Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • JNU: জেএনইউ-তে মোদি বিরোধী স্লোগান! ‘এটা মোদির ভারত, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নয়’, পালটা হুঁশিয়ারি গিরিরাজের

    JNU: জেএনইউ-তে মোদি বিরোধী স্লোগান! ‘এটা মোদির ভারত, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নয়’, পালটা হুঁশিয়ারি গিরিরাজের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU) ক্যাম্পাসে সোমবার রাতে হওয়া বিক্ষোভের ঘটনায় জেএনইউ স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (JNUSU) কয়েকজন নেতাকে নোটিস পাঠিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সুপ্রিম কোর্ট উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের জামিন আবেদন খারিজ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই বিক্ষোভ হয়। এরপরই মঙ্গলবার বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানায় বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে “দেশবিরোধী” মতাদর্শ প্রচার করা হচ্ছে। সবরমতী হোস্টেলের বাইরে ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত।

    সবরমতী হোস্টেলের সামনে বিক্ষোভ

    বিজেপি নেতা প্রদীপ ভাণ্ডারি দাবি করেন, সবরমতী হোস্টেলের কাছে হওয়া বিক্ষোভ কোনও স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র আন্দোলন নয়, বরং চরমপন্থী মতাদর্শ ছড়ানোর একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। তাঁর অভিযোগ, জেএনইউ-এর মতো বৌদ্ধিক পরিসরকে “দেশবিরোধী চিন্তাধারা” জোরদার করতে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা জাতীয় ঐক্যের জন্য ভয়ঙ্কর। বিক্ষোভ চলাকালীন কেন্দ্রীয় সরকার ও দেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে স্লোগান তোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। যার জেরে ক্যাম্পাস রাজনীতি নিয়ে নজরদারি আরও বেড়েছে। দিল্লির মন্ত্রী আশিস সুদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে ওঠা স্লোগানের নিন্দা করেন। তিনি বলেন, “এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। শরজিল ইমাম উত্তর-পূর্ব ভারতকে বিচ্ছিন্ন করার কথা বলেছিলেন। উমর খালিদ ‘ভারত টুকরো টুকরো হবে’—এই ধরনের স্লোগান তুলেছিলেন এবং ২০২০ সালের দাঙ্গায় তাঁর জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর ফলেই জেএনইউ-তে দায়িত্বজ্ঞানহীন উপাদান মাথাচাড়া দিচ্ছে।”

    মোদি-শাহ বিরোধী স্লোগান

    ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গায় অভিযুক্ত উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিনের আবেদন সোমবার খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, ওই দাঙ্গার ঘটনায় ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা ও দাঙ্গা সংগঠিত করার ক্ষেত্রে খালিদ এবং ইমামের কেন্দ্রীয় ভূমিকা ছিল। যদিও তাঁদের সঙ্গে জেলবন্দি বাকি ৫ জনকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। খালিদের জামিন খারিজ হওয়ার পর, সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে জেএনইউ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে সেখানকার পড়ুয়ারা। স্লোগান তোলা হয়, ‘জেএনইউ কী ধরতী পর মোদি-শাহ কী কবর খুদেগী।’ অর্থাৎ ‘জেএনইউ-এর মাটিতেই মোদি শাহের কবর খোঁড়া হবে।’ মুহূর্তের মধ্যে সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় এই স্লোগান।

    দেশবিরোধী মানসিকতা

    মোদি বিরোধী এই স্লোগানে যারপরনাই ক্ষুব্ধ বিজেপি। মঙ্গলবার সকালে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং বলেন, “জেএনইউ টুকরে টুকরে গ্যাং, আরজেডি, তৃণমূল, বাম দল ও রাহুল গান্ধীর মতো দেশবিরোধী মানসিকতার লোকের কার্যালয় হয়ে উঠেছে। ওদের মনে রাখা উচিত এটা ভারত এবং একবিংশ শতাব্দীর নরেন্দ্র মোদির ভারত। বিবেকানন্দ বলেছিলেন গেরুয়া রং-ই থাকবে। আমি এইসব টুকরে টুকরে গ্যাংকে বলতে চাই, যারা উমর খালিদ ও শরজিল ইমামকে সমর্থন করে, যারা পাকিস্তানের মানসিকতায় বিশ্বাস করে যারা চিকেন নেক আলাদা করার কথা বলে, তাঁরা দেশদ্রোহী।”

  • IPL 2026: বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ! লাভের অঙ্কে ক্ষতি নেই ভারতের

    IPL 2026: বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ! লাভের অঙ্কে ক্ষতি নেই ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে ক্রমাগত হিন্দুদের উপর অত্যাচার বাড়ছে। প্রতিদিন ভারত-বিরোধিতার সুর চড়ছে বাংলাদেশে। এই আবহে একমাত্র বাংলাদেশি (Bangladesh) ক্রিকেটার হিসেবে আইপিএল ২০২৬ (IPL 2026) সুযোগ পেয়েও শেষ মুহূর্তে বাদ পড়তে হয় মুস্তাফিজুর রহমানকে। এর পরই বাংলাদেশে আইপিএল-এর সম্প্রচার বন্ধের কথা ঘোষণা করে বিসিবি। কিন্তু এর ফলে লিগের বৈশ্বিক আয়প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম—এমনটাই মত শিল্প বিশেষজ্ঞদের। বিসিসিআই-এর নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার পর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।

    আইপিএলের ক্ষতি নেই

    প্রশ্ন উঠছে—টেলিভিশনে বাংলাদেশের দর্শকদের হারালে কি আইপিএলের ক্ষতি হবে? বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এ উদ্ধৃত তিনজন ব্যবসায়িক বিশেষজ্ঞের মতে, তাৎক্ষণিক প্রভাব খুবই সীমিত থাকবে। ডি অ্যান্ড পি অ্যাডভাইসরি সার্ভিসেস-এর ম্যানেজিং পার্টনার সন্তোষ এন বলেন, “বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করার এই সিদ্ধান্তে বড় কোনও প্রভাব পড়বে বলে আমি মনে করি না। এতে বিসিসিআই-এর আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, কিংবা সম্প্রচারকারী সংস্থা যে অর্থ দেয়, তাতেও কোনও পরিবর্তন আসবে না। তিনি আরও জানান, আগের বছরগুলোতে আইপিএলে মাত্র দুই-তিনজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার অংশ নিয়েছেন। ফলে বাংলাদেশের দর্শকসংখ্যায় বড় ধরনের পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং সামগ্রিক ভিউয়ারশিপও প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইপিএলের মূল আয় আসে ভারতীয় বাজার ও অন্যান্য বড় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে। সেই কারণে বাংলাদেশের মতো একটি একক বাজারে সম্প্রচার বন্ধ হলেও লিগের মোট রাজস্ব কাঠামোতে বড় কোনও ধাক্কা লাগার আশঙ্কা নেই।

    ভারতের টিভি সম্প্রচার স্বত্ব

    স্টার ইন্ডিয়া বিসিসিআই-কে দিয়েছে প্রায় ২৩,৫৭৫ কোটি টাকা ভারতের ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্ব। ভায়াকম ১৮ দিয়েছে প্রায় ২৩,৭৫৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ শুধুমাত্র ভারতীয় বাজার থেকেই বিসিসিআই-এর আয় প্রায় ৪৭,৩৩৩ কোটি টাকা। এর বিপরীতে, ভারত বাদে বিশ্বের প্রায় ১২০টি দেশে (বাংলাদেশ সহ) আইপিএল সম্প্রচারের জন্য বিসিসিআই পায় মোটামুটি ১,০৫৭ কোটি টাকা। এই তুলনাতেই পরিষ্কার হয়ে যায়, ভারতীয় বাজারের তুলনায় আন্তর্জাতিক বাজার, বিশেষ করে বাংলাদেশের আর্থিক অবদান কতটা সীমিত। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্প্রচার স্বত্ব ও বিজ্ঞাপন মিলিয়ে আইপিএল-এর মোট রেভিনিউয়ের মাত্র ২-৩ শতাংশ আসে বাংলাদেশ থেকে। ফলে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ হলেও বিসিসিআই বা আইপিএল সামগ্রিক আয়ে বড়সড় কোনও ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা কার্যত নেই। অন্য ভাষায় বললে, আইপিএল-এর বিশাল অর্থনৈতিক কাঠামোর সামনে বাংলাদেশের বাজার তুলনামূলক ভাবে খুবই ছোট।

  • ISI Target Children: আইএসআই-এর টার্গেটে শিশুরা! ভারতের নাবালকদের ফাঁদে ফেলে গুপ্তচরবৃত্তি করাচ্ছে পাকিস্তান?

    ISI Target Children: আইএসআই-এর টার্গেটে শিশুরা! ভারতের নাবালকদের ফাঁদে ফেলে গুপ্তচরবৃত্তি করাচ্ছে পাকিস্তান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর (ISI) নয়া কৌশল। এবার নাবালকদের ব্যবহার করে ভারতে গুপ্তচরবৃত্তি। পঞ্জাবের পাঠানকোট পুলিশ সম্প্রতি এক ১৫ বছরের কিশোরকে গ্রেফতার করেছে, যে গত এক বছর ধরে পাকিস্তানে অবস্থিত আইএসআই হ্যান্ডলারদের কাছে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল তথ্য পাঠাচ্ছিল। এই ঘটনা দেশের নিরাপত্তা মহলে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, কারণ তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে যে এটি একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্কের অংশ এবং পঞ্জাবের বিভিন্ন জেলায় আরও কয়েকজন নাবালক আইএসআই-এর সংস্পর্শে রয়েছে।

    শিশুদের গুপ্তচর হিসেবে নিয়োগের আশঙ্কা

    পাঠানকোট পুলিশের দাবি, কিশোরটি যে যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় শিশুদের গুপ্তচর হিসেবে নিয়োগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা, যা রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাঞ্জাবের আরও কিছু নাবালকের আইএসআই অপারেটিভদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাজ্যজুড়ে সব থানাকে সতর্ক থাকতে এবং এ ধরনের কার্যকলাপের উপর কড়া নজর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাঠানকোটের এসএসপি দলজিন্দর সিং ধিলোঁ বলেন, “আমরা ১৫ বছর বয়সি সঞ্জীব কুমারকে গ্রেফতার করেছি। সে আমাদের দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য আইএসআই-এর ফ্রন্টাল সংগঠন ও পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাচ্ছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে।” তিনি আরও জানান, “সামাজিক মাধ্যমে পাকিস্তানি সংস্থাগুলির ফাঁদে পড়েছিল সে। বাবার খুন হওয়ার সন্দেহে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। তবে তদন্তে এমন কোনও ঘটনার প্রমাণ মেলেনি।”

    কে এই ১৫ বছরের কিশোর?

    পুলিশ জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা সঞ্জীবকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে। তারা তাকে বিশ্বাস করায় যে তার বাবাকে খুন করা হয়েছে—এই মানসিক ধাক্কায় সে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সেই সুযোগই নেয় হ্যান্ডলাররা। পুলিশের দাবি, কিশোরটি একাধিক সংবেদনশীল স্থানের ভিডিও পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠিয়েছিল, যারা সন্ত্রাসী মডিউল পরিচালনা করে। ঠিক কতটা তথ্য পাচার হয়েছে এবং কারা এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতত নাবালকটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির উপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    মানসিকভাবে দুর্বল করে ফাঁদ পাতে আইএসআই

    পাঠানকোটের সিনিয়র সুপারিনটেন্ডেন্ট অফ পুলিশ (SSP) দলজিন্দর সিং ধিলোঁ সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, ধৃত সঞ্জীব কুমার জম্মুর সাম্বা জেলার বাসিন্দা। তদন্তে দেখা গেছে, সে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের ফাঁদে পড়ে। কিশোরটি বিশ্বাস করত যে তার বাবাকে খুন করা হয়েছে, যা তাকে মানসিকভাবে দুর্বল করে তুলেছিল। পাকিস্তানি এজেন্টরা এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাকে প্রলোভিত করে এবং সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের কাজে লাগায়। যদিও তদন্তে বাবার খুনের কোনও প্রমাণ মেলেনি, কিন্তু এই মিথ্যা বিশ্বাসের জন্যই সে আইএসআই-এর জালে জড়িয়ে পড়ে। গত এক বছর ধরে সে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সামরিক ঘাঁটি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ভিডিও ও ছবি পাঠিয়েছে পাকিস্তানি টেরর মডিউলের সঙ্গে যুক্ত গ্যাংস্টারদের কাছে। এই গ্রেফতারি পাঠানকোটের কৌশলগত গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। পাঠানকোট বিমানঘাঁটি ২০১৬ সালে জঙ্গি হামলার শিকার হয়েছিল, যার পিছনে আইএসআই-এর হাত ছিল বলে অভিযোগ।

    দেশের নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জ

    নাবালকদের ব্যবহার করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের এই নতুন কৌশল দেশের নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জ করছে। পুলিশ সূত্রে খবর, কিশোরটির ফোন ক্লোন করা হয়েছিল এবং হ্যান্ডলাররা তার উপর নজর রাখছিল। তদন্তে আরও জানা গেছে যে সে একা নয় পাঞ্জাবের অন্যান্য জেলায়ও কয়েকজন নাবালক আইএসআই-এর সংস্পর্শে রয়েছে। এর ফলে রাজ্যজুড়ে পুলিশ স্টেশনগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে এবং নাবালকদের অনলাইন অ্যাকটিভিটি নজরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কেন নাবালকদের ব্যববহার

    এই ঘটনা ডিজিটাল যুগের নতুন হুমকিকে তুলে ধরছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা (ISI Target Children) ফেক অ্যাকাউন্ট খুলে ভারতীয় যুবক-যুবতীদের টার্গেট করছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী নাবালকরা সহজ শিকার হচ্ছে, কারণ তাদের মানসিক পরিপক্কতা কম এবং অনলাইনে প্রলোভনের ফাঁদে সহজে পড়ে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইএসআই-এর এই নতুন কৌশল অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ নাবালকদের গ্রেফতার করলে আইনি জটিলতা বেশি এবং তাদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা সহজ। গত কয়েক মাসে পঞ্জাব এবং হরিয়ানায় একাধিক গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যার মধ্যে এই নাবালকের কেস সবচেয়ে উদ্বেগজনক।

    আইএসআই-এর নয়া অস্ত্র

    উপমহাদেশের সবচেয়ে পুরনো গুপ্তচর সংস্থা হিসেবে পরিচিত পাকিস্তানের আইএসআই তথা ইন্টার সার্ভিস ইন্টিলিজেন্স (ISI Target Children)। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দেশের অভ্যন্তরে তাদের কার্যক্রম না চালালেও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আইএসআই। শুধু তাই নয় রাজনৈতিক নজরদারির অভিযোগও রয়েছে সামরিক এ গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে। এর আগে দেখা গিয়েছে ভারতের যুব সম্প্রদায়কে নিশানা করেছে আইএসআই। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতজুড়ে অপরাধ এবং সামাজিক অশান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে মাদককে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। তাদের লক্ষ্য দুই দিকেই প্রথমত, ভারতীয় যুবকদের মাদকাসক্ত করে তছনছ করা, দ্বিতীয়ত, সেই মাদক ব্যবসার টাকা দিয়ে জঙ্গি পরিকাঠামো গড়ে তোলা। তথ্য বলছে, আইএসআই এখন ডি কোম্পানিকে পুরোপুরি সামনে রেখে নেশার বাজারে আগ্রাসী ঢেউ তুলতে চাইছে। দাউদ ইব্রাহিমের এই সিন্ডিকেট বাংলাদেশে একাধিক মাদক উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিয়েছে। সেখান থেকেই ভারতমুখী বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা চলছে। এবার যুব সম্প্রদায়কে ছেড়ে নাবালকদের নিশানা করল আইএসআই।

  • Haldia Naval Base: বাংলাদেশমুখী সামুদ্রিক নজরদারিতে নতুন ধাপ, হলদিয়ায় নৌঘাঁটি নির্মাণ করছে ভারত

    Haldia Naval Base: বাংলাদেশমুখী সামুদ্রিক নজরদারিতে নতুন ধাপ, হলদিয়ায় নৌঘাঁটি নির্মাণ করছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ সীমান্তের গা-ঘেঁষে হলদিয়ায় নতুন নৌঘাঁটি (Haldia Naval Base) গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে ভারতীয় নৌসেনা (Indian Navy)। বাহিনীর শীর্ষ সূত্র জানিয়েছে, এখনও নামকরণ না হওয়া এই ঘাঁটিটি একটি “ডিট্যাচমেন্ট” হিসেবে কাজ করবে এবং এখানে মূলত ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্র্যাফ্ট (FIC) ও নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্র্যাফ্ট (NWJFAC)-এর মতো ছোট যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে জেটি নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজ চলছে।

    হলদিয়ার অবস্থান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ

    ইতিমধ্যেই পূর্ব উপকূলে ভারতীয় নৌবাহিনীর (Indian Navy) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি রয়েছে। বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের সদর দফতর এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে কৌশলগত ঘাঁটি রয়েছে। তবে হলদিয়ার জন্য বরাদ্দ জমি দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে আটকে থাকায় কাজ শুরু করা যায়নি। সম্প্রতি সেই বরাদ্দ সংক্রান্ত জট কাটায় নৌবাহিনী দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করেছে। জানা যাচ্ছে, প্রস্তাবিত এই ঘাঁটিতে (Haldia Naval Base) প্রায় একশো অফিসার ও নাবিক মোতায়েন থাকতে পারে। কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত হলদিয়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে হুগলি নদীপথ ধরে দীর্ঘ যাত্রা এড়ানো সম্ভব হবে।

    এফআইসি এবং এনডব্লুজেএফএসি মোতায়েন

    ২০২৪ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল নৌবাহিনীর জন্য ১২০টি এফআইসি এবং ৩১টি এনডব্লুজেএফএসি কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়। প্রায় ১০০ টন ওজনের এই দ্রুতগতির নৌযানগুলি ঘণ্টায় প্রায় ৪৫ নট (নটিক্যাল মাইল) বা ৮৩ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম। মেশিনগানে সজ্জিত এই নৌযানগুলিতে ১০ থেকে ১২ জন কর্মী বহন করা যায় এবং উপকূলীয় নজরদারি থেকে শুরু করে বিভিন্ন নিরাপত্তা অভিযানে এগুলি ব্যবহার করা হয়।

    বাড়তি নজর বাংলাদেশে!

    নৌবাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, হলদিয়ার নতুন ঘাঁটি (Haldia Naval Base) বাংলাদেশের দিকের সামুদ্রিক গতিবিধির ওপর নজরদারি বাড়াতে সাহায্য করবে। গত বছরের নভেম্বর মাসে পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের চিন-নির্মিত গাইডেড মিসাইল ফ্রিগেট পিএনএস সাইফ বাংলাদেশে পাঠায়। প্রায় ৩,০০০ টন ওজনের এবং ১৫ বছরের পুরনো এই যুদ্ধজাহাজের সফরটিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

    পাক-বাংলাদেশ সামরিক মাখামাখি

    ২০২৪ সালের অগাস্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত নভেম্বর মাসে দুই দেশের নৌবাহিনীর (Bangladesh Pakistan naval ties) মধ্যে প্রথমবারের মতো ২-স্টার র‌্যাঙ্কের সামরিক কর্তাদের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ভারতীয় মহলের ধারণা, ভবিষ্যতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে। এদিকে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রয়েছে। চিন ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ (China Bangladesh naval cooperation) নৌবাহিনীকে দুটি সাবমেরিন সরবরাহ করেছে এবং চট্টগ্রামের উপকূলে একটি সাবমেরিন ঘাঁটির নির্মাণকাজও শেষের পথে। ওই ঘাঁটির প্রাথমিক নাম ছিল ‘বিএনএস শেখ হাসিনা’, তবে পরবর্তীতে সেই নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।

  • Weather Update: ১০.২ ডিগ্রি! জানুয়ারিতে কলকাতায় শীতের সর্বকালীন রেকর্ড, নেপথ্যে নিম্নচাপ?

    Weather Update: ১০.২ ডিগ্রি! জানুয়ারিতে কলকাতায় শীতের সর্বকালীন রেকর্ড, নেপথ্যে নিম্নচাপ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জানুয়ারিতে সর্বকালীন রেকর্ড! ১০-এর ঘরে নামল কলকাতার পারদ (Weather Update)। মঙ্গলবার সকালে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, দমদমে তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ৯ ডিগ্রির ঘরে। আলিপুর এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকাতে এক ধাক্কায় পারদ নেমেছিল ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। রাত থেকেই হাড় কাঁপানো ঠান্ডা টের পেয়েছে কলকাতা। আর ভোরবেলা রীতিমতো তীব্র হয় শীতের কামড়। সকলেরই চোখ মোবাইলে তাপমাত্রার আপডেটের দিকে। গরম চা-য়ে চুমুক দিয়েই দিনের শুরু, তবু যেন লেপ-কম্বল ছাড়তে ইচ্ছে করছে না শহরবাসীর।

    কলকাতায় আরও পারদ-পতনের সম্ভাবনা

    মঙ্গলবার কলকাতা (Winter in Bengal) সাক্ষী থেকেছে প্রায় দেড় দশকের সবচেয়ে শীতলতম দিনের। ভেঙে দিয়েছে প্রায় সব রেকর্ড। জানুয়ারি মাসে এটিই কলকাতায় শীতের সর্বকালীন রেকর্ড। এর আগে গত ১৫ বছরে জানুয়ারি মাসে এক বারই ১১ ডিগ্রির নীচে নেমেছিল কলকাতার পারদ। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ১০.৯ ডিগ্রিতে। এ বার তা-ও ছাপিয়ে গিয়েছে। এর আগে ২০১২ সালে এক বার ডিসেম্বর মাসে ১০ ডিগ্রিতে নেমেছিল কলকাতার পারদ। তা ছাড়া ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বরেও এক বার ৭.২ ডিগ্রিতে নেমে গিয়েছিল। চলতি সপ্তাহে কলকাতা-সহ গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আরও কয়েক ডিগ্রি পারদপতনের সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের থেকে ৩.৭ ডিগ্রি কম। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৮.৪ ডিগ্রি। সেটিও স্বাভাবিকের থেকে ৬.৭ ডিগ্রি কম। আলিপুর আবহাওয়া দফতর বলছে, সোমবার দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের বুকে জন্ম নিয়েছে নতুন নিম্নচাপ। সেই সূত্র ধরেই ধীরে ধীরে আরও পারদ পড়ছে বাংলার। মঙ্গলবার কলকাতা সাক্ষী থেকেছে প্রায় দেড় দশকের সবচেয়ে শীতলতম দিনের। ভেঙে দিয়েছে প্রায় সব রেকর্ড। আবহবিদরা বলছেন, এই নিম্নচাপ বাংলা থেকেই অনেকটাই দূরে রয়েছে। তাই আপাতত বৃষ্টির বিন্দুমাত্র সম্ভবনা নেই। বাংলাজুড়ে এখন দাপট বজায় রাখবে উত্তুরে হাওয়ার।

    জেলায় জেলায় শীত-ঘুম

    কলকাতা-সহ রাজ্যজুড়ে কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। মঙ্গলবার ভোরের দিকে কলকাতায় হালকা কুয়াশার চাদরও দেখা গিয়েছে। তবে সংলগ্ন জেলাগুলি সোমবার বেশি রাতের দিক থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকতে শুরু করে। মঙ্গলবার ভোরের দিকেও কুয়াশায় ঢেকে ছিল শহরতলি এবং সংলগ্ন এলাকায়। বুধবার এবং বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গে রাতের তাপমাত্রা আরও ২ ডিগ্রি কমতে পারে। তার পরের ৪-৫ দিন তাপমাত্রার বিশেষ হেরফর হবে না। এই সময়ে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৫ ডিগ্রি কম থাকবে।মঙ্গলবার দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ার কিছু জায়গায় ‘শীতল দিন’ (দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যাওয়া)-এর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বুধবারও বাঁকুড়া বাদে বাকি জেলাগুলিতে থাকতে পারে ‘শীতল দিন’-এর পরিস্থিতি। মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় ঘন কুয়াশারও সতর্কতা রয়েছে।

    দার্জিলিংয়ে তুষারপাতের সম্ভাবনা

    শীতে কাঁপছে উত্তরবঙ্গ। সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন জায়গা কুয়াশাচ্ছন্ন। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলা দার্জিলিং সহ তিন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে । বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং , কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ি জেলাতে। দার্জিলিংয়ের পার্বত্য উঁচু এলাকায় তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সান্দাকফু, ঘুম, ধোত্রে, চটকপুরের মত উঁচু পার্বত্য এলাকায় তুষারপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বা রাতের তাপমাত্রার সঙ্গে সঙ্গে দিনের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের নিচেই থাকবে এখন। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তিন থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে থাকতে পারে।

  • Bangladesh Hindu Murder: ‘মোদিও জিজিয়া আটকাতে পারবে না’, লাগাতার হুমকি! বাংলাদেশে একই দিনে জোড়া হিন্দু হত্যা

    Bangladesh Hindu Murder: ‘মোদিও জিজিয়া আটকাতে পারবে না’, লাগাতার হুমকি! বাংলাদেশে একই দিনে জোড়া হিন্দু হত্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে একই দিনে দু’জায়গায় হিন্দু নিধনের (Bangladesh Hindu Murder) অভিযোগ। নৈরাজ্যের বাংলাদেশ ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক পরিসরে। সোমবার একদিকে যশোরের কপালিয়া বাজারে গলা কেটে খুন করা হয় ব্যবসায়ী তথা সাংবাদিক রাণাপ্রতাপ বৈরাগীকে। এই ঘটনার ক্ষণিকের ব্যবধানেই আরও এক সংখ্য়ালঘু হিন্দুকে খুন করার অভিযোগ ওঠে। যা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহতের নাম শরৎ চক্রবর্তী মণি। তিনি ঢাকার নরসিংদীর বাসিন্দা। পেশায় ব্যবসায়ী। গত ১৮ দিনে এই নিয়ে বাংলাদেশে এটা ষষ্ঠতম হিন্দু নিধনের অভিযোগ। বাংলাদেশে এক হিন্দুর রক্ত শুকনোর আগেই আর এক হিন্দুকে খুন করা হচ্ছে। রাণার মৃত্যুর রেশ কাটার আগেই শরৎকে খুন করা হস। বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দুদের আশঙ্কা, এভাবে চললে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দুদের অস্তিত্বই থাকবে না।

    নর‌সিংদী‌তে খুন হিন্দু ব্যবসায়ী

    নর‌সিংদীর পলাশ উপ‌জেলার চরসিন্দুর বাজারে নিজের মুদি দোকানে খুন হন শরৎ চক্রবর্তী ম‌ণি, বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। বাজারে তাঁর ভালই পরিচিত ছিল। শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিল মণি। কারওর সঙ্গে কোনও বিবাদের খবর পাওয়া যায়নি। তা হলে সেই ব্যক্তির পরিণতি কী ভাবে? ধর্মের দোহাই দিয়েই মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হল না তো? প্রশ্ন তুলছেন একাংশ। সোমবার রাতে প্রতিদিনের মতোই নিজের দোকানপাট নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন মণি। তখন বাজারে ঠাসা ভিড়। রাত হলেও মানুষের আনাগোনা কমেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এমন সময়ই কয়েকজন অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তি মণির উপর চড়াও হয়। অতর্কিতেই হামলা চালায় তাঁর উপর। গুরুতর ভাবে আহত হন মণি। বাজারের অন্য ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটাই সময় পেরিয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে।

    সাংবাদিক রানা খুন

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে লাগাতার হিংসা চলছেই। যশোরে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তি রানা প্রতাপ (৪৫)। তিনি একটি আইস ফ্যাক্টরির মালিক ছিলেন এবং একই সঙ্গে একটি দৈনিক পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, সোমবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কোপালিয়া বাজার এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কয়েকজন যুবক মোটরসাইকেলে করে এসে রানা প্রতাপকে তার আইস ফ্যাক্টরি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে একটি গলিতে নিয়ে গিয়ে তাকে মাথায় গুলি করে এবং গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। রানা নড়াইল জেলা থেকে প্রকাশিত দৈনিক বিডি খবর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকও ছিলেন।

    ১৮ দিন ষষ্ঠতম হত্যা

    • ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫: ময়মনসিংহে (ধর্ম অবমাননার অভিযোগে) দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করে জনতা।
    • ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫: রাজবাড়িতে জনতা অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যা করে।
    • ২৯-৩০ ডিসেম্বর ২০২৫: বজেন্দ্র বিশ্বাসকে (পোশাক কারখানায় কর্তব্যরত অবস্থায়) গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫: শরীয়তপুরে খোকন চন্দ্র দাসকে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং তারপর পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলা হয়। ৩ জানুয়ারি তিনি হাসপাতালে মারা যান।
    • ৫ জানুয়ারি ২০২৬: যশোরে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৫ জানুয়ারি ২০২৬: নরসিংদীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয় শরৎ চক্রবর্তী মণিকে।

    শুরু হয়েছিল দীপু দাসকে দিয়ে। ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে প্রথমে গণপিটুনি। তারপর গাছে বেঁধে দীপুর গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল উগ্রপন্থীরা। সেই পৈশাচিক দৃশ্য ছিল ভয়াবহ, হিমস্রোত বইয়ে দেওয়ার মতো। তারপর থেকে বাংলাদেশের নানা উপজেলা থেকে উঠে এসেছে হিন্দু নিধনের অভিযোগ। অমৃত মণ্ডল থেকে শুরু করে বজেন্দ্র বিশ্বাস, খোকন চন্দ্র দাস— উঠে এসেছে একের পর এক নাম। এবার সেই নিহতদের তালিকায় যোগ হল শরৎ চক্রবর্তী, রানা প্রতাপ বৈরাগীর নামও। কিন্তু বিচার? তা এখনও অধরা। দেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বাংলাদেশের সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। ভারত এই ঘটনাগুলিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অব্যাহত বৈরিতাকে গুরুতর বিষয় হিসাবে বর্ণনা করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলিও বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং সংখ্যালঘুদের উপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের নিন্দা জানিয়েছে।

    আমার জন্মভূমি মৃত্যু উপত্যকা

    জানা গিয়েছ, ৫ ডিসেম্বর স্থানীয় সম রাত ১০টা নাগাদ এই হামলা হয়েছিল শরৎ চক্রবর্তী মণির ওপর। নিহত মণি শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন। শরতের স্ত্রী অন্তরা মুখোপাধ্যায় গৃহবধূ। তাঁদের ছেলে অভীক চক্রবর্তীর বয়স ১২ বছর। আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত ছিলেন শরৎ। কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে ফিরেছিলেন। জানা গিয়েছে, গত ১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ফেসবুকে নিজের উদ্বেগ ব্যক্ত করে একটি পোস্ট করেছিলেন শরৎ। লিখেছিলেন, ‘‘চারিদিকে এত আগুন, এত হিংসা। আমার জন্মভূমি মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে।’’ আর সেই উদ্বেগ প্রকাশের একমাস যেতে না যেতেই তাঁকে খুন হতে হল।

    হিন্দু হওয়াই অপরাধ

    পাড়া-প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, শরৎ অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছিলেন, অত্যন্ত মানবিক ছিলেন, সামাজিক ভাবে দায়বদ্ধ ছিলেন। কোনও শত্রু ছিল না তাঁর। হিন্দু বলেই শরৎকে খুন করা হল কি না, সেই প্রশ্ন তুলছেন প্রতিবেশীরাই। বাংলাদেশের সমাজকর্মী বাপ্পাদিত্য বসু এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁর কথায়, রাষ্ট্রের মদতেই সংখ্যালঘু হিন্দুদের হত্যা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, দুষ্কৃতীরা শরতের থেকে মোটা টাকা ‘জিজিয়া’ দাবি করছিল। পুলিশের কাছে গেলে স্ত্রীকে অপহরণ করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তাঁকে খুন করা হল তাঁরই দোকানে। এই আবহে ইউনুস সরকারকে তোপ দেগে বাপ্পাদিত্য ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘‘যে‌ দে‌শে সরকা‌রের সুস্পষ্ট প‌রিকল্পনায় হিন্দুদের জা‌তিগত নিধন বা এথ‌নিক ক্লেন‌জিং চ‌লে, সেই দে‌শে হিন্দু হওয়াটাই তো খুন হ‌য়ে যাবার প‌ক্ষে বড় কারণ।’’

    মোদি এলেও আটকতে পারবে না

    বাংলাদেশে হিন্দু হলেই মেরে ফেলা হতে পারে, এমনই দাবি বাপ্পাদিত্যের। শরৎকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনতেন বাপ্পাদিত্য। তিনি জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীরা শরতের থেকে মোটা টাকা দাবি করছিল। বাংলাদেশে থাকতে হলে টাকা দিতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল তাঁকে। ‘জিজিয়া’ দিতে বলা হয় শরৎকে। পুলিশের কাছে গেলে স্ত্রীকে অপহরণ করার হুমকিও দেওয়া হয়। বাপাদিত্য বলেন, ‘‘দুষ্কৃতীরা শরৎকে বলে, ‘চুপচাপ টাকা দিয়ে দে। বেশি চিৎকার করিস না। তোর ভারত বা তোর বাবা নরেন্দ্র মোদি এলেও জিজিয়া আদায় করা আটকাতে পারবে না’।’’ ইসলামি রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিমদের কাছ থেকে যে কর আদায় করার চল রয়েছে, তাকেই বলা হত ‘জিজিয়া’। অমুসলিমদের জীবন, সম্পত্তি রক্ষা এবং ধর্মাচারণের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে ওই কর নেওয়ার চল ছিল। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মুখপাত্র কাজল দেবনাথ বলেন, ‘‘শুধুমাত্র ডিসেম্বর মাসেই হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর সাতটি হামলা এবং পাঁচটি হত্যার খবর পাওয়া গেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলি সংখ্যালঘুদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে।’’

  • Weight Loss vs Wellness: দ্রুত ওজন কমানো নাকি দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা! কোন পথ বাছতে বলছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    Weight Loss vs Wellness: দ্রুত ওজন কমানো নাকি দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা! কোন পথ বাছতে বলছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বয়স আট হোক কিংবা পঞ্চাশ, শরীর সুস্থ রাখার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ওজন! কোন খাবার খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে, কেন অতিরিক্ত ওজন বাড়ছে এই নিয়ে এখন স্কুল পড়ুয়া থেকে প্রৌঢ়, সকলেই কমবেশি উদ্বিগ্ন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতের অধিকাংশ মানুষ পুষ্টি সম্পর্কে ঠিকমতো ওয়াকিবহাল নন। আর তাই ওজন নিয়ে এত ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। অতিরিক্ত ওজন, অপুষ্টির মতো সমস্যা এখন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠছে। তাঁদের পরামর্শ, হেলদি ওয়েট সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। ওজন কীভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবে সে সম্পর্কে ঠিকমতো ওয়াকিবহাল থাকলেই নানান জটিলতা এড়ানো সহজ হয়‌।

    দ্রুত ওজন কমানো কি দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার পথে বাধা?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ মানুষ অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভোগেন। দেহের অতিরিক্ত ওজন হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা, হাড়ের সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতার মতো একাধিক রোগের কারণ হয়ে ওঠে। তাই অনেকেই দ্রুত সমাধানের পথ খোঁজেন। কিন্তু তাতেই বিপদ আরও বাড়ে। তাঁরা জানাচ্ছেন, খুব দ্রুত শরীরের ওজন ঝরানোর জন্য অনেকেই ডায়েট করেন, কিংবা অতিরিক্ত সময় জিমে কাটানো শুরু করেন। এর ফলে দ্রুত ওজন কমে গেলেও নানান দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি হয়ে যায়। যা স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করতে পারে।

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, দ্রুত ওজন কমানোর জন্য অনেকেই নিয়মিত খাবারের তালিকা থেকে প্রোটিন সম্পূর্ণ বাদ দেন। যা শরীরে ভয়ঙ্কর ক্ষতি করে। প্রোটিন শরীরের পেশি মজবুত রাখতে খুব জরুরি। তাছাড়া ক্লান্তি কমিয়ে শরীরে এনার্জি জোগানের জন্য ও প্রোটিনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিন বর্জিত খাবার খেলে পেশি দূর্বল হয়ে যায়। হাত-পায়ে খিঁচ ধরে। ক্লান্তি ভাব বাড়ে। ফলে স্বাভাবিক কাজ করাও মুশকিল হয়ে পড়ে।

    শরীর সুস্থ রাখতে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, মিনারেল, ভিটামিন,ফ্যাট প্রয়োজন। ইচ্ছেমতো যেকোনও উপাদান বাদ দিলেই শরীরে তার গভীর প্রভাব পড়ে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই অসচেতন ভাবেই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়াই ডায়েট চার্ট তৈরি করেন। দ্রুত ওজন কমাতে খাবারের তালিকা থেকে বহু উপাদান বাদ পড়ে। আর এর ফলে অপুষ্টির সমস্যা তৈরি হয়। দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

    তাড়াতাড়ি ওজন কমাতে অনেকেই কম খাবার খাওয়া এবং অতিরিক্ত শারীরিক কসরত করার পথ বেছে নেন। যা একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। তাঁরা জানাচ্ছেন, এর ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত খনিজ এবং জল বেরিয়ে যায়। যার জেরে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    পুষ্টির ঘাটতি এবং পেশির দূর্বলতা শুধু শরীরকে ক্লান্ত করে না, হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, পেশি শিথিল হলে হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ডায়েট মানসিক অবসাদ তৈরি করে। যা একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কীভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব?

    জানুয়ারি মাসে হেলদি ওয়েট অ্যাওয়ারনেস পালন হয়। অতিরিক্ত ওজন কতখানি বিপজ্জনক সে সম্পর্কে সতর্ক করার পাশপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার পথ বাছতে হবে সে সম্পর্কেও সচেতনতা চলে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য প্রয়োজন ঠিকমতো ডায়েট। প্রথম থেকেই বাড়িতে তৈরি, কম তেল মশলার খাবার খাওয়ার অভ্যাস জরুরি। ভাত, রুটির মতো কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার নিয়মিত খেতে হবে। কিন্তু অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে। এমনটাই জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁদের পরামর্শ, সব্জি, ডাল, ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে অবশ্যই মাছ-মাংস-ডিম কিংবা পনীর-সোয়াবিনের মতো প্রোটিন জাতীয় খাবার নিয়মিত খাওয়া জরুরি। পরিমিত পরিমাণে নির্দিষ্ট সময় অন্তর খাবার খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ। নিয়মিত ফল ও বাদাম জাতীয় খাবার খাওয়া জরুরি। তাতে শরীর সুস্থ থাকে। আর প্রতিদিন আধ ঘণ্টা হাঁটার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, যোগাভ্যাস এবং হাঁটার অভ্যাস নিয়মিত থাকলে হরমোন ক্ষরণ ও রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই এই পথেই চললে সময়ের সঙ্গে অতিরিক্ত ওজনকে কাবু করে সুস্থ থাকা সম্ভব বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Indian In America: ট্রাম্পের অভিবাসী কল্যাণ তালিকায় রয়েছে পাকিস্তান, চিন! জানেন কেন নেই ভারত?

    Indian In America: ট্রাম্পের অভিবাসী কল্যাণ তালিকায় রয়েছে পাকিস্তান, চিন! জানেন কেন নেই ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকায় থাকা অভিবাসীরা কতটা সরকারি সাহায্য পান, তার খতিয়ান তুলে ধরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে ওই অভিবাসীদের দেশের নামও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ১২০টি দেশের তালিকায় পাকিস্তান, বাংলাদেশ, চিন, নেপাল, ভুটানের নাম থাকলেও নেই ভারতের নাম। চার্টটির শিরোনাম ছিল ‘Immigrant welfare recipient rates by country of origin’। এতে দেশভিত্তিকভাবে দেখানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশের কত শতাংশ অভিবাসী পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে কোনো না কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা গ্রহণ করে।

    কারা কত সহায়তা

    কর্মসূত্রে বা অন্য কারণে বিভিন্ন দেশের মানুষ দীর্ঘ সময় বা পাকাপাকি ভাবে আমেরিকায় থাকেন। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মানলে তবেই তাঁরা নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন। না-হলে অভিবাসী হিসাবে থাকতে হয় তাঁদের। আমেরিকায় বসবাসকারী অভিবাসীদের জন্য সরকারি কোষাগার থেকে কিছু অর্থ খরচ করা হয়। এই অর্থ তাঁদের সামগ্রিক উন্নয়নে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন দেশের কতগুলি অভিবাসী পরিবার সরকারি সুবিধা পেয়েছে, তালিকায় তার উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারতের প্রতিবেশী দেশ নেপাল। সে দেশের ৮১.৪ শতাংশ অভিবাসী পরিবার আমেরিকার সরকারি সাহায্য পেয়েছে। তার পর যথাক্রমে রয়েছে ইয়েমেন (৭৫.২), সোমালিয়া (৭১.৯)। তালিকায় রয়েছে আফগানিস্তান (৬৮.১), বাংলাদেশ (৫৪.৮), পাকিস্তান (৪০.২), চিন (৩২.৯) শতাংশ। কিন্তু কোথাও নেই ভারতের নাম।

    কেন নেই ভারত?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উচ্চ আয় ও তুলনামূলক কম ওয়েলফেয়ার নির্ভরতা। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় আমেরিকানরা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি আয়কারী জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অন্যতম। ফলে তাদের মধ্যে সরকারি সহায়তা নেওয়ার হার তুলনামূলকভাবে কম। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় আমেরিকানদের মধ্যম পারিবারিক আয় যুক্তরাষ্ট্রের গড় আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। এই কারণেই উচ্চ সহায়তা গ্রহণকারী দেশগুলোর তালিকায় ভারতের নাম উঠে আসেনি। আমেরিকায় সরকারি সাহায্য তাঁরাই পান, যাঁদের রোজগার কম। তাই সকল অভিবাসী পরিবারকে সরকারি সাহায্য করা হয় না। আমেরিকায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের সংখ্যার বিচারে ভারতের স্থান দ্বিতীয়। আবার রিপোর্ট বলছে, ভারতীয় অভিবাসীরাই আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি রোজগার করে থাকেন। সে দিক দিয়ে দেখলে তাঁদের সরকারি সাহায্য না পেলেও চলে।

    যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় আমেরিকানদের চিত্র

    ২০২৩ সালের মার্কিন সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫২ লক্ষ মানুষ নিজেদের ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এরা যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম এশীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী, যা মোট এশীয় জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ। এই শ্রেণিতে ভারতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূতরাও অন্তর্ভুক্ত।

    আয়ের পরিসংখ্যান কী বলছে?

    ২০২৩ সালে ভারতীয় পরিবারপ্রধানদের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ১,৫১,২০০ ডলার। সব এশীয় পরিবারপ্রধানের ক্ষেত্রে এই আয় ছিল ১,০৫,৬০০ ডলার। ভারতীয় অভিবাসী পরিবারপ্রধানদের মধ্যম আয় ছিল ১,৫৬,০০০ ডলার, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ভারতীয় পরিবারপ্রধানদের আয় ছিল ১,২০,২০০ ডলার। ব্যক্তিগত আয়ের ক্ষেত্রেও ভারতীয়রা এগিয়ে। ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী ভারতীয় আমেরিকানদের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ৮৫,৩০০ ডলার। সব এশীয় গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই আয় ছিল ৫২,৪০০ ডলার। পূর্ণকালীন কর্মীদের মধ্যে ভারতীয়দের মধ্যম আয় ১,০৬,৪০০ ডলার, যেখানে এশীয়দের সামগ্রিক গড় ৭৫,০০০ ডলার।

    শিক্ষার প্রভাব

    উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতাও ভারতীয় আমেরিকানদের সাফল্যের অন্যতম কারণ। ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ভারতীয় আমেরিকানদের ৭৭ শতাংশের স্নাতক বা তার ঊর্ধ্বতন ডিগ্রি রয়েছে। এর মধ্যে ৩১ শতাংশের স্নাতক এবং ৪৫ শতাংশের স্নাতকোত্তর বা তার বেশি ডিগ্রি আছে। সব এশীয় গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই হার ৫৬ শতাংশ। অভিবাসী ও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া—উভয় শ্রেণির ভারতীয়দের মধ্যেই উচ্চশিক্ষার হার প্রায় সমান।

    দারিদ্র্য ও গৃহস্বত্ব

    দারিদ্র্যের হার কম হওয়াও ভারতের অনুপস্থিতির আরেকটি কারণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয়দের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন। সব এশীয় গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই হার ১০ শতাংশ। অভিবাসী ও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া—উভয় ক্ষেত্রেই ভারতীয়দের দারিদ্র্যের হার একই, ৬ শতাংশ। বাড়ির মালিকানার ক্ষেত্রেও ভারতীয়রা এশীয় গড়ের কাছাকাছি। ভারতীয় পরিবারপ্রধানদের ৬২ শতাংশ নিজস্ব বাড়ির মালিক। অভিবাসী ভারতীয়দের মধ্যে এই হার ৬৩ শতাংশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ভারতীয়দের মধ্যে ৫৪ শতাংশ।

    ভারতীয়দের দাপট

    দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় এসেই অভিবাসন নীতি কঠোর করার বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। অভিবাসীদের জন্য সরকারি ব্যয়বরাদ্দ কাটছাঁট করার কথাও বলেছেন। এই আবহে তাঁর এই তালিকা প্রকাশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় ভারতের নাম সেই তালিকায় না-থাকা। তবে, বিশেষজ্ঞদের মতে এর পিছনে রয়েছে মার্কিন মুলুকে ভারতীয়দের দাপট। উচ্চ আয়, উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কম দারিদ্র্যের হার—এই তিনটি প্রধান কারণের সম্মিলিত প্রভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা ওয়েলফেয়ার বা সরকারি সহায়তার ওপর তুলনামূলকভাবে কম নির্ভরশীল। সেই কারণেই ট্রাম্প প্রকাশিত অভিবাসী কল্যাণ তালিকায় ভারত জায়গা পায়নি।

     

     

     

  • ICC T-20 World Cup: বাংলাদেশকে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে সরানোর দাবি আইসল্যান্ডের, কেন জানেন?

    ICC T-20 World Cup: বাংলাদেশকে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে সরানোর দাবি আইসল্যান্ডের, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশকে আসন্ন আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ (ICC T-20 World Cup) থেকে সরানোর দাবি তুলল আইসল্যান্ড। ভারতে প্লেয়ারদের নিরাপত্তা নেই বলে এ দেশে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ। তারা আইসিসি-কে চিঠি পাঠিয়েছে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে। আগামী আইপিএলে মুস্তাফিজুর রহমানকে কেকেআর তথা টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকার করেছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ট্রোল করল আইসল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। তারা টুইট করে সরাসরি খোঁচা মারল বাংলাদেশকে। আইসল্যান্ড ক্রিকেট বরাবরই কোনও বিষয়ে ট্রোল করার জন্য জনপ্রিয়। আন্তর্জাতিক ম্যাচ হোক বা ঘরোয়া ক্রিকেটে কোনও চর্চিত বিষয়, আইসল্যান্ড সবসময় খোঁজা মেরে পোস্ট করে থাকে। এবার তাদের নিশানায় বাংলাদেশ।

    বাংলাদেশকে তোপ

    বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে সরাসরি তোপ দাগল আইসল্যান্ড। তারা দাবি করল, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে তাদের সুযোগ দেওয়ার জন্য। এক ট্যুইট বার্তায় আইসল্যান্ড ক্রিকেটের তরফে লেখা হয়, ‘আমাদের জিজ্ঞাসা করার আগেই আমরা বলছি, হ্যাঁ। আসন্ন টি-টোটেন্টি বিশ্বকাপে আইসল্যান্ড বাংলাদেশের জায়গা নিতে পারে। এবং আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।’ এই টুইটটা মজার ছলে হলেও বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত বদলে আইসল্যান্ড ক্রিকেট যে খুশি নয় সেটার প্রমাণ তারা দিল।

    আইপিএল বয়কট বাংলাদেশের

    মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে আসবে না। এই মর্মে তারা চিঠি পাঠিয়েছে। রবিবার বিসিবির পরিচালন সমিতির বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয় দল ভারত সফরে যাবে না। বিসিবির এক কর্তা স্পষ্ট করে বলেন যে, একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে গোটা দলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এই অবস্থায় ভারতের মাটিতে খেলা সম্ভব নয়। যদিও বিসিসিআই বাংলদেশের দাবি খারিজ করে দিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে তারা এ বার আইপিএল সম্প্রচার করবে না তাদের দেশে। যার অর্থ, ২০২৬ সালের আইপিএল বাংলাদেশে সম্প্রচার করা হবে না।

     

     

     

     

     

  • National Anti-Terror Policy: আসছে জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি! অনলাইন উগ্রপন্থা, খোলা সীমান্তের অপব্যবহার রুখতে তৎপর কেন্দ্র

    National Anti-Terror Policy: আসছে জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি! অনলাইন উগ্রপন্থা, খোলা সীমান্তের অপব্যবহার রুখতে তৎপর কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ে আসতে চলেছে জাতীয় সন্ত্রাস বিরোধী নীতি। নয়া এই নীতিতে সন্ত্রাসবাদী হামলার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যকে। তবে তথ্য দেওয়া থেকে শুরু করে ব্যবস্থা নেওয়া পর্যন্ত সবেতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাই সহায়তা করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ভাবেই ‘সংগঠিত অপরাধের উপর ৩৬০ ডিগ্রি’ আক্রমণ করা সম্ভব হবে। এই নীতির ফলে সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবেন।

    এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপে

    ভারতের নিরাপত্তা কাঠামোতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপের পথে হাঁটছে কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (MHA) নেতৃত্বে দেশের প্রথম জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি (National Anti-Terror Policy) চূড়ান্ত অনুমোদনের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই নীতির মূল লক্ষ্য—অনলাইন উগ্রপন্থা, খোলা সীমান্তের অপব্যবহার এবং বিদেশি অর্থে পরিচালিত নেটওয়ার্কের মতো আধুনিক সন্ত্রাসী হুমকির মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্যগুলোর জন্য একটি অভিন্ন ও সমন্বিত কাঠামো তৈরি করা। ডিজিটাল মাধ্যমে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর নিয়োগ কৌশল, বিদেশ থেকে পরিচালিত জটিল নেটওয়ার্ক নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষিতেই এই নীতির প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

    প্রথম জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতির পটভূমি

    দীর্ঘদিন ধরে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থা মূলত বিচ্ছিন্ন আইন, নির্দিষ্ট সংগঠনের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং প্রতিক্রিয়াশীল পদক্ষেপের উপর নির্ভরশীল ছিল। এর মধ্যে ইউএপিএ (Unlawful Activities Prevention Act) এবং ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-র মতো সংস্থাগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, একটি সর্বভারতীয় দিকনির্দেশমূলক নীতির অভাব ছিল। এর ফলে রাজ্যভেদে প্রস্তুতির তারতম্য, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে অসামঞ্জস্য এবং নতুন হুমকির ক্ষেত্রে সমন্বিত প্রতিক্রিয়ায় ঘাটতি দেখা যাচ্ছিল। নতুন জাতীয় নীতি এই শূন্যস্থান পূরণ করতেই তৈরি করা হচ্ছে—যাতে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল একটি অভিন্ন সন্ত্রাসবিরোধী মতাদর্শের অধীনে কাজ করতে পারে।

    অভিন্ন প্রস্তুতির সুযোগ

    এই পরিকল্পনা সারা দেশে বাস্তবায়িত হলে প্রতিটি স্তরে অভিন্ন প্রস্তুতির সুযোগ থাকবে। সারা দেশে একটি সাধারণ এটিএস কাঠামো তৈরি হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি রাজ্যের পুলিশপ্রধানের উচিত যত দ্রুত সম্ভব এটি বাস্তবায়ন করা। সন্ত্রাসবিরোধী তদন্ত আলাদা আলাদা না-হয়ে, এক ছাদের নীচে হলে তা বেশি কার্যকর হবে। কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং রাজ্য-পুলিশ প্রযুক্তির ভাল ব্যবহার করছে। অভিন্ন এটিএস কাঠামো তৈরি হলে সন্ত্রাসীদের বিচারের ক্ষেত্রেও সুবিধা পাওয়া যাবে। যদি সমস্ত তথ্য একে অপরের সঙ্গে সহজে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ থাকে, তবে তদন্তে অনেক সুবিধা হবে। কোনও রাজ্যে যদি সন্ত্রাসবাদী হামলা ঘটে তবে তার মোকাবিলা করবে রাজ্য পুলিশ। তথ্য দেওয়া থেকে শুরু করে ব্যবস্থা নেওয়া পর্যন্ত সবেতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাই সহায়তা করবে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ ভারতের প্রথম জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি

    ১. অনলাইন উগ্রপন্থা ও ডিজিটাল নিয়োগ: সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দেখা গিয়েছে উগ্রপন্থী সংগঠনগুলি সোশ্যাল মিডিয়া ও এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যুব সমাজকে প্রভাবিত করছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে নজরদারি এড়িয়ে দ্রুত নিজেদের মতাদর্শ প্রচার করছে। নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়ি-বোমা হামলার মতো ঘটনায় তদন্তকারীরা অনলাইন উগ্রপন্থার যোগসূত্র খুঁজে পান। এই অভিজ্ঞতা থেকেই সাইবার-কেন্দ্রিক সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।

    ২. খোলা সীমান্তের অপব্যবহার: ভারতের দীর্ঘ স্থলসীমান্ত, বিশেষ করে নেপালের সঙ্গে খোলা সীমান্ত, নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত। পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে জঙ্গিরা এই পথ ব্যবহার করে ভারতে ঢুকে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা বিদেশি পাসপোর্ট ফেলে দিয়ে স্থানীয় জনতার মধ্যে মিশে যায়। নতুন নীতিতে সীমান্ত নজরদারি জোরদার করা, আন্তঃদেশীয় গোয়েন্দা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কেন্দ্র ও রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।

    ৩. বিদেশি অর্থ থেকে সাহায্য: বিদেশ থেকে অর্থ সাহায্য নিয়ে কিছু নেটওয়ার্ক , নানা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে উগ্রপন্থা ছড়াচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও বিদেশের কিছু ধর্মীয় কেন্দ্রের মাধ্যমে ভারতীয় যুবকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি। এই নীতির লক্ষ্য হবে ওই ধরনের আর্থিক ও বার্তা প্রেরণের চ্যানেল শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা, যাতে দেশের সামাজিক সম্প্রীতি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা করা যায়।

    প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও পরিচালন ব্যবস্থা

    এই জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি তৈরি হচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে, যেখানে এনআইএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, হুমকি বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সহযোগিতার কাঠামো গড়ে তুলতে এনআইএ সক্রিয়ভাবে যুক্ত। এই নীতিতে রাজ্য পুলিশের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই এনআইএ-এর ডিরেক্টর জেনারেল ও এনএসজি-র প্রধানের মতো শীর্ষ কর্মকর্তারা রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। লক্ষ্য একটাই—সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই যেন শুধু দিল্লিকেন্দ্রিক না হয়, বরং স্থানীয় স্তরেও কার্যকর হয়।

    ন্যাটগ্রিড সমন্বিত গোয়েন্দা ব্যবস্থা

    এই নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো ন্যাটগ্রিড (ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স গ্রিড)। এই প্ল্যাটফর্ম বিভিন্ন সংস্থার ডেটাবেসকে সংযুক্ত করে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ দেয়। এর ফলে রাজ্য পুলিশ, এনআইএ ও ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর মধ্যে তথ্যের ফাঁক কমবে এবং আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে—যেখানে সীমান্ত সন্ত্রাস, সাইবার হুমকি এবং চরমপন্থী মতাদর্শ বাড়ছে—এই নীতি ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, গোয়েন্দা-কেন্দ্রিক এবং সমন্বিত করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সন্ত্রাসীদের গতিবিধি এখন অনেক সহজেই বোঝা যায়। সেই সব তথ্য যদি একই ছাদের তলায় থাকে তবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে তা অনেক বেশি ফলদায়ক হবে। সন্ত্রাসীদের বয়স আগের চেয়ে কমেছে। এর বিরুদ্ধে সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে হলে আমাদের তরুণ অফিসারদের সর্বোচ্চ প্রযুক্তিতে সজ্জিত করতে হবে, তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। আমরা আগামী দিনে এটিকে প্রশিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তুলব।

    কেন্দ্রের শক্তিশালী পদক্ষেপ

    সময় পাল্টাচ্ছে, বদলে যাচ্ছে সন্ত্রাসের চেহারা। তাই সন্ত্রাসের নতুন পরিভাষার মোকাবিলা করতে জাতীয় সন্ত্রাস মোকাবিলা নীতি শক্তিশালী পদক্ষেপ বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের। এই নীতিটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের পর ধাপে ধাপে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP), প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে বাস্তবায়িত করা হবে। সব মিলিয়ে, ভারতের প্রথম জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে।

LinkedIn
Share