Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Kangana Attacks Rahul: ‘ব্রো, দাঁড়াও… ভারত মাতা কি জয়’— কৃতি অভিনীত রাখির বিজ্ঞাপন বিতর্কে রাহুল গান্ধীকে তুলোধনা কঙ্গনার

    Kangana Attacks Rahul: ‘ব্রো, দাঁড়াও… ভারত মাতা কি জয়’— কৃতি অভিনীত রাখির বিজ্ঞাপন বিতর্কে রাহুল গান্ধীকে তুলোধনা কঙ্গনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউতের নিশানায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Kangana Attacks Rahul)। রাখির বিজ্ঞাপনে কৃতি শ্যাননের পোশাক নিয়ে বিতর্কের জল গড়াল রাজনৈতিক তরজায়। অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে মহিলাদের পোশাক ও ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে প্রশ্ন না তোলার বার্তা দিয়েছিলেন রাহুল। ‘পিতৃতন্ত্র ভাঙার’ সেই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিলেন বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। বিজেপির একটি পোস্ট শেয়ারের মাধ্যমে রাহুলকে নিশানা করে কঙ্গনার মন্তব্য, “ভাই, একটু দাঁড়াও। ভারতমাতার জয়। চলো শুরু করি।”

    ব্যাঙ্গাত্মক পোস্টে রাহুলকে আক্রমণ

    বিজেপির ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে প্রকাশিত একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে রাহুল গান্ধীর নারী অধিকার ও পিতৃতন্ত্র-বিরোধী অবস্থান নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়। পোস্টটির একটি ছবিতে রাহুলকে বলতে দেখা যায়, “স্ম্যাশ দ্য প্যাট্রিয়ার্কি!” এর জবাবে এক নারী বলেন, “ব্রো, ওয়েট। ভারত মাতা কি জয়। শুরু করতে হ্যায়।” বিজেপির বক্তব্য, সেখানে রাহুলের মন্তব্যকে ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করে দেখানো হয়েছে। পরের ছবিতে প্রশ্ন তোলা হয় মহিলা সংরক্ষণ বিলের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের পুরনো অবস্থান নিয়ে। আরও একটি ছবিতে শাহ বানো মামলার প্রসঙ্গও আনা হয়। বিজেপির পোস্টের শেষের দিকে কর্নাটক মন্ত্রিসভায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ৩৩ সদস্যের মন্ত্রিসভায় একজনও মহিলা নেই—এমন দাবি তুলে রাহুলের প্রতিক্রিয়াকে ব্যঙ্গাত্মক ভাবে দেখানো হয়। কঙ্গনা এই পোস্ট শেয়ার করেন ও ব্যঙ্গচিত্রটি তুলে ধরেন।

    কৃতি-কঙ্গনা বিতর্ক

    এই বিতর্কের সূত্রপাত কৃতি শ্যাননের একটি রাখি বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে। গয়না সংস্থা জিভার ৩৬ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনে অফ-হোয়াইট ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাকে দেখা যায় অভিনেত্রীকে। বিজ্ঞাপনে ভাইয়ের হাতে রাখি বাঁধার পাশাপাশি পোষ্য কুকুরকেও রাখি পরাতে দেখা যায় তাঁকে। পোশাক এবং বিজ্ঞাপনের উপস্থাপনা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় সমালোচনা শুরু হয়। কঙ্গনা এর আগে পোশাক নিয়ে আপত্তি তুলে প্রশ্ন করেছিলেন, রাখি বাঁধার সময় কেন এমন পোশাক বেছে নেওয়া হল। বিজ্ঞাপনটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে অস্বস্তিকর। এর জবাবে কৃতি পোশাকের সঙ্গে সংস্কৃতি ও নারী স্বাধীনতাকে এক করে দেখার কথা তোলেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, কোনও মহিলার সংস্কৃতির প্রতি সম্মান তাঁর পোশাক দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। পোশাক নিয়ে মহিলাদের নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিনেত্রী। কৃতির বোন নূপুর শ্যাননও কঙ্গনার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন।

    কৃতির পাশে রাহুল

    কৃতি-কঙ্গনা বিতর্কের আবহে নারী স্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করে কৃতি শ্যাননের ‘ঢাল’ হয়ে দাঁড়ান রাহুল গান্ধী। কৃতির বক্তব্য শেয়ার করে রাহুল লেখেন, ‘কোনও মহিলা কী পরবেন, কী করবেন বা কোথায় যাবেন, তা তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্ত। মহিলারা স্বাধীনভাবে নিজের পছন্দ প্রকাশ করলে তাঁদের ট্রোল করা বন্ধ করা হোক।’ রাহুলের এহেন মন্তব্য ভাইরাল হতেই প্রশ্ন উঠেছে, বিরোধী শিবিরের তারকা সাংসদ কঙ্গনাকেই কি খোঁচা দিলেন তিনি? যদিও রাহুল গান্ধী তাঁর পোস্টে কারও নামোল্লেখ করেননি, কিন্তু কংগ্রেস সাংসদের এহেন শব্দবাণ যে কঙ্গনার উদ্দেশেই, তেমনটাই অনুমান নেটভুবনের একাংশের।

    ‘স্ম্যাশ দ্য প্যাট্রিয়ার্কি’ হ্যাশট্যাগ

    রাহুল তাঁর পোস্টে ব্যবহার করেন ‘স্ম্যাশ দ্য প্যাট্রিয়ার্কি’ হ্যাশট্যাগ। এরপরই বিজেপির পোস্টে রাহুলের ‘স্ম্যাশ দ্য প্যাট্রিয়ার্কি’ বার্তাকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়। কঙ্গনা সেই পোস্ট শেয়ার করে লেখেন, “ব্রো, ওয়েট। ভারত মাতা কি জয়। শুরু করতে হ্যায়। কঙ্গনার দাবি রাহুল মুখে নারী অধিকারের কথা বললেও, তাঁর দল কংগ্রেস আদতে নারীদের সমানাধিকার নিয়ে চিন্তিত নয় তাহলে তারা মহিলা সংরক্ষণ বিল সমর্থন করত। লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস করানো যায়নি। একযোগে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূলের মতো বিরোধী দলগুলিকে এই বিল সমর্থন করেনি। স্বার্থপর রাজনীতির জন্য দেশের নারীশক্তির ক্ষতি করেছে তারা।

    রাহুল-কঙ্গনা বিতর্ক নতুন মাত্রা

    এর আগে পুনের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচিতেও রাহুল পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গিয়েছিল। মেয়েরা নিজেদের, বাবার, স্বামী বা ছেলের অধীন নন—এমন বার্তা দিয়ে এই ধরনের মানসিকতার সমালোচনাও করেছিলেন তিনি। সেই মন্তব্যের আবহেই এবার কৃতিকে ঘিরে বিতর্কে রাহুল-কঙ্গনা সংঘাত নতুন মাত্রা পেল। এই আবহে  বিতর্কের সূত্রপাত যে বিজ্ঞাপনকে ঘিরে গয়না সংস্থা জিভা তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তারা জানায়, বিজ্ঞাপনটি সমাজের কোনও অংশের মানুষের ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক অনুভূতিতে আঘাত করুক, তারা তা চায় না। একটি সরকারি বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, “ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং উৎসবের প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও গভীর সম্মান রয়েছে। একটি ব্র্যান্ড হিসেবে আমরা সবসময় পরিবারের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্ত উদযাপনে বিশ্বাস করি। এবার আমরা সেই ভালোবাসা ও উদযাপনের পরিসরে পোষ্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলাম।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমাদের সাম্প্রতিক বিজ্ঞাপনটি যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে সমাজের কোনও অংশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করে থাকে, তা কখনওই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। সম্মানের কথা মাথায় রেখে আমরা সমস্ত মাধ্যম থেকে বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করে নিয়েছি।”

  • India Canada: বছর শেষের আগেই ভারত-কানাডার বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি, জানালেন সীতারামন

    India Canada: বছর শেষের আগেই ভারত-কানাডার বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি, জানালেন সীতারামন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও কানাডার (India Canada) মধ্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই। মঙ্গলবার কানাডার টরন্টোয় এক অনুষ্ঠানে এই আশার কথা শুনিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তিন দিনের (Investment Protection Pact) কানাডা সফরের প্রথম দিনেই টরন্টোয় পৌঁছন তিনি। তাঁর এই সফর গত দশ বছরে কানাডায় প্রথম এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সফর। টরন্টোয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সীতারামন জানান, দুই দেশ চলতি বছরের মধ্যেই বিনিয়োগকারী সুরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তির আলোচনা শেষ করার চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, “আমরা চলতি বছরের শেষের মধ্যেই বিনিয়োগকারী সুরক্ষা চুক্তিটি শেষ করার চেষ্টা করব।”

    বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির অগ্রগতি (India Canada)

    তবে চুক্তি সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ভর করবে কানাডার অর্থ ও জাতীয় রাজস্বমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেনের সম্মতির উপর। সীতারামনের সফরে তাঁর সঙ্গে একদল আধিকারিকও রয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনাকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। বৃহস্পতিবার টরন্টোয় দুই দেশের অর্থমন্ত্রীরা প্রথমবারের মতো অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংলাপের সূচনা করবেন। মঙ্গলবার পাল্টা শুল্ক ঘোষণার সময় কানাডার অর্থমন্ত্রী শ্যাম্পেনও জানিয়েছিলেন যে তিনি সীতারামনকে আতিথ্য দেবেন। টরন্টোয় ভারতের কনসুলেট জেনারেল আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেশের কর্পোরেট ও পেশাজীবী মহলের বিশিষ্ট প্রতিনিধিদের সামনে বক্তব্য রাখছিলেন সীতারামন। তাঁর বক্তব্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টিও উঠে আসে।

    অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি

    যদিও সীতারামন সরাসরি উল্লেখ করেননি, তাঁর বলা বছরের শেষের সময়সীমাটি ভারত ও কানাডার মধ্যে প্রস্তাবিত বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির সময়সীমার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ওই চুক্তি নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চলতি বছরের শেষের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, ডিসেম্বর মাসে কানাডা সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সফরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে যৌথভাবে বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর করার সম্ভাবনা রয়েছে। সীতারামন জানান, ২০১৬ সালে বিনিয়োগ সুরক্ষা সংক্রান্ত যে কাঠামো গ্রহণ করা হয়েছিল, তার পর থেকে ভারত সরকার এই বিষয়ে আরও উদার, অগ্রসর এবং বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, “বিনিয়োগের আর্থিক সুরক্ষা নয়াদিল্লির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় (India Canada)।”

    কী বলছেন সীতারামন

    অনুষ্ঠানে সীতারামনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রকের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরনও। ভারত-কানাডা সম্পর্কের সাম্প্রতিক উন্নতির কথাও (Investment Protection Pact) তুলে ধরেন সীতারামন। ২০২৫ সালের মার্চে কার্নি কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সীতারামনের কথায়, “সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদের মতো অভিন্ন মূল্যবোধ, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক যোগাযোগ এবং উচ্চপর্যায়ের অভূতপূর্ব গতিশীল পারস্পরিক সফর ও আলোচনার ভিত্তিতে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে।” ভারত ও কানাডাকে বিশ্বের স্বাভাবিক অংশীদার বলেও উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “আমি বিশ্বাস করি, ভারত ও কানাডা বিশ্বের সবচেয়ে স্বাভাবিক অংশীদার। আমরা দু’টি প্রাণবন্ত গণতন্ত্র, যেখানে আইনের শাসনের প্রতি গভীর আস্থা রয়েছে। আমাদের মধ্যে কমনওয়েলথের ঐতিহ্য, একই ধরনের সংসদীয় কাঠামো এবং একই সরকারি ভাষার ঐতিহ্য রয়েছে (India Canada)।”

    ভারত-কানাডার সম্পর্ক

    এদিকে, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যে কানাডার অর্থনীতিতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, সেই বিষয়েও পরোক্ষভাবে মন্তব্য করেন সীতারামন। মঙ্গলবার সকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছে কানাডা। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে পুঁজি যখন নির্ভরযোগ্য অংশীদারের সন্ধান করছে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ওঠানামা সামলানোর পথ খুঁজছে, তখন ভারত ও কানাডার সামনে আরও গভীর এবং বহুমুখী আর্থিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার বড় সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সীতারামন বলেন, এই সম্ভাবনা কেবল বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিকাঠামো, আর্থিক পরিষেবা, আর্থিক প্রযুক্তি, পরিচ্ছন্ন শক্তি, উদ্ভাবন এবং বৃহত্তর ডিজিটাল অর্থনীতির মতো ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভারত ও কানাডার সামনে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ার সময়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহযোগিতা জোরদার করা গেলে তা উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকেই এগিয়ে নিতে পারে (India Canada)।

    বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা

    এদিকে টরন্টোয় সীতারামনের বুধবারের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কানাডার কর্পোরেট জগতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক। কানাডা-ভারত ব্যবসায়িক পরিষদ এবং ভারতের শিল্প মহলের শীর্ষ সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আর্থিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। ভারত ও কানাডার মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক যোগাযোগও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি এবং বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি—দু’টি উদ্যোগই বাস্তবায়িত হলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে পরিকাঠামো, প্রযুক্তি, শক্তি এবং আর্থিক পরিষেবার মতো ক্ষেত্রে দুই দেশের সংস্থাগুলির পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও আরও প্রসারিত হতে পারে (Investment Protection Pact)। বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা, শুল্কনীতি এবং ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ছে, তখন ভারত-কানাডা সম্পর্কের এই নতুন অর্থনৈতিক অধ্যায়কে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরের শেষের মধ্যেই বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি এবং বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির অগ্রগতি কতটা হয়, এখন সেটাই দেখার (India Canada)।

    ভারত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার

    অন্যদিকে, কানাডার বিনিয়োগকারীদের জন্য ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। ভারত-কানাডা (India Canada) আর্থিক সহযোগিতা আরও গভীর করার ক্ষেত্রে গিফট সিটি এবং ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেসকে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। বুধবার টরন্টোয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত এবং ব্যবসায়ীদের নিয়ে আয়োজিত এক সংবর্ধনায় বক্তব্য রাখেন সীতারামন। সেখানে তিনি বলেন, পরিসর, ধারাবাহিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, তরুণ জনসংখ্যা, ক্রমবর্ধমান ভোগব্যয় এবং দ্রুত সম্প্রসারিত পুঁজিবাজার—এই সবকিছুর এমন সমন্বয় ভারতকে তৈরি করেছে, যার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা অন্যদের পক্ষে কঠিন (Investment Protection Pact)।ভারতের আন্তর্জাতিক আর্থিক পরিষেবা কেন্দ্র গিফট সিটির গুরুত্ব তুলে ধরে সীতারামন বলেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য এটি ধীরে ধীরে একটি বৈশ্বিক মঞ্চ হিসেবে উঠে আসছে। সীমান্তপারের আর্থিক কর্মকাণ্ডের কথা মাথায় রেখে তৈরি নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং করব্যবস্থা গিফট সিটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তিনি বলেন, “কানাডার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি শুধু ভারতের প্রবৃদ্ধির অংশীদার হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে না, ভারতকে বৃহত্তর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক আর্থিক কর্মকাণ্ডের মঞ্চ হিসেবেও ব্যবহার করার সুযোগ দিচ্ছে।”

    ইউপিআই

    ভারত-কানাডা সহযোগিতার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেসের কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ইউপিআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে (India Canada)। সীতারামন বলেন, “এখানে কানাডার ব্যাঙ্ক, আর্থিক প্রযুক্তি সংস্থা এবং নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে। শুধু অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রেই নয়, আগামী প্রজন্মের ডিজিটাল আর্থিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে (Investment Protection Pact)।”

     

  • Rafale vs J-16: রাফাল বনাম জে-১৬! চিনা যুদ্ধবিমানের সঙ্গে মিশরের রাফালের ‘ডগফাইট’, কেন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে ভারত?

    Rafale vs J-16: রাফাল বনাম জে-১৬! চিনা যুদ্ধবিমানের সঙ্গে মিশরের রাফালের ‘ডগফাইট’, কেন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে ভারত?

    সুশান্ত দাস

    চিন ও মিশরের যৌথ বিমান মহড়া  ‘ঈগল্স অফ সিভিলাইজেশন’ (Eagles of Civilisation) ঘিরে নতুন করে নজর পড়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার রাফাল যুদ্ধবিমানকে নিয়ে। ২২ অগাস্ট শুরু হওয়া এই মহড়ায় প্রথমবারের মতো চিনের অত্যাধুনিক জে-১৬ (J-16) ফাইটার জেট মিশরের রাফালের বিরুদ্ধে সরাসরি সিমুলেটেড এয়ার কমব্যাটে অংশ নিয়েছে। ফলে চিনা পাইলটদের সামনে এমন একটি পশ্চিমী নকশার যুদ্ধবিমানকে কাছ থেকে বোঝার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যে ধরনের যুদ্ধবিমান ভারতীয় বায়ুসেনাও ব্যবহার করে। তবে এই মহড়াকে সরাসরি ভারতীয় বায়ুসেনার রাফালের বিরুদ্ধে চিনা জে-১৬-এর পরীক্ষা হিসেবে দেখলে বিষয়টি অতিরঞ্জিত হবে। কারণ মিশরীয় ও ভারতীয় রাফালের অস্ত্র, সেন্সর, সফটওয়্যার, মিশন কনফিগারেশন এবং অপারেশনাল ডকট্রিন এক নয়। তা সত্ত্বেও চিনের জন্য এই মহড়া যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এবং ভারতের কাছেও বিষয়টি নজর রাখার মতো।

    কী ঘটছে চিন-মিশরের বায়ুসেনা মহড়ায়?

    চিন ও মিশরের বিমানবাহিনী যৌথভাবে এই মহড়া পরিচালনা করছে। মহড়ার প্রথম পর্যায়ে মূলত এক বনাম এক বিমানযুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। চিনা ও মিশরীয় পাইলটরা একে অপরের যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা সম্পর্কে তথ্য বিনিময় করছেন। এর পাশাপাশি বিমান নিরাপত্তা বিধি, আকাশসীমা ব্যবহারের নিয়ম, টেক-অফ ও ল্যান্ডিং পদ্ধতি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে, সেই বিষয়গুলিও অনুশীলন করা হচ্ছে। চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) এয়ার ফোর্স জানিয়েছে, মহড়া ধাপে ধাপে আরও জটিল হবে। প্রথমে এক বনাম এক লড়াইয়ের পর দুই বনাম দুই এয়ার কমব্যাট এবং পরে আরও জটিল যৌথ বিমান অভিযান অনুশীলন করা হবে।

    প্রথমবার রাফালের বিরুদ্ধে জে-১৬

    এই মহড়ার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, চিনা জে-১৬ প্রথমবার রাফালের সঙ্গে সিমুলেটেড কমব্যাট পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পেল। চিন সাধারণত নিজেদের তৈরি বিভিন্ন যুদ্ধবিমানের মধ্যে প্রশিক্ষণ এবং ডগফাইট অনুশীলন করে। কিন্তু পশ্চিমী প্রযুক্তি ও নকশার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণের সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম। সেই জায়গা থেকেই মিশরের রাফাল চিনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সিমুলেটেড এয়ার কমব্যাটের মাধ্যমে চিনা পাইলটরা রাফালের উড়ানগত বৈশিষ্ট্য, ম্যানুভারিং ক্ষমতা এবং সম্ভাব্য কৌশলগত আচরণ সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা পেতে পারেন। অর্থাৎ, শুধু জে-১৬ কীভাবে উড়বে বা আক্রমণ করবে, তা নয়— প্রতিপক্ষ হিসেবে রাফালকে সামনে রেখে চিনা পাইলটদের প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

    ভারতের রাফালের সঙ্গে এর সম্পর্ক কোথায়?

    এখানেই বিষয়টি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান আধুনিক যুদ্ধবিমান হল দাসো রাফাল। ফলে মিশরের রাফালের বিরুদ্ধে চিনা জে-১৬-এর প্রশিক্ষণকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি ঘটনা হিসেবে দেখা কঠিন। চিনা বিমান বিশেষজ্ঞ ওয়াং ইয়ানানও উল্লেখ করেছেন, রাফাল সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে এই মহড়া চিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করছে। কারণ ভারত ও মিশর—দুই দেশই রাফালের প্রধান ব্যবহারকারী। তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। মিশরের রাফাল এবং ভারতের রাফাল একই পরিবারের যুদ্ধবিমান হলেও তাদের অস্ত্রভাণ্ডার, সেন্সর, সফটওয়্যার, ডেটা-লিঙ্ক, মিশন সিস্টেম এবং অপারেশনাল ব্যবহারে পার্থক্য থাকতে পারে। ফলে মিশরীয় রাফালের বিরুদ্ধে জে-১৬-এর অভিজ্ঞতাকে সরাসরি ভারত-চিন আকাশযুদ্ধের মহড়া বলা ঠিক হবে না।

    জে-১৬ বনাম রাফাল: চিন কী শিখতে পারে?

    চিনা পাইলটদের জন্য এই ধরনের প্রশিক্ষণের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল প্রতিপক্ষের যুদ্ধবিমানের আচরণ সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা তৈরি করা। রাফালের বিরুদ্ধে সিমুলেটেড কমব্যাটে চিনা পাইলটরা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন—

    • ● রাফাল কীভাবে আক্রমণাত্মক ম্যানুভার করে
    • ● কাছাকাছি আকাশযুদ্ধে তার গতিবিধি কেমন
    • ● বিভিন্ন পরিস্থিতিতে রাফালের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে
    • ● জে-১৬-এর কৌশলগত অবস্থান কীভাবে পরিবর্তন করা যায়
    • ● কোন ধরনের পরিস্থিতিতে জে-১৬ পাইলটদের কী ধরনের কৌশল গ্রহণ করা উচিত

    এই অভিজ্ঞতা শুধু পাইলটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রশিক্ষক, কৌশলবিদ এবং সামরিক পরিকল্পনাকারীরাও এই মহড়া থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে ভবিষ্যতের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং এয়ার-কমব্যাট ট্যাকটিক্স আরও উন্নত করতে পারেন।

    কতটা শক্তিশালী চিনের জে-১৬?

    জে-১৬ চিনা বায়ুসেনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভারী শ্রেণির, দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট মাল্টিরোল ফাইটার। বিভিন্ন ধরনের আকাশযুদ্ধ এবং স্ট্রাইক মিশনে ব্যবহারের জন্য বিমানটিকে তৈরি করেছে চিন। অন্যদিকে রাফালও একটি অত্যাধুনিক ৪.৫ প্রজন্মের মাল্টিরোল ফাইটার, যা আকাশ প্রতিরক্ষা থেকে শুরু করে গ্রাউন্ড অ্যাটাক—বিভিন্ন ধরনের মিশনে ব্যবহার করা যায়। তাই জে-১৬ ও রাফালের মধ্যে সিমুলেটেড কমব্যাট চিনা পাইলটদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ পরিস্থিতি তৈরি করে। তবে এই ধরনের মহড়ার ফলাফল দেখেই কোনও একটি যুদ্ধবিমান অন্যটির তুলনায় নিশ্চিতভাবে শ্রেষ্ঠ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। কারণ আধুনিক আকাশযুদ্ধে শুধু বিমানটির ক্ষমতাই নয়, পাইলটের দক্ষতা, অস্ত্র, সেন্সর, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ডেটা-লিঙ্ক, এয়ারবর্ন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম এবং সামগ্রিক যুদ্ধকৌশল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

    ভারতের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই মহড়া?

    ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে মূল উদ্বেগের জায়গা হল—চিনা বায়ুসেনা এমন একটি যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছে, যার একটি সংস্করণ ভারতীয় বায়ুসেনার হাতেও রয়েছে। ভারত-চিন সীমান্তে ভবিষ্যতে আকাশযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে রাফাল চিনা বিমানবাহিনীর সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে। সেই কারণে চিনা পাইলটদের রাফালের উড়ানগত আচরণ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা তৈরি হওয়া ভারতের সামরিক পরিকল্পনাকারীদের নজর এড়াবে না।

    তবে মিশরীয় রাফালের বিরুদ্ধে মহড়া মানেই চিন ভারতীয় রাফালের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে—এমনটা বলা যাবে না। কারণ ভারতীয় রাফাল শুধু একটি বিমান নয়; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ভারতীয় অস্ত্রব্যবস্থা, সেন্সর, সফটওয়্যার, ডেটা-লিঙ্ক, প্রশিক্ষণ ও নিজস্ব অপারেশনাল কৌশল। ফলে মিশরীয় রাফালকে সামনে রেখে চিন যে অভিজ্ঞতা অর্জন করছে, তা ভারতের ক্ষেত্রে আংশিকভাবে প্রাসঙ্গিক, কিন্তু সম্পূর্ণ সমতুল্য নয়।

    ‘ঈগল্স অফ সিভিলাইজেশন’ কেন নজরে রাখছে নয়াদিল্লি?

    এই মহড়ার তাৎপর্য শুধু চিন-মিশরের সামরিক সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ নয়। চিনের জন্য এটি পশ্চিমী নকশার একটি উন্নত যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণের বিরল সুযোগ। আর ভারতের জন্য এর গুরুত্ব অন্য জায়গায়। চিনা বায়ুসেনা যত বেশি রাফালের মতো যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণ করবে, তত বেশি তাদের পাইলট ও প্রশিক্ষকদের কাছে এই প্ল্যাটফর্মের আচরণ পরিচিত হয়ে উঠতে পারে। ভবিষ্যতে ভারত-চিন উত্তেজনা বাড়লে এই অভিজ্ঞতা চিনা কৌশল নির্ধারণে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।

    অন্যদিকে, ভারতের কাছেও এই পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে—আধুনিক আকাশযুদ্ধে শুধু উন্নত যুদ্ধবিমান হাতে থাকলেই হবে না, সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ সেই যুদ্ধবিমান সম্পর্কে কতটা জানে এবং তার মোকাবিলায় কী ধরনের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই ‘ঈগল্স অফ সিভিলাইজেশন’-এ জে-১৬ ও রাফালের মুখোমুখি হওয়া কোনও সরাসরি ভারত-চিন যুদ্ধের মহড়া নয়। কিন্তু এটি এমন একটি প্রশিক্ষণ অভিজ্ঞতা, যা চিনা বায়ুসেনাকে রাফাল সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিচ্ছে। আর সেই কারণেই ভারতীয় বায়ুসেনার রাফালকে ঘিরে এই চিন-মিশর মহড়ার দিকে কৌশলগত নজর রাখা স্বাভাবিক।

  • Jantar Mantar Protest: যন্তর মন্তরে হিংসার পর গোয়েন্দা ব্যবস্থায় বড় বদল দিল্লি পুলিশের, বিক্ষোভের আগে ১০ তথ্য জোগাড়ের নির্দেশ

    Jantar Mantar Protest: যন্তর মন্তরে হিংসার পর গোয়েন্দা ব্যবস্থায় বড় বদল দিল্লি পুলিশের, বিক্ষোভের আগে ১০ তথ্য জোগাড়ের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যন্তর মন্তরে গত ২০ জুলাইয়ের হিংসাত্মক পরিস্থিতি এবং তার পরবর্তী সময়ে ব্যাপক বিক্ষোভের (Jantar Mantar Protest) জেরে নিজেদের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। বড় মাপের বিক্ষোভ, সমাবেশ কিংবা পরিকল্পিত জনজমাবেশের ক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি আরও জোরদার করতেই এই উদ্যোগ বলে (Mobilisation Funding) পুলিশ সূত্রে খবর। এখন থেকে কোনও বড় বা পরিকল্পিত বিক্ষোভের আগে অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সূত্রের খবর, দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমার গোয়েন্দা শাখা এবং বিশেষ শাখাকে এই বিষয়ে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু কোথায় বিক্ষোভ হবে, কখন হবে এবং আনুমানিক কত মানুষ সেখানে উপস্থিত হতে পারেন—এই প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। তার বদলে বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত মানুষ, সংগঠন, নেতৃত্ব, সমাবেশের প্রস্তুতি, অংশগ্রহণকারীদের সার পদ্ধতি এবং স্থানীয় যোগাযোগ-সহ আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

    যন্তর মন্তরে জন জমাবেশ (Jantar Mantar Protest)

    গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তর এবং তার আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন। প্রশ্ন ফাঁস এবং বিভিন্ন পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে সংসদের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করেছিলেন। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে। এর পরেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।

    এই ঘটনার পর দিল্লি পুলিশের গোয়েন্দা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় আধিকারিকদের একাংশের মনে হয়েছে, বিক্ষোভের আগে অংশগ্রহণকারীদের সম্ভাব্য সংখ্যা, তাঁদের সংগঠিত করার প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন সংগঠনের ভূমিকা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ও নির্ভুল আগাম তথ্য পুলিশের হাতে ছিল না। তাই পরিস্থিতি কোন দিকে যেতে পারে, তা যথেষ্ট নির্ভুলভাবে অনুমান করা সম্ভব হয়নি।

    এই অভিজ্ঞতার পরেই বিশেষ শাখাকে আরও বিস্তারিত এবং ব্যবহারযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কোনও বিক্ষোভের ক্ষেত্রে শুধু জনসমাগমের সম্ভাব্য আকার বা ঘটনাস্থলের তথ্য নয়, বরং বিক্ষোভের সামগ্রিক কাঠামো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্কে আলাদা করে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। কোন রাজ্য থেকে কত মানুষ আসছেন, তাঁদের কীভাবে সংগঠিত করা হচ্ছে, কারা তাঁদের নিয়ে আসছেন এবং বিক্ষোভের পিছনে কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বা সংগঠকের ভূমিকা রয়েছে—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে বিক্ষোভের মূল উদ্দেশ্য, নির্দিষ্ট দাবি এবং আন্দোলনের কর্মসূচি সম্পর্কে আগাম ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হবে (Mobilisation Funding)।

    জোগাড় করা হবে যাবতীয় তথ্য

    বিক্ষোভকারীরা দিল্লিতে কোথায় থাকছেন, তাঁদের স্থানীয় যোগাযোগ কারা, দিল্লিতে তাঁদের কী ধরনের স্থানীয় সংযোগ রয়েছে—এই তথ্যও সংগ্রহ করবে পুলিশ। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ এবং বিক্ষোভের সম্ভাব্য অর্থের উৎস সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এত বড় জমায়েতের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবহণ, থাকা, খাবার এবং অন্যান্য ব্যবস্থাপনা কীভাবে করা হচ্ছে, সেই বিষয়েও নজর রাখা হবে।

    এক কথায়, দিল্লি পুলিশের নতুন গোয়েন্দা ব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু “কোথায় বিক্ষোভ হবে” বা “কখন বিক্ষোভ হবে”—এই দু’টি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা নয়। বরং বিক্ষোভের পিছনে কারা রয়েছেন, কারা মানুষকে সংগঠিত করছেন, কোন কোন এলাকা বা রাজ্য থেকে মানুষ আসছেন, তাঁদের স্থানীয় যোগাযোগ কারা, কোন সংগঠনগুলি যুক্ত এবং কীভাবে গোটা কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে—তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করাই এখন পুলিশের লক্ষ্য (Jantar Mantar Protest)।

    বড় জনসমাগমের ক্ষেত্রে ফিল্ড লেভেলে থাকা পুলিশকর্মী এবং ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদানপ্রদান নিশ্চিত করতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কমিশনার বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। বিক্ষোভের সময় ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশকর্মীদের কাছ থেকে ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছনো এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দ্রুত নীচে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গোটা বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় যে সমস্ত ত্রুটি বা ঘাটতি ধরা পড়েছে, সেগুলি দ্রুত সংশোধন করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    পুলিশের লক্ষ্য

    পুলিশের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য অবশ্য কোনও ধরনের বিক্ষোভ বন্ধ করা নয় বলেই সূত্রের দাবি। বড় জনসমাবেশের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও নির্ভুল মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আগাম প্রস্তুতি নেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে যে সমস্ত বিক্ষোভে দিল্লির বাইরের বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ আসেন অথবা একাধিক সংগঠন একই কর্মসূচিতে যুক্ত থাকে, সেগুলির ক্ষেত্রে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে আগাম তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

    যন্তর মন্তরের ২০ জুলাইয়ের ঘটনা দিল্লি পুলিশের কাছে বড় ধরনের শিক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিপুল জনসমাগমের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করাই যথেষ্ট নয়—সমাবেশের আকার, অংশগ্রহণকারীদের উৎস, সংগঠকদের ভূমিকা, আন্দোলনের উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে আগাম নির্ভুল তথ্য থাকা জরুরি। সেই প্রয়োজন থেকেই গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পুরনো পদ্ধতিকে আরও বিস্তৃত এবং কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে (Jantar Mantar Protest)।

    নতুন ব্যবস্থায় বিক্ষোভের আগে পাওয়া তথ্যকে একাধিক স্তরে বিশ্লেষণ করা হবে। এর ফলে কোনও সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে হওয়ার সম্ভাবনা কতটা, কোথায় অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন এবং কোন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে—সেই সব বিষয়ে পুলিশের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করা হচ্ছে (Mobilisation Funding)।

    বদলাতে পারে দিল্লি পুলিশের কৌশল

    দিল্লি পুলিশের এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে বড় বিক্ষোভ ও জনসমাবেশ পরিচালনায় তাদের কৌশলেও পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষত দিল্লির বাইরে থেকে আসা বিপুল জনসমাগম এবং একাধিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিগুলির ক্ষেত্রে আগাম তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। যন্তর মন্তরের ঘটনার পর পুলিশের লক্ষ্য এখন একটাই—পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পরে (Mobilisation Funding) ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে, সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগে থেকেই স্পষ্ট ধারণা তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও বেশি করে প্রস্তুত থাকা (Jantar Mantar Protest)।

     

  • India Bangladesh Electricity: সস্তার দিন শেষ বাংলাদেশের! বিদ্যুৎ কিনতে ভারতকে দিতে হবে অতিরিক্ত টাকা

    India Bangladesh Electricity: সস্তার দিন শেষ বাংলাদেশের! বিদ্যুৎ কিনতে ভারতকে দিতে হবে অতিরিক্ত টাকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে রফতানি করা বিদ্যুতের উপর ইউনিট পিছু বাড়তি চার্জ ধার্য করল ভারত। বিদ্যুৎ রফতানি ক্ষেত্রে গ্রিড পরিচালনা ও বিদ্যুৎ লেনদেনের হিসেব-নিকাশ নিষ্পত্তির জন্য সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি (এসএনএ) চার্জ আরোপ করা হচ্ছে। যার জেরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ভারতীয় মুদ্রায় ০.০০৫ টাকা (New Charges on Electricity) বেশি দিতে হবে বাংলাদেশকে (India Bangladesh Electricity)। এমনিতেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে ভুগছে বাংলাদেশ। এরই মাঝে ভারতের এই আধা পয়সার অতিরিক্ত চার্জে বাংলাদেশের মাথায় হাত পড়তে পারে। এই নতুন চার্জ নিয়ে ইতিমধ্যেই চুক্তি করার আগে অর্থ মন্ত্রকের মতামত চেয়েছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রক।

    কেন নেওয়া হচ্ছে এই নতুন চার্জ

    ভারত থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ কেনে বাংলাদেশ। এবার সেই বিদ্যুৎ কিনতেই জুড়তে চলেছে নতুন চার্জ। জানা যাচ্ছে, বিদ্যুতের মূল দামের থেকে আলাদাভাবে নেওয়া হবে এই এনএসএ চার্জ। গ্রিড পরিচালনা, শিডিউলিং, মিটারিং, বিদ্যুতের হিসাব-নিকাশ ও আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ লেনদেন নিষ্পত্তির ব্যয় মেটাতে এই বাড়তি অর্থ ধার্য করা হচ্ছে। এই বিষয়ে ভারতের সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থা এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি বা এসএনএ চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সংক্রান্ত একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট বাংলাদেশের অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। চিঠিতে বলা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে চুক্তিতে দেরি হলে এনভিভিএনের মাধ্যমে ১১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানিতে সমস্যা তৈরি হতে পারে। ভারত শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ০.০১ টাকা হারে এই চার্জ দাবি করেছিল। পরে তা কমিয়ে ০.০০৫ করা হয়।

    বাংলাদেশের খুব বেশি খরচ বাড়বে না

    বাংলাদেশি আধিকারীদের তরফে বলা হয়েছে, এই বাড়তি অর্থ বিদ্যুতের দাম নয়, এটি বিদ্যুৎ গ্রিড পরিচালনা ও অন্যান্য খরচের জন্য একটি বিশেষ চার্জ। আন্তদেশীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্যে গ্রিড পরিচালনা এবং লেনদেন নিষ্পত্তির খরচ হিসেবেই এই চার্জ নেওয়া হবে। শিডিউল ঠিক করা, মিটার থেকে তথ্য নেওয়া, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ব্যবহারের হিসেব মেলানো—সব কিছুর জন্যই এই টাকা। এতে বাংলাদেশের খুব বেশি খরচ বাড়বে না। বরং একবার এনভিভিএনের সঙ্গে চুক্তি হয়ে গেলে লেনদেন আরও সহজ হবে। আলাদা আলাদা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে বিল মেটানোর ঝামেলাও কমবে।

    নেপাল ও ভুটানের থেকেও এই চার্জ নেওয়া হয়

    এদিকে ভারতের তরফে জানানো হয়েছে, নেপাল ও ভুটানের থেকেও একই হারে এসএনএ চার্জ নেওয়া হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের জন্য বিষয়টা ভিন্ন কিছু নয়। প্রতিবেশী দেশগুলির বিদ্যুৎ বাণিজ্যে একই ব্যবস্থা চালু করেছে সিইআরসি। ভারতের আঞ্চলিক গ্রিডে বাংলাদেশকে একটি আলাদা কন্ট্রোল এরিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ আমদানির জন্য মিটারিং, এনার্জি অ্যাকাউন্টিং ও সেটেলমেন্টের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে।

    কোন কোন কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ যায় বাংলাদেশে

    বহু বছর ধরে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে বাংলাদেশ। বর্তমানে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে মোট ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে এনটিপিসি থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন থেকে ৩০০ মেগাওয়াট, ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট, পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার কেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট ও সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়া থেকে আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসে। এই পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য এসএনএ চার্জ বিষয়ক চুক্তি হচ্ছে। এর বাইরে আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশের। সেখানে অবশ্য আগে থেকেই যুক্ত রয়েছে এই চার্জ। ফলে গড্ডা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আলাদা করে চুক্তির প্রয়জন পড়বে না।

    ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি অপরিহার্য

    বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গ্যাসের সংকট, জ্বালানি আমদানির ব্যয় ও দেশীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের চাহিদা পূরণে ভারতের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা দেখা দিয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসেবে, আদানি পাওয়ার, এনভিভিএন, পিটিসি ইন্ডিয়া ও সেম্বকর্ণ—এই চার উৎস থেকে বাংলাদেশ প্রায় ১ হাজার ৬৪১ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ আমদানি করেছে। বিদ্যুতের মূল মূল্য হিসেবে এ সময় পরিশোধ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯৯৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে আদানি পাওয়ার থেকে প্রায় ৮০৩ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনতে ব্যয় হয়েছে ১১ হাজার ৯৩৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এনভিভিএনের বিদ্যুতের জন্য ৩ হাজার ৪৫৭ কোটি ৮২ লাখ, পিটিসি ইন্ডিয়ার জন্য ১ হাজার ৬৫১ কোটি ৩২ লাখ এবং সেম্বকর্পের বিদ্যুতের জন্য ১ হাজার ৯৫৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এনভিভিএনের বিদ্যুতের জন্য হুইলিং চার্জ হিসেবে আরও ২১১ কোটি ৭১ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে চার উৎস থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে মোট ব্যয় হয়েছে ১৭ হাজার ২১১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। নতুন এ চুক্তি কার্যকর হলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির মূল বিদ্যুৎমূল্যের পাশাপাশি এসএনএ চার্জও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানি ব্যয়ের একটি অংশ হিসেবে যুক্ত হবে।

  • Rajnath Singh: দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে বড় পদক্ষেপ, সব প্রচলিত মিসাইলের প্রযুক্তি ভারতীয় শিল্পকে হস্তান্তরের অনুমোদন রাজনাথের

    Rajnath Singh: দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে বড় পদক্ষেপ, সব প্রচলিত মিসাইলের প্রযুক্তি ভারতীয় শিল্পকে হস্তান্তরের অনুমোদন রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে আরও বড় পদক্ষেপ করল ভারত। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও (DRDO)-র তৈরি সমস্ত প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রযুক্তি ভারতীয় শিল্প সংস্থাগুলিকে হস্তান্তরের (Transfer of Technology বা ToT) অনুমোদন দিয়েছেন। এর ফলে নির্দিষ্ট যোগ্যতা, সার্টিফিকেশন এবং নিয়ন্ত্রক বিধি পূরণ সাপেক্ষে ভারতীয় সংস্থাগুলি দেশে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলির উৎপাদন করতে পারবে। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB) মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতীয় শিল্পের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন। এর মূল লক্ষ্য হল ডিআরডিও-র গবেষণাগারে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিকে উন্নয়ন পর্যায় থেকে সরিয়ে বাণিজ্যিক ও বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।

    দেশীয় সংস্থার হাতে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি

    এতদিন ডিআরডিও-র তৈরি বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার উৎপাদনে মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এবার সেই ব্যবস্থায় আরও বড় পরিসরে বেসরকারি ভারতীয় শিল্পকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তের ফলে যোগ্য ভারতীয় সংস্থাগুলি ডিআরডিও-র কাছ থেকে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি গ্রহণ করে তার ভিত্তিতে দেশেই উৎপাদন করতে পারবে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে তেমনই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে ভারতীয় শিল্পের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। সরকারের বক্তব্য, এই উদ্যোগ আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। একইসঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সরবরাহ শৃঙ্খলে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমই (MSME) এবং অন্যান্য প্রযুক্তি অংশীদারদের অংশগ্রহণের সুযোগও বাড়বে।

    ডিআরডিও-শিল্প সহযোগিতায় জোর

    প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ডিআরডিও এবং ভারতীয় শিল্পের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর করার পরিকল্পনা রয়েছে। উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি শুধু গবেষণাগারে তৈরি করাই নয়, সেই প্রযুক্তিকে দ্রুত উৎপাদনযোগ্য করে তোলা এবং সেনাবাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত সংখ্যায় সরবরাহ করাই এখন অন্যতম লক্ষ্য। এই ব্যবস্থায় ডিআরডিও ভারতীয় শিল্পকে প্রযুক্তি গ্রহণ ও আত্মস্থ করতে সহায়তা করবে। ফলে ভবিষ্যতে দেশীয় সংস্থাগুলি আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে পারবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন, প্রযুক্তি উন্নয়ন, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং প্রতিরক্ষা রফতানিতে।

    অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ তৈরিতে বেসরকারি সংস্থার দৌড়?

    এই নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য ক্ষেত্র হতে পারে ভারতের দেশীয় অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ (Astra Mark-2) ক্ষেপণাস্ত্র। একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শীঘ্রই একটি রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল (RFP) জারি করতে পারে। সেখানে অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ তৈরির জন্য বেসরকারি ক্ষেত্রের সংস্থা ও বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ওই প্রতিবেদনে আইকম, আদানি, ভারত ফোর্জ, টাটা গোষ্ঠী ও মহিন্দ্রা গ্রুপ সহ একাধিক ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ১৮০–২০০ কিলোমিটার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বায়ুসেনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই দেশীয় আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন যদি বৃহৎ ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠীর হাতে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এর উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে উৎপাদনে নামার আগে নির্ধারিত যোগ্যতা, সার্টিফিকেশন এবং সমস্ত নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে হবে।

    দেশীয় মিসাইলের চাহিদা বাড়ছে

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন ভারতীয় তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার চাহিদা দেশ এবং বিদেশ—দুই ক্ষেত্রেই বাড়ছে। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি দেশও ভারতের দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়া অ্যাস্ট্রা সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফলে শুধু ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রয়োজন মেটানো নয়, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্যও দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর প্রয়োজন তৈরি হচ্ছে। বেসরকারি শিল্পকে উৎপাদন ব্যবস্থায় আরও বেশি করে যুক্ত করলে সেই চাহিদা পূরণ করা সহজ হতে পারে।

    প্রতিরক্ষা রফতানিতেও বড় সুযোগ

    ভারত গত কয়েক বছরে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং রফতানির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। যুদ্ধবিমান, কামান, ড্রোন, যুদ্ধজাহাজসহ একাধিক ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশে ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রেও জোর দেওয়া হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো সেই নীতিরই পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্যাপ্ত উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি হলে ভবিষ্যতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলিতেও দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র রফতানির সুযোগ বাড়তে পারে।

    এতদিন কেন পিছিয়ে ছিল মিসাইল উৎপাদন?

    ভারতে বেসরকারি শিল্পের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিমান, ড্রোন এবং আর্টিলারি বা কামান উৎপাদনের মতো ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু ক্ষিপণাস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির ভূমিকা এতদিন তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। এবার ডিআরডিও-র তৈরি প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রযুক্তি বৃহত্তর ভারতীয় শিল্পের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে গবেষণা ও উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা ডিআরডিও আরও বেশি করে নতুন প্রযুক্তি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্ত্র ব্যবস্থা এবং উন্নত প্রতিরক্ষা গবেষণায় মনোযোগ দিতে পারবে। অন্যদিকে শিল্প সংস্থাগুলি তুলনামূলকভাবে পরিণত প্রযুক্তির বৃহৎ পরিসরের উৎপাদনের দায়িত্ব নিতে পারবে।

    আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়

    রাজনাথ সিংয়ের অনুমোদিত এই প্রযুক্তি হস্তান্তর তাই শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়। এর মাধ্যমে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থায় গবেষণা থেকে উৎপাদন এবং উৎপাদন থেকে রফতানি—পুরো শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশীয় শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো, এমএসএমই-কে সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত করা, আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং বিদেশি বাজারে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাবনা বাড়ানো— সব মিলিয়ে এই সিদ্ধান্ত ভারতের ‘আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা’ কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে অ্যাস্ট্রা মার্ক-২-এর মতো উন্নত দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদনে যদি একাধিক ভারতীয় বেসরকারি শিল্পগোষ্ঠী যুক্ত হয়, তাহলে আগামী দিনে দেশের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন পরিকাঠামো আরও দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

  • UPI: দশ বছর পূর্ণ করল ইউপিআই, লেনদেনের পরিমাণ কত বেড়েছে জানেন?

    UPI: দশ বছর পূর্ণ করল ইউপিআই, লেনদেনের পরিমাণ কত বেড়েছে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল ইউপিআই (UPI)। ২০১৬ সালের ২৫ অগাস্ট ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার উদ্যোগে চালু হওয়া এই ব্যবস্থা ২০২৬ সালে পূর্ণ করল দশ বছর। এক দশকের মধ্যেই ইউপিআই ভারতের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার মেরুদণ্ডে পরিণত হয়েছে (PM Modi)। একই সঙ্গে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে যেখানে মাত্র ১ কোটি ৭৮ লাখ  লেনদেন হয়েছিল, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ১৬২ কোটিরও বেশি। অর্থাৎ মাত্র এক দশকের ব্যবধানে লেনদেনের সংখ্যায় প্রায় ১৩ হাজার গুণ বৃদ্ধি ঘটেছে। ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে এই বিপুল সম্প্রসারণ ভারতের প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থার দ্রুত পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।

    ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেন (UPI)

    শুধু লেনদেনের সংখ্যা নয়, ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেনের মোট আর্থিক মূল্যও গত দশ বছরে নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেনের মূল্য ছিল মাত্র ০.০৭ লাখ  কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে প্রায় ৩১৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ লেনদেনের আর্থিক মূল্যে চার হাজার গুণেরও বেশি বৃদ্ধি ঘটেছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের বক্তব্য, ইউপিআই এখন ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদানের পরিকাঠামোর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। একই সঙ্গে এটি এমন একটি তাৎক্ষণিক ও পারস্পরিক সংযুক্ত অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে একটি মাত্র প্রয়োগের সাহায্যে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির এবং ব্যক্তি থেকে ব্যবসায়ীর মধ্যে দ্রুত ও নির্বিঘ্নে অর্থ লেনদেন করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে দেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে ইউপিআই অর্থপ্রদানের অন্যতম পছন্দের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। দোকানে কেনাকাটা, পরিষেবার মূল্য মেটানো, ব্যক্তিগতভাবে টাকা পাঠানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন—সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার ক্রমশ বেড়েছে। এর ফলে নগদ অর্থের উপর নির্ভরতা কমেছে এবং দ্রুত, সহজ ও তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    কী বলছে অর্থমন্ত্রক

    অর্থমন্ত্রকের দাবি, ইউপিআই শুধু শহরাঞ্চলের মানুষের জীবনকে সহজ করেনি, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবার সুযোগ বাড়িয়েছে। প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমিয়ে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়িয়ে এটি দেশের বিভিন্ন শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মানুষকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে সাহায্য করেছে। এর ফলে অর্থনীতিতে বৃহত্তর মানুষের অংশগ্রহণের পথও আরও প্রশস্ত হয়েছে। ইউপিআইয়ের (UPI) সাফল্য এখন শুধু ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল অর্থপ্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবেও এটি আত্মপ্রকাশ করেছে। বর্তমানে ১১টি দেশে ইউপিআই কার্যকর রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ফ্রান্স, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, কাতার, কম্বোডিয়া, গ্রিস এবং মালদ্বীপে এর ব্যবহার চালু হয়েছে। ফলে ভারতের তৈরি এই ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ক্রমশ পক্ষ্ম বিস্তার করছে (PM Modi)।

    ইউপিআইয়ের গ্রহণযোগ্যতা

    বিশ্বব্যাপী ইউপিআইয়ের গ্রহণযোগ্যতাও ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ইউপিআইকে লেনদেনের পরিমাণের নিরিখে বিশ্বের বৃহত্তম তাৎক্ষণিক অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর ফলে ডিজিটাল জনপরিকাঠামো নির্মাণে ভারতের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মহলেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের মোট তাৎক্ষণিক অর্থপ্রদানের লেনদেনের প্রায় ৪৯ শতাংশই ইউপিআইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এই পরিসংখ্যান ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদানের বিস্তার এবং ইউপিআইয়ের আন্তর্জাতিক গুরুত্বের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। একই সঙ্গে এটি দেখায়, কীভাবে একটি দেশীয় ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল সংখ্যক মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যেতে পারে।

    অর্থমন্ত্রকের বক্তব্য

    আকাশবাণীর এক প্রতিবেদনে অর্থমন্ত্রকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে (UPI) জানানো হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত ইউপিআইয়ের লেনদেনের পরিমাণ এবং আর্থিক মূল্য—দুই ক্ষেত্রেই ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটেছে। ২০১৬ সালে চালু হওয়ার সময় যে ব্যবস্থা ছিল সীমিত পরিসরের, দশ বছর পরে সেটিই ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউপিআইয়ের সাফল্যের অন্যতম কারণ হল এর সহজ ব্যবহারযোগ্যতা। সাধারণ মানুষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠাতে বা গ্রহণ করতে পারছেন। ছোট ব্যবসায়ী থেকে বড় প্রতিষ্ঠান—বিভিন্ন স্তরের ব্যবহারকারীর কাছে এই ব্যবস্থা পৌঁছে যাওয়ায় ডিজিটাল লেনদেনের পরিধিও দ্রুত বেড়েছে (PM Modi)।

    ডিজিটাল লেনদেন

    ইউপিআইয়ের (UPI) বিস্তার ভারতের আর্থিক ব্যবস্থায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। আগে ব্যাংকিং পরিষেবা থেকে দূরে থাকা বহু মানুষ এখন মোবাইলভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারছেন। ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পরিধি বাড়ছে। একই সঙ্গে ছোট ব্যবসা, খুচরো বিক্রি এবং দৈনন্দিন পরিষেবার ক্ষেত্রে ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ব্যবহার বাড়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি বড় অংশের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার মধ্যে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের মতে, ইউপিআইয়ের ব্যাপক পরিসর, নির্ভরযোগ্যতা এবং বিভিন্ন ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ভারতের ডিজিটাল জনপরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম সফল উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। একদিকে যেমন এটি কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনকে সহজ করেছে, অন্যদিকে তেমনই ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবার সুযোগকে আরও বিস্তৃত করেছে।

    ইউপিআইয়ের উত্থান

    দশ বছর আগে যে ব্যবস্থা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে যাত্রা শুরু করেছিল, তা এখন দেশের আর্থিক লেনদেনের অভ্যাসই বদলে দিয়েছে। লেনদেনের সংখ্যা থেকে আর্থিক মূল্য, ব্যবহারকারীর পরিধি থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইউপিআইয়ের (UPI) উত্থান উল্লেখযোগ্য। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে এর ব্যবহার আরও বাড়লে ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদানের এই মডেল বিশ্বের অন্যান্য দেশেও আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে, দশ বছরে ইউপিআইয়ের যাত্রা শুধু একটি ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ব্যবস্থার সাফল্যের গল্প নয়। এটি ভারতের প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক রূপান্তর, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ডিজিটাল জনপরিকাঠামো নির্মাণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষের ১ কোটি ৭৮ লাখ লেনদেন থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৪ হাজার ১৬২ কোটিরও বেশি লেনদেনে পৌঁছে যাওয়া সেই (PM Modi) পরিবর্তনেরই পরিসংখ্যানগত প্রমাণ। আর ৩১৪ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি বার্ষিক লেনদেনের মূল্য দেখিয়ে ইউপিআই ইতিমধ্যেই ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে ক্রমশ নিজের অবস্থান পোক্ত করেছে (UPI)।

     

  • Pakistani-Sindhi Brides: অপেক্ষার অবসান! অপারেশন সিঁদুরের পর ভিসা জট কাটিয়ে ভারতে এলেন ১৫০ পাকিস্তানি সিন্ধি কনে

    Pakistani-Sindhi Brides: অপেক্ষার অবসান! অপারেশন সিঁদুরের পর ভিসা জট কাটিয়ে ভারতে এলেন ১৫০ পাকিস্তানি সিন্ধি কনে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ভিসা পরিষেবা এবং ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত। এর জেরে পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের (Pakistani-Sindhi Brides) বহু পরিবারের মেয়েদের ভারতীয় পাত্রদের সঙ্গে বিয়ে কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। অবশেষে সেই জট কাটিয়ে অন্তত ১৫০ জন পাকিস্তানি সিন্ধি কনে ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বিকল্প ট্রানজিট রুটে ভারতে এসে পৌঁছেছেন। সিন্ধি সম্প্রদায়ের নেতা রাজেশ ঝামবিয়া সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার পরবর্তীতে ওই কনেদের এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ভিসা মঞ্জুর করে। তবে তাঁদের সরাসরি আটারি সীমান্ত দিয়ে নয়, তৃতীয় কোনও দেশের মাধ্যমে বিমানে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। ঝামবিয়ার কথায়, “অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয়েছে।” তাঁর দাবি, কনে ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা মাসকাট, দুবাই, শ্রীলঙ্কা এবং অন্যান্য ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে ভারতে পৌঁছেছেন।

    আটারি সীমান্ত বন্ধের পর বদলে যায় পরিস্থিতি

    দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের সিন্ধি পরিবারগুলি বিয়ের জন্য ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত ব্যবহার করে ভারতে যাতায়াত করতেন। কিন্তু অপারেশন সিঁদুরের পর সেই পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। ঝামবিয়া বলেন, আটারি রুটে ভারতে আসার পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছিল। ফলে ভারতে বিয়ের জন্য অপেক্ষায় থাকা বহু পাকিস্তানি তরুণীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এরপর রায়পুরের সন্ত যুধিষ্ঠিরলাল শাদানি, যিনি পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের ঘোটকিতে অবস্থিত শাদানি দরবারের আধ্যাত্মিক প্রধান, এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হন। ভারতে যাঁদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছিল, এমন পাকিস্তানি তরুণীদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়।

    কেন্দ্রের কাছে আবেদন

    শাদানি দরবারের পক্ষ থেকে ওই তালিকা ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে পাঠানো হয়। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভারতে আসার জন্য ভিসা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। ঝামবিয়ার দাবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আবেদন বিবেচনা করে তাঁদের ভারতে আসার অনুমতি দেয়। তবে শর্ত ছিল—সীমান্ত দিয়ে নয়, বিমানে করে তৃতীয় কোনও দেশের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করতে হবে। তিনি জানান, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে প্রায় ১৫০ জন কনে ও তাঁদের পরিবারের সদস্য পাকিস্তান থেকে দুবাই, ওমান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন দেশের ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে ভারতে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে শুধু নাগপুরেরই প্রায় ১৫টি বিয়ের ঘটনা রয়েছে।

    এখনও অপেক্ষায় প্রায় ৩০০ কনে

    তবে সমস্যা পুরোপুরি মেটেনি। ঝামবিয়ার দাবি, পাকিস্তানে এখনও প্রায় ৩০০ জন সিন্ধি তরুণী রয়েছেন, যাঁদের ভারতীয় যুবকদের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছে। ভিসা জটিলতার কারণে তাঁরাও ভারতে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। এই তরুণীদেরও যাতে ভারতীয় ভিসা দেওয়া হয়, সেই জন্য ভারত সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিন্ধি সম্প্রদায়ের নেতারা। অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও এই বিয়েগুলির ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ দুই দেশের সিন্ধি পরিবারগুলির জন্য স্বস্তির বার্তা এনেছে।

  • Piyush Goyal: ভারতে জাপানি সংস্থার সংখ্যা দ্বিগুণ করার আহ্বান পীযূষ গোয়েলের

    Piyush Goyal: ভারতে জাপানি সংস্থার সংখ্যা দ্বিগুণ করার আহ্বান পীযূষ গোয়েলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার লক্ষ্যে বড়সড় প্রস্তাব দিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল (Piyush Goyal)। ভারতে জাপানি সংস্থাগুলির উপস্থিতি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি চলতি দশকের মধ্যে দেশে সক্রিয় জাপানি সংস্থার সংখ্যা (Infra Energy Tech) দ্বিগুণ করার কথা বলেছেন। জাপানে ভারতের এখনও পর্যন্ত বৃহত্তম ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন গোয়েল। দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ককে বিনিয়োগ, উৎপাদন, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের আরও শক্তিশালী ভিত্তিতে পরিণত করাই তাঁর সফরের অন্যতম লক্ষ্য।

    ভারতে জাপানি ব্যবসার পরিসর দ্বিগুণ করার লক্ষ্য (Piyush Goyal)

    বর্তমানে ভারতে ১,৪০০-র বেশি জাপানি সংস্থা কাজ করছে। তবে গোয়েলের মতে, দুই বৃহৎ এশীয় অর্থনীতির সম্ভাবনার তুলনায় এই উপস্থিতি এখনও খুবই সীমিত। জাপান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জাপান-ইন্ডিয়া বিজনেস কনসালটেটিভ কমিটি এবং টোকিওয় ভারতীয় দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি বলেন, চলতি দশকেই ভারতে জাপানি সংস্থাগুলির উপস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হওয়া উচিত। গোয়েল বলেন, “আমি মনে করি, চলতি দশকের মধ্যে বর্তমানে ভারতে কাজ করা জাপানি সংস্থার সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়া উচিত।” ২৪ থেকে ২৭ অগাস্ট পর্যন্ত চার দিনের সফরে তিনি ২০০-র বেশি সদস্যের একটি ভারতীয় ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই দলে উৎপাদন, অর্ধপরিবাহী শিল্প, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, ইস্পাত, গাড়ি শিল্প, আর্থিক পরিষেবা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং প্রযুক্তি-নির্ভর নতুন উদ্যোগের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

    জাপানকে পরবর্তী প্রবৃদ্ধির অংশীদার হিসেবে দেখছে ভারত

    ভারতের দ্রুত সম্প্রসারিত অর্থনীতি এবং উৎপাদনভিত্তিক পরিকাঠামোকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে জাপানি সংস্থাগুলির সামনে তুলে ধরেছেন গোয়েল। তাঁর বক্তব্য, ভারত ও জাপান পরস্পরের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে জাপানের দক্ষতা ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। জাপানি সংস্থাগুলিকে ভারতের উন্নয়নের যাত্রায় আরও ঘনিষ্ঠভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গোয়েল বলেন, ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তির সময় ভারত ৪ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থনীতি থেকে ৩০ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে (Infra Energy Tech)। দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে তিনি জাপানের ‘কাইজেন’ বা ধারাবাহিক উন্নতির নীতির কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, ভারতের সঙ্গে জাপানের সহযোগিতা শুধু পণ্য বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। উৎপাদন, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং ভারতকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও যৌথ উদ্যোগ বাড়াতে হবে (Piyush Goyal)।

    অর্ধপরিবাহী, এআই ও উন্নত উৎপাদনে নজর

    গোয়েলের চার দিনের সফরে টোকিও, নাগোয়া এবং ওসাকায় সরকারি ও ব্যবসায়িক স্তরে একাধিক বৈঠক রয়েছে। টোকিওয় তিনি জাপানের বড় শিল্পগোষ্ঠী ও শিল্প সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এছাড়া জাপান বিজনেস ফেডারেশনের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এই সংগঠনের সঙ্গে জাপানের ১,৫০০-র বেশি ব্যবসায়িক সংস্থা যুক্ত রয়েছে। টোকিও পর্বে অর্ধপরিবাহী শিল্প, এআই, নতুন উদ্যোগ এবং বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ নিয়ে পৃথক আলোচনা হচ্ছে। জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেইয়ের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন গোয়েল। পাশাপাশি জাপান সরকারের শীর্ষ কর্তাব্যক্তি ও সংসদীয় নেতাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক রয়েছে। ভারতকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান উৎপাদন ও প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গেই এই উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ। সূক্ষ্ম উৎপাদন, গাড়ি প্রযুক্তি, রোবোটিক্স, ইলেকট্রনিক্স এবং শিল্পক্ষেত্রে উদ্ভাবনে জাপানের দক্ষতা ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা কর্মসূচির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

    নাগোয়া ও ওসাকায় বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরবে ভারত

    পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিনিধি দল যাবে জাপানের গাড়ি ও শিল্প উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র নাগোয়ায়। সেখানে মধ্য জাপান অর্থনৈতিক ফেডারেশন এবং নাগোয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে ব্যবসায়িক প্রদর্শনী ও বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন গোয়েল। আইচি প্রদেশের প্রশাসনিক নেতৃত্ব এবং গাড়ি ও ইস্পাত শিল্পের বড় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। সফরের শেষ পর্বে ওসাকায় বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের নিয়ে একাধিক কর্মসূচি হবে। ইলেকট্রনিক্স, শিল্প সরঞ্জাম এবং ভোগ্যপণ্য খাতের জাপানি সংস্থাগুলির সঙ্গেও বৈঠক করবেন ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। এই বৈঠকগুলির মাধ্যমে ভারতের উৎপাদন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং ভোক্তা বাজারে বিনিয়োগের সুযোগগুলি তুলে ধরার পাশাপাশি জাপানি (Infra Energy Tech) বিনিয়োগকারীদের ভারতের দ্রুত বিকাশমান নতুন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলির সঙ্গে যুক্ত করাই লক্ষ্য (Piyush Goyal)।

    ওষুধ, জ্বালানি ও পরিকাঠামোয়ও বাড়ছে সহযোগিতা

    টোকিওয় জাপানের একাধিক সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পীযূষ গোয়েল। তাঁদের মধ্যে রয়েছে মেইজি সেইকা ফার্মা এবং সুমিতোমো কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরা। মেইজি সেইকার সঙ্গে বৈঠকে ভারতে তাদের উৎপাদন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সুমিতোমোর সঙ্গে আলোচনায় জ্বালানি রূপান্তর, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং শিল্প পরিকাঠামোয় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সুমিতোমো কর্পোরেশনের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শিনগো উএনোর সঙ্গে বৈঠকের পর গোয়েল বলেন, “ভারতের বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সম্প্রসারিত উৎপাদন ব্যবস্থা আরও বৃহত্তর সহযোগিতার বিপুল সুযোগ তৈরি করছে। এর ফলে ভারত-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে।” মেইজি সেইকা ফার্মার সভাপতি ও প্রতিনিধি পরিচালক তোষিয়াকি নাগাসাতোর সঙ্গেও বৈঠক করেন গোয়েল। সেখানে ওষুধ শিল্পে ভারত-জাপান সহযোগিতা বাড়ানো এবং ভারতে সংস্থাটির উৎপাদন ও গবেষণা-উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। গোয়েল বলেন, ভারতের ওষুধ শিল্পের পরিকাঠামো জাপানি অংশীদারদের জন্য উৎপাদন বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি অর্জনের বড় সুযোগ তৈরি করছে। মিতসুবিশি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি পরিচালক জুরো বাবার সঙ্গেও বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী। ভারতে মিতসুবিশি কর্পোরেশনের নয় দশকেরও বেশি সময়ের উপস্থিতির ভিত্তিতে পরিবহণ, জ্বালানি এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। গোয়েল বলেন, “শিল্পের প্রবৃদ্ধি এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খলকে সমর্থন করে এমন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের অবস্থান শক্ত করার লক্ষ্য

    ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে (Piyush Goyal) বিশ্বের বড় সংস্থাগুলি বর্তমানে তাদের সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কয়েকটি উৎপাদনকেন্দ্রের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর প্রবণতাও বাড়ছে (Infra Energy Tech)। ভারতের কাছে এই পরিস্থিতি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির বিকল্প উৎপাদনকেন্দ্র এবং রফতানি কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাপানি বিনিয়োগ শুধু মূলধনই আনবে না, এর সঙ্গে উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, আধুনিক শিল্পকৌশল এবং আন্তর্জাতিক মূল্য শৃঙ্খলের সঙ্গে আরও (Infra Energy Tech) গভীর সংযোগও তৈরি হতে পারে। ভারত-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের পরবর্তী পর্যায়ে এই সহযোগিতাকেই আরও (Piyush Goyal) বিস্তৃত করতে চাইছে নয়াদিল্লি।

     

  • Kashmiri Pandits: জম্মুতে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ফের হুমকি, চিঠিতে বাড়ির নম্বর-ঠিকানারও উল্লেখ

    Kashmiri Pandits: জম্মুতে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ফের হুমকি, চিঠিতে বাড়ির নম্বর-ঠিকানারও উল্লেখ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Kashmiri Pandits) লক্ষ্য করে ফের হুমকি চিঠি ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে জম্মুতে। রবিবার, ২৩ আগস্ট, প্রকাশ্যে আসা এই চিঠিতে প্রায় ছয় জন কাশ্মীরি পণ্ডিতের ব্যক্তিগত তথ্য, বাড়ির নম্বর ও রাস্তার নাম উল্লেখ রয়েছে। এর প্রায় দু’সপ্তাহ আগে একই সম্প্রদায়ের কর্মীদের সতর্ক করে একটি হুমকি চিঠি প্রকাশ্যে এসেছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি চিঠিটির সত্যতা যাচাই করছে। পাশাপাশি, এর পিছনে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। জম্মুর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী পণ্ডিতদের এই স্পর্শকাতর ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে দুষ্কৃতীদের হাতে পৌঁছল, তা নিয়ে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির অন্দরে বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

    চিঠিতে নাম ও ঠিকানা

    চিঠিতে জম্মুর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Fresh Threat to Kashmiri Pandits) নাম উল্লেখ করে তাঁদের ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাসবাদী’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। দিল্লিতে তাঁদের ‘প্রভুদের’ হয়ে কাজ করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। কাশ্মীরে ‘আরএসএসের এজেন্ডা’ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ‘আহমেদ বিলাল’-এর নামে স্বাক্ষর করা চিঠিতে বলা হয়েছে, “আপনারা যেখানেই থাকুন, যেখানেই যান, আমরা আপনাদের প্রতিটি পদক্ষেপের উপর নজর রাখছি।” চিঠিটি ‘ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল’ বা ইউএলসি-এর নামে প্রকাশিত হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সন্দেহ, এটি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার (LeT) একটি ফ্রন্ট সংগঠন হতে পারে। চিঠিতে উপত্যকায় থেকে যাওয়া কাশ্মীরি পণ্ডিত এবং উপত্যকা ছেড়ে জম্মু-সহ অন্যত্র চলে যাওয়া পণ্ডিতদের মধ্যে বিভাজন তৈরিরও চেষ্টা করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, যারা উপত্যকায় থেকে গিয়েছেন তাঁরা নিরাপদ, কিন্তু সরকারি চাকরির জন্য উপত্যকায় ফিরে আসা অভিবাসী কাশ্মীরি পণ্ডিতরা হামলার নিশানায় রয়েছেন।

    কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ

    এর আগে চলতি মাসেই প্রথম হুমকি চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর জম্মু-কাশ্মীর সরকার বিভিন্ন দফতরকে কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল। তাঁদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়। আগের চিঠিতে রাজস্ব দফতরের কয়েকজন কর্মীর নাম ও ফোন নম্বর উল্লেখ ছিল। পুলিশ সূত্রের দাবি, সন্ত্রাসবাদীদের সম্পত্তির বিরুদ্ধে সরকারি পদক্ষেপের সঙ্গে ওই কর্মীদের কাজকে যুক্ত করে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এর প্রায় এক সপ্তাহ আগে, ৩১ জুলাই, কুলগামে একটি ইটভাটায় দুই পরিযায়ী শ্রমিককে জঙ্গিরা হত্যা করে। জুলাই মাসে হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একটি পোস্টার প্রকাশ করার পর ইউএলসি সংগঠনটি নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরে আসে। এদিকে, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকায় ফেরানো ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারের উদ্যোগের মধ্যেই এই নতুন হুমকি সামনে এল। প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের আওতায় সরকারি চাকরি পেয়ে বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত ইতিমধ্যেই উপত্যকায় ফিরেছেন।

LinkedIn
Share