Madhyamik Result: এই প্রথম আদিবাসী অধ্যুষিত প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ ৪ ছাত্রী!

Madhyamik_Result_(1)

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঠে ধান পোঁতার কাজ সেরে পড়াশোনা। এই প্রথম একটি গ্রাম থেকে মাধ্যমিকে (Madhyamik Result) উত্তীর্ণ হল এমনই ৪ ছাত্রী৷ আদিবাসী অধ্যুষিত প্রত্যন্ত গ্রাম শান্তিনিকেতনের সাহেবডাঙা। বিংশ শতাব্দীতে এসে নারী শিক্ষার অগ্রগতির নজির এই চার ছাত্রীর উত্তীর্ণ হওয়ার খবরে খুশি গ্রামবাসীরা৷

কীভাবে এল এই সাফল্য (Madhyamik Result)?

শান্তিনিকেতন থানার অন্তর্গত কংকালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের সাহেবডাঙা আদিবাসী অধ্যুষিত প্রত্যন্ত একটি গ্রাম। উন্নয়নের আলো সেভাবে পৌঁছায়নি এই গ্রামে। পাশাপাশি শিক্ষার আলো থেকেও এতকাল বঞ্চিত ছিল এই গ্রাম৷ অথচ, শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতির পীঠস্থান হিসাবে পরিচিত শান্তিনিকেতন। কিন্তু, প্রবাদবাক্য আছে ‘প্রদীপের নিচে অন্ধকার’। যদিও, এই প্রবাদবাক্যকে উপেক্ষা করে এই প্রথম এই গ্রাম থেকে ৪ জন মেয়ে মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হল। বোলপুর পারুলডাঙা শিক্ষানিকেতন আশ্রম বালিকা বিদ্যাপীঠের ছাত্রী বাসন্তি টুডু, লতিকা মুর্মু, মিরু হাঁসদা ও গুসকড়ার পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু আবাসিক স্কুলের ছাত্রী সুমিত্রা টুডু এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় (Madhyamik Result) উত্তীর্ণ হয়েছে। এর আগে এই গ্রাম থেকে কোনও মেয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেইনি, উত্তীর্ণ হওয়া তো দূরের কথা৷ নারী শিক্ষার অগ্রগতি নিয়ে আন্দোলন চলছে বহু দিন ধরেই৷ সেই আন্দোলনের নজির বলা যায় ৪ আদিবাসী কন্যার সাফল্যকে৷ বাবা-মায়ের সঙ্গে মাঠে ধান পোঁতা, ধান কাটার কাজ করে তারা৷ তার ফাঁকেই পড়াশোনা। তারা জানায়, এর আগে কোনও মেয়ে সেভাবে পড়াশোনা করতে পারেনি৷ কারণ পরিকাঠামো নেই, বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থা, নেই পড়াশোনার পরিবেশ। সদ্য একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এই গ্রামটিকে দত্তক নিয়েছে৷ তাদের তত্ত্বাবধানেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে তারা৷ যে যুবকের উদ্যোগে তাদের এই সাফল্য সেই বুদ্ধিশ্বর মণ্ডল বলেন, “এই গ্রামের উন্নয়ন একেবারেই নেই৷ প্রত্যন্ত একটি গ্রাম থেকে ৪ টি মেয়ে মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ। আমি ওদের সঙ্গে আছি বহু দিন ধরে৷ তাদের সাফল্যে খুব খুশি হয়েছি।”

কী বলল উত্তীর্ণরা (Madhyamik Result)?

সুমিতা টুডু, বাসন্তি টুডু, মেরু হাঁসদা বলে, “এই গ্রামে আগে কোনও মেয়ে মাধ্যমিক (Madhyamik Result) পাশ করেনি৷ কারণ কোনো রকম সুযোগ সুবিধাই ছিল না৷ টিউশন পড়তে পারতাম না। আমাদের গ্রামের অবস্থাও ভালো নয়৷ সবাই মাঠে কাজ করে৷ আমরাও ধান পোঁতার কাজ করি৷ আমরা পাশ করায় গ্রামের সবাই খুব খুশি। আগামীতে গ্রামের বাকি মেয়েদের বলব, তারাও যেন পড়াশোনা করে আরও ভালো ফল করে।”

 

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share