Ram Mandir: “গোয়া নয়, মানুষজন ঘুরতে আসছেন অযোধ্যায়”, উচ্ছ্বসিত রামনগরীর হোটেল ব্যবসায়ী

ed(3)

রামনগরী অযোধ্যা-চার

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, অযোধ্যা থেকে ফিরে: বড়দিনের দুপুর নাগাদ পা পড়ল অযোধ্যায় (Ram Mandir)। তবে কলকাতার মতো বড়দিন ঘিরে কোনও অনুষ্ঠানই নজরে পড়ল না। রাস্তার দোকানগুলিতে নেই সান্তার টুপিও। বদলে হনুমানের গদা, জয় শ্রীরাম লেখা পতাকা বিক্রি হচ্ছে। রাম মন্দির থেকে সরযূ নদী পর্যন্ত রাস্তার নাম রামপথ। আগে সংকীর্ণ রাস্তা থাকলেও বর্তমানে তা বেশ চওড়া করেছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। রামপথের পাশেই নজরে পড়ল বিরাট পার্ক। শিশুদের খেলাধূলা ও বড়দের শরীরচর্চার জন্য নির্মিত ওই পার্কের গেট থেকে দেওয়াল, ভিতরে বসার জায়গাতেও রয়েছে সনাতন সংস্কৃতির ছোঁয়া। পার্কের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে মন্দিরের মতো একটি নির্মাণ। সেখানেই বসানো হয়েছে ধ্যানরত এক মুনির মূর্তি। পার্কের পিছনেই ছিল আমাদের হোটেল ‘প্রেমসি গেস্ট হাউস’। আমাদের থাকার ব্যবস্থা ছিল গেস্ট হাউসের দ্বিতীয় তলে। রাম মন্দির থেকে দূরত্ব ১ কিমির মধ্যেই। হোটেল মালিক ধর্মেন্দ্র মিশ্র। পেশায় দিল্লিতে ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন বলে জানা গেল। ৩৬ বছর বয়সী ধর্মেন্দ্র মিশ্র জানালেন, অযোধ্যায় ভিড় আগের থেকে অনেক বেড়েছে। রাম ভক্তদের পা পড়ছে তাঁর হোটেলেও।

রমরমিয়ে চলছে হোটেল ব্যবসা (Ram Mandir)

প্রসঙ্গত, অযোধ্যায় রাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে হোটেল ব্যবসায়ীদের যে বিপুল লক্ষ্মীলাভ হতে চলেছে, তা বোঝাই যায়। ইতিমধ্য়ে অযোধ্যার স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মন্দির উদ্বোধনের পর গড়ে ৩ লাখ মানুষের পা পড়তে চলেছে অযোধ্যায় (Ram Mandir)। হোটেল ব্যবসা যে রমরমিয়ে চলবে, তা বোঝা যায় ধর্মেন্দ্র মিশ্রদের দেখেই। যাঁরা ইঞ্জিনিয়ারের চাকরি ছেড়ে এসে হোটেল ব্যবসায় মনোনিবেশ করেছেন। ধর্মেন্দ্র মিশ্রর সঙ্গে কথোপথনের সময় জানা গেল, রাম মন্দির উদ্বোধনের সময় তাঁর গেস্ট হাউসে এসে থাকবেন দূরদর্শনের মহাভারত সিরিয়ালের যুধিষ্ঠির গজেন্দ্র চৌহান। অযোধ্যার বিপুল উন্নয়নের জন্য মোদি-যোগীর ভূয়সী প্রশংসা শোনা গেল ধর্মেন্দ্র মিশ্রর গলায়।

কী বলছেন ধর্মেন্দ্র মিশ্র? (Ram Mandir)

তাঁর নিজের ভাষায়, ‘‘রাম মন্দির উদ্বোধনের দিন এগিয়ে আসছে। ভগবান রামচন্দ্র আমাদের আদর্শ। তাঁর মন্দিরে ফেরার দিনক্ষণ স্থির হয়েছে। এতে আমি একদিকে খুশি এবং তার সঙ্গে গর্বিত। মোদিজি ও যোগীজির নেতৃত্বে উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে অযোধ্যা। অযোধ্যা বর্তমানে আগের থেকে অনেক বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়েছে। আগে গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থাও ছিল না। এখন উন্নত গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থার কারণে যানজট হয় না। রাস্তাও চওড়া হয়েছে।’’ ধর্মেন্দ্র মিশ্রর আরও সংযোজন, ‘‘আগে মানুষজন ছুটি কাটাতে গোয়া যেত। সমুদ্র সৈকতে সময় কাটাত। এখন মানুষজন অযোধ্যায় আসছেন। সন্তানরা সংস্কার পাচ্ছেন অযোধ্যায় এসে।’’ তাঁর কাছ থেকেই জানা গেল ২২ জানুয়ারি কতটা আঁটোসাঁটো নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে রাম মন্দিরের (Ram Mandir) উদ্বোধনের। ধর্মেন্দ্র মিশ্র জানালেন, আমাদের ‘‘আমাদের মতো হোটেল ব্যবসায়ীদের নিয়ে ইতিমধ্যে অযোধ্যার প্রশাসন একটি বৈঠক সম্পন্ন করেছে। সেখানে জানানো হয়েছে ১৮ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত হোটেলের ঘর দিতে হবে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে। রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট অথবা প্রধানমন্ত্রীর দফতরের চিঠি সঙ্গে থাকলে তবেই মিলবে হোটেলের ঘর।’’ ধর্মেন্দ্র মিশ্রদের মতো আরও হাজারো হোটেল ব্যবসায়ী লক্ষ্মীলাভের আশায়  মন্দির উদ্বোধনের জন্য দিন গুনছেন।

 

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share