৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ
সপ্তদশ পরিচ্ছেদ
১৮৮৬, ১৮ই এপ্রিল
বুদ্ধদেব কি ঈশ্বরের অস্তিত্ব মানতেন? নরেন্দ্রকে শিক্ষা
বেলা নয়টা হইয়াছে, ঠাকুর মাস্টারের সহিত কথা কহিতেছেন, ঘরে শশীও আছেন।
শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) — নরেন্দ্র আর শশী কি বলছিল — কি বিচার করছিল?
মাস্টার (শশীর প্রতি) — কি কথা হচ্ছিল গা?
শশী — নিরঞ্জন বুঝি বলেছে?
শ্রীরামকৃষ্ণ — ‘ঈশ্বর নাস্তি অস্তি’, এই সব কি কথা হচ্ছিল (Kathamrita)?
শশী (সহাস্যে) — নরেন্দ্রকে ডাকব?
শ্রীরামকৃষ্ণ — ডাক। [নরেন্দ্র আসিয়া উপবেশন করিলেন।]
(মাস্টারের প্রতি) — “তুমি কিছু জিজ্ঞাসা কর। কি কথা হচ্ছিল, বল।”
নরেন্দ্র — পেট গরম হয়েছে। ও আর কি বলবো।
শ্রীরামকৃষ্ণ — সেরে যাবে।
মাস্টার (সহাস্যে) — বুদ্ধ অবস্থা কিরকম?
নরেন্দ্র — আমার কি হয়েছে, তাই বলবো।
মাস্টার — ঈশ্বর আছেন — তিনি কি বলেন?
নরেন্দ্র — ঈশ্বর আছেন কি করে বলছেন? তুমিই জগৎ সৃষ্টি করছো। Berkely কি বলেছেন, জানো তো?
মাস্টার — হাঁ, তিনি বলেছেন বটে — Their esse is percipii (The existence of external objects depends upon their perception.) — “যতক্ষণ ইন্দ্রিয়ের কাজ চলেছে, ততক্ষণই জগৎ!’
পূর্বকথা—তোতাপুরীর ঠাকুরকে উপদেশ—“মনেই জগৎ”
শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— ন্যাংটা বলত, “মনেই জগৎ, আবার মনেতেই লয় হয়।’
“কিন্তু যতক্ষণ আমি আছে, ততক্ষণ সেব্য-সেবকই ভাল।”
নরেন্দ্র (মাস্টারের প্রতি) — বিচার যদি কর, তাহলে ঈশ্বর আছেন, কেমন করে বলবে? আর বিশ্বাসের উপর যদি যাও, তাহলে সেব্য-সেবক মানতেই হবে। তা যাদি মানো — আর মানতেই হবে — তাহলে দয়াময়ও বলতে (Kathamrita) হবে।

Leave a Reply