Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • 2000 Rupee Notes: ব্যাঙ্ক নৈব নৈব চ! ২০০০ টাকার নোট বদলাতে আমে ভরসা আম-আদমির?

    2000 Rupee Notes: ব্যাঙ্ক নৈব নৈব চ! ২০০০ টাকার নোট বদলাতে আমে ভরসা আম-আদমির?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ঘোষণা করে দিয়েছে ২৩ মে থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২০০০ টাকার নোট (2000 Rupee Notes) বদল করতে হবে। কিন্তু সাধারণ জনগণকে ব্যাঙ্কে না গিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেই সেই টাকা খরচ করতে দেখা যাচ্ছে। গ্রীষ্মের সময়ে মরসুমি ফল হিসেবে আমের চাহিদা তুঙ্গে থাকে, ব্যাঙ্কে নোট বদল না করে সেই টাকা আম কিনতে খরচ করতে দেখা যাচ্ছে জনগণকে। কেউ কেউ বলছেন, ‘‘ আমেই ভরসা আম আদমির। ’’ 

    মুম্বইয়ের জনৈক আম বিক্রেতা কী বলছেন?

    মুম্বইয়ের জনৈক আম বিক্রেতা মহম্মদ আজহার বলছেন, ‘‘প্রচুর সংখ্যক মানুষ দু হাজার টাকার নোট দিচ্ছেন আম কিনতে। প্রতিদিন আমি আট থেকে দশটি দু হাজার টাকার নোট পাচ্ছি। এগুলোকে আমি নিচ্ছি। কারণ আমার এছাড়া আর কোনও উপায় নেই। এটা আমার ব্যবসা এবং গ্রাহকদেরকে সন্তুষ্ট রাখাই আমার কর্তব্য।’’ যদিও বিশেষজ্ঞ মহলের মতে বর্তমান প্রজন্ম ক্যাশলেস লেনদেনের দিকেই বেশি ঝুঁকছে। অনলাইন পেমেন্টই তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই অর্থে সাধারণ মানুষের কাছে যে ২০০০ টাকার নোট (2000 Rupee Notes) অনেক মজুদ আছে, এমন নয়।

    আরও পড়ুন: আজ থেকে শুরু ২০০০ টাকার নোট বদলের প্রক্রিয়া! জেনে নিন নানা নিয়ম

    একই কথা জানিয়েছে ফুড ডেলিভারি সংস্থা জোম্যাটো

    তবে শুধুমাত্র আমের ক্ষেত্রেই নয়, দেখা যাচ্ছে খাবার অর্ডারের ক্ষেত্রেও সাধারণ জনগণ ২০০০ টাকার নোট বেশি ব্যবহার করছেন। জনপ্রিয় ফুড ডেলিভারি সংস্থা জোম্যাটো জানিয়েছে যে ক্যাশ অন ডেলিভারির ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ৭২ শতাংশ গ্রাহকই তাদেরকে ২০০০ টাকার নোট (2000 Rupee Notes) দিচ্ছেন। তবে সব সংস্থাই যে ২০০০ টাকার নিয়ে নিচ্ছে এমন নয়। যেমন মুম্বইয়ের এক রেস্টুরেন্ট মালিক বলেন, ‘‘গ্রাহকদের কাছে ২০০০ টাকার নোট নিলে, আবার তা বদলাতে আমাকে ব্যাঙ্কে ছুটতে হবে। তাই এই নোট আমি নিচ্ছি না।’’ একই চিত্র কমবেশি সব শহরেই ধরা পড়ছে।

    ২০১৬ সালে নোট বন্দির সময় বাজারে এসেছিল ২০০০ টাকার নোট

    প্রসঙ্গত ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর নরেন্দ্র মোদি সরকার পুরনো ৫০০ এবং ১০০০ নোট বাতিল বলে ঘোষণা করে। এবং সেই মতো বাজারে নোটের চাহিদা মেটাতে আনা হয় দু হাজার টাকার নোট।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Madhya Pradesh: নিখরচায় বিমানে করে প্রবীণদের তীর্থযাত্রায় পাঠাল মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকার

    Madhya Pradesh: নিখরচায় বিমানে করে প্রবীণদের তীর্থযাত্রায় পাঠাল মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিমানে করে প্রবীণদের নিয়ে তীর্থযাত্রার আয়োজন করল মধ্যপ্রদেশ সরকার। দেশের মধ্যে মধ্যপ্রদেশই (Madhya Pradesh) প্রথম রাজ্য যারা এভাবে প্রবীণদের ইচ্ছেপূরণ করেছে। রবিবার রাজধানী ভোপাল থেকে ৩২ জন তীর্থযাত্রীকে নিয়ে উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে উড়ে যায় বিমানটি। মুখ্যমন্ত্রীর তীর্থ দর্শন যোজনা প্রকল্পে তাঁদের প্রয়াগরাজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    মধ্যপ্রদেশে (Madhya Pradesh) প্রবীণদের নিয়ে তীর্থযাত্রা

    রবিবার সকালে ভোপালের রাজা ভোজ বিমানবন্দর থেকে ৩২ জন প্রবীণ তীর্থযাত্রীকে নিয়ে উড়ে যায় বিমানটি। যাত্রার সূচনা করেন মধ্য প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান। এদিন যে ৩২ জনের দলটি তীর্থযাত্রায় গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ২৪ জন পুরুষ, ৮ জন মহিলা। যে তীর্থ দর্শন যোজনার সূচনা হল এদিন, তা চলবে চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত। এই যোজনার সুবিধা ভোগ করতে পারবেন কেবল প্রবীণ তীর্যযাত্রীরা। রাজ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে একাধিক দলে ভাগ করে তীর্থ দর্শনে নিয়ে যাওয়া হবে তাঁদের।

    খুশি প্রবীণরা

    সূচনা (Madhya Pradesh) পর্বের তীর্থযাত্রায় সুযোগ পেয়েছেন বছর বাহাত্তরের রাম সিং কুশওয়া। তিনি বলেন, আকাশ পথে ভ্রমণের স্বপ্ন সবারই থাকে। জীবনে অন্তত একবার বিমানে চড়ার অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে চায় সবাই। আমদের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। জীবনে প্রথমবারের জন্য রাজ্যের বাইরে পা রেখেছেন রামদাস। তাঁর ভাগ্যেও প্রয়াগরাজে তীর্থযাত্রার শিকে ছিঁড়েছে। দৃশ্যতই খুশি তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ চৌহান বলেন, আজ (রবিবার) একটা প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরে ভাল লাগছে। একটা স্বপ্ন সত্যি হল। আমার বাবার মতো বয়স্ক মানুষদের বিমানে করে তীর্থযাত্রায় পাঠাতে পেরে আমার ভাল লাগছে।

    প্রসঙ্গত, বিজেপি শাসিত এই রাজ্যে ২০১২ সালেই তীর্থ দর্শন যোজনা চালু করে পদ্ম-শাসক। ২০১২ সালে চালু হয় ওই যোজনা। নিখরচায় স্পেশাল ট্রেনে করে তীর্থযাত্রায় যেতে পারেন পুণ্যার্থীরা। এই প্রথম তাঁদের উড়ানে ভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়া হল। সরকারি সূত্রে খরব, এ পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশের ৭.৮২ লক্ষ প্রবীণ নাগরিক এই যোজনায় সুযোগ পেয়েছেন।

    আরও পড়ুুন: মোদির অটোগ্রাফ চেয়ে বসলেন বাইডেন! কেন জানেন?

    জানা গিয়েছে, মে মাসের (Madhya Pradesh) ২৩ তারিখে আগর মালওয়া থেকে প্রবীণ তীর্থযাত্রী নিয়ে বিমান যাবে সিরডি। ২৫ মে ভোপাল থেকে বিমান যাবে বৃন্দাবন, ২৬ মে দেওয়াস থেকে যাবে সিরডি, জুনের ৩ তারিখে খান্ডওয়া থেকে বিমান যাবে গঙ্গাসাগর, ৪ জুন হর্দা থেকে বিমান যাবে প্রয়াগরাজ। ৬ জুন মান্ডসাউর থেকে বিমান যাবে সিরডি। ৮ জুন নর্মদাপূরম থেকে বিমান যাবে মথুরা-বৃন্দাবন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • 2000 Notes: কীভাবে বদল করবেন দু’হাজার টাকার নোট? বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানাল স্টেট ব্যাঙ্ক

    2000 Notes: কীভাবে বদল করবেন দু’হাজার টাকার নোট? বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানাল স্টেট ব্যাঙ্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০০০ টাকার নোট (2000 Notes) বাজার থেকে তুলে নেওয়া হবে, এমন সিদ্ধান্তের কথা গত শুক্রবারই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে। কিন্তু রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই সিদ্ধান্তের পরে নানা রকমের গুজব ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে বলা হতে থাকে নোট বদল করতে লাগবে পরিচয়পত্র, প্যান কার্ড, আধার কার্ড। পূরণ করতে হবে ফর্মও ইত্যাদি ইত্যাদি। ব্যাপারটা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যেন মনে হতে থাকে যে ২০০০ হাজার টাকার নোট (2000 Notes) রিজার্ভ ব্যাঙ্ক তুলে নিচ্ছে না বরং বাতিল বলে ঘোষণা করেছে। রবিবার এই আবহে স্টেট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল।

    কী বলা হয়েছে স্টেট ব্যাঙ্কের  বিজ্ঞপ্তিতে?

    ওই ব্যাঙ্ক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে কীভাবে ২০০০ টাকার নোট জমা দেওয়া যাবে কিংবা বদল করা যাবে। রবিবার স্টেট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ২০০০ টাকার নোট (2000 Notes) জমা দিতে হলে বা বদলাতে গেলে কাউকে কোনও পরিচয়পত্র দেখাতে হবে না। নির্দিষ্টভাবে কোনও ফর্মও পূরণ করতে হবে না। একসঙ্গে ব্যাঙ্কে ১০ টি ২০০০ টাকার নোট অথবা ২০ হাজার টাকার নোট বদলানো যাবে অথবা জমা করা যাবে বলে জানিয়েছে স্টেট ব্যাঙ্ক।

    ব্যাঙ্কের গ্রাহক নন এমন ব্যক্তিরাও ২০০০ টাকার নোট বদল করতে পারবেন

    স্টেট ব্যাঙ্কের ওই বিজ্ঞপ্তিতে এও বলা হয়েছে ব্যাঙ্কের গ্রাহক নন, এমন ব্যক্তিরাও নোট বদলানোর সুযোগ পাবেন। এবং এক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোনও অর্থ দিতে হবে না বলেও জানানো হয়েছে। ২০০০ টাকার নোট থাকলে তা ২৩ মে থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাঙ্কে জমা করতে হবে বলে জানিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়েছে, তাদের ১৯ টি আঞ্চলিক অফিসে এবং ব্যাঙ্কের বিভিন্ন শাখায় ২০০০ টাকার নোট বদলে দেওয়া হবে। কেউ চাইলে ২০০০ টাকার নোটগুলি (2000 Notes) ব্যাঙ্কে জমাও রাখতে পারবেন। প্রয়োজনে নোট বদল করার সময়সীমা আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Dress Code: জিনস, টি-শার্ট, লেগিংস পরে আসা যাবে না স্কুলে, নির্দেশিকা জারি অসম সরকারের

    Dress Code: জিনস, টি-শার্ট, লেগিংস পরে আসা যাবে না স্কুলে, নির্দেশিকা জারি অসম সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এতদিন পোশাক বিধি (Dress Code) চালু ছিল কেবল স্কুল পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে। এবার তাদের মতো পোশাক বিধি চালু হল স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও। শনিবার এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করেছে অসমের (Assam) হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরকার। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, স্কুলে আর জিনস, লেঙ্গিস এবং টি-শার্ট পরে আসা যাবে না। রাজ্যের সমস্ত সরকার পোষিত স্কুলগুলিতে মানতে হবে এই নিয়ম। ইতিমধ্যেই রাজ্যের স্কুলগুলিতে এ সংক্রান্ত নোটিশও পাঠিয়ে দিয়েছে সে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর।

    সরকারি পোশাক বিধি (Dress Code) 

    শিক্ষকদের এই পোশাক বিধি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে নির্দেশিকায়। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, শিক্ষকদের পোশাক হবে মার্জিত, পরিষ্কার এবং রুচিশীল রংয়ের। চটকদার কোনও পোশাক পরা চলবে না। ক্যাজুয়াল এবং পার্টিতে যাওয়ার পোশাক পরেও স্কুলে আসা চলবে না। পোশাক পরতে হবে শালীনতা বজায় রেখে। শিক্ষকরা পরতে পারেন সাধারণ শার্ট, প্যান্ট এবং শিক্ষিকারা পরতে পারবেন সালোয়ার স্যুট, শাড়ি কিংবা মেখলা চাদর।

    বজায় রাখতে হবে শালীনতা

    নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যেহেতু একজন শিক্ষক সব ধরনের শালীনতা বজায় রাখবেন বলে আশা করা হয়, সেহেতু তাঁদের পোশাক বিধি (Dress Code) মেনে চলতে হবে। এই পোশাক যেন তাঁর রুচি, মার্জিত বোধ, ব্যক্তিত্ব এবং তিনি যে কর্মক্ষেত্রে সিরিয়াস, তা প্রমাণ করে। এও বলা হয়েছে, লক্ষ্য করা যাচ্ছে স্কুলে বেশ কিছু শিক্ষক তাঁদের নিজেদের ইচ্ছে মতো পোশাক পরে স্কুলে আসছেন। ওই সব পোশাক মানুষের চোখে লাগছে। শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হয় তাঁদের চালচলন, পোশাক সব সময় শালীন হবে। তাই তাঁদের পোশাক নিয়ে নিয়ম তৈরি করেছে সরকার।

    সরকারের পোশাক বিধি (Dress Code) অমান্য করলে যে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তাও মনে করিয়ে দিয়েছে স্কুল শিক্ষা দফতর। শিক্ষামন্ত্রী রানোজ পেগু বলেন, রাজ্য সরকার স্কুল চালানোর জন্য বেশ কিছু নিয়মকানুন বলবত করেছে। চালু করা হচ্ছে রুল বুক। তার মধ্যে থাকছে ড্রেস কোডও। সেখানে শিক্ষকদের শালীন পোশাক পরে আসতে বলা হয়েছে। ক্যাজুয়াল কোনও পোশাক পরে আসা যাবে না।

    আরও পড়ুুন: ‘বিশ্বের প্রান্তিক মানুষের মুখে তুলে দিতে হবে খাবার’, জি-৭ সম্মেলনে বললেন মোদি

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • SBI: এসবিআই গ্রাহকদের কাছে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার ভুয়ো মেসেজ! বাঁচার উপায় কী? 

    SBI: এসবিআই গ্রাহকদের কাছে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার ভুয়ো মেসেজ! বাঁচার উপায় কী? 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসএমএসে প্রতারণার শিকার হয়েছেন, এমন মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। ভুয়ো ফোন কল বা মেসেজ থেকে সাইবার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকতেও বলেন বারংবার। এবার টাকা হাতানোর নতুন চক্র ফেঁদেছে প্রতারকরা। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) নাম করে ফেক মেসেজ আসছে গ্রাহকদের ফোনে। সেখানে দেওয়া থাকছে লিঙ্ক। যা ক্লিক করলেই তৈরি প্রতারণার ফাঁদ। টাকা উড়ে যাচ্ছে গ্রাহকদের আকাউন্ট থেকে। ভুয়ো ফোন কল রুখতে ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাই। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া তার গ্রাহকদের সতর্ক করেছে এবং এই রকমের কোনও মেসেজ এলে কী কী করতে হবে, তারও নির্দেশিকা দিয়েছে।

    ভুয়ো মেসেজ মোবাইলে এলে কী করবেন?

    জানানো হয়েছে, এরকম কোনও বার্তা পেলেই আপনি মেইল করবেন report.phishing@sbi.co.in-এ। সরকারের তরফ থেকে ইতিমধ্যে একটি হেল্পলাইন দেওয়া হয়েছে ১৯৩০। এতেও যোগাযোগ করতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে,  ভুয়ো ফোন বা ই মেইল থেকে দূরে থাকতে। কিন্তু মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে এই প্রতারণার ব্যবসা এখনও রমরমিয়ে চলছে।

    ব্যাঙ্ক কী বলছে?

    এসবিআই এ বিষয়ে জানাচ্ছে, গ্রাহকদের কখনই তাদের ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন অ্যাকাউন্ট নাম্বার, পাসওয়ার্ড মেসেজের মাধ্যমে দেওয়া উচিত নয়। এ ধরনের বার্তা পেলে তাদের যাচাই করতেও বলছে ব্যাঙ্ক। ব্যাঙ্ক আরও বলছে যে ব্যক্তিগত তথ্য তারা কখনও গ্রাহকদের কাছ থেকে চায় না। শুধুমাত্র ভুয়ো মেসেজ নয়, অনেক সময় কেওয়াইসি আপডেটের নামেও প্রতারকরা ফোন করে। এক্ষেত্রে কেওয়াইসি আপডেট না হলে অ্যাকাউন্ট ব্লক করারও ভয় দেখানো হয়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Amit Shah: ‘‘দেশের জন্য নিরাপত্তার সুদর্শন চক্র তৈরি করেছেন প্রধানমন্ত্রী’’, মত অমিত শাহের

    Amit Shah: ‘‘দেশের জন্য নিরাপত্তার সুদর্শন চক্র তৈরি করেছেন প্রধানমন্ত্রী’’, মত অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের জন্য নিরাপত্তার সুদর্শন চক্র তৈরি করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এমনই মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। শনিবার গুজরাটের দ্বারকায় ‘ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ কোস্টাল পলিসিং’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    কী বললেন অমিত শাহ (Amit Shah)?

    এদিন তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী মোদি উপকূল রক্ষী বাহিনী, ভারতীয় নৌসেনার সাহায্যে ভারতের সুদর্শন চক্রের বলয় তৈরি করেছেন।’’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘‘ভারতীয় নৌসেনা এবং উপকূল রক্ষী বাহিনী মধ্য সমুদ্রে নিরাপত্তার ব্যবস্থা দেখে। অভ্যন্তরে সুরক্ষার ব্যবস্থা দেখে বিএসএফ। এই নিরাপত্তার সুদর্শন বলয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল মৎস্যজীবীরাও। যাঁরা প্রত্যন্ত গ্রামগুলি থেকে নিরাপত্তার কাজে তথ্য দেওয়া-নেওয়া করে।’’

    কংগ্রেসকে নিশানা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    কংগ্রেস সরকারকেও এদিন একহাত নিতে ছাড়েননি অমিত শাহ (Amit Shah)। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের সমুদ্র উপকূলের নিরাপত্তার ঘাটতির কারণেই অনেক ভয়ঙ্কর ফল ভুগতে হয়েছে। আমরা কখনও ভুলতে পারি না ২০০৮ সালের মুম্বই হামলা। যেখানে ১৬৬ জন নিরীহ মানুষের জীবনকে কেড়ে নিয়েছিল সন্ত্রাসবাদীরা।’’

    আমেদাবাদে আজ মোদি সম্মেলনে যোগ দেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    পিছিয়ে পড়া ওবিসি মোদি সমাজের সংগঠন, ‘ভারতীয় মোদি সমাজ’-এর জাতীয় সম্মেলনে আমেদাবাদে আজ বক্তব্য রাখবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রসঙ্গত, রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাপক আন্দোলন শুরু করে মোদি সমাজ। রাহুলের মন্তব্য ছিল, ‘‘সব চোরেদের পদবী মোদি কেন হয়?’’ ইতিমধ্যে এই অভিযোগে তাঁর সংসদ পদও খারিজ হয়েছে। রাহুল গান্ধীর করা এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম মামলা দায়ের করেছিলেন পূর্ণেশ মোদি, যিনি ছিলেন গুজরাটের প্রাক্তন মন্ত্রী। ‘গুজরাট মোধ-মোদি সমাজ’-এর সভাপতিও বটে তিনি। আমেদাবাদে রবিবারের সম্মেলনের অন্যতম উদ্যোক্তা হিসেবে থাকছেন পূর্ণেশ। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর দাদা সোমভাই মোদিরও রবিবারের সম্মেলনে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এই সম্মেলনের বিষয়ে উদ্যোক্তারা বলছেন, ‘‘আমরা আশা করছি মোদি সমাজের সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি মানুষ এই সম্মেলন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন। যেখানে সাংসদ এবং বিধায়করাও থাকবেন। আমাদের সমাজের প্রতিনিধিরা উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা, রাজস্থান, দিল্লি, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটক এবং অন্যান্য রাজ্য থেকে আসবেন।’’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • SECL: ভারত সরকারের উদ্যোগে ছত্তিসগড়ের কয়লাখনি এখন এশিয়ার সর্ববৃহৎ!

    SECL: ভারত সরকারের উদ্যোগে ছত্তিসগড়ের কয়লাখনি এখন এশিয়ার সর্ববৃহৎ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গোয়েভারা মেগা প্রকল্পের আওতায় ছত্তিসগড়ের সাউথ ইস্টার্ন কোল্ডফিল্ড লিমিটেড (SECL) বছরে প্রায় ৫০ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলন করে এশিয়ার সর্ববৃহৎ কয়লাখনি হিসাবে মাইল ফলক ছুঁয়ে ফেলল। সরকারি এই প্রকল্পে আগামী বছরে ৭০ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একে ভারতের কয়লা মন্ত্রকের বিরাট সাফল্য বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিলাসপুরে কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রকের সেক্রেটারি, ছত্তিসগড় রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি এবং ভারতীয় রেলের মধ্যে বিশেষ সমন্বয় বৈঠক হয় শনিবার। সেখানে এই প্রকল্পের কাজ আগামী দিনে সুষ্ঠু ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। 

    কয়লা উত্তোলনে বেঁধে দেওয়া হল সময়সীমা 

    দক্ষিণ পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যনেজার অলোক কুমার এবং সাউথ ইস্টার্ন কোল্ডফিল্ডের সিডিএম প্রেম সাগর মিশ্রের সঙ্গে কয়লা মন্ত্রকের সেক্রেটারির ওই বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় সাউথ ইস্টার্ন কোল্ডফিল্ডের (SECL) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে প্রাকৃতিক সম্পদকে কীভাবে খননকার্যের মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য করে তোলা যায়, সেই বিষয়েই বিস্তৃত আলোচনা করা হয় বৈঠকে। কয়লা উৎপাদনে পরিবেশ, বন ও ভূমি দফতরের বিশেষ ছাড়পত্রের বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি ছত্তিসগড়ে কয়লাখনির মেগা প্রকল্প সাউথ ইস্টার্ন কোল্ডফিল্ড অঞ্চলের মধ্যে থাকা গেভেরা, দিপকা এবং কুশমুণ্ডার মানুষের পুনর্বাসন ও বিশেষ আর্থিক সাহায্যের বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে বলে জানা যায়। কোল সেক্রেটারি কয়লাখনির কাজকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে রাজ্য সরকার এবং প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সকল অংশগ্রহণকারীকে সময়সীমা নির্ধারণ করে দেন।

    জোর ভারতীয় রেলের সঙ্গে সমন্বয়ে

    কোল সেক্রেটারি দক্ষিণ পূর্ব রেল, পূর্ব রেল এবং পূর্ব-পশ্চিম রেলের সঙ্গে সাউথ ইস্টার্ন কোল্ডফিল্ডের ( SECL) বিশেষ সহযোগিতা ও সমন্বয়ের উপর জোর দেন। রেল লাইনের সুবিধা অনুসারে কোরবা, মাণ্ড-রায়গড় কয়লা অঞ্চল থেকে খনি সরিয়ে নেওয়ার কথাবার্তাও হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই আলোচনা বৃহত্তর কয়লাখনির খননকার্য এবং উত্তোলনের ক্ষেত্রে দারুণ আশা ব্যঞ্জক। 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Karnataka Election 2023: কর্নাটকে হেরেও অক্ষত বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক, মমতা বলে দিলেন ‘শেষের শুরু’?

    Karnataka Election 2023: কর্নাটকে হেরেও অক্ষত বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক, মমতা বলে দিলেন ‘শেষের শুরু’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনের (Karnataka Election 2023) ফলাফলে কংগ্রেস যত না উল্লসিত, তার থেকেও বেশি লম্ফ-ঝম্ফ করতে দেখা যাচ্ছে বিরোধীদের। এ রাজ্যে অন্তত ছবিটা তেমনই। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো এই একটি রাজ্যের ফলাফলের ভিত্তিতে বিজেপির মতো সর্বভারতীয় দলের ‘শেষের শুরু’ দেখতে শুরু করে দিয়েছেন। যা তিনি তৃণমূল সর্বভারতীয় দলের তকমা হারানোতেও দেখতে পাননি, দেখতে পাননি ত্রিপুরায় দলের শোচনীয় ফলাফলেও! তিনি একইসঙ্গে ভবিষ্যদ্বাণীও করে দিয়েছেন, সামনে ছত্তিসগড়, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার নির্বাচনেও বিজেপির নাকি এমনই হাল হবে। কেমন হাল? আসুন একবার চোখ বোলানো যাক, কর্নাটকে বিজেপির ফলাফল এবার ঠিক কেমন হয়েছে। মমতার আশামতো কতখানি তারা ‘নিশ্চিহ্ন’ হয়ে গেছে!

    কর্নাটকে হেরেও অক্ষত বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কর্নাটকে ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনে (Karnataka Election 2023) বিবাদমান মূল তিনটি দলের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা হল: কংগ্রেস ১৩৫, বিজেপি ৬৬ এবং জনতা দল সেকুলার ১৯। ভোটপ্রাপ্তির হার শতাংশের হিসাবে হল এইরকম: কংগ্রেস ৪২.৮৮ শতাংশ, বিজেপি ৩৬ শতাংশ এবং জনতা দল সেকুলার ১৩.২৯ শতাংশ। এবার দেখা যাক, এর আগের বিধানসভা নির্বাচনে এই তিন মূল প্রতিপক্ষ কতগুলি করে আসন পেয়েছিল এবং ভোটপ্রাপ্তির হারই বা কেমন ছিল। ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আসন সংখ্যা ছিল এইরকম: বিজেপি ১০৪, কংগ্রেস ৮০ এবং জনতা দল সেকুলার ৩৭। ভোটপ্রাপ্তির হার এইরকম: বিজেপি ৩৬ শতাংশ, কংগ্রেস ৩৮ শতাংশ এবং জনতা দল সেকুলার ১৮ শতাংশ। ভোট বিশেষজ্ঞরা দুটি বিধানসভা নির্বাচনের ওই অঙ্কের হিসাবের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে বলছেন, বিজেপির আসন সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমেছে, একথা ঠিক। কিন্তু এটাও ঠিক, তাদের ভোটপ্রাপ্তির হার এতটুকু কমেনি। ২০১৮ সালে যা ছিল ৩৬ শতাংশ, ২০২৩ সালে এসেও তা সেই ৩৬ শতাংশই রয়েছে। তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে, কংগ্রেস যে বিপুলভাবে এবং রেকর্ড সৃষ্টি করে জিতল, তা কীভাবে সম্ভব হল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটাও ওই ছোট্ট অঙ্কের হিসাব থেকেই পরিষ্কার। ২০১৮ সালের তুলনায় ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস যে পাঁচ শতাংশ ভোট বেশি পেয়েছে, তার পুরোটাই এসেছে জনতা দল সেকুলারের বদান্যতায়। ওই দলের ভোটপ্রাপ্তির হার ১৮ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ১৩ শতাংশ। পাশাপাশি কংগ্রেসের ভোটপ্রাপ্তির হার ৩৮ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ। 
    লিঙ্গায়েত, ভোক্কালিগার সঙ্গে সংখ্যালঘু এবং দলিত ‘অহিন্দা’ সম্প্রদায়ের লড়াই, হিজাব নিষিদ্ধকরণ এবং সর্বোপরি বজরংবলী ইসু নাকি বিজেপিকে এই রাজ্যে ধরাশায়ী করে দিয়েছে। অনেকে আবার বলছেন, রাহুল গান্ধীর পদযাত্রাই গেরুয়া শিবিরের পায়ের তলার মাটি আলগা করে দিয়েছে। কারণ যাই হোক, কংগ্রেস যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ওই রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরেছে, এ নিয়ে কোনও সংশয়ের অবকাশ নেই। কিন্তু তাই বলে বিজেপি শেষ হয়ে গেল, পরিসংখ্যান কিন্তু সে কথা বলছে না। সংখ্যাতত্ত্বের হিসাবে পরিষ্কার, বিজেপির ভোটব্যাঙ্কে এতটুকুও চিড় ধরেনি। ফলে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচন নিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো যাঁরা বলে বেড়াচ্ছেন বিজেপির শেষের দিন শুরু, তারা কিন্তু তা করছেন বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে নয়, বরং পুরোপুরি অবিবেচকের মতোই, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

    ত্রিপুরায় খাতাই খুলতে পারেনি তৃণমূল!

    এবার দেখে নেওয়া যেতে পারে, যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির এই ফলাফল (Karnataka Election 2023) নিয়ে উল্লসিত, তাঁর দল তৃণমূল ত্রিপুরায় কী ফল করেছে। তৃণমূল চেয়েছিল উত্তর-পূর্ব ভারতে সম্প্রসারণ ঘটাতে। তার জন্য দলের তাবড় নেতারা ত্রিপুরায় গিয়ে পড়ে থেকেছেন, দলের হয়ে লাগাতার প্রচার করেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলে দেখা গেল, সব চেষ্টাই জলে গিয়েছে। সেখানে তৃণমূলের প্রাপ্তি শূন্য। একমাত্র মুখ রক্ষা করেছে মেঘালয়। অর্থাৎ সাম্প্রতিক ভোটের ফলে পরিষ্কার, তৃণমূল এখনও কুয়োর ব্যাঙ হয়েই রয়ে গিয়েছে, সাগরে ঘুরে বেড়ানোর স্বাদ তার মেটেনি। কর্নাটকের কথাই ধরা যাক। সেখানে কি তৃণমূল কংগ্রেসের একজন গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যও আছেন? প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে তাঁদের এত উল্লাস কীজন্য? আর সিপিএম? কর্নাটকে এই দলটি তো নোটার চেয়েও কম ভোট পেয়েছে। তারপরেও কংগ্রেসের জয়ে তারা বাংলায় বিজয় মিছিল বের করে দিয়েছে। এসব দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আড়ালে হাসাহাসিই করছেন।

    বেঙ্গালুরু শহরাঞ্চলে এখনও দাপট বিজেপিরই

    ভোটের (Karnataka Election 2023) ফলাফল পর্যালোচনা করে আরও একটি জিনিস পরিষ্কাের, কর্নাটকে শহরাঞ্চলের মানুষ এখনও বিজেপির প্রতি তাদের আস্থা বজায় রেখেছে। আর সেই কারণেই খোদ বেঙ্গালুরু শহরে বিজেপির ভোট বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। সেখানে জনতা দল সেকুলারের ভোট কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ। যদিও উল্টো ঘটনাই ঘটেছে দক্ষিণ কর্নাটকে। সেখানেও জনতা দল সেকুলারের ভোট কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ। কিন্তু তার পুরোটাই গিয়েছে কংগ্রেসের ঝুলিতে। আরও লক্ষণীয় বিষয় হল, যে উপকূল এলাকায় বিজেপির লড়াই ছিল মূলত হিজাব এবং হালাল ইসুতে, সেখানে তাদের ভোটব্যাঙ্ক কার্যত অক্ষুন্ন রয়েছে এবং ভোটপ্রাপ্তির হার প্রায় ৪৭ শতাংশ।

    বরাবরই পরিবর্তনের পক্ষে কর্নাটক

    দক্ষিণের এই রাজ্যের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে অনেকেই এক আসনে বসাচ্ছেন। ইতিহাস কিন্তু সে কথা বলছে না। এই রাজ্য আগাগোড়া পরিবর্তনপন্থী। মনে রাখতে হবে, দক্ষিণের এই রাজ্য আসলে কংগ্রেসেরই মূল ঘাঁটি। ১৯৮৩ সালে প্রথম জনতা পার্টি সেই একাধিপত্যে আঘাত হেনেছিল এবং কংগ্রেসকে সরিয়ে ক্ষমতার মসনদে বসেছিলেন রামকৃষ্ণ হেগড়ে। ২০০৪ এবং ২০১৮ বাদ দিলে এই রাজ্যে সরকার বদল হয়েছে বারবার। বিজেপির পথ চলা শুরু হয় ১৯৯১ সালে, মাত্র ৪ টি আসন দিয়ে। ১৯৯৪ সালে এটাই এক ধাক্কায় দশগুণ বেড়ে হয় ৪০। এরপর আর বিজেপিকে ফিরে তাকাতে হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভোটের এই ফল দেখে বলছেন, ভারতের বৃহৎ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যে এখনও অক্ষুন্ন রয়েছে, তা এ থেকেই পরিষ্কার। রিগিং, ছাপ্পা, বুথ দখল এসব কিছুই শোনা যায়নি এই রাজ্যের ভোটে।
    ধরা যাক, ভোট-পরবর্তী হিংসার কথাও। ২০২১ সালের ২ মে ফলাফলে যখনই পরিষ্কার হয়ে গেল বাংলায় ফের ক্ষমতায় আসছে তৃণমূল, তখন বিরোধী বিশেষত বিজেপি সমর্থকদের ওপর যে আক্রমণ নেমে এসেছিল, তার ভুরি ভুরি উদাহরণ এখনও আমাদের চোখের সামনে। এখনো বহু মানুষ ঘরছাড়া, নিজের সামান্য দোকানটুকুও খুলতে পারছেন না। কিন্তু দক্ষিণের ওই রাজ্য বিজেপির মতো একটি সর্বভারতীয় এবং বৃহৎ দলের কাছে যে বিপর্যয় (Karnataka Election 2023) ডেকে আনল, তার কোনও বিরূপ প্রভাব সমাজে কিন্তু পড়েনি। রাজ্য চলেছে তার স্বাভাবিক ছন্দে। এই পরাজয়কে মেনে নিয়েই এগিয়ে চলেছে বিজেপি। নেই কোনও আক্রোশ, নেই কোনও হামলাবাজির ঘটনা। 

    কী বলেছিলেন বিজেপির মুখপাত্র?

    বিজেপির মতো একটি সর্বভারতীয় দল এই ফলকে যে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেই দেখছে, তা দলের মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যের কথাতেও পরিষ্কার। কর্নাটকের পরাজয় (Karnataka Election 2023) নিয়ে তিনি বলেছিলেন, “একটা সর্বভারতীয় দলের কাছে এটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ছিল। তাতে হেরেছে। আর লোকসভা নির্বাচন একদিনের ম্যাচ নয়, পাঁচদিনের টেস্ট। তৃণমূল দল তো রাজনীতিকে খেলা মনে করে। ওরা খেলুক। ২০২৪ পর্যন্ত দলটা থাকবে কিনা, সেটাই সন্দেহ।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Coal Mines In India: কয়লাখনিতে ব্রিটিশদের আধিপত্য কীভাবে ভেঙেছিলেন ভারতীয়রা? জানুন সেই ইতিহাস

    Coal Mines In India: কয়লাখনিতে ব্রিটিশদের আধিপত্য কীভাবে ভেঙেছিলেন ভারতীয়রা? জানুন সেই ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কয়লা এমন এক বস্তু, যা না থাকলে হয়তো জনজীবন থমকে যেত। বাড়ির রান্নার জ্বালানি থেকে শুরু করে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, আর আগের বাষ্পচালিত রেলইঞ্জিন-সব কিছুতেই কয়লা অতি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হিসাবেই পরিচিত। গ্লোবাল চেঞ্জ ডেটা ল্যাব (যুক্তরাজ্য)-এর তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহারের নিরিখে কয়লা জীবাশ্ম জ্বালানি হিসাবে পৃথিবীতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। কয়লা একপ্রকার পাললিক শিলা। কয়েক কোটি বছর আগে বিভিন্ন গাছপালা মাটির তলায় চাপা পড়ে সেগুলি আস্তে আস্তে জীবাশ্মতে পরিণত হয়। আর সেই জীবাশ্মগুলি কালো রং ধারণ করে কয়লায় পরিণত হয়। কিন্তু কখনও কি মাথায় এসেছে, এই কয়লার উত্তোলন ভারতে কোথায় এবং কীভাবে শুরু হয়েছিল? কয়লা উত্তোলন ও কয়লাখনির (Coal Mines In India) ইতিহাস কী?

    ভারতবর্ষের বুকে কয়লাখনির ইতিহাস

    ভারতবর্ষে সবথেকে বেশি কয়লা মজুত (Coal Mines In India) আছে দামোদর নদীর তীরে রানিগঞ্জ অঞ্চলে। এখানেই প্রথম কয়লা খনন শুরু হয় ১৭৭৪ সালে জন সুমনার এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সিটনিয়াস গ্রান্ট হিটলির উদ্যোগে। প্রথমে কয়লার চাহিদা কম থাকায় এর উত্তোলন তেমন কিছু বৃদ্ধি পায়নি। কিন্তু পরে বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের উদ্ভব হওয়ায় ১৮৫৩ সালে কয়লা উত্তোলনের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। তখন বার্ষিক গড়ে ১ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলন করা হত। এরপর ১৯২০ সালে উত্তোলনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কয়লার চাহিদা আরও বাড়তে থাকে। ১৯৪৪ সালের মধ্যে প্রায় ৩০ মিলিয়ন মেট্রিক টনে গিয়ে পৌঁছায়।

    রানিগঞ্জ অঞ্চলে প্রথম কয়লা অনুসন্ধানের কাজ শুরু

    গোটা ভারতবর্ষ যখন ব্রিটিশ শাসনের অধীনে, তখন বাংলা, বিহার, ওড়িশা-ভারতের এই প্রধান কয়লা উত্তোলক অঞ্চলগুলিকে (Coal Mines In India) ১৮৯৪ সাল থেকে ভারতের যৌথ পরিচালনাধীনে থাকার আবেদন জানান ভারতীয়রা। কিন্তু ব্রিটিশ এবং অন্যান্য ইউরোপীয়দের দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় তাদের একচেটিয়া প্রভাব ছিল খুবই বেশি। ফলে ভারতীয়দের সেই আবেদন মঞ্জুর হয়নি। এরপর নানা আন্দোলন ও চেষ্টার ফলে সিনুগ্রার শেঠ খোড়া রামজি চাওদা প্রথম ভারতীয় হিসাবে ভারতের ঝরিয়া কয়লাখনি থেকে ব্রিটিশদের একচেটিয়া আধিপত্য ভেঙেছিলেন। ভারতের স্বাধীনতার পর ১৯৫৬ সালে কয়লা উত্তোলন বৃদ্ধি এবং কয়লাখনি সম্বন্ধীয় বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক উন্নয়ন ঘটাতে প্রতিষ্ঠা করা হয় ন্যাশনাল কোল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (NCDC)।

    ১৮১৫-১৮১৬ সালে রানিগঞ্জ অঞ্চলে রুপার্ট জোনস্ প্রথম কয়লা অনুসন্ধানের কাজ শুরু করেন। এই কাজের জন্য তাঁকে সরকারের তরফ থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হয়। জোনস্ রানিগঞ্জে পূর্বের খনন করা হিটলির পরিত্যক্ত কয়লাখনিগুলি (Coal Mines In India) খুঁজে পান। তিনি ১৮২০ সাল পর্যন্ত এখান থেকে দামোদরের জলপথের মাধ্যমে কয়লা কলকাতাতে পৌঁছাতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে তিনি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার তেমন মুনাফা লাভ করতে পারেননি। পরে জোনস্ এর খনিগুলির মালিকানা লাভ করে আলেকজান্ডার অ্যান্ড কোম্পানি। আর এই কোম্পানিকে ১৮৩৫ সালে সত্তর হাজার টাকায় ক্রয় করে ‘কার টেগোর কোম্পানি’, যার অংশীদার ছিলেন ঠাকুর বংশের প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। 

    সবথেকে বেশি সফল হয়েছিল দ্বারকানাথ ঠাকুরের কোম্পানি 

    দামোদর জলপথের মাধ্যমে কলকাতায় এই কয়লা রফতানির কাজে অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় দ্বারকানাথ ঠাকুরের কোম্পানি সবথেকে বেশি সফল হয়েছিল। কিন্তু অপরদিকে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাঁর এই সাফল্যে একদমই সন্তুষ্ট ছিল না। দ্বারকানাথের কোম্পানিকে ভেঙে ফেলার জন্য ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালাতে থাকলেও পরে তা ব্যর্থ হয়। আবার কিছু ব্রিটিশ কোম্পানি যেমন গিলমোর, আর্কসাইন, হামফ্রে অ্যান্ড কোম্পানির মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। তাছাড়াও আরও নানা বিবাদের মুখে পড়ে এখানকার কয়লাখনিগুলি (Coal Mines In India)। সেই সময় সমস্ত বিবাদ মিটিয়ে সব কোম্পানিগুলিকে একত্রিত করে ১৮৪৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘বেঙ্গল কোল কোম্পানি’। এর প্রথম অধিকর্তা হিসাবে নিয়োজিত হন দ্বারকানাথ নিজে। ভারতের কয়লাশিল্পের প্রথম প্রশাসনিক ভবন এটাই। ১৯৭২ সালে কয়লাখনির জাতীয়করণের আগে পর্যন্ত রানিগঞ্জ-ঝরিয়া অঞ্চলের বেশিরভাগ কয়লাখনি এই বেঙ্গল কোল কোম্পানির অধীনে ছিল।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Coal Mines In India: কয়লাখনিতে ব্রিটিশদের আধিপত্য কীভাবে ভেঙেছিলেন ভারতীয়রা? জানুন সেই ইতিহাস

    Coal Mines In India: কয়লাখনিতে ব্রিটিশদের আধিপত্য কীভাবে ভেঙেছিলেন ভারতীয়রা? জানুন সেই ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কয়লা এমন এক বস্তু, যা না থাকলে হয়তো জনজীবন থমকে যেত। বাড়ির রান্নার জ্বালানি থেকে শুরু করে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, আর আগের বাষ্পচালিত রেলইঞ্জিন-সব কিছুতেই কয়লা অতি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হিসাবেই পরিচিত। গ্লোবাল চেঞ্জ ডেটা ল্যাব (যুক্তরাজ্য)-এর তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহারের নিরিখে কয়লা জীবাশ্ম জ্বালানি হিসাবে পৃথিবীতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। কয়লা একপ্রকার পাললিক শিলা। কয়েক কোটি বছর আগে বিভিন্ন গাছপালা মাটির তলায় চাপা পড়ে সেগুলি আস্তে আস্তে জীবাশ্মতে পরিণত হয়। আর সেই জীবাশ্মগুলি কালো রং ধারণ করে কয়লায় পরিণত হয়। কিন্তু কখনও কি মাথায় এসেছে, এই কয়লার উত্তোলন ভারতে কোথায় এবং কীভাবে শুরু হয়েছিল? কয়লা উত্তোলন ও কয়লাখনির (Coal Mines In India) ইতিহাস কী?

    ভারতবর্ষের বুকে কয়লাখনির ইতিহাস

    ভারতবর্ষে সবথেকে বেশি কয়লা মজুত (Coal Mines In India) আছে দামোদর নদীর তীরে রানিগঞ্জ অঞ্চলে। এখানেই প্রথম কয়লা খনন শুরু হয় ১৭৭৪ সালে জন সুমনার এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সিটনিয়াস গ্রান্ট হিটলির উদ্যোগে। প্রথমে কয়লার চাহিদা কম থাকায় এর উত্তোলন তেমন কিছু বৃদ্ধি পায়নি। কিন্তু পরে বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের উদ্ভব হওয়ায় ১৮৫৩ সালে কয়লা উত্তোলনের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। তখন বার্ষিক গড়ে ১ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলন করা হত। এরপর ১৯২০ সালে উত্তোলনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কয়লার চাহিদা আরও বাড়তে থাকে। ১৯৪৪ সালের মধ্যে প্রায় ৩০ মিলিয়ন মেট্রিক টনে গিয়ে পৌঁছায়।

    রানিগঞ্জ অঞ্চলে প্রথম কয়লা অনুসন্ধানের কাজ শুরু

    গোটা ভারতবর্ষ যখন ব্রিটিশ শাসনের অধীনে, তখন বাংলা, বিহার, ওড়িশা-ভারতের এই প্রধান কয়লা উত্তোলক অঞ্চলগুলিকে (Coal Mines In India) ১৮৯৪ সাল থেকে ভারতের যৌথ পরিচালনাধীনে থাকার আবেদন জানান ভারতীয়রা। কিন্তু ব্রিটিশ এবং অন্যান্য ইউরোপীয়দের দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় তাদের একচেটিয়া প্রভাব ছিল খুবই বেশি। ফলে ভারতীয়দের সেই আবেদন মঞ্জুর হয়নি। এরপর নানা আন্দোলন ও চেষ্টার ফলে সিনুগ্রার শেঠ খোড়া রামজি চাওদা প্রথম ভারতীয় হিসাবে ভারতের ঝরিয়া কয়লাখনি থেকে ব্রিটিশদের একচেটিয়া আধিপত্য ভেঙেছিলেন। ভারতের স্বাধীনতার পর ১৯৫৬ সালে কয়লা উত্তোলন বৃদ্ধি এবং কয়লাখনি সম্বন্ধীয় বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক উন্নয়ন ঘটাতে প্রতিষ্ঠা করা হয় ন্যাশনাল কোল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (NCDC)।

    ১৮১৫-১৮১৬ সালে রানিগঞ্জ অঞ্চলে রুপার্ট জোনস্ প্রথম কয়লা অনুসন্ধানের কাজ শুরু করেন। এই কাজের জন্য তাঁকে সরকারের তরফ থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হয়। জোনস্ রানিগঞ্জে পূর্বের খনন করা হিটলির পরিত্যক্ত কয়লাখনিগুলি (Coal Mines In India) খুঁজে পান। তিনি ১৮২০ সাল পর্যন্ত এখান থেকে দামোদরের জলপথের মাধ্যমে কয়লা কলকাতাতে পৌঁছাতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে তিনি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার তেমন মুনাফা লাভ করতে পারেননি। পরে জোনস্ এর খনিগুলির মালিকানা লাভ করে আলেকজান্ডার অ্যান্ড কোম্পানি। আর এই কোম্পানিকে ১৮৩৫ সালে সত্তর হাজার টাকায় ক্রয় করে ‘কার টেগোর কোম্পানি’, যার অংশীদার ছিলেন ঠাকুর বংশের প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। 

    সবথেকে বেশি সফল হয়েছিল দ্বারকানাথ ঠাকুরের কোম্পানি 

    দামোদর জলপথের মাধ্যমে কলকাতায় এই কয়লা রফতানির কাজে অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় দ্বারকানাথ ঠাকুরের কোম্পানি সবথেকে বেশি সফল হয়েছিল। কিন্তু অপরদিকে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাঁর এই সাফল্যে একদমই সন্তুষ্ট ছিল না। দ্বারকানাথের কোম্পানিকে ভেঙে ফেলার জন্য ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালাতে থাকলেও পরে তা ব্যর্থ হয়। আবার কিছু ব্রিটিশ কোম্পানি যেমন গিলমোর, আর্কসাইন, হামফ্রে অ্যান্ড কোম্পানির মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। তাছাড়াও আরও নানা বিবাদের মুখে পড়ে এখানকার কয়লাখনিগুলি (Coal Mines In India)। সেই সময় সমস্ত বিবাদ মিটিয়ে সব কোম্পানিগুলিকে একত্রিত করে ১৮৪৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘বেঙ্গল কোল কোম্পানি’। এর প্রথম অধিকর্তা হিসাবে নিয়োজিত হন দ্বারকানাথ নিজে। ভারতের কয়লাশিল্পের প্রথম প্রশাসনিক ভবন এটাই। ১৯৭২ সালে কয়লাখনির জাতীয়করণের আগে পর্যন্ত রানিগঞ্জ-ঝরিয়া অঞ্চলের বেশিরভাগ কয়লাখনি এই বেঙ্গল কোল কোম্পানির অধীনে ছিল।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share