মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এ যেন অন্য সন্দেশখালি। অদ্ভুত নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে শাহজাহানের বাড়ির সামনে। ইডি আধিকারিকদের (ED Raid) ঘিরে ধরে জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে যে জায়গায় মারধর শুরু করেছিল তৃণমূল কর্মীরা, বুধবার সকালে সেই জায়গাই বিলকুল ফাঁকা। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম অনেক খুঁজেও কোনও প্রত্যক্ষদর্শী পেলনা। কেউই নাকি কিছুই দেখেননি। ইডি আধিকারিকদের (ED Raid) মারধরের দিন, কেউ দেরি করে ঘুম থেকে উঠেছিলেন। কেউ বাজারে গিয়েছিলেন। কেউ গিয়েছিলেন অন্য কোনও কাজে।
ভয়ে মুখে কুলুপ গ্রামবাসীদের
হাজার লোকের জনরোষ আছড়ে পড়েছিল সেদিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের ওপরে। সেই সরবেড়িয়াতেই বুধবার ফের গিয়েছিল ইডি (ED Raid)। কিন্তু সেখানেই অস্বাভাবিক নীরবতা। শাহজাহান নিজের নামে বাজার তৈরি করেছেন। সেখানকার দোকানপাট সবই বন্ধ। কোনও এক ‘অজ্ঞাত’ কারণে রাস্তাতেও বিশেষ লোকজন নেই। বুধবার রণসাজে সজ্জিত হয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি, পুলিশে ছয়লাপ গোটা এলাকা, সেই ঘটনা ঘটতে নাকি দেখতেই পাননি শাহজাহানের (ED Raid) গ্রামের বাসিন্দারা! কোনও সংবাদমাধ্যমের সামনে কেউই মুখ খোলেননি।
নিরাপত্তায় মোড়া গোটা এলাকা
১৯ দিন আগে ইডি (ED Raid) হানার সময় সন্দেশখালির শাহজাহানের বাড়ির সঙ্গে বুধবারের তাঁর বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশের চেহারা একেবারেই আলাদা। এদিন সন্দেশখালিতে শেখ শাহজাহানের বাড়িতে ইডির অভিযান চালানোর সময় বাড়ির সামনে নেই কোনও জনতার ভিড়়। তৃণমূল নেতার নামাঙ্কিত শাহজাহান মার্কেটের একটি দোকানও খোলেনি। বাজারে দেখা গেল সুনসান ছবি। আদালতের নির্দেশে তৃণমূল নেতার বাড়ির সঙ্গে সঙ্গে সন্দেশখালির বাজারেও সিসি ক্যামেরা বসিয়েছিল পুলিশ। সাধারণ মানুষের আনাগোনাও একেবারেই হাতেগোনা। সমস্ত এলাকা দখল নিয়েছে রাজ্য পুলিশ এবং সিআরপিএফ। শাহজাহানের বাড়ি থেকে বড় রাস্তায় যাওয়ার জন্য রয়েছে এক চিলতে রাস্তা। সেই ১০০ মিটার রাস্তাও পুরোপুরি মোড়া খাকি, জলপাই পোশাক পরিহিত দীর্ঘদেহীদের দিয়ে। বড় রাস্তার দখলও পুরোপুরি নিরাপত্তাবাহিনীর হাতে। জায়গায় জায়গায় তাঁরা দাঁড়িয়ে রয়েছেন। সকাল থেকে শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সেরকম গুরুত্বপূর্ণ কিছু পাননি ইডি আধিকারিকরা।
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।
Leave a Reply