Tag: bangla news

bangla news

  • Shabbir Ahmad Lone: পাকিস্তানকে আড়ালের চেষ্টা, বাংলাদেশ থেকে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপ! দিল্লি থেকে গ্রেফতার লস্কর কমান্ডার লোন

    Shabbir Ahmad Lone: পাকিস্তানকে আড়ালের চেষ্টা, বাংলাদেশ থেকে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপ! দিল্লি থেকে গ্রেফতার লস্কর কমান্ডার লোন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে ফের বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক বানচাল করল নিরাপত্তাবাহিনী। দিল্লি পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ দিল্লির সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করেছে লস্কর-ই-তইবা (Lashkar-e-Taiba) জঙ্গি-কমান্ডার শাব্বির আহমেদ লোনকে। অভিযোগ, বাংলাদেশে (Bangladesh) বসেই ভারতে হামলা চালানোর ছক কষেছিলেন শাব্বির (Shabbir Ahmad Lone)। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে দিল্লি পুলিশে বিশেষ শাখা তাঁকে গ্রেফতার করেছে। শাব্বির ওরফে রাজা ওরফে কাশ্মীরি আসলে শ্রীনগর জেলার কাঙ্গানের বাসিন্দা। পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের নির্দেশে ভারত-বিরোধী জঙ্গি ক্রিয়াকলাপ পরিচালনাই ছিল তার উদ্দেশ্য।

    বাংলাদেশে ডেরা ছিল লোনের

    সূত্রের খবর, বাংলাদেশে ডেরা ছিল লোনের। অভিযোগ, বাংলাদেশে বসে সেখানকার তরুণদের লস্করের জঙ্গি হিসেবে নিয়োগ করত লোন। ভারতে যে বাংলাদেশের নাগরিকেরা বেআইনি ভাবে বসবাস করত, তাঁদেরও সন্ত্রাসের কাজে লাগানো হত। দিন কয়েক আগে লস্করের সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠীর সদস্যদের ধরতে অভিযান চালায় পুলিশ, গোয়েন্দা। ওই গোষ্ঠী দিল্লি এবং আশপাশের এলাকায় সক্রিয় ছিল। সূত্রের খবর, ওই গোষ্ঠী দিল্লি এবং কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় দেশ-বিরোধী পোস্টার লাগিয়েছিল। সেই গোষ্ঠীর সূত্র ধরেই লোনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    দু’দশকের বেশি সময় ধরে লস্করের সঙ্গে যোগ

    গোয়েন্দাদের সূত্র বলছে, দু’দশকের বেশি সময় ধরে লস্করের সঙ্গে যোগ রয়েছে লোনের। মুজফ্‌ফরাবাদে জঙ্গি শিবিরে তার প্রশিক্ষণ হয়েছিল বলেও খবর। ‘দওড়া-এ-আম’ (প্রাথমিক) এবং ‘দওড়া-এ-খাস’ (উচ্চ পর্যায়ের)— দু’ধরনের প্রশিক্ষণই তার হয়েছিল। ২০০৭ সালে অস্ত্র-সহ লোনকে প্রথম বার গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার কাছে ছিল একে-৪৭-এর মতো অস্ত্রও। আধিকারিকেরা জানিয়েছিলেন, লস্করের কমান্ডার জাকি-উর-রহমান লাকভি, জামাত-উদ-দাওয়া এবং ২৬ নভেম্বরের মুম্বই হামলার মূলচক্রী হাফিজ সইদের সঙ্গে যোগ ছিল তার। ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিহাড় জেলে ছিল লোন। তার পরে জামিনে ছাড়া পায়।

    তিহাড় থেকে বাংলাদেশে

    গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, তিহাড় থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশে চলে যায় শাব্বির। সেখানে লশকরের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। সদস্যদের নিয়ে ভারতে হামলার ছক কষতে থাকে। পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতে থাকে সে। সম্প্রতি লস্করের এক নয়া মডিউলের হদিশ পেয়েছিলেন গোয়েন্দারা। দিল্লি থেকে দক্ষিণ ভারত পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা এই সন্ত্রাসী মডিউলটি দিল্লি ও কলকাতার বহু জায়গায় ভারত বিরোধী পোস্টারও সাঁটায়। যেখানে কাশ্মীরের বুরহান ওয়ানি থেকে পাকিস্তানের উল্লেখ ছিল। এহেন জঙ্গির গ্রেফতারি নিঃসন্দেহে দিল্লি পুলিশের বিরাট সাফল্য। অনুমান করা হচ্ছে দিল্লি ও তার আশপাশ এলাকায় লোনের একাধিক সঙ্গী এখনও সক্রিয় তাদের সন্ধানে শুরু হয়েছে তল্লাশি। পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের নির্দেশ দিল্লিতে বড় জঙ্গি হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল লোন। যদিও তার আগেই গোয়েন্দা বিভাগের তৎপরতায় গ্রেফতার হল ভয়ঙ্কর এই জঙ্গি।

    পুলিশের জালে শাব্বির

    তদন্তকারীদের তরফে জানা যাচ্ছে, শুধু জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা নয় লস্করের নয়া এই মডিউলে সদস্য বাড়ানোরও দায়িত্ব ছিল লোনের উপর। ভারতে অবৈধভাবে আসা বাংলাদেশিদের জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগ করত সে। এখন তাকে জেরা করছে পুলিশ। ভারতে কোথায় কোথায় তাদের হামলার ছক ছিল, সঙ্গে কারা ছিল, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে খবর। এখন লোনকে জেরা (interrogation) করে গোটা চক্রের খোঁজ করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি— নিয়োগের পথ (recruitment channels), অর্থের উৎস (funding routes) ও সম্ভাব্য টার্গেট (targets) সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দিল্লি ও তার আশপাশের এলাকায় তার আরও কতজন সহযোগী লুকিয়ে আছে তা জানতে তদন্তকারী সংস্থাগুলো তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

    পাকিস্তানকে আড়ালের চেষ্টা

    পুলিশ সূত্রে খবর, রাজা বাংলাদেশে বসে ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি আক্রমণের পরিকল্পনা করছিল। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর মদতে, লস্করের এই ভারত বিরোধী চক্রান্ত চলছিল। রাজার মূল কাজ ছিল ভারতে হামলার জন্য বাংলাদেশিদের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনে নিয়োগ করা। পাকিস্তানের নাম এই আক্রমণে যাতে সরাসরি জড়িয়ে না পড়ে সেজন্যই এই ব্যবস্থা। এই বাংলাদেশিদের মধ্যে অনেকেই ভারতে বসবাস করত। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাধিক রাজ্যে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভারতে বড়সড় হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল, যা সময়মতো ভেস্তে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

    পহেলগাঁও-হামলার অনুরূপ হামলা!

    উল্লেখ্য, গত বছর এপ্রিলের ২২ তারিখ পহেলগাঁও-তে জঙ্গি আক্রমণ হয়। সাধারণ পর্যটকদের উপরে গুলি করা হয়। সেই আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৬ জন এবং গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন ২০ জন। তদন্তে জানা যায়, পরোক্ষভাবে হলেও এই আক্রমণের সঙ্গে যুক্ত ছিল লস্কর-ই-তইবা। তার সঙ্গে শাব্বিরের যোগ রয়েছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চলতি বছর এপ্রিলে ফের এই ধরনের হামলার ছক কষছে কি না জঙ্গিরা, তা-ও জানার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ। চেষ্টা চলছে গোটা লস্করের খবর জানার। ভারতে আর কোথায় কোথায় এই জঙ্গি সংগঠন ঘাঁটি তৈরি করেছে, কী ধরণের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে, দেশে জঙ্গি আক্রমণ কবে কোথায় হতে পারে ইত্যাদি জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

  • LPG: হরমুজ পেরিয়ে ভারতের পথে আরও দুই এলপিজি ট্যাঙ্কার, নাবিকদের মুখে ‘ভারত মাতা কি জয়’

    LPG: হরমুজ পেরিয়ে ভারতের পথে আরও দুই এলপিজি ট্যাঙ্কার, নাবিকদের মুখে ‘ভারত মাতা কি জয়’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে আসছে আরও দুটি এলপিজি (LPG) বহনকারী ট্যাঙ্কার। এগুলিতে প্রায় ৯৪,০০০ মেট্রিক টন রান্নার গ্যাস রয়েছে। নিরাপদে হরমুজ প্রণালী (Hormuz Strait) পার হয়ে ভারতের দিকে আসছে। রবিবার কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে এই খবর। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিডব্লু টিওয়াইআর’ (BW Tyr) এবং ‘বিডব্লু ইএলএম’ (BW Elm) নামের জাহাজ দু’টির যথাক্রমে ৩১ মার্চ মুম্বই এবং ১ এপ্রিল নিউ মাঙ্গালোরে পৌঁছানোর কথা। এই ভারতীয় জাহাজগুলো হরমুজ পাড়ি দেওয়ার পরে নাবিকরা ‘ভারত মাতা কি জয়’ এবং ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান দিতে থাকেন। সেই ঘটনার ভিডিও ও ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, সেই ভারতীয় নাবিকরা ভারতের পতাকাও ধরে ছিলেন।

    হরমুজ প্রণালী পার দুই ভারতীয় জাহাজের (LPG)

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইজরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। যদিও ইরান জানিয়েছে, “বন্ধু সব দেশের জাহাজ যদি ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তাহলে তারা এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে।” জানা গিয়েছে, এই দুই জাহাজ সাম্প্রতিকতম ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ, যেগুলি এই গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ পথ পার হতে পেরেছে। ইতিমধ্যেই চারটি এলপিজি (LPG) ট্যাঙ্কার নিরাপদে ভারতে পৌঁছেছে। প্রণালীর পশ্চিম দিকে রয়েছে আরও তিনটি জাহাজ।

    এলএসইজির জাহাজ ট্র্যাকিং

    শুক্রবার এলএসইজির জাহাজ ট্র্যাকিং থেকেই এই খবর মিলেছে। সরকার জানিয়েছে, মোট ১৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এখনও পশ্চিম উপসাগরীয় অঞ্চলে রয়েছে। ওই জাহাজগুলিতে ৪৮৫ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারী দেশ ভারত গত বছর ৩৩.১৫ মিলিয়ন টন গ্যাস খরচ করেছে, যার প্রায় ৬০ শতাংশই আমদানি করা হয়েছিল। এই আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। সরকারের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ভারতের বিভিন্ন বন্দরে কাজকর্ম চলছে (Hormuz Strait) স্বাভাবিকভাবেই। কোথাও কোনও জটের খবর মেলেনি (LPG)।

  • Supplementary list: বাদ ১৮ লক্ষ, দু’লক্ষ নাম-সহ চতুর্থ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ কমিশনের, মোট কত নাম কাটা গেল?

    Supplementary list: বাদ ১৮ লক্ষ, দু’লক্ষ নাম-সহ চতুর্থ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ কমিশনের, মোট কত নাম কাটা গেল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১৮ লক্ষের নাম বাদ পড়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাত পর্যন্ত ৪২ লক্ষ ভোটারের তথ্য নিষ্পত্তি হয়েছে। আর ২০ লক্ষের মতো ভোটারের নাম এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনের আগে সেগুলি নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। এবার থেকে প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের করা হবে, বলে জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সেইমতো রবিবার কমিশন চতুর্থ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (Supplementary list) প্রকাশ করে। এদিন ২ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

    ১৮ লক্ষের নাম বাদ

    গত বছরের ৪ নভেম্বর থেকে বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় এনুমারেশন ফর্ম বিলি শুরু হয়েছিল। এরপর গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। সেইসময় ৫৮ লক্ষের নাম বাদ যায়। এর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। সেখানে আরও সাড়ে ৫ লক্ষের মতো নাম বাদ যায়। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ৬০ লক্ষের নাম বিবেচনাধীন তালিকা রয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে জুডিশিয়াল অফিসাররা বিবেচনাধীন ভোটারদের তথ্য খতিয়ে দেখছে। গত ২৩ মার্চ প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (Supplementary list) প্রকাশ হয়। কমিশন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় ১৮ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছে। অর্থাৎ খসড়া তালিকা থেকে ধরলে এখনও পর্যন্ত ৮১ লক্ষের বেশি নাম বাদ গিয়েছে। এখনও ১৮ লক্ষের বেশি নামের নিষ্পত্তি হওয়া বাকি। শেষপর্যন্ত কত নাম বাদ পড়বে, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।

    ট্রাইবুনালে আবেদন

    কমিশন জানিয়েছে, যাঁদের নাম বাদ পড়ছে, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন। জানা গিয়েছে, কলকাতাতেই ট্রাইবুনালের অফিস হচ্ছে। জেলা থেকে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদনের জন্য কলকাতা আসার প্রয়োজন নেই। অনলাইনে আবেদন জানানোর জন্য, https://voters.eci.gov.in/ ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে হবে। অফলাইনে জেলাশাসকের অফিসে গিয়ে ফর্ম ফিলাম করে আবেদন জানাতে পারবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। কিন্তু ট্রাইবুনাল কবে কাজ শুরু করবে, স্পষ্ট করেনি হাইকোর্ট। এসআইআর শুরু হওয়ার আগে রাজ্যে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯।

  • Rahul Arunoday Death: চোরাবালিতে আটকে অস্তাচলে অরুণোদয়! শ্যুটিংয়ের অনুমতি ছিল না, দাবি ওড়িশা পুলিশের

    Rahul Arunoday Death: চোরাবালিতে আটকে অস্তাচলে অরুণোদয়! শ্যুটিংয়ের অনুমতি ছিল না, দাবি ওড়িশা পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: থেমে গেল “সহজ কথা”। শ্যুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রে তলিয়ে গেলেন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunoday Death)। রবিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ দুর্ঘটনা ঘটে। রবিবার ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করছিলেন ৪৩ বছরের অভিনেতা। জানা গিয়েছে, শ্যুটিঙের পর তালসারির সমুদ্রে নামেন তিনি। জলে ডুবেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। সূত্রের খবর, আজ সোমবার কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত হবে। তারপর দুপুরেই বাড়িতে নিয়ে আসা হবে অভিনেতার মরদেহ।

    কী ঘটেছিল রাহুলের সঙ্গে

    সূত্রের খবর, ওড়িশা পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, আজকের গোটা ঘটনা তারা জানতে পেরেছে দিঘা থানার থেকে। এর পাশাপাশি, ওড়িশার বালাসোর জেলার পুলিশ সুপারের দাবি, যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানে শ্যুটিং করার, জলে নেমে শ্যুটিং করার কোনও অনুমতি পুলিশের কাছ থেকে নেওয়া হয়নি। পুলিশ সূত্রে এও জানা গিয়েছে, আজ যে জায়গায় শ্যুটিং হয়েছে সেটি তালসারি বিচ। এটা তালসারি মেরিন থানার আওতাধীন। সাধারণত যেখানে এই থানা রয়েছে বা যেখানে পর্যটকরা থাকেন, তার থেকে বেশ কিছুটা দূরে, আজ দুপুরবেলায় নিরবিলি ফাঁকা জায়গায় তালসারি বিচে সমুদ্রে নেমে শ্যুটিং চলছিল। স্থানীয়দের দাবি, সমুদ্রের অনেকটা ভিতরে শ্যুটিং চলছিল। সেই সময় জোয়ারের প্রভাব ছিল। চোরাবালির খাঁজ ছিল। সেখানে পড়ে রাহুল তলিয়ে যান। উপস্থিত ক্রু মেম্বাররাই কোনওমতে রাহুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ডাক্তাররা অভিনেতাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, সমুদ্রের বেশ কিছুটা ভিতরে একটি নাচের দৃশ্যের শ্যুটিং চলছিল। অনুমান, সেই সময় চোরাবালিতে পড়ে ডুবে তলিয়ে যান অভিনেতা।

    হঠাতই জল বাড়ে

    স্থানীয় সূত্রে এও শোনা যাচ্ছে, রাহুল (Rahul Arunoday Banerjee) যখন সমুদ্রে নেমেছিলেন, তখন শান্তই ছিল সমুদ্র। তবে ৪টে নাগাদ আচমকাই জল বেড়ে যায়। অনুমান হয়তো জোয়ারের প্রভাবে এমন ঘটনা ঘটেছিল। এমনিতেও তালসারির সমুদ্র সম্পর্কে এ কথা প্রচলিত যে আচমকা সেখানে জল বেড়ে যায়। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ টলিপাড়া। সিনেমা এবং সাহিত্য জগতের অপূরণীয় ক্ষতি। ৪৩ বছর বয়সে সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ২০০০ সালে ‘চাকা’ ছবিতে অভিনয় দিয়ে কেরিয়ার শুরু। রাহুলকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছিল ‘চির দিনই তুমি যে আমার’। ২০০৮ সালে ‘আবার আসব ফিরে’ ও ‘জ্যাকপট’ ছবিতে অভিনয়। ‘জুলফিকার’, ‘বিদায় ব্যোমকেশ’, ‘ব্যোমকেশ গোত্র’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন রাহুল। ২০০৮ সাল। কৃষ্ণ ও পল্লবীর প্রেম দেখে একটা গোটা প্রজন্ম নতুন করে বাংলা ছবির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল। পর্দার জুটির প্রেম বাস্তবেও পরিণতি পায়। ২০১০ সালে বিয়ে হয় রাহুল-প্রিয়াঙ্কার। তার পরে পুত্রসন্তানের জন্ম। দাম্পত্যে দূরত্বও আসে একসময়। কিন্তু, তখনও দর্শকের কাছে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা জুটি অটুট। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাঙা সম্পর্ক আবার জোড়া লাগতে থাকে।

    মৃত্যুর কারণে একাধিক অসংগতি

    বিভিন্ন ব্যক্তিরা যা যা বলছেন, তাতে একাধিক অসংগতি রয়েছে। শ্যুটিং সেটে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ বলছেন যে, শ্যুটিং চলাকালীনই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। তবে সেই সময়ে শট চলছিল না। শট চেঞ্জ হচ্ছিল। সেই সময়টা সমুদ্রের জলেই দাঁড়িয়েছিলেন রাহুল আর তাঁর সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা। তাঁরা ২ জনেই সমুদ্রের দিকে এগোচ্ছিলেন। হঠাৎই টাল সামলাতে না পেরে জলের মধ্যে পড়ে যান ২ জনেই। শ্যুটিং ক্রু-রা সঙ্গে সঙ্গে জলে ঝাঁপ দিয়ে পড়েন। শ্বেতাকে ধরা গেলেও, সেই সময়ের মধ্যে অনেকটা জল খেয়ে ফেলেন রাহুল। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেকেই বলছেন, যে সময়ে রাহুলকে জল থেকে উদ্ধার করা হয় ও গাড়ি করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, সেই সময় ও তাঁর জ্ঞান ছিল। কথাও বলেছেন।

    অভিনেতা, লেখক, সঞ্চালক

    টলিউডের পর্দায় এক আলাদা স্বকীয়তা নিয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunoday Banerjee)। নায়ক হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হলেও খুব দ্রুতই প্রমাণ করেছিলেন, শুধু রোম্যান্টিক হিরো নন, চরিত্রের গভীরে ঢুকে অভিনয় করতে পারাই ছিল তাঁর প্রকৃত ইউএসপি। মঞ্চ থেকে অভিনয়ে হাতেখড়ি রাহুলের। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন লেখকও। বিভিন্ন পত্রিকায় তাঁর লেখালেখি প্রকাশিত হয়েছে। বহুমুখী সত্তাই যেন তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল। অভিনয় ছাড়াও সম্প্রতি ‘সহজ কথা’ নামক একটি পডকাস্ট শো সঞ্চালনা করতেন রাহুল। সেটিও তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিল। রাহুলের অকাল প্রয়াণ যেন অসময়ে থেমে যাওয়া এক সম্ভাবনাময় যাত্রা। তবুও তাঁর কাজ, তাঁর সংলাপ বলার ভঙ্গি, আর চরিত্রের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা—সব মিলিয়ে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁচে থাকবেন দর্শকের স্মৃতিতে।

    শোকস্তব্ধ টলিউড

    রাহুলের প্রথম ছবি ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’। রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় প্রথম ছবিতেই নায়ক তিনি। পরিচালক হিসেবেও রাজের সেই ছবিতেই হাতেখড়ি। রাজের কথায়, “এখনও মনে হচ্ছে খবরটা ভুল। আমাদের প্রথম ছবি একসঙ্গে। ১৮ বছর হয়ে গিয়েছে সেই ছবির। ও মঞ্চেও ভালো কাজ করেছে। ভালো লেখালিখি করত। খুব গুণী ছেল। আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য বড় ক্ষতি। ওর পরিবারেরও বড় ক্ষতি।” ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ। রাহুল প্রয়াণে আজ চোখে জল তাঁর। বলেন, “ওর সঙ্গে চিরদিনই তুমি যে আমারের সেটে আলাপ। বন্ধু বলব না, ভাই ছিল, বড্ড ভালো ছাত্র ছিল। শেষ একসঙ্গে অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস করলাম। কী করে বুঝব এমন হবে? আমরা একসঙ্গে বসে আড্ডা দেওয়ার খাওয়া-দাওয়া করার প্ল্যান করেছিলাম ক’দিন ধরে। ওর সঙ্গে তো আত্মার সম্পর্ক ছিল।”

    বিনোদন জগতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি

    অভিনেতার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সমাজমাধ্যমে লেখেন, “টলিপাড়ার জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যু বাংলা বিনোদন জগতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর অসাধারণ অভিনয়, প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব এবং স্পষ্ট মতামত আমাদের মনে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে। ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দা— সর্বত্র তিনি নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবার, সহকর্মী এবং অনুরাগীদের প্রতি রইল আন্তরিক সমবেদনা।”  অভিনেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

  • Bodyguard Satellites: মহাকাশে নিরাপত্তা বাড়াতে ‘বডিগার্ড’ স্যাটেলাইট আনছে ভারত! মহাশূন্যেও যুদ্ধের প্রস্তুতি?

    Bodyguard Satellites: মহাকাশে নিরাপত্তা বাড়াতে ‘বডিগার্ড’ স্যাটেলাইট আনছে ভারত! মহাশূন্যেও যুদ্ধের প্রস্তুতি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইটগুলির কক্ষপথে ধেয়ে আসা সম্ভাব্য হুমকি থেকে রক্ষা করতে নতুন ধরনের ‘বডিগার্ড’ স্যাটেলাইট (Bodyguard Satellites) তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। এই প্রকল্পে বেসরকারি স্টার্টআপ সংস্থাগুলিকে যুক্ত করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই সরকারের সঙ্গে তাদের আলোচনা অনেকটাই এগিয়ে গেছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, চলতি বছরের প্রথমার্ধেই প্রথম পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের (India Satellite Technology) লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এরপর ২০২৬ সালের শেষ অথবা ২০২৭ সালের শুরুর মধ্যে আরও কয়েকটি উৎক্ষেপণ করা হতে পারে। পরবর্তীতে সরকার নিজেই এই ধরনের প্রতিরক্ষামূলক স্যাটেলাইট তৈরির দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

    কেন এই উদ্যোগের প্রয়োজন হল?

    ২০২৪ সালের একটি ঘটনাকে ঘিরেই এই পরিকল্পনার সূত্রপাত। সেই সময় একটি অজ্ঞাত প্রতিবেশী দেশের মহাকাশযান ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইটের (India Satellite Technology) মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বে চলে আসে। ওই স্যাটেলাইটটি সামরিক কাজে—বিশেষ করে ভূমি পর্যবেক্ষণ ও নজরদারিতে—ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে জানা যায়। এর পাশাপাশি, ভারত-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক স্বল্পমেয়াদি সামরিক উত্তেজনার সময়ও স্যাটেলাইটের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উভয় দেশই লক্ষ্য শনাক্তকরণ ও ট্র্যাকিংয়ে মহাকাশ প্রযুক্তির উপর নির্ভর করেছিল। এমনকি, চিনের তরফে পাকিস্তানকে স্যাটেলাইট সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে, যা ইসলামাবাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতীয় স্পেস অ্যাসোসিয়েশনের মহাপরিচালক ও প্রাক্তন সামরিক আধিকারিক লেফটেন্যান্ট জেনারেল অনিল ভাট বলেন, “স্যাটেলাইটে হস্তক্ষেপ বা বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। মহাকাশ ক্ষেত্রে শক্তিশালী হতে গেলে প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা গড়ে তোলা জরুরি।”

    কীভাবে কাজ করবে এই স্যাটেলাইট?

    জানা গিয়েছে, এই ‘বডিগার্ড’ স্যাটেলাইট (Bodyguard Satellites) মূলত দুই ধরনের হবে—

    • প্রথম ধরনের স্যাটেলাইটে থাকবে একটি রোবোটিক বাহু, যা হুমকিস্বরূপ অন্য মহাকাশযানকে ধরে সরিয়ে দিতে পারবে।
    • দ্বিতীয় ধরনের স্যাটেলাইট ছোট আক্রমণকারী স্যাটেলাইটকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে নির্দিষ্ট এলাকা থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।

    মহাকাশ নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের মহাকাশ সম্পদের নিরাপত্তা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে চিনের সক্রিয় স্যাটেলাইট সংখ্যা ১১০০-র বেশি, যেখানে ভারতের সংখ্যা মাত্র ১০০-র কিছু বেশি। চিন ইতিমধ্যেই এই ধরনের প্রতিরক্ষামূলক প্রযুক্তি (Bodyguard Satellites) নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।

    দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

    এই প্রকল্পটি সরকারের বৃহত্তর মহাকাশ নিরাপত্তা কৌশলের অংশ। ভারত ইতিমধ্যেই ৫০টিরও বেশি উন্নত নজরদারি স্যাটেলাইট (Bodyguard Satellites) উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা রাত ও সব ধরনের আবহাওয়ায় কাজ করতে সক্ষম হবে। ভবিষ্যতে দেশের সীমান্তে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি বজায় রাখতে প্রায় ১৫০টি নতুন স্যাটেলাইট (India Satellite Technology) স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি, দেশে ও বিদেশে নতুন গ্রাউন্ড স্টেশন তৈরি করে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও বিদেশি মহাকাশযানের উপর নজরদারি জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

  • Bengal Elections 2026: এবার ভবানীপুর সহ কলকাতার ৩১ থানার ওসি, জেলায় ১৪২ থানায় আইসি বদল কমিশনের

    Bengal Elections 2026: এবার ভবানীপুর সহ কলকাতার ৩১ থানার ওসি, জেলায় ১৪২ থানায় আইসি বদল কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের মুখে ফের পুলিশের একাধিক পদে বড়সড় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। রবিবার জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যের মোট ১৭৩টি থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) ও ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ (আইসি) বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে কলকাতা পুলিশের আওতাধীন ৩১টি থানাও রয়েছে। কমিশনের দাবি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। এই বদলির তালিকায় রয়েছে কলকাতার ভবানীপুর এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পাশাপাশি কোচবিহার, মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা—এই সব জেলার একাধিক থানার ওসি ও আইসি-দেরও সরানো হয়েছে।

    ভবানীপুর থানার নতুন ওসি

    কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এ কর্মরত সৌমিত্র বসু ভবানীপুর থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। নির্বাচনের আগে এই ধরনের রদবদল যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। ফলে এই কেন্দ্রের দিকে বিশেষ নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের। সেই প্রেক্ষিতে ভোটের আগে এই থানার আইসি বদলি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    কলকাতায় বহু থানার ওসি বদল

    এছাড়াও কলকাতার আলিপুর, ইকবালপুর, হরিদেবপুর, এন্টালি, জোড়াসাঁকো, গড়িয়াহাট, নিউ মার্কেট, বউবাজার, টালিগঞ্জ, অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট, তারাতলা ও বেহালা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ থানায় নতুন ওসি নিয়োগ করা হয়েছে। এদিকে, আরজি কর-কাণ্ডের সময় টালা থানর ওসি ছিলেন অভিজিৎ মণ্ডল। তাঁকে উত্তর কলকাতার মানিকতলা থানার ওসি করেছিল কমিশন। তবে, নোটিস জারির পরে কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, অনিচ্ছাকৃত ভাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া অভিজিৎ মানিকতলা থানায় যোগদান করছেন না। তিনি পর্ণশ্রী থানাতেই আগের দায়িত্বে বহাল থাকবেন। মানিকতলা থানার ওসি করা হচ্ছে নিরূপম নাথকে।

    জেলাতেও বিপুল সংখ্যক আইসি বদলি

    জেলা স্তরেও একাধিক বদলি হয়েছে। দেবদুলাল মণ্ডল হালদিয়ার আইসি, কাজল দত্ত কোলাঘাটের দায়িত্বে, সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় এগরার আইসি এবং চন্দ্রকান্ত শাসমল পটাশপুরের ওসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। শুধু পুলিশ নয়, প্রশাসনিক স্তরেও বদল এনেছে কমিশন। পূর্ব মেদিনীপুরে নন্দীগ্রাম–১ ও নন্দীগ্রাম–২ সহ মোট ১৪ জন বিডিওকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নন্দীগ্রাম থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শুভব্রত নাথকে। এর আগে তিনি চন্দননগর থানায় কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি, খেজুরি, চণ্ডীপুর, হলদিয়া, কোলাঘাট, তমলুক, এগরা ও পটাশপুর-সহ একাধিক থানার ওসি পদেও রবিবার বদল আনা হয়েছে। অন্যদিকে, শীতলকুচি থানার ওসি করা হয়েছে অভিষেক লামাকে, যিনি আগে কোচবিহারের কোতোয়ালি থানায় এসআই পদে ছিলেন। এছাড়াও দিনহাটা, মাথাভাঙা, গোকসাডাঙা, রায়গঞ্জ, ইটাহার, কালিয়াগঞ্জ, করণদিঘি, চোপড়া ও ইসলামপুর-সহ একাধিক থানার ওসি বদল করেছে নির্বাচন কমিশন। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পিন্টু মুখোপাধ্যায়কে দার্জিলিঙের ডিআইবি পদে পাঠানো হয়েছে।

    কী বলছে কমিশন?

    দেখা যাচ্ছে, একই জেলায় যাঁরা দীর্ঘদিব ধরে রয়েছেন, মূলত সেইসব পুলিস আধিকারিকদেরও সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। আবার সাইবার সেল, ট্রাফিক বা পুলিসে বিশেষ শাখার কর্মরত অফিসারদের থানায় দায়িত্বে আনা হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, এই রদবদলের মূল উদ্দেশ্য হল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং ভোটের সময় স্থানীয় প্রভাব কমানো। এর আগে কমিশন ১৮টি জেলায় ৮৩ জন বিডিও ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারকেও বদলি করেছিল। এদিকে, নির্বাচন ঘিরে এই ধরনের প্রশাসনিক বদলি নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে টানাপোড়েনও বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, এই বদলিগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নতুন করে পুলিশে এই রদবদল হওয়ায় বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

  • Eyesight Problems: স্ক্রিন টাইম নয়, দৃষ্টিশক্তি কমার নেপথ্যে দায়ী এই সাধারণ অভ্যাস!

    Eyesight Problems: স্ক্রিন টাইম নয়, দৃষ্টিশক্তি কমার নেপথ্যে দায়ী এই সাধারণ অভ্যাস!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    কমছে দৃষ্টিশক্তি! আট থেকে আশি, চোখের সমস্যায় কাবু! স্কুলের চৌকাঠে ঢোকার আগেই অনেক শিশুর চোখে চশমা! অনেকের দূরের জিনিস ঝাপসা দেখেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জীবন যাপনের অভ্যাসের জেরেই চোখের সমস্যা বাড়ছে। কর্ণিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দৃষ্টিশক্তি কমছে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে। দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার নেপথ্যে এক সাধারণ অভ্যাস রয়েছে বলেও জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    কী বলছে সাম্প্রতিক গবেষণা?

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক কলেজ অফ অপ্টোমেট্রি-র গবেষকেরা এক পরীক্ষা চালিয়েছেন। তার সাম্প্রতিক রিপোর্ট বিশ্ব জুড়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি মানুষের দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পাবে। বিশেষত, দূরের জিনিস স্পষ্ট ভাবে দেখার ক্ষমতা কমবে। শিশুদের মধ্যেও এই সমস্যা প্রবল ভাবে বাড়বে। দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যা আর বয়সের সীমারেখায় আটকে থাকবে না। এই সমস্যার জেরে কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যা চোখের দীর্ঘমেয়াদি জটিল সমস্যা তৈরি করতে পারে।

    কোন অভ্যাসের জেরে এই সমস্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আধুনিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হোক কিংবা অবসর যাপনের সঙ্গী হলো ল্যাপটপ, মোবাইলের মতো ইলেকট্রনিক গ্যাজেট। ল্যাপটপ কিংবা মোবাইলে দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থাকার জেরে চোখের ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, এর থেকেও বেশি বিপদ বাড়াচ্ছে এক সাধারণ অভ্যাস। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই অন্ধকার ঘরে কিংবা আবছা আলোয় ল্যাপটপ‌ কিংবা মোবাইল দেখেন। অনেকেই কাজে মনোযোগ বাড়ানোর জন্য ঘর অন্ধকার করে দেন। রাতে বিনোদনের জন্য মোবাইলে সময় কাটানোর সময় অন্ধকার ঘর বেশিরভাগ কম বয়সি ছেলেমেয়েদের পছন্দ। আর তাতেই বিপদ বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অন্ধকারে কোনও জিনিস দেখার সময় চোখের পেশিতে মারাত্মক চাপ পড়ে। অতিরিক্ত চাপ দিয়ে চোখের পেশি সংকুচিত হয়। সেই সংকোচনের ফলেই প্রতিফলিত হয়ে, আমরা যে কোনও বস্তু দেখতে পাই। দিনের পর দিন দীর্ঘ সময় চোখের পেশিতে বাড়তি চাপ পড়লে কর্ণিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দৃষ্টিশক্তি কমে। এর ফলে, চোখ ঝাপসা হয়। দূরের জিনিস দেখার ক্ষমতাও কমে যায়।

    বিপদ এড়াতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, চোখের শক্তি অক্ষুন্ন রাখতে কয়েকটি অভ্যাস বদল জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, রাতে ঘর অন্ধকার করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার অভ্যাস বদল জরুরি। ল্যাপটপে কাজ করা হোক কিংবা মোবাইলে সিনেমা দেখা, ঘরে আলো জ্বালানো জরুরি। তাহলে চোখের পেশির উপরে বাড়তি চাপ পড়বে না। স্ক্রিন টাইম নিয়ে সচেতনতা জরুরি। দিনের কতটা সময় একটানা ল্যাপটপ কিংবা মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকব, সে নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। আধ ঘণ্টার বেশি একনাগাড়ে স্ক্রিনের দিকে থাকা চলবে না। চোখে বারবার জল দিতে হবে। কয়েক ঘণ্টা ল্যাপটপে বা মোবাইলের স্ক্রিনে সময় কাটালে, অন্তত আট ঘণ্টা বা চল্লিশ মিনিট বাগানে বা গাছে ঘেরা এলাকায় থাকতে হবে। তাছাড়া লেবু ও বেরি জাতীয় ফল নিয়মিত খেতে হবে, এতে দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। তাহলে চোখের স্নায়ু ও পেশির প্রয়োজনীয় বিশ্রাম হবে। চোখের ক্ষমতা বজায় থাকবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Daily Horoscope 29 March 2026: দায়িত্ব বাড়তে পারে এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 29 March 2026: দায়িত্ব বাড়তে পারে এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ
    ১) নতুন কাজে সাফল্যের সম্ভাবনা।
    ২) পুরনো কোনও সমস্যা মিটতে পারে।
    ৩) সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভেবে নিন।

    বৃষ
    ১) আর্থিক দিক স্থিতিশীল থাকবে।
    ২) পরিবারের কারও সঙ্গে মতবিরোধ হতে পারে।
    ৩) ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামলান।

    মিথুন
    ১) কর্মক্ষেত্রে প্রশংসা পেতে পারেন।
    ২) নতুন যোগাযোগ লাভজনক হবে।
    ৩) স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকুন।

    কর্কট
    ১) ভ্রমণের সুযোগ আসতে পারে।
    ২) ব্যক্তিগত জীবনে আনন্দের মুহূর্ত।
    ৩) অতিরিক্ত খরচ এড়িয়ে চলুন।

    সিংহ
    ১) কাজে ব্যস্ততা বাড়বে।
    ২) সহকর্মীদের সহযোগিতা পাবেন।
    ৩) মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

    কন্যা
    ১) আর্থিক লাভের সম্ভাবনা।
    ২) নতুন পরিকল্পনা সফল হতে পারে।
    ৩) সম্পর্কের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।

    তুলা
    ১) সামাজিক সম্মান বৃদ্ধি পাবে।
    ২) কোনও পুরনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা হতে পারে।
    ৩) সময় ব্যবস্থাপনায় নজর দিন।

    বৃশ্চিক
    ১) কাজের জায়গায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
    ২) শরীরের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
    ৩) ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলুন।

    ধনু
    ১) নতুন সুযোগ আসতে পারে।
    ২) অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে সতর্ক থাকুন।
    ৩) পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান।

    মকর
    ১) দায়িত্ব বাড়তে পারে।
    ২) কর্মক্ষেত্রে উন্নতির সম্ভাবনা।
    ৩) বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।

    কুম্ভ
    ১) নতুন চিন্তা আপনাকে এগিয়ে দেবে।
    ২) বন্ধুর সাহায্য পেতে পারেন।
    ৩) অযথা তর্ক এড়িয়ে চলুন।

    মীন
    ১) সৃজনশীল কাজে সাফল্য পাবেন।
    ২) মানসিক শান্তি বজায় থাকবে।
    ৩) গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সতর্কতা প্রয়োজন।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Ramakrishna 612: “সখি, তোর চক্ষে জল নাই…তোর হৃদয়ে বিরহ অগ্নি সদা জ্বলছে; চক্ষে জল উঠছে আর সেই অগ্নির তাপে শুকিয়ে যাচ্ছে!”

    Ramakrishna 612: “সখি, তোর চক্ষে জল নাই…তোর হৃদয়ে বিরহ অগ্নি সদা জ্বলছে; চক্ষে জল উঠছে আর সেই অগ্নির তাপে শুকিয়ে যাচ্ছে!”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৫শে অক্টোবর
    ভক্তসঙ্গে— শ্রীরামকৃষ্ণ ও ক্রোধজয়

    এই কাণ্ডের পর সকলে আবার আসন গ্রহণ করিলেন। রাত আটটা হইয়া গিয়াছে। আবার কথাবার্তা হইতে লাগিল।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) ডাক্তারের প্রতি — এই যা ভাব-টাব দেখলে তোমার সায়েন্স কি বলে? তোমার কি এ-সব ঢঙ বোধ হয়?

    ডাক্তার (শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতি) — যেখানে এত লোকের হচ্ছে সেখানে natural (আন্তরিক) বোধ হয়, ঢঙ বোধ হয় না। (নরেন্দ্রের প্রতি) যখন তুমি গাচ্ছিলে ‘দে মা পাগল করে, আর কাজ নাই মা জ্ঞান বিচারে’ তখন আর থাকতে পারি নাই। দাঁড়াই আর কি! তারপর অনেক কষ্টে ভাব চাপলুম; ভাবলুম যে display করা হবে না।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (ডাক্তারের প্রতি, সহাস্যে) — তুমি যে অটল অচল সুমেরুবৎ। (সকলের হাস্য) তুমি গম্ভীরাত্মা, রূপসনাতনের ভাব কেউ টের পেতো না — যদি ডোবাতে হাতি নামে, তাহলেই তোলপাড় হয়ে যায়। কিন্তু সায়ের দীঘিতে নামলে তোলপাড় হয় না। কেউ হয়তো টেরও পায় না। শ্রীমতী সখীকে বললেন, ‘সখি, তোরা তো কৃষ্ণের বিরহে কত কাঁদছিস। কিন্তু দেখ, আমি যে কঠিন, আমার চক্ষে একবিন্দুও জল নাই।’ তখন বৃন্দা বললেন, সখি, তোর চক্ষে জল নাই, তার অনেক মানে আছে। তোর হৃদয়ে বিরহ অগ্নি সদা জ্বলছে; চক্ষে জল উঠছে আর সেই অগ্নির তাপে শুকিয়ে যাচ্ছে!

    ডাক্তার — তোমার সঙ্গে তো কথায় পারবার জো নাই। (হাস্য)

    ক্রমে অন্য কথা পড়িল। শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) নিজের প্রথম ভাবাবস্থা বর্ণনা করিতেছিলেন। আর কাম-ক্রোধাদি কিরূপে বশ করিতে হয়।

    ডাক্তার — তুমি ভাবে পড়েছিলে, আর-একজন দুষ্ট লোক তোমায় বুট জুতার গোঁজা মেরেছিল — সে-সব কথা শুনেছি।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Kathamrita)— সে কালীঘাটের চন্দ্র হালদার। সেজোবাবুর কাছে প্রায় আসত। আমি ঈশ্বরের আবেশে মাটিতে অন্ধকারে পড়ে আছি। চন্দ্র হালদার ভাবত, আমি ঢঙ করে ওইরকম হয় থাকি, বাবুর প্রিয়পাত্র হব বলে। সে অন্ধকারে এসে বুট জুতার গোঁজা দিতে লাগল। গায়ে দাগ হয়েছিল। সবাই বলে, সেজোবাবুকে বলে দেওয়া যাক। আমি বারণ করলুম।

    ডাক্তার — এও ঈশ্বরের খেলা; ওতেও লোক শিখবে, ক্রোধ কিরকম করে বশীভূত করতে হয়। ক্ষমা কাকে বলে, লোক শিখবে।

    বিজয় ও নরেন্দ্রের ঈশ্বরীয় রূপ দর্শন

    ইতিমধ্যে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের সম্মুখে বিজয়ের সঙ্গে ভক্তদের অনেক কথাবার্তা হইতেছে।

    বিজয় — কে একজন আমার সঙ্গে সদা-সর্বদা থাকেন, আমি দূরে থাকলেও তিনি জানিয়ে দেন, কোথায় কি হচ্ছে।

    নরেন্দ্র — Guardian angel-এর মতো।

    বিজয় — ঢাকায় এঁকে (পরমহংসদেবকে) দেখেছি! গা ছুঁয়ে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Kathamrita) হাসিতে হাসিতে) — সে তবে আর-একজন!

    নরেন্দ্র — আমিও এঁকে নিজে অনেকবার দেখেছি! (বিজয়ের প্রতি) তাই কি করে বলব — আপনার কথা বিশ্বাস করি না।

  • Mann Ki Baat: প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাতেও উঠে এল পশ্চিম এশিয়ার অশান্তির প্রসঙ্গ

    Mann Ki Baat: প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাতেও উঠে এল পশ্চিম এশিয়ার অশান্তির প্রসঙ্গ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) ‘মন কি বাতে’ও উঠে এল পশ্চিম এশিয়ায় দিনের পর দিন বেড়ে চলা অস্থিরতা এবং তার জেরে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কটের প্রসঙ্গ। ২৯ মার্চ, রবিবার সম্প্রচারিত হল প্রধানমন্ত্রীর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর (Mann Ki Baat) ১৩২তম পর্ব। এই পর্বেই তিনি ফোকাস করেন পশ্চিম এশিয়ার অশান্ত পরিস্থিতির ওপর।

    মন কি বাতে কোভিড প্রসঙ্গ (Mann Ki Baat)

    কোভিড-১৯ অতিমারির কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, বিশ্ব আশা করেছিল যে এই বৈশ্বিক সঙ্কট কাটিয়ে উঠে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন নতুন সংঘাত দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সবাই মনে করতে পারি যে কোভিডের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে পুরো বিশ্ব নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল। আমরা সবাই আশা করেছিলাম যে করোনা সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসার পর বিশ্ব নতুন করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। কিন্তু বিভিন্ন অঞ্চলে বারবার সৃষ্টি হয়েছে যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিস্থিতি।” সঙ্কটের সময় উপসাগরীয় দেশগুলিতে বসবাসরত এক কোটিরও বেশি ভারতীয়কে সাহায্য করার জন্য ওই দেশগুলির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রসঙ্গ জ্বালানি সঙ্কট

    পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে যে প্রভাব পড়েছে, তাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, ভারতের জ্বালানির একটি বড় অংশই আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যে অঞ্চলে বর্তমানে যুদ্ধ চলছে, সেটি আমাদের জ্বালানি চাহিদার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এর ফলে বিশ্বজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেল নিয়ে সঙ্কট তৈরি হচ্ছে (Mann Ki Baat)।” তিনি আরও জানান, বিভিন্ন দেশের সহযোগিতার ফলে ভারত এই জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলা করতে পেরেছে। ভারতবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, কঠিন সময়ে সবাই যেন ঐক্যবদ্ধ থাকে। গুজবেও যেন বিশ্বাস না করে। তিনি বলেন, “আমি আবারও আমার দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানাই—আমাদের সবাইকে একসঙ্গে এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে। যারা গুজব ছড়াচ্ছে, তারা দেশের বড় ক্ষতি করছে। আমি সকল নাগরিককে সতর্ক থাকার এবং গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করছি। শুধু সরকারের দেওয়া তথ্যের ওপর ভরসা রাখুন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করুন (PM Modi)।”

    টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ে খুব খুশি প্রধানমন্ত্রী

    আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি বলেন, “যেভাবে আমরা অতীতে ১৪০ কোটি মানুষের শক্তিতে বিভিন্ন সঙ্কট পেরিয়ে এসেছি, তেমনি এবারও আমরা সবাই মিলে এই কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠব।” প্রধানমন্ত্রী ‘জ্ঞান ভারতম সার্ভে’ উদ্যোগ সম্পর্কেও বলেন। এর লক্ষ্য হল, দেশজুড়ে বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ ও নথিভুক্ত করা। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষও জ্ঞান ভারতম অ্যাপের মাধ্যমে এই উদ্যোগে অংশ নিতে পারেন—পাণ্ডুলিপির ছবি বা সংশ্লিষ্ট তথ্য আপলোড করে।” ‘মাই ভারত (MY Bharat)’ উদ্যোগের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এর লক্ষ্য দেশের যুবসমাজকে বাজেট প্রক্রিয়া ও নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত করা। এই উদ্যোগের আওতায় আয়োজিত কুইজে প্রায় ১২ লাখ যুবক-যুবতী অংশগ্রহণ করেছিল (Mann Ki Baat)। কুইজের পর ১ লাখ ৬০ হাজারের কাছাকাছি অংশগ্রহণকারীকে প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল। ভারতের টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ে তিনি যে যারপরনাই খুশি, তা গোপন করেননি প্রধানমন্ত্রী। প্রায় সাত দশক পর রঞ্জি ট্রফি জয়ের জন্য জম্মু-কাশ্মীর ক্রিকেট দলকেও অভিনন্দন জানান তিনি (PM Modi)।

     

LinkedIn
Share