Tag: মাধ্যম

  • Loneliness in Children: সন্তানের সামাজিক আচরণে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে একাকিত্ব! কী প্রভাব পড়ছে শিশুমনে?

    Loneliness in Children: সন্তানের সামাজিক আচরণে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে একাকিত্ব! কী প্রভাব পড়ছে শিশুমনে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    একরত্তি ছানা! বাবা-মায়ের সঙ্গ পায়নি। অন্যদের সঙ্গেও মানিয়ে নিতে পারে না। সময় মতো খাবার পেলেও, সে ভালো নেই। পুষ্টিকর খাবার শরীরের চাহিদা মেটালেও, মনের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। সুস্থ রাখতে তাকে দেওয়া হল একখানা পুতুল! আর তাতেই বাজিমাত! সর্বক্ষণের সঙ্গী হয়ে উঠল সেই পুতুল! ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে একরত্তি! মিশতে শেখে। মানিয়ে নিতেও শেখে! জাপানের চিড়িয়াখানার সেই একরত্তি ম্যাকাকের (এক প্রজাতির বাঁদর) একাকিত্ব আর সেরে ওঠার ঘটনায় উত্তাল বিশ্ব। তবে তার এই একাকিত্বের সমস্যা কেবল পশুজগতের সমস্যা নয়। মানব শিশুর জীবনেও একাকিত্বের সমস্যা (Loneliness in Children) প্রবল ভাবে বাড়ছে‌।‌ সামাজিক আচরণে (Social Isolation) যার প্রভাব গভীর ভাবে পড়ছে! এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুর আচরণ (Child Mental Health) সংযত ও স্বাভাবিক রাখার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে এই একাকিত্ব!

    শিশুর আচরণে কেন সমস্যা হয়ে উঠছে একাকিত্ব?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর আচরণে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে একাকিত্ব। তাঁরা জানাচ্ছেন, আধুনিক ব্যস্ত জীবনে অধিকাংশ পরিবার ছোটো। বাবা-মা দুজনেই কাজে ব্যস্ত থাকেন। দিনের অধিকাংশ সময় তাদের অফিসেই কাটে। পরিবারের একরত্তির সঙ্গে নির্ভেজাল সময় কাটানোর সুযোগ খুব কম। অধিকাংশ শহুরে পরিবারে শিশু পরিবারের সদস্যদের বিশেষ কাছে পায় না। যার ফলে তাদের মধ্যে এক ধরনের একাকিত্ব (Loneliness in Children) গ্রাস করে। মনরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাকিত্ব শিশুকে আত্মবিশ্বাসহীন করে তোলে। পরিবারের যথেষ্ট সময় না পেলে শিশু হীনমন্যতায় ভোগে। এর ফলে তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়‌। তাই সে সমাজের অন্যান্যদের সঙ্গেও মিশতে পারে না।

    পরিবারই পৃথিবী, একাকিত্ব শিশুমনে তৈরি করে মানসিক অবসাদ

    একাকিত্ব একধরনের মানসিক অবসাদ তৈরি করে। শিশুর কাছে প্রাথমিক পর্বে, তার পরিবার তার পৃথিবী। পরিবারের কাছে পর্যাপ্ত যত্ন ও সময় না পেলে, তার মধ্যে অবসাদ তৈরি হবে। যার ফলে সে কোনও কাজ সময় মতো করতে চাইবে না। তার মধ্যে অনীহা তৈরি হবে। স্কুল যাওয়া ও পড়াশোনার প্রতিও অনাগ্রহ বাড়বে। এমনকি বন্ধু তৈরি করার ইচ্ছেও থাকবে না। যা একাকিত্বের সমস্যাকে আরও জটিল করবে। শিশুর একাকিত্ব একদিকে তার সামাজিক যোগাযোগ তৈরির ক্ষমতা নষ্ট করে (Social Isolation)। আবার শিশুকে জেদি করে তোলে। এমন মানসিক পরিস্থিতি তৈরি হয়, যাতে সে কোনোভাবেই অন্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছে হারিয়ে ফেলে। এর ফলে নিজের মতো থাকে। যেকোনও কাজ বললেই একধরনের অনীহা তৈরি হয়‌। জেদ তৈরি হয়।

    সন্তানের একাকিত্ব কাটিয়ে আচরণ ‘স্বাভাবিক’ রাখতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানের একাকিত্ব কাটাতে এবং সামাজিক আচরণ স্বাভাবিক রাখতে দিনের অন্তত ২০ মিনিট সময় বরাদ্দ করতেই হবে। তাঁদের পরামর্শ, সন্তানের সঙ্গে প্রতি দিন অন্তত ২০ মিনিট গল্প করতে হবে। সন্তানের বয়স অনুযায়ী সেই গল্প হবে। পাঁচ থেকে সাত বছরের শিশুর সঙ্গে বসে গল্পের বই পড়া, সারা দিন তার কেমন কাটলো সেই সম্পর্কে গল্প করা জরুরি। আবার বয়ঃসন্ধিকালে থাকা সন্তানের সঙ্গেও তার কেমন সময় কাটছে সে নিয়ে গল্প করা, বা তার পছন্দের গান শোনা, তার পছন্দের যে কোনও বিষয় নিয়ে গল্প করা জরুরি। এতে সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। একাকিত্ব গ্রাস করে না। তার মনের অবস্থা (Child Mental Health) সম্পর্কেও অভিভাবক বুঝতে পারে।

    অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের ফলে মস্তিষ্কে পড়ছে বাড়তি চাপ

    আধুনিক ব্যস্ত জীবনে সন্তানকে অনেকটা সময় দেওয়া কঠিন। কিন্তু তার বিকল্প কখনই স্ক্রিন টাইম নয়। এমনটাই মত মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, ছোটো থেকেই অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের ফলে মস্তিষ্কে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। খিটখিটে মেজাজ হচ্ছে। তাই স্ক্রিন টাইম নয়। বরং খেলাধুলা সঙ্গে যাতে সন্তান যুক্ত হয় সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। তাঁদের পরামর্শ, সন্তানের বয়স পাঁচ বছর হলেই যেকোনও ধরনের খেলার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। এতে শারীরিক বিকাশের পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত হয়। একাকিত্ব (Loneliness in Children) গ্রাস করে না। মেলামেশার অভ্যাস তৈরি হয়। বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। জেদ, একঘেয়েমি দূর হয়।

    সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে বাবা-মায়ের সজাগ থাকা জরুরি

    শিশুর গ্রুপ অ্যাক্টিভিটি জরুরি বলেই মত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, একসঙ্গে অনেকে মিলে নাচ, গান বা নাটক করা। কিংবা যে কোনও ধরনের খেলাধুলা করলে শিশুর সামাজিক আচরণ স্বাভাবিক ও সংযত হয়। নানান জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ, সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য (Child Mental Health) ভালো রাখতে বাবা-মায়ের সজাগ থাকা জরুরি। শিশুর সুস্থ মানসিক গঠনের জন্য তাকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। তার কথা শুনতে হবে। তাহলেই অনেক সমস্যা কমবে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Prahaar: ভারতের প্রথম সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী নীতি ‘প্রহার’ প্রকাশ কেন্দ্রের, নাশকতায় ‘জিরো টলারেন্সে’ জোর

    Prahaar: ভারতের প্রথম সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী নীতি ‘প্রহার’ প্রকাশ কেন্দ্রের, নাশকতায় ‘জিরো টলারেন্সে’ জোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী নীতি ‘প্রহার’ (PRAHAAR) প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA)। এই নীতির মূল লক্ষ্য— সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় “জিরো টলারেন্স” (Zero Tolerance) অবস্থান বজায় রেখে ডিজিটাল যুগে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক প্রতিরোধ, সমন্বিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা। নীতিটি এমন সময়ে প্রকাশ পেল, যখন একদিন আগেই ভারতীয় সেনা, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফের যৌথ অভিযানে কিশতওয়ার জেলায় তিন জঙ্গি খতম হয়। নিহতদের মধ্যে একজন কুখ্যাত লস্কর কমান্ডার সইফুল্লা বলে শনাক্ত হয়েছে।

    প্রহার (PRAHAAR) কী?

    ‘প্রহার’ (হিন্দিতে যার অর্থ আঘাত) নামে এই নীতিতে একটি বহুস্তরীয় কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে, যার লক্ষ্য সন্ত্রাসবাদী, তাদের অর্থ জোগানদাতা ও সমর্থকদের অর্থ, অস্ত্র এবং নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করা। মন্ত্রক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী কৌশল কয়েকটি মূল আদর্শের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিরোধ, দ্রুত প্রতিক্রিয়া, অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার সমন্বয় ইত্যাদি।

    সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে ‘প্রহার’ (PRAHAAR)-এর পূর্ণ অর্থ হল:

    • P – প্রিভেনশন (Prevention) বা প্রতিরোধ: ভারতীয় নাগরিক ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আগাম সন্ত্রাসী হামলা ঠেকানো
    • R – রেসপন্স (Response) বা প্রতিক্রিয়া: হুমকির মাত্রা অনুযায়ী দ্রুত ও উপযুক্ত জবাব
    • A – অ্যাগ্রিগেশন (Aggregation) বা সমন্বয়: সমগ্র সরকারের সমন্বিত অংশগ্রহণে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা একত্রিত করা
    • H – হিউম্যান রাইটস (Human Rights) বা মানবাধিকার ও আইনের শাসন: আইনসম্মত ও মানবাধিকারভিত্তিক প্রক্রিয়ায় সন্ত্রাস মোকাবিলা
    • A – অ্যাটেনুয়েশন (Attenuation) বা কারণ দুর্বল করা: উগ্রপন্থা ও মৌলবাদের উৎসগুলো কমিয়ে আনা
    • A – অ্যালাইনমেন্ট (Alignment) বা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য ও নেতৃত্ব
    • R – রিকভারি (Recovery) বা পুনরুদ্ধার: সমাজভিত্তিক অংশগ্রহণে স্থিতিস্থাপকতা ও পুনর্গঠন

    এই কাঠামো স্পষ্ট করে যে, নীতিটি শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান নয়, বরং প্রশাসনিক, সামাজিক ও কূটনৈতিক স্তরেও সমন্বিত উদ্যোগের কথা বলছে।

    সীমান্ত পারের “স্পনসরড টেররিজম”-এর উল্লেখ

    নীতিনথিতে বলা হয়েছে, ভারতের আশপাশের অঞ্চলে “ছিটেফোঁটা অস্থিরতার ইতিহাস” রয়েছে এবং কয়েকটি দেশ কখনও কখনও “রাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার হিসেবে সন্ত্রাসবাদ ব্যবহার করেছে।” এতে সীমান্তপারের “স্পনসরড টেররিজম”-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে জিহাদি সংগঠন ও তাদের সহযোগী নেটওয়ার্ক ভারতের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। “ভারত সবসময় সন্ত্রাসবাদের শিকারদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে বিশ্বের কোথাও হিংসার কোনও যুক্তি থাকতে পারে না,” নথিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পুনরুল্লেখ করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে মন্ত্রক জোর দিয়ে জানিয়েছে, “ভারত সন্ত্রাসবাদকে কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম, জাতিসত্তা, জাতীয়তা বা সভ্যতার সঙ্গে যুক্ত করে না।” এটি নীতিগতভাবে ভারতের অবস্থানকে ধর্মনিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলে।

    প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ: ডার্ক ওয়েব ও ক্রিপ্টো অর্থনীতি

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নীতিনথিতে উল্লেখ করেছে যে, আধুনিক সন্ত্রাসবাদ এখন কেবল অস্ত্রনির্ভর নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। আল কায়েদা (Al-Qaeda) ও ইসলামিক স্টেট (ISIS)-এর মতো সংগঠন বিদেশ থেকে পরিচালিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভারতের ভেতরে হামলার ষড়যন্ত্র করছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    নথিতে বলা হয়েছে—

    • ● ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীরে অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার
    • ● সামাজিক মাধ্যম ও ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে প্রচার ও নিয়োগ
    • ● এনক্রিপশন, ডার্ক ওয়েব ও ক্রিপ্টো ওয়ালেটের মাধ্যমে গোপন আর্থিক লেনদেন
    • ● এই প্রবণতা মোকাবিলায় সাইবার নজরদারি ও আর্থিক গোয়েন্দা ব্যবস্থার গুরুত্ব বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

    কেন ‘প্রহার’ গুরুত্বপূর্ণ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘প্রহার’ নীতির গুরুত্ব তিনটি ক্ষেত্রে—

    • ● সমন্বিত পদ্ধতি: শুধুমাত্র সামরিক বা পুলিশি ব্যবস্থা নয়, গোটা সরকার ও সমাজভিত্তিক অংশগ্রহণের উপর জোর
    • ● ডিজিটাল হুমকি মোকাবিলা: এনক্রিপশন, ক্রিপ্টো ও সোশ্যাল মিডিয়াকে কেন্দ্র করে নতুন নিরাপত্তা কৌশল
    • ● আন্তর্জাতিক বার্তা: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট ও কূটনৈতিকভাবে জোরালো করা

    একটি দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ

    ‘প্রহার’ নীতি ভারতের সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গিকে একটি কাঠামোবদ্ধ রূপ দিয়েছে। সীমান্তপারের হুমকি, প্রযুক্তিনির্ভর জঙ্গি কার্যকলাপ এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক—এই তিনটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। নীতিটির বাস্তব প্রয়োগ ও বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়, সেটাই আগামী দিনে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কৌশলের সফলতা নির্ধারণ করবে।

  • Rubella in Children: খামখেয়ালি আবহাওয়ায় বিপদ বাড়ছে রুবেলার! ভাইরাস আক্রমণ থেকে সন্তানকে সুস্থ রাখবেন কীভাবে?

    Rubella in Children: খামখেয়ালি আবহাওয়ায় বিপদ বাড়ছে রুবেলার! ভাইরাস আক্রমণ থেকে সন্তানকে সুস্থ রাখবেন কীভাবে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    হঠাৎ করেই বেড়েছে তাপমাত্রার পারদ। বেলা বাড়তেই রোদের দাপট বাড়ছে। এমনকি সন্ধ্যার পরেও অস্বস্তি হচ্ছে। এদিকে ভোরে বেশ ঠান্ডা ভাব। হঠাৎ বৃষ্টিতে সাময়িক স্বস্তি হলেও তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী থাকবে বলেই জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর। আর এই পরিস্থিতিতে বিপদ বাড়াচ্ছে রুবেলা ভাইরাস (Rubella in Children)। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাড়তি সতর্কতা জরুরি। এই আবহাওয়ায় সুস্থ থাকতে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। বিশেষত পরিবারের খুদে সদস্যকে (Child Immunity Care) সুস্থ রাখার জন্য সজাগ থাকতে হবে। কারণ রুবেলা ভাইরাসের দাপট শিশু শরীরেই সবচেয়ে বেশি হয়।

    কেন এই আবহাওয়ায় রুবেলা ভাইরাসের দাপট বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বসন্ত ঋতুতে রুবেলা ভাইরাসের (Rubella in Children) দাপট বাড়ে। তার মূল কারণ আবহাওয়া। তাঁরা জানাচ্ছেন, শীতে তাপমাত্রা কম থাকে। কিন্তু বসন্ত হলো শীত আর গরমের মাঝের সময়। এই সময়ে শীতের দাপট থাকে না। আবার প্রবল গরমের দাপট ও থাকে না। এই সময়ে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। অর্থাৎ মরশুমের পরিবর্তন হয়। তার ফলে বাতাসে নানান ভাইরাসের সক্রিয়তা বেড়ে যায়। বিশেষত ফুসফুস কাবু করতে পারে এমন ভাইরাসের দাপট আরও বেশি বাড়তে থাকে। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সময়ে রুবেলার মতো ভাইরাসের দাপট বাড়ে।

    স্কুল থেকেই ছড়িয়ে পড়ে সংক্রামক রুবেলা

    তাছাড়া, বছরের এই সময়ে আবহাওয়া মনোরম থাকায় বহু মানুষ বেড়াতে যান। নানান উৎসব হয়। তাই এই সময়ে যে কোনও সংক্রামক রোগের দাপট বাড়ে। রুবেলা ভাইরাস (Rubella in Children) একটি সংক্রামক রোগ। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে সংক্রামিত হতে পারে। তাই এই ভাইরাসের ক্ষমতা এই সময়ে বাড়ে। বসন্ত ঋতুতে যেমন নানান উৎসব রয়েছে, তেমনি এটা পরীক্ষার মরশুম। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্কুলে শিশুকে পাঠানোর সময় অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা জরুরি (Child Immunity Care)। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, জ্বর-সর্দি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে তবেই স্কুলে পাঠানো উচিত। না হলে অন্যদের মধ্যেও যে কোনও রোগ সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রুবেলার মতো ভাইরাস স্কুল থেকেই ছড়িয়ে পড়ে।

    রুবেলা ভাইরাসের জেরে কী হতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রুবেলা ভাইরাসের (Rubella in Children) জেরে হাম হতে পারে। জ্বর-সর্দি-কাশির মতো নানান উপসর্গ দেখা দেওয়ার পাশপাশি হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে লাল ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এই উপসর্গগুলো রুবেলা সংক্রমণের জানান দেয়।

    সন্তানকে সুস্থ রাখবেন কীভাবে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রুবেলা ভাইরাসের দাপট রুখতে মূল হাতিয়ার টিকাকরণ। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণকের নিয়ম অনুযায়ী, শিশুর জন্মের পরে ৯ থেকে ১২ মাসের মধ্যেই এমএমআর টিকার (MMR vaccination) প্রথম ডোজ দেওয়া হয়। যা রুবেলা সংক্রমণ রুখতে পারে। এছাড়াও ১৫ থেকে ১৮ মাসের এই টিকার দ্বিতীয় ডোজ এবং ৪ থেকে ৬ বছরের মধ্যে এই টিকার তৃতীয় ডোজ দেওয়া হয়। সময় মতো নিয়ম মেনে টিকাকরণ করালে শিশুর এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

    নিয়মিত মাস্ক পরে থাকা

    তবে বাড়তি কয়েকটি নজরদারি রাখলে রুবেলার (Rubella in Children) মতো যে কোনও ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সহজ হয় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুকে নিয়মিত মাস্ক পরার অভ্যাস করানো জরুরি। বাইরে যাওয়ার সময় নাক ও মুখ ঢাকা দেওয়া মাস্ক পরার অভ্যাস তৈরি করতে পারলে একাধিক সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমে (Child Immunity Care) । রুবেলা ভাইরাস মূলত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সংক্রামিত হয়। তাই এই রোগের দাপট কমবে। শিশুর বারবার জ্বর হলে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি। স্কুলে পাঠানোর আগে অভিভাবকদের সজাগ থাকতে হবে, যাতে অন্যদের শরীরে এই রোগ না ছড়িয়ে পড়ে।

  • PM Modi Israel Visit: বুধে নেতানিয়াহুর দেশে যাচ্ছেন মোদি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় হতে চলেছে ভারত-ইজরায়েল নতুন অধ্যায়ের সূচনা?

    PM Modi Israel Visit: বুধে নেতানিয়াহুর দেশে যাচ্ছেন মোদি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় হতে চলেছে ভারত-ইজরায়েল নতুন অধ্যায়ের সূচনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বন্ধু’ বেঞ্জামিন নেতানয়াহুর আমন্ত্রণে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি দুদিনের ইজরায়েল সফরে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর এই দুই দিনের ইজরায়েল সফরে প্রতিরক্ষা সহ একাধিক বিষয়ে ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

    কী লিখলেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী?

    রবিবার, নিজের এক্স হ্যান্ডলে মোদির আসন্ন ইজরায়েল সফরের কথা জানিয়ে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু লেখেন, “আমার প্রিয় বন্ধু মোদির বুধবারের ইজরায়েল সফর নিয়ে আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে কথা হয়েছে। আমরা উদ্ভাবন, নিরাপত্তা এবং একটি যৌথ কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে অংশীদার। একসঙ্গে আমরা স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দেশগুলোর একটি শক্তিশালী অক্ষ গড়ে তুলছি।” নেতানিয়াহুর পোস্টের জবাবে নিজের এক্স হ্যান্ডলে মোদি লেখেন, “ধন্যবাদ, আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে থাকা বন্ধন এবং আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বহুমাত্রিক চরিত্র নিয়ে আপনার বক্তব্যের সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত। বিশ্বাস, উদ্ভাবন এবং শান্তি ও অগ্রগতির প্রতি যৌথ অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে আমরা অত্যন্ত মূল্য দিই। আমার আসন্ন ইজরায়েল সফরের সময় আপনার সঙ্গে আলোচনার জন্য আমি আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছি।”

    প্রতিরক্ষায় কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে মোদি-নেতানিয়াহু আলোচনা

    প্রতিরক্ষায় কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর ও দৃঢ় করতে বেশ কিছুদিন ধরেই প্রস্তুতি চালাচ্ছে দুতরফেই। আলোচনার কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত অস্ত্র প্রযুক্তি এবং উচ্চপ্রযুক্তিভিত্তিক সহযোগিতা। তবে, নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা থাকলেও, মোদির এই সফরে কোনও বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হবে না। অন্তত এমনটাই জানা যাচ্ছে সরকারি সূত্রের মাধ্যমে। বরং তাঁদের মতে, এই সফরকে আগামী কয়েক বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার রোডম্যাপের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    কৌশলগত প্রেক্ষাপট: কেন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ

    এখনও পর্যন্ত জানা যাচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-র আলোচনায় প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা অগ্রাধিকার পাবে। আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হল ভারতের ‘মিশন সুদর্শন’ উদ্যোগের আওতায় যৌথভাবে অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন, যার লক্ষ্য দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি থেকে ভারতের ভূখণ্ডকে সুরক্ষা দেওয়া। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ইজরায়েলকে ‘বিশ্বনেতা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    ইজরায়েলের বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা কাঠামোর মধ্যে রয়েছে—

    • ● দূরপাল্লার আকাশ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা— অ্যারো (Arrow)
    • ● মাঝারি পাল্লার আকাশ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা— ডেভিড’স স্লিং (David’s Sling)
    • ● স্বল্প পাল্লার আকাশ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা— আয়রন ডোম (Iron Dome)

    এই ব্যবস্থাগুলি বাস্তব যুদ্ধপরিস্থিতিতে বহুবার পরীক্ষিত এবং বিশ্বের অন্যতম উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি হিসেবে স্বীকৃত। ভারতের ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা আঞ্চলিক ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলায় এবং নিজস্ব বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বলয় শক্তিশালী করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধপ্রযুক্তিতে সহযোগিতা

    ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার বাইরে ভারত যেসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে চায়, সেগুলি হল—

    • ● উচ্চ-শক্তির লেজারভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
    • ● দূরপাল্লার স্ট্যান্ড-অফ প্রিসিশন মিসাইল
    • ● সশস্ত্র ড্রোন ও লয়টারিং মিউনিশন

    কেনা ও যৌথ উন্নয়ন: বহু-মাত্রিক কৌশল

    গত বছরের নভেম্বরে প্রতিরক্ষা সচিব আরকে সিংহের ইজরায়েল সফরের সময় উন্নত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত মউ স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই সম্প্রসারিত অংশীদারিত্বের ভিত্তি তৈরি হয়। আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথ থেকে নিক্ষেপযোগ্য দূরপাল্লার নির্ভুল আঘাত হানার অস্ত্র ব্যবস্থা কেনা ও যৌথ উন্নয়ন বিবেচনা করছে ভারত।

    আলোচনাধীন ব্যবস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে—

    • ● ‘স্পাইস-১০০০’ (Spice-1000) প্রিসিশন গাইডেড বোমা
    • ● ‘র‌্যামপেজ’ (Rampage) এয়ার-টু-সারফেস মিসাইল
    • ● ‘লোরা’ (LORA) এয়ার-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল
    • ● ‘আইস-ব্রেকার’ (Ice-Breaker) দীর্ঘ-পাল্লার প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল
    • ● ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য সম্প্রসারিত পাল্লার ‘বারাক-৮’(Barak-8)

    এই অস্ত্রব্যবস্থাগুলি শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা বলয় অতিক্রম করে উচ্চ-মূল্যের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষমতা বাড়াবে এবং একই সঙ্গে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করবে।

    প্রতিরক্ষার বাইরে বিস্তৃত কৌশলগত আলোচনা

    প্রতিরক্ষার পাশাপাশি দুই দেশ আলোচনা করবে—

    • ● বিজ্ঞান ও উন্নত প্রযুক্তি
    • ● কৃষি উদ্ভাবন
    • ● বিশুদ্ধ পানীয় জল সমাধান
    • ● কোয়ান্টাম কম্পিউটিং

    এতে বোঝা যায়, ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক কেবল সামরিক সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ না থেকে অসামরিক উচ্চপ্রযুক্তি ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন অধ্যায়!

    এই সফরটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক ক্রমে ক্রেতা-বিক্রেতা প্রতিরক্ষা সম্পর্ক থেকে যৌথ উন্নয়ন ও প্রযুক্তি ভাগাভাগির অংশীদারিত্বে রূপ নিচ্ছে। বড় অস্ত্রচুক্তির ঘোষণা না করে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে জোর দেওয়াই এই সফরের মূল বৈশিষ্ট্য। ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে ইজরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা তার প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করবে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) ও আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা শিল্প গঠনের লক্ষ্যকে সমর্থন দেবে। অন্যদিকে, ইজরায়েলের জন্য ভারত এশিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে থেকে যাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, মোদি-নেতানিয়াহু বৈঠক ভারত-ইজরায়েল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সংহত করবে এবং প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে গভীরতর সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Mukul Roy Demise: প্রয়াত মুকুল রায়, কেন তাঁকে বলা হত ‘বাংলার রাজনীতির চাণক্য’?

    Mukul Roy Demise: প্রয়াত মুকুল রায়, কেন তাঁকে বলা হত ‘বাংলার রাজনীতির চাণক্য’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাক্তন রেলমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের মৃত্যুতে এক দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটল। রবিবার গভীর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭১ বছর বয়সে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর প্রয়ান কেবল একজন নেতার মৃত্যু নয়, বরং এমন এক রাজনৈতিক কৌশলবিদের অবসান, যিনি তিন দশক ধরে রাজ্যের ক্ষমতার সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলেছিলেন। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী থেকে বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ কৌশলবিদ হয়ে ওঠেন এবং পরে আবার তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসেন মুকুল রায়।

    সংগঠক থেকে ক্ষমতার কুশীলব

    মুকুল রায়ের রাজনৈতিক উত্থান ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাথমিক বিস্তারের সঙ্গে। ১৯৯৮ সালে দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অন্যতম হয়ে তিনি জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন এবং বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনের বিরুদ্ধে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত শক্ত করেন। তাঁর কৌশলগত দক্ষতার জন্যই তিনি “বাংলার রাজনীতির চাণক্য” নামে পরিচিত হন। জেলা স্তরে দলের সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত করতে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। দলবদল করানো, জোট গঠন এবং ভোটের অঙ্ক কষায় তাঁর পারদর্শিতা ছিল অসাধারণ। ২০১১ সালে বামফ্রন্ট সরকারের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ও প্রশাসনিক পর্ব

    দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি তাঁকে রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় স্তরে পরিচিতি দেয়। প্রথমে জাহাজ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী এবং পরে ২০১২ সালে রেলমন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। তবে এই সময় থেকেই তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে শুরু করে, যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভাঙনের ভিত্তি তৈরি করে।

    বিজেপিতে যোগ ও বিরোধী শক্তির উত্থান

    ২০১৭ সালে তাঁর বিজেপিতে যোগদান রাজ্য রাজনীতিতে বড় মোড় আনে। এই সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে। তিনি বিজেপির অন্যতম প্রধান কৌশলবিদ হয়ে ওঠেন। রাজ্যে বিজেপির সাংগঠনিক বিস্তার দ্রুত বাড়াতে সাহায্য করেন। তাঁর সংগঠন গড়ার অভিজ্ঞতা ও তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো সম্পর্কে গভীর জ্ঞান বিজেপিকে দ্রুত শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এর ফল ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে স্পষ্ট হয়, যখন বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয়লাভ করে এবং তৃণমূলের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসে। এই সাফল্যের নেপথ্যে মুকুল রায়ের কৌশলগত ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রভাব হ্রাস ও তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপিতে তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব কমতে থাকে। সেবারের নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে কৃষ্ণনগর থেকে জয়ী হন মুকুল। তবে, শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করে বিরোধী দলনেতা হওয়ার এক মাসের মধ্যেই মুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে আবার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। এই ঘটনাই প্রমাণ করে, তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা আদর্শের চেয়ে প্রভাব ও অবস্থানের উপর বেশি নির্ভরশীল ছিল।

    অবসর ও অসুস্থতা

    শেষ কয়েক বছরে গুরুতর অসুস্থতা ও ডিমেনশিয়ার কারণে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে সরে যান। বারবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ও শারীরিক অবনতিই তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায়কে চিহ্নিত করে। মুকুল রায়কে মনে রাখা হবে একজন দক্ষ রাজনৈতিক কৌশলবিদ হিসেবে, যিনি তৃণমূলের উত্থান, বিজেপির বিস্তার এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির পরিবর্তনশীল চরিত্র—এই তিন পর্বেরই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ও নির্মাতা ছিলেন।

  • Delhi High Alert: লালকেল্লা ও মন্দির এলাকায় আইইডি হামলার ছক লস্করের! রাজধানীতে জারি হাই অ্যালার্ট

    Delhi High Alert: লালকেল্লা ও মন্দির এলাকায় আইইডি হামলার ছক লস্করের! রাজধানীতে জারি হাই অ্যালার্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় রাজধানী দিল্লিতে হাই অ্যালার্ট জারি করল জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা (LeT) ওল্ড দিল্লির জনবহুল ধর্মীয় স্থান ও ঐতিহাসিক এলাকাগুলিকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করতে পারে। সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-র হাতে আসা একটি গোয়েন্দা নোটে বলা হয়েছে, লালকেল্লা ও ঘনবসতিপূর্ণ চাঁদনি চকের মন্দির সংলগ্ন এলাকায় জঙ্গিরা আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) হামলার চেষ্টা চালাতে পারে।

    ভারতে বড়সড় হামলার ছক লস্করের

    প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রটি ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের একটি মসজিদে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ, লস্করের জঙ্গিরা ভারতে বড়সড় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সতর্ক করেছে যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারে। এই গোয়েন্দা তথ্যের পর দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করেছে, বিশেষ করে ওল্ড দিল্লিতে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে, যানবাহন তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে এবং ধর্মীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্রের কাছে অ্যান্টি-সাবোটাজ চেক চালানো হচ্ছে।

    লালকেল্লা হামলার তিন মাস…

    গত বছর ঘটে যাওয়া লালকেল্লা গাড়ি বিস্ফোরণের প্রায় তিন মাস পর নতুন হামলার সতর্কতা জারি হল। ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণ ঘটেছিল। সেটি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাজধানীতে ঘটে যাওয়া অন্যতম প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলা ছিল। লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে বিস্ফোরক বোঝাই একটি হুন্ডাই গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অন্তত ১২ জন নিহত হন এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হন। পাশাপাশি আশপাশের একাধিক গাড়িতে আগুন ধরে যায়। তদন্তকারীরা পরে নিশ্চিত করেন যে, এই বিস্ফোরণে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট-ভিত্তিক বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল।

    হোয়াইট-কলার টেরর মডিউল…

    তদন্তকারী সংস্থাগুলি জানায়, গাড়ির চালক তথা আত্মঘাতী জঙ্গি উমর মহম্মদ ওরফে উমর উন নবি ফরিদাবাদের আল-ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত একজন চিকিৎসক ছিল। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া মানবদেহের অংশের ডিএনএ পরীক্ষায় তার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। তদন্তে উঠে আসে, উমর প্রতিবেশী হরিয়ানা থেকে পরিচালিত একটি বৃহত্তর ‘হোয়াইট-কলার টেরর মডিউল’ বা চিকিৎসক-সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিল। দিল্লি বিস্ফোরণের আগের দিনই নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ফরিদাবাদ থেকে প্রায় ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করে এবং দুই চিকিৎসক-জঙ্গি মুজাম্মিল ও আদিল রাদার-সহ মূল চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লিতে ওই বিস্ফোরণ ঘটে। তদন্তকারীদের দাবি, নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কড়া অভিযানের চাপে পড়ে উমর নাকি লালকেল্লার কাছে গাড়িটি আগেভাগেই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেয়।

  • Hemicrania Continua: দীর্ঘদিন ধরে মাথার যন্ত্রণায় ভুগছেন? হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া নয় তো! কী এই রোগ?

    Hemicrania Continua: দীর্ঘদিন ধরে মাথার যন্ত্রণায় ভুগছেন? হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া নয় তো! কী এই রোগ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    মাথার এক পাশে কিংবা পিছনের অংশে ব্যথা। প্রায় যন্ত্রণার তীব্রতা বাড়ে। আবার কখনো তীব্রতা কমে। কিন্তু একটানা যন্ত্রণা (Long-Term Headache) ভোগান্তি বাড়ায়। মাথার ব্যথা হলে অনেকেই ভাবেন মাইগ্রেন কিংবা সাইনাসের সমস্যা। তবে চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, একটানা মাথা ব্যথার নেপথ্যে অনেক সময়েই অন্য কারণ রয়েছে। কিন্তু অবহেলার জেরে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

    দীর্ঘমেয়াদী মাথা ব্যথার কারণ কী হতে পারে?

    মাইগ্রেন কিংবা সাইনাসের সমস্যা না থাকলেও মাথা যন্ত্রণার ভোগান্তি হতে পারে। তার অন্যতম কারণ হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া (Hemicrania Continua)। এটি একটি স্নায়ু ঘটিত সমস্যা। যার জেরে মাথার যে কোনও একটি পাশে বা নির্দিষ্ট কোনও অংশে যন্ত্রণা হয়। অধিকাংশ সময়েই দেখা যায় এই সমস্যায় আক্রান্তের যন্ত্রণায় ভোগান্তির মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসও হতে পারে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, যন্ত্রণার তীব্রতা সবসময় এক রকম থাকে না। কখনও বাড়ে আবার কখনও কমে।

    হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া কী? কেন হয় এই রোগ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া (Hemicrania Continua) হল মস্তিষ্কের স্নায়ুঘটিত একটা সমস্যা। এই সমস্যা কোনও একটি নির্দিষ্ট কারণে তৈরি হয় না। বরং এই সমস্যা হওয়ার নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে‌। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। তার অন্যতম কারণ হল হরমোন। মহিলাদের শরীরে নানান হরমোনঘটিত পরিবর্তন হয়। বিশেষত ঋতুস্রাব বন্ধ পর্ব বা পোস্ট মেনোপোজ পর্বে শরীরে একাধিক হরমোনের পরিবর্তন হয়। যার জেরে মহিলাদের মস্তিষ্কে এই ধরনের স্নায়বিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে হরমোন ঘটিত সমস্যার পাশপাশি মানসিক চাপ কিংবা অবসাদ এই ধরনের স্নায়বিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকলে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    এই সমস্যা কি আরো জটিলতা তৈরি করতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া (Hemicrania Continua) অন্য রোগের কারণ নয়। তাই অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী মাথার যন্ত্রণা চরম ভোগান্তি তৈরি করে। স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হয়। তাছাড়া যেকোনো সাধারণ কাজেও মনঃসংযোগ করতে দেয় না। মস্তিষ্কের চিন্তাশক্তি কাজ করে না। লাগাতার মাথা যন্ত্রণার ফলে খিটখিটে ভাব তৈরি হয়। সবমিলিয়ে জীবন যাপনে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। তাই মাথা ব্যথা হলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়া শুধুই ব্যথা নিরাময় ওষুধ খাওয়া উচিত নয় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসক মহল। কারণ কেন মাথা ব্যথা হচ্ছে সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা না থাকলে ব্যথা নিরাময় ওষুধ শুধু সাময়িক আরাম দেবে। তার বেশি কিছু নয়।

    কীভাবে এই রোগের দাপট কমবে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জীবনযাপনের ধরন এই রোগের দাপট কমাতে সাহায্য করবে। কয়েক দিন ধরে লাগাতার মাথা যন্ত্রণার ভুগলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন। হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া (Hemicrania Continua) মতো সমস্যা থাকলে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পাশপাশি যোগাভ্যাস জরুরি। যন্ত্রণার তীব্রতা কমাতে নির্দিষ্ট কিছু যোগাসন বিশেষ সাহায্য করবে। যেমন অধোমুখ শবাসন। প্রথমে হামাগুড়ি দেওয়ার মতো করে বসতে হবে। হাতের তালু মাটিতে থাকবে, পিঠ উপরের দিকে তুলতে হবে, পায়ের পাতা মাটি স্পর্শ করে থাকবে। দেখতে লাগবে অনেকটা ইংরেজি ‘ভি’ অক্ষরের মতো লাগবে। মাথা যতটা ঝোঁকাতে যাবে, ততই ভাল। এই ভঙ্গিমায় ২০ সেকেন্ড থাকতে পারলে রক্তচাপ ও শরীরের স্নায়বিক জটিলতা কমবে। তাই এই ধরনের রোগের দাপট কমাতে এই আসন বিশেষ সাহায্য করে।

    সৃজনশীল কাজে নিজেকে বরাদ্দ করুন…

    এছাড়াও রয়েছে পশ্চিমোত্তাসন। প্রথমে চিৎ হয়ে শুয়ে দু’হাত তুলে মাথার দু’পাশে উপরের দিকে রাখতে হবে। ধীরে ধীরে উঠে বসে সামনে ঝুঁকে দু’ হাত দিয়ে জোড়া পায়ের বুড়ো আঙুল ধরতে হবে। দুই পায়ের মাঝখানে কপাল ঠেকাতে হবে। এ অবস্থায় শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে মোটামুটি তিরিশ সেকেন্ড থাকতে হবে। তাহলে এই ধরনের মাথার যন্ত্রণার (Hemicrania Continua) তীব্রতা কমানো সহজ হবে। এর পাশপাশি নিয়মিত গান শোনা কিংবা ছবি আঁকার মতো অভ্যাস রপ্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আধুনিক ব্যস্ত জীবনে কাজের চাপ বাড়লে। পরিবার ও কাজের মধ্যে ব্যালেন্স করাই সবচেয়ে বড় মানসিক চাপ হয়ে উঠছে। তাই রুটিন মাফিক চলা একঘেয়ে ব্যস্ত জীবনে একটু সময় সৃজনশীল কাজে বরাদ্দ করতে হবে। তবেই মানসিক চাপ কমবে। মানসিক চাপ কমলে যে কোনও ধরনের মাথার যন্ত্রণার ভোগান্তি কমানো সহজ হয়।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Hammer Missile: অপারেশন সিঁদুরে যার বাড়ি খেয়েছিল পাক জঙ্গি ঘাঁটিগুলি, সেই ‘হাতুড়ি’ এবার তৈরি হবে ভারতেই!

    Hammer Missile: অপারেশন সিঁদুরে যার বাড়ি খেয়েছিল পাক জঙ্গি ঘাঁটিগুলি, সেই ‘হাতুড়ি’ এবার তৈরি হবে ভারতেই!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর ভারত সফরে দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্র মিলিয়ে ২১টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে। তার মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত একাধিক চুক্তি হয়েছে। ভারতে এইচ১২৫ হেলিকপ্টার তৈরির জন্য এয়ারবাস ও টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন কারখানার সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মাক্রঁ। এর পাশাপাশি, ফরাসি প্রেসিডেন্টের সফরের মধ্যেই দুই দেশের সংস্থার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির মাধ্যমে ভারতেই ‘হ্যামার’ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করার পথও প্রশস্ত করা হল। চলতি সপ্তাহে বেঙ্গালুরুতে রাজনাথ সিং ও ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্যাথরিন ভোত্রাঁর উপস্থিতিতে এই মউ স্বাক্ষরিত হয়। বেশ কিছুদিন ধরেই, ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে কথা হচ্ছে। সম্প্রতি, এই মর্মে সবুজ সঙ্কেত মিলেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফেও। সূত্রের খবর, এর মধ্যে অধিকাংশ যুদ্ধবিমান তৈরি হওয়ার কথা ভারতেই। তার আগে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের চুক্তি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ, রাফাল যুদ্ধবিমানেই এই ক্ষেপণাস্ত্র মূলত ব্যবহৃত হবে। এর আগে, এই যুদ্ধবিমানে ব্যবহারের জন্য বজড পরিমাণে স্ক্যাল্প ক্রুজ মিসাইল ও মিটিয়র এয়ার-টু-এয়ার বিভিআর মিসাইল কেনার জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। আর এবার, রাফালের জন্য ‘হাতুড়ি’ ক্ষেপণাস্ত্রও ভারতে তৈরি করার চুক্তি হয়ে গেল।

    ৫০-৫০ অংশীদারিত্ব চুক্তি বেল-সাফরাঁর

    জানা গিয়েছে, ভারতে হ্যামার প্রিসিশন-গাইডেড মিউনিশন স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের জন্য একটি যৌথ উদ্যোগ (Joint Venture) গঠনে সম্মত হয়েছে ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL) এবং ফ্রান্সের সাফরাঁ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর নেতৃত্বে হওয়া আলোচনার পর এই অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত হয়। এর লক্ষ্য ভারতের ঘরোয়া প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করা এবং উন্নত অস্ত্রশস্ত্র আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর দেশের উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করা। এই যৌথ উদ্যোগে উভয় সংস্থার সমান অংশীদারিত্ব থাকবে। এটি উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তি হস্তান্তর (technology transfer) সহজ করবে এবং প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। যৌথ উদ্যোগটির প্রাথমিক অনুমোদিত শেয়ার মূলধন হবে ১ লক্ষ টাকা, যেখানে প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যের ১,০০০টি ইকুইটি শেয়ার থাকবে। ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী এই মূলধন ১০ কোটি টাকা বা তার বেশি পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। শেয়ারহোল্ডিং সমানভাবে বিভক্ত থাকবে, অর্থাৎ বেল এবং সাফরাঁ— উভয়েরই ৫০ শতাংশ করে অংশীদারিত্ব থাকবে।

    জঙ্গি ঘাটিগুলিতে হাতুড়ির আঘাত

    ‘হ্যামার’ কোনও একক ক্ষেপণাস্ত্র নয়, বরং একটি মডুলার কিট, যা সাধারণ আনগাইডেড বোমাকে অত্যাধুনিক প্রিসিশন-গাইডেড অস্ত্রে রূপান্তর করে। এতে থাকে একটি নোজ-মাউন্টেড গাইডেন্স ইউনিট, যা নেভিগেশন ও টার্গেটিংয়ের কাজ করে, এবং একটি টেল-মাউন্টেড রেঞ্জ এক্সটেনশন কিট, যেখানে সলিড-ফুয়েল রকেট বুস্টার ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য উইংলেট সংযুক্ত থাকে। ২০১১ সালে এর নামকরণ করা হয় হ্যমার। শব্দটি একটি অ্যাক্রোনিম, যার পূর্ণ অর্থ— ‘হাইলি এজাইল মডুলার মিউনিশন এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ’। হ্যামার নামটি এসেছে “হাতুড়ির আঘাতে কোনও পৃষ্ঠ চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়া”-এই ধারণা থেকে, যা লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার ক্ষমতার প্রতীক। একে মাঝারি-পাল্লার আকাশ-থেকে-ভূমি অস্ত্র হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। একে প্রায়ই “গ্লাইড বোমা” বলা হয়, কারণ এটি সর্বোচ্চ ৭০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এবং ২৫০ কেজি, ৫০০ কেজি ও ১,০০০ কেজি ওজনের স্ট্যান্ডার্ড বোমার সঙ্গে ব্যবহার করা যায়।

    কোন কোন ভ্যারিয়েন্ট তৈরি হবে ভারতে?

    চুক্তি অনুযায়ী, ভারতে দুটি আধুনিক ভ্যারিয়েন্ট তৈরি করা হবে—

    • হ্যামার ২৫০ এক্সএলআর (HAMMER 250 XLR) – ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি স্ট্যান্ড-অফ রেঞ্জ
    • হ্যামার ১০০০ এক্সএলআর (HAMMER 1000 XLR) – প্রায় ১৫০ কিলোমিটার রেঞ্জ

    এগুলি অত্যাধুনিক, সব ধরনের আবহাওয়ায় ব্যবহারের উপযোগী প্রিসিশন মিসাইল, যা যুদ্ধবিমান থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে নিক্ষেপ করা যায়।

    বছরে ১০০০ ইউনিট উৎপাদনের লক্ষ্য

    প্রস্তাবিত যৌথ উদ্যোগের (JV) অধীনে প্রাথমিক উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ১০০০ ইউনিট নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ কেবল অ্যাসেম্বলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এতে প্রযুক্তি হস্তান্তর (ToT) এবং দেশীয় দক্ষতা ও পরিকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    রাফালের জন্য বড় শক্তি

    এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পার্বত্য অঞ্চলে এবং ভারীভাবে সুরক্ষিত বাঙ্কারের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রমাণিত অস্ত্র। বিশ্ব ইতিমধ্যেই হ্যামার সিস্টেমের কার্যকারিতা দেখেছে। সূত্রের খবর, অপারেশন সিদুঁর-এর সময় ভারতের যুদ্ধবিমানগুলো হ্যামার এবং স্ক্যাল্প মিসাইল ব্যবহার করে শত্রু ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলা চালায়। এই অভিযানে ভারতের বায়ুসেনা নয়টি স্থানে মোট ২১টি সন্ত্রাসী শিবিরে আঘাত হানে। এই অভিযানে ব্যবহৃত নির্ভুল অস্ত্রগুলোর মধ্যে ছিল রাফাল যুদ্ধবিমানে সংযুক্ত হ্যমার সিস্টেম। ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তারা জানান, অস্ত্রটির স্বয়ংক্রিয় গাইডেন্স ব্যবস্থা ও ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রতিরোধ ক্ষমতা একে শক্তপোক্ত লক্ষ্যবস্তু—বিশেষ করে পাকিস্তানে অবস্থিত জৈশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাসী পরিকাঠামো ধ্বংসের জন্য অত্যন্ত উপযোগী করে তুলেছে। একটি রাফাল একসঙ্গে ৬টি ২৫০ কেজির হ্যামার ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে। ফলে, হ্যামার দিয়ে একসঙ্গে ৬টি পৃথক লক্ষ্যবস্তুতে একসঙ্গে আঘাত হানতে সক্ষম রাফাল।

    কৌশলগত গুরুত্ব

    এই মিসাইল উৎপাদনের কৌশলগত গুরুত্ব হল, এটি ভারতের “আত্মনির্ভর ভারত” প্রতিরক্ষা অভিযানে বড় শক্তি জোগাবে। একই সঙ্গে ভারতের মতো বড় প্রতিরক্ষা বাজারে ফ্রান্সের উপস্থিতি আরও মজবুত হবে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতার নতুন দিক উন্মোচিত হবে। ভারতে হ্যামার এক্সএলআর উৎপাদনকে দুই দেশের গভীরতর কৌশলগত অংশীদারিত্বের একটি বড় প্রমাণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু হলে ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য সরবরাহের গতি বাড়বে, আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে।

  • Sleep Disorders in Children: সন্তানের ঘুমের ব্যাঘাত! নেপথ্যে কি অভিভাবকদের মোবাইল আসক্তি?

    Sleep Disorders in Children: সন্তানের ঘুমের ব্যাঘাত! নেপথ্যে কি অভিভাবকদের মোবাইল আসক্তি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

     

    রাতের খাবার ঘড়ির কাঁটা মেপে শেষ হচ্ছে। পরের কয়েক মিনিট মোবাইলে পছন্দের কার্টুন কিংবা ভিডিও গেমের জন্য বরাদ্দ। ঘড়ি মেপে রাত নটা কিংবা দশটার মধ্যে বিছানায় শুয়ে পড়লেও চোখে ঘুম নেই! পরের দিন স্কুল! ভোর হতেই উঠে পড়তে হবে। কিন্তু রাতে ঠিক সময়ে কিছুতেই ঘুম হয় না। বকুনি বা ঘুম পাড়ানি গান, কোনো দাওয়াই কাজে আসছে না। ফলে পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে না। এর ফলে দেখা দিচ্ছে নানান সমস্যা। সন্তানের অপর্যাপ্ত ঘুম (Sleep Disorders in Children) নিয়ে চিন্তিত বাবা-মা! কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই অপর্যাপ্ত ঘুমের পিছনে থাকে অভিভাবকদের কয়েকটি অভ্যাস (Parental Mobile Addiction)। যা পরিবর্তন না করলে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি হবে না। বরং, ঘুমের ঘাটতি নানান বিপদ বাড়াবে।

    অভিভাবকদের কোন অভ্যাস সন্তানের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাত জেগে মোবাইল দেখা এখন অনেকের অভ্যাস। শিশুদের মধ্যেও বড়দের এই অভ্যাসের গভীর প্রভাব পড়ছে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বহু শিশু রাত দশটার মধ্যে বিছানায় শুয়ে পড়লেও দুটোর আগে ঘুমোয় না। বাবা-মা জানাচ্ছেন, পরের দিন সকাল সাতটার মধ্যে ঘুম থেকে উঠতে হয়। কিন্তু রাত দুটোর আগে সন্তানের চোখে ঘুম নেই। এর ফলে দিনের পর দিন অপর্যাপ্ত ঘুম (Sleep Disorders in Children) হচ্ছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সেই শিশুদের অভিভাবকেরাও অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন। অধিকাংশ সময়েই তাঁরা শিশুর পাশে শুয়ে মোবাইলের বিনোদনে বুঁদ হয়ে থাকেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটান।‌ যা ছয়-সাত বছরের শিশুর জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তাছাড়া অন্ধকার ঘরে মোবাইলের আলো তীব্র হয়। এর ফলে বাচ্চার ঘুমের পরিবেশ নষ্ট হয়।

    কী উচিত, কী উচিত নয়

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই বাবা-মা প্রয়োজনে কিংবা অন্যান্য কারণে অনেক রাত পর্যন্ত ফোনে কথা বলেন। ফলে, তার জেরেও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। তবে, সন্তানের ঘুম না হওয়ার (Sleep Disorders in Children) অন্যতম কারণ স্ক্রিন টাইম বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বহু শিশু ঘুমোতে যাওয়ার আগে মোবাইলে অনেকটা সময় কাটায়। যা একেবারেই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস। মোবাইলে যে ধরনের ভিডিও শিশুরা দেখে, তা মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে। এর ফলে শিশুরা সহজে ঘুমোতে পারে না। ঘুমোতে যাওয়ার আগে এমন কোনও কাজ করা উচিত নয়, যা মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে। তাই সন্তানের স্ক্রিন টাইম (Parental Mobile Addiction) নিয়েও সচেতন থাকা জরুরি।

    সন্তানের অপর্যাপ্ত ঘুম বুঝবেন কীভাবে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য আট থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। এর থেকে কম সময় ঘুম হলে, তা অপর্যাপ্ত ঘুম (Sleep Disorders in Children)। নিয়মিত কোনও শিশু যদি আট থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমোনোর সময় না পায়, তাহলে সেই ঘাটতি, তার শরীর ও মনে গভীর ভাবে পড়ে‌। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সময়ের হিসাব ছাড়াও শিশুর আচরণ দেখেও ঘুমের ঘাটতি আন্দাজ করা যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, পাঁচ-ছয় বছরের শিশু দিনের অধিকাংশ সময় ঘ্যানঘ্যান করলে, সব কাজে অনীহা দেখালে কিংবা তার আচরণে মারাত্মক অসংগতি দেখা দিলে বুঝতে হবে, মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাচ্ছে না।

    কেন ঘুম জরুরি? সন্তানের ‘ভালো’ ঘুম হবে কীভাবে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ‘ভালো’ ঘুম সম্পর্কে সচেতনতা নেই। রাতে কোনও রকম ব্যাঘাত ছাড়া একটানা সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম হল ‘ভালো’ ঘুম। রাতে পর্যাপ্ত ঘুমোলে তবেই শরীর ও মস্তিষ্কের সমস্ত স্নায়ু ঠিকমতো বিশ্রাম পায়। পেশির বিশ্রাম হয়। হরমোন নিঃসরণ ঠিকমতো হয়। পিটুইটারি গ্রন্থি ঠিকমতো কার্যকর থাকে। যা মস্তিষ্ককে সচল রাখতে সাহায্য করে। স্মৃতিশক্তি ধরে রাখে। শরীরের নিজস্ব একটি ঘড়ি রয়েছে। ঘুম ঠিকমতো হলে তবেই সেই ঘড়ি কাজ করবে। দিনভর সময় মতো সমস্ত কাজ হবে। শরীর প্রয়োজনীয় এনার্জি ব্যালেন্স করতে পারবে। অসময়ে ঘুম অর্থাৎ, দিনের বেলা বা সকালে ঘুমোলে স্নায়ু এবং হরমোনের ভারসাম্যে সেই প্রভাব পড়ে না।

    কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর পর্যাপ্ত ঘুমের জন্য বাবা-মায়ের কয়েকটি অভ্যাস পরিবর্তন জরুরি। সন্তানের ঘুমের আগে কোনওভাবেই স্ক্রিন টাইম অতিরিক্ত হওয়া চলবে না। বই পড়া বা ডায়েরি লেখার মতো অভ্যাস তৈরি করতে হবে। যাতে মস্তিষ্ক বাড়তি উত্তেজিত না হয়। আবার নিজেদের স্ক্রিন টাইম নিয়েও সচেতন হতে হবে। সন্তানকে ঘুম পাড়ানোর সময় নিজে মোবাইলে বুঁদ হয়ে থাকলে, তা শিশুর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাবে (Sleep Disorders in Children)। সেই সময় ফোনে কথা বলা বা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকতে হবে। তাহলেই ‘ভালো’ ঘুম সম্ভব।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Airbus H125 Helicopter: এভারেস্টে উড়তে সক্ষম হেলিকপ্টার তৈরি হবে ভারতেই! ‘এয়ারবাস এইচ১২৫’ কতটা কার্যকর? কী এর বৈশিষ্ট্য?

    Airbus H125 Helicopter: এভারেস্টে উড়তে সক্ষম হেলিকপ্টার তৈরি হবে ভারতেই! ‘এয়ারবাস এইচ১২৫’ কতটা কার্যকর? কী এর বৈশিষ্ট্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ফ্রান্স যৌথভাবে বিশ্বের প্রথম এমন হেলিকপ্টার তৈরি করবে, যা মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতায় উড়তে সক্ষম হবে। মঙ্গলবার ‘বন্ধু’ ইমানুয়েল মাক্রঁকে পাশে নিয়ে এই কথা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই উদ্যোগকে তিনি ভারত-ফ্রান্স কৌশলগত অংশীদারিত্বের এক নতুন অধ্যায় বলে উল্লেখ করেন।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি?

    প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁ কর্নাটকের কোলার জেলার ভেমাগালে ‘এয়ারবাস এইচ১২৫’ হেলিকপ্টারের অ্যাসেম্বলি লাইনের উদ্বোধন করেন। মোদি ও মাক্রঁ মুম্বই থেকে ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন। অন্যদিকে, বেঙ্গালুরুতে সেই সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। মুম্বইয়ে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “ভারতে এই হেলিকপ্টার অ্যাসেম্বলি শুরুর মাধ্যমে ভারত-ফ্রান্স সম্পর্কের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি হল। আমরা গর্বিত যে ভারত ও ফ্রান্স এমন একটি হেলিকপ্টার তৈরি করবে, যা মাউন্ট এভারেস্ট পর্যন্ত উড়তে পারবে। এটি বিশ্বজুড়েও রফতানি করা হবে। অর্থাৎ, ভারত–ফ্রান্স অংশীদারিত্বের কোনও সীমা নেই—এটি গভীর সমুদ্র থেকে সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।”

    তৈরি হবে সামরিক সংস্করণও

    সূত্রের খবর, ভারতে তৈরি প্রথম এয়ারবাস এইচ১২৫ হেলিকপ্টার সরবরাহ করা হবে ২০২৭ সালের শুরুতে। অসামরিক সংস্করণের পাশাপাশি ভেমাগালের কারখানায় এই হেলিকপ্টারের সামরিক সংস্করণও উৎপাদিত হবে, যার নাম হবে ‘এইচ১২৫এম’ (এম ফর মিলিটারি)। এই উৎপাদন কেন্দ্রটি ইউরোপীয় বিমান নির্মাণ সংস্থা এয়ারবাসের সহযোগিতায় টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড (TASL) নির্মাণ করেছে। এই প্রথমবার কোনও বেসরকারি ভারতীয় সংস্থা দেশের মাটিতে সম্পূর্ণভাবে হেলিকপ্টার সংযোজন ও পরীক্ষার কাজ করবে।

    এয়ারবাস এইচ১২৫ হেলিকপ্টার কী?

    • ● এয়ারবাসের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এইচ১২৫ বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রিত সিঙ্গল-ইঞ্জিন হেলিকপ্টার।
    • ● এয়ারবাস এইচ১২৫ একমাত্র হেলিকপ্টার, যা ইতিহাসে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় অবতরণ করেছে। এর ফলে এটি বিদ্যমান লাইট ইউটিলিটি হেলিকপ্টারগুলির তুলনায় অনেক বেশি উচ্চতায় কার্যক্ষমতা প্রমাণ করেছে।
    • ● ভারতীয় সেনাবাহিনী যেসব অত্যন্ত-উচ্চ ও উচ্চ-তাপমাত্রার অঞ্চলে কাজ করে, সেখানে এই ক্ষমতা একটি বড় কৌশলগত সুবিধা হয়ে উঠতে পারে।
    • ● এয়ারবাস এইচ১২৫ প্রথম উড়ান দেয় ১৯৭৪ সালে এবং ১৯৭৫ সালে পরিষেবায় যোগ দেয় একটি বহুমুখী লাইট ইউটিলিটি হেলিকপ্টার হিসেবে। এর সামরিক সংস্করণ এয়ারবাস এইচ১২৫এম চালু হয় ১৯৯০ সালে, যা সশস্ত্র নজরদারি, হালকা আক্রমণ ও পাইলট প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়।
    • ● বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৩৫টিরও বেশি দেশের ৪৪টি সশস্ত্র বাহিনীর কাছে এয়ারবাস এইচ১২৫ ও এয়ারবাস এইচ১২৫এম-এর ৪০০টির বেশি সামরিক সংস্করণ পরিষেবায় রয়েছে। প্রধান ব্যবহারকারী দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, ব্রাজিল (বায়ুসেনা ও নৌসেনা), মেক্সিকো, কাতার, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও তাইল্যান্ড।

    এয়ারবাস এইচ১২৫-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য

    • ● রোটরের ব্যাস: ১০.৬৯ মিটার (৩৫.০৭ ফুট)
    • ● মোট দৈর্ঘ্য: ১২.৯৪ মিটার (৪২.৪৫ ফুট)
    • ● কেবিনের আয়তন: ৩ ঘনমিটার (পাইলট বাদে)

    ওজন ও বহনক্ষমতা:

    • ● সর্বাধিক টেক-অফ ওজন:
    • ● ডুয়াল হাইড্রোলিক্স সহ ২,৩৭০ কেজি
    • ● বাহ্যিক লোড বহনের ক্ষেত্রে ২,৮০০ কেজি
    • ● কার্যকর লোড ক্ষমতা: ১,০৭৫ কেজি

    প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য:

    • ● হেলিওনিক্স (Helionix) অ্যাভিওনিক্স সিস্টেম
    • ● ৪-অক্ষের (Axis) অটোপাইলট
    • ● সিন্থেটিক ভিশন সিস্টেম
    • ● ট্র্যাফিক অ্যাভয়ডেন্স ফাংশন
    • ● ডুয়াল হাইড্রোলিক্স ও ক্র্যাশওয়ার্দি ডিজাইন (নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য)

    এই হেলিকপ্টারে একজন পাইলটসহ সর্বোচ্চ ছয়জন যাত্রী বসতে পারেন। এটি এমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিস (EMS) স্ট্রেচার বহন করতে পারে এবং বাহ্যিক স্লিং লোড হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। স্লিং লোড বহনের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ১,৪০০ কেজি।

    ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কীভাবে শক্তি বাড়াবে

    • ● এইচ১২৫এম মূলত অধিক-উচ্চতার অঞ্চলে বহুমুখী সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য উন্নত করা হয়েছে। এয়াবাসের মতে, এই হেলিকপ্টার কম শব্দ ও কম হিট সিগনেচার নির্গমন করে। ফলে ট্যাকটিক্যাল নজরদারি ও গোয়েন্দা অভিযানে এটি বিশেষভাবে কার্যকর।
    • ● যে সব অঞ্চলে ভৌগোলিক অবস্থান ও উচ্চতা বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে এইচ১২৫এম-এর কর্মক্ষমতা এবং দেশীয় উৎপাদন মিলিয়ে এটি ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।
    • ● এই হেলিকপ্টার জাতি গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, বিশেষ করে বেসামরিক ও আধা-সরকারি পরিষেবাগুলিকে শক্তিশালী করতে।
    • ● এটি জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি, আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত হবে। কেন্দ্রের উড়ান (UDAN) প্রকল্পের আওতায় এই হেলিকপ্টার প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় শেষ মাইল সংযোগ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে, ফলে পর্যটন বৃদ্ধি পাবে এবং যাত্রী পরিবহণ সহজ হবে।
    • ● স্থানীয়ভাবে এইচ১২৫এম উৎপাদন ভারতের সামরিক ক্ষমতাকে অধিক-উচ্চতা, সন্ত্রাসদমন এবং প্রশিক্ষণমূলক অভিযানে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে।
LinkedIn
Share