মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চাঁদে যান পাঠানোর কর্মযজ্ঞে বিশেষ যোগ মিলল বীরভূমের প্রত্যন্ত গ্রামের বাঙালি সন্তান বিজয়কুমার দাই-এর। ইসরোর গবেষণাগারে বসে চন্দ্রযান-৩ সফল উৎক্ষেপণে অংশ নিয়েছেন বীরভূমের (Birbhum) মল্লারপুর থানার দক্ষিণগ্রামের দাই পাড়ার এই সন্তান। তফশিলি দরিদ্র চাষি পরিবারে জন্ম নেওয়া বিজয় কুমার দারিদ্রতাকে জয় করে চাঁদে যান পাঠালেন। বিশ্বজোড়া কর্মকাণ্ডে ছেলের অংশগ্রহণে গর্বিত বিজয়ের বাবা-মা ও তাঁর গ্রামের মানুষজন। চন্দ্রযান-২ সফল না হলেও চন্দ্রযান-৩ সফলভাবে চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবে বলে আশা তাঁর বাবা ও মায়ের। এই যোগদানে বিজয় কুমারের জন্য রাজ্যবাসীও আপ্লুত।
কোথায় পড়াশুনা করেছেন বিজয়কুমার দাই (Birbhum)?
২০০০ সালে বীরভূমের (Birbhum) মল্লারপুর থানার দক্ষিণগ্রাম জগত্তারিণী বিদ্যায়তন থেকে ৮৯ শতাংশ নম্বর নিয়ে মাধ্যমিক পাশ করেন বিজয়কুমার দাই। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন বেলুড় রামকৃষ্ণ মঠ থেকে। তারপর কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার ডিগ্রি লাভ করেন। তারপরেই চাকরি পেয়ে যান ইসরোর গবেষণা কেন্দ্রে। এরপর সেখানেই চন্দ্রযান-২ এবং চন্দ্রযান-৩ উৎক্ষেপণে অংশগ্রহণ করেন তিনি। বিজয়কুমার দাই-এর এই সাফল্যে খুশি দক্ষিণগ্রামের মানুষজন। দক্ষিণগ্রাম জগত্তারিণী বিদ্যায়তনের শিক্ষককরাও ভীষণ উচ্ছ্বসিত।
পরিবারের বক্তব্য
পরিবারের (Birbhum) পক্ষে বাবা নারায়ণচন্দ্র দাই বলেন, এই চন্দ্রযান-৩ উৎক্ষেপণের সাফল্য কামনা করি। অনেক পরিশ্রম করে ইসরোতে চাকরি পেয়েছে আমার ছেলে। পড়াশুনায় কোনও খামতি রাখেনি বিজয়। দিনরাত পরিশ্রম এবং পড়াশুনা করে আজ এই জায়গাতে পৌঁছেছে। ওর মঙ্গল কামনা করি। তবে ছেলে কাজের জন্য খুব ব্যস্ত থাকে, তাই রাতের দিকেই মূলত ওর সঙ্গে কথা হয়। মা শ্যামলী দাই বলেন, টিভিতে দেখলাম চন্দ্রযান-৩ উৎক্ষেপণের ছবি, খুব ভালো লাগেছে। ছেলের জন্য বেশ গর্ব অনুভব করি। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমার বড় ছেলে ওকে এই পড়াশুনার জন্য উৎসাহ ও প্রেরণা যুগিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা তো চাষাবাস করি অত বুঝি না। বড় ছেলে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। বড় ছেলেই মেজ ছেলেকে যে পথ দেখিয়েছে তারপর থেকে সেই পথেই চলছে বিজয়। ভগবান ওর মঙ্গল কামনা করুক, ওঁদের অভিযান যেন সর্বাত্মক সাফল্য লাভ করে, ঈশ্বরের কাছে সেই কামনাই করি।
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।
Leave a Reply