Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • C Rajagopalachari: রাষ্ট্রপতি ভবনে বসল রাজাগোপালাচারীর আবক্ষ মূর্তি, কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    C Rajagopalachari: রাষ্ট্রপতি ভবনে বসল রাজাগোপালাচারীর আবক্ষ মূর্তি, কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসকে সম্মান জানিয়ে সি রাজাগোপালাচারীর (C Rajagopalachari) আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করা হল রাষ্ট্রপতি ভবনে। দেশবাসীর কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন রাজাজি নামে। রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁর মূর্তি বসানোটা এক রাষ্ট্রনায়কের স্বীকৃতির প্রতীক, যিনি স্বাধীনতা সংগ্রামী, প্রশাসক, দার্শনিক ও রাজনৈতিক সংস্কারক হিসেবে নানা ভূমিকায় দেশসেবা করেছেন।

    একমাত্র ভারতীয় গভর্নর-জেনারেল (C Rajagopalachari)

    স্বাধীনতার পরে একমাত্র ভারতীয় হিসেবে গভর্নর-জেনারেল পদে অধিষ্ঠিত হওয়ায় রাজাগোপালাচারী ভারতীয় ইতিহাসে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তাঁর দায়িত্বকাল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে পূর্ণ সার্বভৌম প্রজাতন্ত্রে ভারতের উত্তরণের শেষ পর্যায়কে চিহ্নিত করে। রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁর আবক্ষ মূর্তি স্থাপন শাসনব্যবস্থা ও জনজীবনে তাঁর অবদানের স্থায়ী প্রাসঙ্গিকতাকেই তুলে ধরে (Rashtrapati Bhavan)। ১৮৭৮ সালের ১০ ডিসেম্বর বর্তমান তামিলনাড়ুর কৃষ্ণগিরি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন রাজাগোপালাচারী। সাধারণ পরিবারে জন্ম হলেও শিক্ষা ও মেধার জোরে তিনি দ্রুত উত্থান ঘটান। আইনজীবী হিসেবে প্রশিক্ষিত রাজাজি তীক্ষ্ণ আইনি যুক্তি ও নৈতিক দৃঢ়তার জন্য খ্যাতি অর্জন করেন। মহাত্মা গান্ধীর প্রভাবেই তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। অহিংসা ও জাতীয় স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রে গান্ধীর আদর্শ তাঁর চিন্তাধারাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ক্রমে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনে গান্ধীর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহচর ও বিশ্বস্ত সহযোগী হয়ে ওঠেন।

    কৃতী লেখক ও চিন্তাবিদ

    রাজনীতি ছাড়াও রাজাগোপালাচারী ছিলেন একজন কৃতী লেখক ও চিন্তাবিদ। ভারতীয় দর্শন ও সাহিত্য ঐতিহ্যে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে (Rashtrapati Bhavan)। ভারতের সাংবিধানিক ইতিহাসে তিনি একমাত্র ভারতীয়, যিনি গভর্নর-জেনারেল পদে অধিষ্ঠিত হন। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর প্রথমে এই পদে ছিলেন মাউন্টব্যাটেন। ১৯৪৮ সালে মাউন্টব্যাটেন পদত্যাগ করলে রাজাগোপালাচারী তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন এবং প্রথম ও একমাত্র ভারতীয় হিসেবে এই পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত তিনি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক রূপান্তর তত্ত্বাবধান করেন (C Rajagopalachari)। ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজাতন্ত্রে পরিণত হলে সংবিধান কার্যকর হয় এবং গভর্নর-জেনারেলের পদ বিলুপ্ত হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় রাষ্ট্রপতির পদ। এর ফলে ঔপনিবেশিক শাসনকাঠামোর অবসান ঘটে।

    প্রশাসনিক সংস্কার

    গভর্নর-জেনারেল পদ ছাড়াও তাঁর প্রশাসনিক জীবন ছিল বিস্তৃত। ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের পর তিনি ব্রিটিশ শাসনাধীন মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির প্রিমিয়ার (বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর সমতুল্য) হন। তাঁর সময়ে প্রশাসনিক সংস্কার ও শিক্ষা উদ্যোগের ক্ষেত্রে ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হয় (Rashtrapati Bhavan)। স্বাধীনতার পর ১৯৫২ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে তিনি সংসদে প্রবেশ করেন এবং পরে মাদ্রাজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর শাসনশৈলী ছিল আর্থিক শৃঙ্খলা, কঠোর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষা ও গ্রামীণ উন্নয়নে জোর দেওয়ার জন্য পরিচিত (C Rajagopalachari)। জাতীয় আন্দোলনের শীর্ষ নেতা হয়েও পরবর্তীকালে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য দেখা দেয়। কংগ্রেস নেতৃত্বের প্রচারিত অতিরিক্ত রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রণ ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির নীতির তিনি সমালোচক ছিলেন। তিনি মুক্ত বাজারনীতি, বিকেন্দ্রীকরণ ও ব্যক্তিস্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করেন।

    কংগ্রেস পার্টি ত্যাগ

    এই আদর্শগত মতভেদের ফলেই তিনি কংগ্রেস পার্টি ত্যাগ করেন। ১৯৫৯ সালে তিনি স্বতন্ত্র পার্টি (Swatantra Party) প্রতিষ্ঠা করেন, যা স্বাধীনোত্তর ভারতের প্রাথমিক সংগঠিত বিরোধী দলগুলির একটি হয়ে ওঠে। সমাজতান্ত্রিক নীতির প্রাধান্যের সময়ে দলটি বাজারমুখী অর্থনীতি ও সীমিত সরকারি হস্তক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নেয়। যদিও পরবর্তী কালে স্বতন্ত্র পার্টির প্রভাব (Rashtrapati Bhavan) কমে যায়, তবুও গণতান্ত্রিক বিতর্ক ও শক্তিশালী বিরোধী রাজনীতির বিকাশে দলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে (C Rajagopalachari)। রাজাগোপালাচারীর উত্তরাধিকার তাঁর পদগুলির সীমা ছাড়িয়ে বিস্তৃত। তিনি নীতিবান রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে স্মরণীয়, যিনি বুদ্ধিবৃত্তিক গভীরতা ও রাজনৈতিক বাস্তববোধকে একত্রিত করেছিলেন। ইতিহাসবিদরা তাঁকে প্রায়ই সেই প্রজন্মের শেষ প্রতিনিধিদের একজন হিসেবে বর্ণনা করেন, যাঁরা ভারতকে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বশাসনের পথে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁর আবক্ষ মূর্তির উন্মোচন কেবল তাঁর কৃতিত্বের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নয়, বরং আধুনিক ভারত গঠনে ভূমিকা রাখা বহুমাত্রিক আদর্শিক ঐতিহ্যেরও স্মারক। স্বাধীনতার সাত দশকেরও বেশি সময় পরেও (Rashtrapati Bhavan) রাজাগোপালাচারী সাংবিধানিক শাসন, নীতিনিষ্ঠ রাজনীতি (C Rajagopalachari) ও বৌদ্ধিক নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে রয়েছেন।

     

  • Youth Congress: এআই সম্মেলনে শার্টবিহীন বিক্ষোভ, গ্রেফতার যুব কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি

    Youth Congress: এআই সম্মেলনে শার্টবিহীন বিক্ষোভ, গ্রেফতার যুব কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুব কংগ্রেসের (Youth Congress) জাতীয় সভাপতি উদয় ভানু চিবকে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে ধরা হয় তাঁকে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে (AI Summit) প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া এবং শার্টবিহীন বিক্ষোভের ঘটনায় এটি অষ্টম গ্রেফতার।

    কাকভোরে গ্রেফতার কংগ্রেস নেতা (Youth Congress) 

    সূত্রের খবর, প্রায় ২০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর যুব কংগ্রেস প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছিলেন না। তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি ষড়যন্ত্র, কর্তব্যরত সরকারি কর্মীকে স্বেচ্ছায় আঘাত করা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতার অভিযোগ আনা হয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ শশীকান্ত সেন্টিলের দাবি, ভোর সাড়ে ৪টা নাগাদ দিল্লি পুলিশ উদয় ভানুকে তুলে নিয়ে যায় এবং প্রায় ২০ ঘণ্টা হেফাজতে রাখে। সূত্রের খবর, উদয় ওই পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন, এমন প্রমাণ মিলেছে। দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। তাই তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা দরকার বলে পুলিশ সূত্রের খবর। তাছাড়া পুলিশ একে সাধারণ বিক্ষোভ হিসেবে দেখছে না, বরং এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে ((AI Summit)) বিশ্বনেতাদের (Youth Congress) সামনে ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা হয়েছে কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চে হস্তান্তর

    এই মামলাটি দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চে হস্তান্তর করা হয়েছে। ক্রাইম ব্রাঞ্চের ইন্টার-স্টেট সেল (ISC) পরবর্তী তদন্ত করবে। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হওয়া সাতজনেরই যুব কংগ্রেসের সঙ্গে যোগ রয়েছে। উদয় ভানুকে তাঁদের (AI Summit) সবার মুখোমুখি করা হবে বলে সূত্রের খবর। সূত্রের বক্তব্য, অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে মুখোমুখি জেরা না করা পর্যন্ত পরিকল্পনা কোথায়, কখন এবং কীভাবে হয়েছে, তা স্পষ্ট হবে না। দিল্লি পুলিশ সকাল ১০টায় পাটিয়ালা হাউস কোর্টে উদয় ভানুকে হাজির করে এবং তাঁকে মূলচক্রী আখ্যা দিয়ে সাত দিনের পুলিশি হেফাজত চায়। পুলিশ আদালতে জানায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লোকজন এতে জড়িত এবং তদন্তের জন্য অভিযুক্তকে একাধিক জায়গায় নিয়ে যেতে হবে (Youth Congress)।

    এআই সামিট

    পুলিশ আরও জানায়, এআই সামিটে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়েছিল (AI Summit)। অন্যদিকে, উদয় ভানুর আইনজীবীর দাবি, তিনি ইন্ডিয়ান যুব কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি হলেও বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং বিক্ষোভ সংক্রান্ত কোনও নির্দেশও দেননি। আইনজীবী আদালতে বলেন, “তিনি কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, কোনও নির্দেশও দেননি।” তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে বিক্ষোভ হওয়া অস্বাভাবিক নয়। ওই আইনজীবী বলেন, “ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে, এটা বিশ্ববাসীও স্বীকার করে (Youth Congress)।” এর আগে দিল্লি পুলিশ বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে জানায়, নেপালের ‘জেন জি’ আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে—যে আন্দোলন সম্প্রতি সেখানকার সরকার পতনে ভূমিকা রেখেছে (AI Summit)।

    বড় ষড়যন্ত্র

    পুলিশ আদালতে জানায়, “এটি একটি বড় ষড়যন্ত্র। অভিযুক্তদের একে অপরের মুখোমুখি এবং ডিজিটাল প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে জেরা করা জরুরি। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত।” দিল্লি পুলিশের বিশেষ নজরে আসে সামিটে পরা টি-শার্টগুলির মুদ্রণ খরচ কে বহন করেছে। টি-শার্টে লেখা ছিল—“পিএম ইজ কম্প্রোমাইজড”, “ইন্ডিয়া ইউএস ট্রেড ডিল”, এবং “এপস্টেইন ফাইলস”। যুব কংগ্রেস প্রধানের গ্রেফতারের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং রাহুল গান্ধীকে ‘মানসিকভাবে অস্থির’ বলে কটাক্ষ করেন। বলেন, “লোকসভায় বিরোধী দলনেতা হয়তো এবার অন্তর্বাস পরেই সংসদে আসবেন (Youth Congress)।” গ্রেফতারি নিয়ে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেন, “শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করায় যদি সমস্যা হয়, তা লজ্জাজনক (AI Summit)।”

    এর আগে শার্টবিহীন বিক্ষোভ ঘিরে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “কংগ্রেস ইতিমধ্যেই নগ্ন’। রাহুল গান্ধী একে অহিংস, গণতান্ত্রিক কর্মসূচি এবং ‘গণতন্ত্রের ভিত্তি’ বলে বর্ণনা করেন।” মিরাটে এক জনসভায় মোদি বলেন, “ভারতের একটি বৈশ্বিক অনুষ্ঠানকে কংগ্রেস তাদের নোংরা ও নগ্ন রাজনীতির মঞ্চে পরিণত করেছে। বিদেশি অতিথিদের সামনে তারা নগ্ন হয়ে হাজির হয়েছিল। দেশ জানে (AI Summit) আপনারা নগ্ন, তাহলে পোশাক খোলার প্রয়োজন কী ছিল (Youth Congress)?”

     

  • Prahaar: ভারতের প্রথম সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী নীতি ‘প্রহার’ প্রকাশ কেন্দ্রের, নাশকতায় ‘জিরো টলারেন্সে’ জোর

    Prahaar: ভারতের প্রথম সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী নীতি ‘প্রহার’ প্রকাশ কেন্দ্রের, নাশকতায় ‘জিরো টলারেন্সে’ জোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী নীতি ‘প্রহার’ (PRAHAAR) প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA)। এই নীতির মূল লক্ষ্য— সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় “জিরো টলারেন্স” (Zero Tolerance) অবস্থান বজায় রেখে ডিজিটাল যুগে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক প্রতিরোধ, সমন্বিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা। নীতিটি এমন সময়ে প্রকাশ পেল, যখন একদিন আগেই ভারতীয় সেনা, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফের যৌথ অভিযানে কিশতওয়ার জেলায় তিন জঙ্গি খতম হয়। নিহতদের মধ্যে একজন কুখ্যাত লস্কর কমান্ডার সইফুল্লা বলে শনাক্ত হয়েছে।

    প্রহার (PRAHAAR) কী?

    ‘প্রহার’ (হিন্দিতে যার অর্থ আঘাত) নামে এই নীতিতে একটি বহুস্তরীয় কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে, যার লক্ষ্য সন্ত্রাসবাদী, তাদের অর্থ জোগানদাতা ও সমর্থকদের অর্থ, অস্ত্র এবং নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করা। মন্ত্রক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী কৌশল কয়েকটি মূল আদর্শের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিরোধ, দ্রুত প্রতিক্রিয়া, অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার সমন্বয় ইত্যাদি।

    সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে ‘প্রহার’ (PRAHAAR)-এর পূর্ণ অর্থ হল:

    • P – প্রিভেনশন (Prevention) বা প্রতিরোধ: ভারতীয় নাগরিক ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আগাম সন্ত্রাসী হামলা ঠেকানো
    • R – রেসপন্স (Response) বা প্রতিক্রিয়া: হুমকির মাত্রা অনুযায়ী দ্রুত ও উপযুক্ত জবাব
    • A – অ্যাগ্রিগেশন (Aggregation) বা সমন্বয়: সমগ্র সরকারের সমন্বিত অংশগ্রহণে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা একত্রিত করা
    • H – হিউম্যান রাইটস (Human Rights) বা মানবাধিকার ও আইনের শাসন: আইনসম্মত ও মানবাধিকারভিত্তিক প্রক্রিয়ায় সন্ত্রাস মোকাবিলা
    • A – অ্যাটেনুয়েশন (Attenuation) বা কারণ দুর্বল করা: উগ্রপন্থা ও মৌলবাদের উৎসগুলো কমিয়ে আনা
    • A – অ্যালাইনমেন্ট (Alignment) বা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য ও নেতৃত্ব
    • R – রিকভারি (Recovery) বা পুনরুদ্ধার: সমাজভিত্তিক অংশগ্রহণে স্থিতিস্থাপকতা ও পুনর্গঠন

    এই কাঠামো স্পষ্ট করে যে, নীতিটি শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান নয়, বরং প্রশাসনিক, সামাজিক ও কূটনৈতিক স্তরেও সমন্বিত উদ্যোগের কথা বলছে।

    সীমান্ত পারের “স্পনসরড টেররিজম”-এর উল্লেখ

    নীতিনথিতে বলা হয়েছে, ভারতের আশপাশের অঞ্চলে “ছিটেফোঁটা অস্থিরতার ইতিহাস” রয়েছে এবং কয়েকটি দেশ কখনও কখনও “রাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার হিসেবে সন্ত্রাসবাদ ব্যবহার করেছে।” এতে সীমান্তপারের “স্পনসরড টেররিজম”-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে জিহাদি সংগঠন ও তাদের সহযোগী নেটওয়ার্ক ভারতের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। “ভারত সবসময় সন্ত্রাসবাদের শিকারদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে বিশ্বের কোথাও হিংসার কোনও যুক্তি থাকতে পারে না,” নথিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পুনরুল্লেখ করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে মন্ত্রক জোর দিয়ে জানিয়েছে, “ভারত সন্ত্রাসবাদকে কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম, জাতিসত্তা, জাতীয়তা বা সভ্যতার সঙ্গে যুক্ত করে না।” এটি নীতিগতভাবে ভারতের অবস্থানকে ধর্মনিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলে।

    প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ: ডার্ক ওয়েব ও ক্রিপ্টো অর্থনীতি

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নীতিনথিতে উল্লেখ করেছে যে, আধুনিক সন্ত্রাসবাদ এখন কেবল অস্ত্রনির্ভর নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। আল কায়েদা (Al-Qaeda) ও ইসলামিক স্টেট (ISIS)-এর মতো সংগঠন বিদেশ থেকে পরিচালিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভারতের ভেতরে হামলার ষড়যন্ত্র করছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    নথিতে বলা হয়েছে—

    • ● ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীরে অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার
    • ● সামাজিক মাধ্যম ও ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে প্রচার ও নিয়োগ
    • ● এনক্রিপশন, ডার্ক ওয়েব ও ক্রিপ্টো ওয়ালেটের মাধ্যমে গোপন আর্থিক লেনদেন
    • ● এই প্রবণতা মোকাবিলায় সাইবার নজরদারি ও আর্থিক গোয়েন্দা ব্যবস্থার গুরুত্ব বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

    কেন ‘প্রহার’ গুরুত্বপূর্ণ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘প্রহার’ নীতির গুরুত্ব তিনটি ক্ষেত্রে—

    • ● সমন্বিত পদ্ধতি: শুধুমাত্র সামরিক বা পুলিশি ব্যবস্থা নয়, গোটা সরকার ও সমাজভিত্তিক অংশগ্রহণের উপর জোর
    • ● ডিজিটাল হুমকি মোকাবিলা: এনক্রিপশন, ক্রিপ্টো ও সোশ্যাল মিডিয়াকে কেন্দ্র করে নতুন নিরাপত্তা কৌশল
    • ● আন্তর্জাতিক বার্তা: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট ও কূটনৈতিকভাবে জোরালো করা

    একটি দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ

    ‘প্রহার’ নীতি ভারতের সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গিকে একটি কাঠামোবদ্ধ রূপ দিয়েছে। সীমান্তপারের হুমকি, প্রযুক্তিনির্ভর জঙ্গি কার্যকলাপ এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক—এই তিনটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। নীতিটির বাস্তব প্রয়োগ ও বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়, সেটাই আগামী দিনে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কৌশলের সফলতা নির্ধারণ করবে।

  • Meerut Namo Bharat Train: দিল্লি-মিরাটের মেট্রো পরিষেবা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

    Meerut Namo Bharat Train: দিল্লি-মিরাটের মেট্রো পরিষেবা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার দিল্লি-মিরাটের মেট্রো পরিষেবা (Meerut Namo Bharat Train) চালু করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ দিল্লি-মিরাট দ্রুত রেল করিডোর জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করলেন। ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে চলাচলের হিসেবে মিরাট মেট্রো ভারতের দ্রুততম রেল ব্যবস্থা হয়ে উঠেছে। এই রেল পরিষেবার ফলে দিল্লি এবং মিরাটের মধ্যে ভ্রমণ মাত্র ৫৫ মিনিটেই সম্পন্ন হবে বলে জানা গিয়েছে।

    সর্বোচ্চ গতি ১৩৫ কিমি/ঘন্টা (Meerut Namo Bharat Train)

    প্রধানমন্ত্রী শতাব্দী নগর স্টেশন থেকে মীরাট মেট্রো এবং নমো ভারত ট্রেন (Meerut Namo Bharat Train) উভয়েরই সূচনা করেন। দিল্লি-গাজিয়াবাদ-মীরাট নমো ভারত করিডোরটি ৮২.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি ভারতের প্রথম আঞ্চলিক দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা বা আরআরটিএস, যা দিল্লির সরাই কালে খানকে উত্তর প্রদেশের মোদিপুরমের সাথে সংযুক্ত করে করেছে।

    ২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ মিরাট মেট্রো শহরের মধ্যেই চলবে এবং মিরাট সেকশনে নমো ভারত র‍্যাপিড রেলের সাথে ট্র্যাককে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে যাত্রীরা স্টেশন থেকে বাইরে বের হয়েই দুটি পরিষেবাকে একসঙ্গে নিতে পারবে। মোট করিডোরের দৈর্ঘ্য ২৩ কিলোমিটার, করিডোরে ১৬ কিলোমিটার উঁচু ট্র্যাক এবং ৭ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ ট্র্যাক রয়েছে।

    মিরাট মেট্রো করিডোরের মোট ১৩টি স্টেশন

    ২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেট্রো (Meerut Namo Bharat Train) করিডোরে মোট ১৩টি স্টেশন রয়েছে। নয়টি স্টেশন এলিভেটেড। এগুলি হল মিরাট দক্ষিণ, পারতাপুর, রিথানি, শতাব্দী নগর, ব্রহ্মপুরী, এমইএস কলোনি, দৌরলি, মিরাট উত্তর এবং মোদিপুরম। তিনটি স্টেশন, মিরাট সেন্ট্রাল, ভৈশালি এবং বেগমপুল, ভূগর্ভস্থ। মোদিপুরম ডিপো একটি উচ্চমানের স্টেশন। চারটি স্টেশন, মিরাট দক্ষিণ, শতাব্দী নগর, বেগমপুল এবং মোদিপুরম, নমো ভারত এবং মিরাট মেট্রো ট্রেন উভয় পরিষেবাই দেবে।

    মিরাট মেট্রো সময়সূচী

    ব্যস্ত সময়ে, ট্রেনগুলি (Meerut Namo Bharat Train) প্রতি ৫ থেকে ১০ মিনিট অন্তর চলবে। অন্য সময়ে, ট্রেনের ফ্রিকোয়েন্সি হবে ১০ থেকে ১৫ মিনিট। পরিষেবাগুলি সপ্তাহের প্রথম পাঁচ দিন এবং শনিবার সকাল ৬:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টা পর্যন্ত এবং রবিবার সকাল ৮:০০ টা থেকে রাত ১০:০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। যাত্রীরা একটি টিকিটেই নমো ভারত এবং মীরাট মেট্রো, উভয় ট্রেনেই ভ্রমণ করতে পারবেন। ভাড়ার বিস্তারিত ঘোষণা এখনও করা হয়নি।

    মিরাট মেট্রো: বৈশিষ্ট্য এবং যাত্রী সুবিধা

    মিরাট মেট্রো ট্রেনগুলি তিন কোচ বিশিষ্ট। প্রতিটি ট্রেন ৭০০ জনেরও বেশি যাত্রী বহন করতে পারে, যার মধ্যে ১৭৩ জনের আসন সংখ্যা রয়েছে। মূল বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে:

    • শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ
    • কুশনযুক্ত আসন
    • লাগেজ র‍্যাক এবং গ্র্যাব হ্যান্ডেল
    • সিসিটিভি ক্যামেরা
    • ইউএসবি মোবাইল চার্জিং পয়েন্ট
    • গতিশীল রুট মানচিত্র
    • জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অ্যালার্ম
    • অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র এবং টক-ব্যাক সিস্টেম

    সমস্ত স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন দরজা স্থাপন করা হবে এবং ট্রেন পরিচালনার সাথে সিঙ্ক্রোনাইজ করা হবে। পুশ বোতামের মাধ্যমে নির্বাচিত দরজা খোলার ফলে শক্তির ব্যবহার কমাতে সাহায্য করবে। প্রতিটি কোচে মহিলা এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত আসন থাকবে। স্টেশন এবং ট্রেনগুলি সর্বজনীন প্রবেশাধিকারের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, হুইলচেয়ার এবং মেডিকেল স্ট্রেচারের জন্য জায়গা রয়েছে, পাশাপাশি প্রশস্ত লিফটও রয়েছে। ট্রেনগুলির বাইরের রঙের স্কিম সবুজ, নীল এবং কমলা।

    মিরাট মেট্রো: ভ্রমণের সময়

    সম্পূর্ণরূপে চালু হয়ে গেলে, দিল্লি-মিরাট যাত্রায় প্রায় ৫৫ মিনিট সময় লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সমন্বিত ব্যবস্থার লক্ষ্য হল মিরাট, গাজিয়াবাদ, নয়ডা, দিল্লি এবং গুরুগ্রামের মধ্যে যোগাযোগ উন্নত করা এবং রাস্তার যানজট কমানো। প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi) আজ দেশবাসীকে উৎসর্গ করলেন এই পরিষেবা।

    কত দিনে বাস্তবায়ন

    ২০১৬ সালে রাইটস (RITES) কর্তৃক বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদি ৮ মার্চ, ২০১৯ তারিখে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। প্রথম ট্রায়াল রানটি ১২ জানুয়ারী, ২০২৫ তারিখে মিরাট সাউথ এবং মিরাট সেন্ট্রালের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

    রবিবার প্রধানমন্ত্রী ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ দিল্লি-মীরাট নমো ভারত করিডোরটি জনগণকে (Meerut Namo Bharat Train) উৎসর্গ করেছেন। এর মধ্যে ভারতের প্রথম আঞ্চলিক দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থার (RRTS) অবশিষ্ট অংশগুলিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এগুলি হল-

    • দিল্লির সরাই কালে খান এবং নিউ অশোক নগরের মধ্যে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশ
    • উত্তর প্রদেশের মিরাট সাউথ এবং মোদিপুরমের মধ্যে ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশ
  • Middle East Tensions: যুদ্ধ আসন্ন? যে কোনও পরিবহণে ইরান ছাড়ুন, ভারতীয় নাগরিকদের নির্দেশ ভারতীয় দূতাবাসের

    Middle East Tensions: যুদ্ধ আসন্ন? যে কোনও পরিবহণে ইরান ছাড়ুন, ভারতীয় নাগরিকদের নির্দেশ ভারতীয় দূতাবাসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানে থাকা ভারতীয় (India) নাগরিকদের ইরান ছাড়তে বলেছে তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস (Middle East Tensions)। ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা হতে পারে — এমন উদ্বেগ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্রতর হচ্ছে। এই নতুন পরামর্শ এমন একটা পরিস্থিতিতে এসে পড়েছে যখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

    ভারতীয় দূতাবাসের নির্দেশ (Middle East Tensions)

    পরামর্শে বলা হচ্ছে, “ভারত সরকারের ৫ জানুয়ারি ২০২৬-এর দেওয়া পরামর্শের ধারাবাহিকতায় এবং ইরানের পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনায়, যারা বর্তমানে ইরানে আছেন — শিক্ষার্থী (student), তীর্থযাত্রী (pilgrim), ব্যবসায়ী (businessperson) এবং পর্যটক (tourist) — তাঁদের যে কোনও পরিবহণ (means of transport) ব্যবহার করে ইরান ছাড়তে বলা হয়েছে, যার মধ্যে কমার্সিয়াল ফ্লাইটও রয়েছে।” দূতাবাস আগের জানুয়ারি নির্দেশনাটিকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে এবং সব ভারতীয় নাগরিক ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। তাঁরা যেন বিক্ষোভে অংশ না নেন কিংবা যেখানে বিক্ষোভ হচ্ছে সেই অঞ্চলের কাছাকাছি না যাওয়ার, দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম থেকে আপডেট মনিটর করার অনুরোধও করা হয়েছে।

    মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ক্রমশ বাড়ছে

    ভারতীয় নাগরিকদের এও বলা হয়েছে, তাঁরা যেন সব সময় তাঁদের ভ্রমণ ও ইমিগ্রেশন নথি, যেমন পাসপোর্ট এবং পরিচয়পত্র হাতের নাগালে রাখে, এবং প্রয়োজনে সহায়তার জন্য দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন (Middle East Tensions)। এটা এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইরান–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ক্রমশ বাড়ছে। পারমাণবিক আলোচনা চলতে থাকলেও, পরিস্থিতির উন্নতি নিশ্চিত নয়। আলোচনা পরবর্তী রাউন্ড জেনেভায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এসব পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তেহরান এবং অন্যান্য শহরে ঠাঁই নিয়েছে, কখনও কখনও সরকারপন্থী সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিও হয়েছে। জানুয়ারির শুরুর দিকে আগের বিক্ষোভগুলি শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি (Ayatollah Ali Khamenei) প্রশাসনের অধীনে কঠোরভাবে দমন করা হয়েছিল, যেটিতে (India) অনেক প্রতিবাদকারী নিহত ও আটক হন (Middle East Tensions)।

     

  • Election Commission of India: ২৭ বছর পর রাজ্য শাখাগুলির সঙ্গে রাউন্ড টেবিল বৈঠক ডেকেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন

    Election Commission of India: ২৭ বছর পর রাজ্য শাখাগুলির সঙ্গে রাউন্ড টেবিল বৈঠক ডেকেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ২৭ বছর পর ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনার (এসইসি)-দের নিয়ে একটি জাতীয় গোলটেবিল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই গোলটেবিল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ভারত মণ্ডপমে। শেষ বার এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মূল লক্ষ্য কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনগুলির মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।

    কারা থাকবেন বৈঠকে

    সূত্রের খবর, ১৯৯৯ সালের পর এই প্রথম এমন বৈঠক আয়োজন করা হচ্ছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। উপস্থিত থাকবেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী। সকল রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের রাজ্য নির্বাচন কমিশনাররা তাঁদের আইনি ও প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এই বৈঠকে অংশ নেবেন। ৩৬টি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিও সম্মেলনে যোগ দেবে। দিনভর এই বৈঠকে কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকরা বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করবেন। সম্প্রতি চালু হওয়া ইসিআইনেট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কার্যকারিতা এবং নির্বাচনী পরিষেবা সহজতর করতে তার সম্ভাবনাও তুলে ধরা হবে।

    বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য

    বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য হল, নিজ নিজ সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে ইসিআই ও এসইসি-গুলির মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করা। আলোচনায় প্রযুক্তি ভাগাভাগি, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM) ব্যবহার এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এছাড়া ইভিএম-এর স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বিশেষ উপস্থাপনা থাকবে। ১৯৫০ সালের জনগণের প্রতিনিধিত্ব আইন (Representation of the People Act, 1950) অনুযায়ী ভোটার যোগ্যতার বিষয়ে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের তুলনামূলক চিত্রও তুলে ধরা হবে, যাতে ভোটার তালিকা প্রস্তুতির আইনি কাঠামো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা সম্ভব হয়। উল্লেখ্য, ৭৩তম ও ৭৪তম সংবিধান সংশোধনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট রাজ্য আইন অনুযায়ী রাজ্য নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। সংবিধানের ২৪৩কে এবং ২৪৩জেডএ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পঞ্চায়েত ও পুরসভা নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রস্তুতি এবং নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব রাজ্য নির্বাচন কমিশনগুলির উপর ন্যস্ত।

  • ABVP: অগ্নিনির্বাপক পাউডার দিয়ে চোখ অন্ধ করার অপচেষ্টা! আক্রন্ত এবিভিপি, জেএনইউতে বামপন্থীদের তাণ্ডব

    ABVP: অগ্নিনির্বাপক পাউডার দিয়ে চোখ অন্ধ করার অপচেষ্টা! আক্রন্ত এবিভিপি, জেএনইউতে বামপন্থীদের তাণ্ডব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২২ ফেব্রুয়ারি, জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU) ক্যাম্পাসে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) বেশ কয়েকজন ছাত্রের উপর নৃশংসভাবে হামলা চালানো হয়েছে। আক্রান্তদের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। মূল অভিযোগ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে। সমতা মিছিলের পর আকস্মিক আক্রমণ বলে জানা গিয়েছে।

    পাথর নিয়ে মুখঢেকে ছাত্রাবাসে হামলা

    এবিভিপি (ABVP) সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্যাম্পাসের ভেতরে বামপন্থী গোষ্ঠীগুলির দ্বারা এই আক্রমণ পূর্বপরিকল্পিত ছিল। লাঠি, লোহার রড এবং পাথর নিয়ে মুখঢেকে ছাত্রাবাসে হামলা চালায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিতদের ব্যাপক মারধর করা হয়। ফলে বেশ কয়েকজন ছাত্র গুরুতর আহত হয়। এবিভিপির ছাত্র নেতারা বলেছেন, “যা ঘটেছে তা স্বতঃস্ফূর্ত সংঘর্ষ নয় বরং রাতের সুযোগ নিয়ে বাম-সমর্থিত গোষ্ঠীর দ্বারা পরিচালিত একটি সমন্বিত আক্রমণ।”

    স্টাডি রুমের ভেতরে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা (ABVP)

    এক বিবৃতিতে, এবিভিপি-এর (ABVP) জেএনইউ ছাত্র সংসদের যুগ্ম সম্পাদক বৈভব মীনা বলেছেন, “গত ৭-৮ দিন ধরে বামপন্থী দলগুলি ক্যাম্পাসে আক্রমণাত্মক ধর্মঘট চালিয়ে আসছে। রবিবার রাতে, প্রায় ৩০০-৪০০ মুখোশধারীর একটি দল বিভিন্ন বিভাগের স্কুলে প্রবেশ করে। এরপর জোরপূর্বক অধ্যয়ন কক্ষগুলি দখল করে নেয়। তাদের বাধা দিতেই প্রতীকের ওপর হামলা করা হয়। তাঁকে এখন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অবস্থা গুরুতর। লাইব্রেরি এবং রিডিং হলগুলিতে যারা পড়াশুনা করছিলেন তাঁদের জোর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বিজয় নামে এক ছাত্রকে ১০০-১৫০ জনের একটি দল ঘিরে ফেলে এবং নির্মমভাবে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা হয়। নিরাপত্তা কর্মী এবং পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কোনও রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

    অগ্নিনির্বাপক পাউডার দিয়ে অন্ধ করার চেষ্টা

    বিশ্ববিদ্যালয়ের (JNU) সমাজ বিজ্ঞান স্কুলের ভেতরে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাগুলির মধ্যে একটি হল এই আক্রমণ। বায়োটেকনোলজির ছাত্র প্রতীক ভরদ্বাজকে বামপন্থী কর্মীরা অতর্কিত আক্রমণ করেছে। এবিভিপি (ABVP) অভিযোগ করেছে, নির্মমভাবে মারধর করার আগে সাময়িকভাবে অন্ধ করে দেওয়ার জন্য প্রতীকের চোখে অগ্নিনির্বাপক পাউডার ঢেলে দেওয়া হয়েছিল।

    এবিভিপির জেএনইউ মিডিয়া কনভেনর বিজয় জয়সওয়াল এই ঘটনাটিকে “পূর্বপরিকল্পিত” বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা বিশেষভাবে এবিভিপি কর্মী এবং শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”

    ভিসির মন্তব্যকে ঢাল করে উত্তেজনা

    ইউজিসি ইক্যুইটি নিয়মকানুন নিয়ে উপাচার্য শান্তিশ্রী ধুলিপুদি পণ্ডিতের (JNU) কথিত মন্তব্যকে হাতিয়ার করে বামা এনএসইউআই। উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে জেএনইউ ছাত্র ইউনিয়নের তরফে “সমতা মিছিল” বের করা হয়। আর তারপর উপস্থিত শক্তি দিয়ে হিংসার ঘটনাকে নেতৃত্ব দেয়। তবে এই বিক্ষোভ মিছিলে প্রচুর বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে নিয়ে এসে আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    সন্ত্রাসের রাত

    এই ঘটনার পর, এবিভিপির (ABVP) তরফে প্রশাসনের কাছে সোশ্যাল মিডিয়ায় কঠোর ব্যবস্থা এবং অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে। গোটা ঘটনাকে সন্ত্রাসের রাত বলে অভিহিত করা হয়েছে। দেশের জাতীয় রাজধানীর একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে এত বড় আকারের হিংসার ঘটনা ঘটবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। এরপর থেকে ক্যাম্পাস জুড়ে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

  • Posters Threaten Terror Attacks: ভূস্বর্গে ফের হুমকি-পোস্টার, নিরাপত্তার দাবি তুললেন উদ্বিগ্ন কাশ্মীরি পণ্ডিতরা

    Posters Threaten Terror Attacks: ভূস্বর্গে ফের হুমকি-পোস্টার, নিরাপত্তার দাবি তুললেন উদ্বিগ্ন কাশ্মীরি পণ্ডিতরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভূস্বর্গে ফের সন্ত্রাসের আতঙ্ক (Posters Threaten Terror Attacks)! কাশ্মীরে জঙ্গিদের দেওয়া হুমকি-পোস্টার প্রকাশ্যে আসার পর পাক-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনগুলির হুমকি নিয়ে কাশ্মীরি পণ্ডিতরা (Kashmiri Pandits) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কাশ্মীরি পণ্ডিত সংঘর্ষ সমিতি (KPSS) পণ্ডিত সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এবং কাশ্মীর উপত্যকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলিকে আহ্বান জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা পোস্টারগুলির সত্যতা যাচাই করছে এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।

    কেপিএসএসের বিবৃতি (Posters Threaten Terror Attacks)

    এক বিবৃতিতে কেপিএসএস বলেছে, সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে এই হুমকি কাশ্মীরে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। এই ধরনের গোষ্ঠীগুলি ভয় ও অস্থিরতার ওপর নির্ভর করে টিকে থাকে এবং বারবার শান্তিপ্রিয় ও আদি কাশ্মীরি পণ্ডিত সংখ্যালঘুদের প্রতীকী টার্গেট করে নিজেদের হিংসাত্মক প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করে (Posters Threaten Terror Attacks)।

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের টার্গেট

    ১৯৯০ সালে গণ-নির্বাসনের সময় উপত্যকা ছেড়ে না যাওয়া কাশ্মীরি পণ্ডিতদের প্রতিনিধিত্ব করে কেপিএসএস। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)-এর তথাকথিত ‘ফ্যালকন গ্রুপ’-এর নামে সম্প্রতি উপত্যকায় জঙ্গিদের পোস্টার দেখা গিয়েছে, যেখানে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের টার্গেট করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে (Kashmiri Pandits)।

    ২০২১ ও ২০২২ সালে জঙ্গিরা উপত্যকায় কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ওপর একাধিক টার্গেটেড হত্যাকাণ্ড চালায়। পাল্টা অভিযানে পুলিশ ওই হামলায় জড়িত প্রায় সব অভিযুক্তকে হত্যা করে। এরপর এই প্রথম উপত্যকায় এই ধরনের জঙ্গি হুমকি সামনে এল (Posters Threaten Terror Attacks)।

     

  • PM Modi Israel Visit: বুধে নেতানিয়াহুর দেশে যাচ্ছেন মোদি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় হতে চলেছে ভারত-ইজরায়েল নতুন অধ্যায়ের সূচনা?

    PM Modi Israel Visit: বুধে নেতানিয়াহুর দেশে যাচ্ছেন মোদি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় হতে চলেছে ভারত-ইজরায়েল নতুন অধ্যায়ের সূচনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বন্ধু’ বেঞ্জামিন নেতানয়াহুর আমন্ত্রণে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি দুদিনের ইজরায়েল সফরে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর এই দুই দিনের ইজরায়েল সফরে প্রতিরক্ষা সহ একাধিক বিষয়ে ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

    কী লিখলেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী?

    রবিবার, নিজের এক্স হ্যান্ডলে মোদির আসন্ন ইজরায়েল সফরের কথা জানিয়ে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু লেখেন, “আমার প্রিয় বন্ধু মোদির বুধবারের ইজরায়েল সফর নিয়ে আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে কথা হয়েছে। আমরা উদ্ভাবন, নিরাপত্তা এবং একটি যৌথ কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে অংশীদার। একসঙ্গে আমরা স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দেশগুলোর একটি শক্তিশালী অক্ষ গড়ে তুলছি।” নেতানিয়াহুর পোস্টের জবাবে নিজের এক্স হ্যান্ডলে মোদি লেখেন, “ধন্যবাদ, আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে থাকা বন্ধন এবং আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বহুমাত্রিক চরিত্র নিয়ে আপনার বক্তব্যের সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত। বিশ্বাস, উদ্ভাবন এবং শান্তি ও অগ্রগতির প্রতি যৌথ অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে আমরা অত্যন্ত মূল্য দিই। আমার আসন্ন ইজরায়েল সফরের সময় আপনার সঙ্গে আলোচনার জন্য আমি আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছি।”

    প্রতিরক্ষায় কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে মোদি-নেতানিয়াহু আলোচনা

    প্রতিরক্ষায় কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর ও দৃঢ় করতে বেশ কিছুদিন ধরেই প্রস্তুতি চালাচ্ছে দুতরফেই। আলোচনার কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত অস্ত্র প্রযুক্তি এবং উচ্চপ্রযুক্তিভিত্তিক সহযোগিতা। তবে, নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা থাকলেও, মোদির এই সফরে কোনও বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হবে না। অন্তত এমনটাই জানা যাচ্ছে সরকারি সূত্রের মাধ্যমে। বরং তাঁদের মতে, এই সফরকে আগামী কয়েক বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার রোডম্যাপের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    কৌশলগত প্রেক্ষাপট: কেন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ

    এখনও পর্যন্ত জানা যাচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-র আলোচনায় প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা অগ্রাধিকার পাবে। আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হল ভারতের ‘মিশন সুদর্শন’ উদ্যোগের আওতায় যৌথভাবে অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন, যার লক্ষ্য দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি থেকে ভারতের ভূখণ্ডকে সুরক্ষা দেওয়া। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ইজরায়েলকে ‘বিশ্বনেতা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    ইজরায়েলের বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা কাঠামোর মধ্যে রয়েছে—

    • ● দূরপাল্লার আকাশ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা— অ্যারো (Arrow)
    • ● মাঝারি পাল্লার আকাশ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা— ডেভিড’স স্লিং (David’s Sling)
    • ● স্বল্প পাল্লার আকাশ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা— আয়রন ডোম (Iron Dome)

    এই ব্যবস্থাগুলি বাস্তব যুদ্ধপরিস্থিতিতে বহুবার পরীক্ষিত এবং বিশ্বের অন্যতম উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি হিসেবে স্বীকৃত। ভারতের ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা আঞ্চলিক ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলায় এবং নিজস্ব বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বলয় শক্তিশালী করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধপ্রযুক্তিতে সহযোগিতা

    ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার বাইরে ভারত যেসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে চায়, সেগুলি হল—

    • ● উচ্চ-শক্তির লেজারভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
    • ● দূরপাল্লার স্ট্যান্ড-অফ প্রিসিশন মিসাইল
    • ● সশস্ত্র ড্রোন ও লয়টারিং মিউনিশন

    কেনা ও যৌথ উন্নয়ন: বহু-মাত্রিক কৌশল

    গত বছরের নভেম্বরে প্রতিরক্ষা সচিব আরকে সিংহের ইজরায়েল সফরের সময় উন্নত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত মউ স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই সম্প্রসারিত অংশীদারিত্বের ভিত্তি তৈরি হয়। আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথ থেকে নিক্ষেপযোগ্য দূরপাল্লার নির্ভুল আঘাত হানার অস্ত্র ব্যবস্থা কেনা ও যৌথ উন্নয়ন বিবেচনা করছে ভারত।

    আলোচনাধীন ব্যবস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে—

    • ● ‘স্পাইস-১০০০’ (Spice-1000) প্রিসিশন গাইডেড বোমা
    • ● ‘র‌্যামপেজ’ (Rampage) এয়ার-টু-সারফেস মিসাইল
    • ● ‘লোরা’ (LORA) এয়ার-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল
    • ● ‘আইস-ব্রেকার’ (Ice-Breaker) দীর্ঘ-পাল্লার প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল
    • ● ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য সম্প্রসারিত পাল্লার ‘বারাক-৮’(Barak-8)

    এই অস্ত্রব্যবস্থাগুলি শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা বলয় অতিক্রম করে উচ্চ-মূল্যের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষমতা বাড়াবে এবং একই সঙ্গে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করবে।

    প্রতিরক্ষার বাইরে বিস্তৃত কৌশলগত আলোচনা

    প্রতিরক্ষার পাশাপাশি দুই দেশ আলোচনা করবে—

    • ● বিজ্ঞান ও উন্নত প্রযুক্তি
    • ● কৃষি উদ্ভাবন
    • ● বিশুদ্ধ পানীয় জল সমাধান
    • ● কোয়ান্টাম কম্পিউটিং

    এতে বোঝা যায়, ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক কেবল সামরিক সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ না থেকে অসামরিক উচ্চপ্রযুক্তি ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন অধ্যায়!

    এই সফরটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক ক্রমে ক্রেতা-বিক্রেতা প্রতিরক্ষা সম্পর্ক থেকে যৌথ উন্নয়ন ও প্রযুক্তি ভাগাভাগির অংশীদারিত্বে রূপ নিচ্ছে। বড় অস্ত্রচুক্তির ঘোষণা না করে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে জোর দেওয়াই এই সফরের মূল বৈশিষ্ট্য। ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে ইজরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা তার প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করবে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) ও আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা শিল্প গঠনের লক্ষ্যকে সমর্থন দেবে। অন্যদিকে, ইজরায়েলের জন্য ভারত এশিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে থেকে যাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, মোদি-নেতানিয়াহু বৈঠক ভারত-ইজরায়েল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সংহত করবে এবং প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে গভীরতর সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Kishtwar Encounter: ২০ বার সেনার চোখে ধুলো! চারপেয়ে সৈনিক টাইসন-এর ‘টিপসে’ই কিশতওয়ারে খতম কাশ্মীরের ত্রাস সইফুল্লা

    Kishtwar Encounter: ২০ বার সেনার চোখে ধুলো! চারপেয়ে সৈনিক টাইসন-এর ‘টিপসে’ই কিশতওয়ারে খতম কাশ্মীরের ত্রাস সইফুল্লা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুলিবিদ্ধ হয়েও হাল ছাড়েনি সে, রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় অভিযান (Army Dog Tyson) চালিয়ে গিয়ে কাশ্মীরে (Kashmir Operation) জঙ্গিদের লুকোনো আস্তানা চিহ্নিত করল ‘টাইসন’। তার সূত্র ধরে কিশতওয়ারে সেনার সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে খতম হল পাক জঙ্গি সইফুল্লা-সহ তিন জইশ কমান্ডার (Jaish terrorists killed Kishtwar)। ভারতীয় সেনার এই সাফল্যের পর এলাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

    জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াই

    জম্মু-কাশ্মীরের কিশতওয়ারে সেনার সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হয়েছে তিন জঙ্গি। তাদের মধ্যে জইশের কমান্ডার সইফুল্লা রয়েছে বলে সেনা সূত্রে খবর। অন্য জন এক জন সইফুল্লার সঙ্গী। তার পরিচয় জানার চেষ্টা চলেছে। তৃতীয় জনেরও পরিচয় জানা যায়নি। কাশ্মীরের ত্রাস ছিল সইফুল্লা। শনিবার তাদের ছত্রুর জঙ্গলে দেখা যায়। তার পরই রবিবার সকাল থেকে জঙ্গি দমন অভিযানে নামে সেনা। পাহাড়ি এই জঙ্গলে এর আগেও জঙ্গিদের সঙ্গে বেশ কয়েক বার সংঘর্ষ হয়েছে বাহিনীর। রবিবার সকাল থেকেই জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু হয়। সেনা সূত্রে জানানো হয়, জঙ্গিরা সংখ্যায় ২-৩ জন ছিলেন। আর কোনও জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে কি না, জঙ্গল ঘিরে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

    টাইসনের টেক্কা

    জঙ্গি দমনে আবারও নজির গড়ল ভারতীয় সেনার প্রশিক্ষিত কুকুর। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় সেনা (Indian Army)-র ২ প্যারা (স্পেশাল ফোর্সেস)-এর প্রশিক্ষিত জার্মান শেফার্ড টাইসন এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তৈরি জঙ্গিদের লুকোনো ডেরায় ঢুকে পড়ে সে। ঠিক সেই সময়ই গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। গুলিতে আহত হয় টাইসন – তার পায়ে গুলি লাগে। কিন্তু সেখানেই থামেনি সে। আহত অবস্থাতেই এগিয়ে গিয়ে জঙ্গিদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয় সেনাকে। ফলে দ্রুত ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী, এবং শেষ পর্যন্ত খতম করা হয় তিন জঙ্গিকে। আহত টাইসনকে এয়ারলিফট করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আপাতত তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

    সেনার ‘চারপেয়ে সৈনিক’-এর গুরুত্ব

    এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, জঙ্গি দমন অভিযানে প্রশিক্ষিত কুকুরদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কঠিন ভূখণ্ডে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের খুঁজে বের করতে এদের দক্ষতা অপরিসীম। উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৪ সালের অক্টোবরে এক অনুরূপ অভিযানে প্রাণ দিয়েছিল ‘ফ্যান্টম’ নামে এক বেলজিয়ান ম্যালিনয়। জঙ্গিদের সঙ্গে এনকাউন্টারে নিজের হ্যান্ডলার ও সহযোদ্ধাদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দেয় সে, আর সেই অভিযানে শেষ পর্যন্ত খতম করা হয়েছিল জঙ্গিদের। টাইসনের বীরত্ব শুধু একটি সফল অভিযানের গল্প নয় – এটি সেনার সেই নীরব যোদ্ধাদের কথা মনে করিয়ে দেয়, যারা কথা বলতে পারে না, কিন্তু দায়িত্ব পালনে কখনও পিছিয়ে যায় না।

    কুখ্যাত জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি সইফুল্লা

    গত কয়েক বছরে জম্মু ও কাশ্মীরে অশান্তির অন্যতম কারণ সইফুল্লা। কমপক্ষে ২০ বার সেনা-পুলিশের চোখে ধুলো দিয়েছিল সে। এমনকী দাড়ি কামিয়ে গা-ঢাকা দেওয়ারও চেষ্টা করে। অবশেষে রবিবার কিশতওয়ারে সেনা, পুলিশ ও সিআরপিএফের যৌথ অপারেশনে নিকেশ হল ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জইশ-এ-মহম্মদ জঙ্গি সইফুল্লা। সেনা সূত্রে খবর, সইফুল্লা পাকিস্তানি নাগরিক। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জইশের প্রশিক্ষণ শিবির থেকে উত্থান তার। এক সময় আইএসআইয়ের মদতে পাহাড়-জঙ্গলের পথে ভারতে ঢোকে সে। এর পর একাধিক ষড়যন্ত্র চালায়। গত মাস দুয়েক ধরে উপত্যকায় লুকিয়ে থাকা জইশ জঙ্গিদের খোঁজে লাগাতার তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনী। সে রকমই এক অভিযানে সম্প্রতি আদিল নামে এক জইশ জঙ্গি নিহত হয়। নিরাপত্তাবাহিনী সূত্রে খবর, আদিল সইফুল্লার ‘ডান হাত’ ছিল। তার মৃত্যুর পরেই উপত্যকা ছাড়ার পরিকল্পনা করছিল সইফুল্লা। এর জন্য দাড়ি কেটে ভোল বদলে ছিল সে। যদিও সেনার তৎপরতায় জঙ্গলে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য হয় জইশ জঙ্গি। এদিন সেখানেই গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয় সইফুল্লার।

    নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা

    পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী জইশ-এ-মহম্মদের বেশ কয়েক জন জঙ্গি কিশতওয়ারের জঙ্গলে গা-ঢাকা দিয়েছে, এই খবর পেয়ে রবিবার সকালে ছত্রু বেল্টের পাসারকুট এলাকায় অপরাশেন চালায় সেনা, পুলিশ ও সিআরপিএফের যৌথ বাহিনী। পাহাড়ের পাদদেশে একটি মাটির ঘরের ভেতর লুকিয়ে ছিল জঙ্গিরা। কাছাকাছি পৌঁছতেই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। পালটা গুলি চালায় যৌথ বাহিনী। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সইফুল্লা-সহ ৩ জঙ্গি নিহত হয়েছে গুলির লড়াইয়ে। অভিযান শেষে জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় দু’টি একে-৪৭ রাইফেল, বিপুল পরিমাণ গুলি এবং অন্যান্য সামগ্রী। দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ‘লুকোচুরি’ খেলছিল সইফুল্লা, কিন্তু টাইসনের তৎপরতায় শেষমেশ তার খোঁজ মেলে।

    কিশতওয়ারের জঙ্গলেই জঙ্গিদের আস্তানা

    প্রসঙ্গত, গত বছরের নভেম্বরে কিশতওয়ারে ‘অপারেশন ছত্রু’ শুরু করে। সেই অভিযানে বেশ কয়েক জন জঙ্গিকে খতম করে সেনা। কিশতওয়ারের এই জঙ্গলে মাঝেমধ্যেই জঙ্গিদের আশ্রয় নেওয়ার খবর আসে। তার পরই অভিযান চলে। রবিবারেও ছত্রুর সেই জঙ্গলে জঙ্গিদের উপস্থিতির খবর আসতেই অভিযানে নেমেছে সেনা। এ মাসের গোড়াতে উধমপুরে জইশের দুই জঙ্গিকে নিকেশ করে সেনা। তাদের মধ্যে এক জন জইশের কমান্ডার ছিল। তাদের কাছে থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং বেশ কিছু নথি উদ্ধার হয়। পাহাড়ি জঙ্গলে একটি গুহায় গোপন ডেরা বানিয়েছিল জঙ্গিরা। গত কয়েক বছর ধরে ওই এলাকাতে সক্রিয় ছিল জইশের এই কমান্ডার আবু মাভিয়া। গত জানুয়ারিতে কাঠুয়া এবং কিশতওয়ারের ছত্রু এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের গুলির লড়াইয়ের সাতটি ঘটনা ঘটেছে। সেই সংঘর্ষগুলির একটিতে পাকিস্তানে জইশ কমান্ডার উসমানের মৃত্যু হয়। ছত্রুতে আরও দুই জঙ্গিকে নিকেশ করা হয়। জানুয়ারি মাসে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ত্রাশি-১’ মূলত কিশতওয়ার জেলার দুর্গম বনাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায় জঙ্গি দমনের লক্ষ্যে চালানো হচ্ছে। ছত্রু ছাড়াও সন্নার, দোলগাম এবং দিচ্ছর এলাকায় একাধিক সার্চ অপারেশন ও আক্রমণ চালানো হয়েছে।

LinkedIn
Share