Tag: Madhyom

Madhyom

  • Happy Hormones: ‘সুখ’ হরমোন কমাতে পারে রোগের ঝুঁকি! কীভাবে শরীরে এই হরমোনের ক্ষরণ স্বাভাবিক হবে?

    Happy Hormones: ‘সুখ’ হরমোন কমাতে পারে রোগের ঝুঁকি! কীভাবে শরীরে এই হরমোনের ক্ষরণ স্বাভাবিক হবে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শরীরে রক্তচাপের ওঠানামা হোক কিংবা অন্ত্রের সমস্যা, মানসিক অবসাদ-বিষন্নতার মতো জটিল সমস্যা, সবটাই নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে একটি হরমোন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ডোপামিন হরমোন নামে একটি হরমোনের ভারসাম্য ঠিকমতো থাকলে একাধিক শারীরিক ও মানসিক জটিলতা কমানো সহজ হয়। ডোপামিন হরমোনকে ‘সুখ’ হরমোন বা ‘feel good’ হরমোন বা ‘happy’ হরমোন বলা হয়ে থাকে। এই সুখ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে কয়েকটি বিষয়ে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন।

    কোন কোন রোগ নিয়ন্ত্রণে ডোপামিন হরমোন সাহায্য করে?

    রোগ নিরাময়ে সরাসরি ভূমিকা না থাকলেও ডোপামিন হরমোন একাধিক রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরে রক্তচাপের ওঠানামা স্বাভাবিক রাখে এই হরমোন। হরমোনের ভারসাম্যের সঙ্গে হৃদপিন্ড, ফুসফুস, অন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতা ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। ডোপামিন হরমোন স্ট্রেস হরমোনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাই রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। উচ্চ রক্তচাপ না থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই জটিল অস্ত্রোপচারের পরে শরীরে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে কৃত্রিম ডোপামিন হরমোন দেওয়া হয়। কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় শরীরের নিজস্ব উপায়ে এই হরমোন ক্ষরণ ঠিকমতো হলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে।

    অন্ত্রের সমস্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য এই হরমোন বিশেষ উপকারি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই বারবার মলত্যাগ করার প্রবণতা বা ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোমের মতো উপসর্গ কমাতে এই সুখ হরমোন বিশেষ সাহায্য করে। বিপাক ক্রিয়া যাতে ঠিকমতো হয়, সেই কাজেও এই হরমোন বিশেষ উপকারি। ডোপামিন হরমোন সবচেয়ে বেশি উপকারি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই হরমোনের ভারসাম্য ঠিকমতো থাকলে অবসাদ, বিষন্নতা, উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

    ডোপামিন হরমোনের স্বাভাবিক ক্ষরণে কোন খাবার সাহায্য করে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখার চাবিকাঠি খাবারের মধ্যেই রয়েছে। শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং স্বাভাবিক ভাবে হরমোন ক্ষরণ করার জন্য খাবারেই ভরসা রাখছেন তাঁরা।

    • ● পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রাণীজ প্রোটিন ডোপামিন হরমোনের স্বাভাবিক ক্ষরণে সাহায্য করে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডিম, চিকেন, মাছ কিংবা মাংসের পদ খেলে শরীরে এই হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। টাইরোসিন নামে অ‌্যামিনো অ্যাসিড এই হরমোন উৎপাদনে বিশেষ সাহায্য করে। আর প্রাণীজ প্রোটিনে এই অ্যাসিড পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে।
    • ● কলা, অ্যাভোকাডো, ব্রোকলি, পালং শাকের মতো সব্জি ও ফল ডোপামিন হরমোন ক্ষরণে সাহায্য করে‌। খনিজ পদার্থ এবং ভিটামিনে ভরপুর এই সব্জি ও ফল বিশেষ উপকারি।
    • ● কাঠবাদাম ও কুমড়োর বীজ ম্যাগনেশিয়াম ও টাইরোসিন ভরপুর। তাই ডোপামিন হরমোনের ভারসাম্য রাখতে বিশেষ সাহায্য করে।
    • ● টক দই, পনীরেও পর্যাপ্ত পরিমাণে টাইরোসিন থাকে। এই খাবারগুলো ডোপামিন হরমোন ক্ষরণে সাহায্য করে।
    • ● তবে খাবারের পাশপাশি শরীরে ডোপামিন হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে নিয়মিত শারীরিক কসরত করা, ভালো গান শোনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • EU: ট্রাম্পের নয়া শুল্ক আরোপ, প্রতিশোধ নিতে তৈরি হচ্ছে ইউরোপ!

    EU: ট্রাম্পের নয়া শুল্ক আরোপ, প্রতিশোধ নিতে তৈরি হচ্ছে ইউরোপ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (EU) ঘোষিত নয়া শুল্ক আরোপের পর তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী বাণিজ্যিক প্রতিশোধমূলক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে (US Tariffs) ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গ্রিনল্যান্ডকে সমর্থন করা ইউরোপীয় দেশগুলির বিরুদ্ধে এই শুল্ক আরোপের ঘোষণার ফলে ২৭ সদস্যের এই জোটের নেতাদের মধ্যে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে এবং এর মধ্যে দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইউরোপ সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

    গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি (EU)

    এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিকে ঘিরে প্রথমবারের মতো ইইউ তাদের তথাকথিত ‘ট্রেড বাজুকা’ ব্যবহারের কথা ভাববে। শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন এবং ব্রিটেন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কোনও সমঝোতা না হলে ১ জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।” ট্রাম্প দাবি করেন, ডেনমার্কের অধীনস্থ এই ভূখণ্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। গ্রিনল্যান্ডের পক্ষে এসব ইউরোপীয় দেশের অবস্থানের পরেই এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং ওয়াশিংটন ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে বিরোধ তীব্রতর হয়েছে।

    ট্রেড বাজুকা’

    ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার ফলে কূটনৈতিক সম্পর্কে দ্রুত চাপ সৃষ্টি হয় এবং রবিবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় দেশগুলির প্রতিনিধিদের জরুরি বৈঠকে ডাকা হয় (US Tariffs)। বৈঠকে তাৎক্ষণিক পাল্টা পদক্ষেপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ বলেন, “ইইউর ‘ট্রেড বাজুকা’ প্রথমবারের মতো ব্যবহারের এখনই সময় (EU)।” ‘ট্রেড বাজুকা’ বলতে বোঝানো হয় অ্যান্টি-কোয়ার্শন ইনস্ট্রুমেন্ট (ACI)—একটি ব্যবস্থা, যার লক্ষ্য ইইউকে অ-ইইউ দেশগুলির অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় আরও সক্ষম করে তোলা। এই ব্যবস্থার আওতায় ইইউ পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে পারবে, ইউরোপের একক বাজারে মার্কিন কোম্পানিগুলির প্রবেশ সীমিত করতে পারবে এবং লাভজনক ইইউ চুক্তির দরপত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলির অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করতে পারবে। এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্যই হল স্পষ্ট বার্তা দেওয়া—ইইউ তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইইউ কর্তারা জানিয়েছেন, ‘ট্রেড বাজুকা’ কেবল শুল্ক আরোপেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এর মধ্যে রফতানি নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধও থাকতে পারে (EU)।

    সাময়িক বাণিজ্য সমঝোতা

    জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সাময়িক বাণিজ্য সমঝোতার কারণে যে ৯৩ বিলিয়ন ইউরোর পাল্টা শুল্ক আরোপ স্থগিত (US Tariffs) রাখা হয়েছিল, ইইউ এখন সেগুলি কার্যকর করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে। ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বর্তমান পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগের কোনও বিরোধেই এত কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপের কথা ভাবা হয়নি (EU)। পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ আলোচনার ওপর। তবে ইউরোপীয় নেতারা স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি শুল্কের হুমকি বহাল রাখে বা আরও বাড়ায়, তাহলে তারা দ্রুত পদক্ষেপ করতে প্রস্তুত। ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় রবিবার আটটি ইউরোপীয় দেশ যৌথ বিবৃতি দিয়ে গ্রিনল্যান্ডের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের সঙ্গে সম্পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি।” এতে আর্কটিক অঞ্চলে যৌথ নিরাপত্তা স্বার্থের কথাও জোর দিয়ে উল্লেখ করা হয়।

    আর্কটিক নিরাপত্তা

    ন্যাটোর সদস্য দেশগুলি জানায়, আর্কটিক নিরাপত্তা জোরদার করাকে তারা একটি অভিন্ন ট্রান্স-আটলান্টিক অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে (EU)। বিবৃতিতে এই বলেও সতর্ক করা হয়, ওয়াশিংটনের শুল্ক হুমকি দীর্ঘদিনের মিত্রতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং এর ফলে ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কে একটি বিপজ্জনক নিম্নমুখী চক্র শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে (US Tariffs)। ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কোস্তা বলেন, “নতুন শুল্ক হুমকির মুখে আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় ইইউ কঠোর অবস্থান নেবে। ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লেয়েনও একই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “শুল্ক আরোপ ইউরোপ–আমেরিকার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।” এদিকে, ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রবিবার ফোনে ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ন্যাটোভুক্ত মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা ভুল এবং এটি ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ককে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে (EU)।”

    ডাউনিং স্ট্রিটের বিবৃতি

    ডাউনিং স্ট্রিটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “উত্তর মেরু অঞ্চলের নিরাপত্তা ইউরো-আটলান্টিক স্বার্থ রক্ষার জন্য সব ন্যাটো মিত্রেরই অগ্রাধিকার।” এতে আরও বলা হয়, যৌথ ন্যাটো নিরাপত্তা জোরদারের চেষ্টা করার জন্য মিত্রদের ওপর শুল্ক চাপানো কোনওভাবেই যুক্তিযুক্তি ন্যায্য নয় (US Tariffs)। ইইউ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কোনও আপসের পথে হাঁটতে রাজি নয় তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকির জবাবে ইইউ নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা স্থগিত রাখবেন। গত বছরের জুলাই মাসে শুরু হওয়া এই আলোচনা স্থগিত বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন ইউরোপীয় পিপলস পার্টির সহ-সভাপতি সিগফ্রিড মুরেসেন (EU)। মুরেসেন জানান, ইইউ দ্রুত আমেরিকার সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত ছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইইউয়ে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার কথা ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করা। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আপাতত ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    বাণিজ্য আলোচনা

    প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা শুরু হয়েছিল গত বছরের জুলাই মাসে। একে ট্রান্সআটলান্টিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েই গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে(EU)। ট্রাম্পের দাবি, আর্কটিক অঞ্চলে চিন ও রাশিয়া তাদের প্রভাব বাড়াচ্ছে। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের মতে, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও বিপুল খনিজ সম্পদ একে আমেরিকার নিরাপত্তা স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে (US Tariffs)। ডেনমার্ক ও ইইউ ট্রাম্পের এই প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় জার্মানি, সুইডেন ও ফ্রান্স গ্রিনল্যান্ডে ছোট আকারের সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে বলেও অসমর্থিত একটি সূত্রের খবর। তাদের আশঙ্কা, ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপের মতো ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতেও আরও আক্রমণাত্মক কোনও পদক্ষেপ নিতে পারেন। ডেনমার্কও ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে।

    উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা

    কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ সতর্ক করে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যদি ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপ নেন, তাহলে উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (ন্যাটো) ভেঙে পড়তে পারে। একই সঙ্গে ইইউ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বিবেচনা করছে বলে জানা গিয়েছে (US Tariffs)। উল্লেখ্য, এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে গুগল, মেটা এবং এক্সের মতো মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। কারণ ইউরোপজুড়ে তাদের বিশাল ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িত। ইউরোপীয় কর্তাদের মতে, ওয়াশিংটনকে আরও উত্তেজনা বাড়ানো থেকে বিরত রাখতে শক্ত অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা জরুরি হতে পারে।

    ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মার্কিন ভোক্তারাই

    এদিকে, একাধিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের ফলে ইউরোপের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মার্কিন ভোক্তারাই। কারণ চড়া শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইউরোপীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। লেগো ও ফেরারির মতো বিলাসবহুল ও জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের দাম ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এই ক্রমবর্ধমান বিরোধ ন্যাটোর ভাঙন ঘটাতে পারে এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকেও আরও দুর্বল করে তুলতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক দেশই মনে করে আন্তর্জাতিক অংশীদার হিসেবে ট্রাম্পকে বিশ্বাস করা যায় না (US Tariffs)। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে কোনও চুক্তিতে পৌঁছনো বুদ্ধিমানের কাজ হবে না বলেও অভিমত। কারণ এই ধরনের অবস্থার মধ্যে আলোচনা চালিয়ে গেলে তা মার্কিন প্রশাসনের আরও একতরফা ও অস্থিতিশীল পদক্ষেপকে উৎসাহিত করবে বলেই আশঙ্কা।

     

  • Daily Horoscope 20 January 2026: আর্থিক পরিস্থিতি মজবুত হবে এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 20 January 2026: আর্থিক পরিস্থিতি মজবুত হবে এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) নানান কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন, তবে ভয় পাবেন না।

    ২) প্রচুর দায়িত্ব থাকবে, সাহসের সঙ্গে নিজের সেই দায়িত্ব পূরণ করতে পারবেন।

    ৩) যে কোনও কাজ সম্পন্ন হতে থাকবে।

    বৃষ

    ১) কোনও নতুন কাজ শুরুর পরিকল্পনা করে থাকলে সময় অনুকূল নয়।

    ২) ভাগ্য আপনার পাশে থাকবে না।

    ৩) সারাদিনের কাজ সম্পন্ন করে সন্ধ্যাবেলা পরিবারের সদস্যের সঙ্গে সময় কাটাবেন।

    মিথুন

    ১) আর্থিক পরিস্থিতি মজবুত হবে।

    ২) ব্যবসায়ীদের জন্য আজকের দিনটি সাধারণ।

    ৩) ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকদের আশীর্বাদ পাবেন।

    কর্কট

    ১) শুভ কাজে রুচি দেখাবেন।

    ২) আপনার সিদ্ধান্তের দ্বারা ভবিষ্যতে লাভান্বিত হবেন।

    ৩) কোনও সঙ্গী ব্যবসায়ে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, তাই সতর্ক থাকুন।

    সিংহ

    ১) পুরনো বিবাদের সমাধান হবে।

    ২) মনের মধ্যে আনন্দ জাগবে।

    ৩) প্রেমীর কাছ থেকে কোনও উপহার পেতে পারেন।

    কন্যা

    ১) সেবা ও শুভ কাজে অর্থ ব্যয় করবেন।

    ২) মনের মধ্যে আনন্দ অনুভূতি থাকবে।

    ৩) জীবনসঙ্গীর ওপর কোনও কারণে রেগে থাকবেন।

    তুলা

    ১) অপ্রয়োজনীয় দৌড়ঝাপের কারণে পারিবারিক জীবনে অশান্তি থাকবে।

    ২) সন্ধ্যাবেলা স্বস্তি অনুভব করতে পারেন।

    ৩) পরিবারের সদস্যের স্বাস্থ্য সমস্যা থাকবে।

    বৃশ্চিক

    ১) আজকের দিনটি চ্যালেঞ্জে পরিপূর্ণ থাকবে।

    ২) গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা ও চুক্তি আপনার অনুকূলে থাকবে।

    ৩) বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ভালো সময় কাটাবেন।

    ধনু

    ১) বন্ধুদের কাছ থেকে ধন লাভ।

    ২) সন্ধ্যাবেলা পরিজনদের সঙ্গে শুভ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।

    ৩) পরিবারের ছোট সদস্যদের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটাবেন।

    মকর

    ১) আটকে থাকা টাকা ফিরে পেতে পারেন।

    ২) উচ্চাধিকারিকদের সাহায্যে জমি-সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনও বিবাদের সমাধান হবে।

    ৩) ব্যবসায়ে ভালো মুনাফা হবে।

    কুম্ভ

    ১) ব্যবসায়ে কোনও বয়স্ক মহিলার আশীর্বাদ পেতে পারেন।

    ২) আজ উন্নতির বিশেষ সুযোগ পাবেন।

    ৩) ধনলাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

    মীন

    ১) আর্থিক পরিস্থিতি মজবুত হবে।

    ২) ভবিষ্যৎ চিন্তা কমবে।

    ৩) ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষায় সাফল্য লাভ করতে পারবেন।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না

  • BJP: বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি তুঙ্গে, কার হাতে যাচ্ছে রশি?

    BJP: বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি তুঙ্গে, কার হাতে যাচ্ছে রশি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে বিজেপির (BJP) সদর দফতরে তৎপরতা তুঙ্গে। দলটি তাদের পরবর্তী জাতীয় সভাপতিকে নির্বাচনের (Election Process) প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পদে মনোনয়ন জমা পড়বে ১৯ জানুয়ারি, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে ২০ জানুয়ারি। দলীয় সূত্রে খবর, বর্তমান কার্যনির্বাহী সভাপতি নীতীন নাবিন কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং বিদায়ী সভাপতি জগৎ প্রকাশ নাড্ডা-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা তাঁর নাম প্রস্তাব করবেন বলে জানা যাচ্ছে। অন্য কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ফল কার্যত নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া ঘিরে বরাবরই প্রশ্ন ওঠে, দলের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী কতটা গণতান্ত্রিক।

    বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল (BJP)

    নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে পরিচালিত ভোটের মতো নয় বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচন। এটি পুরোপুরি দলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং এতে ভারতের নির্বাচন কমিশনের কোনও ভূমিকা থাকে না। দল একে একটি বেসরকারি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবেই দেখে, যেমন কোনও সমিতি বা সংগঠন তাদের পদাধিকারী নির্বাচন করে। নিজেদের বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করা বিজেপির সদস্যসংখ্যা ১৮ কোটির বেশি হলেও সাধারণ কর্মী বা সমর্থকরা সরাসরি জাতীয় সভাপতির জন্য ভোট দেন না। নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে দলের সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে হয়, যাকে বিজেপি তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি বলেই মনে করে। বিজেপির সংবিধানে নীচ থেকে ওপরের দিকে নির্বাচনের একটি সুস্পষ্ট কাঠামো নির্ধারিত রয়েছে। বুথ বা স্থানীয় স্তর থেকে শুরু করে গ্রাম বা শহর, মণ্ডল, জেলা, রাজ্য এবং শেষে জাতীয় স্তর পর্যন্ত এই সাংগঠনিক নির্বাচন (BJP) সম্পন্ন হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি দলের অন্দরে “সংগঠন পর্ব” নামে পরিচিত এবং এটি ছ’বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান সংগঠন পর্ব শুরু হয়েছে ২০২৪–২৫ সালে এবং এখন তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    প্রক্রিয়া শুরু

    এই প্রক্রিয়া শুরু হয় সদস্য সংগ্রহ অভিযান দিয়ে। ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে যে কোনও ভারতীয় নাগরিক, যিনি দলের মানবতাবাদ এবং আদর্শ মেনে (Election Process) নেন, তিনি প্রাথমিক সদস্য হতে পারেন। সদস্যপদের মেয়াদ ছ’বছর এবং তা নবীকরণযোগ্য।এর মধ্য থেকে ‘সক্রিয় সদস্য’ বাছাই করা হয়। সক্রিয় সদস্য হতে গেলে অন্তত তিন বছর দলীয় কাজ করতে হয়, পার্টি ফান্ডে ১০০ টাকা অনুদান দিতে হয়, আন্দোলন বা কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয় এবং দলীয় প্রকাশনার গ্রাহক হতে হয়। শুধুমাত্র সক্রিয় সদস্যরাই সাংগঠনিক নির্বাচনে ভোট দিতে বা উচ্চপদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। বিজেপির সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয় সভাপতি নির্বাচিত হন একটি বিশেষ ইলেক্টোরাল কলেজের মাধ্যমে। এই কলেজে জাতীয় পরিষদ ও রাজ্য পরিষদের সদস্যরা থাকেন। লোকসভা আসনের সংখ্যার অনুপাতে রাজ্য থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন, পাশাপাশি সাংসদদের মনোনীত প্রতিনিধিরাও থাকেন (BJP)।

    রাজ্য পরিষদের সদস্য

    রাজ্য পরিষদের সদস্যরা জেলা ইউনিট থেকে নির্বাচিত হন এবং বিধায়ক ও সাংসদদের মনোনীত প্রতিনিধিরাও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকেন। এবার ইলেক্টোরাল কলেজে প্রায় ৫,৭০০ জন সদস্য রয়েছেন। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, অন্তত অর্ধেক রাজ্যে (প্রায় ১৯টি রাজ্য) সাংগঠনিক নির্বাচন শেষ না হলে জাতীয় সভাপতি নির্বাচন করা যায় না। সেই শর্ত এবার পূরণ হয়েছে। বিজেপির সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সভাপতি হতে গেলে কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রার্থীকে অন্তত ১৫ বছর প্রাথমিক সদস্য এবং অন্তত চার মেয়াদ ধরে সক্রিয় সদস্য থাকতে হয়, যা সাধারণত প্রায় ১২ বছরের সাংগঠনিক কাজের সমান। মনোনয়ন জমা দিতে হলে ইলেক্টোরাল কলেজের অন্তত ২০ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন, যাঁরা কমপক্ষে পাঁচটি ভিন্ন রাজ্য থেকে হতে হবে, যেসব রাজ্যে জাতীয় পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। প্রার্থীকে লিখিত সম্মতিও দিতে হয় (Election Process)।

    ইলেক্টোরাল কলেজের তালিকা

    এই নির্বাচনের জন্য ১৬ জানুয়ারি ইলেক্টোরাল কলেজের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ১৯ জানুয়ারি দুপুর ২টা থেকে ৪টার মধ্যে মনোনয়ন জমা নেওয়া হবে এবং সেদিনই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সন্ধ্যায় মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। যদি একাধিক বৈধ মনোনয়ন থাকে, তবে ২০ জানুয়ারি গোপন ব্যালটে ভোট হবে এবং সেদিনই ফল ঘোষণা করা হবে। তবে যদি একজন প্রার্থীই থাকেন, তবে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে, এবার যা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি (BJP)।বিজেপির ৪৫ বছরের ইতিহাসে কখনও জাতীয় সভাপতি পদে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন হয়নি। প্রতিবারই সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সর্বসম্মতি ক্রমে। দলীয় সূত্রের মতে, এটি বিজেপির অভ্যন্তরীণ ঐকমত্য ও সমন্বয়ের সংস্কৃতির ফল।

    আরএসএস

    বিজেপি সংবিধানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) নাম উল্লেখ না থাকলেও, বাস্তবে এই প্রক্রিয়ায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক ভূমিকা থাকে। আরএসএসের শীর্ষ নেতারা এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নাম চূড়ান্ত করার আগে আলোচনা করে নেন। সংগঠনের মহাসচিব, যিনি সাধারণত আরএসএস থেকে আসেন, তিনিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই পদ্ধতিকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হয়, কারণ জাতীয় সভাপতি শুধুই প্রতীকী পদ নয়। তিনি দলের সাংগঠনিক দিশা নির্ধারণ করেন, নির্বাচনী কৌশল দেখাশোনা করেন এবং দল ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করেন। প্রকাশ্য লড়াই দলকে দুর্বল করতে পারে, যা বিজেপি এড়িয়ে চলতে চায় (BJP)।

    জাতীয় সভাপতির মেয়াদ

    বিজেপির সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয় সভাপতি টানা দুই মেয়াদ, অর্থাৎ মোট ছ’বছর দায়িত্বে থাকতে পারেন। এরপর বিরতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। যদিও বাস্তবে মেয়াদ বাড়ানোর ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে (Election Process)। জেপি নাড্ডা ২০২০ সালের জানুয়ারিতে সভাপতি হন। তাঁর প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালে, কিন্তু মেয়াদ বাড়িয়ে তাঁকে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্বে রাখা হয়। বর্তমান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবশেষে ২০২৬ সালে নতুন সভাপতির দিকে এগোচ্ছে বিজেপি। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে ২০ জানুয়ারি। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিজেপির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বহু গুরুত্বপূর্ণ নেতা। এঁরা হলেন, অটল বিহারী বাজপেয়ী (১৯৮০–১৯৮৬), লালকৃষ্ণ আডবানি (১৯৮৬–১৯৯১), মুরলী মনোহর যোশী (১৯৯১–১৯৯৩), লালকৃষ্ণ আডবানি (১৯৯৩–১৯৯৮), কুশাভাউ ঠাকরে (১৯৯৮–২০০০),

    বাঙ্গারু লক্ষ্মণ (২০০০–২০০১), কে জনা কৃষ্ণমূর্তি (২০০১–২০০২), এম বেঙ্কাইয়া নাইডু (২০০২–২০০৪), লালকৃষ্ণ আডবানি (২০০৪–২০০৫), রাজনাথ সিং (২০০৬–২০০৯), নীতীন গডকরি (২০০৯–২০১৩), রাজনাথ সিং (২০১৩–২০১৪), অমিত শাহ (২০১৪–২০২০), জগৎ প্রকাশ নাড্ডা (২০২০–২০২৬)।

    অমিত শাহের মেয়াদ

    এর মধ্যে ২০১৪ থেকে ২০২০ পর্যন্ত অমিত শাহের মেয়াদ ছিল দীর্ঘতম ও সবচেয়ে নির্বাচনী সাফল্যপূর্ণ, যখন বিজেপি লোকসভায় ৩০০-এরও বেশি আসন পায়। জেপি নাড্ডার মেয়াদে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং সাংগঠনিক সংহতি বজায় রাখা হয়। বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচনের পদ্ধতি দলটির কেন্দ্রীভূত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ চরিত্র স্পষ্ট করে। সিদ্ধান্ত শীর্ষস্তরে নেওয়া হয় এবং তা নির্বিঘ্নে সংগঠনের সর্বস্তরে বাস্তবায়িত হয়। এতে অভ্যন্তরীণ সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয় এবং ঐক্যের বার্তা দেওয়া যায় (Election Process)। তবে একই সঙ্গে একটি বড় প্রশ্নও থেকে যায়, দল যত বড় হচ্ছে, ভবিষ্যতে কি কখনও শীর্ষ সাংগঠনিক পদে প্রকাশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাবে? আপাতত বিজেপি তাদের ঐতিহ্যগত সর্বসম্মতির পথেই অবিচল, এবং আসন্ন জাতীয় সভাপতি (BJP) নির্বাচনও সেই পরিচিত পথেই এগোচ্ছে।

     

  • Pak Forces: ৪০টি মসজিদ ধ্বংস করেছে পাকিস্তান, বিস্ফোরক বালোচ নেতা

    Pak Forces: ৪০টি মসজিদ ধ্বংস করেছে পাকিস্তান, বিস্ফোরক বালোচ নেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pak Forces) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বালোচ (Balochistan) জাতির শীর্ষ নেতা তথা মানবাধিকারকর্মী মীর ইয়ার বালোচ। ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশে একের পর এক মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে। মীর বলেন, “ইসলামাবাদ যখন পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর (পিওজেকে)-তে মসজিদ ‘প্রোফাইলিং’-এর অভিযোগ তুলে ভারতের সমালোচনা করছে, তখন একই সময়ে পাক সেনাবাহিনী বালুচিস্তানে প্রায় ৪০টি মসজিদ ধ্বংস করেছে।”

    পাকিস্তানকে তোপ (Pak Forces)

    কাশ্মীর জুড়ে মসজিদ, ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটিগুলির তথ্য সংগ্রহ বা প্রোফাইলিং করার ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনার প্রেক্ষিতেই মীর এই মন্তব্য করেন। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। ইসলামাবাদের ভিত্তিহীন ক্ষোভের তীব্র নিন্দা করে এই বালোচ নেতা বলেন, “পাকিস্তান একটি সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র এবং দেশটি হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিপীড়নে জড়িত”। এক্স হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে তিনি বলেন, “রিপাবলিক অব বালুচিস্তান পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারতের নীতিগত অবস্থানের পাশে সম্পূর্ণভাবে রয়েছে। যখন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ধর্মীয় ও জেহাদি উগ্রপন্থীদের ব্যবহার করে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের দমন ও ভীতিপ্রদর্শনের হাতিয়ার বানায়, তখন পাকিস্তানের কোনও নৈতিক অধিকার নেই ভারত, বালুচিস্তান, আফগানিস্তান বা অন্য কাউকে সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে উপদেশ দেওয়ার।”

    কী বললেন বালোচ নেতা

    মীর এও বলেন, “পাকিস্তানের বহিরাগত শক্তি বালুচিস্তান প্রজাতন্ত্রে প্রায় ৪০টি মসজিদ ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সরাসরি মসজিদে বোমা হামলা, কোরআন পোড়ানো এবং মসজিদের ইমাম বা প্রধানদের অপহরণ (Pak Forces)।” তিনি জানান, প্রথম শিকার হয়েছিল বালুচিস্তান প্রজাতন্ত্রের শাসকের মসজিদ, কালাতের খানের মসজিদ। প্রতিবেশী পাকিস্তানের আক্রমণকারী সেনাবাহিনী ট্যাঙ্ক নিয়ে ঢুকে সাধারণ মানুষের ওপর গোলাবর্ষণ ও কামানের শেল নিক্ষেপ করেছিল। আজও কালাতের খানের মসজিদে মর্টার শেলের চিহ্ন দেখা যায়, যা পাকিস্তানের নিষ্ঠুরতা, দখলদারিত্ব এবং অ-ইসলামিক আচরণের প্রমাণ।

    বালুচিস্তান পাকিস্তানের খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ হলেও অনুন্নত একটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ, যার সীমানা ইরানের সঙ্গে যুক্ত। বালোচ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সূচনা কয়েক দশক আগে, যেখানে বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন, প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং সম্পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি জানানো হয়। এই বিদ্রোহ কখনও তীব্র হয়েছে, কখনও কিছুটা কমেছে, তবে ইসলামাবাদের জন্য এটি দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গিয়েছে।

    ২০২৫ সালের মে মাসে বালোচ জাতীয়তাবাদী নেতারা পাকিস্তান থেকে বালুচিস্তানের (Balochistan) স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তবে অঞ্চলটি এখনও অস্থির। পাকিস্তানি সেনা ও বিদেশি প্রকল্পগুলিকে লক্ষ্য করে বিদ্রোহ অব্যাহত রয়েছে, যার মধ্যে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (Pak Forces) (সিপিইসি)-এর প্রকল্পগুলিও রয়েছে।

  • PM Modi: আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (ইউএই) (UAE) প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে দিল্লি বিমানবন্দরে স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সোমবারের এই সাক্ষাৎ দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের গুরুত্বকে আরও একবার তুলে ধরল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    আমার ভাই (PM Modi)

    পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা যখন চরমে, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানাপোড়েন যখন তুঙ্গে, গাজায় অস্থিরতা এবং সৌদি আরব এবং ইউএই জড়িত ইয়েমেন সঙ্কট এখনও অমীমাংসিত, ঠিক সেই সময়েই ভারত সফরে এলেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (ইউএই) প্রেসিডেন্ট। সরকারি সূত্রের খবর, বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে এবং একাধিক মউ (MoU) স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “আমার ভাই, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট মহামান্য শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলাম। তাঁর এই সফর ভারত-ইউএই দৃঢ় বন্ধুত্বের প্রতি তাঁর গুরুত্ব আরোপেরই প্রমাণ। আমাদের আলোচনার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।”

    শেখ মহম্মদকে আতিথ্য গ্রহণের আমন্ত্রণ

    এদিন সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন, ৭ লোক কল্যাণ মার্গে শেখ মহম্মদকে আতিথ্য গ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ইউএই প্রেসিডেন্ট এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের জন্য মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্যই ভারতে থাকবেন এবং সোমবারই ভারত ছেড়ে যাবেন। দুই নেতার মধ্যে এই বৈঠকটি প্রথমে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে চূড়ান্ত হয়েছিল, তবে পরে তা পিছিয়ে দেওয়া হয় (PM Modi)। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পারমাণবিক সহযোগিতা সংক্রান্ত একাধিক চুক্তিতে দুই নেতা স্বাক্ষর করতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিও ভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।

    প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি শেখ মহম্মদের তৃতীয় সরকারি ভারত সফর এবং গত এক দশকে তাঁর পঞ্চম ভারত সফর। সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রেক্ষাপটে ভারত ও ইউএইর মধ্যে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তির দিকেও নজর থাকবে সবার। ২০২২ সালে ব্যাপক অর্থনৈতিক (UAE) অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষরের পর থেকে ভারত ও ইউএইর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।

    বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, এই সফর সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের আদান-প্রদানের ধারাবাহিকতা। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের ভারত সফর এবং গত বছরের এপ্রিলে ইউএইর উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শেখ হামদান বিন মহম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের ভারত (PM Modi) সফর।

  • Kishtwar Encounter: কিশতওয়ারে ফের গুলির লড়াই, মৃত্যু সেনা জওয়ানের! ৩ জইশ জঙ্গির খোঁজে চলছে তল্লাশি অভিযান

    Kishtwar Encounter: কিশতওয়ারে ফের গুলির লড়াই, মৃত্যু সেনা জওয়ানের! ৩ জইশ জঙ্গির খোঁজে চলছে তল্লাশি অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) কিশতওয়ার (Kishtwar encounter) জেলায় সিংহপোড়া এলাকায় সোন্নার গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনী ও পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিদের মধ্যে সংঘর্ষে এক সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সংঘর্ষের সময় ভারী গুলিবর্ষণে আরও সাতজন জওয়ান আহত হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পাকিস্তান সমর্থিত জইশ-ই-মহম্মদের তিনজন জঙ্গি (Jaish-e-Mohammed terrorists) গ্রেনেড ছুড়ে বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

    সেনা -জওয়ান নিহত

    পুলিশ সূত্রে খবর, পাকিস্তান-ভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Mohammed) দু’ থেকে তিনজন জঙ্গি ওই অঞ্চলে লুকিয়ে রয়েছে—এই প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতেই দুপুর নাগাদ সোন্নার গ্রামে অভিযান শুরু করেছিল নিরাপত্তাবাহিনী। অপারেশনটির (Kishtwar encounter) নেতৃত্ব দেয় জম্মু-ভিত্তিক সেনা ইউনিট হোয়াইট নাইট কোর। গুলির লড়াই চলাকালীন আটজন জওয়ান স্প্লিন্টার ইনজুরিতে আহত হন। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা চলাকালীন একজন জওয়ানের মৃত্যু হয়। জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়ে ভারতীয় সেনার স্পেশাল ফোর্সেস (SF)-এর এক প্যারাট্রুপার শহিদ হয়েছেন। সোমবার সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, ওই এলাকায় তল্লাশি অভিযান দ্বিতীয় দিনে প্রবেশ করেছে। শহিদ সেনার নাম হাবিলদার গজেন্দ্র সিং। সেনা কর্মকর্তাদের মতে, সন্ত্রাস দমন অভিযানের সময় তিনি গুরুতর আহত হন। ভারতীয় সেনার হোয়াইট নাইট কোর তাদের এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছে, “হোয়াইট নাইট কোরের জিওসি এবং সমস্ত পদমর্যাদার সেনাকর্মীরা স্পেশাল ফোর্সেসের হাবিলদার গজেন্দ্র সিংকে গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। ১৮–১৯ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যরাতে চলমান অপারেশন ‘ ত্রাসি–১’-এর আওতায় সিংপুরা এলাকায় সন্ত্রাস দমন অভিযানে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “আমরা তাঁর অদম্য সাহস, বীরত্ব ও কর্তব্যনিষ্ঠার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই এবং এই গভীর শোকের মুহূর্তে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি।”

    চলছে তল্লাশি অভিযান

    কিশতওয়ার জেলার (Kishtwar encounter) ওই এলাকায় এখনও তল্লাশি ও অভিযান চলছে। যাতে জঙ্গিরা কোনওভাবেই পালাতে না পারে, তার জন্য ঘিরে ফেলা হয়েছে পুরো এলাকা। পুলিশ ও সেনা সূত্র জানাচ্ছে, মানদ্রাল–সিংহপোড়া অঞ্চলের কাছে চাট্রুর সোন্নার গ্রামে ‘অপারেশন ত্রাশি–১’-এর অংশ হিসেবে চলছিল কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন। দুপুর নাগাদ তল্লাশি অভিযান চলাকালীন আচমকা গুলির শব্দ শোনা যায়। জওয়ানরা জঙ্গিদের অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা করতেই শুরু হয় গুলিবর্ষণ। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জঙ্গিদের গুলির জবাব দিতে গিয়ে কঠিন ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও জওয়ানরা ‘অসাধারণ পেশাদারিত্ব’ দেখিয়েছেন। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলতে বাড়তি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে অভিযান চালানো হচ্ছে। কঠিন ভূপ্রকৃতি, ঘন জঙ্গল ও খাড়া ঢালের কারণে রবিবার গভীর রাতে অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। তবে সোমবার ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই কিশতওয়ার জেলার উঁচু পার্বত্য এলাকায় ফের তল্লাশি অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী। সেনা, পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর একাধিক দল ড্রোন ও স্নিফার ডগের সাহায্যে এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। জঙ্গিরা যাতে পালাতে না পারে, সে জন্য পুরো এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

    সাম্প্রতিক মাসে বাড়ছে সংঘর্ষ

    চলতি বছর এই নিয়ে তৃতীয়বার নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের সংঘর্ষ হয়েছে জম্মু এলাকায় (Jammu Kashmir)। এর আগে ৭ জানুয়ারি এবং ১৩ জানুয়ারিও গুলির লড়াই হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে কিশতওয়ারের চাট্রু এলাকায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ অভিযানে জঙ্গিদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ সংঘর্ষে জড়িয়েছিল সেনা ও পুলিশ। অপারেশন সিঁদুরের পরেই নতুন করে ‘ঘাতক’ হয়ে উঠেছে জইশ সন্ত্রাসীরা। শ্রীনগরে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে হয়ে পড়েছে কৌশলী।

    তীব্র শীতেও সতর্ক সেনা

    সাধারণত ‘চিল্লাই কলান’-এ (অতিরিক্ত শীতের সময়) অভিযান কিছুটা কমে। তবে এবারে সেনা নতুন কৌশলে বরফে ঢাকা উঁচু এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে। ধারণা, জঙ্গিরা সেখানেই ঘাঁটি বানানোর চেষ্টা করছে। থার্মাল ইমেজিং ডিভাইস এবং ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি রাতের অভিযান এবং বিপজ্জনক ভূখণ্ডে অপারেশন চালাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন এক আধিকারিক। তাঁর কথায়, “এই প্রযুক্তি আর সেনার ভূখণ্ড–পরিচিতি মিলিয়ে এখন কোনও এলাকাই নজরদারির বাইরে থাকছে না।” সেনা সূত্রে খবর, অভিযান (Kishtwar encounter) শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গোটা পরিস্থিতির উপর কেন্দ্রীয় স্তর থেকেও নজর রাখা হচ্ছে। সেনাদের বক্তব্য, অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হলেও জঙ্গিদের পালানোর কোনও সুযোগ দেওয়া হবে না। সেনা আধিকারিকদের মতে শান্তি বজায় রাখাই এখন মূল লক্ষ্য।

  • Hindu Businessman: বাংলাদেশে ফের খুন হিন্দু ব্যবসায়ী, পিটিয়ে হত্যা ৫৫ বছরের লিটন ঘোষকে

    Hindu Businessman: বাংলাদেশে ফের খুন হিন্দু ব্যবসায়ী, পিটিয়ে হত্যা ৫৫ বছরের লিটন ঘোষকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিবেশীর বাগান থেকে চুরি গিয়েছে কলার কাঁদি। তার জেরে নিছক সন্দেহের বশে শনিবার এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে (Hindu Businessman) খুন করা হল। বাংলাদেশের (Bangladesh) গাজিপুর জেলার ঘটনায় চাঞ্চল্য। মৃতের নাম লিটন চন্দ্র ঘোষ, বয়স ৫৫। কালীগঞ্জ এলাকায় রয়েছে তাঁর ‘বৈশাখী সুইটমিট অ্যান্ড হোটেল’। সেখানে এসেই দুষ্কৃতীরা পিটিয়ে মারে তাঁকে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পুলিশ একই পরিবারের তিন সদস্যকে আটক করেছে। তারা হল স্বপন মিঞা, তার স্ত্রী মাজেদা খাতুন এবং তাদের ছেলে মাসুম মিঞা।

    বচসা থেকে হাতাহাতি (Hindu Businessman)

    পুলিশ জানিয়েছে, মাসুমের একটি কলার বাগান রয়েছে। সেখান থেকে খোয়া যায় এক কাঁদি কলা। কলার খোঁজে করতে বেরিয়ে সে লিটনের হোটেলে পৌঁছে যায়। সেখানেও কলা ঝোলানো ছিল। সেই কলার কাঁদি তারই বাগানের বলে দাবি করতে থাকে মাসুম। এ নিয়েই দুপক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা শুরু হয়। পরে মাসুম ফিরে যায়। সকাল ১১টা নাগাদ মাসুম ফের হোটেলে এসে একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে হোটেলের এক কর্মচারীর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পরে মাসুমের বাবা-মাও ওই হোটেলে এসে হাজির হয়। তার পরেই শুরু হয় হাতাহাতি (Hindu Businessman)।

    অভিযুক্তরা লিটনকে ঘুষি ও লাথি

    পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা লিটনকে ঘুষি ও লাথি মারে। মারের চোটে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন লিটন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।এই ঘটনাটি এমন একটা সময়ে ঘটল, যখন বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে দেশে অন্তত ১৫ জন সংখ্যালঘু হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে, যা বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তবে এই ঘটনাটি বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক (Bangladesh) হিংসার ধারাবাহিকতার সঙ্গে যুক্ত কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেননি। লিটনের মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে অভিযুক্তদের (Hindu Businessman)।

    বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হিন্দু-নিধন…

    • ২ ডিসেম্বর: ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলায় ৩৫ বছর বয়সি হিন্দু মাছ ব্যবসায়ী উৎপল সরকারকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
    • ২ ডিসেম্বর: বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলায় ৪২ বছর বয়সি হিন্দু স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রণতোষ কর্মকারকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৭ ডিসেম্বর: রংপুর নিবাসী মুক্তিযোদ্ধা ৭৫ বছর বয়সি যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়কে তাঁদের বাড়িতে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
    • ১২ ডিসেম্বর: কুমিল্লা জেলায় ১৮ বছর বয়সি হিন্দু অটোরিকশা চালক শান্ত চন্দ্র দাসকে খুন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁর গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল এবং মরদেহটি একটি ভুট্টাক্ষেতে ফেলে রাখা হয়।
    • ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫: ময়মনসিংহে (ধর্ম অবমাননার অভিযোগে) দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করে জনতা।
    • ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫: রাজবাড়িতে জনতা অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যা করে।
    • ২৯-৩০ ডিসেম্বর ২০২৫: বজেন্দ্র বিশ্বাসকে (পোশাক কারখানায় কর্তব্যরত অবস্থায়) গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫: শরীয়তপুরে খোকন চন্দ্র দাসকে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং তারপর পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলা হয়। ৩ জানুয়ারি তিনি হাসপাতালে মারা যান।
    • ৫ জানুয়ারি ২০২৬: যশোরে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৫ জানুয়ারি ২০২৬: নরসিংদীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয় শরৎ চক্রবর্তী মণিকে।
    • ১১ জানুয়ারি ২০২৬: এক দল উন্মত্ত জনতা পিটিয়ে মেরে ফেলে বছর আঠাশের সমীর কুমার দাসকে। হামলার পর দুষ্কৃতীরা তাঁর অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
    • ১৬ জানুয়ারি ২০২৬: রাজবাড়ী জেলায় পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানির দাম না দিয়ে পালানোর সময় চলন্ত গাড়িকে আটকাতে গেলে চাপা দেওয়া হয় পেট্রোল পাম্পের কর্মী হিন্দু যুবক রিপন সাহাকে।
    • ১৭ জানুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশের গাজিপুর জেলার কালীগঞ্জে কলা নিয়ে বিবাদের জেরে হিন্দু ব্যবসায়ী লিটন চন্দ্র যোষকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
  • Supreme Court on SSC: এসএসসি মামলায় বয়সে ছাড় নয় এখনই! হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

    Supreme Court on SSC: এসএসসি মামলায় বয়সে ছাড় নয় এখনই! হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্কুল সার্ভিস কমিশনের (Supreme Court on SSC) মামলায় বয়সে ছাড় নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিল, তাতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানিয়েছিলেন, ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যাঁরা সুযোগ পাননি বা যোগ্য কিন্তু চাকরি পাননি, তাঁরা নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বয়সের ছাড় পাবেন। এদিকে সোমবার সেই নির্দেশকেই স্থগিত করল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ।

    বয়সের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার নির্দেশ!

    ২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলায় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court on SSC) জানিয়েছিল, যাঁরা দুর্নীতিতে যুক্ত বা দাগি নন (আনটেন্টেড), তাঁরা বয়সের ক্ষেত্রে ছাড় পাবেন এবং নির্ধারিত বয়ঃসীমা অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যোগ দিতে পারবেন। এই যুক্তি দেখিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কয়েক জন চাকরিপ্রার্থী। ২০১৬ সালের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় তাঁরা ছিলেন না। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির অভিযোগও পাওয়া যায়নি। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে এই নতুন প্রার্থীরা বয়সে ছাড় চেয়েছিলেন। সেই সময় এই মামলার শুনানি হয়েছিল বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে। যার ভিত্তিতে গত ১২ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তাঁদের বয়সের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপরেই মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে।

    শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ

    সোমবার শীর্ষ আদালত এই মামলার সকল পক্ষকেই নোটিস জারি করেছে। শুধুমাত্র যে সকল যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা কর্মরত অবস্থায় চাকরি হারিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেই বয়সের ছাড় প্রযোজ্য় রেখেছে শীর্ষ আদালত। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১৯ মার্চ। তবে পরবর্তী শুনানির আগে সব পক্ষকেই হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court on SSC)। এদিন শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, কলকাতা হাই কোর্টের দেওয়া যোগ্য ও আনসিলেক্টডদের বয়সের ছাড় সংক্রান্ত রায়ে স্থগিতাদেশ দেওয়া হল। সুপ্রিম কোর্ট আপাতত শুধুমাত্র চাকরি হারানো প্রার্থীদের বয়সের ছাড়াই বহাল রেখেছে। বাকিদের জন্য বয়সের ছাড় থাকছে না। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, আগে সুপ্রিম কোর্টের তরফে যে রায় দেওয়া হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল যে যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি করছিলেন, কিন্তু প্যানেল বাতিল হওয়ায় চাকরি চলে গিয়েছে, তাঁরা নতুন পরীক্ষার ক্ষেত্রে বয়সে ছাড় পাবেন। কিন্তু যাঁরা যোগ্য অথচ ওই পরীক্ষায় নির্বাচিত হননি, তাঁদের জন্য বয়সের ছাড়ের কথা বলা হয়নি। সেই কারণেই হাইকোর্টের বয়স সংক্রান্ত ছাড়ের রায়ে স্থগিতদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

  • Bhairav Battalion: প্রজাতন্ত্র দিবস কুচকাওয়াজের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে ‘ভৈরব’ কমান্ডো বাহিনী, জানেন তাদের সম্বন্ধে?

    Bhairav Battalion: প্রজাতন্ত্র দিবস কুচকাওয়াজের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে ‘ভৈরব’ কমান্ডো বাহিনী, জানেন তাদের সম্বন্ধে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্র যখন প্রতিরক্ষা বাহিনীর পুনর্গঠনের ওপর জোর দিচ্ছে, সেই সময়ই আধুনিক যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতীয় সেনাবাহিনী (Indian Army) তাদের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রূপান্তর সম্পন্ন করেছে। এই রূপান্তরের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীতে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘ভৈরব’ লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়নকে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে উদ্ভূত নতুন ধরনের হুমকি মোকাবিলার লক্ষ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অপারেশনাল কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির প্রতীক হল ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন (Bhairav Light Commando Battalion)। কারণ, এই বিশেষ বাহিনীকে আধুনিক যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। আগামী, ২৬ জানুয়ারি, প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির কর্তব্য পথের কুচকাওয়াজের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে নতুন গড়ে ওঠা ভৈরব ব্যাটালিয়নের মার্চপাস্ট।

    ভগবান শিবের ভয়ংকর রূপ ‘ভৈরব’

    ভগবান শিবের ভয়ংকর রূপ ‘ভৈরব’-এর নামে নামকরণ করা এই ইউনিটগুলি সুরক্ষা ও ধ্বংসের প্রতীকী শক্তিকে ধারণ করে—যার মূলে রয়েছে দ্রুততা, নিখুঁত আঘাত এবং ক্ষিপ্র প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা। সেনাবাহিনীর সামগ্রিক আধুনিকীকরণ উদ্যোগের অংশ হিসেবে গঠিত ভৈরব ব্যাটালিয়নগুলি (Bhairav Battalion) প্রচলিত পদাতিক বাহিনী ও অভিজাত প্যারা স্পেশাল ফোর্সের (স্থলসেনার কমান্ডো বাহিনী) মধ্যবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ শূন্যস্থান পূরণ করবে, বিশেষ করে সংবেদনশীল সীমান্তে দ্রুত কৌশলগত অভিযানের জন্য। এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্যই ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ এবং শত্রুপক্ষের ভূখণ্ডের ভেতরে ঘাঁটি ও বাহিনীকে লক্ষ্য করে বাস্তব অভিযানে ড্রোন ব্যবহার করতে সক্ষম।

    ২৫ ব্যাটালিয়ন গড়ার লক্ষ্যে…

    সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী গত বছর ২৬ জুলাই, দ্রাসে কার্গিল বিজয় দিবস উদযাপনের সময় ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন গঠনের ঘোষণা করেছিলেন। বিশ্বব্যাপী সংঘর্ষ এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া শিক্ষার ভিত্তিতে সেনা সদর দফতরের উদ্যোগে ‘ভৈরব’ ব্যাটালিয়নগুলো গঠন করা হয়েছে। উচ্চগতির আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে স্পেশাল ফোর্সের দায়িত্ব পালনের জন্য একটি নিবেদিত বাহিনী গড়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য। একইসঙ্গে, সেনাবাহিনী রুদ্র অল-আর্মস ব্রিগেড ও শক্তিবাণ আর্টিলারি রেজিমেন্টের মতো সহায়ক কাঠামোরও সূচনা হয়। এই ব্রিগেডগুলো অল-আর্মস ফরমেশন— অর্থাৎ যেখানে পদাতিক, মেকানাইজড ইউনিট, যুদ্ধট্যাঙ্ক, আর্টিলারি, স্পেশাল ফোর্স এবং ড্রোন ব্যবস্থার পাশাপাশি নিবেদিত লজিস্টিক ও কমব্যাট সাপোর্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইতিমধ্যেই ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রায় ১৫টি ‘ভৈরব’ ব্যাটালিয়ন গঠন করেছে। এগুলোকে দুই সীমান্তেই বিভিন্ন ফরমেশনে মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিকট ভবিষ্যতে মোট প্রায় ২৫টি ব্যাটালিয়ন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    উদ্দেশ্য ও ভূমিকা

    ভৈরব ব্যাটালিয়নের প্রধান লক্ষ্য হল উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত আঘাত, রেকি (গোয়েন্দা নজরদারি) এবং বিঘ্ন সৃষ্টির অভিযান পরিচালনা করা। সাব-কনভেনশনাল যুদ্ধে উপযোগী করে নকশা করা এই ইউনিটগুলি রাজনৈতিক-সামরিক অভিযানে “লিন অ্যান্ড লিথাল” বিকল্প হিসেবে কাজ করে—যেখানে বড় ফর্মেশনের জটিল লজিস্টিক ছাড়াই তাৎক্ষণিক ‘শক ইমপ্যাক্ট’ প্রয়োজন।
    এই ইউনিটগুলি প্রচলিত পদাতিক ব্যাটালিয়ন (যাদের ভূমিকা দীর্ঘস্থায়ী লড়াই) ও প্যারা স্পেশাল ফোর্স (যারা গভীর, গোপন সীমান্তপার অভিযানের জন্য সংরক্ষিত)—এই দুইয়ের মধ্যবর্তী অপারেশনাল ব্যবধান পূরণ করে। কার্যত, ভৈরব ইউনিটগুলি সীমান্তের এপারের কৌশলগত দায়িত্ব স্পেশাল ফোর্সের কাঁধ থেকে সরিয়ে দেয়, ফলে তারা কৌশলগত ও গভীর অভিযানে মনোযোগ দিতে পারে। এতে ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন ও প্রিসিশন অস্ত্রনির্ভর সংঘাতের জন্য সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি আরও মজবুত হয় এবং চিনের ‘আনরেস্ট্রিক্টেড ওয়ারফেয়ার’ মতবাদসহ আধুনিক হুমকি মোকাবিলা সম্ভব হয়।

    কাঠামো ও সংগঠন

    প্রতিটি ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়নে প্রায় ২৫০ জন সদস্য থাকে, যার মধ্যে ৭–৮ জন অফিসার—যা প্রায় ৮০০ সদস্যের প্রচলিত পদাতিক ব্যাটালিয়নের তুলনায় অনেক ছোট ও অধিক গতিশীল। কর্নেল পদমর্যাদার একজন অফিসারের নেতৃত্বে এই ইউনিটগুলিতে বিভিন্ন শাখার বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত ভূমিকা রয়েছে— যেমন এয়ার ডিফেন্স থেকে ৫ জন, আর্টিলারি থেকে ৪ জন এবং সিগন্যালস থেকে ২ জন। এই বিশেষ বাহিনী গঠনে ‘সেভ অ্যান্ড রেইজ’ ধারণা অনুসরণ করা হয়। অর্থাৎ, সেনাবাহিনীর বিদ্যমান ৪১৫টি পদাতিক ব্যাটালিয়ন থেকে প্রত্যেকটি প্রায় ১১ জন করে জওয়ান নির্বাচিত করা হয়। ফলে নতুন নিয়োগের প্রয়োজন পড়ে না। প্রাথমিক মোতায়েনের মধ্যে রয়েছে—নর্দার্ন কমান্ডের অধীনে তিনটি ইউনিট (লেহে ১৪ কোর, শ্রীনগরে ১৫ কোর এবং নাগরোটায় ১৬ কোর), পশ্চিম সেক্টরের মরুভূমি অঞ্চলের জন্য একটি এবং পূর্ব সেক্টরের পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য একটি। সেনার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হল, পাকিস্তান ও চিন সীমান্তজুড়ে ২৩–২৫টি ব্যাটালিয়ন গঠন। এই ব্যাটালিয়নগুলি সেনার বিদ্যমান ‘ঘাতক’ প্লাটুন (প্রতি পদাতিক ইউনিটে ২০ জনের আক্রমণ দল) থেকে আলাদা এবং সেগুলির বিকল্প হিসেবে নয়।

    প্রশিক্ষণ ও নির্বাচন

    ভৈরব ইউনিটের জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ‘সন্স অব দ্য সয়েল’ নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ভূপ্রকৃতিতে অভ্যস্ত সৈন্যদের অগ্রাধিকার, যাতে অপারেশনাল দক্ষতা বাড়ে। নির্বাচিত সদস্যরা প্রথমে নিজ নিজ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারে ২–৩ মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন। যেখানে গতি, নমনীয়তা ও কৌশলগত দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া হয়। এরপর এক মাসের জন্য অপারেশনাল থিয়েটারে স্পেশাল ফোর্স ইউনিটের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে উচ্চ-প্রভাবযুক্ত অভিযানের উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে মাল্টি-ডোমেন অপারেশন, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং ড্রোন ব্যবহারের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে, যাতে সৈন্যরা স্বয়ংসম্পূর্ণ ও গোপন অভিযানে দক্ষ হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রীয় রাইফেলস ব্যাটালিয়নের মতোই প্রতিস্থাপন ব্যবস্থাপনা করা হয়, যেখানে ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টগুলি নির্বাচন ও প্রস্তুতির দায়িত্ব নেয়।

    সরঞ্জাম ও সক্ষমতা

    ভৈরব ব্যাটালিয়নগুলিকে ড্রোন-সক্ষম দ্রুত আঘাতের অভিযানের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নজরদারি ড্রোন, লয়টারিং মিউনিশন, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সরঞ্জাম, হালকা যান, মর্টার এবং অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল। সম্প্রতি, বাহিনীকে ৫.৫৬×৪৫ মিমি ক্যালিবারের ৪.২৫ লক্ষ ক্লোজ কোয়ার্টার ব্যাটল (CQB) কারবাইন সরবরাহ করেছে ভারত ফোর্জ ও পিএলআর সিস্টেমস। এই কারবাইনগুলো হালকা ও শহুরে/সন্ত্রাস দমন অভিযানের জন্য উপযোগী।পাশাপাশি, জরুরি ভিত্তিতে ১০৪টি জ্যাভেলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল ও ১২টি লঞ্চার কেনা হচ্ছে। ড্রোন-সজ্জিত ‘অশনি’ প্লাটুনের মাধ্যমে ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেইলেন্স অ্যান্ড রিকনাইস্যান্স (ISR) সক্ষমতা জোরদার করা হয়েছে। ন্যূনতম লজিস্টিক সহায়তায় পরিস্থিতিগত সচেতনতা তৈরি ও নিখুঁত আঘাত হানতে এই ইউনিটগুলি বিশেষভাবে দক্ষ—যা হাইব্রিড যুদ্ধপরিস্থিতিতে অত্যন্ত কার্যকর।

    মোতায়েন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

    প্রাথমিকভাবে উচ্চ-হুমকিপূর্ণ এলাকায় মোতায়েনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। লাদাখ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাকিস্তান ও চিন সীমান্তবর্তী সেক্টরগুলিতে ইতিমধ্যেই ইউনিটগুলি কার্যকর। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ছয় মাসের মধ্যে সব ২৫টি ব্যাটালিয়ন কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে, যাতে উত্তর ও পশ্চিম সীমান্তে বিস্তৃত কভারেজ নিশ্চিত হয়। ভবিষ্যতে বৃহত্তর ফর্মেশনের সঙ্গে এই ব্যাটালিয়নগুলির সংযুক্তিকরণ করা হবে, যাতে দ্রুত ও বহুমুখী আক্রমণ সমর্থন করা যায়। এটি সেনাবাহিনীর জনবল সংকট (১ লক্ষের বেশি ঘাটতি) মোকাবিলা এবং পদাতিক ইউনিটে অননুমোদিত সংযুক্তি কমানোর লক্ষ্যকেও সহায়তা করবে।

    অন্যান্য ইউনিটের সঙ্গে সম্পর্ক

    ভৈরব ব্যাটালিয়নগুলি রুদ্র ব্রিগেডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। রুদ্র ব্রিগেড হলো অল-আর্মস ফর্মেশন, যেখানে পদাতিক, মেকানাইজড উপাদান, আর্মার্ড, আর্টিলারি, স্পেশাল ফোর্স এবং ইউএভি একত্রে কাজ করে। বিদ্যমান দুটি পদাতিক ব্রিগেডকে রুদ্র ইউনিটে রূপান্তর করা হয়েছে, যা কোল্ড স্টার্ট ডকট্রিনের আওতায় আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বাড়ায়। এই কাঠামোতে ভৈরব ইউনিটগুলি বিশেষায়িত কমান্ডো সহায়তা দেয় এবং শক্তিবাণ আর্টিলারি ও পদাতিক জুড়ে ডেডিকেটেড ‘অশনি’ ড্রোন প্লাটুনের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করে। এর ফলে ১০ প্যারা (স্পেশাল ফোর্স) ও ৫ প্যারা (এয়ারবোর্ন) ব্যাটালিয়নকে সীমান্তপার অভিযানের জন্য মুক্ত রাখা সম্ভব হয়, যা সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে।

    সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছে—যেখানে দ্রুততা ও প্রযুক্তিগত সমন্বয় আধুনিক হুমকি মোকাবিলার মূল চাবিকাঠি। দ্রুত ও উচ্চ-প্রভাবযুক্ত অভিযানের মাধ্যমে এই ইউনিটগুলি ভারতের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে এবং ভবিষ্যৎ সংঘাতের জন্য ভারতের প্রস্তুতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। সেনাবাহিনী যখন এই ফর্মেশনগুলিকে আরও বিস্তৃত ও পরিমার্জিত করছে, তখন ভৈরব ব্যাটালিয়ন জাতীয় নিরাপত্তায় কৌশলগত উদ্ভাবনের এক শক্তিশালী দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে।

LinkedIn
Share