Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Jairam Ramesh: “সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন”, কংগ্রেস-তৃণমূলের সংযুক্তিকরণের খবর উড়িয়ে দিলেন জয়রাম রমেশ

    Jairam Ramesh: “সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন”, কংগ্রেস-তৃণমূলের সংযুক্তিকরণের খবর উড়িয়ে দিলেন জয়রাম রমেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস সংসদীয় দলের (সিপিপি) চেয়ারম্যান সোনিয়া গান্ধী এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। কোনও কোনও সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, দুই দলের (TMC-Congress) সংযুক্তিকরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সেই জল্পনা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ (Jairam Ramesh)। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরনের খবর “সম্পূর্ণ ভুল ও অসত্য”।

    সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভুল (Jairam Ramesh)

    জয়রাম রমেশ (Jairam Ramesh) বলেন, সোনিয়া গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যের বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত “আন্তরিক ও সৌজন্যমূলক”। দুই নেত্রীর দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কারণে সেখানে মূলত ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে জয়রাম রমেশ লিখেছেন, “সোনিয়া গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (TMC-Congress) বৈঠকে কী ঘটেছে তা নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভুল। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ছিল এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে।” নয়াদিল্লিতে সোনিয়া-মমতার এই বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের একাংশে কংগ্রেস ও তৃণমূলের রাজনৈতিক সংযুক্তিকরণের সম্ভাবনা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতেই কংগ্রেসের এই বর্ষীয়ান নেতার কাছ থেকে এই স্পষ্টীকরণ এলো।

    অভ্যন্তরীণ কোন্দল তীব্র

    অন্যদিকে, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল তীব্র রূপ নিয়েছে। দফায় দফায় ইস্তফা এবং বিদ্রোহী নেতাদের মন্তব্যের জেরে দলের অভ্যন্তরীণ সংহতি নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। এরই মধ্যে তৃণমূলের বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের (TMC-Congress) সঙ্গে কোনও ধরনের সংযুক্তিকরণের জল্পনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই মুহূর্তে যা ঘটছে তা সম্পূর্ণই দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তৃণমূল ব্লকের পক্ষে সংবাদসংস্থা এএনআই-কে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বর্তমানে আমাদের সঙ্গে ৬৪ জন বিধায়ক রয়েছেন। এঁরা সবাই এসে বিধানসভার স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দেবেন।” তিনি আরও জানান, তাঁদের পক্ষে বিধায়কদের সমর্থন ৫৮ থেকে বেড়ে ৬৪ হয়েছে এবং তাঁরা শীঘ্রই নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকারের দ্বারস্থ হবেন। ফলে এই সময়ে জয়রামের মন্তব্য মমতার জন্য কতটা সুবিধা জনক হবে তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা।

    কোনও প্রশ্নই ওঠে না

    শুধু তাই নয়, দলের সংযুক্তিকরণের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “কংগ্রেসে (TMC-Congress) যোগ দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। আমাদের সংসদীয় দলের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সাংসদও কংগ্রেসে মিশে যাচ্ছেন না।” ঋতব্রত জোর দিয়ে বলেন, দলের কোনও অংশ—তা সে সাংসদ, পুরপ্রতিনিধি, জেলা পরিষদ বা পঞ্চায়েত সদস্য হোক না কেন, কেউই কোনও সংযুক্তিকরণের দিকে হাঁটছেন না। তবে এই ঘটনায় তৃণমূল এবং কংগ্রেস দুই দল চরম অস্বস্তিতে পড়েছে। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের বৈঠকের পরদিন সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও ‘এক্স’-এ পোস্ট করে দুই নেত্রীর মধ্যকার আন্তরিকতার কথা জানানো হয়েছিল। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, যেদিন দুই নেত্রীর এই বৈঠক হয়, সেদিনই জালিয়াতি সই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে কলকাতার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে পৌঁছায় সিআইডি (CID)-র একটি দল। রাজ্য রাজনীতির আঙ্গিনায় এখন ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।

  • PM Modi on Europe Tour: ৬ দিনের বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী, ১৩ জুন ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়ায় যাচ্ছেন মোদি

    PM Modi on Europe Tour: ৬ দিনের বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী, ১৩ জুন ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়ায় যাচ্ছেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi on Europe Tour)। আগামী ১৩ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়া সফরের পাশাপাশি তিনি জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনেও অংশ নেবেন। সোমবার বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সফরের প্রথমভাগে মোদি ফ্রান্সের নিস শহরে যাবেন। ১৪ জুন সেখানে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন তিনি। সেখান থেকে স্লোভাকিয়ায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। ১৪ থেকে ১৬ জুন সেখানে থাকবেন মোদি। স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ১৬ ও ১৭ জুন জি-৭ বৈঠকে যোগ দিতে ফের ফ্রান্সের এভিয়ান শহরে আসবেন মোদি। এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। সূত্রের খবর, এই পর্বে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করতে পারেন মোদি এবং ট্রাম্প। ১৮ জুন প্যারিসে আরও কয়েকটি বৈঠক করবেন মোদি। ভিভাটেক সামিটেও যোগ দেবেন তিনি।

    মোদি-ম্যাক্রঁ বৈঠক

    সফরের প্রথম পর্বে ১৩-১৪ জুন ফ্রান্সের নিস শহরে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ (Emmanuel Macron)-এর সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা। দুই নেতা ভারত-ফ্রান্স সম্পর্কের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করবেন। চলতি বছর দুই দেশের সম্পর্ককে ‘স্পেশাল গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এর স্তরে উন্নীত করা হয়েছে। নিসে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ যৌথভাবে ‘ভারত ইনোভেটস’ (Bharat Innovates) অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন। ভারত-ফ্রান্স ইনোভেশন বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ভারত, ফ্রান্স এবং অন্যান্য দেশের শীর্ষ স্টার্টআপ ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থাগুলি অংশ নেবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    স্লোভাকিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী

    এরপর ১৪-১৬ জুন স্লোভাকিয়া সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। স্লোভাক প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর (Robert Fico) আমন্ত্রণে এই রাষ্ট্রীয় সফর হবে। ১৯৯৩ সালে স্লোভাকিয়ার স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী দেশটি সফর করতে চলেছেন, যা ঐতিহাসিক বলে মনে করা হচ্ছে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মোদি স্লোভাক প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অটোমোবাইল উৎপাদন ও রেলওয়ে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবেন। তিনি স্লোভাক প্রেসিডেন্ট পিটা পেলেগ্রিনি (Peter Pellegrini)-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।

    জি-৭ সম্মেলনে মোদি

    সফরের তৃতীয় পর্বে ১৬-১৭ জুন ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi on Europe Tour)। সেখানে তিনি জি-৭ সদস্য দেশগুলির নেতা, আমন্ত্রিত অংশীদার রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। ‘নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা’, ‘সুষম ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি’ এবং ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) নিরাপদ ও দ্রুত প্রয়োগ’— এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে তিনি বক্তব্য রাখবেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে কানাডায় জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন মোদি। এবারও জি-৭ সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। মনে করা হচ্ছে, বিশ্ব অর্থনীতি, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হবে ওই সম্মেলনে। নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়, ফ্রান্স ও ভারতের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করা এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য। প্রসঙ্গত, জি৭ -এর পুরো কথা হল ‘গ্রুপ অফ সেভেন’। এটি বিশ্বের সাতটি উন্নত অর্থনীতির দেশগুলির একটি গোষ্ঠী। এই সাতটি দেশ বছরে একবার মিলিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনা করে। ১৯৭৩ সালে খনিজ তেলের সংকটের কারণে গোটা বিশ্বে অর্থনীতির চাকা স্লথ হয়ে গিয়েছিল। সেই সংকটের মোকাবিলা করতেই জি-৭ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল সাতটি দেশ। জি-৭ গোষ্ঠীর সদস্য দেশগুলি হল ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, ব্রিটেন, জাপান, আমেরিকা এবং কানাডা। ভারত এই গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত নয়। নিয়ম অনুযায়ী, আয়োজক দেশ এই গোষ্ঠীর বাইরে থাকা অন্য একটি দেশকে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। সেই সূত্রেই কয়েক বছর ধরে এই বৈঠকে আমন্ত্রণ পেয়ে আসছে ভারত।

    গ্লোবাল সাউথের প্রধান কণ্ঠস্বর ভারত

    জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে একাধিক বিশ্বনেতার সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সফরের শেষ পর্যায়ে ১৮ জুন প্যারিসে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি ইউরোপের বৃহত্তম প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ সম্মেলন ভিভাটেক সামিটে (VivaTech Summit) অংশ নেবেন। পাশাপাশি প্যারিসে ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের উদ্দেশেও ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। বিদেশ মন্ত্রকের মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদির এই ইউরোপ সফর ফ্রান্স, স্লোভাকিয়া এবং জি-৭-এর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে। একই সঙ্গে গ্লোবাল সাউথের অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে ভারতের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক গুরুত্বও তুলে ধরবে। ‘ভারত ইনোভেটস’ এবং ভিভাটেক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ ভারতের উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর ও উদ্যোক্তা শক্তির বৈশ্বিক পরিচিতিকে আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

     

     

     

     

  • PM Modi: ৪,৩৯৯ দিনের ইতিহাস, বিশ্বমঞ্চে মোদির নতুন রেকর্ড! মেলোনি থেকে মুইজ্জু— শুভেচ্ছার বন্যায় ভাসলেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: ৪,৩৯৯ দিনের ইতিহাস, বিশ্বমঞ্চে মোদির নতুন রেকর্ড! মেলোনি থেকে মুইজ্জু— শুভেচ্ছার বন্যায় ভাসলেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একটানা ভারতের ‘দীর্ঘতম’ সময়ের প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। বুধবার এই নজির গড়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁরা মোদির নেতৃত্ব, ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাঁর প্রভাবশালী ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি-সহ অনেকেই। এই নতুন নজির গড়ে প্রধানমন্ত্রী মোদিও (PM Modi Creates History) দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন সংস্কৃত শ্লোক। মোদির বার্তা, ‘জনসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করাটাই সুশাসনের সবচেয়ে বড় ধাপ। যে ব্যক্তি বিনয়ের সঙ্গে সমস্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কর্তব্য পালন করে, সেই জনতার বিশ্বাস অর্জন করে। বিনয়ী রাজাই সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হন।’

    মোদিকে শুভেচ্ছা মেলোনির

    ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করে নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি লেখেন, ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য মোদিকে অভিনন্দন। পাশাপাশি কয়েক সপ্তাহ আগে রোমে অনুষ্ঠিত তাঁদের বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন। মেলোনির মতে, ওই বৈঠক ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ এবং সেই সময় ভারত ও ইটালির মধ্যে ‘স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এর সূচনা হয়, যা ভবিষ্যতে দুই দেশ ও দুই দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। এক্স হ্যান্ডেলে মেলোনি লিখেছেন, ‘নির্বাচিত হিসাবে ভারতের দীর্ঘতম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা। তাঁর সঙ্গে কাজ করতে পারাটা আমার সৌভাগ্য।’

    ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক শক্তিশালী

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সেনেটর এবং ইন্ডিয়া ককাসের সহ-সভাপতি জন করনিনও প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক্স-এ দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, তিনটি গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটের মাধ্যমে ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের আস্থা অর্জন করে মোদি ৪,৩৯৯ দিন ধরে ভারতের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কর্নিন দাবি করেন, তাঁর নেতৃত্বে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার ঊর্ধ্বে উঠে এসেছে এবং ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতিগুলির অন্যতম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তিনি আরও বলেন, এই সময়কালে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন

    শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমার দিসানায়েক এক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এই অর্জন শুধু দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনেরই স্বীকৃতি নয়, বরং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের জনগণের পক্ষ থেকে মোদির প্রতি পুনঃপুন আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। দিসানায়েকে ভারতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরের প্রশংসা করে বলেন, মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্ব ভারতের গণ্ডি ছাড়িয়ে শ্রীলঙ্কাসহ বহু দেশকে অনুপ্রাণিত করেছে। মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ মুইজ্জু এই ঐতিহাসিক মাইলফলকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “ভারতের ইতিহাসে টানা দায়িত্ব পালনের হিসেবে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আন্তরিক অভিনন্দন।” তিনি আরও বলেন, “পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সার্বভৌম সমতা এবং অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যাশা রাখে মালদ্বীপ।”

    বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর

    ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ বিসেসরও মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাঁর নেতৃত্বে ভারত বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি অত্যন্ত সাধারণ পটভূমি থেকে উঠে এসে টানা তিন মেয়াদে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে মোদীর রাজনৈতিক যাত্রাপথের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ভারতের বিদেশনীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচির অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, পাপুয়া নিউ গিনির প্রধানমন্ত্রী জেমস মারাপে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘নেতৃত্বের আদর্শ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ২০ কোটিরও বেশি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করে উন্নত জীবনের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এক অসাধারণ সাফল্য। প্রধানমন্ত্রী মোদির এই মাইলফলককে ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শুভেচ্ছাবার্তাগুলি তাঁর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রভাবের প্রতিফলন বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

  • Sushmita Dev Resigns: মমতার দলে মহাভাঙন! সুখেন্দুর পর তৃণমূল-রাজ্যসভা ছাড়লেন সুস্মিতা দেব, হিমন্তের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

    Sushmita Dev Resigns: মমতার দলে মহাভাঙন! সুখেন্দুর পর তৃণমূল-রাজ্যসভা ছাড়লেন সুস্মিতা দেব, হিমন্তের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলের অভ্যন্তরীণ সংকট ক্রমশ গভীরতর হচ্ছে। সেই সংকটের মাঝেই বুধবার (১০ জুন) তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ সুস্মিতা দেব (Sushmita Dev)। তাঁর এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একই দিনে দিল্লিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপির শীর্ষ নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মার (Himanta Biswa Sarma) সঙ্গে তাঁর বৈঠক নতুন রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। সুস্মিতা দেবের পদত্যাগকে অনেকেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে চলা বৃহত্তর বিদ্রোহের অংশ হিসেবে দেখছেন। এর আগে রাজ্যসভার সাংসদ শুখেন্দুশেখর রায় দল ও সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। পাশাপাশি, লোকসভার সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

    কে এই সুস্মিতা দেব?

    সুস্মিতা দেব দেশের এক সুপরিচিত রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। তিনি প্রয়াত কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষ মোহন দেবের কন্যা। তাঁর মা বীথিকা দেব অসমের শিলচর কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করেই রাজনীতিতে প্রবেশ করেন সুস্মিতা। ২০১১ সালে কংগ্রেসের টিকিটে অসমের শিলচর কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের হয়ে শিলচর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে সংসদে প্রবেশ করেন। ২০১৪ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত তিনি লোকসভায় কংগ্রেসের অন্যতম সক্রিয় সাংসদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

    ৫ বছরের মেয়াদ তৃণমূলে

    কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের ইতি টেনে ২০২১ সালের অগাস্ট মাসে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। উত্তর-পূর্ব ভারতে, বিশেষ করে অসম ও ত্রিপুরায় দলের বিস্তারের লক্ষ্যে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয় তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই সময় তৃণমূল তাঁকে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম মুখ হিসেবে তুলে ধরেছিল। দলে যোগদানের পর তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়। ২০২১ সালে প্রথমবার রাজ্যসভার সদস্য হন তিনি। পরে ২০২৪ সালে দ্বিতীয়বারের জন্য মনোনীত হন। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ১০ জুন ২০২৬-এ তিনি পদত্যাগ করলেন।

    পদত্যাগপত্রে কী লিখলেন সুস্মিতা?

    রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের উদ্দেশে লেখা পদত্যাগপত্রে সুস্মিতা দেব লেখেন, ‘‘আমি রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে অবিলম্বে ইস্তফা দিচ্ছি। আমার কার্যকালের সময় সহযোগিতা ও সহমর্মিতার জন্য রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং সচিবালয়ের সমস্ত আধিকারিককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’’ তবে পদত্যাগপত্রে দলত্যাগের কারণ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

    বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন সুস্মিতা?

    পদত্যাগের পরই দিল্লিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে সুস্মিতা দেবের বৈঠক রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য, একসময় দু’জনেই কংগ্রেসে ছিলেন। পরে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিজেপিতে যোগ দেন এবং বর্তমানে দলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠক ভবিষ্যতে সুস্মিতা দেবের বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ রাখছে না। যদিও এখনও পর্যন্ত তিনি বা বিজেপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

    তৃণমূলে বিদ্রোহের আগুন

    সুস্মিতা দেবের পদত্যাগের আগে মঙ্গলবারই তৃণমূল ছেড়েছেন সুখেন্দু শেখর রায় (Sukhendu Sekhar Roy)। পদত্যাগের সময় তিনি সরাসরি দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের নির্বাচনী বিপর্যয় আসলে ‘‘১৫ বছরের নৈরাজ্যপূর্ণ শাসনের ফল’’। এদিকে লোকসভায় তৃণমূলের প্রায় ২০ জন সাংসদ পৃথক গোষ্ঠী গঠনের পথে হাঁটছেন বলে খবর। এই সাংসদরা লোকসভার স্পিকারের কাছে আলাদা আসন বরাদ্দের আবেদন করেছেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar) বলেছেন, ‘‘আমরা ২০ জন সাংসদ স্পিকারের কাছে পৃথক বসার ব্যবস্থা চেয়েছি। পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের স্বার্থে আমরা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করব।’’ এই মন্তব্য কার্যত তৃণমূলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান বলেই মনে করা হচ্ছে।

    এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার জল্পনা

    বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের ধারণা, বিদ্রোহী গোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-তে যোগ দিতে পারে। তবে ভারতের সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ-বিরোধী আইনের কারণে বিষয়টি সহজ নয়। আইন অনুযায়ী কোনও দলের সংসদীয় গোষ্ঠী ভেঙে আলাদা সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সংখ্যা ২০ বলে দাবি করা হলেও, তা আইনি স্বীকৃতির জন্য যথেষ্ট কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একইভাবে রাজ্যসভায় তৃণমূলের ১৩ জন সাংসদের মধ্যে অন্তত ৯ জনের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

    সংকট সামলাতে সক্রিয় শীর্ষ নেতৃত্ব

    দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মাঝেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) দিল্লিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) সঙ্গে বৈঠক করেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কংগ্রেস সংসদীয় দলের প্রধান সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিরোধী ঐক্য রক্ষা এবং দলের ভাঙন রোধ করাই এই বৈঠকগুলির অন্যতম উদ্দেশ্য।

    বিধানসভাতেও অস্থিরতা

    সংসদের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) নেতৃত্বে একটি পৃথক গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে ৫৮ জন বিধায়ক রয়েছেন। পরবর্তীতে বিরোধী শিবিরের নেতা হিসেবে রিতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্বাচিত করা হয়েছে এবং তিনি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

    তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের আরও একটি বহিঃপ্রকাশ

    সুস্মিতা দেবের পদত্যাগ শুধুমাত্র একজন সাংসদের দলত্যাগ নয়, এটি তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের আরও একটি বহিঃপ্রকাশ। উত্তর-পূর্ব ভারতে দলের বিস্তারের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত সুস্মিতা দেবের প্রস্থান তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, যদি বিদ্রোহী সাংসদদের একটি বড় অংশ সত্যিই এনডিএ-র দিকে ঝুঁকে পড়েন, তবে তা শুধু সংসদীয় সমীকরণ নয়, পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও নতুন মোড় দিতে পারে। এখন নজর থাকবে— সুস্মিতা দেবের পর আর কতজন সাংসদ বা নেতা তৃণমূল ছাড়েন এবং বিদ্রোহী শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।

  • PM Modi: মোদি সরকারের ১২ বছর, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভারতের বিদেশনীতির আমূল পরিবর্তন! কতটা বদলেছে দেশ?

    PM Modi: মোদি সরকারের ১২ বছর, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভারতের বিদেশনীতির আমূল পরিবর্তন! কতটা বদলেছে দেশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) নেতৃত্বে গত ১২ বছরে ভারতের বিদেশনীতি এক উল্লেখযোগ্য রূপান্তরের সাক্ষী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অধীনে অর্থনৈতিক, সামাজিক শাসন ও বিদেশনীতির ক্ষেত্রে দেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে ৷ মোদির নেতৃত্বে ভারত উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও কৌশলগতভাবে আত্মবিশ্বাসী এবং সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিদেশনীতি প্রসঙ্গে ভারত নিজস্ব একটি ব্যাখ্যাও তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন ৷ এমনই দাবি বিদেশ মন্ত্রকের (MEA)। ৯ জুন এক্স (সাবেক টুইটার)-এ করা এক পোস্টে মন্ত্রক জানায়, এই সময়কালে ভারতের বৈশ্বিক অবস্থান, কূটনৈতিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    “ব্র্যান্ড ইন্ডিয়া”-র প্রকাশ

    বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, গত এক দশকেরও বেশি সময়ে ভারতের কূটনৈতিক উদ্যোগ শুধু “ব্র্যান্ড ইন্ডিয়া”-কে শক্তিশালী করেনি, বরং বিশ্বমঞ্চে দেশের মর্যাদাও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক সোলার জোট (International Solar Alliance)-এর মতো উদ্যোগ, সীমান্ত পেরিয়ে ডিজিটাল জন পরিকাঠামো হিসেবে ইউপিআই (UPI)-এর প্রসার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা—সব মিলিয়ে ভারত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

    গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর

    বিদেশ মন্ত্রক তাদের পোস্টে উল্লেখ করেছে, “গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতের বিদেশনীতি অসাধারণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়া থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সংকটের সময়ে ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ হিসেবে ভূমিকা পালন করা—ভারত জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি বৈশ্বিক কল্যাণকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছে।” পাপুয়া নিউ গিনির প্রধানমন্ত্রী জেমস মারাপে (James Marape) একটি ভিডিও বার্তায় মোদিকে “নেতৃত্বের আদর্শ উদাহরণ” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ভারতে কোটি কোটি মানুষকে দারিদ্র্যসীমার ওপরে তুলে আনার সাফল্য বিশ্বের জন্য শিক্ষণীয়।” একইসঙ্গে তিনি ভারত ও পাপুয়া নিউ গিনির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা

    মোদি সরকার শুরু থেকেই দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। যদিও চিন এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চেষ্টা করছে, ভারত তার কানেক্টিভিটি (যোগাযোগ), বাণিজ্য, এবং মানবিক সহায়তা দিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। ত্রিনিদাদ টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ (Kamla Persad-Bissessar)-ও প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “আজ ভারত বিশ্ব রাজনীতিতে একটি প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”

    মোদির নেতৃত্ব প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে প্রেরণা

    টানা ১২ বছর ক্ষমতায় থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে দীর্ঘতম ধারাবাহিক মেয়াদের নতুন রেকর্ড গড়তে চলেছেন। ১০ জুন তাঁর টানা ৪,৩৯৯ দিন প্রধানমন্ত্রিত্ব পূর্ণ হয়েছে, যা ভারতের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক। এই উপলক্ষে বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রনেতা ও সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী মোদিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনরা কুমারা দিশানায়েক (Anura Kumara Dissanayake) এক চিঠিতে বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের জনগণ বারবার মোদির নেতৃত্বের উপর আস্থা রেখেছেন, আর এই দীর্ঘ মেয়াদ সেই আস্থারই প্রতিফলন। তিনি ভারতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রশংসা করেন এবং বলেন, মোদির নেতৃত্ব প্রতিবেশী দেশগুলির কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

    বিশ্বমঞ্চে শক্তিশালী উপস্থিতি

    মোদি সরকারের আমলে ভারত জি-২০ (G20) এর মতো শীর্ষ বৈশ্বিক ফোরামের সফল সভাপতিত্ব করেছে এবং ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স (ISA)-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছে। রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে, ভারত গণতান্ত্রিক রাজনীতির ‘ভারতীয় বৈশিষ্ট্য’ তুলে ধরার জন্য পশ্চিমের সঙ্গে তার গণতান্ত্রিক ঐক্যমত্যের উপর জোর দেওয়া থেকে সরে এসেছে । বর্তমানে, গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভারতীয় উৎসের উপর আরও বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে ৷ এর থেকে বোঝা যাচ্ছে যে ভারত তার ঐতিহাসিক ঔপনিবেশিক ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে ৷ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে ‘বিশ্ব পরামর্শদাতা’ হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করছে ভারত ।

    কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বড় শক্তিগুলোর সাথে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে, ‘কোয়াড’ (Quad)-এর মতো জোটে ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    অর্থনৈতিক কূটনীতি ও আত্মনির্ভর ভারত

    দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বিকাশ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং বিদেশি বিনিয়োগ টানার ক্ষেত্রে বিদেশনীতিকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতিগুলোর মাধ্যমে বিশ্ব সাপ্লাই চেইনে ভারতের অবস্থান সুদৃঢ় করা হচ্ছে। মোদি সরকারের আমলে মেক-ইন-ইন্ডিয়া উদ্যোগ, দ্রুত অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিকাশের সঙ্গে ভারত আরও কৌশলগতভাবে আত্মবিশ্বাসী ও নিজস্ব ব্যাখ্যা তৈরি করতে এবং সেটার বিকাশে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে ।

    সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অবস্থান

    আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায় করা এই সরকারের অন্যতম বড় কূটনৈতিক সাফল্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় বসার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, রাশিয়া ও অন্যান্য দেশ এবং আঞ্চলিক সংস্থাগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে উন্নীত করে বহু-সংখ্যাবদ্ধ কৌশলের পক্ষে কথা বলছেন ৷ ভারত সবসময় নিজেকে একটি বিশ্বশক্তি বলে মনে করে।

    বিশ্বস্ত উদ্ধারকারী ও মানবিক রাষ্ট্র

    বিশ্বের কোথাও কোনো সংকট দেখা দিলে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ভারত তাৎক্ষণিক সাহায্যকারী বা ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশ ও আফ্রিকার সাথে সহযোগিতার ক্ষেত্রও প্রসারিত হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মতে, গত ১২ বছরে ভারতের বিদেশনীতি শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক বিস্তারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং উন্নয়ন, প্রযুক্তি, জলবায়ু উদ্যোগ এবং মানবিক সহায়তার মাধ্যমে বিশ্বপরিসরে দেশের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারত এখন বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী আলোচনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

  • India Nuclear Warheads: পরমাণু নীতিতে বড় বদল? ১২টি সক্রিয় পরমাণু ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে ভারত, দাবি সিপরি-র রিপোর্টে

    India Nuclear Warheads: পরমাণু নীতিতে বড় বদল? ১২টি সক্রিয় পরমাণু ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে ভারত, দাবি সিপরি-র রিপোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের পরমাণু প্রতিরক্ষা নীতিতে কি বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে? আন্তর্জাতিক কৌশলগত মহলে এই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। কারণ, সুইডেনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট, সংক্ষেপে ‘সিপরি’ (SIPRI)-এর প্রকাশিত ‘ইয়ারবুক ২০২৬’-এ দাবি করা হয়েছে, ভারত সম্ভবত প্রথমবারের মতো সীমিত সংখ্যক পরমাণু ওয়ারহেডকে সক্রিয়ভাবে অপারেশনাল বাহিনীর সঙ্গে মোতায়েন করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই মূল্যায়ন সঠিক হয়, তাহলে তা ভারতের দীর্ঘদিনের পরমাণু নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করতে পারে। এমন এক সময়ে এই তথ্য সামনে এসেছে, যখন সিপরি (SIPRI Report 2026) বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা পরমাণু প্রতিযোগিতা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে।

    ভারতের পরমাণু ভাণ্ডার বেড়ে ১৯০

    সিপরি-র হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের হাতে আনুমানিক ১৯০টি পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮০। তবে সংখ্যার বৃদ্ধির চেয়েও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হল সিপরি-র এই পর্যবেক্ষণ যে, ওই ১৯০টির মধ্যে প্রায় ১২টি ওয়ারহেড বর্তমানে অপারেশনাল ফোর্সের সঙ্গে মোতায়েন অবস্থায় থাকতে পারে। এতদিন পর্যন্ত ভারতের পরমাণু অস্ত্র ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য ছিল—ওয়ারহেড এবং ক্ষেপণাস্ত্র বা ডেলিভারি সিস্টেমকে আলাদা করে সংরক্ষণ করা। ফলে যুদ্ধ বা সংকট পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুমোদন ছাড়া দ্রুত পরমাণু হামলা চালানো সম্ভব ছিল না। নতুন মূল্যায়ন সেই প্রচলিত ধারণার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তন?

    ভারতের পরমাণু নীতির ভিত্তি দীর্ঘদিন ধরে দুটি মূল নীতির উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে—

    • ● নো ফার্স্ট ইউজ (No First Use Policy) বা প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতি
    • ● ক্রেডিবল মিনিমাম ডেটারেন্স (Credible Minimum Deterrence) বা ন্যূনতম কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ক্ষমতা

    এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হল প্রতিপক্ষকে পরমাণু হামলা থেকে নিরুৎসাহিত করা, যুদ্ধক্ষেত্রে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখা নয়। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ওয়ারহেডগুলির সীমিত মোতায়েন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভারত তার প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়ার উপযোগী করে তুলতে চাইছে। বিশেষ করে সমুদ্রভিত্তিক পরমাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের সঙ্গে এই পরিবর্তনের সম্পর্ক থাকতে পারে।

    সমুদ্রপথে পরমাণু প্রতিরোধ শক্তিশালী করছে ভারত

    গত এক দশকে ভারত তার নিউক্লিয়ার ট্রায়াড বা ত্রিমুখী পরমাণু হামলার সক্ষমতা গড়ে তুলতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।

    বর্তমানে ভারতের হাতে রয়েছে—

    • ● স্থলভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
    • ● বিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য পরমাণু অস্ত্র
    • ● পরমাণু অস্ত্রবাহী সাবমেরিন

    বিশেষ করে আইএনএস অরিহন্ত (INS Arihant) শ্রেণির পারমাণবিক সাবমেরিন এবং ভবিষ্যৎ এসএসবিএন প্রকল্প ভারতের দ্বিতীয় আঘাত হানার সক্ষমতাকে (Second Strike Capability) আরও শক্তিশালী করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রে টহলরত সাবমেরিনে মোতায়েনকৃত পরমাণু ওয়ারহেডের উপস্থিতি প্রতিপক্ষের কাছে ভারতের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

    চিনের দ্রুত উত্থান ভারতের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে

    সিপরি-র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভারতের বর্তমান পরমাণু আধুনিকীকরণের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি হল চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও পরমাণু শক্তি। বর্তমানে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে নিজের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াচ্ছে চীন। বেইজিং নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো নির্মাণ, উন্নত আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) মোতায়েন এবং সাবমেরিন-ভিত্তিক পরমাণু সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে ভারতও দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের নতুন প্রজন্মের অগ্নি সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে চীনের অভ্যন্তরে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুকেও আঘাত করা সম্ভব হয়। ফলে ভারতের পরমাণু কৌশল আর শুধুমাত্র পাকিস্তানকেন্দ্রিক নয়; বরং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও বিবেচনায় রাখছে।

    পাকিস্তান ফ্যাক্টর এখনও গুরুত্বপূর্ণ

    চিনকে কেন্দ্র করে কৌশলগত পুনর্বিন্যাস হলেও পাকিস্তান এখনও ভারতের নিরাপত্তা সমীকরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। দুই দেশই গত এক দশকে নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাকটিক্যাল নিউক্লিয়ার সিস্টেম এবং ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একাধিক সীমান্ত উত্তেজনা এবং সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত সংঘাত পরমাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত সংখ্যক ওয়ারহেডের মোতায়েন ভারতকে সম্ভাব্য সংকটকালে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ দিতে পারে।

    বিশ্বজুড়ে নতুন পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতা

    সিপরি-র রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের ৯টি পরমাণু শক্তিধর দেশের হাতে মোট প্রায় ১২,১৮৭টি পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে।

    এই দেশগুলি হল—

    • ● যুক্তরাষ্ট্র
    • ● রাশিয়া
    • ● চিন
    • ● ফ্রান্স
    • ● ব্রিটেন
    • ● ভারত
    • ● পাকিস্তান
    • ● উত্তর কোরিয়া
    • ● ইজরায়েল

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় সব পরমাণু শক্তিধর দেশই বর্তমানে ব্যাপক আধুনিকীকরণ কর্মসূচি চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ঠান্ডা যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশ ক্রমশ আরও অনিশ্চিত ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে।

    ভারতের পরমাণু নীতিতে কি বড় পরিবর্তন আসছে?

    যদিও সিপরি-র রিপোর্টে ভারতের প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করা (No First Use) নীতি বা সরকারি পরমাণু মতাদর্শে কোনও আনুষ্ঠানিক পরিবর্তনের কথা বলা হয়নি, তবুও সীমিত সংখ্যক ওয়ারহেডের সম্ভাব্য মোতায়েন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন আলোচনা শুরু করেছে। অনেকের মতে, এটি ভারতের পরমাণু নীতির মৌলিক পরিবর্তন নয়; বরং ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও কার্যকর ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল করে তোলার প্রচেষ্টা। তবে এমন এক সময়ে, যখন বিশ্ব নতুন করে পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতার দিকে এগোচ্ছে বলে সতর্ক করেছে সিপরি, তখন ভারতের এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়া ও বৃহত্তর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

  • NEET-UG 2026: নিট পরীক্ষায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা! প্রশ্নপত্র সামলাবে বায়ুসেনা, গোপন ডেরায় ঠাই পেপার-সেটারদের

    NEET-UG 2026: নিট পরীক্ষায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা! প্রশ্নপত্র সামলাবে বায়ুসেনা, গোপন ডেরায় ঠাই পেপার-সেটারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট-ইউজি’ (NEET-UG 2026)-এর পুনর্পরীক্ষা ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলা এই পুনর্পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেশের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে প্রথমবারের মতো ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। নিট পুনর্পরীক্ষাকে (NEET-UG Re-Exam) সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র ও সুরক্ষিত করতে শিক্ষা মন্ত্রক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ স্তরের বৈঠকের পর একটি বিশেষ ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে।

    একাধিক কঠোর পদক্ষেপ

    দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক এবং প্রশ্নফাঁসের গুরুতর অভিযোগের জেরে গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া ‘নিট-ইউজি’ (NEET-UG 2026) পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। আগামী ২১ জুন এই পরীক্ষার রি-টেস্ট বা পুনর্পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং পুনরায় যে কোনও ধরণের জালিয়াতি রুখতে এবার ভারতের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার সরাসরি আসরে নামছে ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF)। এবার যাতে কোনওভাবেই প্রশ্নপত্র ফাঁস বা কারচুপির অভিযোগ না ওঠে, সেজন্য একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান ব্যবহার

    কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র পরিবহনের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ করতে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান ব্যবহার করা হবে। এর ফলে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবহণের সময় কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ বা কারচুপি রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রশাসন। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সমস্ত রকম ঝুঁকি এড়াতে এবার আর সাধারণ ডাক বিভাগ বা সড়কপথের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে না। বায়ুসেনার বিশেষ পরিবহন বিমান এবং শক্তিশালী ‘মি-১৭’ (Mi-17) হেলিকপ্টারের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রগুলি আকাশপথে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠানো হবে।

    ১৮টি স্ট্র্যাটেজিক লোকেশন চিহ্নিতকরণ

    দেশের মোট ১৮টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। বায়ুসেনার তত্ত্বাবধানে মূল বিতরণ কেন্দ্র থেকে এই ১৮টি লোকেশনে প্রশ্নপত্রের গোপন প্যাকেটগুলি উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে প্রশ্নপত্র পৌঁছাবে পরীক্ষাকেন্দ্রে।

    প্রায় ৫ লক্ষ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন

    এছাড়াও, দেশজুড়ে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে প্রায় ৫ লক্ষ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে। পরীক্ষার উপর নজরদারি চালাতে অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারেরও পরিকল্পনা করা হয়েছে। সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এই প্রযুক্তি কাজে লাগানো হবে।

    কঠোর নজরদারির মধ্যে প্রশ্নপত্র তৈরি

    পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের ক্ষেত্রেও নেওয়া হয়েছে কড়া সতর্কতা। বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল কঠোর নজরদারির মধ্যে প্রশ্নপত্র তৈরি করেছেন। তাঁদের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের কোনও সুযোগ দেওয়া হয়নি। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরিকারক, মডারেটর এবং অনুবাদকদের সম্পূর্ণ গোপন একটি সুরক্ষিত আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা একপ্রকার নজরবন্দি অবস্থায় থাকবেন। তাঁদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেটের মতো বাহ্যিক যোগাযোগের সমস্ত মাধ্যম সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

    শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সক্রিয় সরকার

    বিগত দিনে নিট পরীক্ষা নিয়ে হওয়া কেলেঙ্কারি দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা সম্পূর্ণ নাড়িয়ে দিয়েছিল। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI) তদন্ত চালাচ্ছে। এমতাবস্থায় আগামী ২১শে জুনের পুনর্পরীক্ষাকে সরকারের পক্ষ থেকে একটি আস্থা ফেরানোর লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের একটি শিক্ষাগত প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সুরক্ষিত রাখতে সামরিক বাহিনীর সাহায্য নেওয়া যেমন নজিরবিহীন, তেমনই এটি প্রমাণ করে যে সরকার এবার পরীক্ষার শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কতটা মরিয়া ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

    বহুস্তরীয় নিরাপত্তা কাঠামো

    গত ২ মে ২২ লাখ পরীক্ষার্থী নিট পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এরপরই সামনে আসে সেই পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের তথ্য। ঘটনার তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের বেশিরভাগই অধ্যাপক এবং তাঁরা পরীক্ষক সংস্থা এনটিএ-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অর্থাৎ সর্ষের মধ্যেই ছিল ভূত। এই ঘটনায় বিতর্ক চরমে উঠতেই নিটের পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় এনটিএ। আগামী ২১ জুন হতে চলেছে সেই পরীক্ষা। এখানে যাতে কোনওরকম জালিয়াতির ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে কেন্দ্র। নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে শীর্ষ আধিকারিকদের তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখতে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে যার প্রথম ধাপ হল, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারীদের পৃথক রাখা। প্রশ্নপত্র তৈরি ও অনুবাদ থেকে শুরু করে নিরীক্ষণ, মুদ্রণ, প্যাকেজিং, পরিবহন এবং তা পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়কে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। শুধু তাই নয়, প্রশ্নপত্র পরিবহণকে নিরাপদ রাখতে বায়ুসেনার বিমান এবং তা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছন পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মোড়কে মুড়ে ফেলা হচ্ছে।

  • China: ‘ভারত প্রতিযোগী নয়, সহযোগী অংশীদার’, বলল চিন, সম্পর্ক উন্নতির বার্তা বেজিংয়ের

    China: ‘ভারত প্রতিযোগী নয়, সহযোগী অংশীদার’, বলল চিন, সম্পর্ক উন্নতির বার্তা বেজিংয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতকে (India) ‘প্রতিযোগী নয়, বরং সহযোগী অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বার্তা দিল চিন (China)। বেজিং এও জানিয়েছে, দুই দেশের উন্নয়নকে একে অন্যের জন্য হুমকি নয়, বরং সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। চিন-ভারত-রাশিয়ার মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পক্ষেও সওয়াল করেছে ড্রাগনের দেশ।

    চিনা বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য (China)

    চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেন, “ভারত ও চিন সীমান্ত-সহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছে।” তাঁর মতে, ইউরেশিয়ার তিন প্রধান শক্তি—চিন, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলির স্বার্থেই নয়, বিশ্বশান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। লিন জিয়ান জানান, বর্তমানে ভারত-চিন সীমান্ত পরিস্থিতি মোটের ওপর স্থিতিশীল রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ের যোগাযোগও স্বাভাবিকভাবেই চলছে। তিনি এও বলেন, “চিন ও ভারতের উচিত একে অন্যকে প্রতিযোগী হিসেবে নয়, সহযোগী হিসেবে দেখা এবং পারস্পরিক উন্নয়নকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা।”

    কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি প্রসঙ্গে চিনের বক্তব্য

    তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি, সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং মতপার্থক্যকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা উচিত, যাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য, পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) ঘিরে দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থার পর সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চিনের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে (China)। উভয় দেশই সম্পর্ক স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে একাধিক কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। এদিকে, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে শি জিনপিংয়ের দেশ। বেজিং জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মতপার্থক্যের অবসান হওয়া উচিত। ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত জু ফেইহংও এক্স হ্যান্ডেলে একই বার্তা দিয়ে বলেন, “ভারত ও পাকিস্তান চিনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। তাদের উচিত আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খুঁজে বের করা।” প্রসঙ্গত, সীমান্তপার সন্ত্রাস-সহ একাধিক ইস্যুকে (India) কেন্দ্র করে গত কয়েক বছর ধরে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক তীব্র উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে (China)।

     

  • TMC Crisis: তৃণমূলে মহাভাঙন! এনডিএ-তে যোগদানের আবেদন ২১ বিক্ষুব্ধ সাংসদের, দিল্লিতে চাপে মমতা-অভিষেক

    TMC Crisis: তৃণমূলে মহাভাঙন! এনডিএ-তে যোগদানের আবেদন ২১ বিক্ষুব্ধ সাংসদের, দিল্লিতে চাপে মমতা-অভিষেক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে যে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছিল, তা এবার প্রকাশ্যে বিস্ফোরিত হল। দলের ২১ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ এনডিএ-র শরিক হতে চেয়ে লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই ঘটনাকে তৃণমূল কংগ্রেসের ইতিহাসে অন্যতম বড় সাংগঠনিক সংকট বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, সোমবার সকালে দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠকের পরই লোকসভার স্পিকারের দফতরে চিঠি জমা পড়ে বলে জানা গিয়েছে।

    বিজেপিতে নয়, এনডিএ-তে যোগ দিতে চান বিদ্রোহীরা

    সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বিদ্রোহী সাংসদরা সরাসরি বিজেপিতে যোগদানের কথা বলেননি। তাঁদের দাবি, তাঁরা তৃণমূলের একটি পৃথক সংসদীয় ব্লক হিসেবে এনডিএ জোটের অংশ হতে চান। বিদ্রোহী শিবিরের নেত্রী হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম সামনে এসেছে। উপদলনেতা হিসেবে থাকছেন শতাব্দী রায়। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পাঠানো চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে তাঁরা দল পরিবর্তন করছেন না, বরং সংসদে আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে এনডিএ-র সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আবেদন গৃহীত হলে কার্যত লোকসভায় তৃণমূলের বর্তমান সংসদীয় দলের অস্তিত্ব ভেঙে যাবে এবং একটি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম হবে।

    দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতেই কি সংখ্যার হিসাব?

    ভারতের দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনও সংসদীয় দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য আলাদা হলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আইনগত সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। সেই হিসেবে তৃণমূলের লোকসভার সাংসদদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন ছিল। সূত্রের দাবি, প্রথমে ২০ জন সাংসদ বিদ্রোহী শিবিরে ছিলেন। পরে আরও একজন সাংসদ তাঁদের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় সংখ্যা বেড়ে ২১-এ পৌঁছেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

    স্পিকারের দফতরে জমা পড়ল চিঠি

    সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা দিল্লিতে উপস্থিত না থাকায় তাঁর অফিসে চিঠিটি জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্পিকার অন্য একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাজধানীর বাইরে রয়েছেন। চিঠির পরবর্তী সাংবিধানিক ও সংসদীয় প্রক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে এখন জল্পনা শুরু হয়েছে। স্পিকারের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে বিদ্রোহী সাংসদদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান।

    বিদ্রোহী শিবিরে কারা?

    এখনও পর্যন্ত যে নামগুলি সামনে এসেছে, সেগুলি হল—

    • ● কাকলি ঘোষ দস্তিদার
    • ● পার্থ ভৌমিক
    • ● দেব (দীপক অধিকারী)
    • ● জুন মালিয়া
    • ● শর্মিলা সরকার
    • ● খলিলুর রহমান
    • ● অসিত মাল
    • ● অরূপ চক্রবর্তী
    • ● প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়
    • ● শতাব্দী রায়
    • ● কালিপদ সোরেন
    • ● সুখেন্দু শেখর রায় (পদত্যাগ করেছেন)

    এছাড়াও আরও কয়েকজন সাংসদের নাম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে সব নাম এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

    সুখেন্দুশেখর রায়ের ইস্তফায় চরম অস্বস্তি

    এই রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা ও রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের পদত্যাগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি শুধু রাজ্যসভার সদস্যপদই নয়, দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর দীর্ঘ পদত্যাগপত্রে গত পনেরো বছরের শাসনকালে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।

    চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন যে—

    • ● রাজ্যে ব্যাপক দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে;
    • ● নারী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে;
    • ● শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবনতি ঘটেছে;
    • ● শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে;
    • ● আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

    সুখেন্দুশেখরের মতে, এই কারণগুলির ফলেই সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে জনগণ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন এবং বিজেপিকে ঐতিহাসিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রদান করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, নবগঠিত সরকার ইতিমধ্যেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোতে শুরু করেছে এবং জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর পদত্যাগের ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা ১৩ থেকে কমে ১২-তে নেমে এসেছে।

    দিল্লিতে থেকেও ভাঙন আটকাতে ব্যর্থ মমতা-অভিষেক?

    ঘটনাচক্রে, এই সংকটের সময়েই দিল্লিতে রয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইন্ডি জোটের বৈঠকে অংশগ্রহণের পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যে একাধিক বৈঠকও করছিলেন তাঁরা। বিধানসভা নির্বাচনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন করে জাতীয় স্তরে বিরোধী রাজনীতির অন্যতম মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা শুরু করেছিলেন। কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়েই দলের লোকসভার বড় অংশের সাংসদ যদি এনডিএ-র সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থানকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

    জাতীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়বে?

    বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ২৮ জন সাংসদ রয়েছেন। যদি তাঁদের মধ্যে ২১ জন আলাদা গোষ্ঠী গঠন করে এনডিএ-র শরিক হন, তাহলে সংসদে তৃণমূলের শক্তি কার্যত ভেঙে পড়বে।

    এর ফলে—

    • ● লোকসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যাবে।
    • ● ইন্ডি জোটে দলের গুরুত্ব হ্রাস পেতে পারে।
    • ● জাতীয় স্তরে বিরোধী রাজনীতির অন্যতম মুখ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান দুর্বল হতে পারে।
    • ● বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সংসদে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছতে পারে।

    রাজনৈতিক তাৎপর্য

    তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর থেকে দল একাধিক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। তবে লোকসভায় এত বড় মাপের সাংসদ বিদ্রোহের ঘটনা নজিরবিহীন। আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এই বিদ্রোহ শুধুমাত্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়ে থাকবে, নাকি তা দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর স্পিকারের সিদ্ধান্ত, বিদ্রোহী সাংসদদের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য পাল্টা কৌশলের দিকে।

  • RSS: সঙ্ঘের ‘শতাব্দী বর্ষ’ উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের পারস্পরিক ঐক্যের সঙ্কল্প, বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসের আয়োজন মুম্বইয়ে

    RSS: সঙ্ঘের ‘শতাব্দী বর্ষ’ উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের পারস্পরিক ঐক্যের সঙ্কল্প, বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসের আয়োজন মুম্বইয়ে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হিন্দু সমাজের নেতৃত্ব, চিন্তাবিদ, শিল্পোদ্যোগী, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ এবং সমাজকর্মীদের অন্যতম বৃহত্তম আন্তর্জাতিক মঞ্চ ‘বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেস’ (WHC) এবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ভারতে। ১৮ থেকে ২০ ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই মেগা সম্মেলন বসবে মুম্বইয়ের ঐতিহ্যবাহী জিও ওয়ার্ল্ড কনভেনশন সেন্টারে। বিশ্বমঞ্চে হিন্দু সমাজের জাগরণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতি এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে যৌথ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণই এই আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য। এবারের সম্মেলনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, ২০২৬ সালটি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) শতবর্ষ পূর্তি তথা ‘শতাব্দী বর্ষ’। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে সামনে রেখে ২০২৬ বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসের মূল ভাবনা বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে— “সমানং ব্রতং সহ চিত্তম” (Shared Commitment: Collective Resolve)। অর্থাৎ, বৈশ্বিক স্তরে হিন্দুদের পারস্পরিক ঐক্য, অভিন্ন সঙ্কল্প এবং সম্মিলিত প্রয়াসকে আরও শক্তিশালী করাই এর উদ্দেশ্য।

    দায়িত্বে অজয় পিরামল (WHC)

    এবারের বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসের চেয়ারম্যান (WHC) বা সভাপতি মনোনীত হয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি তথা পিরামল গ্রুপের চেয়ারম্যান শ্রী অজয় পিরামল। তাঁর সঙ্গে কো-চেয়ারম্যান বা সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন শ্রী বিশদ মফাতলাল এবং শ্রী মহেশ ভাগচন্দকা। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, তিন দিনব্যাপী এই মূল অধিবেশনের পাশাপাশি সমান্তরালভাবে সাতটি বিশেষ ক্ষেত্রে পৃথক কনফারেন্স বা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই ক্ষেত্রগুলি হল:

    • ওয়ার্ল্ড হিন্দু ইকোনমিক ফোরাম (অর্থনৈতিক মঞ্চ)
    • হিন্দু এডুকেশন কনফারেন্স (শিক্ষা)
    • হিন্দু মিডিয়া কনফারেন্স (গণমাধ্যম)
    • হিন্দু পলিটিক্যাল কনফারেন্স (রাজনীতি)
    • হিন্দু উইমেন কনফারেন্স (মহিলা নেতৃত্ব)
    • হিন্দু ইয়ুথ কনফারেন্স (যুব সমাজ)
    • হিন্দু অর্গানাইজেশনাল কনফারেন্স (প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি)

    বিশ্বমঞ্চে ক্রমবর্ধমান প্রভাব

    সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের মুম্বই অধিবেশনে বিশ্বজুড়ে ৬০টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় ৪,৫০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ২০১৪ সালে নয়াদিল্লিতে প্রথম বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেস (WHC) অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১৮ সালে শিকাগো এবং ২০২৩ সালে ব্যাংককে এই সম্মেলন হয়। পূর্ববর্তী সম্মেলনগুলিতে সব মিলিয়ে ৬০টি দেশের প্রায় ৬,৫০০ প্রতিনিধি এবং বহু বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, আধ্যাত্মিক গুরু ও শিক্ষাবিদ অংশ নিয়েছিলেন। চার বছর অন্তর আয়োজিত এই মঞ্চটি ‘যথা ধর্মস্ততো জয়ঃ’ অর্থাৎ যেখানে ধর্ম, সেখানেই জয় আদর্শকে সামনে রেখে কাজ করে।

    ঐক্যবদ্ধ সঙ্কল্পের গতি আরও বাড়াতে হবে

    সম্মেলনের মূল রূপকার ও চিন্তাবিদ স্বামী বিজ্ঞানানন্দ বলেন, “গত এক শতাব্দীতে বিশ্বজুড়ে হিন্দু সমাজ (WHC) নিজেদের প্রতিষ্ঠা ও গ্রহণযোগ্যতা বিপুলভাবে বাড়িয়েছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলির মুখোমুখি হতে এবং সনাতন সভ্যতার মূল্যবোধ টিকিয়ে রাখতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ সঙ্কল্পের গতি আরও বাড়াতে হবে। আরএসএসের (RSS) শতবর্ষ উদযাপনের এই ক্ষণটি সমস্ত হিন্দুর জন্য নিজেদের সভ্যতার শেকড়ে ফেরার এক অনন্য সুযোগ।”

    বিশ্বজনীন আকাঙ্ক্ষার মেলবন্ধন

    চেয়ারম্যান অজয় পিরামল জানান, বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেস এমন এক অনন্য মঞ্চ যেখানে সনাতন চিন্তাধারার সঙ্গে বিশ্বজনীন আকাঙ্ক্ষার মেলবন্ধন ঘটে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হিন্দুদের মেধা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক শক্তিকে একত্রিত করে একটি সমৃদ্ধ ও ন্যায়পরায়ণ সমাজ গঠনে এই সম্মেলন অনুঘটকের কাজ করে। ডিসেম্বরের এই মেগা আয়োজনকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ে এখন থেকেই প্রস্তুতি তুঙ্গে। সংশ্লিষ্টমহলের মতে, আগামী দশকের অন্যতম প্রভাবশালী ও সুদূরপ্রসারী আন্তর্জাতিক সম্মেলন হতে চলেছে এই বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেস (WHC) ২০২৬।

LinkedIn
Share