মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের মাওবাদী-অধ্যুষিত সুকমা জেলায় (Sukma) এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাধীনতার দীর্ঘ সাত দশক পর অবশেষে বিদ্যুতের (Electricity) আলোয় আলোকিত হলো দুর্গম গোগুন্ডা গ্রাম। জেলা প্রশাসনের নিরলস প্রচেষ্টা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতায় এই অসম্ভব কাজ সম্ভব হয়েছে।
ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতা (Sukma)
গোগুন্ডা গ্রামটি (Sukma) সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৫০ মিটার উচ্চতায় একটি পাহাড়ের ওপর অবস্থিত। ভৌগোলিক দুর্গমতা এবং মাওবাদী দাপটের কারণে দশকের পর দশক ধরে এই গ্রামটি উন্নয়নের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। এর আগে বিদ্যুৎ সংযোগের (Electricity) জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাহাড়ের ওপরে নিয়ে যাওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। সুকমার জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার এই সাফল্যকে স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের জয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “গোগুন্ডা গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছানো কেবল একটি পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং এটি ওই অঞ্চলের মানুষের মনে সরকারের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার একটি বড় পদক্ষেপ।”
নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা
এই গ্রামটিতে (Sukma) বিদ্যুৎ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ অবদান রয়েছে। সিআরপিএফ (CRPF)-এর ৭৪তম ব্যাটালিয়নের একটি ক্যাম্প এবং একটি ‘ফরওয়ার্ড অপারেটিং বেস’ (FOB) স্থাপন করার পরই ওই অঞ্চলে সরকারি উন্নয়নের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়। জওয়ানদের কড়া পাহারায় বিদ্যুৎ (Electricity) দফতরের কর্মীরা পাহাড়ি পথে বিদ্যুতের খুঁটি ও বসানোর কাজ সম্পন্ন করেন।
উন্নয়নের নতুন দিগন্ত
শুধুমাত্র বিদ্যুৎ (Electricity) নয়, গ্রামটিতে এখন আধুনিক সভ্যতার অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পৌঁছাতে শুরু করেছে। প্রশাসনের পক্ষ এখনও পর্যন্ত যা যা কাজ চলছে তা হল-
- ● গ্রামটিতে পাকা রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে।
- ● একটি নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে।
- ● গ্রামবাসীদের জন্য রেশন দোকান (PDS) এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
গ্রামবাসীদের প্রতিক্রিয়া
গ্রামের (Sukma) বয়োজ্যেষ্ঠ থেকে শুরু করে শিশুরা—সবাই ঘরে আলোর বাল্ব জ্বলতে দেখে উচ্ছ্বসিত। গ্রামবাসীরা বলেন, “এতদিন আমরা অন্ধকারের মধ্যে বসবাস করতাম এবং রান্নাবান্না বা যাতায়াতের জন্য কেরোসিন তেলের বাতির ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন বিদ্যুৎ (Electricity) আসায় আমাদের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন হবে এবং শিশুদের পড়াশোনায় অনেক সুবিধা হবে।”

Leave a Reply