Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • JK SIA: ফের শুরু ১৯৯৮-এর কাশ্মিরী পণ্ডিতদের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত, নজরে টিকালাল টাপলু-বিচারপতি গঞ্জুর খুন

    JK SIA: ফের শুরু ১৯৯৮-এর কাশ্মিরী পণ্ডিতদের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত, নজরে টিকালাল টাপলু-বিচারপতি গঞ্জুর খুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৯৮ সালের ওয়ান্ধামা হত্যাকাণ্ডের (Wandhama Massacre) তদন্ত ফের শুরু করেছে জম্মু-কাশ্মীর (JK SIA) রাজ্য তদন্তকারী সংস্থা। ওই হত্যাকাণ্ডে ২৩ জন কাশ্মীরি পণ্ডিত নিহত হয়েছিলেন। উপত্যকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসবাদের তুঙ্গপর্বে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের লক্ষ্য করে চালানো একাধিক হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত মামলার তদন্ত নতুন করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।

    সূত্রের খবর, কাশ্মীরি পণ্ডিত নেতা টিকালাল টাপলু এবং বিচারপতি নীলকণ্ঠ গঞ্জুর হত্যার মামলার তদন্তও জোরদার করেছে তদন্তকারী সংস্থা। এর আগে কাশ্মীরি পণ্ডিত নার্স সরলা ভাট এবং লেখক সর্বানন্দ কৌল প্রেমী ও তাঁর ছেলে বীরেন্দ্র কৌলের হত্যার মামলাও নতুন করে খোলা হয়েছিল।

    ওয়ান্ধামা হত্যাকাণ্ড ও টাপলুর হত্যার ঘটনায় কয়েক দিন আগে কাশ্মীর উপত্যকার একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীরা এখন হামলায় জড়িত জঙ্গি এবং তাঁদের সহযোগীদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রত্যেকের ভূমিকা নির্ধারণের চেষ্টা করছেন।

    ওয়ান্ধামায় নিহত ২৩ কাশ্মীরি পণ্ডিত (JK SIA)

    ১৯৯৮ সালের ২৫ জানুয়ারি গান্দেরবল জেলার ওয়ান্ধামা গ্রামের কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারগুলির বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায় ভারী অস্ত্রে সজ্জিত জঙ্গিরা। হামলায় ২৩ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ৯ জন মহিলা এবং ৪ জন শিশুও।

    প্রজাতন্ত্র দিবসের আগের দিন এবং রমজান মাসের অন্যতম পবিত্র রাত শবে কদরের সময় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মামলাটির নিষ্পত্তি হয়নি (JK SIA)।

    নতুন করে তদন্ত শুরু করার ঘটনাটি উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদের সময়কালের বহু বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা মামলাগুলির পুনর্তদন্তের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের পুরনো হত্যাকাণ্ডের একাধিক মামলায় সাম্প্রতিক সময়ে তৎপরতা বেড়েছে তদন্তকারী সংস্থার।

    জুন মাসে সরলা ভাট হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৭৩৭ পাতার অভিযোগপত্র পেশ করে ওই সংস্থা। ১৯৯০ সালের ওই হত্যাকাণ্ডে জেলবন্দি জম্মু-কাশ্মীর মুক্তি ফ্রন্টের প্রধান ইয়াসিন মালিককে মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (Wandhama Massacre)।

    এর পর অগাস্ট মাসে কাশ্মীরি পণ্ডিত লেখক সর্বানন্দ কৌল প্রেমী ও তাঁর ছেলে বীরেন্দ্র কৌলের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জম্মু-কাশ্মীরের ন’টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়।

    টিকালাল টাপলু ও বিচারপতি গঞ্জুর মামলায়ও নজর

    কাশ্মীরের বিশিষ্ট আইনজীবী এবং তৎকালীন জম্মু-কাশ্মীর বিজেপির সহ-সভাপতি টিকালাল টাপলুকে ১৯৮৯ সালের সেপ্টেম্বরে শ্রীনগরে তাঁর বাড়ির কাছে গুলি করে হত্যা করা হয়। উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদের উত্থানের সময় কাশ্মীরি পণ্ডিতদের লক্ষ্য করে চালানো প্রথম দিকের একাধিক হত্যাকাণ্ডের মধ্যে টাপলুর হত্যাও ছিল অন্যতম (JK SIA)।

    বিচারপতি নীলকণ্ঠ গঞ্জুর হত্যাকাণ্ডের তদন্তও নতুন করে জোরদার করা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর মুক্তি ফ্রন্টের জঙ্গি মকবুল ভাটকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন বিচারপতি গঞ্জু।

    ১৯৮৯ সালের ৪ নভেম্বর শ্রীনগরের হরি সিং স্ট্রিটে সন্দেহভাজন জম্মু-কাশ্মীর মুক্তি ফ্রন্টের জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হন বিচারপতি গঞ্জু। তার আগে তাঁর বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছিল।

    কয়েক দশকের পুরনো মামলায় ফের তৎপরতা

    আটের দশকের শেষ এবং নয়ের দশকের সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অমীমাংসিত মামলাগুলিকে ফের তদন্তের আওতায় আনার বৃহত্তর উদ্যোগের মধ্যেই এই পদক্ষেপ। সরলা ভাট এবং সর্বানন্দ কৌল প্রেমীর হত্যার মামলায় সাম্প্রতিক তদন্ত ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। একটি মামলায় অভিযোগপত্র পেশের পাশাপাশি একাধিক জায়গায় তল্লাশিও চালানো হয়েছে। আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারী সংস্থা কয়েক দশকের পুরনো একাধিক মামলার সূত্র খতিয়ে দেখছে। জীবিত অভিযুক্ত, জঙ্গি এবং তাঁদের সহযোগীদের শনাক্ত করতে সন্ধান করা হচ্ছে (Wandhama Massacre) নতুন সূত্রের।

    ফলে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের হত্যার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত মামলা ফের সক্রিয় তদন্তের আওতায় এল। ওয়ান্ধামা হত্যাকাণ্ড, টিকালাল টাপলু ও বিচারপতি নীলকণ্ঠ গঞ্জুর হত্যার পুনর্তদন্ত সেই প্রক্রিয়াকেই আরও বিস্তৃত করল (JK SIA) বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • One Nation One Election: ভাবনায় ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’! ২০২৯ লোকসভার সঙ্গেই ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচন?

    One Nation One Election: ভাবনায় ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’! ২০২৯ লোকসভার সঙ্গেই ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই ২২টি এনডিএ-শাসিত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচন করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’-এর প্রথম ধাপ ২০৩৪-এর পরিবর্তে ২০২৯ সালেই শুরু হতে পারে বলে সূত্রের খবর। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তা ভেঙে দিয়ে লোকসভা নির্বাচনের সময়ের সঙ্গে ভোটের সময়সূচি মিলিয়ে দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ (One Nation One Election) সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটি (JPC) বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, বিধায়ক, সরকারি আধিকারিক এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে একসঙ্গে নির্বাচন করাতে কী ধরনের সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তন প্রয়োজন, তা-ও খতিয়ে দেখছে কমিটি।

    কীভাবে ২২টি রাজ্যকে ২০২৯-এর ভোটচক্রে আনা হতে পারে?

    বিবেচনায় থাকা ২২টি এনডিএ-শাসিত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে ১১টিতে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগের দুই বছরের মধ্যে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। অন্যদিকে অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচলপ্রদেশ, সিকিম এবং ওড়িশায় লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই বিধানসভা নির্বাচন হয়। প্রস্তাবটি কার্যকর করতে হলে বাকি কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা স্বাভাবিক মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে দিতে হতে পারে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যে এনডিএ সরকার ক্ষমতায় থাকলে এবং তারা এই পরিকল্পনায় সম্মতি দিলে ২০২৯ সালের জানুয়ারির মধ্যেই বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংবিধানের ১৭৪(২)(বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দিতে পারেন। সাধারণত মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার পরামর্শেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিধানসভা ভেঙে গেলে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নতুন নির্বাচন করতে হয়। এর ফলে কয়েকটি রাজ্যে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ কয়েক বছর পর্যন্ত কমে যেতে পারে। যেমন গোয়া, গুজরাট, মণিপুর, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে প্রায় তিন বছর পর্যন্ত মেয়াদ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, রাজস্থান ও ত্রিপুরায় এই মেয়াদ কমার পরিমাণ প্রায় চার বছর হতে পারে।

    একসঙ্গে নির্বাচনের পক্ষে কয়েক এনডিএ মুখ্যমন্ত্রী

    এই পরিকল্পনার প্রতি ইতিমধ্যেই কয়েকটি এনডিএ-শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সমর্থন জানিয়েছেন। গোয়া, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীরা সংসদীয় কমিটির সঙ্গে আলোচনায় নির্বাচনগুলির সময়সূচি সমন্বয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে বিধানসভার মেয়াদে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে দিল্লি সরকার প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় স্তরে নির্বাচনের সময়সূচি এক করার জন্য দিল্লির মেয়াদে উপযুক্ত সমন্বয় প্রয়োজন হলে সরকার ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে তা বিবেচনা করবে। ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের সঙ্গে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচন করতে হলে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ প্রায় এক বছর কমাতে হতে পারে। যৌথ সংসদীয় কমিটি ইতিমধ্যে মহারাষ্ট্র, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, পঞ্জাব, হিমাচলপ্রদেশ, কর্নাটক, গুজরাট, দিল্লি, গোয়া এবং উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে আলোচনা করেছে। বিধানসভা আগাম ভেঙে দেওয়া, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন এবং নির্বাচনী সময়সূচি সমন্বয়ের সাংবিধানিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    বিরোধীদের আপত্তি: গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন

    বিধানসভাগুলির মেয়াদ আগাম শেষ করার সম্ভাবনা সামনে আসায় ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচিত রাজ্য সরকারের মেয়াদ কমিয়ে দিলে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন, দলের অবস্থানের কোনও পরিবর্তন হয়নি। কংগ্রেস ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’-এর বিরোধী। তাঁর দাবি, এই প্রস্তাব অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক এবং জবাবদিহির পরিপন্থী। কংগ্রেস ও ডিএমকে-র সাংসদরা ২০২৪ সালে সংসদে বিলগুলি পেশ করার সময়ই আপত্তি জানিয়েছিলেন। কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারও যৌথ সংসদীয় কমিটি-র সামনে হাজির হয়ে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। পাঞ্জাব, হিমাচলপ্রদেশ, কর্নাটক, মিজোরাম এবং তেলঙ্গানার মতো বিরোধী-শাসিত রাজ্যগুলিতেও ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। তবে এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলির মতো এই রাজ্যগুলির সরকারগুলি স্বেচ্ছায় বিধানসভার মেয়াদ কমাতে আগ্রহী হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

    কী রয়েছে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ বিলের প্রস্তাবে?

    ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ ব্যবস্থার জন্য ২০২৪ সালে সংবিধান (১২৯তম সংশোধনী) বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল আনা হয়। তৎকালীন আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিলটি পেশ করেন। পরে ২৬৯ জন সাংসদ বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর পক্ষে ভোট দেন এবং ১৯৬ জন এর বিরোধিতা করেন। প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনীতে ৮২, ৮৩, ১৭২ এবং ৩২৭ নম্বর অনুচ্ছেদে পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। এর লক্ষ্য হল লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলির নির্বাচনকে একটি নির্দিষ্ট সময়চক্রে নিয়ে আসা। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনও সাধারণ নির্বাচনের পর লোকসভার প্রথম বৈঠকের পর যে বিধানসভাগুলি নির্বাচিত হবে, তাদের মেয়াদ প্রয়োজন অনুযায়ী সামঞ্জস্য করা যেতে পারে, যাতে পরবর্তী সময়ে লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই ওই বিধানসভাগুলির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই পরিকল্পনার ভিত্তি মূলত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ওই কমিটি গঠিত হয়েছিল। বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও গবেষণার পর কমিটি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে রিপোর্ট জমা দেয়। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যৌথ সংসদীয় কমিটি-র মেয়াদ সম্প্রতি শীতকালীন অধিবেশন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে আরও আলোচনা ও পরামর্শের পরই ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ নিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ সামনে আসবে। ২০২৯ সালেই একসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন হবে কি না, এখন সেই প্রশ্নই জাতীয় রাজনীতিতে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

  • Ajit Doval: সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে দিল্লির বার্তা পৌঁছে দিতে বেজিং গেলেন অজিত ডোভাল

    Ajit Doval: সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে দিল্লির বার্তা পৌঁছে দিতে বেজিং গেলেন অজিত ডোভাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের (Xi Jinping) সম্ভাব্য ভারত সফরের আগেই সোমবার বেজিং গিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval)। চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে চলা ভারত-চিন সীমান্ত বিরোধের অবসানে ২০০৩ সালে গড়ে ওঠা এই ব্যবস্থার অধীনে এটি হবে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম বৈঠক। ভারত ও চিনের মধ্যে ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ।

    জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফরের ঠিক আগে ডোভালের বেজিং সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও ভারত বা চিন—কোনও পক্ষই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে শি-র সফরের কথা ঘোষণা করেনি, সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে চিনের প্রেসিডেন্টের। সে ক্ষেত্রে সাত বছর পর প্রথম বার ভারতে আসবেন শি। গত বছর তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল তাঁর।

    অরুণাচলে ভারত-চিন সেনার মুখোমুখি অবস্থান (Ajit Doval)

    চিনের বিশেষ প্রতিনিধির সঙ্গে সীমান্ত বৈঠকের জন্য ডোভালের এই সফরের মধ্যেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অরুণাচল প্রদেশে ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে সাম্প্রতিক মুখোমুখি অবস্থানের খবর সামনে এসেছে। চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির তথাকথিত অনুপ্রবেশের মাত্রা নিয়ে এখনও প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। শনিবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ফের একবার স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, সীমান্তের পরিস্থিতিই সামগ্রিক ভারত-চিন সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণ করবে।

    জয়শঙ্কর বলেন, “আমার মনে হয়, ২০২০ সালের গ্রীষ্ম থেকে ২০২৪ সালের শরৎ কাল পর্যন্ত আমরা অত্যন্ত খারাপ একটি সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। এর প্রধান কারণ ছিল সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি।” লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সামরিক অচলাবস্থার প্রসঙ্গেই এই মন্তব্য করেন তিনি। ওই সংঘাতের জেরে গত ছ’দশকের মধ্যে ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

    সীমান্তে কি মিলবে সমাধানের পথ?

    ২০২৪ সালের অক্টোবরে লাদাখে সামরিক মুখোমুখি অবস্থানের অবসান ঘটাতে দুই দেশ সম্মত হওয়ার পর রাশিয়ায় জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই বৈঠকে দুই নেতা স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ মেটানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ করার বিষয়ে একমত হন।

    এর পর ভারত ও চিনের মধ্যে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা ফের চালু করা, চিনা নাগরিকদের জন্য ভিসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা এবং সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় চালুর মতো একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে এখনও চোখে পড়ার মতো কোনও অগ্রগতি হয়নি।

    ডোভালের বেজিং সফরে যদি সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কোনও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়, তা হলে আগামী মাসে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও জিনপিংয়ের সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পথ আরও মসৃণ হতে পারে।

    বৈঠকের আলোচনায় কী থাকবে?

    বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠকে মূলত দু’টি বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। প্রথমত, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পূর্ব লাদাখ ও অরুণাচল প্রদেশের পরিস্থিতি পর্যালোচনা। দ্বিতীয়ত, সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর জন্য কার্যকর ব্যবস্থা খুঁজে বের করা (Ajit Doval)।

    গত ৬ অগাস্ট নয়াদিল্লিতে ভারত-চিন সীমান্ত বিষয়ক কর্মব্যবস্থা সংক্রান্ত পরামর্শ ও সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ভারতের বিবৃতি অনুযায়ী, বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আগের বৈঠকের পর দুই দেশ সীমান্তের সীমানা নির্ধারণ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সীমান্ত-পারাপার সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে।

    ডোভালের আসন্ন বেজিং সফরে সেই আলোচনাই আরও (Xi Jinping) এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা, উত্তেজনা কমানো এবং ভারত-চিন সম্পর্ককে স্বাভাবিক পথে ফেরানোর বিষয়ে দু’দেশের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে, সেটাই দেখার (Ajit Doval)।

  • Amit Shah:  শিলিগুড়ি করিডরে নিরাপত্তা জোরদারে সব সংস্থার উপস্থিতি বাড়ানোর নির্দেশ শাহের

    Amit Shah:  শিলিগুড়ি করিডরে নিরাপত্তা জোরদারে সব সংস্থার উপস্থিতি বাড়ানোর নির্দেশ শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে এই কৌশলগত অঞ্চলে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থার উপস্থিতি (National Security) বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। শনিবার করিডরটির নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি আরও নির্দেশ দেন, শিলিগুড়ি করিডরকে সব ধরনের দখলদারি থেকে মুক্ত রাখতে হবে এবং এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে।

    শিলিগুড়ি করিডর প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং প্রায় ২২ কিলোমিটার চওড়া একটি সংকীর্ণ ভূখণ্ড। এটি ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। এই করিডরই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই করিডরের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

    দক্ষিণ ও পশ্চিমে বাংলাদেশ, উত্তরে তিব্বত তথা চিনের অবস্থানের মাঝে রয়েছে এই করিডরটি। একই সঙ্গে এটি নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটানের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে সীমান্ত নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে শিলিগুড়ি করিডরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

    বৈঠকে শাহ পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে শিলিগুড়ি করিডরে অসামরিক প্রতিরক্ষা ও স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা বাহিনীর পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

    শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা পর্যালোচনা (Amit Shah)

    শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকের সময়ই শাহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের কার্যকলাপ, জনসংখ্যার পরিবর্তন, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয়গুলি বৈঠকে উঠে আসে।

    বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক, সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, সশস্ত্র সীমা বল এবং রেল সুরক্ষা বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব ও পুলিশের মহানির্দেশকও।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত সব সংস্থাকে করিডরে তাদের প্রতিষ্ঠান ও পরিকাঠামোর সংখ্যা বাড়িয়ে নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন।”

    করিডরের গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত প্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তাও পর্যালোচনা করেন তিনি। সেগুলিকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। শিলিগুড়ি করিডরকে দখলদারি থেকে মুক্ত রাখার ওপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    অনুপ্রবেশ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, “শিলিগুড়ি করিডরে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।”

    বৈঠকে বহু সংস্থার সমন্বিত কাঠামোর অধীনে শিলিগুড়ি করিডরের জন্য গঠিত বিশেষ মনোযোগী গোষ্ঠী এ পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার জন্য তাদের সুপারিশ তুলে ধরে।

    এ ছাড়াও করিডরের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পরিকাঠামোগত প্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    সীমান্ত নিরাপত্তায় চার স্তম্ভের সমন্বিত কৌশল

    বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তায় চার স্তম্ভের সমন্বিত কৌশলের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রচলিত সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Amit Shah)।

    এই চার স্তম্ভের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও সশস্ত্র সীমা বলের মতো সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনী; অবৈধ অনুপ্রবেশ, স্থানীয় গতিবিধি ও অপরাধী চক্রের ওপর নজর রাখা রাজ্য পুলিশের মতো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা; অসামরিক প্রশাসন এবং স্থানীয় জনসমাজ।

    শাহ নির্দেশ দেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চারটি স্তম্ভকেই সমান অংশীদার হিসেবে কাজ করতে হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে এই সমন্বিত কৌশল পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।

    শিলিগুড়ি করিডরের পরিকাঠামোগত প্রকল্পগুলির গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। যে সমস্ত কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেগুলি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

    উত্তরবঙ্গে আরও বেশি সৈনিক বিদ্যালয় খোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্যও রাজ্য সরকারকে পরামর্শ দেন শাহ। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে জাতীয় ক্যাডেট বাহিনীর সিনিয়র ক্যাডেটের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও উদ্যোগী হতে বলেন তিনি।

    গোর্খা প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক অমিত শাহের

    শিলিগুড়িতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গোর্খা সাংসদ, বিধায়ক এবং বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন শাহ। দীর্ঘদিনের দাবি ও গোর্খা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন উদ্বেগ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ন্যায়সঙ্গত, মর্যাদাপূর্ণ এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য বাস্তবসম্মত পথরেখা তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকের পর শাহ জানান, গোর্খা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং প্রকৃত উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তৈরির বিষয়েও কথা হয়েছে।

    তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সরকার এই বিষয়গুলির সমাধানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকে গোর্খা সম্প্রদায়ের ন্যায্য প্রত্যাশা পূরণে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হবে (Amit Shah)।”

    শাহ এও বলেন, সরকার এমন একটি সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করবে, যা গোর্খা সম্প্রদায়ের প্রত্যাশাকে সম্মান করবে, তাদের পরিচয় সুরক্ষিত রাখবে এবং আরও ভালো ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।”

    গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জমা দেওয়ার জন্য মধ্যস্থতাকারী পঙ্কজ সিংয়ের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে (National Security)।

    গোর্খাল্যান্ড নিয়ে আশা

    বিজেপি সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা জানান, বৈঠকের ফলে গোর্খাল্যান্ড সমস্যার ইতিবাচক সমাধানের পথ তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, “গোর্খাল্যান্ড সমস্যা নিয়ে আমরা যে সমাধান চাইছি, তা খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া এখন শুরু হয়েছে। একটি কমিটি গঠন করা হবে। বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে আমাদের মধ্যস্থতাকারী পঙ্কজের নেতৃত্বেই ওই কমিটি কাজ করবে।”

    শ্রিংলা শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তার গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “শিলিগুড়ি করিডরে একশো শতাংশ নিরাপত্তা থাকবে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।”

    বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু জানান, বৈঠকে উত্তরবঙ্গের সামনে থাকা বিভিন্ন নিরাপত্তা-সংক্রান্ত হুমকি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডরকে ঘিরে উদ্বেগ এবং উত্তরবঙ্গকে দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার বিভিন্ন প্রচেষ্টার বিষয়টিও (Amit Shah) উঠে আসে এদিনের আলোচনায় (National Security)।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগ, দেখে নিন সাপ্তাহিক ঘটনাপঞ্জি

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগ, দেখে নিন সাপ্তাহিক ঘটনাপঞ্জি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ভারতের বাইরে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলা (Hindus Under Attack), ধর্মীয় বিদ্বেষ, মন্দির অপবিত্র করা, জমি দখল, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, হিংসা ও বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত (Roundup Week)। ১৬ থেকে ২২ অগাস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত এক সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দুদের ওপর হিংসা ও বৈষম্যের প্রবণতা ক্রমেই গুরুতর হয়ে উঠছে। প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতিকে মানবাধিকার সংকট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    মন্দিরের জমিতে গির্জা নির্মাণ! (Hindus Under Attack)

    কর্নাটকের রায়চূরের বিচালি ক্যাম্প এলাকায় অঞ্জনেয় মন্দিরের জন্য নির্ধারিত একটি জমিতে গির্জা নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ১২ অগাস্ট একটি গির্জার কাছে অঞ্জনেয়ের মূর্তি স্থাপনের পর সংঘর্ষের ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।

    স্থানীয় হিন্দু বাসিন্দাদের অভিযোগ, মন্দিরের জন্য নির্ধারিত জমি কীভাবে অন্য ধর্মীয় স্থাপনার কাজে ব্যবহার করা হল, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। তাঁরা জমির মূল নথি ও বরাদ্দ সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। সংঘর্ষে পাথর ছোড়াছুড়ির ঘটনায় দু’জন জখম হন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিচালি ও বিচালি ক্যাম্প এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    উত্তরপ্রদেশে শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

    উত্তরপ্রদেশের বলরামপুর জেলার গ্যাসড়ি থানার ঠাকুরপুর গ্রামে পেশায় শ্রমিক রাম সানেহিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে জনৈক আকবর আলি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

    পুলিশের দাবি, চোর সন্দেহে রামকে ধরে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। মূল অভিযুক্ত আকবর ও এক কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োয় এক ব্যক্তিকে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় রাম সানেহিকে লাঠি দিয়ে মারতে দেখা যায়।

    সাংলিতে দম্পতির ওপর হামলা, মহিলার মৃত্যু

    মহারাষ্ট্রের সাংলি জেলার এমআইডিসি কুপওয়াড় এলাকায় প্রতিবেশীদের মধ্যে বিবাদকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। চাণক্য চকের কাছে বিঘ্নহর্তা শান্তি কলোনিতে হামলার ওই ঘটনায় মৃত্যু হয় বছর আটত্রিশের মনীষা মোহন কেশরকরের। তাঁর স্বামী মোহন নাগাপ্পা কেশরকর গুরুতর জখম হন। হামলায় অভিযুক্ত জনৈক ফরিদ আবদুল শেখ।

    মুরুগনকে ঘিরে ইতিহাস ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্ক

    তামিল সমাজে মুরুগন-উপাসনার ইতিহাস নিয়ে দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মুরুগন-উপাসনার প্রাচীন ধারায় বৈদিক আচার ও স্থানীয় গ্রামীণ ধর্মাচরণ পাশাপাশি চলেছে এবং ঐতিহাসিকভাবে এই দুই ধারার মধ্যে বিরোধ ছিল না।

    তবে তামিল সমাজে প্রায় পাঁচ দশক ধরে এমন একটি মত প্রচলিত রয়েছে যে মুরুগন মূলত দ্রাবিড় লোকদেবতা বা কোনও ঐতিহাসিক পূর্বপুরুষের স্মৃতি থেকে উদ্ভূত এবং পরে তাঁকে সংস্কৃতভিত্তিক কার্তিকেয়ের সঙ্গে একীভূত করা হয়। প্রতিবেদনে এই মতের প্রমাণযোগ্য ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি দাবি করা হয়েছে, মুরুগনকে খ্রিস্টধর্মে রূপান্তরের উপযোগী একটি চরিত্র হিসেবে তুলে ধরার দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টার সঙ্গে এই ব্যাখ্যার সম্পর্ক রয়েছে (Hindus Under Attack)।

    বন্দে মাতরম নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থান

    কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি বিকে হরিপ্রসাদ জানিয়েছেন, সরকারি কোনও আইনি বিধান চালু হলেও দলীয় কর্মসূচিতে কংগ্রেস ঐতিহ্য অনুযায়ী বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবকই গাইবে।

    প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ১৮৯৬ সাল থেকে কংগ্রেসের কর্মসূচিতে বন্দে মাতরমের দুই স্তবক গাওয়ার রীতি চলে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে। তিনি বলেছেন, “ওরা আমাদের জেলে পাঠাক বা ফাঁসি দিক, আমরা বন্দে মাতরমের ওই দুই অনুচ্ছেদই গাইব।”

    প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, পরবর্তী স্তবকগুলিতে হিন্দু দেবীদের উদ্দেশে প্রার্থনা থাকায় কংগ্রেসের একটি অংশ তা নিয়ে আপত্তি জানায়।

    বন্দে মাতরম নিয়ে শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্য

    অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরও বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবক রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, পরবর্তী অংশে হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ থাকায় একেশ্বরবাদে বিশ্বাসীদের কাছে তা গ্রহণ করা কঠিন হতে পারে।

    এই মন্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এড়ানোর জন্য কেন হিন্দু ধর্মীয় প্রতীক ও অভিব্যক্তিকে বারবার পরিবর্তন করার দাবি ওঠে।

    চট্টগ্রাম সম্মেলন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

    লখনউভিত্তিক অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের এক মুখপাত্র চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা ও আল-কায়দার সঙ্গে যুক্ত ইসলামপন্থীদের উপস্থিতির কথাও বলা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সেখানে ইসলামিকরণ, ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং বাংলাদেশি হিন্দুদের উৎখাতের কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। যদিও এই গুরুতর দাবিগুলির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    কর্নাটকে মন্দির চত্বরে প্রস্রাব করার অভিযোগ

    কর্নাটকের হাভেরি জেলার শিগগাঁও শহরে অঞ্জনেয় মন্দির চত্বরে প্রস্রাব করে এক ব্যক্তি (Roundup Week)। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। ওই ঘটনায় পুলিশ শনাক্ত করে মহম্মদ জাফর নামে একজনকে।

    ঘটনাটি ২০ অগাস্ট রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ ঘটে বলে পুলিশের বক্তব্য। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে তাঁকে গ্রেফতার করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয় (Hindus Under Attack)।

    বিদ্যারত্ন স্লোগান নিয়ে কলেজে বিতর্ক

    কর্নাটকের বিদার জেলার শাহীন পিইউ কলেজে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের পর “ভারত মাতা কি জয়” এবং “বন্দে মাতরম” স্লোগান দেওয়ায় ছাত্রদের থামিয়ে সতর্ক করার অভিযোগ উঠেছে কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল হাকিমের বিরুদ্ধে।

    ছাত্র সাগর গৌলির বাবা হিরোবা গৌলির অভিযোগের ভিত্তিতে চিটগুপ্পা থানায় মামলা দায়ের হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা, মন্দিরে ভাঙচুর, জমি দখল, ধর্মীয় অভিযোগকে কেন্দ্র করে হামলা, নারী নির্যাতন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের অভিযোগও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাকতের একটি গবেষণার উল্লেখ করে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত নিপীড়নের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। তবে এই পূর্বাভাসের পদ্ধতি ও বর্তমান তথ্যের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন (Roundup Week)।

    ভারত প্রবেশ ও ধর্মান্তর নিয়ে প্রচারের অভিযোগ

    বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ধর্মীয় বক্তা মো আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতে প্রবেশ, শিলিগুড়ি-দার্জিলিং অঞ্চলে বৃহৎ পরিসরে হিন্দুদের ধর্মান্তর এবং অসম ও ত্রিপুরার মুসলিম জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংগঠিত যোগাযোগের নেটওয়ার্ক তৈরির ইচ্ছা প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার একটি প্ল্যাটফর্মে তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যা ১ লাখ ৮৪ হাজারেরও বেশি। তবে তাঁর বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করা হয়নি।

    সীমান্ত থেকে ভারতীয় কৃষককে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

    পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ভারতীয় চা-চাষিকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    নিহত বা নিখোঁজ নন, ওই কৃষক দীপঙ্কর গোপরকে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ আটক করে রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর মুক্তির সঙ্গে তামিজ উদ্দিন নামে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মুক্তির দাবিকে যুক্ত করা হয়েছে। তামিজ উদ্দিন সীমান্তের বেড়া কেটে ভারতে প্রবেশের পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে আটক হয় এবং আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান চক্রের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলে সন্দেহ।

    বিষয়টি নিয়ে তিন দফা ফ্ল্যাগ মিটিং হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। ঘটনায় সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

    হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে,হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের পেছনে ধর্মীয় শিক্ষা, রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। কিছু ইসলামপ্রধান দেশে হিন্দুবিদ্বেষ প্রকাশ্য হলেও, ধর্মনিরপেক্ষ বলে পরিচিত রাষ্ট্রগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম ধরনের বৈষম্য দেখা যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    দীপাবলিতে আতশবাজি নিষিদ্ধ করার নীতিকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে এই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও, প্রতিবেদনের মতে, অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে একই ধরনের মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন থাকা উচিত।

    বস্তুত, প্রতিবেদনে হিন্দুদের ওপর হিংসা ও বৈষম্যের অভিযোগগুলিকে নথিবদ্ধ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত (Roundup Week), তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে (Hindus Under Attack)।

     

  • IVF: অসমে ইতিহাস, বিশ্বে প্রথম আইভিএফ পদ্ধতিতে দেশি ‘লখিমী’র বকনা বাছুরের জন্ম

    IVF: অসমে ইতিহাস, বিশ্বে প্রথম আইভিএফ পদ্ধতিতে দেশি ‘লখিমী’র বকনা বাছুরের জন্ম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বে প্রথম আইভিএফ পদ্ধতিতে জন্ম হল দেশি ‘লখিমী’ জাতের গরুর। এই ঘটনাকে ঐতিহাসিক সাফল্য এবং রাজ্যের (IVF) পশুপালন সংরক্ষণ, দুগ্ধ উৎপাদন ও জৈবপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, এই সাফল্যের মধ্যে ‘সভ্যতা, সংস্কৃতি ও সৃজনে’র এক অনন্য সমন্বয় ঘটেছে। অসমের স্থানীয় জাত ‘লখিমী’র বিশ্বের প্রথম আইভিএফ বকনা বাছুরের জন্ম হয়েছে (Assam Lakhimi Breed) অসম পশুচিকিৎসা ও মৎস্য বিশ্ববিদ্যালয়ে।

    মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য (IVF)

    তিনি বলেন, “আজ অসম এক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে—সভ্যতা, সংস্কৃতি ও সৃজনের এক সুন্দর সমন্বয় ঘটেছে। অসমের স্থানীয় জাত লখিমীর বিশ্বের প্রথম আইভিএফ বকনা বাছুরের জন্ম হয়েছে অসম পশুচিকিৎসা ও মৎস্য বিশ্ববিদ্যালয়ে।”

    মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই সাফল্য দেশি গবাদি পশুর জাত সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পাশাপাশি রোগ নিয়ন্ত্রণের উন্নতি এবং দুধ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষকদের আয়ও বাড়ানো সম্ভব হবে।

    এই ঐতিহাসিক সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত পশুচিকিৎসা বিজ্ঞানী ও পেশাদারদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “এই সাফল্যের নেপথ্যে থাকা সমস্ত পশুচিকিৎসা বিজ্ঞানী ও পেশাদারদের আমার আন্তরিক অভিনন্দন। তাঁদের কাজ অসমের দুগ্ধশিল্পে নতুন যুগের সূচনা করার সম্ভাবনা রাখে। বাছুরটি আকারে ছোট হলেও, আমাদের রাজ্যে জৈবপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে সে একটি বিশাল মাইলফলক বহন করছে।”

    এদিকে পশুপালন ও দুগ্ধশিল্পের পাশাপাশি জ্বালানি ক্ষেত্রেও নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার পথে এগোচ্ছে অসম। রাজ্যে ২০২৬ সালের অসম হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান, উৎপাদন এবং উর্ধ্বপ্রবাহ বাস্তুতন্ত্র উন্নয়ন নীতি কার্যকর করা হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এই নীতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্য পূরণের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

    জ্বালানি ক্ষেত্রেও অসমের অবদান

    পুরী বলেন, “ভারতের পেট্রোলিয়াম শিল্পের জন্মভূমি অসম এখন আত্মনির্ভরতার পথে ভারতের জ্বালানি যাত্রার পরবর্তী অধ্যায়কে শক্তি জোগাতে প্রস্তুত।”

    এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য হিমন্তকে ধন্যবাদ জানিয়ে পুরী বলেন, নতুন নীতি অসমে বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে এবং তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুসন্ধান ও উৎপাদন আরও দ্রুততর করবে (IVF)।

    নতুন নীতিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং আধুনিক অনুসন্ধান প্রযুক্তির ব্যবহার উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি জারির দিন থেকে এই নীতি ১০ বছর কার্যকর থাকবে। তবে তার আগে নীতিটি সংশোধন, পরিবর্তিত নীতি দ্বারা প্রতিস্থাপন বা প্রত্যাহার করা হলে তা প্রযোজ্য হবে না।

    পুরীর বক্তব্যের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উদ্ভাবনের মাধ্যমে অসম তার হাইড্রোকার্বন-ভিত্তিক ঐতিহ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

    তিনি বলেন, “হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধানে অসমের প্রথম উদ্যোগ নেওয়ার সুবিধা আমাদের অনেকটা এগিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু আমরা সেই সুবিধার উপর নির্ভর করে বসে থাকতে চাই না। ধারাবাহিক উদ্ভাবনই আমাদের এগিয়ে রাখবে (Assam Lakhimi Breed)।”

    মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বিকশিত ভারতে’র স্বপ্ন বাস্তবায়নে অবদান অব্যাহত রাখবে (IVF) অসম।

     

  • Cargo Ship Sinks: ওড়িশা উপকূলে ডুবল পানামার পণ্যবাহী জাহাজ, নিখোঁজ ২২

    Cargo Ship Sinks: ওড়িশা উপকূলে ডুবল পানামার পণ্যবাহী জাহাজ, নিখোঁজ ২২

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওড়িশা (Odisha) উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে ডুবে গেল সিঙ্গাপুরগামী পানামার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ (Cargo Ship Sinks) ‘এমভি ওশান উইনার’। জাহাজটিতে মোট ২৪ জন নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, নিখোঁজ ২২ জন। তাঁদের সন্ধানে চলছে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী ও নৌসেনার তল্লাশি অভিযান। জানা গিয়েছে, শুক্রবার ওড়িশা উপকূল থেকে লৌহ আকরিক বোঝাই করে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল জাহাজটি। শনিবার আচমকাই জাহাজটির সঙ্গে স্থলভাগের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে জানা যায়, পারাদ্বীপ উপকূল থেকে প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে বঙ্গোপসাগরে জাহাজটি ডুবে গিয়েছে।

    নিখোঁজ বহু নাবিক (Cargo Ship Sinks)

    জাহাজে থাকা ২৪ জন নাবিকের মধ্যে ২০ জন চিনা নাগরিক। এ ছাড়া ছিলেন বাংলাদেশের এক জন এবং মায়ানমারের তিন জন। দুর্ঘটনার পর তাঁদের উদ্ধারে দ্রুত তৎপর হয় ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং নৌসেনা। সূত্রের খবর, শনিবার বেলা ১১টা ৪৮ মিনিট নাগাদ আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের পোর্ট ব্লেয়ার থেকে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর উদ্ধারকারী দল খবর পায় যে, ওড়িশা থেকে সিঙ্গাপুরগামী একটি জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। নির্দিষ্ট এলাকায় তখন একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ছিল। সেটিকে ঘটনাস্থলের দিকে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।রাত ৮টা নাগাদ একটি লাইফবোট থেকে দু’জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও মেলেনি। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের পরিচয়ও এখনও প্রকাশ করা হয়নি (Cargo Ship Sinks)।

    নাবিকদের সন্ধানে তল্লাশি

    এর পর নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে এলাকায় তিনটি উদ্ধারকারী জাহাজ পাঠানো হয়। পোর্ট ব্লেয়ার থেকে ‘বিজিত’ নামে একটি জাহাজ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। এ ছাড়া ‘বরদ’ এবং ‘আনমোল’ নামে আরও দু’টি জাহাজও পাঠায় ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। রাতভর তল্লাশি চালানো হলেও, বাকি নাবিকদের সন্ধান মেলেনি। কী কারণে জাহাজটি ডুবে গেল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার সময় বঙ্গোপসাগরের ওই এলাকায় আবহাওয়ার পরিস্থিতি কেমন ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জাহাজটি কীভাবে বিপদে পড়ল এবং ডুবে যাওয়ার আগে (Odisha) কোনও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে (Cargo Ship Sinks)।

     

  • ISRO Transformation: বড় রদবদল ইসরোর কাজে, রকেট-স্যাটেলাইট তৈরির দায়িত্ব যাচ্ছে বেসরকারি সংস্থার হাতে!

    ISRO Transformation: বড় রদবদল ইসরোর কাজে, রকেট-স্যাটেলাইট তৈরির দায়িত্ব যাচ্ছে বেসরকারি সংস্থার হাতে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে কেন্দ্র। ভবিষ্যতে রকেট ও নিয়মিত ব্যবহারের উপগ্রহ তৈরির মতো রুটিন উৎপাদনমূলক কাজ থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে গবেষণা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক অভিযান এবং বিশেষ পরিকাঠামো তৈরিতে আরও বেশি মন দিতে চলেছে ইসরো (ISRO)। সেই সঙ্গে রকেট ও উপগ্রহের উৎপাদন এবং বাণিজ্যিক পরিচালনার বড় অংশ তুলে দেওয়া হবে বেসরকারি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট শিল্পক্ষেত্রের হাতে। একটি সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইন-স্পেস-এর চেয়ারম্যান ড. পবন গোয়েঙ্কা এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই রূপান্তর ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে এবং আগামী দিনে ভারতের মহাকাশ শিল্পে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    রকেট তৈরির দায়িত্ব আর নেবে না ইসরো

    পবন গোয়েঙ্কার কথায়, ভবিষ্যতে ইসরো নিজে আর কোনও লঞ্চ ভেহিকল তৈরি করবে না। তাঁর বক্তব্য, রকেট নির্মাণের কাজ বেসরকারি সংস্থা অথবা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার হাতে চলে যাবে। এর ফলে কয়েক দশক ধরে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে যে মডেল কার্যকর ছিল, তাতে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। এতদিন গবেষণা থেকে শুরু করে রকেটের নকশা, উৎপাদন এবং উৎক্ষেপণ—প্রায় প্রতিটি স্তরেই ইসরোর কেন্দ্রীয় ভূমিকা ছিল। নতুন ব্যবস্থায় ইসরো মূলত প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

    এসএসএলভি দিয়ে শুরু হয়েছে পরিবর্তন

    এই প্রক্রিয়ার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উঠে এসেছে স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিক্যল বা এসএসএলভি (SSLV)। ইতিমধ্যেই এসএসএলভি-র প্রযুক্তি ও উৎপাদনের অধিকার নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এটি ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি হস্তান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির। ভবিষ্যতে আরও বড় রকেটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের মডেল কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এবার পিএসএলভি ও এলভিএম ৩-র পালা?

    পরবর্তী ধাপে ভারতের দুই গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চ ভেহিকল—পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিক্যল বা পিএসএলভি (PSLV) এবং লঞ্চ ভেহিক্যল মার্ক-৩ বা সংক্ষেপে এলভিএম-৩ (LVM3) —বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া এগোতে পারে। এলভিএম-৩ বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী কার্যকরী রকেট। ভারী উপগ্রহ উৎক্ষেপণের পাশাপাশি ভারতের ভবিষ্যৎ মানব মহাকাশ অভিযানেও এই পরিবারের রকেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে এসএসএলভি-এর মতো এবার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন গোয়েঙ্কা। অর্থাৎ, এই পর্বে বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলিই মূলত উৎপাদনের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ পাবে।

    গবেষণায় আরও বেশি মন দেবে ইসরো

    এই পরিবর্তনের ফলে ইসরোর চরিত্রও ধীরে ধীরে বদলাবে। শুধু রকেট ও উপগ্রহ তৈরির দায়িত্ব পালনকারী সংস্থা হিসেবে নয়, বরং একটি গবেষণা ও উন্নয়ন বা গবেষণা-কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসরোকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন প্রযুক্তি তৈরি, বৈজ্ঞানিক মহাকাশ অভিযান, বিশেষায়িত উপগ্রহ এবং এমন উন্নত পরিকাঠামো নির্মাণে ইসরো গুরুত্ব দেবে, যেগুলি বেসরকারি সংস্থার পক্ষে একা তৈরি করা কঠিন। কোনও প্রযুক্তি পরীক্ষিত ও পরিণত হয়ে গেলে তা বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে। সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেসরকারি শিল্প বাণিজ্যিক পরিষেবা চালাতে পারবে। গোয়েঙ্কা জানান, ইতিমধ্যেই ইসরো ১২০টি প্রযুক্তি বেসরকারি ক্ষেত্রের হাতে হস্তান্তর করেছে।

    নতুন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রও বেসরকারি হাতে যেতে পারে

    শুধু রকেট উৎপাদন নয়, ভারতের একটি নতুন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বও বেসরকারি শিল্পের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গোয়েঙ্কার বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী চার-পাঁচ মাসের মধ্যে এই উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের অপারেটর চূড়ান্ত হতে পারে। এর ফলে ভারতের মহাকাশ পরিকাঠামোতেও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের পরিমাণ বাড়বে।

    ২০৩৩ সালের মধ্যে ৪৪ বিলিয়ন ডলারের মহাকাশ অর্থনীতি

    ভারতের এই নীতির পিছনে রয়েছে আরও বড় অর্থনৈতিক লক্ষ্য। বর্তমানে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতির আকার প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার। সরকারের লক্ষ্য, ২০৩৩ সালের মধ্যে সেটিকে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া। এই লক্ষ্য পূরণে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন গোয়েঙ্কা। প্রথমত, মহাকাশ পরিষেবায় সরকারের চাহিদা বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রচলিত মহাকাশ শিল্পের বাইরের ক্ষেত্রগুলিতে মহাকাশ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় মহাকাশ পরিষেবা ও প্রযুক্তির প্রসার ঘটাতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে একজন ‘অ্যাঙ্কর কাস্টমার’ বা প্রধান ক্রেতা হিসেবে কাজ করতে হবে বলেও মত দিয়েছেন তিনি।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও বাড়ছে বেসরকারি মহাকাশ সংস্থার ভূমিকা

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র ইতিমধ্যেই এই পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বেসরকারি সংস্থাগুলির কাছ থেকে ৩১টি উপগ্রহের অর্ডার দিয়েছে। একই বৃহত্তর কর্মসূচির আওতায় আরও ২১টি উপগ্রহ তৈরি করার কথা ইসরোর। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা, নজরদারি, যোগাযোগ এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা প্রয়োজনেও বেসরকারি মহাকাশ সংস্থার তৈরি উপগ্রহের ব্যবহার বাড়তে পারে।

    বদলাচ্ছে মহাকাশ ব্যবসার মডেল

    ভারত শুধু বেসরকারি সংস্থাকে রকেট বা উপগ্রহ তৈরির সুযোগ দিতে চাইছে না, বরং মহাকাশ সম্পদের মালিকানা এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন মডেলের দিকে এগোচ্ছে। এই মডেলে বেসরকারি সংস্থাগুলি নিজেরাই উপগ্রহের মালিক হবে। সেই উপগ্রহ থেকে সংগৃহীত তথ্য, ডেটা ও পরিষেবা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে তারা আয় করতে পারবে। ফলে আগামী দিনে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতিতে শুধু উৎক্ষেপণ পরিষেবা নয়, স্যাটেলাইট ডেটা, স্পেস-ভিত্তিক পরিষেবা, যোগাযোগ, নজরদারি এবং বিভিন্ন শিল্পে মহাকাশ প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে নতুন যুগের সূচনা?

    স্বাধীনতার পর থেকে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির বিকাশে ইসরোর ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয়। সীমিত সম্পদ ও পরিকাঠামোর মধ্যে নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরি করে ভারত আজ বিশ্বে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এবার সেই মডেলেই বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। রুটিন উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কাজের বড় অংশ শিল্পক্ষেত্রের হাতে তুলে দিয়ে ইসরো যদি গবেষণা ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির দিকে আরও বেশি মন দিতে পারে, তাহলে চাঁদ, মঙ্গল, মানব মহাকাশ অভিযান, গভীর মহাকাশ গবেষণা এবং নতুন প্রজন্মের উৎক্ষেপণ প্রযুক্তিতে ভারতের সক্ষমতা আরও বাড়তে পারে। অর্থাৎ, রকেট তৈরি থেকে প্রযুক্তি তৈরি—ইসরোর ভূমিকার এই পরিবর্তনই ভারতের পরবর্তী মহাকাশ অভিযানের অন্যতম বড় ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

  • 26/11 Trial: ২৬/১১ হামলায় হাফিজ সইদ-সহ ৬ পাকিস্তানি নাগরিকের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের সাহায্য চাইছে মুম্বই পুলিশ

    26/11 Trial: ২৬/১১ হামলায় হাফিজ সইদ-সহ ৬ পাকিস্তানি নাগরিকের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের সাহায্য চাইছে মুম্বই পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই হামলার (26/11 Trial) মামলায় পাকিস্তানে থাকা ছয় পলাতক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা ‘প্রোক্লেমেশন অর্ডার’ কার্যকর করতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাইল মুম্বই পুলিশ। এই ছয় অভিযুক্তের মধ্যে রয়েছে লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদ (Hafiz Saeed) এবং জাকি-উর-রহমান লখভি। মুম্বই পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানানো হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫৬ ধারায় এই আবেদন করা হয়েছে। বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি উজ্জ্বল নিকাম শুক্রবার একটি অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে আর্জি

    শুক্রবার ২৬/১১ মামলার বিশেষ আদালতে সরকারি আইনজীবী উজ্জ্বল নিকম জানান, গত জুলাইয়ে জারি হওয়া প্রোক্লেমেশন অর্ডার নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। নিকম আদালতকে জানান, পাকিস্তানে থাকা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রোক্লেমেশন অর্ডার কার্যকর করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। গত ৩ আগস্ট মন্ত্রক সেই আবেদন গ্রহণ করেছে এবং পরবর্তী অগ্রগতির রিপোর্ট দিতে সময় চেয়েছে। আদালতের নির্দেশে যাঁদের বিরুদ্ধে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাঁরা হলেন—হাফিজ সইদ, জাকি-উর-রহমান লখভি, সাজিদ মীর, আবু আলকামা, আসিম ওরফে আবু কাহাফা এবং মেজর আবদুর রহমান পাশা। প্রত্যেকেই পাকিস্তানি নাগরিক। মুম্বই হামলায় তাঁদের কথিত ভূমিকার উল্লেখ রয়েছে হামলার একমাত্র জীবিত জঙ্গি আজমল কাসাব এবং পরে রাজসাক্ষী হওয়া ডেভিড কোলম্যান হেডলির বয়ানে।

    অনুপস্থিতিতেই হতে পারে বিচার

    ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS), ২০২৩-এর ৩৫৬ ধারায়, কোনও অভিযুক্ত বিচার এড়াতে দীর্ঘদিন আত্মগোপন করলে এবং তাঁকে দ্রুত গ্রেফতার করার সম্ভাবনা না থাকলে আদালত তাঁর অনুপস্থিতিতেই পূর্ণাঙ্গ ফৌজদারি বিচার চালাতে পারে। সেই আইনি ব্যবস্থার আওতাতেই এবার ২৬/১১ মামলার বাকি অভিযুক্তদের বিচার এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০০৮ সালের নভেম্বরে ১০ জন পাকিস্তানি জঙ্গি মুম্বইয়ে একের পর এক হামলা চালিয়ে শহরকে ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। তাজ হোটেল, ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে ছয়জন ছিলেন মার্কিন নাগরিক। একমাত্র জীবিত ধৃত জঙ্গি আজমল কাসাবকে গণহত্যা এবং ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মৃত্যুদণ্ডের সাজা কার্যকর করে ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর পুণের ইয়েরওয়াড়া কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁর ফাঁসি হয়।

    প্রোক্লেমেশন অর্ডার কার্যকর হওয়ার অপেক্ষা

    ২৬/১১ হামলার সঙ্গে যুক্ত মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপকে মামলার বিচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে। ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রোক্লেমেশন অর্ডার কার্যকর হলে পাকিস্তানে থাকা অভিযুক্তদের অনুপস্থিতিতেই বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ আরও সুগম হতে পারে। বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি উজ্জ্বল নিকামের প্রতিনিধিত্বে পুলিশ শুক্রবার পলাতক অভিযুক্তদের অনুপস্থিতিতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য চলতি বছরের জুলাই মাসে জারি করা ঘোষণাপত্রের ওপর একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন দাখিল করেছে। সন্ত্রাস মামলার শুনানি চলা বিশেষ আদালতে নিকাম বলেন, “পাকিস্তানে বসবাসকারী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ঘোষণাপত্র জারির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে (এমএইচএ) চিঠি দিয়েছি। ৩ আগস্ট এমএইচএ আমাদের অনুরোধটি স্বীকার করে নিয়েছিল এবং এর অবস্থা জানানোর জন্য সময় চেয়েছিল।” হাফিজের বিরুদ্ধে ট্রায়াল ইন অ্যাবসেনশিয়া শুরু হলে যদি হাফিজ সইদ এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহলে তাকে যখনই ভারতে আনা হবে, তখনই তাকে শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

    পাকিস্তানে বাড়ানো হল হাফিজের নিরাপত্তা!

    ভারত যখন লস্কর প্রধান হাফিজের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়ার গতি বাড়াচ্ছে তখনই পাকিস্তানে ‘বন্দি’ হাফিজের নিরাপত্তা আগের থেকেও বাড়িয়ে দিয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। যে বাড়িতে হাফিজ রয়েছে, সেখান নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আইবি গোয়েন্দা অফিসারদের মতে, এর আগে, বহুবার হাফিজকে খুন করার চেষ্টা দেখা গিয়েছে অতীতে। হাফিজ ঘনিষ্ঠ অনেকেই খুন হয়েছে, যার জেরেই তড়িঘড়ি আইএসআই হাফিজের নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। জানা যাচ্ছে, হাফিজকে ঘিরে টার্গেট গত কয়েক মাসে বেড়ে গিয়েছে। যার জেরে হাফিজকে লস্করের ট্রেনিং ক্যাম্পেও যেতে দেওয়া হচ্ছে না পাকিস্তানের নিরাপত্তার খাতিরে। শুধু তাই নয়, লস্করের যে জায়গায় উগ্রপন্থায় যুবকদের মগজধোলাই হয়, সেই ক্যাম্পেও হাফিজ যাচ্ছে না বলে খবর। আর এই সবই তার নিরাপত্তা বাড়িয়ে তোলার জেরে হয়েছে। এর আগে, এই সমস্ত জায়গায় হাফিজের আনাগোনা ছিল।

    কোথায় রয়েছেন হাফিজ?

    প্রসঙ্গত, পাকিস্তান দাবি করছে, লাহোরের কোট লখপত জেলে নাকি ‘বন্দি’ রয়েছে হাফিজ সইদ। তবে ভারতীয় গোয়েন্দাদের মতে, জেলে নয়, লাহোরের মোহাল্লা জোহার এলাকার এক সেফ হাউজ-এ হাফিজকে রেখে দিয়েছে পাকিস্তান। যে সেফ হাউজকে কার্যত দুর্গের মতো করে নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে শেহবাজ শরিফ, আসিম মুনিরের দেশ। আরও একটি রিপোর্ট দাবি করছে, লাহোরের মিঞা মীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একটি বাড়িতে হাফিজকে নিয়ে রাখা হচ্ছে। সেখানে তার নিরাপত্তা বাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একদিকে, অপারেশন সিঁদুরে গুঁড়িয়ে যাওয়া তাদের জঙ্গি শিবিরকে ফের গড়ে তোলার চেষ্টায় রয়েছে লস্কর ই তৈবা, তারই মাঝে হাফিজ সইদকে কোনও জঙ্গি ট্রেনিং সেন্টারে দেখা যাচ্ছে না। জানা গিয়েছে, সে শুধু ভিডিয়ো কল-এ কথা বলে ক্যাডারদের সঙ্গে। তাও শুধু বড় মাপের বৈঠকেই এমন কল হয়, সেখানে কড়া নিরাপত্তা থাকে।

  • Modi Govt: সোশাল মিডিয়ায় ভুয়ো তথ্য ঠেকাতে কুইক রেসপন্স টিম গড়ছে কেন্দ্র, ২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ

    Modi Govt: সোশাল মিডিয়ায় ভুয়ো তথ্য ঠেকাতে কুইক রেসপন্স টিম গড়ছে কেন্দ্র, ২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভুয়ো, বিভ্রান্তিকর ও বিকৃত তথ্য (Fake News) দ্রুত শনাক্ত করে তার মোকাবিলা করতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক ও দফতর গড়ছে কুইক রেসপন্স টিম। সরকারি এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নাগরিকদের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা (Modi Govt) এবং গুজব, মিথ্যা তথ্য ও ভুয়ো খবরের দ্রুত মোকাবিলা করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

    কুইক রেসপন্স টিমের নজর (Modi Govt)

    নতুন ব্যবস্থার আওতায় কোনও মন্ত্রক বা দফতরের নীতি, প্রকল্প, কর্মসূচি, সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশিত সন্দেহজনক পোস্ট ও আলোচনার উপর নজর রাখবে সংশ্লিষ্ট দফতরের সোশাল ও ডিজিটাল মাধ্যমের দল। কোনও পোস্টে তথ্য ভুয়ো, বিভ্রান্তিকর, তথ্যগতভাবে ভুল, বিকৃত, প্রেক্ষিত-বহির্ভূত অথবা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির আশঙ্কা থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কুইক রেসপন্স টিমের নজরে আনা হবে। এর পর ওই টিম তথ্য যাচাই করে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে জবাব দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের নতুন মাধ্যম শাখা থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দেওয়া হবে।

    সরকারের নির্দেশ, এই ধরনের ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলিকে দু’ঘণ্টার মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানানোর চেষ্টা করতে হবে। ডিজিটাল মাধ্যমে কোনও ভুল তথ্য অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেই এই দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, কৃষি এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত দফতর ইতিমধ্যেই তাদের কুইক রেসপন্স টিম গঠন করেছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।

    কুইক রেসপন্স টিমের কাজ

    প্রয়োজনে কুইক রেসপন্স টিম সরকারি তথ্য যাচাই শাখার সঙ্গেও সমন্বয় সাধন করবে। ফলে কোনও তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সরকারের পক্ষ থেকে তার জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও একটি স্তর যুক্ত হবে (Fake News)। অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়া তথ্য, ব্যাপক জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়, সংবেদনশীল নীতি, জনসাধারণের সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কা, আইনি জটিলতা, পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর জন্য প্রচার কিংবা একাধিক মন্ত্রকের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে হলে তা উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে পাঠানো হবে। প্রয়োজনে, সেখান থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    কেন্দ্রের উদ্বেগ

    সোশাল মিডিয়ায় ভুয়ো ও ক্ষতিকর তথ্য ছড়ানো নিয়ে কেন্দ্রের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে বিকৃত ভিডিও, এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি বিষয়বস্তু এবং বিভ্রান্তিকর পোস্ট কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত এবং কার্যকর সরকারি যোগাযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন আধিকারিকরা (Modi Govt)।

    চলতি মাসের গোড়ায়ই তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক সোশাল মিডিয়া সংস্থা মেটার সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে। মেটার বিভিন্ন মাধ্যমে এআই দিয়ে তৈরি ক্ষতিকর বিষয়বস্তু এবং পরিচয় বা সতর্কীকরণ ছাড়াই প্রকাশিত জাল ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়। বিষয়বস্তু যাচাই ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আরও বেশি মানবীয় নজরদারি এবং ভারতের বিভিন্ন ভাষা ও স্থানীয় প্রেক্ষাপটকে যথাযথ ভাবে বিবেচনার জন্য আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষেও সওয়াল করেছে কেন্দ্র (Modi Govt)।

    এই কাঠামোর লক্ষ্য

    নয়া এই কাঠামোর লক্ষ্য হল, কোনও ভুয়ো তথ্য ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর সরকারের তরফে প্রতিক্রিয়া জানানোর পরিবর্তে শুরু থেকেই তার উপর নজর রাখা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ও দফতরগুলি নিয়মিতভাবে তথ্য পর্যবেক্ষণ, যাচাই এবং প্রয়োজনীয় জবাব দেওয়ার জন্য পৃথক ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। ফলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া মিখ্যা তথ্যের মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও কাজে আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে (Fake News)। সরকারের লক্ষ্য হল, বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আগেই সঠিক ও যাচাই করা তথ্য দ্রুততম সময়ে নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া (Modi Govt)।

     

LinkedIn
Share