TMC: মালদায় জোট প্রার্থীর বাড়ি ভাঙচুর,বোমাবাজি, ভোটদানে বাধা, বারাকপুরে আক্রান্ত সিপিএম কর্মী

TMC_(66)

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুনর্নির্বাচনেও আবার অশান্তি ছবি দেখা গেল মালদায় সুলতান নগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সাহাপুর এলাকায়। সোমবার সকালে তৃণমূল (TMC) আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি রবিবার গভীর রাতে জোট প্রার্থী আশরাফুল হকের বাড়িতে হামলা চালানো ও বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ভাঙচুর করা হয়েছে জোট প্রার্থী আশরাফুল হকের বাড়ি,বাইক ও আসবাবপত্র। এমনকী গোয়াল ঘর থেকে খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে গোবাদি পশু। তৃণমূলের সশস্ত্র হামলায় আতঙ্কে বাড়ি ছাড়া আশরাফুল হক ও তাঁর পরিবার। থমথমে পরিস্থিতি সাহাপুর এলাকায়।

পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে ভোটদানের ব্যবস্থা

 উল্লেখ্য,শনিবার সাহাপুর ৪৫ নং বুথে ছাপ্পা ভোট ও ব্যালট বাক্স ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের (TMC) বিরুদ্ধে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সারা রাজ্যের পাশাপাশি হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নং ব্লকে ৩টি বুথে ও হরিশ্চন্দ্রপুর-২ নং ব্লকে ৮ টি বুথে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে। জোট প্রার্থী ও‌ এলাকাবাসীর অভিযোগ, সোমবার সকালবেলা ৪৫ নং বুথের মানুষ ভোট দিতে গেলে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা তাদের পথ আটকে হুমকি দিতে থাকে। প্রশাসনকে বিষয়টি জানান বাম কংগ্রেসের প্রার্থীরা। এরপর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহযোগিতায় মানুষ ভোট দিতে যায় বলে অভিযোগ।

ভোট লুট রুখে দেওয়ায় আক্রান্ত হলেন এক সিপিএম কর্মী, প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ

 ভোট লুট রুখে দেওয়ায় আক্রান্ত হলেন এক সিপিএম কর্মী। সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে বাসুদেবপুর থানার পানপুর মোড়ে। আক্রান্ত সিপিএম কর্মীর নাম ডালিম মণ্ডল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। বিষয়টি জানতে পেরে সিপিএম কর্মীরা জোটবদ্ধ হয়ে রাস্তা অবরোধ করে।

ঠিক কী ঘটনা ঘটেছে?

নির্বাচনের দিন ভোট লুট রুখে দিয়েছিলেন সিপিএম কর্মী ডালিম মণ্ডল। ফলে, তার উপর তৃণমূল (TMC) কর্মীদের রাগ ছিল। জানা গিয়েছে, পানপুর-কেউটিয়া পঞ্চায়েতের শঙ্করপুর গ্রামের বাসিন্দা পেশায় টোটো চালক ডামিলসাহেব সোমবার দুপুরে টোটো নিয়ে পানপুর মোড়ে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, ডালিমকে একা পেয়ে বেধড়ক পেটায় তৃণমূলের (TMC) লোকজন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিপিএম কর্মী ডালিমকে উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তিনি এখন চিকিৎসাধীন। ঘটনার প্রতিবাদে কাঁকিনাড়া রোডের শঙ্করপুর মোড়ে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান সিপিএমের কর্মী-সমর্থকরা। উত্তেজনার খবর পেয়ে শঙ্করপুর মোড়ে আসে বাসুদেবপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। স্বামীকে মারধর করায় ক্ষোভে লোকজন নিয়ে আহতের স্ত্রী শঙ্করপুর মোড়ে তৃণমূলের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ অবশ্য আহতের স্ত্রীকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।

কী বললেন সিপিএম নেতৃত্ব?

সিপিএম নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ভোট লুট রুখে দেওয়ার অপরাধে এই হামলা। পুলিশের মদতেই সব জায়গায় ভোট লুট করেছে তৃণমূল (TMC)। এখানে সাধারণ মানুষের বাধায় সেটা সম্ভব হয়নি। এখন তাদের চিনিয়ে দিয়ে তৃণমূল দুষ্কৃতীরা হামলা চালাচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। সোমনাথ শ্যামের নেতৃত্বে আগে ভোট লুট করার চেষ্টা হয়ছিল। এদিনও তার নির্দেশে আমাদের ওই কর্মী আক্রান্ত হলেন।

কী বললেন তৃণমূল (TMC) নেতৃত্ব?

যদিও এই বিষয়ে তৃণমূল (TMC) বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম বলেন, বিষয়টি জানা নেই। কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে, তৃণমূল জড়িত নয়। তবুও,  বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখে এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

 

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share