তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি হাসপাতাল একাধিক রোগে আক্রান্ত। রেফার রোগ থেকে দালালচক্র, সরকারি হাসপাতালের একাধিক রোগে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। তার মধ্যেই সরকারি হাসপাতালে আরেক রোগের জেরে জেরবার সাধারণ মানুষ। শাসক দলের দাপটে সরকারি হাসপাতালে (SSKM) সাধারণ মানুষের চিকিৎসা করাতে অপেক্ষা হচ্ছে আরও দীর্ঘ।
কোথায় বাড়ছে এই রোগ?
এসএসকেএম থেকে জেলার হাসপাতাল, পশ্চিমবঙ্গের সর্বত্র এই সমস্যা রয়েছে। ভুক্তভোগীদের একাংশ জানাচ্ছেন, যে কোনও সরকারি হাসপাতালে শাসক দলের নেতারাই চিকিৎসায় অগ্রাধিকার পায়। আর তার জেরেই সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সময়মতো হচ্ছে না। সম্প্রতি কালীঘাটের কাকু নামে পরিচিত সুজয় ভদ্র এসএসএকেএম (SSKM) হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
সূত্রের খবর, এসএসকেএম হাসপাতালে শিশুদের বিশেষ অস্ত্রোপচারের জন্য নির্ধারিত শয্যায় ভর্তি রয়েছেন সুজয় ভদ্র। তবে, এই ঘটনা ব্যতিক্রম নয় বলেই জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা। দফতরের অন্দরের খবর, রাজ্যের সর্বত্র এরকম চলছে। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, আরজিকর হাসপাতালের মতো প্রথম সারির মেডিক্যাল কলেজ হোক কিংবা জেলার হাসপাতাল, সাধারণ মানুষকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কিন্ত তৃণমূলের নেতারা দিনের পর দিন সরকারি হাসপাতালের শয্যায় থাকছেন। বিশেষত এসএসকেএমে এই রোগ আরও বেশি জাঁকিয়ে বসেছে। ইডি কিংবা সিবিআই গ্রেফতার করার পরেই একাধিক নেতা অসুস্থ হয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যে বিতর্ক আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। কিন্তু সেই হাসপাতালে সাধারণ মানুষ চিকিৎসার জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করেছেন।
কী বলছেন ভুক্তভোগীরা?
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের একাধিক সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নেই। বিশেষত হৃদরোগ, শিশুরোগ, স্নায়ু শল্য চিকিৎসায় পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। এসএসকেএম-এর (SSKM) মতো রাজ্যের প্রথম সারির হাসপাতালে যে কোনও রোগীর চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। হৃদপিণ্ডের অস্ত্রোপচার হোক কিংবা স্নায়ুর চিকিৎসা, যে কোনও রোগে রোগীকে কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হয়। তার উপরে রাজ্যের অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের অভাব রয়েছে। পর্যাপ্ত শয্যা এবং পরিকাঠামো নেই। তার জেরে রোগীকে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কিন্তু সেই সরকারি হাসপাতালে শিশুর জন্য বরাদ্দ শয্যায় ভর্তি থাকছেন দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার শাসক দল ঘনিষ্ঠ নেতা। ভুক্তভোগীদের একাংশের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে তাদের চিকিৎসার ন্যূনতম সুযোগ পাওয়া যায় না। এদিকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই। স্বাস্থ্য সাথী থেকেও ঠিকমতো পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে না। কার্যত স্বাস্থ্য পরিষেবা এ রাজ্যে অনিশ্চিত। তাই চিকিৎসার জন্য অনেকেই ভিন রাজ্যে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
কী বলছেন এসএসকেএম কর্তৃপক্ষ?
সরকারি হাসপাতালে শাসক দলের শয্যা আটকে রাখার নতুন রোগ নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ স্বাস্থ্য দফতর। এই নতুন রোগ কীভাবে মোকাবিলা হবে, সে নিয়েও কোনো মন্তব্য করতে চাননি স্বাস্থ্য কর্তারা। আর এসএসকেএম-এ (SSKM) সুজয় ভদ্রের চিকিৎসা নিয়ে কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করলে, তাঁরা সাফ জানান, কোনও মন্তব্য করতে পারবেন না।
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।
Leave a Reply