মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জঙ্গলমহলের জেলা ঝাড়গ্রামেও গোঁজ নিয়ে অস্থির অবস্থা তৃণমূলের (TMC)। দলের টিকিট না পেয়ে জেলা পরিষদের বিদায়ী সভাধিপতি মাধবী বিশ্বাস, একাধিক কর্মাধ্যক্ষ, দলের বিদায়ী পঞ্চায়েত প্রধান, এসটি সেলের নেতার মতো অনেকেই জেলা পরিষদ আসনে প্রার্থী হয়ে গিয়েছেন। একাধিক আসনে এক বা একাধিক কুড়মি নির্দল প্রার্থীও রয়েছেন। সূত্রের খবর, দলে সম্মানজনক পদ কিংবা জেলা পরিষদের মেন্টরের মতো আলঙ্কারিক পদ দেওয়ার টোপেও কাজ হচ্ছে না। ২০১৮ সালে ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের আসন সংখ্যা ছিল ১৬। সেবার ১৩টি আসনে জিতে জেলা পরিষদ দখল করেছিল তৃণমূল। এই জেলা পরিষদে এবার আসন সংখ্যা ১৯। তবে তৃণমূলের হয়ে লড়তে চেয়ে মনোনয়ন জমা পড়েছে ৩১টি। শেষ পর্যন্ত কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে এবার জেলা পরিষদের ১২টি আসনেই তৃণমূলের গোঁজ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
কোথায় কোথায় গোঁজ প্রার্থী (TMC)?
৩ নম্বর আসনে তৃণমূলের ‘অফিসিয়াল’ প্রার্থীর সঙ্গে দলের হয়েই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ সুজলা তরাই। ৫ নম্বর আসনে তৃণমূল (TMC) প্রার্থীর বিরুদ্ধে এক নির্দলকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন জেলা পরিষদের এক বিদায়ী কর্মাধ্যক্ষ। ৬ নম্বর আসনে তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছেন নির্দল কুড়মি প্রার্থী। ৭ নম্বর আসনে তৃণমূল প্রার্থীর সঙ্গে দলের হয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বিদায়ী বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ মামনি মুর্মু। ঝাড়গ্রাম ব্লকের সাপধরা অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি দীননাথ সিংও ওই আসনে দলের হয়েই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ৮ নম্বর আসনের তৃণমূল প্রার্থী কমল মাহাতোর অস্বস্তি বাড়িয়েছেন তপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও উদয়শঙ্কর সেন। দু’জনেই ওই আসনে তৃণমূলের হয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তপন জেলা পরিষদের বিদায়ী কৃষি কর্মাধ্যক্ষ আর উদয়শঙ্কর চুবকা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিদায়ী প্রধান।
উদয়শঙ্করের কথায়, “তৃণমূল যাঁকে প্রার্থী করেছে, এলাকায় তাঁর ২১০টি আসনে গ্রহণযোগ্যতা নেই। তাই প্রার্থী হয়েছি।” ওই আসনে দু’জন নির্দল কুড়মি প্রার্থীও আছেন। ১২ নম্বর আসনে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন যিনি, সেই কার্তিক শিট কয়েকদিন আগে পর্যন্ত সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতা ছিলেন। ওই আসনেই মনোনয়ন দিয়েছেন বিদায়ী সভাধিপতি মাধবী বিশ্বাস। তৃণমূলের হয়েই মনোনয়ন দিয়েছেন তিনি। ১৭ নম্বর আসনে তৃণমূলের (TMC) হয়েই মনোনয়ন দিয়েছেন বিদায়ী মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ সুপ্রিয়া মাহাতো। যদিও তিনি টিকিট পাননি। ১৮ নম্বর আসনে তৃণমূল প্রার্থী কুনামি হাঁসদা। তৃণমূলের জেলা এসটি সেলের সভাপতি অর্জুন হাঁসদাও ওই আসনে তৃণমূলের হয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ১৯ নম্বর আসনের তৃণমূল প্রার্থী নিশীথ মাহাতোর বিপক্ষে আবার দাঁড়িয়ে পড়েছেন তিনজন নির্দল কুড়মি প্রার্থী। এই জেলায় ৮টি পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের গোঁজ প্রার্থীর সংখ্যা ১১০ জন। ৭৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০০৭টি আসনে তৃণমূলের গোঁজ প্রার্থী আছেন ৩০৯ জন। জেলার একাধিক প্রবীণ তৃণমূল নেতাকে বিক্ষুব্ধদের বোঝানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কী বলছেন জেলা তৃণমূলের সভাপতি (TMC)?
রবিবার বিকেলে জেলা তৃণমূলের কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠকে দলের গোঁজ প্রার্থীদের উদ্দেশে জেলা তৃণমূলের (TMC) সভাপতি দুলাল মুর্মু বলেন, “দলের আদর্শে বিশ্বাসী হলে তাঁদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করা উচিত।” না হলে দলে আর ফেরা যাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দুলাল।
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।
Leave a Reply