Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Sonia Gandhi Book Row: সোনিয়া গান্ধীর বই প্রকাশ ঘিরে বিতর্ক, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশকের দায়িত্ব

    Sonia Gandhi Book Row: সোনিয়া গান্ধীর বই প্রকাশ ঘিরে বিতর্ক, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশকের দায়িত্ব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোনও রাজনৈতিক নেতার স্মৃতিকথা তাঁর জীবন, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে। সেখানে ব্যক্তিগত স্মৃতি, রাজনৈতিক মূল্যায়ন এবং সমকালীন ঘটনাবলী সম্পর্কে লেখকের নিজস্ব ব্যাখ্যা থাকলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সেই বই প্রকাশে বাধা দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই। কিন্তু কোনও বইয়ে প্রধানমন্ত্রী, রাজনৈতিক সংগঠন (Congress), ভারত-চিন সীমান্ত কিংবা ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনের তথাকথিত অনুপ্রবেশের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কোনও দাবি থাকলে বিষয়টি শুধুমাত্র মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তখন সামনে আসে তথ্য, প্রমাণ এবং প্রকাশকের দায়িত্বের প্রশ্ন। এই বিতর্কের কেন্দ্রেই রয়েছে সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi Book Row) প্রস্তাবিত স্মৃতিকথা “বিলংগিং: এ জার্নি অফ লাভ”। বইটির আন্তর্জাতিক সংস্করণ আগামী ১০ নভেম্বর, ২০২৬ প্রকাশিত হওয়ার কথা। পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউসের আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটে বইটিকে ৫৪৪ পৃষ্ঠার একটি স্মৃতিকথা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ভারতীয় সংস্করণ প্রকাশ ঘিরে বিতর্ক (Sonia Gandhi Book Row)

    ভারতে বইটির প্রকাশনা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়, যখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া এবং সোনিয়া গান্ধীর মধ্যে পাণ্ডুলিপির কিছু অংশ নিয়ে সম্পাদকীয় মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ, ভারত-চিন সম্পর্ক এবং চিনের কথিত অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত কিছু অংশ নিয়ে সম্পাদকীয় পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে সোনিয়া সেই পরিবর্তনগুলি মেনে নেননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এর পরেই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রশ্ন ওঠে, একই বই বিদেশে প্রকাশিত হলেও ভারতে কেন প্রকাশিত হচ্ছে না। দলের কয়েকজন নেতা বিষয়টিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত করেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের চাপ দেওয়া হয়েছিল কি না, সেই অভিযোগও তোলেন। কিন্তু বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে প্রকাশকের বক্তব্যের পর।

    পেঙ্গুইনের বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন

    ২৮ অগাস্ট পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া প্রকাশ্যে জানায় যে ভারতে “বিলংগিং” বইটির প্রকাশক তারা নয়। একই সঙ্গে সংস্থাটি জানায়, সোনিয়া সম্পাদকীয় পরিবর্তন মেনে না নেওয়ায় তারা বই প্রকাশের সিদ্ধান্ত বদল করেছে—এমন দাবি পুরো পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে তুলে ধরে না। প্রকাশকের বক্তব্য অনুযায়ী, তথ্য যাচাই করা এবং লেখকদের সম্পাদকীয় পরামর্শ দেওয়া প্রকাশনা প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। সংশ্লিষ্ট আলোচনার সময় বইটি প্রকাশ করার বিষয়ে তারা আগ্রহী ছিল বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে গোপন আলোচনার বিষয়ে তারা আর কোনও মন্তব্য করতে চায়নি (Congress)। এই বক্তব্যের পর বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সামনে এসেছে—প্রকাশক নিজেই যখন সরকারি চাপের অভিযোগ নিশ্চিত করছে না, তখন সরাসরি মোদি সরকারের সঙ্গে বই প্রকাশ না হওয়ার সিদ্ধান্তকে যুক্ত করার ভিত্তি কী?

    প্রশ্ন শুধু সোনিয়ার বই নিয়ে নয়

    মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অর্থ কি কোনও লেখক যে কোনও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সরকার বা সেনাবাহিনী সম্পর্কে যে কোনও দাবি করতে পারবেন এবং প্রকাশককে তা তথ্য যাচাই ছাড়াই প্রকাশ করতে হবে? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে সম্পাদকীয় প্রক্রিয়ার প্রয়োজনই বা কোথায়? বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্বশীল প্রকাশনা সংস্থাগুলিতে সম্পাদকীয় পর্যালোচনা, তথ্য যাচাই এবং আইনি পর্যালোচনা প্রকাশনা প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। কোনও বইয়ে জীবিত ব্যক্তিকে নিয়ে অভিযোগ, সরকারের কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে গুরুতর মন্তব্য, সামরিক অভিযান সংক্রান্ত তথ্য অথবা কোনও দেশের সীমান্ত নিয়ে দাবি থাকলে সেই দাবির ভিত্তি খতিয়ে দেখা স্বাভাবিক। লেখকের লেখার অধিকার রয়েছে, কিন্তু কোনও প্রকাশককে নির্দিষ্ট আকারে সেই লেখা প্রকাশ করতে বাধ্য করা যায় না।

    ভারত-চিন সীমান্তের প্রশ্ন শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়

    সোনিয়ার বইকে ঘিরে বিতর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশটি ভারত-চিন সম্পর্ক এবং চিনের তথাকথিত অনুপ্রবেশের সঙ্গে যুক্ত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সীমান্তে চিনের কার্যকলাপ, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা, ভারতীয় ভূখণ্ডের অবস্থান এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর পদক্ষেপ সাধারণ রাজনৈতিক মন্তব্যের বিষয় নয়। এই বিষয়গুলির সঙ্গে সরাসরি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোনও স্মৃতিকথায় যদি বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ে চিন ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল, কোনও সরকার পরিস্থিতি যথাযথভাবে সামাল দিতে পারেনি, অথবা কোনও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, তাহলে পাঠকের জানার অধিকার রয়েছে—এগুলি কি লেখকের ব্যক্তিগত স্মৃতি, রাজনৈতিক মূল্যায়ন, নাকি যাচাই করা তথ্য? এখানেই প্রকাশকের দায়িত্ব শুরু হয়। তথ্য চাওয়া সেন্সরশিপ নয়। বরং বহু ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করাই প্রকাশকের দায়িত্ব। কোনও রাজনৈতিক নেতা যদি লেখেন, কোনও নির্দিষ্ট বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট কথা বলেছিলেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার অংশ হতে পারে। কিন্তু একই বইয়ে কোনও সামরিক ঘটনা, সীমান্ত বিরোধ বা সরকারি সিদ্ধান্তকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে তুলে ধরা হলে সেই দাবির প্রকৃতি বদলে যায় (Sonia Gandhi Book Row)। তখন প্রশ্ন উঠবেই—এর উৎস কী? কোনও নথি রয়েছে কি? অন্যান্য সূত্র কী বলছে? সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া হয়েছিল কি? সরকারি নথি বা জনসমক্ষে থাকা তথ্য দিয়ে দাবিটির সত্যতা নিশ্চিত করা যায় কি? এই প্রশ্নগুলি করা লেখকের কণ্ঠরোধ করা নয়, বরং পাঠকের জানার অধিকার রক্ষা করা (Congress)।

    কংগ্রেসের যুক্তি এবং তার দুর্বল জায়গা

    কংগ্রেসের নেতারা গোটা ঘটনাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। অশোক গেহলট, কমল নাথ-সহ দলের একাধিক নেতার প্রশ্ন, বিদেশে বইটি প্রকাশিত হতে পারলে ভারতে প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা কোথায় এবং কোনও ধরনের চাপ দেওয়া হয়েছিল কি না। অবশ্যই এটি গুরুতর অভিযোগ। কিন্তু গুরুতর অভিযোগের জন্যও প্রয়োজন জোরালো প্রমাণ। যদি কেন্দ্রীয় সরকার পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়াকে বইয়ের কোনও অংশ বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে থাকে, তাহলে সেই নথি প্রকাশ করা উচিত। কোনও সরকারি আধিকারিক প্রকাশকের উপর চাপ দিয়ে থাকলে তার প্রমাণও সামনে আনা উচিত। কোনও মন্ত্রক বইটি আটকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে থাকলে সেই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসা উচিত। বর্তমানে প্রকাশকের যে বক্তব্য সামনে এসেছে, তাতে এমন কোনও সরকারি নির্দেশের উল্লেখ নেই। বরং সরকারি চাপের অভিযোগ নিশ্চিত করার পরিবর্তে প্রকাশক সম্পাদকীয় প্রক্রিয়া এবং তথ্য যাচাইকেই প্রকাশনার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। তাই এই পর্যায়ে “মোদি সরকার বইটি আটকে দিয়েছে”—এমন বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়, বরং রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই দেখা যায়।

    লেখকের স্বাধীনতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশকের স্বাধীনতা

    এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলতে গিয়ে কি প্রকাশকের স্বাধীনতাকে উপেক্ষা করা যায় (Sonia Gandhi Book Row)? সোনিয়ার নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই কোনও পাণ্ডুলিপিতে তথ্য যাচাই প্রয়োজন বলে মনে হলে প্রকাশকের লেখককে প্রশ্ন করার অধিকারও রয়েছে। লেখক কোনও পরিবর্তন গ্রহণ করতে না চাইলে সেটিও তাঁর অধিকার। একইভাবে, সেই আকারে বই প্রকাশ করতে প্রকাশক অনিচ্ছুক হলে সেটিও প্রকাশকের অধিকার। গণতন্ত্র উভয় পক্ষের স্বাধীনতার কথা বলে। এক পক্ষের স্বাধীনতা যখন অন্য পক্ষের উপর বাধ্যবাধকতায় পরিণত হয়, তখনই ব্যবস্থাটি অসুস্থ হয়ে ওঠে।

    পেঙ্গুইনের আগের বিতর্কও কি প্রাসঙ্গিক?

    পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়ার নাম এর আগেও বিতর্কিত প্রকাশনা সংক্রান্ত ঘটনায় উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের জুনে ২০১৩ সালের মুজফফরনগর দাঙ্গার উপর ভিত্তি করে জো সাকোর গ্রাফিক প্রতিবেদন “দ্য ওয়ান্স অ্যান্ড ফিউচার রায়ট” ভারতে বিতরণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল সংস্থাটি। সাকোর দাবি ছিল, বইয়ে ব্যবহৃত কয়েকটি উদ্ধৃতি নিয়ে পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া পরিবর্তন চেয়েছিল। অতএব, সোনিয়ার বইকে ঘিরে বর্তমান বিতর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। তবে “মোদিকে প্রশ্ন করা” এবং “মোদিকে দোষারোপ করা”—এই দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। সরকারকে প্রশ্ন করা বিরোধী দলের অধিকার। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করাও গণতান্ত্রিক অধিকার। ভারত-চিন নীতি নিয়ে সরকারের কাছে জবাব চাওয়াও সম্পূর্ণ বৈধ। কিন্তু কোনও প্রমাণ ছাড়াই প্রকাশকের সিদ্ধান্তকে সরকারের পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় (Congress)। প্রশ্ন করা গণতন্ত্রের অংশ। কিন্তু প্রমাণ ছাড়াই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা গণতন্ত্রের মানকে দুর্বল করে।

    সরকার বদলালেও কি তথ্য যাচাইয়ের মানদণ্ড বদলাবে?

    কংগ্রেস যদি মনে করে বইটি প্রকাশের ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, তাহলে তাদের সেই দাবির প্রমাণ সামনে আনা উচিত। কিন্তু প্রমাণ না থাকলে প্রতিটি সম্পাদকীয় মতপার্থক্যকে মোদি সরকারের ষড়যন্ত্র হিসেবে তুলে ধরলে রাজনৈতিক বিতর্কের গভীরতা কমে যায়। আগামী দিনে সরকার বদলালে কি এই মানদণ্ডও বদলে যাবে? এই প্রশ্নটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তার আগে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার ছিল। ভবিষ্যতে অন্য কোনও দল ক্ষমতায় আসতে পারে। তাহলে কি সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে প্রকাশনার স্বাধীনতার মানদণ্ডও বদলে যাবে? উত্তর হওয়া উচিত—না। আজ বিজেপি সরকারের সঙ্গে যুক্ত কোনও নেতাকে নিয়ে প্রকাশিত বইয়ে গুরুতর অভিযোগ থাকলে তথ্য যাচাই প্রয়োজন। আগামীকাল যদি কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় থাকে এবং কোনও কংগ্রেস নেতাকে নিয়ে গুরুতর অভিযোগসম্বলিত বই প্রকাশিত হয়, তাহলেও তথ্য যাচাই প্রয়োজন হবে। এটাই গণতান্ত্রিক নীতি। রাজনৈতিক দল বদলায়। সরকার বদলায়। প্রধানমন্ত্রী বদলায়। কিন্তু তথ্য যাচাইয়ের মানদণ্ড বদলানো উচিত নয় (Sonia Gandhi Book Row)।

    সেনাবাহিনী নিয়ে কে কী লিখতে পারেন, প্রশ্নটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    চিন এবং ভারতীয় ভূখণ্ড সংক্রান্ত অংশের কথা সামনে আসায় জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও এই বিতর্ককে দেখা প্রয়োজন। ভারতীয় সেনাবাহিনী কোনও রাজনৈতিক দল নয়। সীমান্তে সেনাবাহিনীর অভিযান, সিদ্ধান্ত এবং মোতায়েন নিয়ে গুরুতর কোনও দাবি জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্মৃতিকথার অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী সম্পর্কিত কোনও বক্তব্য যাচাই না করেই গ্রহণ করা সমীচীন নাও হতে পারে। এখানে উদ্দেশ্য কোনও সরকারকে রক্ষা করা হওয়া উচিত নয়। কোনও সরকার সীমান্তে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক প্রশ্ন থাকা উচিত। সেনাবাহিনীর কোনও ত্রুটি হয়ে থাকলে তারও প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। চিন কোনও পদক্ষেপ নিয়ে থাকলে তারও প্রমাণ থাকা দরকার। আবার অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও প্রমাণের ভিত্তিতে খণ্ডন করা উচিত।দেশপ্রেমের অর্থ সরকারের বলা প্রতিটি কথাকে সঠিক বলে মেনে নেওয়া নয়। কিন্তু জাতীয় স্বার্থের নামে কোনও যাচাই না-করা দাবিকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাও দেশপ্রেম নয়। শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কের মূল প্রশ্ন তাই শুধু সোনিয়ার বই প্রকাশিত হবে কি না, তা (Congress) নয়। প্রশ্ন হল—গণতন্ত্রে লেখকের স্বাধীনতা, প্রকাশকের স্বাধীনতা এবং পাঠকের সত্য জানার অধিকার—এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন রক্ষা করতে হবে, তেমনই সংবেদনশীল দাবির ক্ষেত্রে তথ্য ও প্রমাণের গুরুত্বও অস্বীকার করা যায় না (Sonia Gandhi Book Row)।

     

  • Delhi Couple Arrested: টাকার বিনিময়ে ভারতীয় সিম পাচার পাকিস্তানে! আইএসআই-চক্রে গ্রেফতার দিল্লির দম্পতি

    Delhi Couple Arrested: টাকার বিনিময়ে ভারতীয় সিম পাচার পাকিস্তানে! আইএসআই-চক্রে গ্রেফতার দিল্লির দম্পতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানীতে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-সমর্থিত একটি সন্দেহভাজন গুপ্তচরচক্রের হদিশ পাওয়ার দাবি করল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। এই ঘটনায় দিল্লির বাসিন্দা এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে পাকিস্তান-ভিত্তিক গোয়েন্দা অপারেটিভদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ভারতের স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ ও পাচারের কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। গ্রেফতার হওয়া দু’জন হল ২৫ বছরের সাহিল এবং তার ২১ বছরের স্ত্রী সমীরা। পুলিশের দাবি, পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তারা একাধিক ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ করে পাকিস্তানে পাঠিয়েছিল। তদন্তে দিল্লি থেকে করাচি ও ইসলামাবাদ পর্যন্ত এই নেটওয়ার্কের যোগাযোগের সূত্র মিলেছে বলেও জানিয়েছে স্পেশাল সেল।

    পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছিল ৮টি ভারতীয় সিম কার্ড

    পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সাহিল ও সমীরা মোট ৮টি ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ করে দুবাইয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানে পাঠিয়েছিল। এর বিনিময়ে পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে তারা প্রায় ৩০ হাজার টাকা পেয়েছিল বলে অভিযোগ।  তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তানে পৌঁছনোর পর ওই সিম কার্ড ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করা হয়। সেই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভরা ভারতের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাত। পুলিশের আরও অভিযোগ, ওই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টগুলির কয়েকটি ভারতীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও প্রবেশের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন গ্রুপে থাকা তথ্য সংগ্রহ করা।

    সোশ্যাল মিডিয়া থেকে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ— কীভাবে চলত নেটওয়ার্ক?

    স্পেশাল সেলের তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলাররা ভারতের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। এর মধ্যে কথিত ‘ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার’ এবং ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যরাও থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। সোশ্যাল মিডিয়া এবং এনক্রিপ্টেড কমিউনিকেশন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই যোগাযোগ চালানো হত বলে জানিয়েছে পুলিশ। অর্থাৎ, শুধু সিম কার্ড পাচার নয়, ভারতের মাটিতে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের যোগাযোগের জন্য একটি বিস্তৃত ডিজিটাল নেটওয়ার্ক তৈরির অভিযোগও সামনে এসেছে।

    সামরিক এলাকায় রেকি করার অভিযোগ

    এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির একটি হল ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সামরিক এলাকা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ। পুলিশের দাবি, সাহিলকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গিয়ে রেকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি গুপ্তচরবৃত্তি এবং মাঠপর্যায়ের অপারেশনের জন্য নতুন লোক নিয়োগের দায়িত্বও তার উপর ছিল বলে অভিযোগ।

    তদন্তকারীদের আরও দাবি, সামরিক আদালত বা ট্রাইব্যুনালে চলা কোর্ট মার্শাল সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া কিছু ভারতীয় সেনাকর্মীর সম্পর্কেও সাহিল তথ্য সরবরাহ করেছিল। ফলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, এই নেটওয়ার্কের লক্ষ্য শুধুমাত্র সাধারণ তথ্য সংগ্রহ ছিল না। ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো, সেনা সদস্য এবং সামরিক কার্যকলাপ সম্পর্কে স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছিল বলেই অভিযোগ।

    ইনস্টাগ্রাম থেকেই শুরু যোগাযোগ

    পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সাহিলের সঙ্গে পাকিস্তানি এজেন্টের প্রথম যোগাযোগ হয় ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে ২০২৪ সালে। এই যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমীরার ভূমিকা ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সাহিল ২০২২ সালে সমীরার সঙ্গে আলাপ হয় এবং পরবর্তীতে তারা বিয়ে করে। এরপর ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে পাকিস্তানি এক এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়। ওই এজেন্টই পরে দম্পতিকে পাকিস্তানের এক গোয়েন্দা অপারেটিভের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। অভিযোগ, ওই গোয়েন্দা অপারেটিভ আর্থিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দম্পতিকে গুপ্তচরচক্রে কাজ করতে রাজি করায়।  এরপর তাদের দায়িত্বের মধ্যে ছিল দিল্লিতে নেটওয়ার্ককে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া, ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ ও পাঠানো এবং নতুন ব্যক্তিদের গুপ্তচরবৃত্তি ও ফিল্ড অপারেশনে যুক্ত করার চেষ্টা।

    মোবাইল ফোন থেকেই মিলল গুরুত্বপূর্ণ সূত্র

    চাঁদ বিবি ক্যাম্প এলাকা থেকে সাহিলকে প্রথমে গ্রেফতার করে স্পেশাল সেল। তিনি মহম্মদ আশফাকের ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে।  সাহিলের মোবাইল ফোনের ফরেন্সিক পরীক্ষার সময় পাকিস্তানি এজেন্টদের সঙ্গে তার কথোপকথনের তথ্য তদন্তকারীদের হাতে আসে বলে দাবি। সেই চ্যাটের সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা সমীরার ভূমিকার বিষয়ে জানতে পারেন।

    এরপর সমীরাকেও গ্রেফতার করা হয়। তার মোবাইল ফোনে সাহিল এবং পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। দম্পতির কাছ থেকে মোট দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ডিভাইসগুলিতে পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভদের সঙ্গে কথাবার্তা এবং ভারতে থাকা নেটওয়ার্কের বিভিন্ন যোগাযোগ ও কার্যকলাপের তথ্য রয়েছে।

    কারা এই সাহিল ও সমীরা?

    পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে জন্ম সাহিল দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি (IGNOU) থেকে কলায় স্নাতক পাশ করেছে। সে এক আইনজীবীর সঙ্গে কাজ করত এবং ভবিষ্যতে এলএলবি পড়ার পরিকল্পনা ছিল। ২০২৫ সালের জুনে সে চাকরি ছেড়ে দেয়। এরপর থেকে সে বেকার ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। অন্যদিকে, ২০০৫ সালে জন্ম সমীরা কেশবপুরমের কন্যা বিদ্যালয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে। পরে করেসপন্ডেন্স-এর মাধ্যমে বিএ ডিগ্রি অর্জন করে। গ্রেফতারের আগে নয়ডার একটি কল সেন্টারে কাজ করছিল।

    কীভাবে সামনে এল পুরো নেটওয়ার্ক?

    স্পেশাল সেলের কাছে প্রথমে খবর আসে, সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, তাদের কথিত ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার  এবং স্লিপার সেলকে দিল্লি থেকে লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসে এমন কিছু স্থানীয় ব্যক্তির নাম, যারা ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ, পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ভারতের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সাহায্য করছিল বলে অভিযোগ। সেই তদন্তেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে সাহিলের নাম সামনে আসে। তার মোবাইলের ফরেন্সিক পরীক্ষার পর পাকিস্তানি এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে আসে। এরপর সেই সূত্র ধরে সমীরার কথিত ভূমিকা এবং বৃহত্তর নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি করেছে স্পেশাল সেল।

    তদন্তে এখন নজর কোথায়?

    দিল্লি পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সাহিল ও সমীরাকে গ্রেফতার করার ফলে পাকিস্তান-ভিত্তিক গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক এবং ভারতে থাকা তাদের কথিত যোগাযোগকারীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গিয়েছে।বিশেষ করে ভারতীয় সিম কার্ড কীভাবে পাকিস্তানে পৌঁছত, সেই সিম ব্যবহার করে কারা হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট চালাত, ভারতীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কী ধরনের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা হয়েছিল এবং সামরিক এলাকার কোন কোন তথ্য পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের কাছে পৌঁছেছিল— এই বিষয়গুলিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

    তদন্তকারীদের দাবি সত্যি হলে, ঘটনাটি শুধুমাত্র দু’জনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ নয়; বরং পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে ভারতের মাটিতে থাকা সম্ভাব্য সহযোগীদের মধ্যে কীভাবে ডিজিটাল যোগাযোগ, সিম কার্ড এবং স্থানীয় লজিস্টিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছিল, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবি সামনে আনতে পারে এই মামলা। তবে এই সমস্ত অভিযোগই পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে; আদালতে অভিযোগগুলি প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি।

  • Nepal Flood: পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে বিদেশি সাহায্যে সায় নেপালের, ১১ জনের বিশেষজ্ঞ দল পাঠাল ভারত, প্রস্তুত আরও

    Nepal Flood: পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে বিদেশি সাহায্যে সায় নেপালের, ১১ জনের বিশেষজ্ঞ দল পাঠাল ভারত, প্রস্তুত আরও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালের পাশে আরও জোরালো ভাবে দাঁড়াল ভারত। বন্যায় ইতিমধ্যেই ৫০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একাধিক এলাকায় সড়ক ও সেতু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজে সাহায্য করতে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা নেপালকে সহযোগিতা করবেন।

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে চিকিৎসক ও মেডিক্যাল টিমও পাঠানো হবে। নেপাল অনুরোধ করলে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ-কেও পাঠাতে প্রস্তুত ভারত। পাশাপাশি বন্যায় ধুয়ে যাওয়া সেতুগুলির জায়গায় দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করতে বেইলি ব্রিজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সুড়ঙ্গে আটকদের উদ্ধারে বিশেষজ্ঞ দল

    নেপালের ভোতেকোশি অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার জেরে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই নেপাল সেনা প্রায় ৩৫০ জন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করেছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিকও ছিলেন।  তবে ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় এখনও প্রায় ১০০ জন আটকে থাকতে পারেন বলে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে। তাঁদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নেপালি বাহিনী। এই পরিস্থিতিতে সুড়ঙ্গ উদ্ধারে বিশেষ দক্ষতা রয়েছে এমন ভারতীয় দল পাঠানো হচ্ছে।

    বিদেশি উদ্ধারকারী দল নিয়ে অবস্থান বদল নেপালের

    বন্যার পর প্রথমে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলকে ক্ষতিগ্রস্ত ভোতেকোশি এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দিতে চায়নি নেপাল সরকার। বুধবার নেপাল জানিয়েছিল, নিজেদের উদ্ধারকারী বাহিনীই পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম এবং বিদেশি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিমের প্রয়োজন নেই। কিন্তু বিভিন্ন দেশের নাগরিক নিখোঁজ থাকায় আন্তর্জাতিক মহলের চাপ বাড়তে থাকে। এরপরই অবস্থান বদল করে কাঠমান্ডু। এখন নির্দিষ্ট কিছু প্রযুক্তিগত ও বিশেষায়িত ক্ষেত্রে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    নেপালের এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মহলের কাছ থেকে বিদেশি উদ্ধারকারী দল এবং বিশেষজ্ঞদের অনুমতি দেওয়ার জন্য ব্যাপক চাপ এসেছিল। সেই কারণেই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সীমিত সংখ্যক বিশেষজ্ঞকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালও জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গ উদ্ধার, ডিএনএ পরীক্ষা এবং ফরেন্সিক তদন্তের মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। তবে সাধারণ সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অভিযানের জন্য নেপাল বিদেশি সাহায্য চাইছে না।

    জাতীয় বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভারত, চিন, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিবিদদের সাহায্য নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে নেপালের আন্তঃমন্ত্রক সমন্বয় কমিটি।

    সেতু পুনর্নির্মাণে ভারত পাঠাচ্ছে বেইলি ব্রিজ

    বন্যায় নেপালের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেসে যাওয়ায় বহু এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভারত বেইলি ব্রিজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেইলি ব্রিজ হল এমন এক ধরনের পোর্টেবল, প্রিফ্যাব্রিকেটেড ট্রাস ব্রিজ, যা ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়াই তুলনামূলক দ্রুত জোড়া লাগানো যায়। ফলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত পুনরুদ্ধারে এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, চিকিৎসা এবং পরিকাঠামোগত সহায়তা দেওয়ার জন্য ভারত প্রস্তুত রয়েছে।

    তৃতীয় বিমানও পাঠাল ভারত

    নেপালে ইতিমধ্যেই দু’টি বিমানে ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত। শুক্রবার ২৮ অগস্ট আরও একটি বিমান কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা দেয়। তৃতীয় দফার এই ত্রাণবাহী বিমানে প্রায় ১০ টন মানবিক সহায়তা পাঠানো হয়েছে।

    এই বিমানে রয়েছে—

    • ● পোর্টেবল জেনারেটর সেট
    • ● ডিগনিটি কিট
    • ● খাদ্যসামগ্রী
    • ● জল পরিশোধনের ট্যাবলেট

    এছাড়াও ১১ সদস্যের একটি দল পাঠানো হয়েছে। সেই দলে চিকিৎসক, প্যারামেডিক এবং সুড়ঙ্গ উদ্ধারে বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন।

    এখনও যোগাযোগ নেই ৩১৫-র বেশি ভারতীয়র সঙ্গে

    নেপালে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধারের পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের কাজও চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, এখনও ৩১৫-র বেশি ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ৮৫ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে।

    উদ্ধার হওয়া ভারতীয়দের মধ্যে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা থেকে ফেরা ২১ জন তীর্থযাত্রীও রয়েছেন। তাঁদের নেপাল সেনা দুর্গম এলাকা থেকে উদ্ধার করে কাঠমান্ডুতে নিয়ে আসে। পরে কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাস তাঁদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে। নেপাল সেনার উদ্ধার অভিযানের জন্য ওই তীর্থযাত্রীরা বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ বলেও জানিয়েছেন জয়শঙ্কর।

    নেপালের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে জয়শঙ্করের কথা

    শুক্রবার নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি জানান, বিপর্যয়ের এই সময়ে ভারত নেপালের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, চিকিৎসা ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি নেপালকে সুড়ঙ্গ উদ্ধারের বিশেষজ্ঞ দল, মেডিক্যাল টিম এবং প্রয়োজন হলে NDRF পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে কোন ধরনের সহায়তা কখন প্রয়োজন, তা নেপাল সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঠিক করবে।

    পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিদেশ মন্ত্রক

    নেপালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকদের পাশাপাশি কাঠমান্ডু ও বেজিংয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জয়শঙ্কর। বৈঠকে নেপালের পরিস্থিতি এবং সেখানে পাঠানো ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের জেরে নেপালের বিস্তীর্ণ অংশে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। একাধিক সেতু ও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিশেষজ্ঞ দল, ত্রাণসামগ্রী এবং পরিকাঠামোগত সহায়তা নেপালের উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

  • Onion Price Surge: দিল্লিতে ভর্তুকিতে ৩৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি, দাম নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রের ‘কন্দ এক্সপ্রেস’

    Onion Price Surge: দিল্লিতে ভর্তুকিতে ৩৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি, দাম নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রের ‘কন্দ এক্সপ্রেস’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পেঁয়াজের লাগামছাড়া দাম (Onion Price Surge) নিয়ন্ত্রণে এবার বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। আজ, বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানী দিল্লিতে ভর্তুকি দিয়ে প্রতি কেজি ৩৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে শুরু করেছে সরকার। বর্তমানে দিল্লিতে খুচরো বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। এই পরিস্থিতিতে জোগান বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে আনতেই সরকারি মজুত থেকে পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ভর্তুকি মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি (Onion Price Surge)

    এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ নিয়ে প্রথম বিশেষ রেল রেক ইতিমধ্যেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী বৃহস্পতিবার ভর্তুকি মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বলে জানিয়েছেন ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের এক প্রবীণ আধিকারিক।

    ২০২৬ সালের জন্য দেশের বিভিন্ন পেঁয়াজ উৎপাদনকারী রাজ্যে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন পেঁয়াজের বাফার মজুত রাখা হয়েছে। সেই মজুত থেকেই বাজারে পেঁয়াজ ছাড়া হচ্ছে। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, নাফেড, এনসিসিএফ এবং কেন্দ্রীয় ভান্ডারের মাধ্যমে খুচরো বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে।

    এনসিসিএফের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অনিস জোসেফ চন্দ্র বুধবার সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “আগামীকাল দিল্লিতে বিক্রি শুরু হবে। এরপর সপ্তাহান্তের মধ্যে এই পরিষেবা এনসিআর অঞ্চলেও বাড়ানো হবে।”

    এনসিসিএফের কাছে প্রায় ৬২ হাজার টন পেঁয়াজের বাফার মজুত রয়েছে। তার মধ্যে মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে ৪০০ টন পেঁয়াজ বিশেষ ‘কন্দ এক্সপ্রেসে’র মাধ্যমে দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। ট্রেনটি এদিনই দিল্লিতে এসে পৌঁছেছেও বলে খবর।

    এনসিসিএফ দিল্লির ১০০টি কেন্দ্রীয় ভান্ডারের দোকানের মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি করবে। মাদার ডেয়ারির ৩০০টি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমেও পেঁয়াজ বিক্রির বিষয়েও আলোচনা চলছে। ভ্রাম্যমাণ গাড়ির মাধ্যমেও পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ১৫টি গাড়ি নামানো হবে। শনিবার থেকে সেই সংখ্যা বেড়ে হবে ৪০ (Onion Price Surge)। চন্দ্র জানান, রেলপথে আসা পেঁয়াজের একটি অংশ চণ্ডীগড়, লুধিয়ানা, বারাণসী এবং অন্যান্য শহরেও বিক্রি করা হবে।

    পেঁয়াজের বাফার মজুত

    নাফেডের কাছেও ৫৫ হাজার টনের কিছু কম পেঁয়াজের বাফার মজুত রয়েছে। তারাও দিল্লির পাশাপাশি কোচি, গুয়াহাটি-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রে পেঁয়াজ বিক্রি করবে। দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ রেল রেকের মাধ্যমে রাজধানীতে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ পাঠাচ্ছে। এই বিশেষ রেল পরিষেবার নাম দেওয়া হয়েছে ‘কন্দ এক্সপ্রেস’।

    প্রথম বিশেষ রেল রেকটিতে ৮০০ টন পেঁয়াজ রয়েছে। সেটি ইতিমধ্যেই নাসিক থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছে। দিল্লির পাশাপাশি চেন্নাই, এরনাকুলাম, মাদুরাই এবং গুয়াহাটিতেও বিশেষ রেকের মাধ্যমে পেঁয়াজ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও ওই রুটগুলির জন্য এখনও বুকিং করা হয়নি।

    এক মাসে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২৮ শতাংশ

    গত এক মাসে পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২৫ জুলাই সর্বভারতীয় গড় খুচরো দাম ছিল প্রতি কেজি ৩৪ টাকা ৮০ পয়সা। ২৫ অগাস্ট তা বেড়ে হয়েছে ৪৪ টাকা ৭২ পয়সা। অর্থাৎ এক মাসে দাম বেড়েছে ২৮ শতাংশেরও বেশি।

    এক বছর আগের তুলনায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। গত বছর একই সময়ে পেঁয়াজের গড় খুচরো দাম ছিল কেজি প্রতি ২৮ টাকা ৬৭ পয়সা। সেই তুলনায় বর্তমানে দাম বেড়েছে প্রায় ৫৬ শতাংশ (Onion Price Surge)।

    বিভিন্ন বড় শহরে দাম আরও বেশি। বুধবার চেন্নাই এবং কলকাতায় পেঁয়াজের খুচরো দর ছিল কেজি প্রতি ৬০ টাকা। এক বছর আগে এই দুই শহরে দাম ছিল যথাক্রমে ৩৫ টাকা এবং ৩২ টাকা। দিল্লিতে বর্তমানে পেঁয়াজের দাম ৫৫ টাকা কেজি, যেখানে এক বছর আগে ছিল ৩৩ টাকা। মুম্বইয়ে দাম ৪৮ টাকা, এক বছর আগেও যা ছিল ৩২ টাকা। রাঁচিতে পেঁয়াজের দাম বেড়ে হয়েছে ৩৮ টাকা, গত বছর ছিল ২৫ টাকা।

    পাইকারি বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী দাম

    খুচরো বাজারের পাশাপাশি পাইকারি বাজারেও পেঁয়াজের দাম দ্রুত বেড়েছে। মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ অগাস্ট পেঁয়াজের সর্বভারতীয় গড় পাইকারি দাম ছিল কেজি প্রতি ৩৬ টাকা ৭৩ পয়সা। এক বছর আগে এই দাম ছিল ২২ টাকা ৫৪ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরে পাইকারি দাম বেড়েছে ৬৩ শতাংশ।

    শুধু গত এক মাসেই পাইকারি দামে ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে।

    সরকারি আধিকারিকদের মতে, অগাস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে পেঁয়াজের দামে সাধারণত যে মরশুমি বৃদ্ধি দেখা যায়, এবারও তার প্রভাব পড়েছে। এর সঙ্গে উৎসবের মরশুমে চাহিদা বৃদ্ধি, আবহাওয়াজনিত সমস্যা, সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং মানুষের ভোগের ধরন বদলে যাওয়াও দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ (Onion Price Surge)।

    চাহিদা মেটাতে পেঁয়াজের ঘাটতি নেই, দাবি কেন্দ্রের

    দাম বাড়লেও আগামী কয়েক মাসে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত পেঁয়াজ রয়েছে বলে দাবি করেছে কেন্দ্র। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ কৃষিবর্ষে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হতে পারে প্রায় ৩ কোটি ৭ লাখ ৩০ হাজার টন। আগের বছর উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ৩ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার টন।

    অর্থাৎ উৎপাদন মোটের উপর আগের বছরের কাছাকাছিই রয়েছে। ফলে পর্যাপ্ত মজুত ও সরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে আগামী দিনে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলেই আশা (Onion Price Surge) কেন্দ্রের।

     

  • Nepal Flash Floods: “১৩৩ নয়, ৩০০-রও বেশি ভারতীয় নিখোঁজ”, বললেন নেপালের মন্ত্রী

    Nepal Flash Floods: “১৩৩ নয়, ৩০০-রও বেশি ভারতীয় নিখোঁজ”, বললেন নেপালের মন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে (Nepal Flash Floods) মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৭৮। বুধবারের এই বিপর্যয়ের পর এখনও নিখোঁজ প্রায় ৮০০ জন। তাঁদের মধ্যে ৩০০-রও বেশি ভারতীয় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল (Shishir Khanal)। ভয়াবহ বন্যায় হিমালয়ের পাদদেশের এই দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    নেপালের বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য (Nepal Flash Floods)

    নেপালের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, বন্যায় বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। এখনও বহু মানুষের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সংবাদ সংস্থাকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে এবং এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। বিপর্যয়ের সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি কতটা, তা নির্ধারণের চেষ্টা করছি।”

    ভারত ও চিনের মাঝখানে অবস্থিত স্থলবেষ্টিত নেপাল হড়পা বান-প্রবণ দেশ। প্রতি বছর বহু ভারতীয় পর্যটক ও তীর্থযাত্রী নেপালে যান। এর আগে জানা গিয়েছিল, নিখোঁজ ৭৫০-রও বেশি মানুষের মধ্যে অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার অন্তত ৫০ জন তীর্থযাত্রীও ছিলেন।

    পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। বিপদে পড়া ভারতীয়দের সাহায্যের জন্য দু’টি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে—৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং ৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০।

    নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিপর্যয়ের এই সময়ে কাঠমান্ডুকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

    ইতিমধ্যেই নেপালে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত। ভারতের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নেপালের বিদেশমন্ত্রী বলেন, “মাননীয় বিদেশমন্ত্রী এবং ভারত সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমাদের বন্যা-ত্রাণের কাজে সাহায্যের জন্য ভারত যে উদার মানবিক সাহায্য এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী পাঠিয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Nepal Flash Floods)। এই কঠিন সময়ে ভারতের দ্রুত পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্ব এবং পারস্পরিক সংহতির শক্তি তুলে ধরেছে।”

    ভারতের ৩ রাজ্যে সতর্কতা

    এদিকে নেপালের পরিস্থিতির জেরে ভারতের উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তিনটি রাজ্যেরই সঙ্গে নেপালের সীমান্ত রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখছে প্রশাসন। আগামী ২৪ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে।

    বন্যার আশঙ্কাপ্রবণ এলাকাগুলিতে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দল মোতায়েন করা হয়েছে। নেপাল থেকে ভারতে প্রবাহিত নদীগুলির জলস্তরের উপরও কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

    জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট জ্ঞানেশ্বর সিংহ সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “কেন্দ্রীয় জল কমিশন গণ্ডক নদীতে জলস্তর বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে পরামর্শ জারি করেছিল। সেই কারণে সকাল থেকেই আমরা নিয়মিত বিরতিতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং নদীগুলির জলস্তরের উপর বিশেষ নজর রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। রাজ্য সরকারগুলিও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে।”

    নেপালের পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। নিখোঁজদের সন্ধানে (Shishir Khanal) উদ্ধারকাজ জোরদার করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্যগুলিতেও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জোরদার করা হয়েছে প্রস্তুতি (Nepal Flash Floods)।

     

  • R-37M Missile: গতি ম্যাক ৬, পাল্লা ৪০০ কিমি! রাশিয়ার থেকে ৩০০টি আর-৩৭এম ‘অ্যাওয়াক্স-কিলার’ কিনছে ভারত?

    R-37M Missile: গতি ম্যাক ৬, পাল্লা ৪০০ কিমি! রাশিয়ার থেকে ৩০০টি আর-৩৭এম ‘অ্যাওয়াক্স-কিলার’ কিনছে ভারত?

    সুশান্ত দাস

    ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তি আরও বাড়াতে রুশ আর-৩৭এম ভেরি-লং-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল কেনার বিষয়ে ভারত এগোচ্ছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। প্রায় ৩০০টি আর-৩৭এম ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। চুক্তিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমানে এই ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    ন্যাটো নামকরণ ‘এএ-১৩ অ্যাক্সহেড’

    ন্যাটো নামকরণ অনুযায়ী, আর-৩৭এম মিসাইলকে ‘এএ-১৩ অ্যাক্সহেড’ বলা হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্র সুখোই-৩০ এমকেআই-তে যুক্ত হলে ভারতীয় বায়ুসেনা হাতে থাকা প্রচলিত আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় আরও অনেক বেশি দূরপাল্লার একটি অস্ত্র পাবে। তবে সর্বোচ্চ ঘোষিত পাল্লা এবং বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর পাল্লা এক বিষয় নয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি কোন উচ্চতা থেকে ছোড়া হচ্ছে, উৎক্ষেপণের সময় বিমানের গতি কত, লক্ষ্যবস্তু কত দূরে এবং লক্ষ্য কীভাবে গতিপথ পরিবর্তন করছে—এসব বিষয়ের উপর প্রকৃত কার্যকর পাল্লা নির্ভর করে।

    কেন এত শক্তিশালী আর-৩৭এম?

    আর-৩৭এম মূলত কাছাকাছি দূরত্বের বিমানযুদ্ধ বা ডগফাইটের জন্য তৈরি নয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হল শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ আকাশযানকে অনেক দূর থেকেই আক্রমণ করা।

    এই তালিকায় রয়েছে—

    • ● এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (অ্যাওয়াক্স) বিমান
    • ● আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার বিমান
    • ● ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্ল্যাটফর্ম
    • ● আকাশে থাকা কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল প্ল্যাটফর্ম

    এই ধরনের বিমান সরাসরি শত্রু যুদ্ধবিমানের মতো আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন না করলেও আধুনিক বিমানযুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    অ্যাওয়াক্স বিমানগুলি বিশাল এলাকার আকাশ পর্যবেক্ষণ করে শত্রু বিমান শনাক্ত ও অনুসরণ করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ট্যাঙ্কার বিমান যুদ্ধবিমানগুলিকে দীর্ঘসময় আকাশে থাকার সুযোগ দেয়। ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্ল্যাটফর্মগুলি শত্রুর রেডার, যোগাযোগ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে এই সহায়ক বিমানগুলিকে দূরপাল্লা থেকে সরিয়ে দিতে পারলে গোটা শত্রু বিমান অভিযানের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

    আর-৩৭এমকে কেন ‘অ্যাওয়াক্স কিলার’ বলা হয়?

    আর-৩৭এম এমন লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলি সাধারণত যুদ্ধবিমানের তুলনায় অনেক পিছনে অবস্থান করে। একটি অ্যাওয়াক্স বিমান সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্রের সামনের সারিতে থাকে না। নিরাপদ দূরত্বে থেকে সেটি বিশাল এলাকার আকাশ পর্যবেক্ষণ করে এবং নিজেদের যুদ্ধবিমানকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে। দূরপাল্লার আর-৩৭এম-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র সেই তুলনামূলক নিরাপদ দূরত্বকেই চ্যালেঞ্জ করতে পারে। একইভাবে আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার কিংবা ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমানও শত্রুর বিমানবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্ল্যাটফর্মগুলির উপর দূর থেকে হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে শত্রুকে তার যুদ্ধবিমান ও সহায়ক বিমানগুলিকে আরও পিছনে সরিয়ে রাখতে হতে পারে। এই কারণেই আর-৩৭এম-কে অনেক সময় ‘অ্যাওয়াক্স কিলার’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

    আর-৩৭এম ক্ষেপণাস্ত্রের মারণ ক্ষমতা কত দূর?

    আর-৩৭এম-এর পাল্লা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন পরিসংখ্যান পাওয়া যায়। কিছু রিপোর্টে ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত সর্বোচ্চ পাল্লার কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তবে কার্যকর পাল্লা পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল। উৎক্ষেপণের উচ্চতা, যুদ্ধবিমানের গতি, লক্ষ্যবস্তুর দূরত্ব এবং লক্ষ্যবস্তুর গতিবিধি—সবকিছুই ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। আর-৩৭এম-এর সর্বোচ্চ গতি প্রায় ম্যাক ৬ পর্যন্ত বলে উল্লেখ করা হয়। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪.০৬ মিটার, ওজন প্রায় ৫১০ কিলোগ্রাম এবং এতে প্রায় ৬০ কেজির ফ্র্যাগমেন্টেড ওয়ারহেড রয়েছে। অর্থাৎ আকার ও ওজন—দুই দিক থেকেই এটি অত্যন্ত বড় আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র।

    কীভাবে লক্ষ্য খুঁজে নেয় আর-৩৭এম?

    আর-৩৭এম ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এর উন্নত নির্দেশনা ব্যবস্থা। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্রটি ইনারশিয়াল ন্যাভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করে এগোতে পারে। উড়ানের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরে থেকে লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান সম্পর্কে নতুন তথ্যও পাওয়া যায়। এরপর লক্ষ্যবস্তুর কাছে পৌঁছলে ক্ষেপণাস্ত্রের নিজস্ব রেডার সিকার সক্রিয় হয়ে লক্ষ্যকে অনুসরণ করতে পারে। অর্থাৎ উৎক্ষেপণকারী সুখোই-৩০ এমকেআই-কে পুরো উড়ানজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে একইভাবে লক্ষ্যবস্তুর দিকে নির্দেশ করে যেতে হয় না। শেষ পর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্রের নিজস্ব রেডার ব্যবস্থা লক্ষ্য শনাক্ত করে আঘাত হানতে পারে।

    সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমানের সঙ্গে আর-৩৭এম-এর সমন্বয় কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতের কাছে বিপুল সংখ্যায় থাকা সুখোই-৩০ এমকেআই ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান যুদ্ধবিমান। বিভিন্ন দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্র বহনে সক্ষম এই যুদ্ধবিমানের সঙ্গে আর-৩৭এম যুক্ত হলে ভারতের দূরপাল্লার আকাশযুদ্ধের ক্ষমতা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে বড় আকারের সুখোই-৩০ এমকেআই-এর শক্তিশালী রেডার, দীর্ঘসময় আকাশে থাকার ক্ষমতা এবং বড় অস্ত্র বহনের সক্ষমতার সঙ্গে অত্যন্ত দীর্ঘপাল্লার আর-৩৭এম-এর সমন্বয় একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষমতা তৈরি করতে পারে। এর ফলে শুধু শত্রু যুদ্ধবিমান নয়, শত্রুর পিছনের সারিতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ আকাশযানকেও লক্ষ্য করার সুযোগ বাড়বে।

    চিন ও পাকিস্তানের মোকাবিলায় কেন দরকার দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র?

    আধুনিক আকাশযুদ্ধে বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ বা বিআরআর যুদ্ধের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। অর্থাৎ যুদ্ধবিমানগুলি একে অপরের খুব কাছে গিয়ে লড়াই করার পরিবর্তে অনেক দূর থেকেই প্রতিপক্ষকে শনাক্ত ও আঘাত করার চেষ্টা করছে। চিনের পিএল-১৫-এর মতো দীর্ঘপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এই প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করেছে। পাকিস্তানও আধুনিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দিকে এগিয়েছে। ভারত নিজস্ব দীর্ঘপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র, বিশেষ করে অস্ত্র পরিবারের উন্নত সংস্করণ নিয়েও কাজ করছে। কিন্তু দেশীয় এই প্রকল্পগুলির উন্নয়ন ও পরীক্ষা চলতে থাকায় আর-৩৭এম-এর মতো ইতিমধ্যে তৈরি ও ব্যবহৃত একটি অস্ত্র দ্রুত দীর্ঘপাল্লার আকাশযুদ্ধের সক্ষমতা দিতে পারে।

    ‘সুপার সুখোই’-এর সঙ্গে ভয়ঙ্কর সমন্বয়

    ভারত ইতিমধ্যেই সুখোই-৩০ এমকেআই-কে আরও আধুনিক করে তোলার জন্য ‘সুপার সুখোই’ আধুনিকীকরণ কর্মসূচি নিয়ে এগোচ্ছে। এই আধুনিকীকরণের আওতায় বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এর মধ্যে রয়েছে—

    • ● উন্নত এইএসএ রেডার
    • ● অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা
    • ● উন্নত অ্যাভিওনিক্স
    • ● নতুন সেন্সর ও মিশন ব্যবস্থা
    • ● দেশীয় ও বিদেশি দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রের সংযুক্তি
    • ● দেশীয় অ্যাস্ট্রা ক্ষপণাস্ত্র পরিবারের বিভিন্ন সংস্করণের সংযুক্তি
    • ● ব্রহ্মোস-এর দীর্ঘপাল্লার সংস্করণের মতো অস্ত্রের সংযুক্তি
    • ● আর-৩৭এম-এর মতো অতিদূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য সংযুক্তি

    ফলে সুখোই-৩০ এমকেআই আগামী বহু বছর ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান যুদ্ধবিমান হিসেবে কার্যকর থাকার সুযোগ পাবে।

    সুখোই-৩০ এমকেআই-তে আর-৩৭এম যুক্ত হলে ভারতের কী লাভ?

    আর-৩৭এম সংযুক্তির সম্ভাব্য গুরুত্ব শুধু নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ভারতীয় বায়ুসেনার আকাশযুদ্ধের কৌশলেও আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।

    এর মাধ্যমে—

    • ● প্রথমত, ভারতীয় যুদ্ধবিমান আরও দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সুযোগ পাবে।
    • ● দ্বিতীয়ত, শত্রুর অ্যাওয়াক্স, ট্যাঙ্কার এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক প্ল্যাটফর্মের উপর চাপ তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।
    • ● তৃতীয়ত, শত্রুর বিমানবাহিনীকে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক বিমান আরও পিছনে সরিয়ে রাখতে বাধ্য করা যেতে পারে।
    • ● চতুর্থত, স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় ভারতের আকাশ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হতে পারে।
    • ● পঞ্চমত, উন্নত রেডার, সেন্সর এবং নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধব্যবস্থার সঙ্গে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হলে ভারতীয় বায়ুসেনার সমন্বিত আকাশ অভিযান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

    ইউক্রেন যুদ্ধেও ব্যবহৃত হয়েছে আর-৩৭এম

    আর-৩৭এম ইতিমধ্যেই রুশ যুদ্ধবিমানগুলির সঙ্গে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার মিগ-৩১ এবং বিভিন্ন সুখোই যুদ্ধবিমান। ইউক্রেন যুদ্ধে আর-৩৭এম ব্যবহারের বিভিন্ন রিপোর্টও সামনে এসেছে। সেই অভিজ্ঞতা আধুনিক বিমানযুদ্ধে অত্যন্ত দীর্ঘপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতি শত্রু যুদ্ধবিমানকে নিজেদের অবস্থান, গতি এবং পরিচালন এলাকার বিষয়ে আরও সতর্ক হতে বাধ্য করতে পারে।

    বদলে যেতে পারে আঞ্চলিক আকাশযুদ্ধের সমীকরণ

    ভারতের সুখোই-৩০ এমকেআই বহরে আর-৩৭এম যুক্ত হওয়ার খবর সত্যি হলে তা শুধু ভারতীয় বায়ুসেনার অস্ত্রভাণ্ডারেই নতুন সংযোজন হবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার আকাশশক্তির ভারসাম্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আধুনিক বিমানযুদ্ধে শুধু কতগুলি যুদ্ধবিমান রয়েছে, সেটাই এখন মূল বিষয় নয়। কোন বিমান কত দূর থেকে লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে, কত দূরের লক্ষ্যকে আঘাত করতে পারে এবং কত দ্রুত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য পেতে পারে—এসব বিষয়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    কোনও পক্ষই চুক্তি নিয়ে খোলসা করেনি

    এই জায়গাতেই আর-৩৭এম এবং ‘সুপার সুখোই’-এর সম্ভাব্য সমন্বয় তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে প্রায় ৩০০টি আর-৩৭এম কেনার ১.২ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি এবং নির্দিষ্ট সরবরাহের সময়সীমা নিয়ে প্রকাশ্য সরকারি বিবৃতি না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে রিপোর্টভিত্তিক সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি হিসেবেই দেখা উচিত। চূড়ান্ত চুক্তি, অস্ত্রের সংখ্যা, সংযুক্তিকরণের সময়সূচি এবং বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য সামনে এলে ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশযুদ্ধের প্রকৃত সক্ষমতা আরও স্পষ্ট হবে।

  • Amit Shah: ‘ভারত কোনও ধর্মশালা নয়’, অনুপ্রবেশমুক্ত দেশ গড়ার বার্তা শাহের

    Amit Shah: ‘ভারত কোনও ধর্মশালা নয়’, অনুপ্রবেশমুক্ত দেশ গড়ার বার্তা শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকার ভারতকে “অনুপ্রবেশমুক্ত” করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত ২৫ অগাস্ট কথাগুলি বলেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তাঁর দাবি, বেআইনি অনুপ্রবেশ দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং জন-ভারসাম্যের ক্ষেত্রে (Infiltrator Free Nation) বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। গোয়েন্দা ব্যুরোর জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, ভারত কোনও ধর্মশালা বা আশ্রয়কেন্দ্র নয়। তাঁর বক্তব্য, দেশের মাটিতে বসবাসের অধিকার কেবল নাগরিকদেরই রয়েছে। তিনি বলেন, “খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মোদি সরকার দেশকে অনুপ্রবেশমুক্ত করবে।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত আট মাসে তিনি দেশের সমস্ত সীমান্তবর্তী রাজ্য সফর করেছেন। সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে চার দফা কৌশল সংক্রান্ত একটি নথিও রাজ্যগুলির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।সন্ত্রাসবাদ নির্মূল এবং তার “৩৬০ ডিগ্রি নেটওয়ার্ক” ভেঙে দিতে দৈনন্দিন নিরাপত্তা অভিযানে প্রহার কৌশল কার্যকর করার আহ্বান জানান শাহ।

    নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও জনবিন্যাসের সঙ্গে অনুপ্রবেশের যোগ (Amit Shah)

    শাহ তাঁর বক্তব্যে অনুপ্রবেশের বিষয়টিকে বৃহত্তর জাতীয় নিরাপত্তার কাঠামোর মধ্যে তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি শুধু সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং জনবিন্যাস পরিবর্তনের উপরও পড়ে। সরকার অল্প সময়ের মধ্যেই দেশকে অনুপ্রবেশমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করবে বলেও জানান তিনি। সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি, বেআইনি অভিবাসন রোধ এবং অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে প্রযুক্তির ব্যবহার—এই বিষয়গুলিও সরকারের নিরাপত্তা পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। শাহ বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তাকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এগোতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাজ্য পুলিশের বাহিনী, কেন্দ্রীয় তদন্ত ও গোয়েন্দা সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের উপর জোর দেন তিনি।

    চার দফা সীমান্ত নিরাপত্তা কৌশল

    গত আট মাসে সমস্ত সীমান্তবর্তী রাজ্য সফরের কথা উল্লেখ করে শাহ জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে চার দফা কৌশল সম্বলিত একটি নথি রাজ্যগুলিকে দেওয়া হয়েছে। অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং তার সঙ্গে যুক্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা বাড়ানোই এই কৌশলের লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

    সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এর আগে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে ড্রোন, রাডার, স্মার্ট ক্যামেরা-সহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলেছিলেন শাহ। অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতেই এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা।

    সন্ত্রাস দমনে প্রহার কৌশল

    সন্ত্রাসবাদ নির্মূল এবং তার সম্পূর্ণ সহযোগী নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে দৈনন্দিন নিরাপত্তা অভিযানে প্রহার কৌশল কার্যকর করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    শাহের বক্তব্য, শুধু বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসবাদী ঘটনা মোকাবিলা করলেই হবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সামগ্রিক কৌশল গ্রহণ করতে হবে। বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপরও জোর দেন তিনি।

    তাঁর দাবি, নকশালবাদ, জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদ—এই বড় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলির বিরুদ্ধে সরকার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। এই অগ্রগতির জন্য বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ বাহিনী, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসাও করেন শাহ।

    নকশালবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও উত্তর-পূর্বের অশান্তি

    শাহ বলেন, নকশালবাদ, জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহ ছিল দেশের তিনটি বড় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ। তাঁর দাবি, সরকার এই সমস্যাগুলির মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে।

    একই সঙ্গে মাদক, নকশালবাদ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অশান্তির মতো সমস্যার গুরুত্ব আগের সরকারগুলির আরও আগে উপলব্ধি করা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, এই সমস্যাগুলি মোকাবিলায় দেরি হওয়ায় দেশকে কয়েক দশক ধরে তার পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে।

    কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের উদাহরণ হিসেবে পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন শাহ। তাঁর দাবি, এক রাতের মধ্যেই সংগঠনটির সম্পূর্ণ ক্যাডার কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয় এবং সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করা হয়। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার যৌথ পদক্ষেপের মাধ্যমে সংগঠিত নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার উদাহরণ হিসেবে তিনি বিষয়টি তুলে ধরেন (Infiltrator Free Nation)।

    বিদেশে পালিয়ে থাকা ২৭৪ অভিযুক্তকে দেশে ফেরানো

    বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা পলাতকদের ভারতীয় আইনের আওতায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন শাহ (Amit Shah)।

    তাঁর বক্তব্য, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ২৭৪ জন পলাতককে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ভারতীয় আইনের মুখোমুখি করার জন্য প্রতিটি রাজ্যকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণের আহ্বান জানান তিনি।

    একই সঙ্গে বহু সংস্থার সমন্বিত কেন্দ্রের আধুনিকীকরণের কথাও উল্লেখ করেন শাহ। তাঁর মতে, এই প্ল্যাটফর্ম বিভিন্ন স্তরে কার্যকর ফলাফল দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। সংগঠিত অপরাধ ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান এবং সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে দেখা হচ্ছে।

    এক বছরের মধ্যে নতুন ফৌজদারি আইন পুরোপুরি কার্যকর

    দেশের তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন আগামী এক বছরের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করা হবে বলে জানান শাহ।

    তাঁর দাবি, নতুন আইন কার্যকর হলে ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তির গতি বাড়বে। এমনকি তিন বছরের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দোষী সাব্যস্ত করার হার ২৫ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সংক্রান্ত আলোচনাকে শুধু বর্তমান হুমকির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরে সম্ভাব্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের পূর্বাভাস দেওয়ার উপরও জোর দেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, কোনও ঝুঁকি বড় হুমকিতে পরিণত হওয়ার আগেই তা চিহ্নিত করে তার মোকাবিলার কৌশল তৈরি করতে হবে।

    পুলিশিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্য বিশ্লেষণের উপর জোর

    তরুণ পুলিশ ও নিরাপত্তা আধিকারিকদের আরও বেশি করে তথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের আহ্বান জানান শাহ।

    তাঁর মতে, বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্যকে একত্রিত করে বিশ্লেষণ করতে হবে এবং অপরাধের ধরন ও প্রবণতা চিহ্নিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিতে হবে। এর মাধ্যমে এমন একটি পূর্বাভাসভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হবে, যেখানে বড় ধরনের হুমকি তৈরি হওয়ার আগেই সম্ভাব্য বিপদ চিহ্নিত করা যাবে।

    নিরাপত্তা সংস্থাগুলিও এখন একাধিক উৎস থেকে (Infiltrator Free Nation) তথ্য একত্রিত করে উন্নত বিশ্লেষণাত্মক প্রযুক্তির সাহায্যে অপরাধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির ধরন শনাক্ত করার দিকে এগোচ্ছে (Amit Shah)।

    মাদকমুক্ত ভারতের জন্য তিন স্তরের কৌশল

    শাহের বক্তব্যে মাদকবিরোধী অভিযানও গুরুত্ব পেয়েছে। দেশের সমস্ত রাজ্যের পুলিশকে মাদক নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিভঙ্গি সংক্রান্ত ২০২৬-২০২৯ নথি বাস্তবে কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের অপব্যবহার থেকে রক্ষা করার উপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    মাদকমুক্ত ভারত গড়তে শনাক্তকরণ, ব্যাহত করা এবং ধ্বংস—এই তিন স্তরের কৌশল গ্রহণের প্রস্তাব দেন শাহ। এর মাধ্যমে মাদক চক্র শনাক্ত করা, তাদের কার্যকলাপ ব্যাহত করা এবং শেষ পর্যন্ত বেআইনি মাদক ব্যবসাকে সহায়তা করে এমন গোটা পরিকাঠামো ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    শাহের বক্তব্যের বিবরণ অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সফল লড়াই করতে পারে একমাত্র ভারত।”

    ভবিষ্যতের সঙ্কটের পূর্বাভাস দেওয়ার বার্তা

    বিশ্বজুড়ে ঘটে চলা পরিবর্তন থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে জাতীয় নিরাপত্তা নীতি তৈরি করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন শাহ।ভবিষ্যতের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা, জ্বালানি সঙ্কট, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, বাড়তে থাকা জঙ্গিবাদ, সাইবার যুদ্ধ, অনুপ্রবেশ এবং মাদক চক্রের মতো বিষয়গুলিকে বিবেচনায় রাখার কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য, সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলি প্রথম পর্যায়েই চিহ্নিত করে বড় সঙ্কটে পরিণত হওয়ার আগেই তা মোকাবিলা করতে হবে। তাঁর লক্ষ্য—একটি নিরাপদ, অনুপ্রবেশমুক্ত এবং মাদকমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা (Amit Shah)।

    সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত নিরাপত্তায় শাহের বার্তা

    সাম্প্রতিক মাসগুলিতে অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক বক্তব্য দিয়েছেন শাহ। ২২ মে তিনি জানান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার সীমান্তে এক বছরের মধ্যে স্মার্ট সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ড্রোন, রাডার, স্মার্ট ক্যামেরা-সহ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো এবং অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধ করাই এই ব্যবস্থার লক্ষ্য (Infiltrator Free Nation)।

    ২৬ মে দেশজুড়ে অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা জানায় সরকার। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাভলেকরকে কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়। বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে জনসংখ্যার পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা কমিটি খতিয়ে দেখবে বলে জানানো হয়।

    ২৮ মে শাহ দাবি করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে নিয়মিত অনুপ্রবেশ হয়েছে এবং এখন অনুপ্রবেশকারীরা নিজেরাই ফিরে যেতে শুরু করেছেন। তিনি অনুপ্রবেশকারীদের স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। বেআইনি অভিবাসন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর বৃহত্তর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থানেরই অংশ হিসেবে এই মন্তব্যকে দেখা হচ্ছে।

    যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর জোর

    জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলনে শাহের বক্তব্যে সরকারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতির একাধিক দিক উঠে আসে। অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত নজরদারি থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদ, নকশালবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ, মাদক এবং বিদেশে পালিয়ে থাকা অভিযুক্ত—সব ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের উপর জোর দেন তিনি।

    একই সঙ্গে প্রযুক্তি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আরও বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর মতে, নিরাপত্তা নীতিকে শুধু বর্তমান হুমকির মোকাবিলায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরে কী ধরনের নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আসতে পারে, তারও আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে।

    শাহের বক্তব্যের মূল বার্তা হল, কোনও হুমকি বড় সঙ্কটে পরিণত হওয়ার আগেই তা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসবাদ এবং মাদক পাচারের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আগাম গোয়েন্দা তথ্যের (Infiltrator Free Nation) উপর নির্ভর করে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী করাই সরকারের (Amit Shah) লক্ষ্য।

     

     

  • Nepal Floods: নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ধসে মৃত ১৬০, পাশে থাকার আশ্বাস মোদির, ১০ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠাল ভারত

    Nepal Floods: নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ধসে মৃত ১৬০, পাশে থাকার আশ্বাস মোদির, ১০ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৬০। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন কয়েকশো মানুষ। এর (Nepal Floods) মধ্যে রয়েছেন অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিকও। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপালের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে ভারত (PM Modi)। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে প্রয়োজনীয় সব ধরনের মানবিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনার একটি সি-১৩০ সুপার হারকিউলিস (C-130 Super Hercules) বিমানে করে নেপালে ১০ টন ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী পাঠানো হয়েছে।

    নেপালকে সমবেদনা ভারতের (Nepal Floods)

    ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তাঁর সমবেদনা এবং সহায়তার প্রস্তাবের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই সংকটের সময়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির “উষ্ণ সংহতির বার্তা” এবং “উদার সহায়তার প্রস্তাবে”র জন্য কাঠমান্ডু গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। বলেন্দ্র বলেন, ‘‘এই সংহতির প্রকাশ আমাদের দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন। এই সম্পর্ককে আমরা গভীরভাবে মূল্য দিই।’’

    ‘‘নেপালের বোন ও ভাইদের পাশে ভারত’’

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং নেপালের মানুষের পাশে ভারতের থাকার কথা জানান। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে ভারত সব ধরনের সম্ভাব্য মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও আশ্বাস দেন তিনি। মোদি বলেন, ‘‘এই কঠিন সময়ে ভারতের মানুষ নেপালের তাঁদের বোন ও ভাইদের পাশে রয়েছে।’’ তিনি আরও জানান, ভারত নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট দল উদ্ধার ও ত্রাণকাজ নিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে বলেও জানান তিনি।

    ভোটে কোশি নদীর জলস্ফীতিতে ভয়াবহ বন্যা

    বুধবার নেপালের মধ্যাঞ্চলে আচমকাই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। ভোটে কোশি নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ফলে রসুয়া ও ধাদিং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অঞ্চলগুলি তিব্বত সীমান্তের কাছে অবস্থিত। পাশাপাশি নুওয়াকোট জেলায়ও বন্যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

    প্রবল জলের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু বসতি। একাধিক সেতু ভেসে গিয়েছে এবং অন্তত এক ডজন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যকলাপ ব্যাহত হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় বন্যার পাশাপাশি ভূমিধস পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গত এলাকায় উদ্ধার এবং ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছনোও কঠিন হয়ে উঠেছে।

    নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। নেপালি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১৫৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে, তিব্বতের সীমান্তবর্তী একটি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনায় আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম। সব (Nepal Floods) মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৬০-এ পৌঁছেছে।

    তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, এখনও কয়েকশো মানুষ নিখোঁজ। উদ্ধারকারী বিভিন্ন দল দুর্গত এলাকাগুলিতে তল্লাশি চালাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ এবং কাদার নীচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে (PM Modi)।

    নিখোঁজ ১৩৩ ভারতীয় নাগরিক

    নেপালের এই ভয়াল বন্যায় অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে ভারতীয় প্রশাসনও পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। নিখোঁজ ভারতীয়দের সন্ধান এবং তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।

    ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং বিদেশমন্ত্রক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে উদ্ধার ও দেশে ফেরাতে জরুরি বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করছে। নেপালের পাশাপাশি চিনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, বিশেষ করে রসুয়াগঢ়ি সীমান্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে (Nepal Floods)।

    ১০ টন ত্রাণ সামগ্রী পাঠাল ভারত

    দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ করেছে ভারত। ভারতীয় বায়ুসেনার বিমানে করে প্রায় ১০ টন ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী নেপালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা সরঞ্জাম, মেডিক্যাল কিট এবং সৌরচালিত বাতিও রয়েছে। দুর্গত এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় সৌরবাতি উদ্ধারকাজে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এছাড়াও একটি সি-১৭ (C-17) সামরিক পরিবহণ বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী দ্রুত নেপালে পাঠানো হতে পারে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (National Disaster Response Force) এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপালে নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকদের বিষয়ে পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে উদ্ধারকারী দল ও বিশেষ সরঞ্জাম দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে।

    সীমান্তজুড়ে যৌথ উদ্ধার অভিযান

    রসুয়াগঢ়ি সীমান্ত অঞ্চল নেপাল ও চিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হওয়ায় সেখানে বন্যা ও ভূমিধসের প্রভাব বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ওই এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালানোর জন্য ভারত নেপাল ও চিন—দুই দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গেই সমন্বয় রেখে চলেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় একাধিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় দ্রুত পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে স্থলপথের পাশাপাশি বিমানপথে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন

    এই পরিস্থিতিতে ভারতের দ্রুত সাহায্য শুধু উদ্ধার ও ত্রাণকাজেই নয়, দুই প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নেপালের দুর্যোগের সময়ে ভারতের এই সহায়তা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন বলেই মনে করছে কাঠমান্ডু (নেপালের রাজধানী)। নেপালে উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। নিখোঁজদের সন্ধান, আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্গতদের (PM Modi) নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য (Nepal Floods)। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা থাকায় উদ্ধারকারী দলগুলি ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকদের সন্ধান (PM Modi) এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ (Nepal Floods)।

     

  • UN Report: ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’! রাষ্ট্রপুঞ্জের বর্ণবৈষম্য কমিটির মন্তব্য খারিজ ভারতের

    UN Report: ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’! রাষ্ট্রপুঞ্জের বর্ণবৈষম্য কমিটির মন্তব্য খারিজ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপুঞ্জের বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ কমিটি (CERD)-র সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণকে কড়া ভাষায় খারিজ করল কেন্দ্র। বুধবার বিদেশ মন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, কমিটির কিছু মন্তব্য “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” এবং “অত্যন্ত বিদ্বেষপূর্ণ”। ভারতের বক্তব্য, দেশের সাংবিধানিক কাঠামো, আইনি সুরক্ষা এবং সামাজিক বৈচিত্র্যকে উপেক্ষা করে একতরফা সাধারণীকরণ করা হয়েছে। জেনেভায় গত ১১ ও ১২ আগস্ট ভারতের ১১তম পর্যায়ের পর্যালোচনা করে রাষ্ট্রপুঞ্জের বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ কমিটি। এই পর্যালোচনা ছিল আন্তর্জাতিক বর্ণবৈষম্য বিলোপ সনদ (ICERD)-এর অধীনে একটি নিয়মিত চুক্তিভিত্তিক পর্যালোচনা। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারত গঠনমূলক মনোভাব নিয়েই এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিল এবং বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশের প্রতিশ্রুতি “দৃঢ় ও অবিচল”।

    রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিদ্বেষপূর্ণ

    পর্যালোচনার সময় ভারত তার সংবিধানপ্রদত্ত সুরক্ষা, বিস্তৃত আইনি কাঠামো, বহুত্ববাদী সামাজিক চরিত্র এবং পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে। বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। পর্যালোচনা বৈঠকেই ভারতীয় প্রতিনিধিদল কমিটির কিছু “বিস্তৃত সাধারণীকরণ”, “প্রমাণহীন অভিযোগ” এবং আইসিইআরডি-এর নির্ধারিত সীমার বাইরে যাওয়ার প্রবণতা প্রত্যাখ্যান করেছিল। বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া মেনেই কমিটির পর্যবেক্ষণের জবাব দেবে ভারত। তবে বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অত্যন্ত বিদ্বেষপূর্ণ” মন্তব্য ভারত সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।

    কী অভিযোগ তুলেছে সিইআরডি?

    ভারতকে নিয়ে সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ কমিটি (CERD) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর উপর “বড় আকারের লঙ্ঘন”-এর অভিযোগ সংক্রান্ত রিপোর্ট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে জাতিগত ও জাতি-ধর্মীয় সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও উপজাতি জনগোষ্ঠী, তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি—বিশেষ করে দলিত—এবং অ-নাগরিকদের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি (UNCERD-UN Committee on the Elimination of Racial Discrimination)-র তাদের সর্বশেষ রিপোর্টে বলেছে ভারতে বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম এবং তফশিলি জাতি, উপজাতি ও রোহিঙ্গা জনজাতিদের উপর আক্রমণ নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে গিয়েছে। ভারতে ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ (hate speech) এবং ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’ (hate crimes) মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে প্রকাশিত প্রেস নোটে ওই সংস্থা বলেছে, বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমদের উপর নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। এসব বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ‘জবাবদিহিতা নিশ্চিত’ করতে ভারত সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে কমিটি। এই রিপোর্ট প্রকাশের পরই নয়া দিল্লির তরফে প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের প্রতিনিধি রিপোর্টটি প্রত্যাখ্যান করার কথা ঘোষণা করেন।

    সিইআরডি কী

    সিইআরডি হল একটি রাষ্ট্রসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটি, যার মূল কাজ রাষ্ট্রপক্ষগুলি আন্তর্জাতিক বর্ণবৈষম্য বিলোপ সনদ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করছে তা পর্যবেক্ষণ করা। রাষ্ট্রসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি আরও উল্লেখ করেছে যে, ‘বিশেষ করে ২০১৭ সালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে কাশ্মীরে সংঘটিত পহেলগাঁও হামলার পর’ রোহিঙ্গা, বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম, অভিবাসী এবং আশ্রয়প্রার্থীদের লক্ষ্য করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান বেড়েছে। কমিটির মতে, পুলিশি তল্লাশি চৌকি গুলিতে জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রোফাইলিং বা (racial profiling) করা হচ্ছে, যার ফলে ‘যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক’ করা হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ অসম সহ বিভিন্ন রাজ্যে থেকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের পুশ ব্যাকের (pushback)-এর বিষয়টি সরাসরি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি। কমিটি বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ‘রোহিঙ্গা, বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম, অভিবাসী এবং আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও বিদ্বেষমূলক অপরাধ জরুরিভাবে মোকাবিলা করতে, তাদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে, সম্মিলিতভাবে বহিষ্কার থেকে বিরত থাকতে এবং অ-প্রত্যাবর্তনের‌ (non-refoulement) নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ভারতকে আহ্বান জানিয়েছে কমিটি।

    ভারতের পাল্টা বক্তব্য

    জেনেভায় ভারতের স্থায়ী মিশনের বিবৃতি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় ভারতের ২০২৩ সালে জমা দেওয়া ১২তম ও ২১তম পর্যায়ের সম্মিলিত রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে আইসিইআরডি বাস্তবায়নের প্রশাসনিক কাঠামো, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে নীতিগত পদক্ষেপ-সহ একাধিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। ভারতীয় প্রতিনিধিদল দেশের বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য, সাংবিধানিক ও আইনি সুরক্ষা, ইতিবাচক পদক্ষেপ, গণতান্ত্রিক জবাবদিহি, বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিকার এবং লক্ষ্যভিত্তিক জনকল্যাণমূলক নীতি তুলে ধরে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সমস্ত নাগরিকের সমতা, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারত ধারাবাহিকভাবে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় কাজ করে চলেছে। উল্লেখ্য, ১৯৬০-এর দশকে ঔপনিবেশিকতা, বর্ণবৈষম্য ও অ্যাপারথেইডের বিরুদ্ধে উন্নয়নশীল দেশগুলির বৃহত্তর আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সময় ICERD-এর আলোচনা ও খসড়া প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় ভারত সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোর সঙ্গে ভারতের সম্পৃক্ততা অব্যাহত রয়েছে বলে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে।

  • Chhattisgarh: সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরায় মিলল বিপুল অস্ত্র-বিস্ফোরক, চলতি মাসে তৃতীয় বড় সাফল্য

    Chhattisgarh: সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরায় মিলল বিপুল অস্ত্র-বিস্ফোরক, চলতি মাসে তৃতীয় বড় সাফল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায় মাওবাদী-বিরোধী অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। জেলার জঙ্গলে ঘেরা দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে (Chhattisgarh) উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, বিস্ফোরক এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত নানা সামগ্রী (Maoist Arms)। গত ২৪ অগাস্ট ভেজ্জি থানার ভান্ডারপদর-মুনুরকোন্ডা জঙ্গল এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছিল। তাঁদের কাছ থেকে জঙ্গলের মধ্যে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রীর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর জেলা বাহিনী, জেলা রিজার্ভ গার্ড এবং বস্তার ফাইটার্সের যৌথ দল সোমবার সকালে ভান্ডারপদর-মুনুরকোন্ডার জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে।

    গোপন অস্ত্র ভান্ডারের সন্ধান (Chhattisgarh)

    তল্লাশির সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা একটি গোপন অস্ত্র ভান্ডারের সন্ধান পান। সেখান থেকে উদ্ধার হয় ২৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪৯২টি তাজা গুলি, ২৪০টি জিলেটিন স্টিক, ১৮ কেজি গানপাউডার এবং পাঁচটি হাতে তৈরি গ্রেনেড। বিপুল পরিমাণ বিজিএল গোলাবারুদ এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে।উদ্ধার হওয়া ২৩টি অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি এসএলআর রাইফেল, একটি দশমিক ৩১৫ বোরের রাইফেল, একটি দশমিক ৪১০ মাসকেট রাইফেল, ছ’টি বিজিএল লঞ্চার, একটি একনলা রাইফেল, একটি দেশীয় দশমিক ৩১৫ বোরের আগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি ১২ বোরের রাইফেল এবং সাতটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র। এসএলআর এবং দশমিক ৩০৩ রাইফেলের ম্যাগাজিন এবং বিপুল পরিমাণ বিজিএল সেল উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৪৯২টি গুলির মধ্যে একে-৪৭, এসএলআর, ইনসাস, দশমিক ৩০৩, দশমিক ৩১৫ এবং ১২ বোরের বিভিন্ন ধরনের গুলি রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিরাপত্তা বাহিনীর অনুমান, দীর্ঘ সময় ধরে মাওবাদী সংগঠনের ব্যবহারের জন্য ওই গোপন ভান্ডারে ধাপে ধাপে অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত করা হয়েছিল। বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদের উপস্থিতিই তার প্রমাণ।

    বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার

    অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৪০টি জিলেটিন স্টিক, ১৮ কেজি গানপাউডার, ৬৬টি বিজিএল কার্তুজ, আতসবাজির মতো ৪০টি বিস্ফোরক যন্ত্র এবং ছ’টি অ্যাক্সিলারেটর প্লাগ। এছাড়া বিভিন্ন আকারের ৮৯টি বিজিএল সেল এবং পাঁচটি হাতে তৈরি গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে (Maoist Arms)। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। গোটা ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন। অস্ত্র-বিস্ফোরকের পাশাপাশি ওই গোপন ভান্ডার থেকে মাওবাদী সদস্যদের দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাত জোড়া কালো পোশাক, ৩২টি কালো ও ২২টি সবুজ কোমরবন্ধ, ১১টি বাঁশি-রক্ষাকবচ, সাতটি বাঁদরটুপি, দুটি ওয়েল্ডিং ঢাল, দু’টি সৌর প্যানেল এবং সাতটি পিঠের ব্যাগ। এছাড়া ম্যাগাজিন রাখার ব্যাগ, অন্যান্য ব্যাগ এবং ওষুধও উদ্ধার হয়েছে (Chhattisgarh)।

    ভান্ডারপদর দীর্ঘদিন ধরেই মাওবাদী-প্রভাবিত এলাকা

    ভান্ডারপদর জঙ্গল এলাকায় এর আগেও মাওবাদীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। ২০২৪ সালে ওই এলাকায় সংঘর্ষে ১০ জন মাওবাদী নিহত হয়েছিল বলে নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছিল।

    সাম্প্রতিক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় এটা স্পষ্ট, ভান্ডারপদর-মুনুরকোন্ডা অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সামগ্রী লুকিয়ে রাখার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের দেওয়া তথ্য পুরানো অস্ত্রভান্ডারের অবস্থান চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করছেন পুলিশ আধিকারিকরা।

    শুধু অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার নয়, এই ধরনের অভিযান থেকে মাওবাদীদের সংগঠন, তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জঙ্গলে থাকা পুরানো পরিকাঠামো সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলছে বলে মনে করছে প্রশাসন (Chhattisgarh)।

    পুরনো অস্ত্রভান্ডার খুঁজতে জোর তল্লাশি

    সুকমার পুলিশ সুপার ময়াঙ্ক গুর্জর জানিয়েছেন, জঙ্গল এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর এলাকায় মাইনমুক্ত করার কাজও ধারাবাহিকভাবে চলছে। কোথাও বিস্ফোরক যন্ত্র বা অন্য কোনও বিস্ফোরক সামগ্রী লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেলে নিরাপত্তা বিধি মেনে সেগুলি দ্রুত শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে (Maoist Arms)।

    পুলিশ সুপারের দাবি, গত ৩১ মার্চ থেকে মাওবাদীদের পুরানো অস্ত্র ও বিস্ফোরকের গোপন ভান্ডার উদ্ধারের পাশাপাশি মাইনমুক্ত করার অভিযানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে দুর্গম জঙ্গল ও প্রত্যন্ত এলাকায় লুকিয়ে রাখা সামগ্রী খুঁজতে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। উদ্ধার হওয়ার পর প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মীরা বিস্ফোরকগুলি নিষ্ক্রিয় করছেন।

    এই অভিযানে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের কাছ থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বহু পুরনো ও গোপন অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    অগাস্টে সুকমায় তৃতীয় বড় অস্ত্রভান্ডারের খোঁজ

    চলতি অগাস্ট মাসে সুকমা জেলায় মাওবাদীদের গোপন অস্ত্রভান্ডার উদ্ধারের এটি তৃতীয় বড় ঘটনা (Chhattisgarh)। এর আগে ১৮ অগাস্ট চিন্তলনার থানার ইট্টালঙ্কা গ্রামের কাছে একটি গোপন ভান্ডার থেকে বিস্ফোরক, গোলাবারুদ এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছিল। তারও আগে ৩ অগাস্ট ভেজ্জি থানার বোধরাজপদর জঙ্গলে একটি মাওবাদী অস্ত্রভান্ডারের হদিশ পায় নিরাপত্তা বাহিনী।

    একই মাসে পরপর এই ধরনের উদ্ধার অভিযান থেকে স্পষ্ট, সুকমার দুর্গম জঙ্গলগুলিতে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক চিহ্নিত করে সরিয়ে ফেলার বিষয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জোর দিয়েছে। জঙ্গল ও প্রত্যন্ত এলাকায় অস্ত্রভান্ডারের সন্ধানে এলাকা দখল ও তল্লাশি অভিযান আগামী দিনেও চলবে বলে জানিয়েছে সুকমার পুলিশ।

    প্রশাসনের বক্তব্য, এই ধারাবাহিক অভিযানের লক্ষ্যই হল মাওবাদীদের অস্ত্রভান্ডার ধ্বংস করার পাশাপাশি জেলার নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখা এবং উন্নয়নের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা (Maoist Arms)। অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় শুরু হয়েছে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপও (Chhattisgarh)।

     

LinkedIn
Share