Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • INSV Kaundinya Crew: প্রথম বিদেশ সফর শেষ করল ভারতীয় নৌবাহিনীর আইএনএসভি কৌন্ডিন্য

    INSV Kaundinya Crew: প্রথম বিদেশ সফর শেষ করল ভারতীয় নৌবাহিনীর আইএনএসভি কৌন্ডিন্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রাচীন সামুদ্রিক ঐতিহ্যের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হল বুধবার। গুজরাটের পোরবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথম বিদেশ সফর সফলভাবে সম্পন্ন করে ওমানের মাস্কাট বন্দরে নোঙর করল ভারতীয় নৌবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী পালতোলা জাহাজ আইএনএসভি কৌন্ডিন্য। বন্দরে পৌঁছনোর পর জাহাজটিকে দেওয়া হয় বিশেষ ওয়াটার স্যালুট। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই ঐতিহ্যবাহী ‘স্টিচড সেল শিপে’র এই সাফল্যকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামুদ্রিক ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবনের প্রচেষ্টার এক উজ্জ্বল নিদর্শন বলে অভিহিত করেছেন কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌ-পরিবহণ ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল।

    নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শী নেতৃত্বের উজ্জ্বল উদাহরণ (INSV Kaundinya Crew)

    তিনি বলেন, “আইএনএসভি কৌন্ডিন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শী নেতৃত্বের উজ্জ্বল উদাহরণ। ভারতের প্রাচীন জাহাজ নির্মাণ কৌশলকে পুনরুজ্জীবিত করে তা বিশ্বের দরবারে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরাই ছিল তাঁর সংকল্প।” মন্ত্রী বলেন, “এই জাহাজ আমাদের সামুদ্রিক ঐতিহ্যের কালজয়ী শক্তি, দক্ষতা ও টেকসই উদ্ভাবনের প্রতীক।” মন্ত্রী জানান, ইনএসভি কৌন্ডিন্যের নকশা অনুপ্রাণিত পঞ্চম শতাব্দীর একটি জাহাজ থেকে, যার চিত্র অজন্তা গুহার দেওয়ালে পাওয়া গিয়েছে। জাহাজটির নামকরণ করা হয়েছে কিংবদন্তি ভারতীয় নাবিক কৌন্ডিন্যর নামে, যিনি ভারত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পৌঁছেছিলেন।

    স্টিচড সেলিং ভেসেল

    জাহাজটি ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর গুজরাটের পোরবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। অভিযানে অংশ নেন চারজন অফিসার ও ১৩ জন নৌসেনা। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন কমান্ডার বিকাশ শেওরান, এবং অফিসার-ইন-চার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কমান্ডার ওয়াই হেমন্ত কুমার। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সঞ্জীব সান্যালও এই অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন এবং তিনি নিয়মিতভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় যাত্রার আপডেট শেয়ার করেন। আইএনএসভি কৌন্ডিন্য একটি ঐতিহ্যবাহী স্টিচড সেলিং ভেসেল, যা ভারতের প্রাচীন সামুদ্রিক ইতিহাসে ব্যবহৃত সেলাই করা কাঠের জাহাজ নির্মাণ পদ্ধতিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে।

    অর্থায়ন করে সংস্কৃতি মন্ত্রক

    এই প্রকল্পটি ২০২৩ সালের জুলাই মাসে সংস্কৃতি মন্ত্রক, ভারতীয় নৌবাহিনী এবং হোডি ইনোভেশনসের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে শুরু হয়। প্রকল্পটির অর্থায়ন করে সংস্কৃতি মন্ত্রক। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কিল লেয়িং-এর পর, কেরালার দক্ষ কারিগরদের একটি দল ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে জাহাজটি নির্মাণ করেন। মাস্টার শিপরাইট বাবু শঙ্করনের  নেতৃত্বে নারকেল ফাইবার, কয়ার দড়ি ও প্রাকৃতিক রেজিন ব্যবহার করে কাঠের তক্তা সেলাই করে তৈরি করা হয় জাহাজের গঠন। প্রাচীন জাহাজগুলির কোনও নীলনকশা না থাকায়, অজন্তার গুহাচিত্র ও অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক সূত্র থেকে নকশা নির্ধারণ করা হয়।
    জাহাজটির নকশা ও কাঠামোগত স্থায়িত্ব যাচাই করা হয় আইআইটি মাদ্রাজের ওশান ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে হাইড্রোডাইনামিক মডেল টেস্টিং এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর নিজস্ব প্রযুক্তিগত মূল্যায়নের মাধ্যমে।

    জাহাজটির পালে রয়েছে গণ্ডভেরুণ্ড ও সূর্য প্রতীক, সামনের অংশে খোদাই করা সিংহ-ওয়ালি, এবং ডেকে শোভা পাচ্ছে হরপ্পা যুগের আদলে তৈরি পাথরের নোঙর, যা প্রাচীন ভারতীয় সামুদ্রিক সংস্কৃতির প্রতিফলন। আইএনএসভি কৌন্ডিন্য শুধুমাত্র একটি জাহাজ নয়, বরং এটি ভারতের প্রাচীন সমুদ্রযাত্রা, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • ECI: ভোটার তালিকা সংশোধনে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অধিকার রয়েছে কমিশনের, সুপ্রিম কোর্টে জানাল ইসি

    ECI: ভোটার তালিকা সংশোধনে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অধিকার রয়েছে কমিশনের, সুপ্রিম কোর্টে জানাল ইসি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর প্রক্রিয়ার আওতায় ভোটার তালিকা তৈরির সময় নাগরিকত্ব যাচাই করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের (ECI) রয়েছে, তবে সেই ক্ষমতা শুধুমাত্র ভোটার তালিকার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য এবং এর সঙ্গে কেন্দ্র সরকারের নির্বাসন বা বহিষ্কারের ক্ষমতার কোনও সংঘাত নেই। সুপ্রিম কোর্টকে (Supreme Court) এ কথাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে গুচ্ছের মামলা (ECI)

    এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একগুচ্ছ মামলায় আবেদনকারীদের মূল যুক্তির জবাবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে, তবে শুধুমাত্র ভোটার তালিকায় নাম তোলার যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য। এই ক্ষমতা ব্যবহার করে কাউকে দেশছাড়া করা হবে না। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে উপস্থিত প্রবীণ আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী বলেন, “নির্বাচন কমিশন কেবলমাত্র ভোটার তালিকার উদ্দেশ্যে যাচাই করে দেখবে কোনও ব্যক্তি ভারতের নাগরিক কি না। এর ফল শুধু এতটুকুই হবে যে, তিনি ভোটার তালিকায় নাম তোলার যোগ্য থাকবেন কি না। এর সঙ্গে নির্বাসনের কোনও সম্পর্কই নেই (Supreme Court)।”

    কী বললেন দ্বিদেবী?

    বক্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে দ্বিবেদী বলেন, সংবিধানের ৩২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সংসদ ও বিধানসভা নির্বাচন হয় এবং ভোটার হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হল ভারতের নাগরিক হওয়া (ECI)। তিনি জানান, ১৯৪৯ সালে সংবিধান সভা একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল, যেখানে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি ভারতের নাগরিক না হন, তবে তাঁকে কোনও নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। দ্বিবেদী এও বলেন, “ভারতের সংবিধানের আলোকে সংসদীয় আইন ব্যাখ্যা করতে হয়। নাগরিকত্ব যাচাই করার ক্ষেত্রে আমাদের কেন্দ্র সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।”

    এই বিষয়ে আদালতের বেঞ্চে থাকা বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর পর্যবেক্ষণ, “আপনাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্ব বাতিল করার আগেই নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে পারে। কারণ, নাগরিক নন এমন কেউ ভোটাধিকার পান না (ECI)।” এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলিতে দাবি করা হয়েছে, নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষমতা শুধুমাত্র নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ৯(২) ধারার অধীনে কেন্দ্রীয় সরকারেরই রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সেই বিষয়ে কোনও ভূমিকা নেই। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংবিধানের ৩২৪ ও ৩২৬ অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৬ ধারার মাধ্যমেই কমিশনের এই ক্ষমতা এসেছে (Supreme Court)। ৩২৪ অনুচ্ছেদ নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনা ও ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষমতা দেয়, আর ১৬ ধারা অনুযায়ী নাগরিকত্ব-সহ একাধিক কারণে কোনও ব্যক্তিকে ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত করার অযোগ্য ঘোষণা করা যায় (ECI)। নির্বাচন কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নাগরিকত্ব আইনের ৯ নম্বর ধারা এসআইআর প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ ওই ধারা স্বেচ্ছায় বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের কথা বলে, যা এসআইআরের আওতায় পড়ে না। কমিশনের আইনজীবী জানান,  এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব খতিয়ে দেখার মূল লক্ষ্য যারা নাগরিক নয়, তাদের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিশ্চিত করা। সেই ব্যক্তির নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া বা ডিপোর্ট করার অধিকার কমিশনের নেই। তবে, নাগরিকত্ব নিয়ে ন্যূনতম সন্দেহ থাকলে ভোটার তালিকায় নাম থাকবে না।

    দ্বিবেদীর বক্তব্য

    দ্বিবেদী আরও জানান, সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ১০২ ও ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের অযোগ্যতা নির্ধারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের মতামত নিতে পারেন। একইভাবে ১৯১ ও ১৯২ অনুচ্ছেদে বিধানসভা সদস্যদের ক্ষেত্রে রাজ্যপালকে অনুরূপ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে (ECI)। আদালত এই (Supreme Court) মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে বৃহস্পতিবার। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন ধাপে ধাপে এসআইআর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে, যার উদ্দেশ্য মৃত ভোটার বা স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। তবে আবেদনকারীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন কমিশনের (ECI) মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।

     

  • US: ইরান নিয়ে নতুন শুল্ক-হুমকি ট্রাম্পের, ভারতের ওপর প্রভাব সীমিত, বলল কেন্দ্র

    US: ইরান নিয়ে নতুন শুল্ক-হুমকি ট্রাম্পের, ভারতের ওপর প্রভাব সীমিত, বলল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ নিয়ে ভারতীয় রফতানিকারীদের মধ্যে যে আশঙ্কা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই প্রশমিত করার চেষ্টা করেছে কেন্দ্র। সরকারের দাবি, ভারতের ইরান-বাণিজ্যের পরিসর তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং ভারতের বাণিজ্যিক যোগাযোগ বহুমুখী হওয়ায় এই শুল্কের প্রভাব অত্যন্ত সামান্য হবে।

    ইরানের প্রধান আমদানি অংশীদার (US)

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে ইরানের সঙ্গে ভারতের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৬০ কোটি মার্কিন ডলার, যা ২০২৪ সালে ইরানের মোট আমদানির খুবই ছোট অংশ। ইরানের প্রধান আমদানি অংশীদার দেশগুলির মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ২১০০ কোটি মার্কিন ডলার, চিন ১৭০০ কোটি মার্কিন ডলার, তুরস্ক ১১০০ কোটি মার্কিন ডলার, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার। এই তালিকায় ভারতের অংশীদারিত্ব তুলনামূলকভাবে খুবই নগণ্য। তবে সোমবার প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা করার পরেই ভারতীয় চাল রফতানিকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, ইরানে চাল রফতানির ক্ষেত্রে ভারতই সবচেয়ে বড় জোগানদাতা। তেহরান তার মোট চাল আমদানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভারত থেকেই করে। ফলে এই বাজার ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ইরানি ক্রেতাদের সঙ্গে নতুন চুক্তি

    আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই ঘোষণার পর বহু ভারতীয় রফতানিকারী ইরানি ক্রেতাদের সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে অনিচ্ছুক। শীর্ষস্থানীয় চাল রফতানিকারী সংস্থার বাল্ক এক্সপোর্ট বিভাগের প্রধান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ট্রাম্পের কাঠামোর আওতায় প্রস্তাবিত ২৫ শতাংশ শুল্ক ভারতীয় বাসমতি চাল শিল্পের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।” নয়াদিল্লি-ভিত্তিক এক রফতানিকারী সংস্থা বলেন, “গত দু’মাসে যে চাল পাঠানো হয়েছে, তার অর্থপ্রাপ্তি নিয়েই আমরা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।” তিনি আরও বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে ক্রেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা সম্পূর্ণ চাল পাননি। আবার কিছু ক্ষেত্রে অশান্তির কারণে ক্রেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।”

    এদিকে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত চিনের জন্যও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, চিন ইরানের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে চিনে ইরানের রফতানির পরিমাণ ছিল ২২০০ কোটি ডলার, যার অর্ধেকেরও বেশি ছিল জ্বালানি তেল। একই বছরে চিন থেকে ইরানের আমদানির পরিমাণ ছিল ১৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চিন ইরানের রফতানিকৃত তেলের ৮০ শতাংশেরও বেশি কিনেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি তেলের ক্রেতার সংখ্যা সীমিত, কারণ এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিতে অর্থের জোগান বন্ধ করা।

     

  • 10 Minute Delivery: আর নয় ‘১০ মিনিটে ডেলিভারি’, ই-কমার্স সংস্থাগুলিকে কঠোর নির্দেশ কেন্দ্রের

    10 Minute Delivery: আর নয় ‘১০ মিনিটে ডেলিভারি’, ই-কমার্স সংস্থাগুলিকে কঠোর নির্দেশ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডেলিভারি বয়দের সুরক্ষায় এবার সক্রিয় পদেক্ষপ গ্রহণ করল কেন্দ্র। জানিয়ে দিল, আর নয় ‘১০ মিনিটে ডেলিভারি’। ব্লিঙ্কিট, জেপ্টো, সুইগি, জোম্যাটোর মতো পণ্য সরবরাহকারী সংস্থাগুলিকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রক (Central Government) জানিয়েছে যে, নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিয়ে আর কোনও ভাবেই আপস নয়। তাই এখন থেকে মানতে হবে নতুন নিয়ম। ১০ মিনিটে ডেলিভারি (10 Minute Delivery) বন্ধ করতে হবে। সমস্ত ই-কমার্স বা অনলাইন পণ্য সরবরাহকারী সংস্থার কাছে ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে বিশেষ নোটিস। বলা হয়েছে, অবিলম্বে অ্যাপগুলি থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে এমন বিজ্ঞাপন।

    অনেকেই পথদুর্ঘটনায় মৃত্যুর শিকার (10 Minute Delivery)

    দেশজুড়ে গিগ ওয়ার্কদের সুরক্ষা নিয়ে ব্যাপক শোরগোল আগেই পড়েছে। গত ২৫ এবং ৩১ ডিসেম্বর দেশজুড়ে গিগ ও ডেলিভারি কর্মীরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন।  শুধু তাই নয়, সংসদেও এই নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় হয়েছে শাসক-বিরোধী শিবিরে। তাড়াহুড়ো করে পণ্য ডেলিভারি করতে গিয়ে লাগাতার মৃত্যুর ঘটনা ঘটে চলেছে। এতো কম সময়ে দ্রুত পণ্য পৌঁছাতে গিয়ে অনেকেই পথদুর্ঘটনায় মৃত্যুর শিকার হয়েছেন। তাই এবার থেকে এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে লাগাম টানতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার (Central Government)।

    ব্লিঙ্কিট ইতিমধ্যে ১০ মিনিটে ডেলিভারি (10 Minute Delivery) বন্ধ করে দিয়েছে। গিগকর্মীদের মধ্যে একটা বড় অংশ একাধিকবার দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করেছেন আগে। চাকরির নিশ্চয়তা এবং ডেলিভারির ক্ষেত্রে ১০ মিনিটে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রাকে বন্ধ করার জোরালো দাবিও তুলেছিলেন তাঁরা। রা অভিযোগ তোলেন সুরক্ষাহীন কাজের পরিবেশ, সময়ের চাপ, উপার্জন কমে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত সামাজিক সুরক্ষা না পাওয়ার বিরুদ্ধে। তাঁদের মতে, এই কাজ অত্যন্ত অমানবিক। পেশাগত কারণে এই কাজ অত্যন্ত অনৈতিক। তবে নাগরিক সামাজের মধ্যেও যদি এই ধরনের বিষয় নিয়ে আগেও একাধিকবার ব্যাপক প্রতিবাদ করতে দেখা গিয়েছে।

    বন্ধ করতে হবে বিজ্ঞাপন

    কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবীয় বিভিন্ন ফুড ডেলিভারি ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে ব্লিঙ্কিট, জেপটোর মতো সংস্থাগুলিকে এই ১০ মিনিটে পরিষেবা (10 Minute Delivery) বন্ধ করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “ব্র্যান্ডিং বা প্রচারের কাজে যেন নির্দিষ্ট কোনও ডেলিভারি টাইম লিমিট ব্যবহার না করা হয়। ব্র্যান্ডিংয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমার প্রতিশ্রুতি থাকলে তা ডেলিভারি কর্মীদের ওপর চাপ বাড়াতে পারে, যা তাদের নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ায়। বিজ্ঞাপনের ভাষাতেও এখন থেকে এই প্রচার সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করে দিতে হবে।” এই নির্দেশের পরেই কোম্পানিগুলি জানিয়েছে, ১০ মিনিটে যে গ্যারান্টি তারা দিত, সেখান থেকে তারা সরে আসছে। বিজ্ঞাপন, প্রচার বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, কোথাও আর এই সময়সীমার কথা উল্লেখ করা হবে না। ফলে, গ্রাহকরা এখন থেকে এই ধরনের পরিষেবা আর পাবেন না। সমস্ত খাবার প্রস্তুত কারক সংস্থাগুলি ইতিমধ্যে পরিষেবা বন্ধ করার পথেই তারা হাঁটছে বলে জানা গিয়েছে।

  • Jaishankar Rubio Talk: ফোনে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা জয়শঙ্কর–মার্কো রুবিওর

    Jaishankar Rubio Talk: ফোনে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা জয়শঙ্কর–মার্কো রুবিওর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুল্কযুদ্ধ এবং বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই মঙ্গলবার মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বললেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। টেলিফোনে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে একপ্রস্ত আলোচনা সারলেন তাঁরা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাণিজ্য সংক্রান্ত মতপার্থক্যের কারণে ভারত–মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই এই কথোপকথনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিদেশসচিব রুবিওর সঙ্গে ভাল কথোপকথন

    সমাজমাধ্যমে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর লিখেছেন, ‘‘আমেরিকার বিদেশসচিব রুবিওর সঙ্গে একটি ভাল কথোপকথন হল। বাণিজ্য, বিরল খনিজ, পরমাণু সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা এবং বিদ্যুৎক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’’ উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলির পাশাপাশি অন্যান্য বিষয় নিয়েও দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ রাখার বিষয়ে আলোচনায় ঐকমত্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। এই ফোনালাপের একদিন আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত-মনোনীত সার্জিও গোর জানান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র এখনও সক্রিয়ভাবে একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে এবং মঙ্গলবারই “পরবর্তী বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনা” হওয়ার কথা। অন্যদিকে, সার্জিও গোর সামাজিক মাধ্যমে বলেন, রুবিও ও জয়শঙ্করের মধ্যে “ইতিবাচক” ফোনালাপ হয়েছে এবং দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও আগামী মাসে সম্ভাব্য বৈঠকের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

    উভয় দেশের কাছেই যোগাযোগ ইতিবাচক

    বিরল খনিজ (ক্রিটিকাল মিনারেলস) নিয়ে চিনের সঙ্গে লড়াইয়ে ইতিমধ্যেই ভারতকে পাশে পেতে সক্রিয় হয়েছে আমেরিকা-সহ পশ্চিমি দুনিয়া। ওয়াশিংটনে জি-৭ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলিকে নিয়ে এ সংক্রান্ত আলোচনার জন্য বিশেষ ‘ফিনান্স মিনিস্টার্স মিটিং’-এর আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ভারতকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার। সোমবার ভারতে পৌঁছে দেওয়া ভাষণে সার্জিও গোর বলেন, “প্রকৃত বন্ধু হিসেবে” ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত সব সমস্যার সমাধান করে। তিনি স্বীকার করেন, বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করা সহজ কাজ নয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। গোর আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র আগামী মাসে ভারতকে ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানাবে। এটি সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির জন্য একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার লক্ষ্যে মার্কিন সরকারের একটি প্রধান উদ্যোগ। তারপরই জয়শঙ্কর ও রুবিও-র মধ্যে এই ফোনালাপ নিয়ে দুই দেশের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তবে কয়েক মাস পর এই বিরল উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগকে উভয় দেশই ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।

  • Shaksgam Valley: শাকসগাম উপত্যকা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, চিনের দাবি খারিজ করল ভারত

    Shaksgam Valley: শাকসগাম উপত্যকা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, চিনের দাবি খারিজ করল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের (PoJK) অন্তর্গত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শাকসগাম উপত্যকা নিয়ে ফের উসকানিমূলক দাবি তুলল চিন। ১৯৬৩ সালে বেজিং ও ইসলামাবাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত তথাকথিত সীমান্ত চুক্তির উল্লেখ করে চিন দাবি করেছে যে শাকসগাম উপত্যকা তাদের ভূখণ্ড। তবে ভারত এই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, শাকসগাম উপত্যকা (Shaksgam Valley) ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে ওই চুক্তি সম্পূর্ণ অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য। দিল্লি স্পষ্ট জানিয়েছে, ভারত পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে ১৯৬৩ সালের চুক্তি মানে না।

    শাকসগাম উপত্যকা কোথায়?

    কারাকোরাম পর্বতমালার উত্তরে, সিয়াচেনের খুব কাছেই অবস্থিত শাকসগাম বা ট্রান্স-কারাকোরাম এলাকা। ৫,১৮০ বর্গকিলোমিটারের এই উপত্যকাটি পাকিস্তান ১৯৬৩ সালে একটি সীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে চিনের হাতে তুলে দেয়। সেই চুক্তিতেই লেখা, কাশ্মীর প্রশ্ন মিটলে সীমান্ত আবার নতুন করে নির্ধারণ করা যাবে। কিন্তু ভারতের মতে, ওই চুক্তিটাই শুরু থেকেই অবৈধ। শাকসগাম উপত্যকা পাক অধিকৃত কাশ্মীরের হুনজা-গিলগিট অঞ্চলে অবস্থিত। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে চিনের পরিকাঠামো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার ভারতের রয়েছে।

    শাকসগাম উপত্যকায় চিনের নির্মাণ

    পূর্ব কারাকোরাম পর্বতমালায় সিয়াচেন হিমবাহের কাছে অবস্থিত শাকসগাম উপত্যকা, যা ট্রান্স কারাকোরাম ট্র্যাক্ট নামেও পরিচিত। এর উত্তরে চিনের জিনজিয়াং অঞ্চল এবং দক্ষিণ ও পশ্চিমে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) রয়েছে। যে বিষয়টি ভারতকে সতর্ক করে তুলেছে, তা হল উপত্যকায় চিনের একটি অল-ওয়েদার রাস্তা নির্মাণ। প্রায় ১০ মিটার চওড়া এই সড়কটির প্রায় ৭৫ কিলোমিটার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে যে এই অঞ্চলটি ভারতীয় ভূখণ্ডের অংশ এবং স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। মন্ত্রক আরও উল্লেখ করেছে যে, ভারত কখনও ১৯৬৩ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের স্বাক্ষরিত চুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি, যে চুক্তির মাধ্যমে ইসলামাবাদ কর্তৃক অবৈধভাবে দখলকৃত এলাকা থেকে শাকসগাম উপত্যকার ৫,১৮০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা বেজিংকে হস্তান্তর করা হয়েছিল।

    চিনের অদ্ভুত দাবি

    চিন ভারতের আপত্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে যে, তাদের নির্মাণকাজ ন্যায়সঙ্গত। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মাও নিং ১২ জানুয়ারি বলেছেন, ওই এলাকাটি চিনের এবং সেখানে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার বেজিংয়ের রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, নিজের ভূখণ্ডে পরিকাঠামো নির্মাণ করা চিনের অধিকার এবং ১৯৬০-এর দশকে চিন ও পাকিস্তান একটি সীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে উভয় দেশের সীমানা নির্ধারণ করেছে। এই ঘটনা ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। যদিও ২০২৪ সালে লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি)-তে উত্তেজনা কমানোর চুক্তি হয়েছিল, তবুও কাশ্মীর নিয়ে এই ধরনের বিতর্ক বারবার দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাসের জন্ম দেয়। চিনের এই দৃঢ় অবস্থান অনেক বিশ্লেষকের মতে পাকিস্তানের সঙ্গে তার কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়াস। অন্যদিকে ভারতের জন্য এটি জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্ন।

    বিদেশ মন্ত্রক-এর বিরোধিতা

    চিনের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) স্পষ্ট করেছে যে ভারত কখনওই ১৯৬৩ সালের চিন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, “শাকসগাম উপত্যকা ভারতের ভূখণ্ড। আমরা ধারাবাহিকভাবে বলে আসছি যে তথাকথিত চিন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তি অবৈধ এবং অকার্যকর।” চিনের পাল্টা দাবিকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে ভারত আরও জানিয়েছে যে পাক অধিকৃত কাশ্মীর আসলে পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ড। ফলে পাকিস্তানের কোনও অধিকার নেই এই অঞ্চলের কোনও অংশ তৃতীয় কোনও দেশের কাছে হস্তান্তর করার। এই বিষয়টি একাধিকবার পাকিস্তান ও চিন—উভয় দেশকেই জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে নয়া দিল্লি। ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীও এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা ১৯৬৩ সালের পাক-চিন সীমান্ত চুক্তিকে স্বীকার করি না। শাকসগাম উপত্যকায় যে কোনও ধরনের কার্যকলাপ আমরা অনুমোদন করি না।”

    শাকসগাম উপত্যকা কেন গুরুত্বপূর্ণ

    ভারতের জন্য শাকসগাম উপত্যকা দুটি কারণে তাৎপর্যপূর্ণ— আঞ্চলিক এবং সামরিক। উপত্যকাটি বিশ্বের সর্বোচ্চ যুদ্ধক্ষেত্র সিয়াচেন হিমবাহের কাছে অবস্থিত। এছাড়াও, এটি কারাকোরাম গিরিপথে সরাসরি প্রবেশের সুযোগ করে দেয়। সিয়াচেন থেকে পাকিস্তানের ওপর সরাসরি নজর রাখতে পারে ভারতীয় সেনা। আবার কারাকোরাম গিরিপথ থেকে চিনা কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করতে পারা যায়। সুতরাং, শাকসগাম উপত্যকায় নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবের সরাসরি প্রভাব পড়বে চিনের সঙ্গে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) এবং পাকিস্তানের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) বরাবর ভারতের সামরিক অবস্থানের উপর। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে চিন ৪,৮০৫ মিটার উঁচু আগিল গিরিপথ পেরিয়ে নিম্ন শাকসগাম উপত্যকায় একটি রাস্তা তৈরি করেছে। যার ফলে ভারতীয় নিয়ন্ত্রিত সিয়াচেন হিমবাহের ইন্দিরা কলের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে চলে আসবে চিন সেনা। কল হল একটি পর্বতমালার সর্বনিম্ন বিন্দু। গত কয়েক দশক ধরে ভারত প্রধানত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিয়াচেন অঞ্চলকে রক্ষা করার উপর মনোযোগ দিয়েছে, যেখানে হুমকিটি মূলত দক্ষিণের দিক থেকে ছিল। এখন এই নতুন রাস্তার কারণে উত্তর দিক থেকে চাপ বাড়াতে পারবে চিন। যা বিশ্বের সর্বোচ্চ যুদ্ধক্ষেত্রে দুই-মুখী সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলছে।

    ভারতের যৌক্তিক দাবি

    উল্লেখ্য, ১৯৬৩ সালের চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান অবৈধভাবে প্রায় ৫,১৮০ বর্গকিলোমিটার ভারতীয় ভূখণ্ড চিনের হাতে তুলে দেয়। তবে যেহেতু কাশ্মীর ইস্যু এখনও আন্তর্জাতিক স্তরে মীমাংসিত নয় এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর পাকিস্তানের অংশ হিসেবে কোনও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই, তাই এই চুক্তির কোনও আইনগত ভিত্তি নেই বলে ভারতের দাবি। এছাড়াও, ভারত বারবার চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (CPEC) প্রকল্পের বিরোধিতা করে এসেছে, কারণ এই প্রকল্প পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ডের উপর দিয়ে গিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক পুনরায় জানিয়েছে, “আমরা চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরকেও স্বীকৃতি দিই না, কারণ এটি ভারতের ভূখণ্ডের উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে, যা পাকিস্তানের জোরপূর্বক ও অবৈধ দখলে রয়েছে।” সব মিলিয়ে, শাকসগাম উপত্যকা নিয়ে চিনের সাম্প্রতিক দাবিকে সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে ভারত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—এই অঞ্চল ভারতেরই অংশ। এই অঞ্চল সুরক্ষিত রাখতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • Operation Sindoor: ফের অপারেশন সিঁদুর! সীমান্তে সক্রিয় ১৪০ জঙ্গি, ৬টি শিবির! জবাব দিতে তৈরি ভারত, জানালেন সেনাপ্রধান

    Operation Sindoor: ফের অপারেশন সিঁদুর! সীমান্তে সক্রিয় ১৪০ জঙ্গি, ৬টি শিবির! জবাব দিতে তৈরি ভারত, জানালেন সেনাপ্রধান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও চলছে বলে ফের বার্তা দিলেন ভারতের সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী। উল্টো দিক থেকে কোনও রকম দুঃসাহসিক পদক্ষেপ করা হলে, তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, চিনের সঙ্গে সীমান্ত-পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল হলেও সেখানেও নিরন্তর সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান। সিঁদুরের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করে জেনারেল দ্বিবেদী বলেছেন, “অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে কৌশলগত দিকগুলি নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারতীয় সেনা সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ধ্বংস করেছে এবং ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক হামলার ভয় দেখানোর কৌশল ভোঁতা করে দিয়েছে।” তাঁর দাবি, সেনা আক্রমণাত্মক অভিযানের জন্য সর্বদা প্রস্তুত।

    তিন সেনার সমন্বয়ের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ

    গত বছর পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় সেনা অপারেশন সিঁদুর শুরু করে। আর সেই অপারেশন সিঁদুরের অধীনে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী। ভারতের সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী অপারেশন সিঁদুরকে ভারতের তিন সেনার সমন্বয়ের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। মঙ্গলবার নয়া দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করেন, অপারেশন সিঁদুর এখনও শেষ হয়নি। শত্রুপক্ষ অর্থাৎ পাকিস্তান যদি আগামীতে যে কোনও দুঃসাহস দেখায় তাহলে আরও কঠোরভাবে তার জবাব দেওয়া হবে। সেনাপ্রধান জানান, পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের পর সর্বোচ্চ স্তর থেকে কড়া জবাব দেওয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়।

    পারমাণবিক হামলার ভয় আর নয়

    ভারতের আকাশে পাক ড্রোন! আর তারপরই বার্ষিক সাংবাদিক সম্মেলনে সীমান্ত পরিস্থিতি ও বাহিনীর ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি নিয়ে পাকিস্তানকে স্পষ্ট বার্তা সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। একই সঙ্গে কথায় কথায় পাকিস্তানের যে পারমাণবিক হুমকি, তারও সমূলে আঘাত করা হয়েছে। ৯টি টার্গেটকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছিল ভারত। এই প্রসঙ্গে জেনারেল দ্বিবেদীর ব্যাখ্যা, “৭ মে ২২ মিনিটের সূচনায় এবং পরবর্তী ৮৮ ঘণ্টার সুসংহত অভিযানে অপারেশন সিঁদুর কৌশলগত সমীকরণ বদলে দিয়েছে। গভীরে ঢুকে আঘাত হানা হয়েছে, জঙ্গি পরিকাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং বহুদিনের পারমাণবিক হুমকির বয়ানকেও প্রশ্নের মুখে ফেলা হয়েছে।”

    ১৪০ জন সক্রিয় জঙ্গি

    জেনারেল দ্বিবেদী জানান, সেনার হিসেব অনুযায়ী, জম্মু–কাশ্মীর ও সংলগ্ন এলাকায় এখনও অন্তত ১৪০ জন সক্রিয় জঙ্গি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ জন স্থানীয়, বাকিরা পাকিস্তানের নাগরিক। ২০২৫ সালে মোট ১৩৯টি সংঘর্ষবিরতির ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১২৪টি ঘটেছে অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন। আইবি-র ওপারে দু’টি এবং লাইন অফ কন্ট্রোলের ওপারে ছ’টি জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির এখনও সক্রিয় বলে সেনার দাবি। ওই সব শিবিরে ন্যূনতম ১০০ জন জঙ্গি রয়েছে বলে অনুমান। সেনার তরফে জানানো হয়েছে, শিবিরগুলির উপর সর্বক্ষণ নজর রাখা হচ্ছে।

    নতুন করে সাজছে সেনা

    অপারেশন সিঁদুরের পর সেনার কাঠামোয় বদল আনা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন সেনাপ্রধান। নতুন করে একাধিক ব্রিগেড গঠন করা হচ্ছে। ঘাতক প্ল্যাটুনের আদলে ২৫টি ‘ভৈরব ব্যাটালিয়ন’ তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নে ড্রোন ব্যবহারে দক্ষ ‘অশনী প্ল্যাটুন’ গঠন সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি, তৈরি হচ্ছে ৯টি ‘রুদ্র ব্রিগেড’। আর্টিলারির ক্ষেত্রেও শক্তিবৃদ্ধির কথা জানান সেনাপ্রধান। ১৫টি ‘শক্তিবান রেজিমেন্ট’ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। সেখানে ১০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার রেঞ্জের পাশাপাশি ভবিষ্যতে ৭৫০ থেকে ১০০০ কিলোমিটার পাল্লার আধুনিক আর্টিলারি গান অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    সক্রিয় স্থানীয় জঙ্গির সংখ্যা কমে গিয়েছে

    সাংবাদিক বৈঠকে পাকিস্তানের দিক থেকে নজরদারির উদ্দেশ্যে কিছু ড্রোন পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন জেনারেল দ্বিবেদী। ডিজিএমও স্তরের বৈঠকে এই ধরনের তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার বার্তা পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সেইসঙ্গে ভবিষ্যৎ যুদ্ধপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে ‘ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটেল গ্রুপ’ গঠনের কথাও জানান তিনি। প্রতিটি গ্রুপের নেতৃত্বে থাকবেন মেজর জেনারেল পদমর্যাদার অফিসার। এক একটি গ্রুপে ১৬টি বা তার বেশি ইউনিট একসঙ্গে কাজ করবে। সেনাপ্রধান দ্বিবেদী আরও বলেন, মে মাসের ১০ তারিখের পর থেকে ভারতের পশ্চিম সীমান্ত এবং জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি সংবেদনশীল হলেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৫ সালে ৩১ জন সন্ত্রাসবাদী নিহত হয়েছে। আর এর মধ্যে ৬৫ শতাংশই পাকিস্তানি। এর ফলে, সক্রিয় স্থানীয় জঙ্গির সংখ্যা কমে গিয়েছে উল্লেখযোগ্য ভাবেই।

    উত্তর দিকের বর্ডারের কী পরিস্থিতি?

    এই প্রশ্নের উত্তরে আশার কথা শোনান জেনারেল দ্বিবেদী। তিনি জানান, ভারতের উত্তর ভাগের চিনের দিকের বর্ডারে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। এক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। তাই পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল। যদিও নিরপত্তা নিয়ে কোনও রকম ঢিলেমি দেওয়া চলবে না। বরং কঠোর নজর থাকবে সব দিকে। মণিপুর ধীরে ধীরে শান্ত হচ্ছে। নিরাপত্তারক্ষী এবং সরকারের চেষ্টায় শান্তি ফিরছে। এছাড়া মায়ানমারে ভোট হয়ে গেলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে জানা গিয়েছে। এর পাশাপাশি এই সাংবাদিক সম্মেলনে শাক্সগম উপত্যকা সংক্রান্ত পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে ১৯৬৩ সালের চুক্তিকেও অবৈধ বলে অভিহিত করেন তিনি।

    ইয়ার অব নেটওয়ার্কিং অ্যান্ড ডেটা সেনট্রিসিটি

    জেনারেল দ্বিবেদী জানান, ভারতীয় সেনা আধুনিকীকরণে জোর দিচ্ছে। ব্রহ্মোস মিসাইল, উন্নত ড্রোন থেকে শুরু করে একাধিক আপগ্রেডেশন চলছে। পাশাপাশি তিনি এও জানান যে ভারত ৯০ শতাংশ অ্যামুইনেশন দেশেই তৈরি করছে। সেনার পক্ষ থেকে ২০২৬ সালকে ‘ইয়ার অব নেটওয়ার্কিং অ্যান্ড ডেটা সেনট্রিসিটি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েথে। এর ফলে রিয়েল টাইম ডিসিশন নিতে সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • EU–India Free Trade Deal: জানুয়ারির শেষেই ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত! মোদি-মের্ৎস বৈঠকের পর জল্পনা তুঙ্গে

    EU–India Free Trade Deal: জানুয়ারির শেষেই ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত! মোদি-মের্ৎস বৈঠকের পর জল্পনা তুঙ্গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চলতি জানুয়ারি মাসের মধ্যেই ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU–India Free Trade Deal) মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরিত হতে পারে। সোমবার গুজরাটের আমেদাবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আলোচনা ঠিকঠাক এগোলে জানুয়ারির শেষ দিকে ইইউর শীর্ষ নেতারা চুক্তিটি সই করতে ভারত সফরে আসবেন।

    বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় মোড়

    জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস সোমবার (১২ জানুয়ারি) ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সংক্রান্ত আলোচনা চলতি মাসের শেষের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে। বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সুরক্ষাবাদী নীতির প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি বৈশ্বিক বাণিজ্যে একটি বড় মোড় আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। আমেদাবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মের্ৎস জানান, আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছলে শীর্ষস্থানীয় ইইউ নেতারা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করতে ভারতে আসতেও প্রস্তুত। চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই মের্ৎসের প্রথম সরকারি ভারত সফর। মের্ৎস বলেন, “যে কোনও অবস্থাতেই এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে বাস্তবায়নের পথে আরও একটি বড় পদক্ষেপ করা হবে।” যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

    কেন এই চুক্তির তাড়াহুড়ো

    ইইউ এখন ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার (২০২৪ সালে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১২০ বিলিয়ন ইউরো)। চিনের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইউরোপ এখন ভারতকে সবচেয়ে ‘পছন্দের অংশীদার’ হিসেবে দেখছে। ইইউ অটোমোবাইল, ওয়াইন ও চিকিৎসা সরঞ্জামে শুল্ক কমাতে চায়, বিপরীতে ভারত চায় পোশাক ও চামড়াজাত পণ্যে সহজ প্রবেশাধিকার। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সুরক্ষাবাদ ও ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতির কারণে সৃষ্ট অস্থিরতার মধ্যে জার্মান চ্যান্সেলরের ভারত সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর চ্যান্সেলর মের্ৎস বলেন, বিশ্ব এখন সুরক্ষাবাদের পুনর্জাগরণ দেখছে। কিন্তু এটি জার্মানি ও ভারত—উভয় দেশের জন্যই ক্ষতিকর। তিনি কোনো দেশের নাম না নিলেও তাঁর ইঙ্গিত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান শুল্ক নীতির দিকে। বর্তমানে সমরাস্ত্রের জন্য ভারত অনেকাংশে রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল।

    প্রজাতন্ত্র দিবসের পরেই চুক্তি স্বাক্ষর!

    ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে ইইউর শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এরপরই ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ভারত-ইইউ সম্মেলনে এই মেগা বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন যে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। জার্মান কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, মের্ৎস ও মোদির মধ্যে বৈঠক ছিল “অত্যন্ত নিবিড়”, যা সম্ভাব্য অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় ইইউ গাড়ি, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওয়াইন ও মদের উপর শুল্ক হ্রাস এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে ভারত শ্রমনির্ভর পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং অটোমোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স খাতে দ্রুত স্বীকৃতির ওপর জোর দিচ্ছে।

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার

    বহু বছর ধরে আলোচনাধীন এই চুক্তিকে উভয় পক্ষই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। বিশেষত চিন ও রাশিয়ার উপর নির্ভরতা কমিয়ে সরবরাহ শৃঙ্খল বৈচিত্র্যময় করার লক্ষ্যে ইইউ ও ভারত একে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। ২০২৪ সালে ভারত ও ইইউ-র মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১২০ বিলিয়ন ইউরো, যার ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক বাড়ানো এবং রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানোর জন্য নয়াদিল্লির উপর চাপ সৃষ্টি করায় এই আলোচনা আরও গতি পেয়েছে। গত বছর ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা ভেঙে যাওয়ায়, ইইউ ভারতের কাছে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হিসেবে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

    মের্ৎসের ভূমিকা

    ভূরাজনৈতিক প্রসঙ্গে মের্ৎস বলেন, ইউক্রেন ইস্যুতে জার্মানি ও ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি অভিন্ন। তিনি বলেন, “রাশিয়ার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন সম্পর্কে আমাদের মূল্যায়নে আমরা সম্পূর্ণ একমত।” যদিও ভারতের জ্বালানি নির্ভরতার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। এছাড়াও মের্ৎস বিশ্বজুড়ে “দুর্ভাগ্যজনক সুরক্ষাবাদের পুনরুত্থান” নিয়ে সতর্ক করে বলেন, এর সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। জার্মানি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের আলোচনা চলছে। মের্ৎসের এই সফর এই আলোচনাকে ত্বরান্বিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারি মাসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ ভারতে আসার আগেই এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে।

    মোদি-মের্ৎসে সম্পর্ক

    জার্মানির চ্যান্সেলর হিসেবে ভারতে তো বটেই, এই প্রথম এশিয়ার কোনও দেশে এলেন মের্ৎস। গান্ধীনগরে মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে আমেদাবাদের সবরমতী আশ্রমে গিয়েছিলেন জার্মানির চ্যান্সেলর। তার পর তিনি সবরমতী নদীর ধারে আন্তর্জাতিক ঘুড়ি উৎসবে যোগ দেন। মোদির সঙ্গে ঘুড়ি ওড়়াতেও দেখা যায় মের্ৎসেকে। মোদি- মের্ৎস বৈঠকের পর প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে বোঝাপড়া আরও জোরদার করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে নয়াদিল্লি এবং বার্লিন। পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তির ব্যবহার নিয়েও বোঝাপড়া আরও বৃদ্ধির কথা বলেছেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভারতীয়দের জার্মানিতে থাকার ক্ষেত্রে ভিসা (যা ট্রানজ়িট ভিসা) লাগবে না বলে জানানো হয়েছে। জার্মানির স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে উন্নত করতে ভারতের চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিবাসনকে বৈধতা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর। দুই দেশের মধ্যে তথ্য এবং মেধার আদানপ্রদান বাড়ানোর বিষয়েও সম্মত হয়েছেন মোদি এবং মের্ৎস।

  • Mohan Bhagwat: “সংঘের উদ্দেশ্য ভারতকে বিশ্বের আধ্যাত্মিক কেন্দ্রে পরিণত করা”, বললেন মোহন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “সংঘের উদ্দেশ্য ভারতকে বিশ্বের আধ্যাত্মিক কেন্দ্রে পরিণত করা”, বললেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক কৃষ্ণচেতন সমাজ সংগঠন ইসকনের (ISKCON) প্রবক্তা শীল প্রভুপাদের ভক্তিবেদান্ত সমগ্র জীবন মানবজাতির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস এবং তিনি ভারতীয় সংস্কৃতি, সনাতনী মূল্যবোধ ও ভগবত গীতার সার্বজনীন বার্তা বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছেন। ইসকন সমগ্র মানব সমাজকে নতুন দিক দেখিয়েছে— এভাবেই মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) এর সরসংঘ চালক মোহন ভগবত। সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে সরসংঘ চালক মোহন ভগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, সংঘের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ধর্মীয় কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভারতকে বিশ্বের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

    বিশ্বের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র ভারত(Mohan Bhagwat)

    গত ১০ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে চন্দ্রোদয় মন্দিরে যান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। এরপর সংঘের কাজ সম্পর্কে বলেন, “সংঘ এবং চন্দ্রোদয় মন্দিরের (ISKCON) সঙ্গে যুক্ত ভক্তদের উদ্দেশ্য শুধু ধর্মীয় কাজকর্মেই সীমাবদ্ধ নয় বরং ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন, মানশীল শিক্ষাদান, সমাজসেবার মাধ্যমে ও সামাজিক সামঞ্জস্য রক্ষা করে ভারতকে বিশ্বের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা। সমাজ, দেশ এবং রাষ্ট্রের জন্য সম্পূর্ণ সমর্পণ ভাব হল ধর্মীয় উপলব্ধির প্রধান উদ্দেশ্যে। তাই ধর্মের সঙ্গে রাষ্ট্রভক্তি একান্ত অপরিহার্য।”

    মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি বার্তালাপে পড়ুয়াদের শিক্ষা, মূল্যবোধ ও সেবার গুরুত্ব উপলব্ধির বিষয়কে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দিয়েছে আলোচনা করেছে। পড়ুয়াদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সরসংঘ চালক বিশেষ ভাবে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি মন্দিরে শ্রী রাধা বৃন্দাবন চন্দ্রের দর্শনও করেছেন এবং সমাজের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেছেন।

    ভগবতগীতা অ্যাজ ইট ইজ- গ্রন্থ পরিদর্শন

    চন্দ্রোদয় (ISKCON) মন্দিরের জনসংযোগ প্রধান ভারতারিষভ দাস জানিয়েছেন, মন্দির পরিদর্শনের পর মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) শ্রীল প্রভুপাদকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। “ভগবতগীতা অ্যাজ ইট ইজ”- গ্রন্থের বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত সংস্করণগুলো পরিদর্শন করে দেখেছেন। একাধিক নির্মাণাধীন মন্দির ভবনের মডেলও দর্শন করেছেন। সেই সঙ্গে মন্দিরের আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যও ব্যাখ্যা করেছেন। এদিন মোহন ভাগবতের সঙ্গে সংঘের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্বরাও উপস্থিত ছিলেন।

  • PM Modi: ইতিহাস হতে চলেছে ঐতিহাসিক সাউথ ব্লক, প্রধানমন্ত্রীর দফতর সরে যাচ্ছে ‘সেবা তীর্থে’

    PM Modi: ইতিহাস হতে চলেছে ঐতিহাসিক সাউথ ব্লক, প্রধানমন্ত্রীর দফতর সরে যাচ্ছে ‘সেবা তীর্থে’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঐতিহাসিক সাউথ ব্লক ছেড়ে নয়া কার্যালয়ে স্থানান্তরিত হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। স্বাধীনতার পর থেকে এতদিন প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO) ছিল এখানেই। সেখান থেকেই পাততাড়ি গুটিয়ে সরে যাচ্ছে পিএমও। জানা গিয়েছে, ১৪ জানুয়ারি (মকর সংক্রান্তি)-র পর প্রধানমন্ত্রী, তাঁর দফতর, ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সেক্রেটারিয়েট নিয়ে নতুন সেবা তীর্থ কমপ্লেক্সে কাজ শুরু করতে পারেন।

     সেবা তীর্থ (PM Modi)

    রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে দারা শিকো রোডে (পূর্বতন ডালহৌসি রোড) কেন্দ্রীয় সরকারের সেন্ট্রাল ভিস্তা পুনর্গঠন প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই এক্সিকিউটিভ এনক্লেভ বা সেবা তীর্থ কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেই ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট নতুন কমপ্লেক্সে স্থানান্তরিত হয়েছে। খুব শীঘ্রই সেখানে যাবে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সেক্রেটারিয়েট। সবশেষে, মকর সংক্রান্তির পর প্রধানমন্ত্রী নিজেও নতুন দফতরে গিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন।  সেবা তীর্থ কমপ্লেক্সে পিএমও, ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট এবং এনএসসিএস—তিনটি আলাদা ভবন রয়েছে। আগে ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রাঙ্গন থেকে কাজ করত, আর এনএসসিএসের দফতর ছিল পার্লামেন্ট স্ট্রিটের সর্দার প্যাটেল ভবনে (PM Modi)।

    নতুন সরকারি বাসভবন

    এক্সিকিউটিভ এনক্লেভ পার্ট-১-এর কাছেই নির্মাণ কাজ চলছে প্রধানমন্ত্রীর নতুন সরকারি বাসভবনের, যা এক্সিকিউটিভ এনক্লেভ পার্ট-২ নামে পরিচিত (PMO)। সূত্রের দাবি, নতুন পিএমও ভবনের অধিকাংশ অফিস আধুনিক ওয়ার্কস্পেসের আদলে তৈরি, ঠিক যেমন সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের অধীনে নির্মিত কার্তব্য ভবনগুলিতে দেখা গিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব কক্ষ এবং রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত কক্ষগুলি তুলনামূলকভাবে আরও জাঁকজমকপূর্ণভাবে সাজানো হয়েছে। এই কমপ্লেক্স নির্মাণ করেছে লারসেন অ্যান্ড টুব্রো। কেন্দ্রীয় গণপূর্ত দফতর জানিয়েছিল, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর এই প্রকল্পের বরাত দেওয়া হয় (PM Modi)। ব্যয় ধরা হয়েছিল ১,১৮৯ কোটি টাকা, যা প্রস্তাবিত ব্যয়ের তুলনায় ১০.৪৪ শতাংশ কম। নির্মাণের সময়সীমা ধরা হয়েছিল ২৪ মাস।

    সাউথ ব্লকেই ছিল প্রধানমন্ত্রীর দফতর

    তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি বা চূড়ান্ত ব্যয় সম্পর্কে আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রক কিংবা সিপিডব্লুডি আর বিশেষ তথ্য প্রকাশ করেনি। এ বিষয়ে পাঠানো প্রশ্নের কোনও জবাবও মেলেনি (PMO)। স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর আমল থেকে সাউথ ব্লকেই ছিল প্রধানমন্ত্রীর দফতর। ১৯২০-৩০-এর দশকে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত নর্থ ও সাউথ ব্লক ছিল কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের মূল ভবন। সেন্ট্রাল ভিস্তা পুনর্গঠন প্রকল্পের আওতায় এই দুই ঐতিহাসিক ভবনকে জাতীয় জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হবে, যাতে প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষ রাইসিনা হিলের এই লাল বেলেপাথরের ভবনগুলি ঘুরে দেখতে পারেন। ইতিমধ্যেই নর্থ ব্লকের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্র ও অর্থমন্ত্রক সরে যাওয়ার পর, সাউথ ব্লকের সংস্কারের জন্যও টেন্ডার ডাকা হয়েছে। ভবন খালি হলেই কাজ শুরু হবে (PM Modi)। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে ঘোষিত সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের অধীনে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে নয়া সংসদ ভবন, উপরাষ্ট্রপতির এনক্লেভ এবং ১০টি নতুন কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ভবনের মধ্যে প্রথম তিনটি কর্তব্য ভবন নির্মিত হয়েছে (PMO)।

LinkedIn
Share