মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের আই প্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি অভিযানকে আটকাতে পৌঁছে গিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এই অভিযানের সময় একই ভাবে বাড়িতে যান সিপি মনোজ ভর্মা। এরপর বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেন সবুজ ফাইল হাতে মমতা। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Suvendu Adhikari) বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি। কিন্তু পাল্টা মমতার বিরুদ্ধ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
আগেও হস্তক্ষেপ করেছেন মমতা (Suvendu Adhikari)!
দিল্লির একটি আর্থিক প্রতারণা মামলায় আই প্যাকের কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি তল্লাশি করতে যান। এমন সময়ে আচমকা তদন্তকে আটকাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) উপস্থিত হন। এরপর সোজা ঢুকে সবুজ ফাইল হাতে নিয়ে বেড়িয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অমিত শাহকে তোপ দেগে বলেন, “দলের রণনীতি, পরিকল্পনা, প্রার্থী তালিকা, হার্ডডিস্ক সব কিছুকে হাতিয়ে নিচ্ছে বিজেপি।” এরপর পাল্টা মমতাকে আক্রমণ করে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “ইডির উচিত আইন মেনে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এবার পদক্ষেপ নেওয়া। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে এর আগেও হস্তক্ষেপ করেছে। ২০২১ সালে তিনি নিজাম প্যালেসে ধরনা দিয়েছিলেন। ফিরাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, শোভন চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্রদের গ্রেফতারির প্রতিবাদে। তারও আগে সারদা মামলায় রাজীব কুমারের বাড়িতে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা। সিপিকে নিয়ে ধর্মতলায় ধর্নায় বসেছিলেন।”
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কাজে হস্তক্ষেপ!
আর্থিক দুর্নীতি মামলা বিষয়ে মমতার সরাসরি হস্তক্ষেপর বিষয়ে তোপ দেগে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের কাজ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কাজে হস্তক্ষেপ ও তদন্তে বাধা দেন। একজন মুখ্যমন্ত্রী কেবল রাজনৈতিক নেতানেত্রী নন, তিনি একজন প্রশাসনিক প্রধান। ইডির উচিত নিজের আইনকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ক্ষমতার বলে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলা। মুখ্যমন্ত্রী এবং সিপির এই যাওয়াটা সম্পূর্ণ ভাবে অসাংবিধানিক, অনৈতিক এবং তদন্তে বাঁধা প্রধান করা।” তবে এদিনের তদন্তে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ অফিস এবং লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি মামলার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বলে জানা গিয়েছে।

Leave a Reply