুয়ারি। দলীয় সূত্রে খবর, বর্তমান কার্যনির্বাহী সভাপতি নীতীন নাবিন কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং বিদায়ী সভাপতি জগৎ প্রকাশ নাড্ডা-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা তাঁর নাম প্রস্তাব করবেন বলে জানা যাচ্ছে। অন্য কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ফল কার্যত নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া ঘিরে বরাবরই প্রশ্ন ওঠে, দলের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী কতটা গণতান্ত্রিক।

    বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল (BJP)

    নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে পরিচালিত ভোটের মতো নয় বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচন। এটি পুরোপুরি দলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং এতে ভারতের নির্বাচন কমিশনের কোনও ভূমিকা থাকে না। দল একে একটি বেসরকারি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবেই দেখে, যেমন কোনও সমিতি বা সংগঠন তাদের পদাধিকারী নির্বাচন করে। নিজেদের বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করা বিজেপির সদস্যসংখ্যা ১৮ কোটির বেশি হলেও সাধারণ কর্মী বা সমর্থকরা সরাসরি জাতীয় সভাপতির জন্য ভোট দেন না। নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে দলের সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে হয়, যাকে বিজেপি তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি বলেই মনে করে। বিজেপির সংবিধানে নীচ থেকে ওপরের দিকে নির্বাচনের একটি সুস্পষ্ট কাঠামো নির্ধারিত রয়েছে। বুথ বা স্থানীয় স্তর থেকে শুরু করে গ্রাম বা শহর, মণ্ডল, জেলা, রাজ্য এবং শেষে জাতীয় স্তর পর্যন্ত এই সাংগঠনিক নির্বাচন (BJP) সম্পন্ন হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি দলের অন্দরে “সংগঠন পর্ব” নামে পরিচিত এবং এটি ছ’বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান সংগঠন পর্ব শুরু হয়েছে ২০২৪–২৫ সালে এবং এখন তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    প্রক্রিয়া শুরু

    এই প্রক্রিয়া শুরু হয় সদস্য সংগ্রহ অভিযান দিয়ে। ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে যে কোনও ভারতীয় নাগরিক, যিনি দলের মানবতাবাদ এবং আদর্শ মেনে (Election Process) নেন, তিনি প্রাথমিক সদস্য হতে পারেন। সদস্যপদের মেয়াদ ছ’বছর এবং তা নবীকরণযোগ্য।এর মধ্য থেকে ‘সক্রিয় সদস্য’ বাছাই করা হয়। সক্রিয় সদস্য হতে গেলে অন্তত তিন বছর দলীয় কাজ করতে হয়, পার্টি ফান্ডে ১০০ টাকা অনুদান দিতে হয়, আন্দোলন বা কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয় এবং দলীয় প্রকাশনার গ্রাহক হতে হয়। শুধুমাত্র সক্রিয় সদস্যরাই সাংগঠনিক নির্বাচনে ভোট দিতে বা উচ্চপদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। বিজেপির সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয় সভাপতি নির্বাচিত হন একটি বিশেষ ইলেক্টোরাল কলেজের মাধ্যমে। এই কলেজে জাতীয় পরিষদ ও রাজ্য পরিষদের সদস্যরা থাকেন। লোকসভা আসনের সংখ্যার অনুপাতে রাজ্য থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন, পাশাপাশি সাংসদদের মনোনীত প্রতিনিধিরাও থাকেন (BJP)।

    রাজ্য পরিষদের সদস্য

    রাজ্য পরিষদের সদস্যরা জেলা ইউনিট থেকে নির্বাচিত হন এবং বিধায়ক ও সাংসদদের মনোনীত প্রতিনিধিরাও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকেন। এবার ইলেক্টোরাল কলেজে প্রায় ৫,৭০০ জন সদস্য রয়েছেন। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, অন্তত অর্ধেক রাজ্যে (প্রায় ১৯টি রাজ্য) সাংগঠনিক নির্বাচন শেষ না হলে জাতীয় সভাপতি নির্বাচন করা যায় না। সেই শর্ত এবার পূরণ হয়েছে। বিজেপির সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সভাপতি হতে গেলে কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রার্থীকে অন্তত ১৫ বছর প্রাথমিক সদস্য এবং অন্তত চার মেয়াদ ধরে সক্রিয় সদস্য থাকতে হয়, যা সাধারণত প্রায় ১২ বছরের সাংগঠনিক কাজের সমান। মনোনয়ন জমা দিতে হলে ইলেক্টোরাল কলেজের অন্তত ২০ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন, যাঁরা কমপক্ষে পাঁচটি ভিন্ন রাজ্য থেকে হতে হবে, যেসব রাজ্যে জাতীয় পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। প্রার্থীকে লিখিত সম্মতিও দিতে হয় (Election Process)।

    ইলেক্টোরাল কলেজের তালিকা

    এই নির্বাচনের জন্য ১৬ জানুয়ারি ইলেক্টোরাল কলেজের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ১৯ জানুয়ারি দুপুর ২টা থেকে ৪টার মধ্যে মনোনয়ন জমা নেওয়া হবে এবং সেদিনই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সন্ধ্যায় মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। যদি একাধিক বৈধ মনোনয়ন থাকে, তবে ২০ জানুয়ারি গোপন ব্যালটে ভোট হবে এবং সেদিনই ফল ঘোষণা করা হবে। তবে যদি একজন প্রার্থীই থাকেন, তবে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে, এবার যা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি (BJP)।বিজেপির ৪৫ বছরের ইতিহাসে কখনও জাতীয় সভাপতি পদে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন হয়নি। প্রতিবারই সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সর্বসম্মতি ক্রমে। দলীয় সূত্রের মতে, এটি বিজেপির অভ্যন্তরীণ ঐকমত্য ও সমন্বয়ের সংস্কৃতির ফল।

    আরএসএস

    বিজেপি সংবিধানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) নাম উল্লেখ না থাকলেও, বাস্তবে এই প্রক্রিয়ায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক ভূমিকা থাকে। আরএসএসের শীর্ষ নেতারা এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নাম চূড়ান্ত করার আগে আলোচনা করে নেন। সংগঠনের মহাসচিব, যিনি সাধারণত আরএসএস থেকে আসেন, তিনিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই পদ্ধতিকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হয়, কারণ জাতীয় সভাপতি শুধুই প্রতীকী পদ নয়। তিনি দলের সাংগঠনিক দিশা নির্ধারণ করেন, নির্বাচনী কৌশল দেখাশোনা করেন এবং দল ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করেন। প্রকাশ্য লড়াই দলকে দুর্বল করতে পারে, যা বিজেপি এড়িয়ে চলতে চায় (BJP)।

    জাতীয় সভাপতির মেয়াদ

    বিজেপির সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয় সভাপতি টানা দুই মেয়াদ, অর্থাৎ মোট ছ’বছর দায়িত্বে থাকতে পারেন। এরপর বিরতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। যদিও বাস্তবে মেয়াদ বাড়ানোর ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে (Election Process)। জেপি নাড্ডা ২০২০ সালের জানুয়ারিতে সভাপতি হন। তাঁর প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালে, কিন্তু মেয়াদ বাড়িয়ে তাঁকে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্বে রাখা হয়। বর্তমান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবশেষে ২০২৬ সালে নতুন সভাপতির দিকে এগোচ্ছে বিজেপি। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে ২০ জানুয়ারি। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিজেপির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বহু গুরুত্বপূর্ণ নেতা। এঁরা হলেন, অটল বিহারী বাজপেয়ী (১৯৮০–১৯৮৬), লালকৃষ্ণ আডবানি (১৯৮৬–১৯৯১), মুরলী মনোহর যোশী (১৯৯১–১৯৯৩), লালকৃষ্ণ আডবানি (১৯৯৩–১৯৯৮), কুশাভাউ ঠাকরে (১৯৯৮–২০০০),

    বাঙ্গারু লক্ষ্মণ (২০০০–২০০১), কে জনা কৃষ্ণমূর্তি (২০০১–২০০২), এম বেঙ্কাইয়া নাইডু (২০০২–২০০৪), লালকৃষ্ণ আডবানি (২০০৪–২০০৫), রাজনাথ সিং (২০০৬–২০০৯), নীতীন গডকরি (২০০৯–২০১৩), রাজনাথ সিং (২০১৩–২০১৪), অমিত শাহ (২০১৪–২০২০), জগৎ প্রকাশ নাড্ডা (২০২০–২০২৬)।

    অমিত শাহের মেয়াদ

    এর মধ্যে ২০১৪ থেকে ২০২০ পর্যন্ত অমিত শাহের মেয়াদ ছিল দীর্ঘতম ও সবচেয়ে নির্বাচনী সাফল্যপূর্ণ, যখন বিজেপি লোকসভায় ৩০০-এরও বেশি আসন পায়। জেপি নাড্ডার মেয়াদে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং সাংগঠনিক সংহতি বজায় রাখা হয়। বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচনের পদ্ধতি দলটির কেন্দ্রীভূত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ চরিত্র স্পষ্ট করে। সিদ্ধান্ত শীর্ষস্তরে নেওয়া হয় এবং তা নির্বিঘ্নে সংগঠনের সর্বস্তরে বাস্তবায়িত হয়। এতে অভ্যন্তরীণ সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয় এবং ঐক্যের বার্তা দেওয়া যায় (Election Process)। তবে একই সঙ্গে একটি বড় প্রশ্নও থেকে যায়, দল যত বড় হচ্ছে, ভবিষ্যতে কি কখনও শীর্ষ সাংগঠনিক পদে প্রকাশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাবে? আপাতত বিজেপি তাদের ঐতিহ্যগত সর্বসম্মতির পথেই অবিচল, এবং আসন্ন জাতীয় সভাপতি (BJP) নির্বাচনও সেই পরিচিত পথেই এগোচ্ছে।

     

  • Pak Forces: ৪০টি মসজিদ ধ্বংস করেছে পাকিস্তান, বিস্ফোরক বালোচ নেতা

    Pak Forces: ৪০টি মসজিদ ধ্বংস করেছে পাকিস্তান, বিস্ফোরক বালোচ নেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pak Forces) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বালোচ (Balochistan) জাতির শীর্ষ নেতা তথা মানবাধিকারকর্মী মীর ইয়ার বালোচ। ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশে একের পর এক মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে। মীর বলেন, “ইসলামাবাদ যখন পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর (পিওজেকে)-তে মসজিদ ‘প্রোফাইলিং’-এর অভিযোগ তুলে ভারতের সমালোচনা করছে, তখন একই সময়ে পাক সেনাবাহিনী বালুচিস্তানে প্রায় ৪০টি মসজিদ ধ্বংস করেছে।”

    পাকিস্তানকে তোপ (Pak Forces)

    কাশ্মীর জুড়ে মসজিদ, ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটিগুলির তথ্য সংগ্রহ বা প্রোফাইলিং করার ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনার প্রেক্ষিতেই মীর এই মন্তব্য করেন। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। ইসলামাবাদের ভিত্তিহীন ক্ষোভের তীব্র নিন্দা করে এই বালোচ নেতা বলেন, “পাকিস্তান একটি সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র এবং দেশটি হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিপীড়নে জড়িত”। এক্স হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে তিনি বলেন, “রিপাবলিক অব বালুচিস্তান পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারতের নীতিগত অবস্থানের পাশে সম্পূর্ণভাবে রয়েছে। যখন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ধর্মীয় ও জেহাদি উগ্রপন্থীদের ব্যবহার করে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের দমন ও ভীতিপ্রদর্শনের হাতিয়ার বানায়, তখন পাকিস্তানের কোনও নৈতিক অধিকার নেই ভারত, বালুচিস্তান, আফগানিস্তান বা অন্য কাউকে সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে উপদেশ দেওয়ার।”

    কী বললেন বালোচ নেতা

    মীর এও বলেন, “পাকিস্তানের বহিরাগত শক্তি বালুচিস্তান প্রজাতন্ত্রে প্রায় ৪০টি মসজিদ ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সরাসরি মসজিদে বোমা হামলা, কোরআন পোড়ানো এবং মসজিদের ইমাম বা প্রধানদের অপহরণ (Pak Forces)।” তিনি জানান, প্রথম শিকার হয়েছিল বালুচিস্তান প্রজাতন্ত্রের শাসকের মসজিদ, কালাতের খানের মসজিদ। প্রতিবেশী পাকিস্তানের আক্রমণকারী সেনাবাহিনী ট্যাঙ্ক নিয়ে ঢুকে সাধারণ মানুষের ওপর গোলাবর্ষণ ও কামানের শেল নিক্ষেপ করেছিল। আজও কালাতের খানের মসজিদে মর্টার শেলের চিহ্ন দেখা যায়, যা পাকিস্তানের নিষ্ঠুরতা, দখলদারিত্ব এবং অ-ইসলামিক আচরণের প্রমাণ।

    বালুচিস্তান পাকিস্তানের খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ হলেও অনুন্নত একটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ, যার সীমানা ইরানের সঙ্গে যুক্ত। বালোচ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সূচনা কয়েক দশক আগে, যেখানে বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন, প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং সম্পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি জানানো হয়। এই বিদ্রোহ কখনও তীব্র হয়েছে, কখনও কিছুটা কমেছে, তবে ইসলামাবাদের জন্য এটি দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গিয়েছে।

    ২০২৫ সালের মে মাসে বালোচ জাতীয়তাবাদী নেতারা পাকিস্তান থেকে বালুচিস্তানের (Balochistan) স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তবে অঞ্চলটি এখনও অস্থির। পাকিস্তানি সেনা ও বিদেশি প্রকল্পগুলিকে লক্ষ্য করে বিদ্রোহ অব্যাহত রয়েছে, যার মধ্যে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (Pak Forces) (সিপিইসি)-এর প্রকল্পগুলিও রয়েছে।

  • PM Modi: আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (ইউএই) (UAE) প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে দিল্লি বিমানবন্দরে স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সোমবারের এই সাক্ষাৎ দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের গুরুত্বকে আরও একবার তুলে ধরল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    আমার ভাই (PM Modi)

    পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা যখন চরমে, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানাপোড়েন যখন তুঙ্গে, গাজায় অস্থিরতা এবং সৌদি আরব এবং ইউএই জড়িত ইয়েমেন সঙ্কট এখনও অমীমাংসিত, ঠিক সেই সময়েই ভারত সফরে এলেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (ইউএই) প্রেসিডেন্ট। সরকারি সূত্রের খবর, বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে এবং একাধিক মউ (MoU) স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “আমার ভাই, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট মহামান্য শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলাম। তাঁর এই সফর ভারত-ইউএই দৃঢ় বন্ধুত্বের প্রতি তাঁর গুরুত্ব আরোপেরই প্রমাণ। আমাদের আলোচনার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।”

    শেখ মহম্মদকে আতিথ্য গ্রহণের আমন্ত্রণ

    এদিন সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন, ৭ লোক কল্যাণ মার্গে শেখ মহম্মদকে আতিথ্য গ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ইউএই প্রেসিডেন্ট এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের জন্য মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্যই ভারতে থাকবেন এবং সোমবারই ভারত ছেড়ে যাবেন। দুই নেতার মধ্যে এই বৈঠকটি প্রথমে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে চূড়ান্ত হয়েছিল, তবে পরে তা পিছিয়ে দেওয়া হয় (PM Modi)। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পারমাণবিক সহযোগিতা সংক্রান্ত একাধিক চুক্তিতে দুই নেতা স্বাক্ষর করতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিও ভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।

    প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি শেখ মহম্মদের তৃতীয় সরকারি ভারত সফর এবং গত এক দশকে তাঁর পঞ্চম ভারত সফর। সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রেক্ষাপটে ভারত ও ইউএইর মধ্যে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তির দিকেও নজর থাকবে সবার। ২০২২ সালে ব্যাপক অর্থনৈতিক (UAE) অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষরের পর থেকে ভারত ও ইউএইর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।

    বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, এই সফর সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের আদান-প্রদানের ধারাবাহিকতা। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের ভারত সফর এবং গত বছরের এপ্রিলে ইউএইর উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শেখ হামদান বিন মহম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের ভারত (PM Modi) সফর।

  • Hindu Businessman: বাংলাদেশে ফের খুন হিন্দু ব্যবসায়ী, পিটিয়ে হত্যা ৫৫ বছরের লিটন ঘোষকে

    Hindu Businessman: বাংলাদেশে ফের খুন হিন্দু ব্যবসায়ী, পিটিয়ে হত্যা ৫৫ বছরের লিটন ঘোষকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিবেশীর বাগান থেকে চুরি গিয়েছে কলার কাঁদি। তার জেরে নিছক সন্দেহের বশে শনিবার এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে (Hindu Businessman) খুন করা হল। বাংলাদেশের (Bangladesh) গাজিপুর জেলার ঘটনায় চাঞ্চল্য। মৃতের নাম লিটন চন্দ্র ঘোষ, বয়স ৫৫। কালীগঞ্জ এলাকায় রয়েছে তাঁর ‘বৈশাখী সুইটমিট অ্যান্ড হোটেল’। সেখানে এসেই দুষ্কৃতীরা পিটিয়ে মারে তাঁকে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পুলিশ একই পরিবারের তিন সদস্যকে আটক করেছে। তারা হল স্বপন মিঞা, তার স্ত্রী মাজেদা খাতুন এবং তাদের ছেলে মাসুম মিঞা।

    বচসা থেকে হাতাহাতি (Hindu Businessman)

    পুলিশ জানিয়েছে, মাসুমের একটি কলার বাগান রয়েছে। সেখান থেকে খোয়া যায় এক কাঁদি কলা। কলার খোঁজে করতে বেরিয়ে সে লিটনের হোটেলে পৌঁছে যায়। সেখানেও কলা ঝোলানো ছিল। সেই কলার কাঁদি তারই বাগানের বলে দাবি করতে থাকে মাসুম। এ নিয়েই দুপক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা শুরু হয়। পরে মাসুম ফিরে যায়। সকাল ১১টা নাগাদ মাসুম ফের হোটেলে এসে একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে হোটেলের এক কর্মচারীর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পরে মাসুমের বাবা-মাও ওই হোটেলে এসে হাজির হয়। তার পরেই শুরু হয় হাতাহাতি (Hindu Businessman)।

    অভিযুক্তরা লিটনকে ঘুষি ও লাথি

    পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা লিটনকে ঘুষি ও লাথি মারে। মারের চোটে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন লিটন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।এই ঘটনাটি এমন একটা সময়ে ঘটল, যখন বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে দেশে অন্তত ১৫ জন সংখ্যালঘু হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে, যা বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তবে এই ঘটনাটি বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক (Bangladesh) হিংসার ধারাবাহিকতার সঙ্গে যুক্ত কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেননি। লিটনের মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে অভিযুক্তদের (Hindu Businessman)।

    বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হিন্দু-নিধন…

    • ২ ডিসেম্বর: ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলায় ৩৫ বছর বয়সি হিন্দু মাছ ব্যবসায়ী উৎপল সরকারকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
    • ২ ডিসেম্বর: বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলায় ৪২ বছর বয়সি হিন্দু স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রণতোষ কর্মকারকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৭ ডিসেম্বর: রংপুর নিবাসী মুক্তিযোদ্ধা ৭৫ বছর বয়সি যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়কে তাঁদের বাড়িতে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
    • ১২ ডিসেম্বর: কুমিল্লা জেলায় ১৮ বছর বয়সি হিন্দু অটোরিকশা চালক শান্ত চন্দ্র দাসকে খুন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁর গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল এবং মরদেহটি একটি ভুট্টাক্ষেতে ফেলে রাখা হয়।
    • ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫: ময়মনসিংহে (ধর্ম অবমাননার অভিযোগে) দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করে জনতা।
    • ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫: রাজবাড়িতে জনতা অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যা করে।
    • ২৯-৩০ ডিসেম্বর ২০২৫: বজেন্দ্র বিশ্বাসকে (পোশাক কারখানায় কর্তব্যরত অবস্থায়) গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫: শরীয়তপুরে খোকন চন্দ্র দাসকে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং তারপর পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলা হয়। ৩ জানুয়ারি তিনি হাসপাতালে মারা যান।
    • ৫ জানুয়ারি ২০২৬: যশোরে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৫ জানুয়ারি ২০২৬: নরসিংদীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয় শরৎ চক্রবর্তী মণিকে।
    • ১১ জানুয়ারি ২০২৬: এক দল উন্মত্ত জনতা পিটিয়ে মেরে ফেলে বছর আঠাশের সমীর কুমার দাসকে। হামলার পর দুষ্কৃতীরা তাঁর অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
    • ১৬ জানুয়ারি ২০২৬: রাজবাড়ী জেলায় পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানির দাম না দিয়ে পালানোর সময় চলন্ত গাড়িকে আটকাতে গেলে চাপা দেওয়া হয় পেট্রোল পাম্পের কর্মী হিন্দু যুবক রিপন সাহাকে।
    • ১৭ জানুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশের গাজিপুর জেলার কালীগঞ্জে কলা নিয়ে বিবাদের জেরে হিন্দু ব্যবসায়ী লিটন চন্দ্র যোষকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
  • DGCA: ইন্ডিগোর ওপর ২২.২০ কোটি টাকার জরিমানা, কারণ কি জানেন?

    DGCA: ইন্ডিগোর ওপর ২২.২০ কোটি টাকার জরিমানা, কারণ কি জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসামরিক বিমান চলাচল মহাপরিদফতর (DGCA) দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর ওপর ২২.২০ কোটি টাকার মোটা অঙ্কের জরিমানা ধার্য করেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে ব্যাপক হারে ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের ঘটনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনায় দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে তিন লাখেরও বেশি যাত্রী আটকে পড়েছিলেন (Indigo)। ডিজিসিএ জানিয়েছে, বিস্তারিত তদন্তে অপারেশনাল পরিকল্পনা, ক্রু ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক বিধিনিষেধ মেনে চলার ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে।

    ডিজিসিএ (DGCA)

    ডিজিসিএ প্রকাশিত এক প্রেস নোট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এই বিপর্যয় ঘটে। ওই সময়ে মোট ২,৫০৭টি ফ্লাইট বাতিল হয় এবং আরও ১,৮৫২টি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে চালানো হয়েছে। ডিজিসিএ গঠিত চার সদস্যের একটি কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত চালায়। তদন্তে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য গ্রহণ, নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা বিশ্লেষণ, ক্রু রোস্টারিং পদ্ধতি, এবং ব্যবহৃত সফটওয়্যার ব্যবস্থার পর্যালোচনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তদন্তে দেখা গিয়েছে, ‘অতিরিক্ত অপ্টিমাইজেশন’ বা সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রবণতাই ছিল মূল কারণ। সংস্থাটি ক্রু, বিমান এবং নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সর্বাধিকতা নিশ্চিত করতে গিয়ে অপারেশনাল স্থিতিশীলতা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতাকে উপেক্ষা করেছে।

    প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

    তদন্ত প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে, ক্রু রোস্টারে পর্যাপ্ত বাফার না থাকা, অতিরিক্ত দীর্ঘ ডিউটি প্যাটার্নের ওপর নির্ভরতা, ঘন ঘন ‘টেইল সুইচ’ (বিমানের পরিবর্তন) এবং ‘ডেড-হেডিং’ বা যাত্রী হিসেবে ক্রু পরিবহণের ব্যবহার। এসবের ফলে অপারেশনাল স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ ছিল অপারেশনের অতিরিক্ত অপ্টিমাইজেশন, নিয়ন্ত্রক প্রস্তুতির অভাব, সিস্টেম সফটওয়্যার সহায়তার ঘাটতি এবং এম/এস ইন্ডিগোর ব্যবস্থাপনা কাঠামো ও অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণে গুরুতর দুর্বলতা (DGCA)।”

    রিপোর্টের বক্তব্য

    রিপোর্টে বলা হয়েছে, “পরিচালনায় অতিরিক্ত অপ্টিমাইজেশনের চেষ্টা, পর্যাপ্ত (Indigo) নিয়ন্ত্রক প্রস্তুতির অভাব, সিস্টেম সফটওয়্যার সহায়তায় ত্রুটি এবং এম/এস ইন্ডিগোর ব্যবস্থাপনা কাঠামো ও পরিচালন নিয়ন্ত্রণে ঘাটতিই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ।” রিপোর্ট অনুযায়ী, কমিটি লক্ষ্য করেছে যে এয়ারলাইনের ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনাগত দুর্বলতা যথাযথভাবে চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে, পর্যাপ্ত অপারেশনাল বাফার বজায় রাখেনি এবং সংশোধিত ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন (FDTL) বিধান কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এই ব্যর্থতার ফলেই ব্যাপক ফ্লাইট বিলম্ব ও বড় আকারের বাতিলের ঘটনা ঘটে, যা যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।

    ডিজিসিএর বিবৃতি

    ডিজিসিএর বিবৃতি অনুযায়ী, তদন্তে আরও বলা হয়েছে যে ক্রু, বিমান ও নেটওয়ার্ক সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে রোস্টার বাফার মার্জিন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিবৃতিতে বলা হয়, “ক্রু রোস্টার এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে ডিউটি সময় সর্বোচ্চ হয়। এর জন্য ডেড-হেডিং, টেল-সোয়াপ, দীর্ঘ ডিউটি প্যাটার্ন এবং খুবই সীমিত রিকভারি মার্জিনের ওপর নির্ভর করা হয় (Indigo)। এই পদ্ধতি রোস্টারের স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন করেছে এবং অপারেশনাল সক্ষমতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।” তদন্তের আওতায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারমূলক ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে এবং যাত্রীদের কোনও ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয়। ডিজিসিএ জানিয়েছে, এই পর্যবেক্ষণগুলি টেকসই পরিচালনা, যাত্রী সুরক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে সুষম অপারেশনাল পরিকল্পনা, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক প্রস্তুতি এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা তদারকির প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে (DGCA)।

    সিভিল এভিয়েশন রিকোয়ারমেন্টস

    জরিমানার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সিভিল এভিয়েশন রিকোয়ারমেন্টস (CARs) লঙ্ঘনের জন্য এককালীন ₹১.৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ফ্লাইট টাইম লিমিট সংক্রান্ত সম্মতিসম্পন্ন স্কিম তৈরি করতে ব্যর্থতা, অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণের ভুলভাবে দায়িত্ব অর্পণ এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির মতো বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৬৮ দিন ধরে এফডিটিএল নিয়ম না মানার জন্য ইন্ডিগোকে আরও ২০.৪০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা দৈনিক ৩০ লাখ টাকা হারে হিসেব করা হয়েছে (Indigo)। কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে, দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে ডিজিসিএ ইন্ডিগোকে ৫০ কোটি টাকার একটি ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ইন্ডিগো সিস্টেমিক রিফর্ম অ্যাসিওরেন্স স্কিম (ISRAS)-এর আওতায় নেতৃত্ব, জনবল পরিকল্পনা, ডিজিটাল সিস্টেম এবং বোর্ডের তদারকিতে যাচাইযোগ্য উন্নতির ভিত্তিতে ধাপে ধাপে এই অর্থ ছাড় করা হবে (DGCA)।

    ব্যক্তিগত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

    আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি, ডিজিসিএ শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিয়েছে। ইন্ডিগোর সিইওকে পর্যাপ্ত তদারকি ও সংকট ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে, ২০২৫ সালের শীতকালীন সূচি এবং সংশোধিত এফডিটিএল বিধির প্রভাব মূল্যায়নে ব্যর্থ হওয়ায় অ্যাকাউন্টেবল ম্যানেজারকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।অপারেশনস কন্ট্রোল সেন্টারের (OCC) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টকে গুরুতর পরিকল্পনাগত ব্যর্থতার কারণে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে এবং ভবিষ্যতে কোনও জবাবদিহিমূলক পদে নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, তদারকি ও রোস্টার ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির জন্য ডেপুটি হেড অব ফ্লাইট অপারেশনস, ক্রু রিসোর্স প্ল্যানিংয়ের এভিপি এবং ডিরেক্টর অব ফ্লাইট অপারেশনসকে সতর্ক করা হয়েছে। এয়ারলাইনটিকে তার অভ্যন্তরীণ তদন্তে চিহ্নিত অন্য কর্মীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে এবং ডিজিসিএর কাছে একটি সম্মতিসূচক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Indigo)। এর জবাবে, ইন্ডিগো জানিয়েছে যে তারা ডিজিসিএর নির্দেশ মেনে নিচ্ছে এবং তাদের বোর্ড ও ব্যবস্থাপনা রিপোর্টে উত্থাপিত বিষয়গুলি সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (DGCA)।

  • PM Modi: “তৃণমূল শিশু ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা করছে”, তোপ প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: “তৃণমূল শিশু ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা করছে”, তোপ প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের ব্যাপক আন্দোলনের জেরে ১৮ বছর আগে সিঙ্গুর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছিল টাটারা। রবিবার ১৮ বছর পরে সেই সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়েই তৃণমূলকে নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তিনি বলেন, “তৃণমূল শিশু ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা করছে। গরিবদের উন্নয়নে বাধা দিচ্ছে তৃণমূল সরকার। মৎস্যজীবীদের নথিভুক্তকরণে সাহায্য করছে না। এতে কেন্দ্রীয় সরকারের সুবিধা পান না তাঁরা। যুবকদের ভবিষ্যৎ নিয়েও খেলছে তৃণমূল।”

    বিদ্যাসাগর-রামমোহন-বিবেকানন্দ (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায়, স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তীকে জাতীয়স্তরে পালন করার উদ্যোগও নিয়েছে আমাদের সরকার।” তিনি বলেন, “বিজেপি বিকাশ এবং ঐতিহ্য উভয়কেই গুরুত্ব দেয়। এই দুয়ের মডেলেই বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের বিকাশে গতি দেবে। পশ্চিমবঙ্গের অনেক সামর্থ্য রয়েছে। অনেক বড় বড় নদী রয়েছে। বিশাল উপকূল রেখা রয়েছে। উর্বর জমি রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় কিছু না কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। এখানকার সাধারণ মানুষের বুদ্ধি, প্রতিভা, সামর্থ্য রয়েছে। বিজেপি প্রত্যেক জেলার হিসেবে পরিকল্পনা তৈরি করবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট জেলার মানুষই সব চেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই জেলায় ধনিয়াখালি শাড়ি রয়েছে, এখানে পাট আছে, হস্তশিল্পের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সামগ্রীও রয়েছে। বিজেপির এক জেলা, এক পণ্য প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক জেলার এমন পণ্যে উৎসাহ দেবে। রাজ্যে বিজেপি সরকার এলেই প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে কড়া নীতি গৃহীত হবে। পাট শিল্পকে আরও উৎসাহিত করা হবে।” সিঙ্গুরের আলু-পেঁয়াজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গোটা পৃথিবীতে টাটকা সবজির চাহিদা রয়েছে। প্রক্রিয়াজাত সবজিরও বিশাল বাজার রয়েছে।”

    অনুপ্রবেশকারী ইস্যু

    এদিন প্রধানমন্ত্রীর ভাষণেও শোনা গিয়েছে অনুপ্রবেশকারী ইস্যু। তিনি বলেন, “তৃণমূলের শাসনে পশ্চিমবঙ্গে দাঙ্গাকারী, মাফিয়া, লুটতরাজে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এখানে সব কিছুতেই সিন্ডিকেট ট্যাক্স বসানো হয়। এই সিন্ডিকেট ট্যাক্স, মাফিয়া ট্যাক্সকে বন্ধ করবে রাজ্যে বিজেপির সরকার এলে। এটা মোদির গ্যারান্টি।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের সেবা করাই আমার লক্ষ্য। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রের প্রকল্পের সুফল মানুষের কাছে পৌঁছতে দেয় না। রাজ্যবাসীর সঙ্গে শত্রুতা করছে তৃণমূল সরকার।”

    মহা-জঙ্গলরাজের পতন

    তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে মহা-জঙ্গলরাজের পতন ও বিজেপির ক্ষমতায় আসা অত্যন্ত জরুরি। তৃণমূল সরকারের আমলে মহিলারা সুরক্ষিত নন। মাফিয়া ও দুর্নীতিবাজদের কবজায় রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা (PM Modi)। যতদিন তৃণমূল ক্ষমতায় থাকবে, কেউ চাকরি পাবেন না। এখানে কলেজে ধর্ষণ, হিংসার ঘটনা বন্ধ হোক।” তৃণমূল সরকারকে ‘নির্মম’ আখ্যাও দেন প্রধানমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গে শিল্প না আসার কারণও এদিন জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হলেই পশ্চিমবঙ্গে শিল্প আসবে, পশ্চিমবঙ্গে দুষ্কৃতি-পুলিশ সবাই এক। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সিন্ডিকেট-রাজ খতম করবে, এটা মোদির গ্যারান্টি।” এদিন প্রধানমন্ত্রী সভা শুরু করেন বাংলায় সম্ভাষণ করে। তিনি বলেন, “সিঙ্গুরের এই পবিত্রভূমিকে আমার প্রণাম। পশ্চিমবঙ্গে আসল পরিবর্তন চাইছেন মানুষ। সবাই ১৫ বছরের মহাজঙ্গলরাজের পতন চায়। সিঙ্গুরের এই পবিত্রভূমিকে আমার প্রণাম, সিঙ্গুরের এই উৎসাহ দেখে আমি অভিভূত (PM Modi)।”

     

  • PM Modi: সিঙ্গুরে কল্পতরু প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন-শিলান্যাস করলেন ৮৩০ কোটি টাকারও বেশি প্রকল্পের

    PM Modi: সিঙ্গুরে কল্পতরু প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন-শিলান্যাস করলেন ৮৩০ কোটি টাকারও বেশি প্রকল্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আজ সকালে আমি মা কামাখ্যার মাটিতে ছিলাম। এখন বাবা তারকনাথের মাটিতে আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।” রবিবার সিঙ্গুরের (Singur Meeting) জনসভায় কথাগুলি বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। এদিন অবশ্য তিনি বক্তৃতা শুরু করেন শ্রীরামকৃষ্ণ এবং মা সারদাকে দিয়ে। তার পরেই চলে আসেন মা কামাখ্যা এবং বাবা তারকনাথের অনুষঙ্গে। সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন ৮৩০ কোটি টাকারও বেশি প্রকল্পের। সিঙ্গুরের সরকারি মঞ্চ থেকে হুগলির বলাগড়ে এক্সটেন্ডেড পোর্ট গেট সিস্টেমের শিলান্যাসও করেন প্রধানমন্ত্রী।

    গত ২৪ ঘণ্টা তাৎপর্যপূর্ণ (PM Modi)

    এদিন সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “রাজ্যের ট্রেন যোগাযোগের ক্ষেত্রে গত ২৪ ঘণ্টা তাৎপর্যপূর্ণ। গত ১০০ বছরে এত কাজ হয়নি।” এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস, কেন্দ্রের দুই মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং শান্তনু ঠাকুর, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এই মঞ্চে বক্তৃতা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ আগেই ৬টি অমৃত ভারত ট্রেন পেয়েছে। আজ আরও ৩টি অমৃত ভারত ট্রেন পেল পশ্চিমবঙ্গ।” জয়রামবাটি-বড়গোবিন্দনাথপুর-ময়নাপুর নয়া রেললাইনের উদ্বোধনও করেন প্রধানমন্ত্রী। যাত্রার সূচনা করেন তিনটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের এবং একটি নয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেনের (PM Modi)।

    রাজ্য সরকার পরিবর্তনের আহ্বান

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রত্যাশিতভাবেই এসেছে রাজ্য সরকার পরিবর্তনের আহ্বান। তিনি বলেন, “আমাদের আসল পরিবর্তন চাই। সকলে এই মনোভাব নিয়েই আজ সভায় এসেছেন। সকলেই ১৫ বছরের মহাজঙ্গলরাজকে বদলাতে চাইছেন। বন্দে মাতরম হুগলিতেই লেখা হয়েছিল। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই মাটিতেই লিখেছিলেন।” তিনি বলেন, “বিহারে এনডিএ জঙ্গলরাজ আরও একবার আটকে দিয়েছে। এবার পশ্চিমবঙ্গও টিএমসির মহাজঙ্গলরাজকে বিদায় করতে প্রস্তুত।” রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের সুরও এদিন বেঁধে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী (Singur Meeting)। তিনি বলেন, “পাল্টানোর দরকার, চাই বিজেপি সরকার।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পুরো সংসদ, পুরো দেশ ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে। হুগলি এবং বন্দেমাতরমের সম্পর্ক তো আরও গুরুত্বপূর্ণ। বলা হয়, এখানেই ঋষি বঙ্কিমজি বন্দেমাতরমকে পূর্ণতা দিয়েছেন।”

    কর্তব্যপথে নেতাজি

    তিনি বলেন, “বিজেপি সরকারই দিল্লিতে কর্তব্যপথে ইন্ডিয়া গেটের সামনে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি বসিয়েছে। প্রথমবার লালকেল্লা থেকে আজাদ হিন্দ ফৌজের অবদানকে স্মরণ করা হয়েছে (PM Modi)। আন্দামান নিকোবরে নেতাজির নামে দ্বীপের নামকরণ করা হয়েছে। আগে ২৬ জানুয়ারির কর্মসূচি ২৪-২৫ তারিখ থেকে শুরু হত। শেষ হত ৩০ তারিখে। আমরা তা বদলে দিয়েছি। এখন ২৩ জানুয়ারি নেতাজি সুভাষবাবুর জন্মজয়ন্তী থেকে শুরু করেছি। মহাত্মা গান্ধীর পূণ্যতিথিতে তা পূরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি মনে করিয়ে দেন, পশ্চিমবঙ্গ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে। এর পরেই তৃণমূলকে নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা নিতে পাচ্ছেন না রাজ্যের মানুষ। এজন্য তৃণমূল সরকার দায়ী। মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিলেও লাভ হয় না। জেলেদের জন্য কেন্দ্রীয় যোজনায় বাংলার জেলেদের রেজিস্ট্রেশন করতে দেওয়া হচ্ছে না।” তিনি বলেন, “জেলেরা বঞ্চিত (Singur Meeting) হচ্ছেন। যুব সমাজের সঙ্গে ছেলেখেলা করছে রাজ্যের তৃণমূল সরকার (PM Modi)।”

     

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু বিদ্বেষ, দেখে নিন এ সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু বিদ্বেষ, দেখে নিন এ সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত এবং বিদেশ, সর্বত্রই হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর হামলা এখন নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন ঘটনা হয়ে উঠেছে। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নিপীড়ন এমন একটা অবস্থায় পৌঁছেছে, যা ধীরে ধীরে আমাদের চোখের সামনেই একপ্রকার গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। গত কয়েক দশক ধরে গভীর ও উদ্বেগজনক হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষের জেরে বিশ্ব এই হামলাগুলির প্রকৃত ব্যাপ্তি ও ভয়াবহতা উপেক্ষা করে এসেছে (Roundup Week)। খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের মুখোমুখি হচ্ছেন, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষ।

    মানবাধিকার সঙ্কট (Hindus Under Attack)

    ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে এই সাপ্তাহিক সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে আমরা এমন কিছু ঘটনার একটি ছবি তুলে ধরতে চাই, যাতে বিশ্বজুড়ে আরও মানুষ এই গুরুতর মানবাধিকার সঙ্কট সম্পর্কে সচেতন হন। প্রথমে দেখে নেওয়া যাক ভারতের ছবিটা। মাদ্রাজ হাই কোর্ট তিরুপ্পারনকুন্দ্রমে অবস্থিত অরুলমিগু সুব্রহ্মণ্য স্বামী মন্দিরের নির্বাহী আধিকারিককে কড়া প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। মন্দিরের সম্পত্তি হিসেবে ঘোষিত জমিতে একটি দরগার পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। আদালতের মন্তব্য, এই কাজটি ফৌজদারি অনধিকার প্রবেশের শামিল।

    অধ্যাপকের অভিযোগ

    আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের (এএমইউ) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রবীণ অধ্যাপক রচনা কৌশল প্রায় তিন দশক ধরে চলা ধর্মীয় বৈষম্য ও মানসিক হয়রানির গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, ধারাবাহিক নিপীড়নের ফলে এমন এক শত্রুতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যার কারণে ২০০৪ সালে যমজ সন্তানের গর্ভধারণের সময় তাঁর গর্ভপাত ঘটে। এএমইউয়ের উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া অডিও রেকর্ডিং ও নথিপত্রের ভিত্তিতে করা এই অভিযোগ একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার মারাত্মক লঙ্ঘন এবং হিন্দুদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক হয়রানির চিত্র তুলে ধরে (Hindus Under Attack)।

    রাম’ শব্দে বিতর্ক

    ছত্তিশগড়ের মহাসমুন্দ জেলায় সরকারি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইংরেজি অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার একটি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ঘিরে ৮ জানুয়ারি বিক্ষোভ ছড়িয়ে (Roundup Week) পড়ে। প্রশ্নে একটি কুকুরের নাম হিসেবে বিকল্পের মধ্যে ‘রাম’ শব্দটি অন্তর্ভুক্ত থাকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ৭ জানুয়ারির পরীক্ষায় প্রশ্নটি ছিল—‘মোনার কুকুরের নাম কী?’ বিকল্প হিসেবে দেওয়া হয়েছিল ‘বালা’, ‘শেরু’, ‘নো ওয়ান’ এবং ‘রাম’। স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলির অভিযোগ, এতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। বেঙ্গালুরুর ইলেকট্রনিক সিটির হুলিমাঙ্গলা এলাকায় এক উদ্বেগজনক ঘটনার সাক্ষী হল শহরটি। অবৈধ ইসলামি বসতি উচ্ছেদ অভিযানের সময় এক ইসলামপন্থী মহিলা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, জেসিবি মেশিন দিয়ে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার সময় এই ঘটনা ঘটে। পরে হেব্বাগোডি থানার পুলিশ ওই মহিলাকে গ্রেফতার করে এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় (Hindus Under Attack)।

    পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার বৈরী মনোভাব

    দিল্লির তুর্কমান গেট এলাকায় ফয়েজ-ই-ইলাহি মসজিদের কাছে পুরনিগমের উচ্ছেদ অভিযানের সময় সংঘটিত হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত মহম্মদ ইমরানকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ (Roundup Week)। পাকিস্তানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রে হিন্দু সংখ্যালঘু নাবালিকা মেয়েদের অপহরণ, ধর্ষণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও বিয়ে একটি সাধারণ ও নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু সিন্ধ প্রদেশেই প্রতি বছর অন্তত ১,০০০ সংখ্যালঘু মেয়ে এ ধরনের যৌন দাসত্বের শিকার হয়। এছাড়াও পাকিস্তানের হিন্দুরা প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত বৈষম্য এবং অবহেলার মুখোমুখি, যার মধ্যে রয়েছে হিন্দু মন্দিরে ঘনঘন হামলা, শিক্ষাক্রমে হিন্দুবিদ্বেষী উপস্থাপন, পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার বৈরী মনোভাব, মৌলিক অধিকার অস্বীকার এবং এমনকি অস্পৃশ্যতার মতো সামাজিক বৈষম্য। পাকিস্তানে ভিল (Bheel) সম্প্রদায়ের মহিলাকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সাম্প্রতিক ঘটনাটি পাকিস্তানে হিন্দু সংখ্যালঘুদের করুণ অবস্থার আর একটি জ্বলন্ত প্রমাণ।

    প্রান্তিক ভাগচাষি নিহত

    পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে প্রভাবশালী এক জমিদারের গুলিতে কাইলাস কোলহি নামে এক প্রান্তিক ভাগচাষি নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ড সংখ্যালঘু গোষ্ঠী ও মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। গ্রামীণ সিন্ধে সামন্ততান্ত্রিক হিংসা, সংখ্যালঘু অধিকার ও বিচারহীনতার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলি আবারও সামনে এসেছে। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে পদক্ষেপ ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের সুরক্ষার দাবিতে সড়ক ও জাতীয় সড়ক অবরোধ করে (Roundup Week)। এদিকে, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা অব্যাহত এবং পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ধীরে ধীরে দেশছাড়া করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের গবেষণা অনুযায়ী, কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নের ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণহামলা, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর, এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য, এইসব পদ্ধতি ব্যবহার করে হিন্দুদের আতঙ্কিত করে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে।

    দীপু দাস হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত

    বাংলাদেশ পুলিশ ময়মনসিংহে দীপু দাস হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত এক মসজিদের ইমাম ইয়াসিন আরাফতকে গ্রেফতার করেছে। এই গ্রেফতারিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ঘটনাটি বাংলাদেশ-সহ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল এবং ভারত থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছিল। শরীয়তপুর জেলায় সংঘটিত এক নৃশংস হামলায় জখম হয়ে বছর পঞ্চাশের ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে খবর। তিনি ডামুড্যা উপজেলার তিলই গ্রামের বাসিন্দা এবং একটি ওষুধের দোকান ও মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবার মালিক ছিলেন। ৩১ ডিসেম্বর রাতে কেওড়ভাঙা বাজারের কাছে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় (Roundup Week)।

    হিন্দু ব্যক্তির নতুন হত্যাকাণ্ড

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে এক হিন্দু ব্যক্তির নতুন হত্যাকাণ্ডে। উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা জয় মহাপাত্রকে স্থানীয় এক ব্যক্তি মারধর করে গুরুতর আহত করে এবং পরে বিষ প্রয়োগ করে বলে পরিবারের অভিযোগ। তাঁকে সিলেটের এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় (Hindus Under Attack)। উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশের এক ঘটনায় চুরির অভিযোগে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচতে একটি খালে ঝাঁপ দিয়ে মারা যান মিঠুন সরকার নামে একজন। এটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হিংসার আর একটি উদাহরণ। পাবনা জেলার প্রখ্যাত হিন্দু সংগীতশিল্পী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামি লিগের প্রবীণ নেতা প্রলয় চাকীর মৃত্যু হয়েছে পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

    ঘৃণাজনিত অপরাধ

    বেশিরভাগ ঘৃণাজনিত অপরাধের পেছনে রয়েছে হিন্দুবিদ্বেষ, যা কিছু ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ভেতরে প্রোথিত। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুবিরোধী ঘৃণা প্রকাশ্য ও স্পষ্ট হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও জনপরিসরে হিন্দুবিদ্বেষের আর একটি সূক্ষ্ম রূপ রয়েছে, যা হিন্দুফোবিয়া ও ঘৃণাজনিত অপরাধের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে (Roundup Week)। এই সূক্ষ্ম ও দৈনন্দিন বৈষম্য সহজে চোখে পড়ে না, যদি না বিদ্যমান আইন ও তার প্রয়োগের ধরন এবং সামগ্রিক প্রবণতাগুলি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। দীপাবলিতে ধীরে ধীরে বাজি পোড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তার একটি ভালো উদাহরণ। আপাতদৃষ্টিতে এটি দূষণ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর ধারাবাহিক বিধিনিষেধ এবং এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে সুসংগত যুক্তির অভাব লক্ষ্য করলে সংশ্লিষ্ট দ্বৈত মানদণ্ডই স্পষ্ট হয়ে ওঠে (Hindus Under Attack)।

     

  • Donald Trump: আট ইউরোপীয় দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা ট্রাম্পের

    Donald Trump: আট ইউরোপীয় দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ইচ্ছের বিরোধিতা করায় এবার আটটি ইউরোপীয় দেশের (European Countries) বিরুদ্ধে নতুন করে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। শনিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক-সহ সাতটি ইউরোপীয় দেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে গ্রিনল্যান্ড, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, সম্পূর্ণ ও চূড়ান্তভাবে কেনার বিষয়ে কোনও চুক্তি না হলে, ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে সেই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।

    গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের ভূখণ্ডগত অধিকার (Donald Trump)

    ডেনমার্ক ছাড়াও যে সাতটি দেশের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হবে, সেগুলি হল নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড। এসব দেশ গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের ভূখণ্ডগত অধিকারের পক্ষে প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়েছে।ট্রাম্প বলেন, “২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই সব দেশ ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সব ধরনের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।”

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা

    ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করে এসব দেশ যে পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলিকে তিনি বিপজ্জনক বলে মনে করেন। জাতীয় নিরাপত্তা, উন্নত অস্ত্রব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক শান্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এর প্রতিক্রিয়ায়ই এই শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। ট্রাম্প ডেনমার্কের বিরুদ্ধে গ্রিনল্যান্ডের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তোলেন এবং বলেন, দেশটি মাত্র দুটি কুকুর-টানা স্লেজকে নিরাপত্তা হিসেবে ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, চিন ও রাশিয়া দ্বীপটির জন্য হুমকি স্বরূপ হয়ে উঠছে (Donald Trump)।

    গ্রিনল্যান্ড সফর

    ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডকে লক্ষ্য করে ট্রাম্প দাবি করেন (European Countries), এসব দেশের সাম্প্রতিক গ্রিনল্যান্ড সফর আমাদের গ্রহের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও অস্তিত্বের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তিনি এও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র গত ১৫০ বছর ধরে গ্রিনল্যান্ড কেনার চেষ্টা করে আসছে। বহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন, কিন্তু প্রতিবারই ডেনমার্ক তা প্রত্যাখ্যান করেছে।” ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে কোনও শুল্ক আরোপ না করেই এসব দেশকে ভর্তুকি দিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতার সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়টি যুক্ত করেন এবং বলেন, “সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচির আওতায় গ্রিনল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি (European Countries)।”

    কী বললেন ট্রাম্প

    ট্রাম্প বলেন, “এখন গোল্ডেন ডোম এবং আধুনিক যুগের আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রব্যবস্থার কারণে অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ‘দ্য ডোম’-সংক্রান্ত নিরাপত্তা কর্মসূচিতে শত শত বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করা হচ্ছে, যার মধ্যে কানাডার সম্ভাব্য সুরক্ষাও অন্তর্ভুক্ত। এই অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত কিন্তু জটিল ব্যবস্থা কোণ, পরিমাপ ও সীমানার কারণে কেবল তখনই সর্বোচ্চ সক্ষমতা ও দক্ষতায় কাজ করতে পারে, যখন এই ভূখণ্ড এর অন্তর্ভুক্ত হয় (Donald Trump)।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “ডেনমার্ক এবং অথবা সংশ্লিষ্ট যে কোনও দেশের সঙ্গে এই বিষয়ে অবিলম্বে আলোচনায় বসতে আমেরিকা প্রস্তুত।” তাঁর অভিযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক দশক ধরে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দান-সহ যা কিছু করেছে, তা সত্ত্বেও এসব দেশ অনেক কিছু ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে (European Countries)।

     

LinkedIn
Share