Blog

  • Magnesium Deficiency Symptoms: প্রয়োজন সামান্য পরিমাণই, তবে ঘাটতিতে হতে পারে একাধিক বিপদ! এই খনিজের চাহিদা পূরণে বাড়তি গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের

    Magnesium Deficiency Symptoms: প্রয়োজন সামান্য পরিমাণই, তবে ঘাটতিতে হতে পারে একাধিক বিপদ! এই খনিজের চাহিদা পূরণে বাড়তি গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভিটামিন, ফাইবারের মতোই সমান জরুরি খনিজ! শরীর সুস্থ রাখতে ও দীর্ঘ জীবন যাপনের জন্য শরীরের প্রয়োজন, পর্যাপ্ত পরিমাণ খনিজ পদার্থের জোগান। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শরীরে খনিজ পদার্থের সামান্য চাহিদা থাকে। তবে এই সামান্য পরিমাণের ঘাটতি হলেই একাধিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। চোখের নীচে কালো দাগ, অতিরিক্ত ক্লান্তি, হৃদরোগের সমস্যা, এমন একাধিক শারীরিক জটিলতার পাশপাশি মানসিক চাপ, বিষন্নতার মতো নানান মানসিক সমস্যাও তৈরি একটি একটি খনিজের ঘাটতি! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিলে একাধিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। শরীরে প্রতিদিন ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা সামান্য। কিন্তু সেই সামান্য পরিমাণের ঘাটতি হলেও একাধিক বিপদ হতে পারে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে প্রতিদিন মাত্র ৩১০-৪২০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই চাহিদা পূরণ হচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।

    ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতিতে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের ঝুঁকি শরীরে একাধিক সমস্যা তৈরি করে‌। পেশিতে টান ধরে। বারবার খিঁচুনির মতো সমস্যা তৈরি হয়। ফলে পেশির সক্রিয়তা কমে। আবার হাত-পায়ে দূর্বলতা বোধ হয়। তাই ক্লান্তি গ্রাস করে। যেকোনো কাজ করার ক্ষেত্রে বাড়তি সমস্যা তৈরি হয়। ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হাড়ের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে। হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই মহিলাদের ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা পূরণ হচ্ছে কিনা সেদিকে বাড়তি খেয়াল রাখা জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, মহিলারা অস্টিওপোরোসিসের মতো সমস্যায় বেশি ভোগেন। তাই তাঁদের হাড়ের বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। ম্যাগনেশিয়াম হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও ম্যাগনেশিয়াম বিশেষ সাহায্য করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তৈরি হয়। অনিয়মিত হৃদস্পন্দন দেখা দিতে পারে। এগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। শরীরের পাশপাশি ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি মানসিক স্বাস্থ্যের পক্ষেও ক্ষতিকারক বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের অভাব হলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। অনিদ্রার সমস্যা তৈরি হয়। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। উদ্বেগ, বিষন্নতার মতো সমস্যা দেখা যায়। ফলে যেকোনো কাজে মনোসংযোগ করা কঠিন হয়ে ওঠে।

    কাদের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ঠিকমতো পুষ্টির অভাবে যেকেউ ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতিতে ভুগতে পারেন। কিন্তু ডায়াবেটিস আক্রান্তদের এই ধরনের খনিজের ঘাটতি বেশি দেখা যায়। তাছাড়া, দীর্ঘদিন অন্ত্রের সমস্যায় ভুগলে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হয় বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। বয়স্কদের শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হতে পারে। আবার মদ্যপানে আসক্তদের শরীরেও এই খনিজের ঘাটতি হয় বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কীভাবে এই খনিজের চাহিদা সহজেই পূরণ হবে?

    পালংশাক

    আয়রন, ভিটামিন এ-র পাশাপাশি ম্যাগনেশিয়ামের জোগান দিতে পারে পালংশাকও। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ফাইবার সমৃদ্ধ এই শাকটি স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, এক কাপ বা ১৮০ গ্রাম সেদ্ধ বা রান্না করা পালংশাকে প্রায় ১৫৭ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়।

    কাঠবাদাম

    ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদাপূরণে সকালে উঠে কাঠবাদাম ভেজানো খেতে পারেন। এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, সকালে ভেজানো কাঠবাদাম বা সন্ধ্যের জলখাবারে শুকনো খোলায় নেড়ে নেওয়া কাঠবাদামও খাওয়া যায়। মোটামুটি ২০-২২টি কাঠবাদামে ৭৬-৮১ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যাবে।

    ডার্ক চকোলেট

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়াম কোকো থেকে তৈরি হওয়া ডার্ক চকোলেট থেকেও পাওয়া যায়। কতটা পরিমাণ কোকোর ব্যবহার হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা।

    কাজুবাদাম

    সপ্তাহে অন্তত তিন দিন খাবারের তালিকায় থাকুক কাজুবাদামও। এমনটাই পরামর্শ পুষ্টিবিদদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, ১ আউন্স অর্থাৎ ১৭-১৮টি কাজুবাদামে প্রায় ৮৩ মিলিগ্রামের মতো ম্যাগনেশিয়াম থাকে। তাই প্রতিদিনে অন্তত ৮-১০টি করে কাজু খেলে শুধু ম্যাগনেশিয়াম নয়, স্বাস্থ্যকর ফ্যাটও পাবে শরীর। হৃদ্‌যন্ত্র ভাল রাখার জন্য স্বাস্থ্যকর ফ্যাট জরুরি।

    কুমড়োর বীজ

    কুমড়ো বীজে থাকে ম্যাগনেশিয়াম। হৃদ্‌যন্ত্র ঠিক রাখার জন্য, ম্যাগনেশিয়াম জরুরি উপাদান। উচ্চরক্তচাপ কমাতে, রক্তবাহী নালিকার স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে খনিজটি সাহায্য করে। ২০ গ্রাম কুমড়ো বীজে ১০০-১১০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম থাকে। দৈনন্দিন চাহিদার অনেকটাই পূরণ হতে পারে, দিনে অল্প কিছু কুমড়োবীজ খেলে। তাই সপ্তাহে অন্তত দুদিন কুমড়োর বীজ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Shyama Prasad Mukherjee: নতুন মোড়কে শ্যামাপ্রসাদ জন্মজয়ন্তী, ইকো পার্কে ১২৫ ফুটের মূর্তি, মহাকরণেও বিশেষ শ্রদ্ধা

    Shyama Prasad Mukherjee: নতুন মোড়কে শ্যামাপ্রসাদ জন্মজয়ন্তী, ইকো পার্কে ১২৫ ফুটের মূর্তি, মহাকরণেও বিশেষ শ্রদ্ধা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে উদযাপিত হলো ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী (Shyama Prasad Jayanti celebration)। এই প্রথমবার রাজ্যে মহাসমারোহে সরকারি উদ্যোগে পালিত হলো ‘ভারত কেশরী’-র জন্মজয়ন্তী। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে একাধিক নজিরবিহীন পদক্ষেপ।

    মহাকরণে ঐতিহাসিক সূচনা

    রাজ্যের ইতিহাসে এই প্রথমবার প্রশাসনিক ভবন মহাকরণে (রাইটার্স বিল্ডিংস) সরকারি উদ্যোগে ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিবস (Shyama Prasad Jayanti celebration) পালন করা হলো। এদিন সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও বহু কর্মচারী মহাকরণে এসে তাঁর মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।

    ইকো পার্কে বিশাল মূর্তির শিলান্যাস

    বাংলার ইতিহাসে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) অবদানকে এতদিন আড়ালে রাখা হয়েছিল বলে দাবি বর্তমান রাজ্য সরকারের। তাই এই বিশেষ দিনটিতে একাধিক ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। তারই অঙ্গ হিসেবে নিউটাউনের ইকো পার্কে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ ফুট উঁচু মূর্তি তৈরির সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের। এদিন কলকাতায় এসে এই মূর্তির শিলান্যাস ও ফলক উন্মোচন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও (Suvendu Adhikari)। পাশাপাশি ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা।

    পৈতৃক ভিটে দর্শন ও স্মরণ সভা

    ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) পৈতৃক বাসভবন।  মূর্তির শিলান্যাস ও ফলক উন্মোচনের পর সেখানেও যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের মধ্য় দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অমিত শাহ। এরপর সায়েন্স সিটির সংলগ্ন বিশ্ববাংলা মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত স্মরণ সভাতেও যোগ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সভা থেকেই ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে গোটা রাজ্যবাসীর কাছে তুলে ধরেন শাহ।

    নতুন সরকারি ঘোষণা

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, “ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) জন্মদিনে প্রতিবছরই ৬ জুলাই সরকারি ছুটি থাকবে। হুগলির জিরাটে তাঁর আদি পৈতৃক ভিটেতে মিউজিয়াম তৈরি করা হবে এবং সেখানেও একটি নতুন মূর্তিও বসানো হবে”। ইতিমধ্যেই বাড়িটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনুধাবন করে ভোল বদলে দেওয়ার কাজে হাত দিয়েছে রাজ্য সরকার।

    রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর থেকেই বাংলার এই মনিষীকে নিয়ে আবেগ ও চর্চা দুই-ই বেড়েছে। শুধু মুখের কথায় আটকে না থেকে, সরকার যেভাবে দ্রুততার সাথে ১২৫ ফুটের মূর্তির শিলান্যাস করলো, তা প্রশাসনিক তৎপরতারই প্রমাণ দেয়।

  • Baruipur: বারুইপুরকাণ্ডে ‘জিরো টলারেন্স নীতি, অপরাধীদের ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’, সাফ বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Baruipur: বারুইপুরকাণ্ডে ‘জিরো টলারেন্স নীতি, অপরাধীদের ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’, সাফ বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “অপরাধীদের ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট”- বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

    বারুইপুরের মর্মান্তিক ও নৃশংস নাবালিকা খুনের ঘটনাকে (Baruipur) কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। এই চরম সংবেদনশীল আবহে সোমবার রাজ্য সরকারের কড়া এবং আপসহীন অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নাবালিকা খুনের ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে রাজ্য প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলছে বলে স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ গঠন

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, বারুইপুরের এই বর্বরোচিত ঘটনার (Baruipur) গুরুত্ব এবং সংবেদনশীলতা বিচার করে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) গঠন করেছে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও ফাঁকফোকর না থাকে, তার জন্য এই দলের নেতৃত্বে রাখা হয়েছে আইজি (IG) পদমর্যাদার একজন অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ শীর্ষ পুলিশ আধিকারিককে। আইজি-র সরাসরি নেতৃত্বে পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স যৌথভাবে দিনরাত কাজ করছে। ঘটনার গভীরে গিয়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করাই মূল লক্ষ্য। মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর।

    তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান,”পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যেই অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ করেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অপরাধীদের জালে জড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর পলাতক দুই মূল অভিযুক্তের ফোনে হওয়া পারস্পরিক কথোপকথনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অডিও রেকর্ড বা সিডিআর (CDR) ইতিমধ্যেই পুলিশের হাতে। এই তথ্যপ্রমাণ মামলার গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে”।

    নির্যাতিতার পরিবারের পাশে সরকার

    তদন্তের পাশাপাশি নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের প্রতি রাজ্য সরকারের পূর্ণ সমবেদনা ও সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, ঘটনার পরেই নিজে উদ্যোগী হয়ে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওঁনার বাবার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছি। তিনি নৃশংসতার বিরুদ্ধে সঠিক ও দ্রুত বিচার চেয়েছেন। একজন অভিভাবক হিসেবে তাঁর এই দাবি অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গত। পরিবার যেভাবে জাস্টিস চেয়েছে এবং সরকার ও পুলিশের কাছ থেকে যে যে ধরণের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছে, তার সবটাই তারা পাবেন। এ বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ।”

    অপরাধীদের শাস্তির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি দেশের আইন ব্যবস্থার সর্বোচ্চ সাজার পক্ষে সওয়াল করে বলেন, “এই জঘন্য অপরাধের জন্য প্রথমটার তো বিচার দেবই, দোষীদের ফাঁসি বা ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট (Capital Punishment) দেব। কোনও অপরাধী যাতে পার না পায়, তা নিশ্চিত করা হবে।”

    স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ও হুঁশিয়ারি

    তবে শুধু অপরাধীদের শাস্তিই নয়, ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে মুখ্যমন্ত্রীকে। নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার পর স্থানীয় থানায় যে ‘মিসিং ডায়েরি’ বা নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছিল, তা নিয়ে পুলিশের তরফ থেকে কোনওরকম গড়িমসি বা গাফিলতি ছিল কি না, তা এবার মুখ্যমন্ত্রী নিজেই খতিয়ে দেখবেন। শুভেন্দু অধিকারী নিজে আগামিকাল বারুইপুরের পুলিশ সুপারের (SP) অফিসে যাচ্ছেন। নিখোঁজ ডায়েরি পাওয়ার পর লোকাল পুলিশের ঠিক কী ভূমিকা ছিল? তারা তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ করেছিল কি না? তার সম্পূর্ণ মূল্যায়ন বা অ্যাসেসমেন্ট করা হবে। বললেন মুখ্যমন্ত্রী।

    রবিবারের তাণ্ডব ও বিরোধীদের কড়া বার্তা

    নাবালিকা খুনের মূল ঘটনার (Baruipur) পাশাপাশি, গত রবিবার বারুইপুর ও সংলগ্ন এলাকায় যে ব্যাপক উত্তেজনা, ভাঙচুর ও আইন অমান্যের ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ানদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মূল খুনের মামলা ছাড়াও পুলিশ আরও তিনটি পৃথক স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে গণপিটুনি, সরকারি সম্পত্তি তথা রেললাইনে ভাঙচুর এবং পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের আহত করার ঘটনা।

    ঠিক কী ঘটেছিল?

    পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ১২ বছরের এক নাবালিকার দেহ রবিবার ভোরে পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার হয়। তাকে যৌন নির্যাতনের পর খুনের অভিযোগে কুলপি রোড ও রেললাইন অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায় উত্তেজিত জনতা। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চলে এবং গণপিটুনিতে এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়।

    মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) এই ধারাবাহিক ও কড়া বার্তার পর এটা অত্যন্ত স্পষ্ট যে, বারুইপুর কাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসন এখন অল-আউট অ্যাকশনে নামছে। একদিকে যেমন নাবালিকা খুনের মূল অপরাধীদের দ্রুত ফাঁসির কাঠে ঝোলানোর জন্য আইনি প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, অন্যদিকে ঘটনার দিন যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এলাকায় অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও সমান্তরালভাবে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এখন দেখার, আইজি-র নেতৃত্বে গঠিত ‘সিট’-এর তদন্তে আগামী দিনে আর কী কী চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।

  • Financial Times: অনুপ্রবেশ রোধে বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর নীতি ঘিরে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিতর্ক

    Financial Times: অনুপ্রবেশ রোধে বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর নীতি ঘিরে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং অনথিভুক্ত (Financial Times) বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর নীতি ঘিরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন জন্ম দিয়েছে নয়া বিতর্কের। প্রতিবেদনে (Bangladesh Pushback Policy) ভারতের পদক্ষেপের সমালোচনা করা হলেও, পাল্টা মতামতে প্রশ্ন উঠেছে—নিজেদের নাগরিকদের পরিচয় যাচাই ও গ্রহণে বাংলাদেশ দেরি করলে ভারতের সামনে বিকল্প পথ কী? প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর ঘটনাও বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদপত্রটির অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় রাতের অন্ধকারে সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।

    প্রতিবেদন ঘিরে বিতর্ক (Financial Times)

    বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কয়েকজন কর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা রাতের বেলায় সুযোগ বুঝে কিছু মানুষকে সীমান্তের ‘জিরো লাইনে’ পৌঁছে দিচ্ছেন। এক আধিকারিক বলেন, “ওরা (ভারত) অন্ধকার নামার অপেক্ষা করে, তারপর সীমান্তের গেট খুলে মানুষকে ঠেলে দেয়।” আর এক কর্তার দাবি, “সেখানে নারী এবং শিশুরাও থাকে। অনেক সময় তারা মাঝখানে আটকে পড়ে।” সংবাদপত্রটির আরও দাবি, পশ্চিমবঙ্গ থেকে মূলত বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, সীমান্তবর্তী ‘জিরো লাইনে’ বহু মানুষ আটকে থাকার অভিযোগও তুলেছে বাংলাদেশ। সমালোচকদের একাংশের বক্তব্য, প্রতিবেদনে অনুপ্রবেশের আইনি ও নিরাপত্তাজনিত দিকের চেয়ে ধর্মীয় পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, সীমান্ত সুরক্ষা ও অনথিভুক্ত বিদেশিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপকে ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদে’র সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

    অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে বহিষ্কার

    প্রতিবেদনে মানবাধিকার সংস্থার এক প্রতিনিধির বক্তব্যও প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, “ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বেশিরভাগ মুসলিম পরিবারকে বাংলাদেশে ফেলে আসছে অথবা সীমান্তে আটকে রাখছে। মুসলিমদের প্রতি এই বৈরিতা বন্ধ হওয়া উচিত।” প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যও (Financial Times)। তাঁর দাবি, “দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রায় ১০ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, এবং আরও প্রায় ১,৮০০ জনের বিরুদ্ধে একই প্রক্রিয়া চলছে।” অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার অবস্থানও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই অনুপ্রবেশ রোধ এবং বিদেশি ট্রাইব্যুনালে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পক্ষে সওয়াল করেছেন। সরকারি জমি ও বনভূমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের বিষয়টিও তাঁর সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে (Bangladesh Pushback Policy)।

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    প্রসঙ্গত, অতীতে গৌহাটি হাইকোর্ট অনুপ্রবেশকে অসমের জনবিন্যাসের পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, বিদেশি হিসেবে ঘোষিত ব্যক্তিদের ভারত থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব এই ইস্যুতে ভারতের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে দেশটির বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকেও সতর্ক করা হয়েছে যে, পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়তে পারে (Financial Times)। এদিকে, ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ভারত ইতিমধ্যেই ২,৬৮০টিরও বেশি ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ পাঠিয়েছে। তবে বহু ক্ষেত্রে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই যাচাই প্রক্রিয়া ঝুলে রয়েছে।

    আলোচনার ফোকাস পয়েন্ট

    এক প্রবীণ ভারতীয় আধিকারিকের  বক্তব্যও প্রতিবেদনে উদ্ধৃত হয়েছে। তিনি বলেন, “বহিষ্কারের জন্য গন্তব্য দেশের সহযোগিতা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে সেই সহযোগিতা প্রায় কখনওই পাওয়া যায় না।” তাঁর আরও দাবি, “সেই কারণেই আমাদের সামনে অন্য কোনও উপায় ছিল না।” এই ঘটনাকে ঘিরে (Bangladesh Pushback Policy) আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও, সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সমন্বয়—এই তিনটি বিষয়ই এখন উঠে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে (Financial Times)।

     

  • PM Modi in Jakarta: ইন্দোনেশিয়ায় রাজকীয় সংবর্ধনা! যুদ্ধবিমানের এসকর্টে জাকার্তায় পৌঁছল প্রধানমন্ত্রী মোদির বিশেষ বিমান

    PM Modi in Jakarta: ইন্দোনেশিয়ায় রাজকীয় সংবর্ধনা! যুদ্ধবিমানের এসকর্টে জাকার্তায় পৌঁছল প্রধানমন্ত্রী মোদির বিশেষ বিমান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক : তিন দেশ সফরের প্রথম পর্বে সোমবার ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় (PM Modi in Jakarta) পৌঁছালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করার পর সে দেশের বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিমানকে এসকর্ট করে নিয়ে আসে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রথায় অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এই সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অভ্যর্থনা জানায় ইন্দোনেশিয়া (India Indonesia Relation)। জাকার্তায় পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। বিমানবন্দরে তাঁকে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

    ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক

    প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর আমন্ত্রণে ৬ থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া সফরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ২০১৮ সালে ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ককে কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে উন্নীত করার পর এটি প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর এবং ইন্দোনেশিয়ায় তাঁর চতুর্থ সফর। সফরসূচি অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ায় থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রী সেখানের ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং রাষ্ট্রপতি প্রাবোও-র সঙ্গে ইয়োগিয়াকার্তার ঐতিহাসিক প্রাম্বানান মন্দির প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করবেন। এই মন্দির ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম হিন্দু মন্দির হিসেবে পরিচিত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন। এই ঐতিহাসিক মন্দিরকে দুই দেশের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক বন্ধনের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক সহযোগিতা

    এই সফরে প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের তৈরি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র রফতানিও এই সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া আসিয়ান অঞ্চলে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২৪.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ায় ১৩০টিরও বেশি ভারতীয় সংস্থা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করছে।

    গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে আলোচনা

    দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বের মোট নিকেল মজুদের প্রায় ২১ শতাংশ ইন্দোনেশিয়ার দখলে। পাশাপাশি তামা, বক্সাইট ও টিন উৎপাদনেও দেশটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উৎপাদক। ফলে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ ও সহযোগিতা বাড়ানো এই সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। প্রধানমন্ত্রীর এই তিন দিনের সরকারি সফরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পর্যালোচনার পাশাপাশি কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

    এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফর

    ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড-এই তিন দেশে ছয় দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশ ছাড়ার আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী জানান, সফরের প্রথম দফায় ৬ থেকে ৮ জুলাই তিনি ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তোর আমন্ত্রণে সে দেশ সফর করবেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি উল্লেখ করেন, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের ‘কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ বা ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে। ইন্দোনেশিয়া সফর শেষে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের আমন্ত্রণে মেলবোর্নে যাবেন নরেন্দ্র মোদি। এই সফরে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, মোবিলিটি, উদীয়মান ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, ক্রীড়া এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এর মাধ্যমে ভারত-অস্ট্রেলিয়া কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেও তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সফরের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে যাবেন। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছরের মার্চ মাসে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে গতি এসেছে, এই সফর তাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। এখানে মূলত অর্থনৈতিক, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হবে।

    ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ ও ‘মহাসাগর ভিশন’

    প্রধানমন্ত্রী মোদি জোর দিয়ে বলেন, পূর্ব ও দক্ষিণ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দুই গুরুত্বপূর্ণ দেশ ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া এবং পরবর্তীতে নিউজিল্যান্ড সফর ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ (Act East Policy) এবং ‘মহাসাগর ভিশন’ (MAHASAGAR Vision)-কে আরও সুদৃঢ় করবে। একই সঙ্গে এটি একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি হিসেবে প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর (Prabowo Subianto) ভারত সফরের পর এটি প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রথম দ্বিপাক্ষিক ইন্দোনেশিয়া সফর। জাকার্তায় পৌঁছে এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি লেখেন, “জাকার্তায় পৌঁছেছি। বিমানবন্দরে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর আন্তরিক অভ্যর্থনায় আমি আপ্লুত। ২০১৮ সালে আমরা ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ককে কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে উন্নীত করেছিলাম, যার সুফল দুই দেশের মানুষই পাচ্ছেন। এই সফর দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।”

     

     

     

     

  • Nirav Modi: নীরব মোদির প্রত্যর্পণ কার্যত নিশ্চিত, শেষ আইনি লড়াইয়েও ব্যর্থ পলাতক হিরে ব্যবসায়ী

    Nirav Modi: নীরব মোদির প্রত্যর্পণ কার্যত নিশ্চিত, শেষ আইনি লড়াইয়েও ব্যর্থ পলাতক হিরে ব্যবসায়ী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং পলাতক হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদির (Nirav Modi) ভারতে প্রত্যর্পণের (Extradition) পথ কার্যত পরিষ্কার হয়ে গেল। ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে করা তাঁর শেষ আইনি আবেদনও খারিজ হয়ে যাওয়ায় ব্রিটেনের পক্ষ থেকে তাঁকে ভারতে পাঠানোর ক্ষেত্রে আর কোনও আইনি বাধা নেই বলেই কূটনৈতিক সূত্রের দাবি। কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই তাঁকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে।

    শেষ আইনি ছাতাটাও উড়ে গেল নীরবের (Nirav Modi)

    প্রাপ্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নীরব মোদি তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ঠেকাতে যে সব আইনি সুযোগ ছিল, তার সবকটিই ব্যবহার করেছেন। যদিও প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বহুল আলোচিত মামলায় ভারতের জন্য বড় সাফল্য এল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। জানা গিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের দ্বারস্থ হন নীরব। ব্রিটেনের আদালতগুলিতে সমস্ত আইনি বিকল্প শেষ হয়ে যাওয়ার পরেই তিনি এই আবেদন করেছিলেন। এর আগে ব্রিটেনের সংশ্লিষ্ট আদালত ভারতের কাছে তাঁকে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। তার জেরে প্রয়োজনীয় নথি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সূত্রের দাবি, ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে নীরবের আবেদনটি গোপনীয়তার ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছিল। আদালতের নিয়ম অনুযায়ী, বিচারাধীন অবস্থায় এই ধরনের মামলার কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয় না। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্তে আদালত তাঁকে কোনও ধরনের (Extradition) অন্তর্বর্তী বা চূড়ান্ত স্বস্তি দেয়নি। তাই প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে তাঁর শেষ আইনি ছাতাটাও উড়ে গেল।

    পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলা

    এর আগে ব্রিটেনের উচ্চ আদালত নীরবকে (Nirav Modi) প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে নতুন করে আপিল করার অনুমতি দেয়নি। আদালত জানায়, ভারত সরকার যে কারাগারের পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং মানবিক ব্যবহারের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে, তা যথেষ্ট এবং গ্রহণযোগ্য। সেই কারণে প্রত্যর্পণ স্থগিত রাখার কোনও ভিত্তি আদালত খুঁজে পায়নি। বর্তমানে নীরব লন্ডনের ওয়ান্ডসওয়ার্থ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারপর থেকেই তিনি সেখানে রয়েছেন বিচারাধীন বন্দি হিসেবে। সিবিআই এবং প্রয়োগ অধিদফতর পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। বহু হাজার কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির অন্যতম মূল অভিযুক্ত হিসেবে তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছে ভারতীয় একাধিক তদন্তকারী সংস্থা। কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, আইনি জটিলতা কাটায় এখন ব্রিটেনের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সরকারি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেই নীরবকে ভারতে পাঠানো হতে পারে। প্রত্যর্পণের দিনক্ষণ যে কোনও সময় চূড়ান্ত হতে পারে বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

    ব্রিটেনের হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

    চলতি বছরের মার্চ মাসেও নীরব নতুন করে প্রত্যর্পণ মামলার শুনানি শুরু করার আবেদন জানিয়েছিলেন। লন্ডনের হাইকোর্টের কিংস বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে (Nirav Modi) দেয়। তাঁর আইনজীবীরা সঞ্জয় ভান্ডারি মামলার একটি রায়কে ভিত্তি করে নতুন করে শুনানির দাবি (Extradition) তুলেছিলেন। সঞ্জয় ভান্ডারি মামলায় ব্রিটেনের আদালত মানবিক কারণে প্রত্যর্পণ নাকচ করেছিল। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, ভারতে ফেরত পাঠানো হলে তাঁর ওপর নির্যাতনের আশঙ্কা রয়েছে। নীরবও একই ধরনের যুক্তি তুলে ধরে আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন। ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, নীরবের পরিস্থিতি ওই মামলার সঙ্গে তুলনীয় নয়, এবং তাঁর আশঙ্কার পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণও নেই। শেষ পর্যন্ত ব্রিটেনের হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে জানায়, নীরবের আবেদন কোনও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয় না। তাই প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত পুরনো মামলাটি ফের খোলার কোনও যৌক্তিকতা নেই। সেই সিদ্ধান্তের পর ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতেও স্বস্তি না পাওয়ায় নীরবের সামনে আর কোনও কার্যকর আইনি পথ খোলা রইল না। তাই বহু (Extradition) প্রতীক্ষিত এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে (Nirav Modi) পৌঁছে গিয়েছে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

     

  • Pahalgam Attack: পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদ! এনআইএ-র চার্জশিটে উঠে এল লস্কর প্রধানের নাম

    Pahalgam Attack: পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদ! এনআইএ-র চার্জশিটে উঠে এল লস্কর প্রধানের নাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার মূল চক্রী পাক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সইদ (Hafiz Saeed)। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের (Pahalgam Attack) তদন্তে সোমবার অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। জম্মুতে এনআইয়ের বিশেষ আদালতে পেশ করা অতিরিক্ত চার্জশিটে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা পাকিস্তানের জঙ্গি নেতা তথা লস্কর-ই তইবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদের নাম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে যুক্ত করেছে। এনআইএ-র তরফে হাফিজের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি, ২০২৩ এবং ইউএপিএ-র একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বলা হয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়েছেন সন্ত্রাসী সংগঠন লস্করের প্রতিষ্ঠাতা।

    সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে এনআইএ-র দাবি

    এর আগেও একাধিক সংঘঠিত অপরাধে এই পাক জঙ্গি নেতার যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে প্রতিবারই পাকিস্তান ভারতের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নয়া দিল্লির বিরুদ্ধে পাকবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করে আসছে। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের জেরে গত বছর মে মাসে দু’দেশের মধ্যে সংঘর্ষ নিয়েও পাকিস্তান বিশ্বব্যাপী ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কথা প্রচার করে। এর আগে গত ডিসেম্বরে এনআইএ’র প্রথম চার্জশিটে পাকিস্তান এবং জম্মু-কাশ্মীরের জঙ্গিদের নাম থাকলেও মূল ষড়যন্ত্রকারীর বিষয়ে তদন্ত চলমান বলে জানানো হয়েছিল। সোমবার জমা করা অতিরিক্ত চার্জশিটে এনআইএ বলেছে, পাকিস্তানে বসে লস্কর-ই তইবা নেতা পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে। তার পরিকল্পনা মত হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করা হয়। এই ব্যাপারে তদন্তকারীরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করেছে এনআইএ।

    কোন কোন ধারায় অভিযুক্ত হাফিজ

    এই মামলার তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত ১,৫৯৭ পৃষ্ঠার চার্জশিট পেশ করেছে এনআইএ। সোমবার এই মামলার সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করা হয় এনআইএ-র তরফে। যেখানে পহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত বিবরণ, সেখানে হাফিজ সইদের ভূমিকা-সহ অন্যান্য খুঁটিনাটি তথ্য প্রমাণ যুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই মামলায় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রথম চার্জশিট পেশ করেছিল এনআইএ। সেখানে পাক হ্যান্ডেলার সাজিদ জাট, অপারেশন মহাদেবে নিহত তিন সন্ত্রাসী এবং গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করে। একইসঙ্গে লস্কর ও তার শাখা টিআরএফ-এর ভূমিকা, হামলার পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পরিচালনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগামে জঙ্গিরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৬ জন পর্যটককে হত্যা করে। ওই ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় এনআইএ-র হাতে। নানা দেশি-বিদেশি সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এনআইএ নিশ্চিত হয়েছে, মুম্বই হামলার মত পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডও সরাসরি পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হয়েছিল। বিশদ তদন্তে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা জানতে পারে ওই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ছিল হাফিজ সইদ। ‌পাক জঙ্গি নেতার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সহিংতা ছাড়াও ইউএপিএ-র একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

  • Rath Yatra 2026: চিহ্নিত রথযাত্রা কমিটিগুলিকে ৫ লক্ষ অনুদান! বড় ঘোষণা নবান্নর, পুণ্যার্থীদের সুবিধায় জেলায় জেলায় ‘সেবা শিবির’

    Rath Yatra 2026: চিহ্নিত রথযাত্রা কমিটিগুলিকে ৫ লক্ষ অনুদান! বড় ঘোষণা নবান্নর, পুণ্যার্থীদের সুবিধায় জেলায় জেলায় ‘সেবা শিবির’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপি সরকারের আমলে রাজ্যে এই প্রথম রথযাত্রা (Rath Yatra 2026)। আর প্রথমবারেই বড় চমক নবান্নের। ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রাকে আরও জমকালো করতে এক ঐতিহাসিক প্যাকেজের ঘোষণা রাজ্য সরকারের। এবার রাজ্যের চিহ্নিত রথযাত্রা কমিটিগুলোকে ৫ লক্ষ টাকা করে বিশেষ অনুদান (West Bengal Govt Grant)। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও সরকার রথযাত্রার জন্য এত বড় আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করল।

    কী কী ঘোষণা করা হয়েছে?

    • কারা পাবেন এই ৫ লক্ষ টাকা? নবান্নের নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সব রথযাত্রা কমিটি কিন্তু এই অনুদানের টাকা পাবে না। জেলাশাসকদের দেওয়া তালিকার উপর ভিত্তি করেই রাজ্যের বাছাই করা ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হবে ৫ লক্ষ অর্থসাহায্য (West Bengal Govt Grant)।
    • রথের আকার ও ঐতিহ্য: কোন কমিটির রথযাত্রা কত বড়? তাদের ঐতিহ্য কেমন? তার উপর ভিত্তি করেই এই ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে।
    • টাকা দেওয়ার সময়সীমা: আগামী ১৬ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে রথযাত্রা (Rath Yatra 2026)। নবান্নর তরফে সাফ জানানো হয়েছে, উৎসব শুরুর ৩ দিন আগে অর্থাৎ ১৩ জুলাই নির্বাচিত কমিটিগুলোর হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হবে।
    • পুণ্যার্থীদের জন্য অভিনব ‘সেবা শিবির’ (Special Seva Camps): উৎসবের জৌলুস বাড়ানোর পাশাপাশি পুণ্যার্থীদের সুরক্ষাতেও সমান জোর দিচ্ছে প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতি জেলায় ১ লক্ষ টাকা খরচে তৈরি হবে বিশেষ ‘সেবা শিবির’। এই শিবিরগুলো থেকে বিশুদ্ধ পানীয় জল ও ওআরএস (ORS) পাবেন পুণ্যার্থীরা। এছাড়াও পাবেন, প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা। যেকোনও ধরণের আপৎকালীন প্রয়োজনীয় সহায়তাও।

    পুজো অনুদানেও বড় বদল! কী জানালেন মুখ্যমন্ত্রী?

    বিগত তৃণমূল জমানায় শুধু দুর্গাপুজোর ক্লাবগুলোকে অনুদান দেওয়া হতো, যা গত বছরের ভিত্তিতে এখনও পর্যন্ত ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। তবে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের নীতি কিছুটা আলাদা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সব পুজো কমিটিকে ঢালাও অনুদান দেওয়া নাও হতে পারে। শুধুমাত্র যেসব কমিটির প্রকৃত আর্থিক প্রয়োজন রয়েছে, তদন্ত করে তাদেরই অনুদান দেওয়া হবে। নবান্নের জোড়া পদক্ষেপে বঙ্গে রথযাত্রার জৌলুস এবং নিরাপত্তা, বহুগুণ বাড়বে বলে আশাবাদী উৎসবের আয়োজক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।

  • RG Kar Incident: আরও ১২০ দিন! আরজি করকাণ্ডে ৩ আইপিএসের সাসপেনশনের মেয়াদ বৃদ্ধি

    RG Kar Incident: আরও ১২০ দিন! আরজি করকাণ্ডে ৩ আইপিএসের সাসপেনশনের মেয়াদ বৃদ্ধি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পরই খুলেছে ‘আরজি কর ফাইলস’ (RG Kar Incident)। সাসপেন্ড করা হয়েছিল তদন্তে যুক্ত থাকা তিন আইপিএস আধিকারিককে। এবার বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তার সাসপেনশনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হল। আরও ১২০ দিন ওই তিন আধিকারিককে সাসপেন্ড অবস্থায় থাকতে হবে। আরজি করের ঘটনার সময় তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই সময়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার ছিলেন বিনীত গোয়েল। এ ছাড়া ডেপুটি কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন অভিষেক গুপ্ত (ডিসি নর্থ) এবং ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় (ডিসি সেন্ট্রাল)।

    কী ঘটেছিল , নতুন করে তদন্ত শুরু

    গত ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসক নাইট শিফট করতে যান। ওই রাতেই সব শেষ। সেমিনার হলে তাঁকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। এই ঘটনার তদন্তে নেমে সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। পরবর্তীকালে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্তভার নেয় সিবিআই। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নতুন করে আর কাউকে পাকড়াও করেনি। শেষমেশ শিয়ালদহ আদালত ধৃত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে। তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয়। তবে এই তদন্তে সন্তুষ্ট নন অভয়ার বাবা-মা। বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ফের নতুন করে আর জি কর ফাইলস খোলেন। বিজেপি সরকার তিন আইপিএস আধিকারিককেই সাসপেন্ড করে। তাঁদের বিরুদ্ধে আরজি কর পর্বে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। নতুন করে তদন্তের মুখোমুখি হচ্ছেন তিন জন। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কিংবা কোনও মন্ত্রী তাঁদের মেসেজে কিংবা ফোনে কোনও নির্দেশিকা জারি করেছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা। সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিন অফিসারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন 

    অপরাধের পর তথ্য আড়াল করা, নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ্যে আনা এবং হাসপাতালে গড়ে ওঠা ‘অসাধু চক্র’-কে আড়ালের চেষ্টার অভিযোগে তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনরোষ তুঙ্গে উঠেছিল। এই তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে আনা মূল অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল তদন্তে গাফিলতি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার। বিশেষ করে সেমিনার হলের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশের ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নির্যাতিতার দেহ উদ্ধারের জায়গাটি সুরক্ষিত ছিল কি না, তা নিয়ে ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের দাবি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। একইভাবে অপরাধের পরবর্তী সময়ে সেমিনার হলের ‘চরিত্র বদল’ এবং রাতদখলের রাতে ভাঙচুরের ঘটনায় ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন আন্দোলনকারীরা।

  • Jirat Museum: ‘শিকড়ের টানে জাগল জিরাট’, রাতারাতি খবরের শিরোনামে হুগলির অখ্যাত গ্রাম!

    Jirat Museum: ‘শিকড়ের টানে জাগল জিরাট’, রাতারাতি খবরের শিরোনামে হুগলির অখ্যাত গ্রাম!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হুগলির প্রত্যন্ত গ্রাম জিরাট। এই মাটিতে কোনওদিনও পা-ই রাখেননি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্য়ায় (Shyama Prasad Mukherjee)। কিন্তু আজ সেখানেই তৈরি হচ্ছে নতুন ইতিহাস। রাতারাতি বদলে গেল হুগলির এই অচেনা গ্রামের ভাগ্য! কেন জানেন?

    একদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাত ধরে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ ফুটের বিশাল মূর্তির (Shyama Prasad Statue) শিলান্যাস। অপরদিকে, শিরোনামে হুগলির প্রত্যন্ত গ্রাম জিরাট। এই গ্রামেরই স্মৃতিমন্দির পাড়ায় অবস্থিত শ্যামাপ্রসাদের পৈতৃক ভিটে। এবার সেখানেই মিউজিয়াম (Jirat Museum) তৈরির ঘোষণা রাজ্য সরকারের।

    শিকড়ের টানে জিরাটের স্মৃতিমন্দির পাড়া

    কলকাতা থেকে হুগলির জিরাটের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার। ব্যান্ডেল-কাটোয়া রেল লাইনের জিরাট স্টেশন থেকে মেরেকেটে দেড় কিলোমিটার এগোলে রাস্তার উপরেই চোখে পড়বে এই পুরোনো বাড়ি। এটাই ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) দাদু গঙ্গাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভিটে। পেশায় তিনি ছিলেন চিকিৎসক। যদিও পরবর্তীতে গঙ্গাপ্রসাদবাবু পরিবার নিয়ে কলকাতায় চলে যান। ফলে আশুতোষ মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু করে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-সবার পড়াশোনা, বড় হয়ে ওঠা এবং কর্মজীবন কেটেছে কলকাতাতেই।

    উৎসবের আমেজে জিরাট

    স্থানীয় গ্রামবাসীদের মতে, একসময় বেশ কয়েক কাঠা জমি নিয়ে ছিল এই সমৃদ্ধ বাড়িটি। কিন্তু সময়ের নিয়মে পরবর্তী প্রজন্মের হাত ধরে জমি বিক্রি হতে হতে এখন বাড়ি ও জমি মিলিয়ে অবশিষ্ট মাত্র ৬-৭ কাঠা। বাড়িটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনুধাবন করে ভোল বদলে দেওয়ার কাজে হাত দিয়েছে রাজ্য সরকার। উঠোনের জঙ্গল, আগাছা ছেঁটে রূপ দেওয়া হচ্ছে হেরিটেজ স্থলের। তৈরি হচ্ছে মিউজিয়াম (Jirat Museum)। আর সরকারের এই উদ্যোগে গ্রামজুড়ে এখন বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।

    ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বা তাঁর বাবা ‘বাংলার বাঘ’ আশুতোষ মুখোপাধ্যায়—কোনওদিনও সশরীরে এই গ্রামে পা রাখেননি। তাও আজ ঘরে ঘরে আনন্দের বন্যা! কারণ, এই মহানায়কের শিকড়ের টানেই আজ বিশ্বদরবারে নতুন পরিচয় পাচ্ছে জিরাট গ্রাম। জিরাটে পর্যটকদের ঢল, বাড়ছে পরিচিতি। যা রাতারাতি বদলে দিচ্ছে এলাকার অর্থনীতি। জিরাটের মাটি আজ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতি বুকে নিয়ে এক নতুন রূপকথার জন্ম দিচ্ছে।

    • স্মৃতির কোলাজ: এই গ্রামেই রয়েছে আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের নামের প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাঠাগার। পাশাপাশি, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) নামের একটি ক্লাবও রয়েছে।

    চুরির আতঙ্ক পেরিয়ে এবার রূপান্তরের পালা

    অতীতে এই পৈতৃক বাড়িতে দু-দুবার চুরির ঘটনা ঘটায় গ্রামবাসীদের মনে একটা আতঙ্ক ছিল। কিন্তু সেই সব এখন অতীত। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ক্লাবের মাঠেই এবার সরকারি উদ্যোগে মহাসমারোহে ভারত কেশরীর জন্মদিবস পালন করা হয়। পরম শ্রদ্ধায় ঘরের ছেলের ইতিহাসকে আগলে রেখে এক নতুন ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন জিরাটের বাসিন্দারা।

LinkedIn
Share