মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং তা ঘিরে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের আবহে প্রথমবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি ঘোষণা করেছেন, প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি এবং অভিযুক্তদের কড়া শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠন করা হবে।
ঠিক কী বলেছেন প্রধানমন্ত্রী
সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ও স্বার্থের চেয়ে সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই। তাই প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, ‘‘দেশের যুবসমাজের স্বার্থ এবং ভবিষ্যৎ আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত সমস্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠন করা হবে, যাতে দোষীরা যত দ্রুত সম্ভব কঠোর শাস্তি পায়।’’ প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সংশ্লিষ্ট দফতর ও আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার যে ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছে, এটি তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, যারা দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না।
কী ঘটেছিল নিট-ইউজি ২০২৬-এ?
নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ৩ মে। পরে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠায় ১২ মে সেই পরীক্ষা বাতিল করা হয়। ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয় সিবিআইকে। এরপর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং ১৬ জুলাই ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
দিল্লিতে তীব্র ছাত্র আন্দোলন
সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন ২০ জুলাই আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি নিয়ে যন্তর-মন্তর থেকে সংসদের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটানো হয় এবং লাঠিচার্জও করা হয়। এই ঘটনায় সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে-সহ একাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। এর আগে ১৮ জুলাই অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ১৬ জুলাই আন্দোলনে যোগ দেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। নিরাপত্তার স্বার্থে দিল্লি মেট্রোর ১৬টি স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এদিকে দিল্লি হাইকোর্টে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আন্দোলনকারীদের উপর লাগাতার নজরদারি চালানো হয়েছে।
সরকারের বার্তা
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার মাধ্যমে কেন্দ্র স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির পথে এগোতে চায় সরকার। ফলে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টের ঘোষণা ছাত্র আন্দোলনের গতি কতটা প্রভাবিত করবে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও শিক্ষার্থী সমাজের।

Leave a Reply