Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • India’s Pralay Missile: রেঞ্জে বাংলাদেশ, পাকিস্তান! একই লঞ্চার থেকে পর পর দু’বার ছোড়া হল প্রলয়

    India’s Pralay Missile: রেঞ্জে বাংলাদেশ, পাকিস্তান! একই লঞ্চার থেকে পর পর দু’বার ছোড়া হল প্রলয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সারা বিশ্ব যখন বর্ষবরণ উৎসবের প্রস্তুতিতে মগ্ন, তখনই দেশের সুরক্ষায় কঠোর ভারত। বছরের শেষ দিনে শত্রুদের নিজের শক্তির কথা জানিয়ে সতর্ক করল ভারত। তবে কোনও হামলা নয়, নিজের আত্মরক্ষার প্রস্তুতিতে মগ্ন দিল্লি। ওড়িশার চাঁদিপুরে গর্জে উঠল ভারত। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও ডিআরডিও পরপর একই লঞ্চার থেকে দু’টি ‘প্রলয়’ মিসাইল (India’s Pralay Missile) উৎক্ষেপণ করল। এই প্রথম ব্যাক-টু-ব্যাক টেস্ট। আর দুই ক্ষেত্রেই সফল ভারত। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ওড়িশার চাঁদিপুর উপকূলের ‘ডক্টর এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ’ থেকে প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। বুধবারের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ডিআরডিও, ভারতীয় সেনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।

    পিনাকারের পরে প্রলয়

    পিনাকার পরে প্রলয়- এক সপ্তাহের মধ্যেই পরপর দুটি মিসাইল পরীক্ষায় সাফল্য পেল ভারত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বুধবার সকাল ১০ টা ৩০ মিনিট নাগাদ ওড়িশা উপকূল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি প্রলয় মিসাইলের উৎক্ষেপণ করেছে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)। রুটিন পরীক্ষার অংশ হিসেবে সেই মিসাইল লঞ্চ করা হয়েছে। আর চাঁদিপুরে থাকা ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জের ট্র্যাকিং সেনসর এবং জাহাজ থেকে যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তা থেকে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে দুটি মিসাইলই নির্দিষ্ট পথ ধরেই এগিয়ে গিয়েছে। পূরণ করেছে যাবতীয় মাপকাঠি।

    প্রলয় মিসাইলের রেঞ্জ

    প্রলয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরের লক্ষ্যে আঘাত করতে পারে। ‘ভূমি থেকে ভূমি’ ক্ষেপণাস্ত্রগুলি উড়ন্ত অবস্থায় অভিমুখ বদলাতেও পারে। ২০২২ সালে ভারতীয় সেনার অস্ত্রাগারে প্রথম শামিল হয়েছিল প্রলয়। তার পর থেকে সেটি উন্নত করার কাজ করছে ডিআরডিও। ৩৫০ থেকে ৭০০ এবং ৫০০ থেকে হাজার কেজির উচ্চ শক্তির বিস্ফোরক ব্যবহার করে প্রলয়। শত্রুপক্ষের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রকে এড়িয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে প্রলয়। ভারতীয় সেনার পাশাপাশি বায়ুসেনাও এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে থাকে।

    সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি প্রলয়

    সম্পূর্ণ দেশীয় সরঞ্জাম এবং পদ্ধতিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হয়। ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে চিনা ফৌজের আগ্রাসন এবং গালওয়ান উপত্যকায় রক্তাক্ত সংঘর্ষের পরে এলএসি-তে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে সক্রিয় হয়েছিল ভারতীয় সেনা। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ২০২২ সালে পূর্ব লাদাখে মোতায়েন করা হয়েছে প্রলয়।

    প্রলয় কেন আলাদা

    প্রলয় কেবল কোনও সাধারণ মিসাইল নয়, এটি একটি আধা-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো এটি নির্দিষ্ট পথে চলে না। ওড়ার সময় এটি নিজের গতিপথ বদলে ফেলতে পারে। ফলে শত্রুপক্ষের এয়ার ডিফেন্স একে ট্র্যাক করতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলবে। ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই মিসাইলটি মোবাইল লঞ্চার থেকে যে কোনও সময় ছোড়া সম্ভব।

    রণক্ষেত্রের গেম-চেঞ্জার

    প্রলয়ের আসল শক্তি লুকিয়ে আছে এর ওয়ারহেডে। পিএফ ওয়ারহেড: একটি ৭০০ কেজির ওয়ারহেডে থাকে ৮৩ হাজার ৫০০টি টাংস্টেনের টুকরো। বিস্ফোরণের পর ১০০ মিটার এলাকা কার্যত গুঁড়িয়ে দেয় এই মিসাইল। রানওয়ে ধ্বংস: এর আরডিপিএস প্রযুক্তি মাত্র কয়েক সেকেন্ডে শত্রু বিমানঘাঁটির রানওয়েতে বড় বড় গর্ত তৈরি করে দিতে পারে। ফলে যুদ্ধবিমান সেখানে থাকলেও তা ওড়ার সুযোগই পাবে না।

    সতর্ক পাকিস্তান-বাংলাদেশ

    প্রলয় মিসাইলের সেই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের দিনদুয়েক আগেই ওড়িশার উপকূল থেকে পিনাকা দূরপাল্লার মিসাইলের পরীক্ষা করা হয়। এই মিসাইলের এটি প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ ছিল। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে এই মিসাইল। এই পিনাকা গাইডেড রকেটটির সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত ভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। অর্থাৎ ভারতের উত্তরপূর্ব সীমান্ত থেকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের মতো শহর অনায়াসে সেই মিসাইলের রেঞ্জে চলে আসতে পারে। এছাড়াও বাংলাদেশের খুলনা, রাজশাহির মতো যে কোনও বড় শহরই এই মিসাইলের রেঞ্জে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর প্রলয়ের রেঞ্জেও বাংলাদেশ থাকবে। যেমন কলকাতা থেকে ঢাকার দূরত্ব মেরেকেটে ৩৫০ কিমি। যদিও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ভারতের এমন অনেক মিসাইল আছে, যেগুলির রেঞ্জে আছে বাংলাদেশ। ব্রহ্মোস মিসাইলের তো রেঞ্জে আছে পাকিস্তানও। গত অক্টোবরেই ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং তো বলেছিলেন, ‘দেশ আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের প্রতিপক্ষরা আর কোনওভাবেই ব্রহ্মোসের গ্রাস থেকে পালাতে পারবে না। পাকিস্তানের ভূখণ্ডের প্রতিটি ইঞ্চি এখন আমাদের ব্রহ্মোসের নাগালের মধ্যে আছে।’ সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জোড়া উৎক্ষেপণ নিছক পরীক্ষা নয়। পূর্ব এবং পশ্চিম—দুই সীমান্তের প্রতিবেশীদের জন্যই এটি কড়া বার্তা। ভারতের কৌশলগত লক্ষ্য এখন পরিষ্কার, যুদ্ধের শুরুতেই শত্রুর তেল ভাণ্ডার এবং সেনা ছাউনি ধ্বংস করে তাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া।

  • PM Modi: অযোধ্যায় রাম লালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার বর্ষপূর্তিতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: অযোধ্যায় রাম লালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার বর্ষপূর্তিতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যায় রাম লালার (Ayodhya Ram Mandir) প্রাণ প্রতিষ্ঠার দ্বিতীয় বার্ষিকীকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এক ঐশ্বরিক উদযাপন রূপে বর্ণনা করেছেন। কোটি কোটি ভক্তের শত শত বছরের ভক্তি ও আকাঙ্ক্ষা সফল রূপ পেয়েছে রামমন্দিরে। রামা লালার প্রাণপ্রতিষ্ঠা ছিল একটি ভব্য এবং দিব্য উৎসব। ৫০০ বছরের আন্দোলন এবং রামভক্তদের স্বপ্ন প্রতিফলিত হয়েছে। শ্রী রামই ভারতীয় সংস্কৃতির আসল প্রতীক।

    শত শত বছরের আকাঙ্ক্ষার সফল পরিণতি (PM Modi)

    দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ৩১ ডিসেম্বর অযোধ্যায় রাম লালার (Ayodhya Ram Mandir) প্রাণ প্রতিষ্ঠার দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ভারত এবং বিশ্বজুড়ে হিন্দু সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এই দিন সম্পর্কে বলেন, “আমাদের আস্থা এবং ঐতিহ্যের এক দিব্য উৎসব। শত শত বছরের হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত গৌরবের মাহেন্দ্রক্ষণ। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী ভগবান শ্রী রামের চরণে প্রণাম জানান। সেই সঙ্গে লিখেছেন, “অযোধ্যায় প্রাণপ্রতিষ্ঠার দিনটির অত্যন্ত গৌরবের এবং আধ্যাত্মিক ভক্তি ভাবুকতায় পরিপূর্ণ। রাম ভক্তদের শত শত বছরের আকাঙ্ক্ষার সফল পরিণতি পেয়েছে। ঐতিহাসিক ভাবে প্রাণ প্রতিষ্ঠার দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। আজ অযোধ্যার পবিত্র ভূমিতে রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এই বার্ষিকী আমাদের আস্থা এবং ঐতিহ্যের এক দিব্য উৎসব। এই পবিত্র ও পুণ্য তিথিতে দেশে-বিদেশে থাকা সকল রাম ভক্তের পক্ষ থেকে প্রভু শ্রী রামের চরণে আমার কোটি কোটি নমস্কার।”

    রাম আমাদের অনুপ্রেরণা

    প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi) এই বছরেই আরেকটি নতুন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন যা হল অযোধ্যার ধর্ম ধ্বজার উত্তোলন। ফলে এই বছরই আবার প্রথমবার নব উত্তোলিত ধর্ম ধ্বজ রাম লালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সাক্ষী থাকছে। রাম মন্দিরের (Ayodhya Ram Mandir) এই ধ্বজ ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য এবং নৈতিক মূল্যবোধের প্রতীক। তাই মোদি বলেছেন, “আমার সৌভাগ্য যে গত মাসে আমি এই পবিত্র ধ্বজ স্থাপনায় অংশ নেওয়ার শুভ সুযোগ পেয়েছিলাম। শ্রীরামের মর্যাদা পূর্ণ প্রতীকের অনুপ্রেরণা প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে সেবা, নিষ্ঠা এবং সহানুভূতির অনুভূতিকে আরও গভীর ভাগে জাগিয়ে তুলবে। সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভর ভারত গড়তে শ্রী রাম আমাদের অনুপ্রেরণা।”

    ধর্ম ধ্বজার আনুষ্ঠানিক উত্তোলনকে ধর্মীয় তাৎপর্যের বাইরে গিয়ে ভারতের বৃহত্তর জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে যুক্ত করেছেন মোদি। একই ভাবে দেশবাসীর কাছে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভগবান রাম সবসময় মর্যাদা পুরুষোত্তম হিসেবে পূজিত হন। তাঁর আদর্শগুলি নাগরিকদের মধ্যে সেবা, নিষ্ঠা এবং সহানুভূতির মূল্যবোধকে শক্তিশালী করতে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

  • Sambit Patra: ‘‘আপনি গোটা ভারতকেই হুমকি দিচ্ছেন, রক্ষা করছেন অনুপ্রবেশকারীদের’’, মমতাকে তোপ বিজেপির

    Sambit Patra: ‘‘আপনি গোটা ভারতকেই হুমকি দিচ্ছেন, রক্ষা করছেন অনুপ্রবেশকারীদের’’, মমতাকে তোপ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আপনি কেবল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেই নয়, গোটা দেশকেই হুমকি দিচ্ছেন।” বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই ভাষাতেই আক্রমণ শানালেন বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র। অনুপ্রবেশকারী ইস্যু ও এসআইআর (SIR) নিয়ে অমিত শাহ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে তীব্র বাক্‌যুদ্ধের পর সাংবাদিক সম্মেলনে সম্বিত বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আপনি হোটেলের ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন। আমরা চাইলে আপনাকে হোটেল থেকে বেরোতেই দিতাম না। আমরা আপনাকে বেরোতে দিয়েছি, এটাই আপনার সৌভাগ্য।’ এটাই প্রথম নয়, এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে।” তিনি বলেন, “আপনি অমিত শাহকে হুমকি দিচ্ছেন না, আপনি গোটা ভারতকেই হুমকি দিচ্ছেন। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করবে।”

    বিজেপি কর্মী খুন ও অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে তোপ

    সম্বিতের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের দ্বারা পশ্চিমবঙ্গে ৩০০-এরও বেশি বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন। তাঁর দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসের গুন্ডারা পশ্চিমবঙ্গে ৩০০-এর বেশি বিজেপি কর্মীকে হত্যা করেছে। অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়াতেই তাঁর সমস্যা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গকে ধ্বংস করেছেন।” তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করছেন।

    সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে তোপ

    সম্বিত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগকেও সমর্থন করেন। তিনি বলেছিলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিচ্ছে না।” এদিন সে প্রসঙ্গ টেনেই সম্বিত বলেন, “অমিত শাহ স্পষ্টভাবে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি, অবিচার ও অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে রাজনীতি চলছে। মমতা সরকার সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য জমি দিচ্ছে না। ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ পড়ছে বলেই তৃণমূল নেতৃত্ব অস্বস্তিতে।” ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে এ রাজ্যে। মঙ্গলবার শাহ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র বাক্যবাণ ছোড়েন।

    ভয় ও দুর্নীতি তত্ত্বে তৃণমূলকে শাহি আক্রমণ

    শাহের অভিযোগ, গত ১৪ বছরে পশ্চিমবঙ্গের পরিচয় হয়ে উঠেছে ভয় ও দুর্নীতি। রাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য জমি না দেওয়ার বিষয়েও তিনি কাঠগড়ায় তোলেন তৃণমূল পরিচালিত সরকারকে। সাংবাদিক সম্মেলনে শাহ বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন থমকে গিয়েছে। মোদি সরকারের সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এখানে কাটমানি সিন্ডিকেটের শিকার হয়েছে। গত ১৪ বছর ধরে ভয় ও দুর্নীতিই পশ্চিমবঙ্গের পরিচয়।” তিনি এও বলেছিলেন, “২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিলের পর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠিত হলে আমরা বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবন শুরু করব। এই বঙ্গভূমি আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এই মাটি থেকেই বিজেপির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।”

    মমতার জবাব

    শাহের অভিযোগের পাল্টা জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিজেপি নেতাদের মহাভারতের দুর্যোধন ও দুঃশাসনের সঙ্গে তুলনা করেন। মমতা বলেন, “বাংলায় দুঃশাসন এসেছে। ভোট এলেই দুর্যোধন-দুঃশাসনের আবির্ভাব হয়। শকুনির শিষ্য দুঃশাসন এসেছে তথ্য সংগ্রহ করতে। আজ বলছে, আমি নাকি জমি দিইনি। আমি যদি জমি না দিতাম, তাহলে পেট্রাপোল বা আন্দালে জমি এল কোথা থেকে?” তাঁর দাবি, পেট্রাপোল ও আন্দাল, দুই জায়গায়ই সীমান্তে বেড়ার জন্য জমি দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এসআইআর এবং অনুপ্রবেশই ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মূল ইস্যু হয়ে উঠতে চলেছে।

  • Ayodhya Ram Mandir: কীভাবে ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতার শক্তি একটি সনাতন সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করে তার প্রমাণ অযোধ্যার রামমন্দির

    Ayodhya Ram Mandir: কীভাবে ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতার শক্তি একটি সনাতন সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করে তার প্রমাণ অযোধ্যার রামমন্দির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যায় রাম মন্দিরের (Ayodhya Ram Mandir) প্রাণ প্রতিষ্ঠা (Pran Pratishtha Anniversary) বার্ষিকী ভারতের আধুনিক ইতিহাসে অন্যতম সুদূরপ্রসারী বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। পৌষ শুক্ল পক্ষের দ্বাদশী, ৩১ ডিসেম্বর পালিত হয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী হিসেবে। ফলে এই মাহেন্দ্রক্ষণ কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি একটি যুগান্তকারী ঘটনা, যা বিশ্বাস-আস্থা- ইতিহাস-সংস্কৃতি এবং জাতীয় চেতনাকে একসূত্রে বেঁধে রেখেছে। রামমন্দির ভারতীয় সংস্কৃতির প্রধান পরিচয়।

    অযোধ্যা নগরী ত্রেতা যুগের রাজধানী (Ayodhya Ram Mandir)

    রাম মন্দির (Ayodhya Ram Mandir) অযোধ্যায় দণ্ডায়মান, যা ভগবান শ্রী রামের (Pran Pratishtha Anniversary) জন্মস্থান হিসেবে পূজিত হয়। শ্রী রাম হিন্দু সভ্যতার এক কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব। প্রভু রাম হলেন ধর্ম, ন্যায় ও আদর্শ শাসনের মূর্ত প্রতীক। শতাব্দী ধরে, অযোধ্যা ভারতের আধ্যাত্মিক মানচিত্রে এক পবিত্র স্থান অধিকার করে আছে। রাম ভক্ত, সাধুসন্ত, তীর্থযাত্রী, পণ্ডিতদের আকর্ষণীয় কেন্দ্র। রাম লালা নিজের মহান মানব গুণে ভগবানের পর্যায়ে উন্নীত হয়েছেন। তিনি মর্যাদা পুরুষোত্তম রাম। অযোধ্যানগরী ত্রেতা যুগের রাজধানী। তাই অযোধ্যা ধামকে সনাতন ঐতিহ্যের সাতটি পবিত্র স্থানের মধ্যে অন্যতম হিসেবে ধরা হয়।

    সাংস্কৃতিক আত্মমর্যাদার প্রতীক

    রাম মন্দির (Ayodhya Ram Mandir) নির্মাণ কয়েক দশক ধরে চলা এক দীর্ঘ ঐতিহাসিক ও আইনি প্রক্রিয়ার ফল। ভক্তরা কয়েক প্রজন্ম ধরে এই বিশ্বাসে ছিলেন রাম জন্মভূমিতে (Pran Pratishtha Anniversary) এক বিশাল মন্দির একদিন গড়ে উঠবে। এই মন্দির বা রাম লালার বিগ্রহ কেবল ভক্তি নয়, সাংস্কৃতিক আত্মমর্যাদারও প্রতীক। সাংবিধানিক উপায়ে এই মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনায় ভারতের গণতান্ত্রিক ও বিচার ব্যবস্থার উপর বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। তাই মন্দিরটি কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, সভ্যতার অবিচলতার আরও এক প্রতীক।

    রাম আশ্রয়স্থল

    সনাতন ধর্মে, প্রাণ প্রতিষ্ঠা মন্দির পূজার অন্যতম পবিত্র আচার। শব্দটি আক্ষরিক অর্থে বোঝায় জীবনের সঞ্চার। প্রভু রাম আগে এখানেই ছিলেন। মন্দির পুনঃপ্রতিষ্ঠায় রামলালাকে আরেকবার গর্ভগৃহে স্থাপনা করা হয়েছে। সেই মুহূর্তটিকে নির্দেশ করে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে দেবতার ঐশ্বরিক উপস্থিতি মূর্তিতে আহ্বান করা হয়, এটিকে একটি নির্মিত রূপ থেকে পূজার যোগ্য এক জীবন্ত মূর্তিতে রূপান্তরিত করেছে। সমস্ত সনাতন হিন্দু ধর্মের (Pran Pratishtha Anniversary) মানুষের কাছে এই মন্দির (Ayodhya Ram Mandir) সকল আস্থার ভর কেন্দ্র।

    প্রাণ প্রতিষ্ঠা ছিল অনুষ্ঠানটির ছিল বহুমাত্রিক

    ২০২৪ সালে শ্রী রাম মন্দিরে প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠান প্রাচীন শাস্ত্র এবং বৈদিক নির্দেশাবলী কঠোরভাবে পালন করে সম্পন্ন হয়েছিল। ভগবান শ্রী রামকে (Ayodhya Ram Mandir) আনুষ্ঠানিকভাবে গর্ভগৃহে অধিষ্ঠিত করা হয়েছিল। ভক্তদেরকে শ্রী রাম লালার সঙ্গে সরাসরি আধ্যাত্মিক সম্পর্ক স্থাপন করে দেয়। প্রাণ প্রতিষ্ঠার হিন্দুধর্মে গভীর ধর্মতাত্ত্বিক ও দার্শনিক গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বাস করা হয় যে এই আচারের মাধ্যমে মূর্তির মধ্যে ঐশ্বরিক চেতনা জাগ্রত হয়, যা ভক্তদের (Pran Pratishtha Anniversary) আধ্যাত্মিক সংযোগ এবং ঐশ্বরিক কৃপা অনুভব করতে সক্ষম করে।

    শ্রী রাম মন্দিরে (Ayodhya Ram Mandir) প্রাণ প্রতিষ্ঠা ছিল অনুষ্ঠানটির ছিল বহুমাত্রিক তাৎপর্য:

    • ধর্মীয় তাৎপর্য: এটি মন্দিরের আধ্যাত্মিক ভিত্তি সম্পূর্ণ হয়েছে, সনাতন ঐতিহ্য অনুসারে পূর্ণাঙ্গ পূজা পরিচালনার পথ খুলে দিয়েছে।
    • সাংস্কৃতিক তাৎপর্য: এটি ভারতের প্রাচীন আচার-অনুষ্ঠানগুলিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সহস্রাব্দ-প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।
    • সভ্যতার তাৎপর্য: এটি ভারতীয় সভ্যতার সহনশীলতার প্রতীক, যা ঐতিহাসিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তার বিশ্বাস এবং পরিচয়কে ধরে রেখেছিল।

    ভক্তদের জন্য, প্রাণ প্রতিষ্ঠা প্রতীকী অভিনয় নয়; এটি মানব ও ঐশ্বরিকতার মধ্যে মিলনের এক গভীর মুহূর্ত।

    শুদ্ধিকরণ, অভিষেক, মন্ত্রপাঠ

    রাম মন্দিরের (Ayodhya Ram Mandir) প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানটি আচারের এক সুচিন্তিতভাবে কাঠামোগত ক্রম অনুসরণ করা হয়েছিল।

    বিগ্রহের শুদ্ধিকরণ: ভগবান শ্রী রামের বিগ্রহকে পবিত্র জল, পঞ্চামৃত (দুধ, দই, ঘি, মধু এবং চিনির মিশ্রণ) এবং বৈদিক মন্ত্র ব্যবহার করে আনুষ্ঠানিকভাবে শুদ্ধ করা হয়েছিল। এই পদক্ষেপটি শারীরিক ও আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধি নির্দেশ করে।

    অভিষেক: দেবতাকে গঙ্গা জল এবং অন্যান্য পবিত্র পদার্থ দিয়ে স্নান করানো হয়েছিল, যা ঐশ্বরিক পবিত্রতা এবং আধ্যাত্মিক জাগরণের (Pran Pratishtha Anniversary) প্রতীক।

    মন্ত্র পাঠ এবং যজ্ঞ: বৈদিক পণ্ডিতরা বিস্তৃত যজ্ঞ সম্পাদন করেছিলেন, ঐশ্বরিক শক্তি এবং আশীর্বাদ আহ্বান করার জন্য শক্তিশালী মন্ত্র জপ করার সময় পবিত্র অগ্নিতে নৈবেদ্য প্রদান করেছিলেন।

    মূল প্রাণ প্রতিষ্ঠা: এই কেন্দ্রীয় আচারটিতে শাস্ত্রীয় পদ্ধতি অনুসারে বিদ্বান পুরোহিত এবং সাধুদের দ্বারা কঠোরভাবে পরিচালিত মূর্তির মধ্যে প্রতীকীভাবে প্রাণ শক্তি সঞ্চালন জড়িত ছিল।

    গর্ভগৃহে স্থাপন: প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর, আরতি, ভজন এবং ভক্তিমূলক স্তোত্রের মাধ্যমে বিগ্রহকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থায়ীভাবে গর্ভগৃহে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল।

    প্রতিটি পদক্ষেপই নিয়ম, পবিত্রতা এবং শ্রদ্ধার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এগুলি আচারের গভীরতা এবং তাৎপর্যকে প্রতিফলিত করে।

    শ্রী রামের প্রাণ প্রতিষ্ঠার (Pran Pratishtha Anniversary) প্রভাব সুদূরপ্রসারী

    • ধর্মীয় প্রভাব: বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের জন্য, অনুষ্ঠানটি সম্মিলিত বিশ্বাস এবং ভক্তিকে শক্তিশালী করেছে, ধর্ম এবং আধ্যাত্মিক শৃঙ্খলার উপর আস্থা জোরদার করেছে।
    • সাংস্কৃতিক প্রভাব: এই ঘটনাটি ভারতের জীবন্ত ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছে, তরুণ প্রজন্মকে রামায়ণ-ভিত্তিক আচার, মূল্যবোধ এবং সভ্যতার আখ্যানগুলির কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।
    • সামাজিক ঐক্য: মন্দিরটি একটি ঐক্যবদ্ধ প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা অঞ্চল, জাতি এবং ভাষাগত পটভূমি নির্বিশেষে ভক্তদের আকর্ষণ করছে, একীভূত আধ্যাত্মিক পরিচয়কে উৎসাহিত করছে।

    এছাড়াও, অযোধ্যা ধর্মীয় পর্যটন (Ayodhya Ram Mandir), অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের পুনর্জাগরণ দেখছে, যা আঞ্চলিক বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক দৃশ্যমানতায় অবদান রাখছে।

    রামরাজ্যের মূল নীতি

    রাম রাজ্যের ধারণা ভারতীয় দার্শনিক চিন্তাধারায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। রামায়ণে ন্যায়বিচার, নৈতিক শাসন এবং সম্মিলিত কল্যাণের যুগ হিসাবে বর্ণিত, রাম রাজ্য কোনো ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্র না হয়ে একটি আদর্শ সামাজিক শৃঙ্খলাকে প্রতিনিধিত্ব করে। রাম রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত মূল নীতিগুলির মধ্যে রয়েছে:

    • ন্যায়বিচার এবং সমতা: সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সাথে ন্যায্য আচরণ।
    • ধর্মের প্রাধান্য: নৈতিক এবং নীতিগত মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত শাসন।
    • সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ: সামাজিক ঐক্যের সাথে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি।
    • পরিবেশগত ভারসাম্য: প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং সুস্থির জীবনযাপন।
    • মানবিক মর্যাদা: ভয়, ক্ষুধা এবং শোষণের অনুপস্থিতি।

    তুলসীদাস, রামচরিতমানসে, এই আদর্শ সমাজকে দুঃখ, ভয়, রোগ এবং বৈষম্যমুক্ত হিসাবে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন—যা একটি ঐতিহাসিক দাবি না হয়ে একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষা।

    আধ্যাত্মিক আকাঙ্ক্ষাকে সামাজিক রূপ

    পরিশেষে, শ্রী রাম মন্দিরের (Ayodhya Ram Mandir) প্রাণ প্রতিষ্ঠা বিচ্ছিন্নতার পরিবর্তে সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার প্রতিনিধিত্ব করে। প্রাচীন বিশ্বাসকে আধুনিক শাসনের সঙ্গে আধ্যাত্মিক আকাঙ্ক্ষাকে সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। মূল ভাব ভক্তির মধ্যে নিহিত হলেও, এর বৃহত্তর বার্তাটি নৈতিক জীবনযাপন, ঐক্য এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে।

    অযোধ্যার গর্ভগৃহে ভক্তরা প্রার্থনা করার সময়, মন্দিরের কেবল উপাসনার স্থান হিসাবেই নয়, ভারতীয় সভ্যতার একটি জীবন্ত প্রতীক হিসাবেও কাজ করে। এই যাত্রা ঐতিহ্য এবং আধুনিকতা, বিশ্বাস এবং যুক্তি, ব্যক্তিগত ভক্তি এবং সম্মিলিত কল্যাণের মধ্যে সমন্বয়ের আদর্শে পরিপূর্ণ।

  • India Surpasses Japan: জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হল ভারত

    India Surpasses Japan: জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাপানকে পেছনে ফেলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে ভারত (India Surpasses Japan)। বর্তমানে ভারতের অর্থনীতির আকার ৪.১৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, আগামী ২.৫ থেকে ৩ বছরের মধ্যেই, অর্থাৎ ২০৩০ সালের মধ্যে, জার্মানিকে ছাড়িয়ে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠতে চলেছে (Largest Economy)। সরকারের তরফে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ফলে ভারত এখন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল বড় অর্থনীতির দেশ।

    ভারতের প্রকৃত জিডিপি (India Surpasses Japan)

    চলতি অর্থবর্ষ ২০২৫-২৬-এর দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে ৮.২ শতাংশ, যা প্রথম ত্রৈমাসিকের ৭.৮ শতাংশ এবং আগের অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকের ৭.৪ শতাংশ বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। সরকার প্রকাশিত ২০২৫ সালের সংস্কার-সংক্রান্ত এক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, “৪.১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি নিয়ে ভারত জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে, ২০৩০ সালের মধ্যেই ভারতের জিডিপি ৭.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে এবং তখন জার্মানিকে পিছনে ফেলে তৃতীয় স্থানে উঠে আসবে।” বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চিন।

    প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি

    বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনৈতিক গতি আরও চমকপ্রদ হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি পৌঁছেছে গত ছয় ত্রৈমাসিকের সর্বোচ্চ স্তরে, যা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ভারতের অর্থনৈতিক দৃঢ়তার প্রতিফলন বলে মনে করছে সরকার (India Surpasses Japan)। এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উঠে এসেছে দেশীয় চাহিদা, বিশেষ করে শক্তিশালী বেসরকারি ভোগব্যয় (Largest Economy)। সরকারি বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। বিশ্বব্যাঙ্ক ২০২৬ সালে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। এদিকে মুডিজ জানিয়েছে, ভারত ২০২৬ সালে ৬.৪ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে জি-২০ দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবেই থাকবে।

    আইএমএফের বক্তব্য

    আইএমএফ (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) ২০২৫ সালের জন্য ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৬.৬ শতাংশ এবং ২০২৬ সালের জন্য ৬.২ শতাংশ করেছে। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা ২০২৫ সালে ৬.৭ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে ৬.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। এছাড়াও, স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস চলতি অর্থবর্ষে ৬.৫ শতাংশ এবং আগামী অর্থবর্ষে ৬.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (ADB) ২০২৫ সালের জন্য ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭.২ শতাংশ করেছে। শক্তিশালী ভোক্তা চাহিদার কারণে ফিচ (Fitch) ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭.৪ শতাংশ করেছে।

    সরকারি বিবৃতি

    সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বড় অর্থনীতিগুলির অন্যতম এবং এই গতি বজায় রাখার জন্য দেশটি যথেষ্ট শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। ২০৪৭ সালে, স্বাধীনতার শতবর্ষে, উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে ভারত অর্থনৈতিক (Largest Economy) প্রবৃদ্ধি, কাঠামোগত সংস্কার এবং সামাজিক উন্নয়নের শক্ত ভিত্তির ওপর এগিয়ে চলেছে ((India Surpasses Japan))।” বিবৃতিতে এও বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি বর্তমানে সহনশীলতার নিম্ন সীমার নীচে রয়েছে, বেকারত্ব ক্রমহ্রাসমান ধারায় রয়েছে এবং রফতানি খাতে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিক উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়া, অনুকূল রয়েছে আর্থিক পরিস্থিতি। বাণিজ্যিক খাতে ঋণপ্রবাহ শক্তিশালী রয়েছে এবং শহুরে ভোগব্যয় আরও জোরদার হওয়ায় সামগ্রিক চাহিদাও রয়েছে স্থিতিশীল।

  • India China: তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা নেই, ভারত-পাক সংঘর্ষ থামানো নিয়ে চিনের দাবি ওড়াল ভারত

    India China: তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা নেই, ভারত-পাক সংঘর্ষ থামানো নিয়ে চিনের দাবি ওড়াল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তী সময়ে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতার দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারত আগেই তা খারিজ করেছে। এবার পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে চিনের (India China) মধ্যস্থতা করার দাবিকেও উড়িয়ে দিল ভারত। নয়াদিল্লি ফের জানিয়ে দিল, ভারত–পাকিস্তান সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা নেই এবং যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত সরাসরি দুই দেশের সামরিক নেতৃত্বের মধ্যেই গৃহীত হয়েছে।

    বিদেশমন্ত্রকের স্পষ্ট বার্তা

    বুধবার চিনের (India China) বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র দাবি স্পষ্ট ভাষায় খারিজ করে ভারত জানাল, সংঘর্ষবিরতিতে তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা নেই। দুই দেশের ‘ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস’ (ডিজিএমও)-এর মধ্যে সরাসরি আলোচনার পরই ১০ মে যুদ্ধ স্থগিত করা হয়। সরকারি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী জানানো হয়েছে, “আমরা এই ধরনের দাবি ইতিমধ্যেই খারিজ করেছি। ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা নেই। অতিতেও একাধিকবার আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, ভারত ও পাকিস্তানের ডিজিএমও-দের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই এই যুদ্ধবিরতি সম্পন্ন হয়েছে।”

    চিনের দাবি ওড়াল ভারত

    সম্প্রতি বেজিংইয়ে আন্তর্জাতিক নীতি সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারত-পাক যুদ্ধবিরতির (India Pakistan Conflict) কৃতিত্ব দাবি করেন চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। তিনি বলেন, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কখনও এত ঘন ঘন স্থানীয় যুদ্ধ বা সীমান্ত সংঘাত দেখা যায়নি। যা এই বছর দেখা গিয়েছে। কঠিন এই সময়ে চিন নিরপেক্ষ ও ন্যায় সঙ্গত অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ করেছে।” উদাহরণ তুলে ধরে একইসঙ্গে তিনি বলেন, “শান্তি প্রতিষ্ঠার সেই লক্ষে চিন উত্তর মায়ানমার, ইরানের পরমাণু ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, প্যালেস্টাইন-ইজরায়েল যুদ্ধ, কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ডের পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তানের সংঘর্ষ থামাতেও মধ্যস্থতা করেছে।” ভারত-পাক যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে চিনের এহেন দাবি সামনে আসতেই বিতর্ক চরম আকার নেয়। এবার সে দাবি স্পষ্টভাষায় খারিজ করল ভারত।

    কৃতিত্ব নেওয়ার লড়াই এই প্রথম নয়

    এই প্রথম নয়—এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একাধিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাবি করেছিলেন যে তাঁর উদ্যোগেই ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থেমেছে। ট্রাম্প দাবি করেন, দুই দেশকে শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়ে সংঘর্ষবিরতিতে তিনিই রাজি করিয়েছেন। ভারত সরকার এই দাবি উড়িয়ে দেয় প্রথম থেকেই। নয়াদিল্লি জানিয়েছিল, সামরিক স্তরে ভারত এবং পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই সংঘর্ষবিরতি হয়েছে। তৃতীয় কোনও দেশের হস্তক্ষেপ এ ক্ষেত্রে স্বীকার করা হয়নি, হবেও না।

    চিনের দ্বিচারিতা

    বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, চিনের সাম্প্রতিক এই দাবি তাদের দ্বিচারিতা তুলে ধরে। কারণ, সংঘাত চলাকালীন বেজিং প্রকাশ্যেই পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছিল এবং সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। যদিও ভারতের হামলায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ১১টি সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিং সম্প্রতি জানান, এই সংঘাতকে চিন কার্যত একটি “লাইভ ল্যাব” হিসেবে ব্যবহার করেছে। তাঁর বক্তব্য, “পাকিস্তান ছিল সামনে, আর চিন সব রকম সহায়তা দিচ্ছিল। গত পাঁচ বছরে পাকিস্তানের ৮১ শতাংশ সামরিক সরঞ্জামই চিনের। নিজেদের অস্ত্র অন্য দেশের অস্ত্রের বিরুদ্ধে পরীক্ষা করার সুযোগ পাচ্ছে তারা।”

    কেন এই দাবি চিনের 

    চিনের উপর নতুন বছরের শুরু থেকেই কিছু ইস্পাত পণ্যে ১১-১২ শতাংশ আমদানি শুল্ক চাপাচ্ছে নয়াদিল্লি। তিন বছরের মেয়াদে এই শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেছে অর্থ মন্ত্রক। এই পদক্ষেপে চিন থেকে সস্তায় ইস্পাত আমদানির বাণিজ্যে লাগাম পরানো যাবে বলে অনুমান। সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুসারে প্রথম বছরে ১২ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১১.৫ শতাংশ ও তৃতীয় ও শেষ বছরে ১১ শতাংশ হারে শুল্ক বসাতে চলেছে ভারত। দেশীয় বাজারকে চাঙ্গা করতে চায় এনডিএ সরকার। কারণ, সস্তায় চিনা ইস্পাতের কারণে দেশের বড় বড় প্রস্তুতকারী সংস্থা ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদরা। এই আবহে ভারতকে কিছুটা চাপে রাখতে হঠাতই পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে মধ্যস্থতার দাবি করল বেজিং। খানিকটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতোই অযৌক্তিক দাবি করলেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই।

    সংঘাতের পটভূমি

    উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও হামলার জবাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে ভারত। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গিঘাঁটিগুলি। এরপর সংঘর্ষে জড়ায় দুই দেশ। চারদিন টানা উত্তেজনার পর ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটে। ভারত ও পাকিস্তানের সংঘর্ষ চলাকালীন একাধিক দেশ উত্তেজনা প্রশমন এবং আঞ্চলিক শান্তির পক্ষে সওয়াল করেছিল। সৌদি আরব, আমেরিকা, রাশিয়া, চিন দুই দেশের সঙ্গেই কথা বলে এবং সংঘর্ষবিরতির আর্জি জানায়। তবে নয়াদিল্লির বক্তব্য, চূড়ান্ত স্তরে সংঘর্ষবিরতি হয়েছে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই।

  • Netaji’s Historic Flag Hoisting: ৮২ বছরেও ‘জয় হিন্দ’-এর চেতনা অমলিন, আন্দামানে নেতাজির তিরঙ্গা উত্তোলনের বর্ষপূর্তি পালিত

    Netaji’s Historic Flag Hoisting: ৮২ বছরেও ‘জয় হিন্দ’-এর চেতনা অমলিন, আন্দামানে নেতাজির তিরঙ্গা উত্তোলনের বর্ষপূর্তি পালিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ঐতিহাসিক তিরঙ্গা পতাকা উত্তোলনের ৮২তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করেন। মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর তিনি জম্মুর রাম বিহার এলাকার জেডিএ পার্কে তিরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করেন এবং ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ফ্ল্যাগ পয়েন্ট’-এর উদ্বোধন করেন।

    অনুষ্ঠানে এলজি সিনহা বলেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু প্রদত্ত “জয় হিন্দ” স্লোগান আজও জাতীয় বীরত্ব ও ঐক্যের প্রতীক। এই স্লোগান একসময় আজাদ হিন্দ ফৌজকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল এবং আজও ১৪০ কোটির বেশি ভারতীয়কে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনীর সব স্তরের সদস্যরা দৈনন্দিন অভিবাদনে ‘জয় হিন্দ’ ব্যবহার করেন।

    লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৪৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু পোর্ট ব্লেয়ারকে ব্রিটিশ শাসনমুক্ত ঘোষণা করেন এবং দেশবাসীর সামনে স্বাধীনতার দৃঢ় সংকল্প তুলে ধরেন। বর্তমান প্রজন্মের কাছে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

    সিনহা বলেন, “নেতাজির দেশপ্রেম ও সাহস ছিল তুলনাহীন। ঐক্যের ভিত্তিতেই দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার বার্তা তিনি দেশবাসীকে দিয়েছিলেন।” তিনি আরও জানান, স্বরাজের পক্ষে অবস্থান, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিল্পায়ন এবং ক্ষুদ্র শিল্প বিকাশে নেতাজির চিন্তাভাবনাই আজকের আত্মনির্ভর ভারতের ভিত্তি নির্মাণ করেছে।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ইতিহাসে প্রাপ্য মর্যাদা পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন মনোজ সিনহা। তিনি বলেন, “অতীতে নেতাজি ও স্বাধীন ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মতো নেতাদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তবে মোদির উদ্যোগে গুজরাটের কেভাডিয়ায় স্থাপিত সর্দার প্যাটেলের বিশাল ব্রোঞ্জ মূর্তি আজ জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।”

    লেফটেন্যান্ট গভর্নর সিনহা জম্মুকে ভারতের জাতীয় ঐক্য ও অবিচ্ছিন্ন সাংস্কৃতিক ধারার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জম্মুর মানুষের দৃঢ় মনোবল প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জম্মু ও কাশ্মীরের সম্পূর্ণ একীকরণের আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছে। সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের দাবিতে জম্মু অঞ্চলের মানুষের ত্যাগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

    অনুষ্ঠানে লেফটেন্যান্ট গভর্নর সিনহা বলেন, “আমাদের ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। ঐক্য বজায় রেখেই আমাদের যৌথ ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ রক্ষা করতে হবে।” তিনি প্রতি বছর ৩০ ডিসেম্বর নিয়মিতভাবে নেতাজিকে স্মরণে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের আহ্বান জানান। এই উপলক্ষে তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতাজির ভূমিকা তুলে ধরে একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শিত হয়।

    অনুষ্ঠানে বিধায়ক শ্যাম লাল শর্মা ও অরবিন্দ গুপ্ত, হাউজিং ও আরবান ডেভেলপমেন্ট দফতরের কমিশনার-সচিব মানদীপ কৌর, ডিভিশনাল কমিশনার রমেশ কুমার, আইজিপি ভীম সেন তুতি, ডিআইজি শিব কুমার শর্মা, ডেপুটি কমিশনার রাকেশ মিনহাস, মিউনিসিপ্যাল কমিশনার দেবাংশ যাদব, জেডিএ-র ভাইস চেয়ারম্যান রুপেশ কুমার-সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। পদ্মশ্রী অধ্যাপক বিশ্বমূর্তি শাস্ত্রী, পদ্মশ্রী ডিএসপি বর্মা এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

  • Filmmakers: ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ নিয়ে বিতর্ক, কী বলল ভারত?

    Filmmakers: ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ নিয়ে বিতর্ক, কী বলল ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনা সংবাদমাধ্যমের তরফে সালমান খান অভিনীত (Filmmakers) চলচ্চিত্র ব্যাটল অব গালওয়ান’কে (Galwan Film) “তথ্য বিকৃতি”র অভিযোগ তোলা হয়েছে। তার পরেই ভারত সাফ জানিয়ে দিল, দেশে শিল্পীসত্তার স্বাধীনতা রয়েছে এবং সেই স্বাধীনতা প্রয়োগ করেই চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ছবি বানানোর অধিকার আছে। উল্লেখ্য, ছবিটির পটভূমি ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকায় প্রথমে বোলা সংসা নেল সংঘর্ষ। সেই ঘটনায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৬ বিহার রেজিমেন্টের জওয়ানদের সঙ্গে চিনা সেনার ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। ছবিটি সাংবাদিক শিব অরুর ও রাহুল সিংহের লেখা ‘ইন্ডিয়াজ মোস্ট ফিয়ারলেস ৩’  বইয়ের একটি গল্প অবলম্বনে নির্মিত।

    মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসম্পন্ন দেশ (Filmmakers)

    এই ছবিতে সালমান খান অভিনয় করেছেন কর্নেল বিক্কুমল্লা সন্তোষ বাবুর ভূমিকায়। তিনি ছিলেন ১৬ বিহার রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার। গালওয়ান সংঘর্ষে অনুপ্রবেশকারী পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)-র সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শহিদ হন। ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যে, ওই নৃশংস সংঘর্ষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ২০ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, চিন প্রথমে কোনও প্রাণহানির কথা অস্বীকার করলেও, পরে দাবি করে যে, তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছেন – যা প্রকৃত সংখ্যাকে গুরুতরভাবে খাটো করে দেখানোর অভিযোগ রয়েছে (Filmmakers)। ভারত একটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসম্পন্ন দেশ এবং সেই স্বাধীনতার অবিচ্ছেদ্য অংশ হল চলচ্চিত্রের মাধ্যমে (Galwan Film) শিল্পীসত্তার প্রকাশ। ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতারা তাঁদের শিল্পীসত্তার স্বাধীনতা অনুযায়ী ছবি নির্মাণে সম্পূর্ণ স্বাধীন – এমনটাই জানিয়েছে একটি সূত্র।

    শিল্পীসত্তার স্বাধীনতা

    ওই সূত্র জানিয়েছে, “ভারত এমন একটি দেশ যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে এবং সিনেমার মাধ্যমে প্রকাশ সেই স্বাধীনতারই অঙ্গ। ভারতীয় নির্মাতারা এই শিল্পীসত্তার স্বাধীনতার ভিত্তিতেই চলচ্চিত্র তৈরি করতে পারেন।” সূত্রটি আরও জানিয়েছে, “এই নির্দিষ্ট ছবিটি নিয়ে কারও যদি কোনও আপত্তি বা প্রশ্ন থাকে, তবে তাঁরা ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা চাইতে পারেন। এই ছবির সঙ্গে সরকারের কোনও ভূমিকা নেই (Filmmakers)।” এদিকে, সংঘর্ষের ঘটনার পর ভারত ও চিনের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। লাদাখের লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (LAC) বরাবর গালওয়ান উপত্যকার কাছে সেনা মোতায়েন করে ভারতীয় সেনাবাহিনী (Galwan Film)। পাশাপাশি সম্ভাব্য চিনা আগ্রাসন ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও সমীক্ষামূলক কার্যকলাপও জোরদার করা হয়।

    গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদন

    চিনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২০ সালের জুন মাসে গালওয়ান সংঘর্ষের যে চিত্র চলচ্চিত্রে দেখানো হয়েছে, তা বাস্তব ঘটনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “বলিউডের ছবিগুলি মূলত বিনোদননির্ভর এবং আবেগপ্রবণ উপস্থাপনা করে। কিন্তু কোনও মাত্রার সিনেম্যাটিক অতিরঞ্জন ইতিহাসকে বদলাতে পারে না, কিংবা চিনের সার্বভৌম ভূখণ্ড রক্ষায় পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)-এর দৃঢ় সংকল্পকে টলাতে পারে না।”তবে গ্লোবাল টাইমসের ওই প্রতিবেদনে ভুলভাবে দাবি করা হয়েছে যে গালওয়ান উপত্যকা লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের চিনা অংশে অবস্থিত (Galwan Film)। পাশাপাশি, ২০২০ সালের জুনের সংঘর্ষের জন্য ভারতের ওপর দায় চাপিয়ে বলা হয়েছে যে ভারতীয় সেনারাই এলএসি অতিক্রম করে সংঘর্ষে উসকানি দেয়—যা ভারত বারবার অস্বীকার করে এসেছে (Filmmakers)।

  • Saudi Aramco: দক্ষিণ ভারতে বড় বিনিয়োগের প্রস্তুতি সৌদি আরামকোর

    Saudi Aramco: দক্ষিণ ভারতে বড় বিনিয়োগের প্রস্তুতি সৌদি আরামকোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ভারতে বড় বিনিয়োগের প্রস্তুতি সৌদি আরামকোর। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থা এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা সৌদি আরামকো (Saudi Aramco) দক্ষিণ ভারতে একটি বড় বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মাধ্যমে ভারতের বাজারে (BPCL) দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ নিতে চলেছে সংস্থাটি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি বিপণন সংস্থা ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL)-এর একটি নতুন রিফাইনারি প্রকল্পে ২০ শতাংশ অংশীদারি কিনতে চলেছে সৌদি আরামকো। এই বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়াও, অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড এবং একাধিক ব্যাঙ্কের একটি কনসোর্টিয়ামও এই প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

    বিপিসিএল (Saudi Aramco)

    বিপিসিএল অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর জেলার রামায়্যাপত্তনম বন্দরের কাছে একটি বৃহৎ রিফাইনারি ও পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স গড়ে তুলছে। এই প্রকল্পের প্রাথমিক বিনিয়োগ ধরা হয়েছে প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকা, যদিও মোট নির্মাণ ব্যয় ১ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে অনুমান। যদিও সৌদি আরামকো বা বিপিসিএল – কেউই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি, তবে সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ইতিমধ্যেই প্রায় ৬,০০০ একর জমি প্রকল্পটির জন্য হস্তান্তর করেছে (BPCL)।

    জ্বালানির চাহিদা পূরণ

    এই রিফাইনারি প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল ভারতের ক্রমবর্ধমান দেশীয় জ্বালানির চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের রফতানি বৃদ্ধি করা। প্রস্তাবিত এই রিফাইনারিটির বার্ষিক (Saudi Aramco) প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা হবে ৯ থেকে ১২ মিলিয়ন টন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অয়েল ইন্ডিয়া এই প্রকল্পে ১০ শতাংশ অংশীদারি রাখবে, আর ব্যাঙ্কগুলির সম্মিলিত অংশীদারি হতে পারে ৪ থেকে ৫ শতাংশ। অন্যদিকে, বিপিসিএল কৌশলগত ও আর্থিক বিনিয়োগকারীদের কাছে মোট ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা করছে বলে সূত্রের খবর।

    সৌদি আরামকো

    জানা গিয়েছে, সৌদি আরামকো গুজরাটে অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশন (ONGC)-এর উদ্যোগে গড়ে উঠতে চলা একটি নতুন রিফাইনারি প্রকল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে। এই উদ্যোগটি ভারতে সৌদি আরামকোর দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তৃত বিনিয়োগ পরিকল্পনারই একটি অংশ (BPCL)। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি সংস্থা সৌদি আরামকো ঘোষণা করেছিল, তারা ধাপে ধাপে ভারতে সর্বোচ্চ ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার  বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় এই নতুন বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল (Saudi Aramco)।

    জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার করা

    প্রসঙ্গত, গত বছরের এপ্রিল মাসে সৌদি আরব সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার করা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছিলেন। বহু দশক ধরে সৌদি আরামকো ভারতের অন্যতম প্রধান অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। সংস্থাটির অত্যাধুনিক পরিশোধন প্রযুক্তি ভারতের অংশীদারদের জন্য উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত সুবিধা এনে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে (BPCL)।

    অন্যদিকে, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL) বর্তমানে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল বিপণন সংস্থা। গত অর্থবর্ষের হিসেব অনুযায়ী সংস্থাটির দখলে রয়েছে ২৭.৪৪ শতাংশ বাজার। চলতি অর্থবর্ষের সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হওয়া দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে বিপিসিএল ৬,৪৪৩ কোটি টাকা মুনাফা লুটেছে। সংস্থাটি কেরলের কোচি, মহারাষ্ট্রের মুম্বই এবং মধ্যপ্রদেশের বিনা – এই তিনটি বড় পরিশোধনাগার পরিচালনা করে (Saudi Aramco)।

  • Indian Army: সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে শিথিলতা আনল ভারতীয় সেনা, তবে অব্যাহত রইল কড়া শর্ত

    Indian Army: সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে শিথিলতা আনল ভারতীয় সেনা, তবে অব্যাহত রইল কড়া শর্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় সেনা (Indian Army) তাদের সোশ্যাল মিডিয়া নীতিতে কিছুটা শিথিলতা এনেছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন সেনা জওয়ান ও অফিসাররা ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম শুধুমাত্র দেখার জন্য ব্যবহার করতে পারবেন। তবে কোনও পোস্ট করা, লাইক দেওয়া বা মন্তব্য করার অনুমতি নেই। আগের সব নিরাপত্তা সংক্রান্ত কঠোর নিয়মই বহাল থাকবে। এই নির্দেশিকা সেনার সব ইউনিট ও বিভাগে পাঠানো হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য—জওয়ানদের অনলাইনে সচেতন রাখা, প্রয়োজনীয় তথ্য নজরে আনা এবং ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য চিহ্নিত করা। এমন তথ্য ধরা পড়লে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারবেন সেনা সদস্যরা।

    কোন অ্যাপে কী নিয়ম

    দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতীয় সেনা সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য আলাদা গাইডলাইন জারি করে আসছে। অতীতে বিদেশি গোয়েন্দাদের ‘হানি ট্র্যাপ’-এ পড়ে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের ঘটনাও ঘটেছে। সাধারণ তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, সিগন্যাল, স্কাইপ-এ। তবে কেবল পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গেই যোগাযোগ করা যাবে। প্রাপকের পরিচয় নিশ্চিত করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব ব্যবহারকারীর। ইউটিউব, এক্স, কোরা, ইনস্টাগ্রাম-এ কেবল তথ্য ও জ্ঞান অর্জনের জন্য ‘প্যাসিভ অংশগ্রহণ’ অনুমোদিত। কোনও ভিডিও, পোস্ট বা ব্যবহারকারী-তৈরি কনটেন্ট আপলোড করা নিষিদ্ধ। লিঙ্কডইন-এ শুধু চাকরি সংক্রান্ত তথ্য জানার জন্য এবং জীবনবৃত্তান্ত আপলোডের অনুমতি রয়েছে।

    সেনাপ্রধানের বার্তা

    সম্প্রতি চাণক্য ডিফেন্স ডায়ালগে সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী সমাজমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তরুণ জেন জি রিক্রুটদের মোবাইল ও সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভরতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে সেখানে। জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, “রিঅ্যাক্ট করা আর রেসপন্ড করার মধ্যে পার্থক্য আছে।” রিঅ্যাক্ট মানে না ভেবে তৎক্ষণাৎ জবাব দেওয়া, আর রেসপন্ড মানে বিশ্লেষণ করে, পরিকল্পনা করে উত্তর দেওয়া। তাই সেনার নির্দেশ—এক্স বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম দেখুন, কিন্তু এখনই উত্তর দেবেন না; সেটা অবসরের পরের জন্য তুলে রাখুন। এতে শত্রুপক্ষের কাছেও স্পষ্ট বার্তা যায় যে ভারতীয় সেনা কখনও হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয় না।

    অতীত থেকে বর্তমান

    ২০১৭ সালে তৎকালীন প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ ভামরে সংসদে জানিয়েছিলেন, এই নিয়মগুলির উদ্দেশ্য তথ্যের অপব্যবহার রোধ করা। ২০১৯ পর্যন্ত, সেনা সদস্যদের কোনও সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপে যোগ দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। ২০২০ সালে, অপব্যবহারের ঘটনার পর ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামসহ ৮৯টি অ্যাপ ডিলিট করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে কঠোর নজরদারির মধ্যে কিছু প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের অনুমতি মেলে—ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স, লিঙ্কডইন, কোরা, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ। নতুন আপডেটে সেনা সদস্যরা খবর পড়া, চাকরির খোঁজ বা রেজিউমে আপলোড করতে পারবেন, তবে প্রতিটি নিরাপত্তা নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে মানতে হবে।

    অপারেশন সিঁদুরের উদাহরণ

    অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন সেনার অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলই ছিল নির্ভরযোগ্য তথ্যের একমাত্র উৎস। পাকিস্তানের একাধিক এক্স অ্যাকাউন্ট আগেই বাহাওয়ালপুর ও কোটলিতে অভিযান নিয়ে গুজব ছড়ালেও, ভারতীয় সেনা রাত ১টা ৫১ মিনিটে যাচাই করা তথ্য প্রকাশ করে পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দেয়। এই নতুন নীতিতে একদিকে যেমন ডিজিটাল সচেতনতা বাড়বে, তেমনই জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সেনার কঠোর অবস্থানও অটুট থাকছে।

LinkedIn
Share