মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: থ্রেট কালচারে অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী চিকিৎসক বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি অভিযোগ সামনে আসছে। কয়েকদিন আগেই তাঁকে সাসপেন্ড করেছে আইএমএ। এবার মুর্শিদাবাদের এক ছাত্রকে মেডিক্যালে সুযোগ করে দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ উঠল বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের (Birupaksha Biswas) বিরুদ্ধে। এর আগে শক্তিপুর হাসপাতালের এক চিকিৎসক অনুপম মণ্ডলকে পোস্টিং করে দেওয়ার নাম করে অনেক টাকা হাতিয়েছিলেন বিরূপাক্ষ। এবার ডাক্তারি পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য টাকা নিয়ে প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণা (Birupaksha Biswas)
জানা গিয়েছে, ২০২০ সালে মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি ভাদুরিয়াপাড়ার দীন মহম্মদের ছেলে ডাক্তারি পড়ার জন্য নিট পরীক্ষা দিয়েছিলেন। পরীক্ষার ফল আশানুরূপ হয়নি। কম নম্বর পাওয়ায় সরকারি মেডিক্যাল কলেজ সুযোগ পাচ্ছিলেন না ওই ছাত্র। সেই সময়ে ছাত্রের বাবা দীন মহম্মদের সঙ্গে স্থানীয় এক চিকিৎসকের সঙ্গে পরিচয় হয়। ওই চিকিৎসকই বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের (Birupaksha Biswas) সঙ্গে ওই ব্যক্তির পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। সেই সময়ে ছেলেকে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানোর জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছিলেন তিনি। তাই বিরূপাক্ষের কাছে সাহায্য চান। তাঁর অভিযোগ, ছেলেকে মেডিক্যালে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। দু’দফায় মোট ৮ লক্ষ টাকা দেওয়ার পরেও মেডিক্যালে ভর্তি করিয়ে দেননি ওই ডাক্তারবাবু। ওই চিকিৎসক কলেজে সিট বুকিং করে দেওয়ার নাম করে ছাত্রের বাবার কাছ থেকে আট লক্ষ টাকা নেন। দু’দফায় সেই টাকা দিয়েছিলেন দীন মহম্মদ। কিন্তু, কোনও সদর্থক উত্তর না আসায় টাকা ফেরত চাইতে গেলে ছাত্রের বাবাকে হুমকি দেন বিরূপাক্ষ। চার বছর আগে তাঁর সঙ্গে এমন প্রতারণা হয়। আদালতে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন তিনি। দীন মহম্মদের দাবি, গত শনিবার আচমকাই তাঁকে ফোন করেন অভিযুক্ত চিকিৎসক। সেখানে সুর নরম করে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। অবশেষে ৪৫ হাজার টাকা তাঁকে ফেরত দিয়েছেন বলে ছাত্রের বাবার দাবি। এই বিষয়ে জানতে বিরূপাক্ষ বিশ্বাসকে ফোন করা হয়েছিল। সেখানে তিনি বলেন, এভাবে অপপ্রচার করা হচ্ছে। কেন এমন করা হচ্ছে তিনি জানেন না।
আরও পড়ুন: ‘ইলিশ দেব না’ হুঁশিয়ারি দেওয়া বাংলাদেশ ভারতের কাছে হাত পেতে নিল ডিম!
সাগর দত্তে বিরূপাক্ষ-বাহিনীর দাপাদাপি
সাগরদত্ত মেডিক্যাল কলেজে বিরূপাক্ষ-বাহিনী (Birupaksha Biswas) দাপিয়ে বেড়াত। টোকাটুকি থেকে তোলাবাজি- নৈরাজ্য সাগরদত্ত মেডিক্যাল কলেজে। বাধা দিলে জুটত বদলির হুমকি। বিরূপাক্ষ-বাহিনীর দাপটে ত্রস্ত বিভাগীয় প্রধানরাও। এসব নিয়ে মুখ খুলেছেন কলেজের অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম প্রধান।
কী বললেন সাগর দত্তের অধ্যক্ষ?
সাগর দত্তের (Sagar Dutta Hospital) অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম প্রধান বলেন, “এখানকার যা পরিস্থিতি আমি এসে ফেস করেছি, সেটা অকল্পনীয়। দীর্ঘ ৩০ বছরের শিক্ষক জীবনে আমাকে এই ধরনের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়নি। ২০২২ সালে আসার পর থেকেই একটা নাম বারবার আমার কাছে আসত, তাঁকে আমি কখনও চোখে দেখিনি। নাম হচ্ছে বিরূপাক্ষ বিশ্বাস। তিনি এখানে দুটো ঘর দখল করে ছিলেন। ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে কম অভিযোগ পেয়েছি, যাঁরা অন্যান্য ক্যাটাগরি অফ স্টাফ, তাঁদের থেকেই বেশি অভিযোগ পেয়েছি। কে কোন ক্লাস করাবেন, কে করবে, কে হস্টেল পাবে কি পাবে না, সে সব কিছু ঠিক হত বিরূপাক্ষের সিদ্ধান্তেই। আমি নিজে পদক্ষেপ করি। আমি বলেছিলাম লিখিত অভিযোগ জানাতে। কিন্তু কেউ ভয়ে লিখিত দেয়নি। এখনও পর্যন্ত যা যা লিখিত পড়েছে, তা স্বাস্থ্যভবনে জমা দিই। জুলাই মাসে এক ছেলেকে বুঝিয়ে অভিযোগ দায়ের করাই। বরানগর থানার পুলিশ তার অভিযোগের ভিত্তিতে একজনকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে আন অথারাইজড কার্যকলাপের অভিযোগ ছিল। কিন্তু তারপর থেকে আড়াই বছরে আমি ও আমার স্টাফরা বিভিন্নভাবে হেনস্থার শিকার হই। ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস করতে দেওয়া হয় না, তাদের মিটিং মিছিলে ব্যস্ত রাখা হয়। মার্কস কম পায়। অনেক বিভাগীয় প্রধান বলেও ফেলেন, তাঁরা থ্রেট পেতেন। শুধু তাই নয়, অভিযোগ, টুকলি করলে কাদের ধরতে হবে, আর কাদের ধরা যাবে না, সেটাও ঠিক করে দিত বিরূপাক্ষ-বাহিনী (Birupaksha Biswas)।
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Whatsapp, Facebook, Twitter, Telegram এবং Google News পেজ।
Leave a Reply