Suvendu Adhikari: বাংলাদেশে আক্রান্ত সংখ্যালঘুরা, হিন্দুদের জেগে ওঠার ডাক দিলেন শুভেন্দু

Suvendu_Adhikari_(3)

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিন্ময় প্রভু গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে উত্তাল বাংলাদেশ। সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর লাগাম ছাড়া অত্যাচার হচ্ছে। বাংলাদেশ মৌলবাদীদের হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার পথে নেমেছে সনাতনী সমাজ। হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে ৫০টি সংগঠনের ডাকে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। আর সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেখানে মঞ্চ থেকেই হিন্দুদের জেগে ওঠার বার্তা দিলেন বিরোধী দলনেতা।

কী বললেন শুভেন্দু ? (Suvendu Adhikari)

এদিন সভা থেকে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, ‘‘ওপারে যাহা ইউনূস, এপারে তাহাই মমতা। ওপারের মতো এপারেও হিন্দুদের ওপর হামলা। ফালাকাটা, গার্ডেনরিচ, শ্যামপুর, বেলডাঙার মতো ঘটনা ঘটেছে। বিরোধীদের বেলডাঙায় যেতে পর্যন্ত দেয়নি। মমতা ও ইউনূসের মধ্যে পার্থক্য নেই। এই লড়াই বেঁচে থাকার লড়াই। জাগো হিন্দু জাগো।’’ বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ‘গণহত্যা’ হিন্দু নিপীড়নের একের পর এক ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। সুনামগঞ্জে একের পর এক বাড়ি-দোকান ভাঙচুর। ভাঙা হয়েছে অন্তত ২টি মন্দির। শুভেন্দু বলছেন, ‘‘এখনও বাঙালি হিন্দুরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি। একুশে মমতা আমাকে হারাতে এসেছিলেন, আমি হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হতে বলেছিলাম। নন্দীগ্রামে ৬৫% হিন্দুকে ঐক্যবদ্ধ করে মমতাকে হারিয়েছিলাম। রাজ্যে ওয়াকফ বোর্ড থাকলে সনাতনী বোর্ড হবে না কেন? কেন লাভ জেহাদ, ধর্মান্তরণের বিরুদ্ধে আইন হবে না? হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, এই লড়াই চলবে।’’

আরও পড়ুন: আজাদ ময়দানে চাঁদের হাট, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ

বাংলাদেশের পতাকা অবমাননায় গ্রেফতারি নিয়ে সরব

এদিন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, ‘‘ভারতের পতাকার অবমাননা হতে দেখলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও পদক্ষেপ করেন না। কিন্তু বাংলাদেশের (Bangladesh) পতাকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জনানোয় ৩ জনকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মুক্তি না দিলে আমরা বারাসতেও আন্দোলন করব।’’ জানা গিয়েছে, বাংলাদেশে ভারতের পতাকার অবমাননার প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যায় বারাসত স্টেশনে বাংলাদেশের পতাকা পায়ে মাড়াতে দেখা যায় ৩ যুবককে। আর্য দাস, সুবীর দাস এবং রিপন চট্টোপাধ্যায় নামে ওই তিন যুবককে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করে বারাসত থানার পুলিশ। ধৃতরা বজরং দলের সদস্য বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশদ্বারে ভারতীয় পতাকা এঁকে রাখা হয়েছে। তার ওপর দিয়েই যাতায়াত করছেন ছাত্রছাত্রীরা। ভারতীয় জাতীয় পতাকার এই অবমাননার অভিযোগে এখনও সেদেশে কেউ গ্রেফতার হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়নি।

শৌর্য দিবস পালনের ডাক

বিরোধী দলনেতা (Suvendu Adhikari) আরও বলেন, ‘‘১৯৭১-এ পাকিস্তানকে সরাতে দেড় বছর লেগেছিল। আমাদের জন্যই বাংলাদেশ তৈরি হয়েছে। ভারতীয় সেনা বাংলাদেশের জন্য কী করেছিল, মনে নেই? বিএনপি নেতা তাঁর স্ত্রীর শাড়ি পোড়াচ্ছেন! ভারতীয় পণ্য বয়কটের কথা বলছেন।’’ আগামীকাল ৬ ডিসেম্বর শুক্রবার শৌর্য দিবস পালনের ডাক দিয়েছেন শুভেন্দু। শ্যামবাজার থেকে সিঁথির মোড় পর্যন্ত মিছিল রয়েছে। বাংলাদেশে লাগাতার হামলার প্রতিবাদ করায় এবার আক্রান্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। মৌলবাদীদের হাতে আক্রান্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কুশলবরণ চক্রবর্তী। বেধড়ক মারধর করা হয় অধ্যাপককে, ভর্তি রয়েছেন হাসপাতালে।

বাংলাদেশে কি তালিবান-শাসনের ছায়া?

এদিকে বাংলাদেশে কি তালিবান-শাসনের ছায়া? এমনই প্রশ্ন তুলে দিলেন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালের। ভিডিও পোস্ট করে অগ্নিমিত্রা লিখেছেন, ‘‘আফগানিস্তানের অত্যাচারী শাসনের সমান্তরালে বাংলাদেশে নারীদের বিরুদ্ধে একটি জঘন্য ফতোয়া ঘোষণা করা হয়েছে। সবথেকে বিস্ময়কর বিষয় হল, এটা ঘটেছে গোপালগঞ্জে। যে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাড়ি। গোপালগঞ্জের গোহরডাঙায় কট্টরপন্থী মুসলিমরা মহিলাদের বাজারে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আজ বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে যে ফতোয়া। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক একটি জেলায় এই ধরনের পশ্চাদপসরণমূলক বিধিনিষেধ আরোপ করা লজ্জাজনক এবং উদ্বেগজনক।’’

 

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share