Purulia: অযোধ্যা পাহাড়ে শ্রীরামচন্দ্রের ‘পাতালভেদী’ বাণে সৃষ্টি হয়েছিল সীতাকুণ্ডের

Purulia

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র পুরুলিয়া (Purulia) জেলার অযোধ্যা পাহাড়। পুরুলিয়া শহর থেকে ৪০-৪২ কিমি দূরে সবুজের গালিচায় মোড়া আর ঢেউ খেলানো পাহাড় দিয়ে সাজানো অযোধ্যা শুধুমাত্র প্রকৃতিপ্রেমিক পর্যটকেরই নয়, ট্রেকার এবং পাখি দেখতে যাঁরা ভালোবাসেন, তাঁদের জন্যও এক আদর্শ স্থান। আদিবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলটি শাল, শিরীষ, মহুয়া, সেগুন প্রভৃতি গাছের ছায়ায় আবৃত। চারদিকে উঁকি দিচ্ছে একের পর এক পাহাড়ের সারি। এখানকার সর্বোচ্চ গিরিশিখরটির নাম “গোর্গাবুরু, যার উচ্চতা প্রায় ২৮৫০ ফুট। অযোধ্যা পাহাড়ের অরণ্যের ব্যাপ্তি প্রায় ৩৪৫১৭ একর। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসা এই অরণ্যে বাস হরিণ, নেকড়ে, বুনো শুকর, হাতি প্রভৃতি প্রাণীর। আর দেখা মেলে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির।

পুরাণে কী বলা আছে?

পুরাণ মতে, অজ্ঞাতবাসকালে দণ্ডক যাওয়ার পথে শ্রীরামচন্দ্রের সঙ্গে এই পাহাড়ের পথে যাচ্ছিলেন সীতাদেবী। সেই সময় তাঁর হঠাৎ-ই খুব তৃষ্ণা পায়। সেই তৃষ্ণা মেটানোর জন্য তখন “পাতালভেদী” বাণ প্রয়োগ করে মাটি-পাথরের বুক থেকে জল নির্গত করেন শ্রীরামচন্দ্র। সৃষ্টি হয় এক কুণ্ড বা কূপ (Purulia)। এখনও বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন “দিসুম সেন্দ্রা” অর্থাৎ শিকার উৎসবে দূর-দূরান্ত থেকে আসা আদিবাসী মানুষ এখানে থাকা দুটি জলপ্রপাত, বামনি ফলস আর তুরগা ফলসে স্নান করেন। তারপর এই সীতাকুণ্ড, যার অপর নাম “বুড়বুড়ি”, তার পবিত্র জল পান করে পবিত্র হয়ে ” বুইয়া” নিনাদে মেতে ওঠেন শিকার করার জন্য। এই বুড়বুড়ি কুণ্ডের সামনের শাল জঙ্গলে রয়েছে “সীতাকেশ”। সীতাদেবীর পায়ের চিহ্নও রয়েছে “সীতা চাতালে”। দেখে নেওয়া যায় যোগিনী বা ময়ূরী পাহাড়ের চূড়ায় বসে চারদিকের অপূর্ব সুন্দর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

আর কী কী দেখবেন? (Purulia)

এছাড়াও এক যাত্রাতেই দর্শন করে নেওয়া যায় অযোধ্যা পাহাড়ে চড়ার শিক্ষাপ্রদান কেন্দ্র, এশিয়ার দ্বিতীয় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি, ঠান্ডেশ্বরী ফলস, মুরগুমা ড্যাম প্রভৃতি। আর প্রাণ ভরে উপভোগ করে নেওয়া যায় প্রকৃতির অমলিন, অনাবিল, সবুজ সৌন্দর্য।

কীভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন? (Purulia)

যাতায়াত–হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেনে যেতে হবে পুরুলিয়া। যাচ্ছে ১২৮২৭ পুরুলিয়া এক্সপ্রেস , ১২৮৮৩ রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস প্রভৃতি ট্রেন। পুরুলিয়া থেকে বাস অথবা গাড়ি নিয়ে যেতে হবে অযোধ্যা পাহাড়। থাকা খাওয়া–এখানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন নিগমের বনবাংলো, পুরুলিয়া (Purulia) পাম্পড স্টোরেজ প্রজেক্টের গেস্ট হাউজ, ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের আশ্রম। এছাড়াও রয়েছে কয়েকটি হোটেল। প্রয়োজনে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে নেওয়া যায় এগুলিতেও।

 

দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share