Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Nagrakata Incident: নাগরাকাটা নিয়ে হাইকোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি, উত্তরবঙ্গের বন্যা বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে শুভেন্দু

    Nagrakata Incident: নাগরাকাটা নিয়ে হাইকোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি, উত্তরবঙ্গের বন্যা বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বন্যা বিধ্বস্ত নাগরাকাটায় (Nagrakata Incident) বিজেপি সাংসদ ও বিধায়কের উপর হামলার পর শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) পোস্টে ফিরল কোচবিহার স্মৃতি। ছবি দিয়ে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে বিরোধী দলনেতা দাবি করলেন, একই দুষ্কৃতীদের বারবার বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয় বিজেপি বিধায়কদের উপর হামলা করার জন্য। পাশাপাশি এর সঙ্গে জুড়লেন তৃণমূলের সন্ত্রাসবাদ মডেল-এর তত্ত্বও। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি সহ বন্যাবিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় যাবেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেইসঙ্গে সোমবার নাগরাকাটায় আক্রান্ত বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের সঙ্গে হাসপাতালে গিয়ে দেখা করবেন তিনি।

    শুভেন্দুর নিশানায় কারা

    ফেসবুক পোস্টে চার জনের ছবি দিয়ে নাম উল্লেখ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি…এই চারজন হলেন সইফুল হক, আইনুল আনসারি, রমজান আলি এবং পিঙ্কি খাতুন। এরপর ফেসবুক পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী আরও লিখেছেন, ঠিক যেই সব দুর্বৃত্তদের এনেছিল কোচবিহারের খাগড়াবাড়িতে আমার ওপর আক্রমণ করতে, সেই ভাবেই এখানেও একই ভাবে সেই ‘বিশেষ সম্প্রদায়ের’ কিছু উচ্ছৃঙ্খল আইন অমান্যকারীদের পরিকল্পিত ভাবে জড়ো করা হয় এই ঘৃণ্য অপরাধ-অরাজকতা ঘটাতে। এরপর তিনি আরও লেখেন, এরা নিজেরাই আতঙ্কিত যে মমতা সরকার চলে গেলে এদের বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে যাবে, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আতঙ্কিত যে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে এদের খোলা ছাড় দিতে হবে, নয় তো এরাই কোনও দিন ঘটী উল্টে দেবে। এরা একে অপরের পরিপূরক তাই রাজ্যে আইনের শাসন বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে।

    হাইকোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    নাক-মুখ থেকে গলগল করে রক্ত ঝরছে। রুমাল, গামছা কোনও কিছু দিয়েই রক্ত বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। সোমবার এই ভয়াবহ ছবি দেখা গিয়েছে নাগরাকাটায় (Nagrakata Incident)। গুরুতর ভাবে আহত হয়েছেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে হামলার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। আক্রান্ত হয়েছেন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষও। এই ঘটনা মোটেই সাধারণ নয়। ফলত বেলা যত গড়িয়েছে ততই চড়েছে রাজনৈতিক পারদ। কিন্তু গ্রেফতারি থেকেছে শূন্য। ইতিমধ্য়েই এই ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারির জন্য পুলিশকে ‘সময় বেঁধে’ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন উত্তরবঙ্গ যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। ভিডিয়োতে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, কারা এই ঘটনাটা ঘটিয়েছে। পুলিশ আজ বিকালের মধ্য়ে কোনও ব্যবস্থা না নিলে আগামিকাল আমরা কলকাতা হাইকোর্টের ভ্য়াকেশন বেঞ্চে দ্বারস্থ হব।’

    সন্ত্রাসবাদ মডেল

    সোমবার বিকেলে সাড়ে পাঁচটা নাগাদ একটি পোস্টে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) লেখেন, ‘তৃণমূলের সেই এক ‘সন্ত্রাসবাদ মডেল’, দেখুন কাদের ব্যবহার করা হয় আজকের নাগরাকাটায় সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষদের ওপর এই নির্মম প্রাণঘাতী আক্রমণ ঘটাতে।’ এর পরেই তিনি ছবিতে গোল দাগ দিয়ে বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করে তাদের নামও লিখে দেন সেখানে। তাঁর দাবি, এঁরাই কোচবিহারে তাঁর কনভয়ে হামলা চালিয়েছিল। আর কিছুটা সময় পেরলেই পূর্ণ হবে ২৪ ঘণ্টা। কিন্তু বিজেপি সাংসদকে ঘিরে মারের ঘটনায় অভিযুক্তদের কি পাকড়াও করা যাবে? রাজ্য পুলিশের দিকে সেই প্রশ্নই তুলে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপি সূত্রে খবর, গতকালের ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে তাদের মধ্য়ে কাউকেই পাকড়াও করতে পারেনি পুলিশ। বিজেপির দুই জনপ্রতিনিধির উপর হামলার ঘটনায় তৃণমূলের দিকেই দায় ঠেলেছে গেরুয়া শিবির। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও সরব হতে দেখা গিয়েছে এই নিয়ে। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে গোটা ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন তিনি।

    আজ উত্তরবঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

    একনাগাড়ে ভারী বৃষ্টি আর ভূমিধসে কার্যত লণ্ডভণ্ড উত্তরবঙ্গ (North Bengal Flood)। ধীরে ধীরে আবহাওয়ার উন্নতি হতে শুরু করেছে উত্তরবঙ্গে। তবে আজও হালকা বৃষ্টিতে ভিজতে পারে উত্তরের জেলাগুলি। এখনও চারপাশ জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে প্রকৃতির ধ্বংসলীলার নমুনা। বৃষ্টি আর ধসে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে মিরিক, দার্জিলিংয়ের। জলের তোড়ে ভেঙে যায় দার্জিলিঙের মিরিক ব্লকের দুধিয়া সেতু। দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছে কমপক্ষে ২৬ জন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার মিরিকে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও। দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তাও থাকবেন তাঁর সঙ্গে। বিজেপির কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য নেতাদের উত্তরবঙ্গ সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ইতিমধ্যেই সোমবার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছিলেন। এদিকে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনের ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

  • Nagrakata Incident: নাগরাকাটার ঘটনায় এখনও গ্রেফতারি শূন্য! শাহের উত্তরবঙ্গ সফর ঘিরে জল্পনা

    Nagrakata Incident: নাগরাকাটার ঘটনায় এখনও গ্রেফতারি শূন্য! শাহের উত্তরবঙ্গ সফর ঘিরে জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বন্যা বিধ্বস্ত নাগরাকাটা পরিদর্শন (Nagrakata Incident) করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন মালদা উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। এই হামলার নিন্দা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি সমাজমাধ্যমে বাংলায় লিখেছেন, ‘‘যে ভাবে আমাদের দলের সহকর্মীরা—যাঁদের মধ্যে একজন বর্তমান সাংসদ ও বিধায়কও রয়েছেন—পশ্চিমবঙ্গে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সেবা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি তৃণমূল কংগ্রেসের অসংবেদনশীলতা এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার করুণ রূপের স্পষ্ট প্রতিফলন।’’

    নাগরাকাটার ঘটনায় এখনও গ্রেফতারি শূন্য

    ত্রাণ দিতে গিয়ে প্রকাশ্যে হামলার ঘটনায় এখনও গ্রেফতারি শূন্য। নাগরাকাটায় আক্রান্ত হয়েছেন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের ওপর হামলার ঘটনায় ক্যামেরাবন্দি হয়ে আছে হামলাকারীরা। নির্দিষ্ট করে ৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও দায়ের হয়েছে। তাও এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। পুলিশের সামনেই বেনজির এই গুন্ডামির ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এদিকে ফেসবুক পোস্টে চার জনের ছবি দিয়ে নাম উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, তৃণমূলের সেই এক ‘সন্ত্রাসবাদ মডেল’। ঘটনা প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “এই রাজ্যে কোনও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, কোনও আইন-শৃঙ্খলা বলে কোনও কিছু অবশিষ্ট নেই। এই সরকার কার্যত একটা লুটেরাদের সরকার হয়ে গেছে।”

    কী ঘটেছিল নাগরাকাটায়

    ডুয়ার্সের নাগরাকাটা। সাম্প্রতিক বন্যায় এলাকার মানুষ একেবারে সর্বস্বান্ত। ঘরবাড়ি জলমগ্ন, ফসল নষ্ট, বহু মানুষ আশ্রয় নিয়েছে ত্রাণ শিবিরে। ঠিক এমন পরিস্থিতিতেই বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে যান বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আলিপুরদুয়ারের সাংসদ খগেন মূর্মূ। উদ্দেশ্য ছিল বানভাসি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা সরেজমিনে দেখা এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়া। কিন্তু ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়। স্থানীয় সূত্রে খবর, বিধায়ক ও সাংসদের গাড়ি নাগরাকাটার ভেতর প্রবেশ করার সময় হঠাৎ একদল উত্তেজিত লোক তাঁদের ঘিরে ধরে। অভিযোগ উঠেছে, ওইসময় ইট-পাথরের বৃষ্টি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই ভাঙচুর চালানো হয় শংকর ঘোষের গাড়িতে। গাড়ির জানলার কাচ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। অভিযোগ বিক্ষোভকারীরা বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু মাথা নদীর পাথর ছুড়ে ফাটিয়ে দেয়। রক্তাক্ত অবস্থাতেই তাঁকে গাড়িতে তুলে দেয় তার নিরাপত্তারক্ষীরা। শঙ্কর ঘোষকেও হেনস্থা করে বিক্ষোভকারীরা।

    খগেন মুর্মুকে এমসে নিয়ে যাওয়ার চিন্তাভাবনা

    সোমবার সকালের এই হামলায় রক্তাক্ত অবস্থায় খগেন মুর্মুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, বর্তমানে তিনি হাসপাতালের আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন। খগেন মুর্মুর বেশ কয়েকটি সেলাই পড়েছে। সাংসদকে এমসে নিয়ে যাওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। সোমবার সন্ধ্যায় শঙ্কর ঘোষকে ফোন করে তাঁর ও খগেন মুর্মুর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁরা কেমন রয়েছেন তা খোঁজ খবর নেওয়ার পাশাপাশি খগেন মুর্মুকে চিকিৎসার জন্য দিল্লির এমসে নিয়ে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলেও সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন।

    মোদির নিশানায় মমতা সরকার

    জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় হিংসার জন্য সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নিশানা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সঙ্গে বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের বিজেপি নেতাদেরও। তিনি লিখেছেন, ‘‘আমার একান্ত কামনা পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেস এই কঠিন পরিস্থিতিতে হিংসায় লিপ্ত না হয়ে মানুষের সাহায্যে আরও মনোযোগী হোক। আমি বিজেপি কার্যকর্তাদের আহ্বান জানাই, তাঁরা যেন জনগণের পাশে থেকে চলতি উদ্ধার কাজে সহায়তা করে যান।’’

    তীব্র নিন্দা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের

    রাজ্য বিজেপি নেতাদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা করেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সাংবাদিক বৈঠক করে নিন্দা জানিয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর দফতর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, স্পিকার ওম বিড়লা ও রাজ্যপালকে নালিশ জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। জানা গিয়েছে, আজ, মঙ্গলবার নাগরাকাটায় যাবেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বন্যা বিধ্বস্ত এলাকায় যাবেন সুকান্ত মজুমদারও। বিজেপির দুই জনপ্রতিনিধির উপর হামলার ঘটনার নিন্দা করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও।

    শাহের উত্তরবঙ্গ সফর নিয়ে জল্পনা

    বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের ওপর ন্যক্করজনক হামলা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমেই বাড়ছে। এই আবহে উত্তরবঙ্গ সফরে আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সূত্রের খবর, ৮ অক্টোবর উত্তরবঙ্গে আসতে পারেন তিনি। তবে বঙ্গ বিজেপির নেতারা এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাইছেন না। তাঁদের বক্তব্য, “বর্তমানে আমাদের অগ্রাধিকার দুর্গত মানুষদের পাশে থাকা।” তবে রাজনৈতিক মহলের দাবি, খগেন মুর্মুর উপর হামলার পর বিজেপির কৌশল বদলাতে পারে উত্তরবঙ্গে। তাই শাহের সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই বাড়ছে জল্পনা।

  • WB Floods: উত্তরবঙ্গে ত্রাণ বিলি করছেন আরএসএসের স্বয়ংসেবকরা

    WB Floods: উত্তরবঙ্গে ত্রাণ বিলি করছেন আরএসএসের স্বয়ংসেবকরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যে কাজ করার কথা তৃণমূল নেতৃত্বাধীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের, সেই কাজই করছেন আরএসএসের (RSS) স্বয়ংসেবকরা! বানভাসি (WB Floods) উত্তরবঙ্গে স্বয়ংসেবকরা যখন ত্রাণ বিলি করছেন, তখন রেড রোডের কার্নিভালের মঞ্চে গানের সঙ্গে কোমর দোলাচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং।

    ভয়াবহ বন্যার সাক্ষী উত্তরবঙ্গ (WB Floods)

    বর্তমানে সাম্প্রতিক ইতিহাসের ভয়াবহ বন্যার সাক্ষী উত্তরবঙ্গ। দার্জিলিং জেলার খয়েরবাড়ি ব্লকে ভারত–নেপাল সীমান্তের কাছে, স্বয়ংসেবকরা ত্রাণ বিলির নেতৃত্ব দেন। ডেংগুজোট ও আশপাশের গ্রামগুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ান তাঁরা। জলপাইগুড়ি জেলায়ও মালবাজার ও বানারহাট অঞ্চলে স্বয়ংসেবকরা ত্রাণ বিলি শুরু করেছেন, এবং দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে পৌঁছনোর জন্য তাঁরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছেন। বন্যার খবর পেয়েই ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে যান স্বয়ংসেবকরা। তাঁরা খাদ্য, পানীয় জল, কম্বল, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেন। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত স্বয়ংসেবক এই ত্রাণ বিলি কর্মসূচিতে যোগ দেন। এক স্বয়ংসেবক (WB Floods)বলেন, “এখনই মানবতার সেবা করার সময়। আমাদের দেশের যে কোনও প্রান্তে যখনই সংকট দেখা দেয়, তখনই প্রতিটি স্বয়ংসেবকের দায়িত্ব হল নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও সেবা করা (RSS)।”

    আরএসএসের প্রশংসা

    স্থানীয় বাসিন্দারা আরএসএসের এই মানবিক উদ্যোগের গভীর প্রশংসা করেছেন। শিলিগুড়ির সুশ্রুত নগরের পোরাজহার এলাকায় স্বয়ংসেবকরা স্থানীয় বাজার থেকে ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মধ্যে বিতরণ করেন। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের বিধ্বংসী বন্যায় অন্তত ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ২০২৫ সালের ৪–৫ অক্টোবর রাতভর ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে দার্জিলিং, কালিম্পং ও পার্শ্ববর্তী পার্বত্য জেলাগুলিতে ব্যাপক ভূমিধস হয়।

    দার্জিলিংই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে (WB Floods)। শুধু মিরিক থেকেই ১৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতে প্রায় ১০০টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৫টি বড় ধরনের। এজন্য সম্পূর্ণভাবে পরিবহণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে একাধিক জনপদ। বন্যার ফলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জয়গায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সিকিমের সঙ্গে যোগাযোগ (RSS)। জাতীয় সড়ক ১০ সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ। ধসের কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছে অধিকাংশ জেলা সড়ক। জননিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে জিটিএ (গোর্খাল্যান্ড র্‌খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)-র পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করা হয়েছে (WB Floods)।

  • BJP: ‘‘মমতাকে আতঙ্ক গ্রাস করেছে’’, তোপ শুভেন্দুর, ‘‘রাজ্যে দুষ্কৃতীদের শাসন চলছে’’, প্রতিক্রিয়া শমীকের

    BJP: ‘‘মমতাকে আতঙ্ক গ্রাস করেছে’’, তোপ শুভেন্দুর, ‘‘রাজ্যে দুষ্কৃতীদের শাসন চলছে’’, প্রতিক্রিয়া শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরবঙ্গ যখন বানের জলে ভাসছে, তখন কলকাতায় পুজোর কার্নিভালে গানের তালে কোমর দোলাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী! এই উত্তরবঙ্গেরই নাগরাকাটার (Nagrakata) বামনডাঙা এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে আক্রান্ত বিজেপির (BJP) দুই নেতা। এঁদের মধ্যে একজন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, অন্যজন সাংসদ খগেন মুর্মু। স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার বন্যা পরিস্থিতি দেখতে যাওয়ার পরপরই বিজেপির এই দুই নেতাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ইটবৃষ্টি হয়। ইটের ঘায়ে জখম হন শিলিগুড়ির বিধায়ক। তাঁর গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। ইটের ঘায়ে গুরুতর জখম হন মালদা উত্তরের সাংসদ বিজেপির খগেন মুর্মুও। তাঁর মাথা ফেটে গিয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, রক্তে ভেসে যাচ্ছে সাংসদের শরীর। তছনছ করা হয়েছে শংকরের গাড়িও। তাঁকে জুতোও মারা হয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁদের। বিজেপির দাবি, বিধায়ক এবং সাংসদের ওপর এই হামলার ঘটনায় রয়েছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাত।

    ‘দিদি দিদি’ করে চিৎকার (BJP)

    শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর বিধানসভায় বিজেপির মুখ্য সচেতকও। দুপুরের দিকে ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, “শিলিগুড়ির দিকে রওনা দিয়েছি আমরা। খগেনদা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। আমাদের আগের গাড়ির একটাও কাচ নেই। আমার সারা শরীর কাচে ভর্তি। খগেনদার অবস্থা দেখুন। ত্রাণ দেওয়ার জন্য খোঁজখবর নিতে গিয়েছিলাম আমরা। আমি, খগেনদা লোকজনের সঙ্গে কথা বলছিলাম। সেই সময় কিছু লোক ‘দিদি দিদি’ করে আমার কাছে আসেন। কেন আমরা এসেছি, কী করব এখানে – এ সব জিজ্ঞেস করে তারা হঠাৎই গালাগালি দিতে শুরু করে। তার পরেই পিছন থেকে শুরু করে মারধর। রিলিফ দিতে এসে দেখুন আমাদের সাংসদের কী অবস্থা করেছে।”

    ‘‘রাজ্যে দুষ্কৃতীদের শাসন চলছে’’: শমীক

    এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বঙ্গ পদ্ম শিবির। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, আজ নাগরাকাটায় তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত সাংসদ খগেন মুর্মু। এ রাজ্যে আইনের শাসন নয়, দুষ্কৃতীদের শাসন চলছে। গতকাল উত্তরবঙ্গের এতবড় ক্ষয়ক্ষতির পরেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্নিভাল নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। আর আজ তাঁদের দলের দুষ্কৃতীরা এভাবে তাণ্ডব চালাচ্ছে।”

    “মমতাকে আতঙ্ক গ্রাস করেছে’’, প্রতিক্রিয়া শুভেন্দুর

    রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুন্ডারা পরিকল্পিতভাবে বিজেপি সাংসদ ও বিধায়কের ওপর হামলা চালিয়েছে।” এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখন আতঙ্ক গ্রাস করেছে। উত্তরবঙ্গ যখন ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধ্বসের কবলে, যখন বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন ও হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়হীন, সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়েছেন, সেই সময়ে তিনি সেলিব্রিটিদের সঙ্গে কার্নিভালে নাচানাচি করছিলেন। তাঁর এই অমানবিক আচরণে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যে ক্ষুব্ধ ও বীতশ্রদ্ধ এই বাস্তবটা দেরিতে হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশেষে উপলব্ধি করেছেন। নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে ও ক্রমবর্ধমান জনরোষে হতচকিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার অস্ত্রটিকে বেছে নিয়েছেন – তাঁর তথাকথিত বিশেষ সম্প্রদায়ের গুন্ডাদের বিজেপি (Nagrakata) নেতাদের ওপর হামলা করতে উসকানি দিয়েছেন, যাতে তাঁরা ত্রাণ কাজে বা অন্যান্য সাহায্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে না পারেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিজেপিকে এভাবে ভয় দেখিয়ে থামানো যাবে না। আপনার ভয় ও তোষণের রাজনীতি বাংলার জনগণের ঐক্য ও সাহসের কাছে পরাস্ত হবে।”

    “বাংলায় তৃণমূলের জঙ্গলরাজ’’, অমিত মালব্যর প্রতিক্রিয়া

    এক্স হ্যান্ডেলে বিজেপি (BJP) নেতা অমিত মালব্য লিখেছেন, “বাংলায় তৃণমূলের জঙ্গলরাজ! উত্তর মালদার দুবারের সাংসদ ও সম্মানিত আদিবাসী নেতা বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুকে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে সাহায্য করতে যাওয়ার পথে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা হামলা করেছে।” প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির (Nagrakata) নেতা নিশীথ প্রামাণিক বলেন, “বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গের পাশে দাঁড়ানোর সময় এটা। দলমত নির্বিশেষে সকলের এগিয়ে আসা উচিত। এই সময়ও রাজনীতি করতে ছাড়ছে না তৃণমূল। সাংসদকে প্রাণে মেরে ফেলার মতো করে আক্রমণ করা হল, এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

    ‘‘বাংলার মানুষ এই কাপুরুষতা ভুলবে না’’, তোপ সুকান্তর

    বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি গতকাল উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ এবং বহু মানুষের মর্মান্তিক প্রাণহানির খবর পাওয়ার পরেও রেড রোডের কার্নিভাল মঞ্চে উদযাপনে মেতেছিলেন, তিনি স্পষ্ট করে দেখিয়ে দিয়েছেন — বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের কর্মী ও নেতাদের প্রতি তিনি কতটা ভীত হয়ে পড়েছেন, যাঁরা গতকাল থেকেই নিরলসভাবে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মানুষ এই কাপুরুষতা ও নির্লজ্জতা কখনও ভুলবে না (Nagrakata)।”

    ‘‘ক্ষমার অযোগ্য’’: সম্বিত পাত্র

    বিজেপি (BJP) নেতা সম্বিত পাত্র বলেন, আজ বাংলায় যখন মানুষ মরছিল এবং গ্রামগুলি জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল, তখন বন্যাদুর্গতদের সাহায্য করতে নাগরাকাটার পথে যাচ্ছিলেন সম্মানিত আদিবাসী নেতা ও দুবারের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু সেই সময় তাঁর ওপর নির্মম হামলা চালানো হয়। তাঁকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয় এবং শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়। বন্যাদুর্গতদের সাহায্য করতে যাওয়া একজন সাংসদের ওপর এই ধরনের হামলা ক্ষমার অযোগ্য।”

  • North Bengal Disaster: ‘দিদি দিদি বলতে বলতে তেড়ে এল’! ধস বিধ্বস্ত নাগরাকাটায় আক্রান্ত বিজেপির সাংসদ ও বিধায়ক

    North Bengal Disaster: ‘দিদি দিদি বলতে বলতে তেড়ে এল’! ধস বিধ্বস্ত নাগরাকাটায় আক্রান্ত বিজেপির সাংসদ ও বিধায়ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরবঙ্গে (North Bengal Disaster) দুর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের হাতে মার খেতে হল বিজেপির সাংসদ ও বিধায়কদের। ধস বিধ্বস্ত নাগরাকাটা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন শঙ্কর ঘোষ, খগেন মুর্মু সহ বিজেপির সাংসদ ও বিধায়করা। সেখানে গিয়ে মারধরের মুখে পড়েন তাঁরা। এলাকার কিছু মানুষের গুন্ডামির মুখে নাকাল হন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ ও মালদার সাংসদ খগেন মুর্মু। প্রবল আঘাত ও মারে মাথা ফেটে যায় বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর। রক্তে সারা মুখ ভিজে যায় তাঁর। পিছন থেকে বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে ধাক্কা মারা হয়। গাড়ি করে জখম মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মুকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে যেতে ‘ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার’ কথা বর্ণনা করলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ।

    গাড়ির সিটের তলায় শুয়ে প্রাণে বাঁচলেন

    শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ অভিযোগ করলেন, কিছু মানুষ ‘দিদি দিদি’ বলে তাঁদের দিকে তেড়ে যান। প্রথমে গালাগালি এবং তার পর মারধর। বিধায়কের দাবি, গাড়ির সিটের তলায় প্রায় শুয়ে না পড়লে তাঁর মাথা ফেটে যেত। দুপুর ২টো নাগাদ ফেসবুক লাইভে আসেন শঙ্কর। তখন গাড়িতে তিনি বসে। আতঙ্কের ছাপ চোখেমুখে। পাশের আসনে শুয়ে রয়েছেন মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন। তাঁর পাঞ্জাবিতে রক্তের দাগ। শঙ্কর জানান, প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু করিয়ে শিলিগুড়ি নিয়ে যাচ্ছেন সাংসদকে। ফেসবুক লাইভে বিধানসভায় বিজেপির মুখ্য সচেতক বলেন, ‘‘শিলিগুড়ির দিকে রওনা দিয়েছি আমরা। খগেনদা (মুর্মু) রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। আমাদের আগের গাড়ির একটাও কাচ নেই। আমার সারা শরীর কাচে ভর্তি। প্রাথমিক চিকিৎসা করে এসেছি। খগেনদার অবস্থা দেখুন… ত্রাণ দেওয়ার জন্য খোঁজখবর নিতে গিয়েছিলাম আমরা। একটি বোটে জয়ন্তদা, দীপকদা ছিলেন। একটি বোটে সমীরদারা নদীর অপরপ্রান্তের মানুষের সঙ্গে দেখা করতে যান। আমি খগেনদা এই প্রান্তের লোকজনের সঙ্গে কথা বলছিলাম। সেই সময় কিছু লোক ‘দিদি দিদি’ করে আমার কাছে আসেন। কেন আমরা এসেছি, কী করব এখানে— এই সব জিজ্ঞাসা করে প্রথমে গালাগালি তার পর তারা পিছন থেকে মারধর শুরু করেন। এখন শিলিগুড়ির দিকে রওনা দিয়েছি। ‘রিলিফ’ দিতে এসে দেখুন আমাদের সাংসদের কী অবস্থা করেছে। আমার মাথায় বাটাম চালাতে গিয়েছিল। সিটে বসে পড়েছিলাম।’’

    রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন

    নাগরাকাটার বামনডাঙা যাওয়ার মুখে বিক্ষোভের মুখে পড়েন তাঁরা। শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। গাড়িতে পাথর, জুতো, লাঠি ছোড়া হয়। বিক্ষোভের মুখে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন বিজেপি বিধায়ক-সাংসদরা। পিছনে তৃণমূল আছে, অভিযোগ করেন বিজেপি নেতারা। শঙ্কর ঘোষ ও খগেন মুর্মু, কোনওক্রমে পালান পরিস্থিতি থেকে। সঙ্গে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও আটকানো যায়নি আক্রমণ। ছবিতে দেখা যায়, খগেন মুর্মুর জামাকাপড় রক্তে ভেসে গিয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় গাড়ির মধ্যে বসে ছালেন তিনি। তাঁর কপাল, চোখ রক্তে ভরা। ঝর ঝর করে পড়ছে তা পাঞ্জাবি ও উত্তরীয়তে। কোনওভাবেই রক্ত আটকানো যাচ্ছে না। ভিডিওতে দেখা যায়, এক দল লোকজন নিরাপত্তারক্ষীদেরও তোয়াক্কা না করে তাদের ঠেলে ফেলার চেষ্টা করছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন বিজেপির নেতারা। এই ঘটনায় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি নেতা নিশীথ প্রামাণিক বলেন, “দলমত নির্বিশেষে বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গের পাশে দাঁড়ানোর সময় এটা। অথচ এরকম একটা সময়ে রাজনীতি করতে ছাড়ছে না তৃণমূল। সাংসদকে প্রাণে মেরে ফেলার মতো করে আক্রমণ করা হল, এটা মেনে নেওয়া যায় না।” দলের সাংসদ এবং বিধায়কের উপর হামলার নিন্দা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুন্ডারা পরিকল্পিত ভাবে বিজেপি সাংসদ ও বিধায়কের উপর হামলা চালিয়েছে।’’

    এলাকায় মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী

    বৃষ্টি এবং ধসে পাহাড় থেকে তরাই এবং সমতল, উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত। এই অবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলি আলাদা আলাদা ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে পৌঁছোচ্ছে। পূর্ব ঘোষণা মাফিক সোমবার সকালে শিলিগুড়ি যান বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে বাগডোগরা বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা, জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায়, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দময় বর্মণ, ফালাকাটার বিধায়ক দীপক বর্মণ প্রমুখ। ছিলেন খগেন, শঙ্করেরাও। এর পর তাঁরা বিপর্যস্ত বিভিন্ন এলাকার পরিস্থিতি দেখতে বেরিয়ে পড়েন। বামনডাঙায় ঢোকার আগে বিক্ষোভের মুখে পড়েন দু’জনে। লাঠি, জুতো নিয়ে তাঁদের উপর চড়াও হন কয়েকশো মানুষ। নদী থেকে পাথর তুলে তাঁদের গাড়ি লক্ষ করে ছোড়া হয়। তাতেই মাথা ফেটে যায় খগেনের। গলগল করে রক্ত ঝরতে থাকে। ধাক্কা দেওয়া হয় শঙ্করকেও। আপাতত দুই নেতাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে এখনও এলাকায় জড়ো হয়ে রয়েছেন কয়েকশো মানুষ। কেন্দ্রীয় বাহিনীও এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। তাতেও উত্তেজনা কমছে না বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।

  • BJP Attacks Mamata: বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ, কলকাতায় পুজো কার্নিভালে মজে মমতা! তুলোধনা বিজেপির

    BJP Attacks Mamata: বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ, কলকাতায় পুজো কার্নিভালে মজে মমতা! তুলোধনা বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাহাড় কাঁদছে, উত্তরবঙ্গ ভাসছে, তখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (BJP Attacks Mamata) পুজোর আনন্দে গা ভাসাচ্ছেন। পাহাড়-সহ উত্তরবঙ্গে যখন বন্যা (North Bengal Flood), ধসে মৃত্যু মিছিল, তখন কলকাতায় বর্ণাঢ্য কার্নিভাল হচ্ছে! মুখ্যমন্ত্রী ঢাকের তালে নাচছেন! এমন ছবি দেখা গেল রবিবার। এই সরকারের কাছে কোনও মানবিক মুখ আশা করা যায় না, মত বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ শমিক ভট্টাচার্যের। মিরিকে মৃত্য়ুমিছিল। আর সরকারি টাকায় কার্নিভাল (Puja Carnival) হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari))।

    শুভেন্দুর নিশানায় মমতা

    উত্তরবঙ্গে ভয়ঙ্কর দুর্যোগ! এখনও পর্যন্ত অন্ততপক্ষে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই অবস্থায় রবিবার কলকাতায় হয়ে গেল দুর্গাপুজোর কার্নিভাল। উত্তরবঙ্গে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে কলকাতায় কার্নিভাল আয়োজন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (BJP Attacks Mamata) ও তাঁর সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করল বিজেপি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu On Mamata) বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কার্নিভাল আগে, বিপর্যয় পরে। এত প্রাণহানির পরও তিনি কলকাতায় উৎসব করছেন, এটা দুঃখজনক। মুখ্যমন্ত্রীর সবসময়ই অগ্রাধিকার বাছাইয়ের সমস্যা রয়েছে। তিনি দার্জিলিং সফর স্থগিত করেছেন, কারণ এবার দোষ চাপানোর জন্য় ডিভিসির মতো কোনও সংস্থা নেই। এবার কি বলবেন, ভুটান বা নেপালের জলেই বন্যা হয়েছে?’’ সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন, ‘প্রশাসনিক চাপে পুজো কমিটিগুলির দেরি হওয়া বিসর্জন কীভাবে ঐতিহ্যে পরিণত হল?’

    মমতাকে কটাক্ষ শমীকের

    বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya) কথায়, ‘‘এই বিপর্যয়ের আবহে, এই শোকের আবহে আজকে কার্নিভালের প্রয়োজন ছিল না। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যে নাড়ির যোগ রয়েছে, সেই বার্তাটুকু অন্তত উত্তরবঙ্গের মানুষকে দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী এই কার্নিভালকে কিছুটা হলেও স্থগিত রেখে আজই উত্তরবঙ্গে চলে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি গেলেন না। তিনি সোমবার যাচ্ছেন। এই সরকারের কাছে কোনও মানবিক মুখ আশা করা যায় না। আজ আনন্দের দিন নয়।’’ শমীকের দাবি, রাজ্যের দুর্নীতি ও অব্যবস্থার কারণেই পুরসভাগুলো জল জমা রুখতে ব্যর্থ হয়েছে। বেআইনি বোল্ডার তোলা, অবৈধ বালি খাদান ও বনভূমি ধ্বংসের ফলে নদীর গতিপথ বদলে বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। বিজেপি-সহ বিরোধীদের অভিযোগ, উত্তরবঙ্গে চরম দুর্যোগের সময় শহরে পুজো কার্নিভালে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চরম অসংবেদনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।

  • North Bengal Flood: শোকপ্রকাশ মোদি-শাহের, রাজভবনে চালু কন্ট্রোল রুম! উত্তরবঙ্গে দুর্যোগে মৃত্যু বেড়ে ২৮

    North Bengal Flood: শোকপ্রকাশ মোদি-শাহের, রাজভবনে চালু কন্ট্রোল রুম! উত্তরবঙ্গে দুর্যোগে মৃত্যু বেড়ে ২৮

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় ১২ ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের পাহাড় থেকে সমতল। কোথাও ধসে ঘরবাড়ি, সেতু ভেঙে পড়েছে। কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট। পুজো মিটতে না-মিটতেই এই বিপর্যয়ে অন্তত ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মিরিক। ফুঁসছে তিস্তা। ক্ষতিগ্রস্ত কালিম্পং থেকে জলপাইগুড়ি-সহ সমগ্র ডুয়ার্স। পুজোর সময় পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়া বহু পর্যটকই সেখানে আটকে পড়েছেন। তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের দুর্গতদের (North Bengal Flood) জন্য ব়্যাপিড অ্যাকশন সেল খোলা হল। ২৪ ঘণ্টা এখানে যোগাযোগ করা যাবে। এর জন্য রাজভবনের তরফে একটি নম্বর ও ই-মেল আইডি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গে দুর্যোগে মৃতদের পরিজনদের সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi), স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah), রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose)।

    রাজভবনের ব়্যাপিড অ্য়াকশন সেল

    রবিবার রাজভবনের তরফে এক বার্তায় জানানো হয়েছে, উত্তরবঙ্গে বন্যা (North Bengal Flood) দুর্গতদের জন্য ব়্যাপিড অ্য়াকশন সেল খোলা হচ্ছে। এর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকছেন অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি সন্দীপ সিং রাজপুত। উত্তরবঙ্গের দুর্গত মানুষ যেকোনও সমস্যার কথা জানাতে এখানে ফোন করতে পারেন। ফোন নম্বর হল ০৩৩-২২০০১৬৪১। এছাড়া মেইল করেও নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন সবাই। ব়্যাপিড অ্যাকশন সেলের মেইল আইডি হল peaceroomrajbhavan@gmail.com। ওই বার্তায় আরও জানানো হয়েছে, রাজভবনে যে পিসরুম খোলা হয়েছিল, তা আবার সক্রিয় করতে নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যপাল। দুর্গতদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    দার্জিলিং-এর দিকে নজর কেন্দ্রের

    উত্তরবঙ্গে বিপর্যয়ে (North Bengal Flood) মৃত্য়ুমিছিল নিয়ে শোকজ্ঞাপন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, ‘দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তের সঙ্গে গোটা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছি। ইতিমধ্য়েই জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এনডিআরএফ সেখানে কাজ করছে, তৈরি আছে আরও টিম, প্রয়োজনে তারাও উদ্ধারকাজে সামিল হবে। পাশাপাশি বৃষ্টি ও ধসে মৃতদের পরিজনদের প্রতি সমবেদনা ও আহতদের আরোগ্য়কামনা করেছেন অমিত শাহ। অপরদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত দার্জিলিঙের এবং আশপাশের এলাকার পরিস্থিতির প্রশাসন গভীরভাবে নজরদারি চালাচ্ছে। শোকগ্রস্থ পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিঙে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমি শোকাহত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই। আহতদের জন্য আরোগ্য কামনা করেছেন তিনিও।

    সবাইকে ধীরস্থির থাকার আবেদন

    লাগাতার বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় ধস নেমেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। ২৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মৃতদের পরিজনদের সমবেদনা জানিয়েছেন রাজ্যপাল। সবাইকে ধীরস্থির থাকার আবেদন জানিয়ে উদ্ধারকাজে প্রশাসনকে সাহায্য করার বার্তা দিয়েছেন সিভি আনন্দ বোস। আজ, সোমবার উত্তরবঙ্গ যাচ্ছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলের নেতা-কর্মীদের উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে তিনিও নির্দেশ দিয়েছেন।

    বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ

    টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের (North Bengal Flood) বিস্তীর্ণ অঞ্চল। শুধু পার্বত্য এলাকাই নয়, বিপর্যস্ত ডুয়ার্সে বিস্তীর্ণ এলাকাও। তিস্তা, তোর্সা, মহানন্দা, জলঢাকা-সহ উত্তরের বিভিন্ন নদীগুলি ফুঁসছে। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বহু এলাকা। সেখান থেকে এলাকাবাসীদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বন্যপ্রাণীরা প্রাণ বাঁচাতে ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে। কামারঘাট এলাকায় জলের মধ্যে আটকে পড়েছে একপাল হাতি। পাশাপাশি স্থানীয় কালীবাড়ি এলাকাতেও একটি গন্ডার লোকালয়ে চলে আসে। তবে শুধু হাতি-গন্ডার নয়, কাশিয়ার বাড়ি এলাকায় একটি বাইসনের শাবক উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। কার্শিয়াংয়ে গ্রামে ঢুকে পরে একাধিক হরিণ। বহু বন্যপ্রাণী জঙ্গল থেকে নদীতে ভেসে গিয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন বনকর্মীরা। বেশকিছু ট্রেন বাতিল করেছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশন। বাংলা থেকে অসম যাওয়ার একাধিক ট্রেন বাতিল হয়ে গিয়েছে। বেশ কিছু ট্রেনকে ঘুর পথে চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে এনজেপি আলিপুরদুয়ার জংশন ট্যুরিস্ট স্পেশাল ট্রেন। ধুবরি শিলিগুড়ি ডেমু স্পেশাল। বাতিল শিলিগুড়ি বক্সিরহাট এক্সপ্রেস।

    উত্তরবঙ্গে চলবে বৃষ্টি

    আলিপুর আবহাওয়া দফতর বলছে, আজও ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরবঙ্গের আট জেলায়। ওই জেলাগুলিতে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিতে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে জেলার সব জায়গায় ঝড়বৃষ্টি হবে না। উত্তরের আট জেলার মধ্যে সোমবার আলিপুরদুয়ারে হতে পারে ভারী বৃষ্টি। মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টি কমবে উত্তরবঙ্গে। ওই দিন একমাত্র দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ার জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

  • North Bengal Flood: কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বার্তা পেয়েই দুর্গতদের সহায়তায় মাঠে রাজ্য বিজেপি, সোমেই উত্তরবঙ্গে শমীক

    North Bengal Flood: কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বার্তা পেয়েই দুর্গতদের সহায়তায় মাঠে রাজ্য বিজেপি, সোমেই উত্তরবঙ্গে শমীক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবির দুপুরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশ আসতেই, উত্তরবঙ্গের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ঝাঁপিয়ে পড়ল বঙ্গ বিজেপি। ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের পাশাপাশি, সিকিমে আটকে পড়া পর্যটকদের রাজ্যে ফেরানোর ক্ষেত্রেও সক্রিয় হয়েছেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সোমবারই উত্তরবঙ্গে যাচ্ছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

    রবিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য কেন্দ্রীয় দল প্রস্তুত। একইসঙ্গে, বিজেপির স্থানীয় কর্মকর্তারাও দুর্গতদের সাহায্য করতে মাঠে নেমেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। অমিত শাহ বলেন, ‘‘দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তার সঙ্গে কথা বলেছি এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছি। এনডিআরএফ-এর দলগুলি ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে, এবং প্রয়োজনে আরও দল তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বিজেপি কর্মীরাও বিপর্যস্ত মানুষদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছেন।’’

    উত্তরের জেলা কমিটিগুলিকে ত্রাণ-উদ্ধারকাজে নামার নির্দেশ

    এর পর বিকেলে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানান, প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে প্রতি মিনিটে পরিস্থিতির খবর নেওয়া হচ্ছে। এনডিআরএফ ও বিপর্যয় মোকাবিলা কর্মীরা উদ্ধারকাজে নেমেছেন, আর সিকিমে আটকে পড়া পর্যটকদের সহায়তার জন্য ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে পাঠানো হয়েছে। শমীক জানান, উত্তরবঙ্গে বিজেপির সব জেলা কমিটিকে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে নামার নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। রাজ্য বিজেপির সভাপতি বলেছেন, ‘‘আমাদের সীমিত সাধ্যের মধ্যে দিয়ে উত্তরবঙ্গে আমাদের দলের সমস্ত শাখাকে ত্রাণ ও উদ্ধারের কাজে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে সব জেলা ক্ষতিগ্রস্ত নয়, সেখানকার সমস্ত বিজেপি নেতৃবৃন্দ এবং কর্মীরা উদ্ধারকার্যে নামবেন। আর আজ সন্ধ্যার পর থেকে আমাদের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি যাবেন। আমাদের সাধ্যমতো যতটা সহযোগিতা এবং ত্রাণ এই মুহূর্তে আমরা দিতে পারি, আমরা তার ব্যবস্থা করব।’’

    সিকিমে আটকে পড়া পর্যটকদের ফেরাতে উদ্যোগ

    শুধু দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া নয়, ভিন্‌রাজ্যে আটকে পড়া পর্যটকদের রাজ্যে ফেরানোর ক্ষেত্রেও সক্রিয় হয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। বঙ্গ বিজেপির নির্বাচন সহ-প্রভারী তথা ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব রবিবার যোগাযোগ করেছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে বলে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন। শমীক বলেন, ‘‘বিপ্লবের ফোন পেয়ে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সচিবালয়ের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। তিনি বিপ্লবকে জানিয়েছেন যে, সিকিম থেকে পশ্চিমবঙ্গে যাতায়াতের একটি মাত্র রাস্তা আপাতত খোলা রয়েছে। বাকি সব রাস্তা দুর্যোগে বিপর্যস্ত। সেই একটিমাত্র অক্ষত রাস্তা দিয়েই যত দ্রুত সম্ভব বাঙালি পর্যটকদের নিরাপদে ফেরানোর জন্য সিকিম সরকার সচেষ্ট হচ্ছে।’’ সিকিম সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে বিজেপির তরফ থেকে নিরন্তর যোগাযোগ রেখে চলা হচ্ছে বলে রাজ্য বিজেপির সভাপতি জানিয়েছেন।

  • Darjeeling News: রাতভর বৃষ্টিতে দার্জিলিঙে ভয়াবহ ধস, মৃত অন্তত ১৭; মিরিকে ভাঙল সেতু

    Darjeeling News: রাতভর বৃষ্টিতে দার্জিলিঙে ভয়াবহ ধস, মৃত অন্তত ১৭; মিরিকে ভাঙল সেতু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরবঙ্গে ফের প্রকৃতির তাণ্ডব (Darjeeling News)! টানা বৃষ্টিতে পাহাড়জুড়ে নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয়। একের পর এক ধসে বিধ্বস্ত গোটা দার্জিলিং জেলা। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সিকিম। প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মিরিকে ভেঙে পড়েছে একটি লোহার সেতু। জেলা প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। ধসের জেরে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে। পাহাড় এখন কার্যত বিপর্যস্ত অবস্থায়।আবহাওয়া দফতর আগেই সতর্ক করেছিল পাহাড় ও সমতল মিলিয়ে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেই মতোই শুক্রবার রাত থেকে উত্তরবঙ্গে শুরু হয় প্রবল বর্ষণ। দার্জিলিং জেলা (Darjeeling News) প্রশাসনের সূত্রে জানা গিয়েছে, মিরিকে (Heavy Rain) লোহার সেতু ভেঙে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। সুখিয়ায় ধসের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও চারজন। একাধিক জায়গায় এখনও ধস চলছে, এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। এদিকে, সিকিমের বহু জায়গায় পর্যটকরা আটকে পড়েছেন।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বিবৃতি

    কার্শিয়াংয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক রায় বলেন, “মিরিকের ধস থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচটি দেহ উদ্ধার হয়েছে। এর আগে ভোরে আরও দুটি দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সুখিয়াতেও চারজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারণে উদ্ধারকাজে অসুবিধা হচ্ছে, তবে দুপুরের দিকে বৃষ্টি কমায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। শিলিগুড়ি-দার্জিলিং (Darjeeling News) রোহিণী রোড এবং দিলারাম সংলগ্ন সড়ক ধসে বন্ধ হয়ে আছে। মিরিকের ধস অত্যন্ত ভয়াবহ, সেখানেও উদ্ধারকাজ চলছে।”

    মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে

    প্রশাসনের আশঙ্কা, পাহাড়ে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে (Heavy Rain) । জিটিএ-র চিফ এক্সিকিউটিভ অনিত থাপা জানিয়েছেন, “বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। বিপদে পড়া মানুষদের সাহায্যের জন্য পঞ্চায়েত সদস্য, জিটিএ আধিকারিক এবং জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়জুড়ে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। শিশু ও মহিলাদের নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মিরিকের বিডিও, এসডিও, পুরসভা-সহ স্থানীয় প্রশাসন মাঠে নেমে কাজ করছে।”

    বাড়ছে তিস্তার জলস্তর

    শনিবার রাতেই সেবকের কাছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে গাছ পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তার পর টানা বৃষ্টির কারণে একাধিক জায়গায় ধস নামায় রাস্তা পুরোপুরি অচল হয়ে যায়। দুধিয়ায় লোহার সেতু ভেঙে পড়ায় শিলিগুড়ি-মিরিকের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। পাশাপাশি দিলারামের কাছে ধসে বন্ধ রোহিণী রোডও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। পুলবাজার সেতুরও ক্ষতি হয়েছে, ফলে বিজনবাড়ি ও আশপাশের এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। অবিরাম বৃষ্টিপাতে বারবার ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ। তিস্তার জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান বিপর্যয়ের (Darjeeling News) প্রেক্ষিতে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে— টাইগার হিল, রক গার্ডেনসহ দার্জিলিংয়ের সব পর্যটনকেন্দ্র আপাতত বন্ধ থাকবে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত পর্যটকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • West Bengal Assembly Election: পুজো শেষেই বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতিতে বিজেপি, শমীক-শুভেন্দুদের সঙ্গে বৈঠকে ভূপেন্দ্র-বিপ্লব

    West Bengal Assembly Election: পুজো শেষেই বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতিতে বিজেপি, শমীক-শুভেন্দুদের সঙ্গে বৈঠকে ভূপেন্দ্র-বিপ্লব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর উৎসবের আমেজ কাটতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়ে গেল বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) পরিকল্পনা। বিজয়া দশমীর পরদিন থেকেই আসন্ন ২০২৬ বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে ঝাঁপিয়ে পড়ল বিজেপি। শুক্রবার কলকাতায় পা রেখেই একের পর এক বৈঠক করেছেন বিজেপির নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদব ও সহকারী নির্বাচনী পর্যবেক্ষক বিপ্লবকুমার দেব। জানা গিয়েছে, রাজ্যের গেরুয়া শিবিরের বুথ ভিত্তিক হিসেব নিকেশ নিয়েছেন তাঁরা।

    বৈঠকে কারা কারা উপস্থিত

    রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) আর মাস সাতেক বাকি। বঙ্গে বিজেপির নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ও সহকারী নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে ভূপেন্দ্র ও বিপ্লবের নাম ঘোষণা হয়েছে গত ২৫ সেপ্টেম্বর। নাম ঘোষণার পর গতকাল প্রথম বঙ্গে এসেছেন বিজেপির এই দুই নেতা। দফায় দফায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশলের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন তাঁরা। সল্টলেকের অফিসেও বৈঠক করেন তাঁরা। সেই বৈঠকে শমীক, বনশল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ছিলেন অমিতাভ চক্রবর্তী, অমিত মালব্য, সতীশ ধন্দরা। পরে বৈঠকে যোগ দেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদকরাও।

    বৈঠকে কারা কারা উপস্থিত

    দলীয় সূত্রের খবর, ভূপেন্দ্র ও বিপ্লব প্রথম সফরেই বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন। কোন এলাকায় বিজেপির ভিত্তি কতটা দৃঢ়, কোথায় আরও জোরদার করা যায়, গত নির্বাচনে কোন এলাকায় ফল খারাপ হয়েছিল, সব মিলিয়ে ভোটের অঙ্ক কষতে শুরু করেছেন তাঁরা। বিশেষ করে, হারের জায়গাগুলোতে অল্প চেষ্টাতেই ঘুঁটি ঘোরানো সম্ভব কি না, সেই দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক রদবদল বা দায়দায়িত্ব বণ্টনে নির্বাচনী লাভ-ক্ষতির হিসেব নিকেশের উপরও জোর দেওয়া হয়। রাজ্য কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সেই পরিকল্পনা কতটা করা যায়, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, বিজেপিতে (BJP in Bengal) দায়দায়িত্ব পাওয়া আর না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ-রাগ-অভিমান তৈরি হয়। এহেন আবহে কমিটি গঠনের প্রভাব নির্বাচনে কতটা পড়বে, তা বিচার বিবেচনা করা হয়েছে। যেহেতু এই রাজ্যের বিজেপির সাংগঠনিক অবিভাবক হিসেবে বনশল রয়েছেন, তাই তাঁর সঙ্গে ২ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক আলাদা করে বৈঠক করেছেন বলে সূত্রের দাবি। উত্তরবঙ্গের একাধিক বিধায়ককে ফোন করে দীর্ঘ সময় কথা বলেছেন বিপ্লব দেব। বিভিন্ন অংশের গ্রাউন্ড রিপোর্ট, দলীয় নেতৃত্বের ভূমিকা, শাসক দলের উপস্থিতি কতটা, প্রশাসনের কী ভূমিকা, এমন নানা বিষয়ে রির্পোট পাঠানোর জন্য ওই বিধায়কদের বলেছেন তিনি।

LinkedIn
Share