Tag: bangla news

bangla news

  • EU Chief: “আমরা একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে”, বললেন ইইউ প্রধান

    EU Chief: “আমরা একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে”, বললেন ইইউ প্রধান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।” মঙ্গলবার দাভোসে এ কথাই বললেন ইইউয়ের প্রধান (EU Chief) উরসুলা ফন ডার লায়েন। তিনি বলেন, “এখনও কিছু কাজ বাকি রয়েছে। তবে আমরা একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির (FTA) দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছি। কেউ কেউ একে সব চুক্তির জননী বলছেন। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি বাজার গড়ে উঠবে, যা বৈশ্বিক মোট জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশের প্রতিনিধিত্ব করবে।” ইইউর বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ ও বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

    ফন ডার লায়েনের বক্তব্য (EU Chief)

    ফন ডার লায়েন জানান, এই বাণিজ্য উদ্যোগের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগও যুক্ত রয়েছে। দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠক শেষে আগামী সপ্তাহান্তে তিনি ভারত সফরে যাবেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্যই হল, প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তিনি বলেন, “ইউরোপ ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করা এবং সহযোগিতা গভীর করার জন্য এখনও উল্লেখযোগ্য কাজ বাকি রয়েছে।” উরসুলা ফন ডার লায়েন (EU Chief) ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানে অন্যতম প্রধান অতিথি। ভারত সফরকালে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও লুইস সান্তোস দা কস্তার সঙ্গে তিনি যৌথভাবে ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ১৬তম ভারত-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের সভাপতিত্বও করবেন।

    প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি

    ভারতের সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তিকে ইউরোপের বৈশ্বিক কৌশলের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে ফন ডার লায়েন বলেন, “ইউরোপ বিশ্বজুড়ে অংশীদারদের সঙ্গে ব্যবসা করতে উন্মুক্ত এবং সক্রিয় সম্পৃক্ততা বজায় রাখবে।”
    তিনি বলেন, “ইউরোপ সব সময় বিশ্বকেই বেছে নেবে, এবং বিশ্বও ইউরোপকে বেছে নিতে প্রস্তুত”। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইইউর দৃঢ় সংকল্পের কথাও বলেন তিনি। প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও জানিয়েছিলেন, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, যার আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, তা হবে ভারতের স্বাক্ষরিত সবচেয়ে বড় চুক্তি। তিনি বলেন, “আমি এখন পর্যন্ত সাতটি চুক্তি সম্পন্ন করেছি, সবই উন্নত অর্থনীতির সঙ্গে। কিন্তু এটি হবে সব চুক্তির জননী।”

    গোয়েল এও বলেন, “আমরা একটি অত্যন্ত ভালো চুক্তি পাচ্ছি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আগ্রহের ক্ষেত্রগুলিতেও আমরা তাদের জন্য আকর্ষণীয় প্রস্তাব দিচ্ছি। এটি অবশ্যই উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক হতে হবে। সবচেয়ে ভালো দিক হল, আমরা একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করি না, আমাদের স্বার্থ ভিন্ন।” গোয়েলের আগে, বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল জানিয়েছিলেন, উভয় পক্ষ ২৪টি অধ্যায়ের মধ্যে ২০টির আলোচনা সম্পন্ন করেছে এবং ২৬ জানুয়ারির (FTA) মধ্যে আলোচনার বাকি অংশ শেষ করার চেষ্টা চলছে (EU Chief)।

  • Virat Kohli and Rohit Sharma: বিরাট পতন রো-কো’র! বার্ষিক চুক্তিতে বড় বদল আনতে চলেছে বিসিসিআই

    Virat Kohli and Rohit Sharma: বিরাট পতন রো-কো’র! বার্ষিক চুক্তিতে বড় বদল আনতে চলেছে বিসিসিআই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চুক্তিতে বড়সড় পরিবর্তন আনতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। বিসিসিআই সূত্রে খবর, বার্ষিক চুক্তির কাঠামো পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচক কমিটি। যার জেরে আর হয়তো থাকবে না এ+ ক্যাটেগরি। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তার প্রভাব পড়তে পারে দলের দুই সিনিয়র তারকা বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার উপর। বিসিসিআই বলেছে, অজিত আগরকরের নেতৃত্বে নির্বাচক কমিটি চার স্তরীয় চুক্তির বদলে তিনটি ক্যাটেগরি অর্থাৎ এ, বি, সি রাখার কথা চলছে।

    কীসের ভিত্তিতে কোন ক্যাটেগরি

    বর্তমানে এ+ ক্যাটেগরিতে যে ক্রিকেটার থাকেন বছরে তিনি ৭ কোটি টাকা পান। এই ক্যাটেগরিই তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বার্ষিক চুক্তি নতুন কাঠামোয় এলে খেলোয়াড়দের মূল্যায়ন করা হবে তাঁদের বর্তমান ফর্মের ভিত্তিতে। কোন ফর্ম্যাটে খেলছেন এবং দলে তাঁর ভবিষ্যতের ভিত্তিতে। তারকা নাম কিনা বা অতীতে কী করেছেন, এই কৃতিত্বের উপর নির্ভর করে নয়। এই অবস্থায় শুধুমাত্র ওয়ান ডে খেলার কারণে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাকে গ্রেড বি-তে রাখা হতে পারে। ওই ক্যাটেগরিতে থাকা ক্রিকেটার বার্ষিক ৩ কোটি টাকা পান। নতুন বার্ষিক চুক্তিতে শুধুমাত্র আর্থিক সুরক্ষা নয়, খেলোয়াড়দের গুরুত্বও বিবেচিত হবে।

    আগামী বৈঠকে প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা

    এক বিসিসিআই কর্তা বলেছেন, “এখনও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। তবে খেলোয়াড়দের টানা খেলার চাপ, ফর্ম্যাটের দাবি এবং ভবিষ্যতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা যাতে যায়, সে দিকে নজর রেখে ভাবা হতে পারে।” আগামী বৈঠকে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হবে। সেখানেই পরিষ্কার হবে আর্থিক ভাবে কোনও পরিবর্তন আসছে কি না। নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজে ভারতীয় ব্যাটারদের ব্যর্থতার মাঝে একমাত্র ব্যতিক্রম হয়ে থেকেছেন বিরাট কোহলি। প্রথম ম্যাচে ৯৩ রান করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় ম্যাচে বড় রান না পেলেও শেষ একদিনের ম্যাচে বিরাটের ব্যাট থেকে এসেছে ১২৪ রানের লড়াকু ইনিংস। তিন ম্যাচেই ব্যর্থ হয়েছেন রোহিত। এবার বোর্ডের কোপের মুখে পড়তে পারেন দুই তারকা ক্রিকেটার। বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে রদবদল হলে এক ধাক্কায় ৪ কোটি টাকা বেতন কমতে পারে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলিদের।

  • Calcutta High Court: বেলডাঙায় পাঁচ কোম্পানি বিএসএফকে ব্যবহার করতে রাজ্যকে নির্দেশ হাইকোর্টের

    Calcutta High Court: বেলডাঙায় পাঁচ কোম্পানি বিএসএফকে ব্যবহার করতে রাজ্যকে নির্দেশ হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেখানে থাকা পাঁচ কোম্পানি বিএসএফকে (BSF) ব্যবহার করতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। আদালত এও জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে এই ঘটনায় এনআইএ তদন্তের নির্দেশও দিতে পারে।

    উত্তাল হয়েছিল বেলডাঙা (Calcutta High Court)

    প্রসঙ্গত, ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় গত শুক্র ও শনিবার উত্তাল হয়ে উঠেছিল মুসলিম অধ্যুষিত বেলডাঙা। পথ অবরোধ, ভাঙচুর-সহ নানা অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল। এই অশান্তির ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয় জনস্বার্থ মামলা। মঙ্গলবার সেই মামলারই শুনানি হয় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে। এই মামলার শুনানি হয় দু’দফায়। দুপুর দুটোর পর শুরু হয় দ্বিতীয় দফার শুনানি। সেই সময়ই একাধিক নির্দেশ দেয় উচ্চতর আদালত। আদালত জানিয়েছে, বেলডাঙায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে গত বছরের অশান্তির পর ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই কলকাতা হাইকোর্ট মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছিল, সেই নির্দেশই আপাতত বহাল থাকবে। এর অর্থ হল, ওই এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

    আদালতের নির্দেশ

    আদালতের নির্দেশ, এলাকায় যাতে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে জেলাশাসককে। নতুন করে যাতে কোথাও অশান্তির আগুন জ্বলে না ওঠে, তার ওপরও নজর রাখতে হবে জেলা প্রশাসনকে। আদালত এও জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার যদি মনে করে এনআইএ তদন্তের প্রয়োজন, তাহলে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে। এ ছাড়া দু’সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। এই সময়সীমার মধ্যে পাল্টা বক্তব্য জানাতে পারবেন মামলাকারীরা (Calcutta High Court)।

    এদিন শুনানির প্রথম দফায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতার আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে জানান, মুর্শিদাবাদ জেলা সাম্প্রদায়িক দিক থেকে রাজ্যের অন্যতম সংবেদনশীল জায়গা। ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর প্রতিবাদের নামে জাতীয় সড়ক অবরোধ এবং ভাঙচুর করা হয়। কর্তব্যরত এক সাংবাদিককে মারধর করার অভিযোগে স্বতঃস্ফূর্ত মামলা দায়ের করে  পুলিশ। ওই ঘটনায় গ্রেফতারও করা হয়েছে চারজনকে। জেলার পুলিশ সুপার স্বয়ং জানিয়েছেন, হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছিল পূর্ব পরিকল্পনা মতোই।

    কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশের দাবি 

    আইনজীবী বিল্বদল আদালতে জানান, মুর্শিদাবাদ জেলার সামসেরগঞ্জ এবং ধুলিয়ানে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেও, বেলডাঙায় অশান্তির সময় তাদের কাজে লাগায়নি রাজ্য। এই অশান্তির জেরে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় নর্থ-ইস্টের রাজ্যগুলির সঙ্গে যোগাযোগও। এর পরেই তিনি আদালতের (BSF) কাছে আর্জি জানান, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হোক। সাধারণ মানুষের সম্পত্তি এবং সরকারি সম্পত্তি যাতে নষ্ট না হয়, তাই এলাকায় জারি করা হোক ১৬৩ নম্বর ধারা। রাজ্যে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রকে নির্দেশ দেওয়া হোক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ। রাজ্যের তরফে আইনজীবী হিসেবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর কাছে প্রধান বিচারপতি জানতে চান, কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করা নিয়ে রাজ্যের কী মতামত? কল্যাণ বলেন, “আমাদের কোনও আপত্তি নেই। ইতিমধ্যেই এলাকায় টহল দিচ্ছে পাঁচ কোম্পানি। আরও পাঁচ কোম্পানি লাগলে দেওয়া হোক, আমাদের (BSF) কোনও আপত্তি নেই (Calcutta High Court)।”

     

  • Biswa Ijtema: ভোটমুখী বাংলায় বিশ্ব ইজতেমা, কড়া নজর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের

    Biswa Ijtema: ভোটমুখী বাংলায় বিশ্ব ইজতেমা, কড়া নজর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার কাছে পুঁইনান গ্রামে শেষ হল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইসলামি সমাবেশ। চার দিনের বিশ্ব ইজতেমা (Biswa Ijtema) শেষ হয়েছে  ৫ জানুয়ারি। ৩৪ বছর পর এই প্রথম ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত হল বিশ্ব ইজতেমা। এর আগে এই সমাবেশ হয়েছিল ১৯৯২ সালে, হাওড়ার নিবড়া এলাকায় (Terror Recruitment Risks)। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এই বিশাল সমাবেশের আয়োজন হওয়ায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরদারি বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। আধিকারিকদের আশঙ্কা, এত বড় আন্তর্জাতিক জমায়েত তাদের আদর্শিক প্রভাব বিস্তার করতে পারে, অপব্যবহার করা হতে পারে গোপন নেটওয়ার্ক গঠনের কাজেও।

    ইজতেমা ভারতে ফেরাতে সক্রিয় তৃণমূল! (Biswa Ijtema)

    জানা গিয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, নির্বাচনজনিত বিধিনিষেধ এবং আয়োজক গোষ্ঠীগুলির মধ্যে হিংসাত্মক অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মূল ইজতেমা বাতিল হওয়ায় এবারের বিশ্ব ইজতেমা ঠাঁই বদলে হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এই ইজতেমা ভারতে ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে বলে অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে প্রস্তুতি তদারকি করেন। রাজ্য সচিবালয় নবান্নে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও হয় এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সমস্ত রকম ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয় (Terror Recruitment Risks)। তৃণমূলের দুই প্রবীণ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীকে স্বাস্থ্য পরিষেবা, স্যানিটেশন, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যা এই আয়োজনে রাজ্য সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততাকেই স্পষ্ট করে।

    আখেরি মুনাজাত

    যদিও অনুষ্ঠানটি ঐতিহ্যবাহী আখেরি মুনাজাত—বিশ্বশান্তি ও সম্প্রীতির জন্য চূড়ান্ত প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে, তবুও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির উদ্বেগ কাটছে কই! শীর্ষ গোয়েন্দা সূত্রগুলির মতে, অতীতে এই ধরনের সমাবেশে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলি দুর্বল ব্যক্তিদের শনাক্ত, প্রভাবিত ও তাদের নিয়োগ করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে (Biswa Ijtema)। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, তাবলিঘি জামাতের সঙ্গে যুক্ত কিছু প্রাক্তন সদস্য পরবর্তীকালে নিষিদ্ধ বা কট্টর সংগঠন যেমন পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়া (PFI) এবং জামাত-ই-ইসলামির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছিল, যা আদর্শিক সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    বড় সতর্কবার্তা

    সূত্রের খবর, একটি বড় সতর্কবার্তা ছিল বিতর্কিত ধর্মীয় নেতা মৌলানা সাদ কান্ধলভির উপস্থিতি ও তাঁর বক্তব্য। তিনি তাবলিঘি জামাতের নিজামুদ্দিন মারকাজ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, চরমপন্থা ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আশঙ্কায় বাংলাদেশে তাঁর অংশগ্রহণ আগে সীমিত করা হয়েছিল। দিল্লির নিজামুদ্দিনে বসবাসকারী কান্ধলভির বিরুদ্ধে কোভিড-১৯ লকডাউনের সময় একটি এফআইআরও দায়ের হয়েছিল। গোয়েন্দা আধিকারিকদের মতে, তাঁর উপস্থিতি উগ্র মতাদর্শকে উসকে দিতে পারে এবং দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে তাবলিঘি জামাতের প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে (Terror Recruitment Risks)।

    ইজতেমার জায়গা

    নিরাপত্তা সংস্থাগুলি আরও একটি গুরুতর দুর্বলতার দিক তুলে ধরেছে। সেটি হল, ইজতেমার জন্য যে জায়গাটি বেছে নেওয়া হয়েছিল, সেটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অত্যন্ত কাছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী, অতীতে এই অঞ্চল আইএসআই–সমর্থিত জঙ্গি সংগঠন যেমন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (JMB), হরকত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামি (HuJI), আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (ABT) এবং হিজবুত-তাহরির (HuT) কার্যকলাপের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে (Biswa Ijtema)। মুর্শিদাবাদ ও মালদার মতো সীমান্ত জেলাগুলিকে, যেখানে সক্রিয় স্লিপার সেল নেটওয়ার্ক রয়েছে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, সমাবেশ চলাকালীন বাড়তি নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছিল।

    সমাবেশে রাজনৈতিক বার্তা

    মার্চ–এপ্রিল মাসে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনার প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা আধিকারিকরা মনে করছেন, এই সমাবেশে রাজনৈতিক বার্তাও নিহিত ছিল। সূত্রের মতে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি সহানুভূতি ও কল্যাণমূলক ভাবমূর্তি তুলে ধরার উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকার এই অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দিয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তাঁরা সতর্ক করেছেন, সীমান্তবর্তী রাজ্যে দীর্ঘদিনের আন্তঃসীমান্ত উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের ইতিহাস থাকায়, এই ধরনের রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তার দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি (Biswa Ijtema)।

    যদিও সমাবেশ চলাকালীন নিরাপত্তা লঙ্ঘনের কোনও ঘটনা ঘটেনি, তবুও অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরেও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি উচ্চ সতর্কতা বজায় রেখেছে। আধিকারিকরা জানান, অংশগ্রহণকারীদের গতিবিধি, অর্থের উৎস এবং ডিজিটাল যোগাযোগের ওপর অনুষ্ঠান-পরবর্তী নজরদারি এখনও চলছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনও (Terror Recruitment Risks) বিলম্বিত নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয় কি না, তা মূল্যায়ন করা যায় (Biswa Ijtema)।

     

  • Kishtwar Encounter: ‘অপারেশন ত্রাশি–আই’ অব্যাহত, কিশতওয়ারে জঙ্গি ঘাঁটি ভাঙল নিরাপত্তা বাহিনী

    Kishtwar Encounter: ‘অপারেশন ত্রাশি–আই’ অব্যাহত, কিশতওয়ারে জঙ্গি ঘাঁটি ভাঙল নিরাপত্তা বাহিনী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ারে (Kishtwar Encounter) জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) জঙ্গিদের একটি গোপন আস্তানা ভেঙে দিল নিরাপত্তা বাহিনী। জঙ্গিদের খোঁজে চালানো ব্যাপক তল্লাশি অভিযান মঙ্গলবার তৃতীয় দিনে পড়েছে। জঙ্গিদের সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। চলমান ‘অপারেশন ত্রাশি–আই’-(Operation Trashi-I) এর মধ্য দিয়ে জঙ্গিদের একটি গোপন ডেরার খোঁজ পায় নিরাপত্তা বাহিনী। ওই ডেরা থেকে বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী—রেশন, ঘি, বাসনপত্র, গ্যাস সিলিন্ডার ও স্টোভ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

    গভীর জঙ্গলে লুকিয়ে জঙ্গিরা 

    সূত্রের খবর, আস্তানাটি শীতকালের জন্য পর্যাপ্ত রেশনে ভর্তি ছিল এবং একাধিক জঙ্গির থাকার মতো বড় ছিল। এই সাফল্য আসে তার একদিন পর, যখন কিশতওয়ারে (Kishtwar Encounter) নিরাপত্তা বাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে সংঘর্ষে এক প্যারাট্রুপার শহিদ হন। রবিবার কিশতওয়ারের চাত্রু এলাকার সোনার গ্রাম সংলগ্ন মান্দ্রাল–সিংহপোরা অঞ্চলে অভিযান শুরু হয়। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে এনকাউন্টার ঘটে। পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত ২–৩ জন জঙ্গি এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে বলে ধারণা। জঙ্গিরা গভীর জঙ্গলে পালিয়ে যায়। তবে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের একটি সুসজ্জিত আস্তানা ভেঙে দিতে সক্ষম হয়, যেখানে বিপুল পরিমাণ শীতকালীন রসদ—খাবার, কম্বল ও বাসনপত্র—মজুত ছিল।

    জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক

    অভিযান তদারকিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন জম্মু জোনের আইজি পুলিশ ভীম সেন তুতি এবং সিআরপিএফ-এর আইজি (জম্মু) আর গোপাল কৃষ্ণ রাও। তাঁদের সঙ্গে একাধিক সেনা আধিকারিকও সেখানে শিবির গেড়েছেন। এদিকে মঙ্গলবার সকালে জম্মুতে শহিদ স্পেশাল ফোর্স কমান্ডো হাবিলদার গজেন্দ্র সিংকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সাতওয়ারিতে একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরে শহিদের মরদেহ নিজ গ্রামে পাঠানো হয়। সোমবার দুপুরে ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ওই জঙ্গি আস্তানা উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনী এখন সেই ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কারদের (OGW) শনাক্ত করার চেষ্টা করছে, যারা জঙ্গিদের জন্য বিপুল পরিমাণ রেশন, ডাল, বাসনপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী সংগ্রহ ও পরিবহণে সহায়তা করেছিল। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী অন্তত চারজন জঙ্গির দীর্ঘ শীতকালীন থাকার জন্য যথেষ্ট বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তারক্ষীরা। সেনাবাহিনীর হোয়াইট নাইট কর্পস জানিয়েছে, চাত্রু এলাকায় ‘অপারেশন ত্রাশি-আই’ (Operation Trashi-I) অব্যাহত রয়েছে। কর্পস, পুলিশ ও সিআরপিএফ যৌথভাবে এলাকা ঘিরে রেখে তল্লাশি আরও জোরদার করেছে। কঠিন ভূপ্রকৃতি, ঘন জঙ্গল ও খাড়া ঢালের মধ্যেও ড্রোন ও স্নিফার ডগের সাহায্যে সেনা, পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর একাধিক দল তল্লাশি চালাচ্ছে। সীমিত দৃশ্যমানতা ও চলাচলের অসুবিধা সত্ত্বেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত দুই থেকে তিনজন জঙ্গি ওই এলাকায় আটকে থাকতে পারে।

  • Anti-Stealth Radar Grid: এফ-৩৫ থেকে জে-৩৫— এখন নজরে সবাই, অ্যান্টি-স্টেলথ রেডার প্রযুক্তিতে বিরাট লাফ ভারতের

    Anti-Stealth Radar Grid: এফ-৩৫ থেকে জে-৩৫— এখন নজরে সবাই, অ্যান্টি-স্টেলথ রেডার প্রযুক্তিতে বিরাট লাফ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার জেট (FGFA) মোকাবিলায় ভারত এমন এক অত্যাধুনিক অ্যান্টি-স্টেলথ রেডার গ্রিড (Anti-Stealth Radar Grid) উন্মোচন করেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ (F-35), রাশিয়ার সু-৫৭ (Su-57) এবং চিনের জে-৩৫ (J-35) স্টেলথ যুদ্ধবিমান সনাক্ত ও ট্র্যাক করতে সক্ষম।

    ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ ঘোষণা

    অপারেশন ‘সিন্দুর’-এর (Operation Sindoor) পর ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরদার হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও-র (DRDO) নেতৃত্বে ভারত সরকার ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ (Mission Sudarshan Chakra) ঘোষণা করেছে। এই মিশনের অধীনে ডিআরডিও-সহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সংস্থাকে পরবর্তী প্রজন্মের রেডার প্রযুক্তি উন্নয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য স্টেলথ বিমান ও আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন সহ আকাশ-পথে ধেয়ে আসা হুমকির মোকাবিলা করা।

    স্টেলথ-বিপদের মোকাবিলায় ভারতের প্রস্তুতি

    স্টেলথ প্রযুক্তিতে তৈরি বিমানগুলির রেডার ক্রস-সেকশন (Radar Cross-Section) অত্যন্ত কম, ফলে প্রচলিত রেডার ও এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্ক (India Air Defence) এড়িয়ে যাওয়া তাদের পক্ষে সহজ হয়। বিশ্বজুড়ে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার দৌড়ে ভারতও পিছিয়ে নেই। একদিকে যেমন অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (এএমসিএ) প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দেশ, তেমনই অন্যদিকে জোর দেওয়া হচ্ছে কাউন্টার-স্টেলথ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে।

    অ্যান্টি-স্টেলথ রেডার গ্রিডের বৈশিষ্ট্য

    ভারতের নতুন অ্যান্টি-স্টেলথ রেডার গ্রিডটি (Anti-Stealth Radar Grid) প্যাসিভ কোহেরেন্ট লোকেশন রেডার (PCLR) প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি। এই প্রযুক্তিকে জাতীয় ‘লো অবজারভেবল ডিটেকশন নেটওয়ার্ক’ (LODN)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সংযুক্ত করা হচ্ছে।

    কীভাবে কাজ করে পিসিএলআর?

    পিসিএলআর একটি প্যাসিভ মাল্টি-স্ট্যাটিক রেডার ব্যবস্থা, যা নিজে কোনও রেডিও সিগন্যাল ছোড়ে না। প্রচলিত রেডারের মতো তরঙ্গ পাঠিয়ে প্রতিফলন শোনার পরিবর্তে, এই ব্যবস্থা পরিবেশে ইতিমধ্যেই বিদ্যমান সিগন্যাল—যেমন এফএম রেডিও সম্প্রচার—ব্যবহার করে, তাদের সনাক্তকরণ করে। আকাশে কোনও বিমান চলাচল করলে ওই সিগন্যালের মধ্যে যে ব্যাঘাত ঘটে, তা বিশ্লেষণ করে বিমান সনাক্ত ও ট্র্যাক করা হয়। ফলে রেডারের অবস্থান গোপন থাকে।

    প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় শক্তিবৃদ্ধি

    নতুন অ্যান্টি-স্টেলথ রেডার গ্রিডটি আকাশ প্রতিরক্ষায় ভারতের বিদ্যমান দেশীয় ও আমদানিকৃত ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করবে। এর মধ্যে রয়েছে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ (S-400), বারাক-৮ এবং স্পাইডার সিস্টেম। এই সমন্বয়ের মাধ্যমে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ও ড্রোন হুমকির বিরুদ্ধে ভারতের প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে।

    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই অ্যান্টি-স্টেলথ রেডার গ্রিড (Anti-Stealth Radar Grid) ভারতের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটাবে এবং ভবিষ্যতের আকাশযুদ্ধে দেশকে কৌশলগত বাড়তি সুবিধা দেবে।

  • BJP: “আমি দলের কর্মী, নিতিন আমার বস”, বিজেপির নয়া সর্বভারতীয় সভাপতিকে অভিনন্দন মোদির

    BJP: “আমি দলের কর্মী, নিতিন আমার বস”, বিজেপির নয়া সর্বভারতীয় সভাপতিকে অভিনন্দন মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জল্পনা চলছিলই। সোমবার রাতেই তাতে পড়ল সিলমোহর। বিজেপির (BJP) সর্বভারতীয় সভাপতি হলেন নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। মাত্র পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সে বিজেপির কনিষ্ঠতম সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন তিনি। তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জেপি নাড্ডার পর বিজেপির এই পদের দায়িত্ব সামলাবেন নিতিন।

    বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি (BJP)

    সোমবারই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন নিতিন। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। গত ডিসেম্বর মাস থেকে কার্যনির্বাহী সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন তিনি। নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার কে লক্ষ্মণ জানান, মনোনয়ন প্রত্যাহার করার সময়সীমা পেরনোর পর দেখা যায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন নিতিন।  এদিন নির্বাচিত হওয়ার আগেই বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন নিতিন। সোমবার রাতেই তিনি বৈঠক করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সাংসদ সুকান্ত মজুমদার, বিজেপি নেতা অমিতাভ চক্রবর্তী, সুনীল বনসল, মঙ্গল পান্ডে এবং অমিত মালব্যর সঙ্গে।

    বাংলায় আসতে পারেন নিতিন

    সূত্রের খবর, সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর চলতি মাসেই বাংলায় আসতে পারেন নিতিন। তখনই তিনি বৈঠক করবেন রাজ্য সংগঠনের সব স্তরের নেতাদের সঙ্গে। সোমবার রাতের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে খুঁটিনাটি জানতে চান নিতিন। তাঁর বাবা প্রয়াত বিজেপি নেতা নবীন কিশোর সিনহা। এবিভিপির হাত ধরে ছাত্র রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় তাঁর। ২০১০ সালে প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হন তিনি। জয়ীও হন বিহারের বাঁকিপুর আসনে। তারপর থেকে এই কেন্দ্রেই ধারাবাহিকভাবে জয়ী হয়ে আসছেন নিতিন (Nitin Nabin)।  দেশের রাজনীতিতে নবীন মুখ হলেও, বিহারে নিতিন খুবই পরিচিত। তাঁর জন্ম পাটনায়। বাবা বিজেপি (BJP) নেতা হওয়ায়, শৈশব থেকেই রাজনৈতিক পরিমণ্ডলেই বেড়ে উঠেছেন নিতিন। গত বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হন নিতিন। প্রত্যাশিতভাবেই তাঁর ঠাঁই হয় নীতীশ কুমারের মন্ত্রিসভায়।

    জেপি নাড্ডার স্থলাভিষিক্ত

    জেপি নাড্ডার স্থলাভিষিক্ত হলেন নিতিন। নাড্ডার জায়গায় নিতিনকে বসানোর মূল কারণ হল বিজেপির পাশাপাশি আরএসএসেরও ভরসা রয়েছে নিতিনের ওপর। নিতিন নির্বাচনটাও বোঝেন ভালো। এই সব কারণেই অনায়াস হয় নিতিনের পদ প্রাপ্তি। শোনা যায়, নিতিন আরএসএস ঘনিষ্ঠ। সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক ভালো। বিহার বিধানসভা নির্বাচনে তিনি সমন্বয় রক্ষা করেছিলেন বিজেপি এবং জেডিইউয়ের। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএকেও বিপুল ভোটে জিতিয়েছেন নিতিন। ছত্তিশগড় বিধানসভায় তিনি কাজ করেছেন বিজেপির ইনচার্জ হিসেবে। ঝুলিতে এতসব অভিজ্ঞতা থাকায় নিতিনকে বেছে নেওয়া হয় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি পদে।

    নিতিন নবীন আমার বস

    বিশ্বের সব চেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব গ্রহণ করায় নিতিনকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মুখে শোনা যায় নিতিনের ভূয়সী প্রশংসা। তিনি বলেন, “নিতিন নবীনকে এতদিনে যা যা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাতেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন। নিতিন সেই প্রজন্মের মানুষ, যিনি ছেলেবেলায় রেডিও দেখেছেন, আর বর্তমানে এআই ব্যবহার করছেন।” এর পরেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নরেন্দ্র মোদি দেশের প্রধানমন্ত্রী। তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। পঞ্চাশ বছরের কম বয়সে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন (BJP)। এসব একটা জায়গায় রয়েছে। কিন্তু এর থেকেও বড় পরিচয় হল আমি বিজেপির একজন কর্মী। দলের ক্ষেত্রে আমি কর্মকর্তা, আর নিতিন নবীন আমার বস।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিজেপি (BJP) এক সংস্কার, এক পরিবার। এই দলে মেম্বারশিপের চেয়েও বেশি রিলেশনশিপ রয়েছে। নেতৃত্ব বদলায়, কিন্তু দিশা বদলায় না (Nitin Nabin)।”

     

  • India: “ভারত আজ নিজের শর্তে বৈশ্বিক বাণিজ্য চুক্তি করতে পারছে”, বললেন ডব্লুইএফ প্রধান

    India: “ভারত আজ নিজের শর্তে বৈশ্বিক বাণিজ্য চুক্তি করতে পারছে”, বললেন ডব্লুইএফ প্রধান

     মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতের (India) ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক শক্তি দেশটিকে এমন জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে যে, যেখানে আজ তারা সম্পূর্ণ নিজেদের শর্তে বৈশ্বিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে পারছে।” এমনই মন্তব্য করলেন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লুইএফ) সভাপতি বোরগে ব্রেন্ডে (Borge Brende)। দাভোসে অনুষ্ঠিত ফোরামের ৫৬তম বার্ষিক বৈঠকের ফাঁকে সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

    কী বললেন ডব্লুইএফ প্রধান?

    ব্রেন্ডে বলেন, “গত কয়েক বছরে ভারতের উত্থান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দেশের দরকষাকষির ক্ষমতাকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছে। এর ফলে নয়াদিল্লি এখন অনেক বেশি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে, কখন এবং কার সঙ্গে সে বাণিজ্য চুক্তি করবে।” তাঁর কথায়, “এই আত্মবিশ্বাস কোনও কথার কথা নয়, বরং পরিসংখ্যান দ্বারা সমর্থিত।” তিনি বলেন, “ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। বিশ্বে বৃহৎ অর্থনীতিগুলির মধ্যে ভারতই সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল এবং বৈশ্বিক মোট প্রবৃদ্ধির প্রায় ২০ শতাংশ অবদান রাখছে। এটা সত্যিই অসাধারণ।” এই মাত্রা ও গতি থাকায় ভারতের আর তাড়াহুড়ো করে চুক্তি করার বা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করেন তিনি। ব্রেন্ডের ভাষায়, “ভারত আজ নিজের স্বার্থ দেখে বাণিজ্য চুক্তি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে যখন প্রয়োজন হবে, তখনই ভারত সেই চুক্তি করবে।” তিনি এও বলেন, “ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের গতি অনেক বৈশ্বিক পর্যবেক্ষককে বিস্মিত করেছে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই এত ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার হয়েছে, যেটা অবিশ্বাস্য।”

    মার্কিন-ভারত বাণিজ্য চুক্তি

    ব্রেন্ডে মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি ভবিষ্যতে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা এবং অর্থনৈতিক পরিপূরকতা সেই পথেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে (India)। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাণিজ্য আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখনই দু’পক্ষের এগিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত সময়। অতীতে কিছু জটিলতা থাকলেও, বর্তমানে ভারত ও ইউরোপ, উভয়েই এই চুক্তি থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হতে পারে।” ব্রেন্ডে বলেন, “আমি মনে করি, এখনই ভারত ও ইউরোপের সময়। ঐতিহাসিকভাবে অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল, কিন্তু এই চুক্তি কার্যকর হলে দু’পক্ষই উপকৃত হবে।” তিনি এও বলেন, ইউরোপ আগের তুলনায় এখন বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনেক বেশি সক্রিয়। তাঁর ভাষায়, “লাতিন আমেরিকার বহু দেশ এখন ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করছে, যা আগে কল্পনাও করা যেত না, বিশেষ করে কৃষির মতো জটিল ইস্যুর কারণে (Borge Brende)।”

    বিশ্ব বাণিজ্য ভেঙে পড়ছে না

    শুল্ক সংক্রান্ত বিরোধ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভাজনের কারণে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা থাকলেও, ব্রেন্ডে সাফ জানিয়ে দেন, “বিশ্ব বাণিজ্য ভেঙে পড়ছে না। বরং আগের তুলনায় ধীরগতিতে বাড়ছে।” তিনি বলেন, “বৈশ্বিক বাণিজ্যে যে রদবদল চলছে, তার পরেও এ বছর বাণিজ্যে প্রায় ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে আমরা আশা করছি। অর্থাৎ বাণিজ্য সংকুচিত হচ্ছে না, কেবল আগের মতো দ্রুত বাড়ছে না। বাণিজ্য জলের মতো, যে নিজের পথ নিজেই খুঁজে নেয়।” ব্রেন্ডের মতে, ভারতের উত্থান বর্তমান সময়ের বৈশ্বিক বাণিজ্য রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলির একটি। যখন বড় বড় অর্থনীতি অস্থিরতার সঙ্গে লড়াই করছে, তখন ভারতের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি, ধারাবাহিক সংস্কার এবং বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক প্রভাব দেশটিকে শক্ত অবস্থানে থেকে দরকষাকষির ক্ষমতা দিয়েছে। তাঁর দৃষ্টিতে, ভারত এখন আর শুধু বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবণতার প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে না, বরং (Borge Brende) সেই প্রবণতাগুলি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে (India)।

  • S Jaishankar: সন্ত্রাসে মদত নয়! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি, পোল্যান্ডকে কী বার্তা জয়শঙ্করের?

    S Jaishankar: সন্ত্রাসে মদত নয়! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি, পোল্যান্ডকে কী বার্তা জয়শঙ্করের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা পাকিস্তান। তাদের পাশে না দাঁড়ানোর জন্য পোল্যান্ডকে বিশেষ বার্তা বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের। পাকিস্তানের জঙ্গিনীতি থেকে দূরে থাকাই উচিত ওয়ারশ রাজনীতির। সোমবার পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী সিকরস্কিকে এই বার্তায় দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিন দিনের ভারত সফরে এসেছেন পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী সিকরস্কি। সোমবার ছিল তার সফরের শেষদিন। আর এই সফর শেষের আগে বিদেশমন্ত্রী এস.জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। সেখানেই পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানো নিয়ে পোল্যান্ডকে সাফ বার্তা ভারতের।

    জম্মু কাশ্মীর প্রসঙ্গ, সন্ত্রাস নিয়ে কড়া বার্তা

    সূত্রের খবর, ভারত ও পোল্যান্ড দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর বৈঠকে উঠে এসেছে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে জম্মু কাশ্মীর প্রসঙ্গ। আর দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে কাশ্মীরের সমস্যা মেটাতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন বলেও জানায় ভারত। এমনকি সন্ত্রাসবাদে মদত না দেওয়ার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। সরাসরি ইসলামাবাদের নাম না নিলেও পাকিস্তানকে তোপ দেগেছে ভারত। বিদেশমন্ত্রী এস.জয়শঙ্কর বলেন-“আমরা আশাবাদী, পোল্যান্ড সন্ত্রাসবাদে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েই চলবে।” জয়শঙ্করের এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ গত বছরের অক্টোবরে পাকিস্তান সফরের সময় পোল্যান্ড কাশ্মীর ইস্যুতে ইসলামাবাদের সঙ্গে একটি যৌথ বিবৃতি দেয়। বৈঠকের শুরুতে জয়শঙ্কর বলেন, পোল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ এশিয়ায় সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের হুমকির বিষয়টি জানে। তিনি বলেন, “উপপ্রধানমন্ত্রী, আপনি আমাদের অঞ্চল সম্পর্কে অবগত এবং সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা জানেন। পোল্যান্ডের উচিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং আমাদের প্রতিবেশী সন্ত্রাসী পরিকাঠামোকে কোনওভাবেই উৎসাহ না দেওয়া।”

    কূটনৈতিক তৎপরতা ভারতের

    জয়শঙ্করের এই মন্তব্যের পর সিকোরস্কি সম্মতিসূচক মাথা নেড়ে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি জানান, পোল্যান্ড নিজেও সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসমূলক হামলার শিকার হয়েছে। সিকোরস্কি বলেন, “সম্প্রতি ইউক্রেনের সঙ্গে সংযোগকারী একটি রেলপথে চলন্ত ট্রেনের নিচে বিস্ফোরণ ঘটে, যা কার্যত রাষ্ট্র-সন্ত্রাসের উদাহরণ।” ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের অক্টোবরে। গত কয়েক বছরে ইউরোপীয় দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে পাকিস্তানের সন্ত্রাসে অর্থ জোগানো এবং জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার ইতিহাস সম্পর্কে সতর্ক করতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে ভারত।

    রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গ

    বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতের উপর শুল্ক চাপানোর বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “নিউ ইয়র্ক ও প্যারিসে আগেও আমি ইউক্রেন সংঘাত ও তার প্রভাব নিয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। একই সঙ্গে বলেছি, ভারতের বিরুদ্ধে এই নির্বাচনীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া অন্যায় ও অযৌক্তিক। আজও আমি সেই কথাই পুনরায় বলছি।” জবাবে সিকোরস্কি বলেন, “নির্বাচনী টার্গেটিং শুধু শুল্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর আরও নানা রূপ রয়েছে।”

     

     

     

     

     

  • India UAE MOU: প্রতিরক্ষা, জ্বালানি থেকে এআই, ৩ ঘণ্টার সফরে সই ৫ চুক্তি! আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির একাধিক সমঝোতা

    India UAE MOU: প্রতিরক্ষা, জ্বালানি থেকে এআই, ৩ ঘণ্টার সফরে সই ৫ চুক্তি! আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির একাধিক সমঝোতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) সম্পর্কে আরও উষ্ণতা যোগ হল আবু ধাবির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদের (India UAE meeting) ভারত সফরে। মাত্র দুই ঘণ্টার সফরে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সংক্ষিপ্ত সফরেই দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি, প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বাণিজ্য, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠক শেষে স্পষ্ট, ভারত-আমিরশাহি সম্পর্ক (India UAE relation) এখন শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে।

    ভারত-আমিরশাহির দৃঢ় বন্ধুত্বের প্রতীক

    সোমবার সুদূর সংযুক্ত আমিরশাহি থেকে ঝটিকা সফরে ভারতে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। তাঁকে স্বাগত জানাতে সেখানে পৌঁছে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। তারপর প্রধানমন্ত্রী মোদির গাড়িতেই চলে বৈঠক। আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের এই ঝটিকা সফরের কিছু মুহূর্ত নিজের সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন এক্স হ্য়ান্ডেলে বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করে মোদি লিখেছেন, ‘আমার ভাই, প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলাম। তাঁর এই সফর ভারত-আমিরশাহির দৃঢ় বন্ধুত্বের প্রতীক।’

    ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী বৈঠক

    নয়াদিল্লি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ রক্ষায় ভারতে এসেছিলেন আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট। ছিলেন মাত্র তিন ঘণ্টা। এর মধ্য়েই নানা কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা চলেছে দু’পক্ষের মধ্যে। জায়েদের সফর প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রকের প্রকাশিত তালিকায় দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন রাজ্যে বিনিয়োগ থেকে মহাকাশ গবেষণা — নানাবিধ বিষয়ে হাত মেলাতে প্রস্তুত হয়েছে ভারত এবং আরব আমিরশাহি। প্রায় তিন ঘণ্টার এই বৈঠকে দু’দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সীমিত এবং বর্ধিত পরিসরের আলোচনা হয়। বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রের কথায়, বৈঠকের সময় কম হলেও সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে একটি লেটার অব ইন্টেন্ট সই হয়, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। মহাকাশ ক্ষেত্রে দু’টি লঞ্চ সুবিধা এবং স্যাটেলাইট প্রস্তুত কারখানা তৈরির জন্যও চুক্তি হয়েছে, যা দু’দেশের যৌথ মহাকাশ অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।

    জ্বালানি নিরাপত্তা

    বৈঠকের মূল ফোকাস ছিল জ্বালানি নিরাপত্তা। শক্তি খাতে আমিরাত প্রতি বছর ভারতের জন্য ০.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলএনজি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় ইউএই দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হিসেবে ভূমিকা নেবে। ভারত ও আমিরশাহি স্বাগত জানিয়েছে এইচপিসিএল (HPCL) এবং এডিএনওসি (ADNOC Gas)–এর মধ্যে ১০ বছরের এলএনজি (LNG) সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরকে (India UAE energy deal)। এই চুক্তি অনুযায়ী ২০২৮ সাল থেকে ভারত বছরে ০.৫ মিলিয়ন টন এলএনজি পাবে। এর ফলে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চাহিদা আরও স্থিতিশীল হবে।

    পরমাণু শক্তি ব্যবহার

    শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতার দরজা খোলা হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। প্রথমবারের মতো দুই দেশ বেসামরিক পারমাণবিক শক্তিতে যৌথ উদ্যোগ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পারমাণবিক চুল্লি তৈরিতে সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা বাড়ানো হবে। ভারতের নতুন শান্তি (SHANTI) আইন আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সহযোগিতার পথ আরও সহজ করবে বলে দুই পক্ষই মত প্রকাশ করেছে।

    এআই, ডেটা ও ডিজিটাল সহযোগিতা

    অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমিরাতের পক্ষ থেকে গুজরাটের ধোলেরা স্পেশাল ইনভেস্টমেন্ট রিজিয়ন, ডেটা সেন্টার, সুপার কম্পিউটিং এবং এআই সংক্রান্ত প্রকল্পে বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে। ‘ডেটা এম্বাসি’ ধারণা নিয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করেছে, যা সার্বভৌম ডেটা ব্যবস্থার নতুন কাঠামো তৈরি করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে (India UAE AI cooperation)। দুই দেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভারতে একটি সুপারকম্পিউটিং ক্লাস্টার গড়ে তোলা হবে। আমিরশাহি ডেটা সেন্টারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। ডিজিটাল এমবাসি নির্মাণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। শেখ মহম্মদ ২০২৬ সালে ভারতে এআই ইমপ্যাক্ট সামিট (AI Impact Summit) আয়োজনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

    মহাকাশ গবেষণা

    একই ভাবে মহাকাশ গবেষণার স্বার্থেও একটি লেটার অব ইনটেন্ট স্বাক্ষর করেছে ভারত-আরব আমিরশাহি। এর ফলে উপগ্রহ তৈরি থেকে লঞ্চিং- স্পেস সেক্টরে যৌথ উদ্যোগ বাড়বে।

    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ

    খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, তা ভারতীয় কৃষক ও আমিরাতের খাদ্য সরবরাহ চাহিদা। উভয় দিকেই সুবিধা দেবে। এই আলোচনায় বিশেষ জায়গা পেয়েছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য। ২০৩২ সালের মধ্য়ে ভারত-আরব আমিরশাহির দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে নয়াদিল্লি-আবু ধাবি। টার্গেট ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গুজরাটে তৈরি হবে আবু ধাবি ব্যাঙ্ক ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের অফিস। বাড়বে কর্মসংস্থান, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে একমত

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দু’দেশই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ-সহ সব ধরনের জঙ্গি কার্যকলাপের নিন্দা করেছেন আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট। দুই দেশ একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে প্রাথমিক চুক্তিপত্র (Letter of Intent) সই করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখার সফর ও যৌথ মহড়া দু’দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। দুই নেতা সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদ নিয়ে যৌথভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিও তুলেছেন।

    ‘হাউজ অফ ইন্ডিয়া’ প্রতিষ্ঠা

    আবুধাবিতে ৪৫ লক্ষ ভারতীয় বাসিন্দার জন্য ‘হাউজ অফ ইন্ডিয়া’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক সহায়তার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি বাণিজ্য বৃদ্ধি, যুব বিনিময় কর্মসূচি, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা, এসব বিষয়েও দু’দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।

    আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়

    ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। দুই দেশের মধ্যে স্থানীয় মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, আর্থিক সহযোগিতা চুক্তি, দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত একাধিক দীর্ঘস্থায়ী চুক্তিও রয়েছে নয়াদিল্লি-আবু ধাবির। ২০১৯ সালের অগস্টে মোদির আবু ধাবি সফরের সময় তাঁর হাতে সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘অর্ডার অব জায়েদ’ তুলে দিয়ে, নয়াদিল্লির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক মিত্রতা আরও বাড়ানোর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। আবু ধাবির তৎকালীন শাসক জায়েদ ২০২২ সালে সে দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। দুই নেতা পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমিরশাহি ২০২৬ সালে ভারতের ব্রিকস (BRICS) সভাপতিত্বকে সমর্থন করেছে। ভারত সমর্থন করেছে আমিরশাহির জল সম্মেলন (UN Water Conference 2026)-কে।

LinkedIn
Share