Madras High Court: ‘‘মন্দির কোনও পিকনিক স্পট নয়’’, প্রবেশ নিষেধ অহিন্দুদের, জানাল মাদ্রাজ হাইকোর্ট

Untitled_design(466)

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘‘মন্দির কোনও চড়ুইভাতির জায়গা নয়, কিন্তু কিছু কিছু মানুষ মন্দিরকে পিকনিক স্পট হিসেবেই দেখেন।’’ মন্দির সংক্রান্ত একটি মামলায় মাদ্রাজ হাইকোর্ট (Madras High Court) এমনই পর্যবেক্ষণ করল। তাৎপর্যপূর্ণ এই পর্যবেক্ষণে তামিলনাড়ুর পালানি মন্দিরের গর্ভগৃহে অহিন্দুরা যাতে ভিড় না করেন সেই মর্মে সাইনবোর্ড লাগাতেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

কী বললেন বিচারপতি?

প্রসঙ্গত, পালানি মন্দিরের তরফে মাদ্রাজ হাইকোর্টের (Madras High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন জনৈক ডি সেথিলকুমার। এদিনই আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তামিলনাড়ুর ওই নির্দিষ্ট মন্দিরের গর্ভগৃহে কোনওভাবেই প্রবেশ করতে পারবেন না অহিন্দুরা। এবং মন্দিরে ভিড় কমানোর জন্য শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রবেশ অধিকার দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবারই এই মামলাটির শুনানি ছিল বিচারপতি এস শ্রীমতির বেঞ্চে। দুই পক্ষের সওয়াল জবাবের পরে বিচারপতি নির্দেশ এই নির্দেশ দেন তামিলনাড়ু সরকারের উদ্দেশে। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, একজন অহিন্দু মানুষ মন্দিরের গর্ভগৃহে ঢোকার অনুমতি তখনই পাবেন, যদি তিনি (অহিন্দু) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ হন যে তিনি দেবতার প্রতি বিশ্বাস রাখেন এবং হিন্দু ধর্মের রীতিনীতি অনুসরণ করেন। বিচারপতির নিজের কথায়, ‘‘মন্দিরের রীতিনীতি এবং এই রকমের অঙ্গীকারের ভিত্তিতে উল্লিখিত অহিন্দুদের মন্দিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।’’ পাশাপাশি আদালত (Madras High Court) আরও জানিয়েছে, অহিন্দুরা মন্দির প্রাঙ্গণ দেখতে যেতেই পারেন। কিন্তু এটা মাথায় রাখতে হবে মন্দির কোনও চড়ুইভাতি করার জায়গা নয়। কোনওভাবেই যেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পুজো দেওয়া অথবা প্রার্থনায় বিঘ্ন না ঘটে, সেটা দেখতে আদালত নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকারকে।

মামলার খুঁটিনাটি

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের জুন মাসেই পালানি মন্দির সংক্রান্ত মামলার জল গড়ায় মাদ্রাজ হাইকোর্টে (Madras High Court)। এক মুসলমান পরিবারের উদাহরণ টেনে এনে অহিন্দুদের যথেচ্ছভাবে প্রবেশ বন্ধ করার আবেদন জানান মামলাকারী। ওই মামলাকারীর দাবি ছিল, বেশ কয়েকজন মুসলমান মহিলা বোরখা পরে মন্দিরে এসেছিলেন। তাঁরা পাহাড়ের গায়ে অবস্থিত পলানি মন্দিরের একদম উঁচুতে যাওয়ার জন্য টিকিট কেনেন শুধুমাত্র ছবি তুলবেন বলে। অর্থাৎ তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসে নায়, মন্দিরকে তাঁরা শুধুমাত্র একটি পর্যটনস্থল হিসেবে দেখছিলেন। মন্দির কর্তৃপক্ষ তাঁদের প্রবেশে বাধা দেয়। কিন্তু মহিলারা পাল্টা যুক্তি দেন যে এভাবে বাধা দেওয়া যায় না। কারণ মন্দির চত্বরে কোনও লিখিত নির্দেশ তাদের চোখে আসেনি। সরকার আগে নির্দেশ দিক এ বিষয়ে। যদিও রাজ্য সরকার সাইনবোর্ড লাগাতে চায়নি। অবশেষে এবার ওই মন্দিরে সাইনবোর্ড বসতে চলেছে আদালতের (Madras High Court) নির্দেশে।

 

দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share