Abhishek Banerjee: অভিষেকের নবজোয়ারে এবার ছাপ্পা ভোট! তৃণমূলের কোন্দল প্রকাশ্যে

Abhishek_Banerjee_(5)

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পঞ্চায়েতের কোনও নির্বাচন নয়। পঞ্চায়েত ভোটে যোগ্য প্রার্থী ঠিক করার জন্য সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নির্দেশে নবজোয়ার কর্মসূচিতে চলছে ভোটগ্রহণ। স্বাভাবিকভাবে সেখানে বিরোধী দলের কারও থাকার কথা নয়। সকলেই তৃণমূল কর্মী। আর সেখানেও ছাপ্পা ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠল। শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে। এর আগে জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, বীরভূমে নবজোয়ার কর্মসূচিতে ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এবার পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে নবজোয়ার কর্মসূচিতে ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। জানা গিয়েছে, এদিন পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রার্থী ঠিক করার জন্য দলের পক্ষ থেকে ভোটাভুটির ব্যবস্থা করা হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) চলে যাওয়ার পর পরই তৃণমূলের জামালপুর ব্লক সভাপতির নেতৃত্বে ছাপ্পা ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পঞ্চায়েতে প্রার্থী বাছাই নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। এদিনের ছাপ্পা ভোট হওয়ার দৃশ্য দেখে দলেরই কর্মীরা বলেন, পঞ্চায়েত নির্বাচন কেমন হবে তার মহড়া হয়ে গেল।

ঠিক কী ঘটেছে?

অভিষেকের (Abhishek Banerjee) নবজোয়ার কর্মসূচির জেলায় দ্বিতীয় দিন শনিবার সন্ধ্যায় জেলার আটটি ব্লকের ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়। এই ব্লকের আবুজহাটি ১ ও ২, চকদিঘি, জামালপুর ১ ও ২ পঞ্চায়েতে ভোটাধিকার নিয়েই মূলত অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, যারা প্রকৃত ভোটার, যাদের তালিকায় নাম নথিভুক্ত আছে তারা ভোট প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারছে না। ব্লক সভাপতির ঘনিষ্ঠ লোকজন বেআইনিভাবে প্রকৃত ভোটারদের জায়গায় ভোট দিয়ে দিচ্ছেন। মন্তেশ্বর ব্লকেও বহু কর্মী ভোট দিতে পারেননি বলে অভিযোগ।

ছাপ্পা ভোট দেওয়া নিয়ে কী বললেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতারা?

তৃণমূল কংগ্রেসের জামালপুর ব্লকের প্রাক্তন সভাপতি শ্রীমন্ত পাল বলেন, অভিষেকের (Abhishek Banerjee) নির্দেশ মতো বুথের ছেলেরা তো প্রার্থী ঠিক করবে। কিন্তু, ভোট শুরু হওয়ার পর দেখা গেল, অন্য এলাকার ছেলেরা এসে ভোট দিচ্ছে। আর যারা প্রকৃত ভোটার তারা ভোট দিতে পারছে না। প্রকাশ্যেই তৃণমূলের ব্লক সভাপতির অনুগামীরা ছাপ্পা ভোট দিচ্ছে। আমরা অভিযোগ করার পরও কোনও কাজ হল না। এভাবে ভোটগ্রহণ করার কোনও মানে হয় না। একই অভিযোগ করেন জেলা পরিষদের সদস্যা মেহেরা কীর্তনীয়া। তাঁর অভিযোগ, ব্লক সভাপতির অনুগামীরা ভোট দিতে বাধা সৃষ্টি করছে। জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ প্রদীপ পালের বক্তব্য, বিভিন্ন বুথে বালি খাদানের মালিকদের বুথ সভাপতি সাজিয়ে ভোট প্রক্রিয়া চলছে। ব্লক সভাপতির অনুগামীরা এসব করছে।

কী বললেন তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি?

তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি মেহমুদ খান তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, দলের নির্দেশ মত এবং দলের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ভোট প্রক্রিয়া চলছে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে। কোথাও ছাপ্পা ভোট হয়নি। কে কী অভিযোগ করল তা আমার জানা নেই।

 

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share