মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগ্নেয়াস্ত্র সহ এক মাওবাদী নেতাকে বীরভূম (Birbhum) থেকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ১২ বছর ফেরার থেকেও শেষরক্ষা হল না। গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে ফিরতেই মাওবাদী যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতা, এলাকায় সন্ত্রাস-সহ একাধিক অভিযোগ ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হল। ধৃতের নাম বাবন সূত্রধর (৪৮)। তাঁর বাড়ি বীরভূম জেলার ময়ূরেশ্বর থানার বেলিয়া গ্রামের পুকুরপাড়ায়।
সেভেন এমএম পিস্তল বাজেয়াপ্ত! (Birbhum)
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১২ বছর ধরে বাড়িছাড়া ছিলেন ওই মাওবাদী নেতা। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পাশের জেলা মুর্শিদাবাদের নওদা থানায় দেশদ্রোহিতার অভিযোগ ছিল। পুলিশও দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে খুঁজছিল। কয়েক দিন আগে তিনি বীরভূমের (Birbhum) গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে এসেছিলেন। ফেরার আগে থেকেই শাসকদলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন তিনি। এদিকে বাবনের গ্রামে ফেরার খবর পেয়ে তাঁর বাড়ি ঘিরে ফেলে রামপুরহাট থানার পুলিশ। বিশাল বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন রামপুরহাটের এসডিপিও ধীমান মিত্র। বাম আমলে বাবনের বোনকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তারপরই প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন বাবন। এলাকায় সন্ত্রাস ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তাঁর কাছে থেকে সেভেন এমএম পিস্তল এবং পাঁচ রাউন্ড কার্তুজ পুলিশ বাজেয়াপ্ত করে।
কী বললেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা?
তৃণমূলের বুথ সভাপতি অরুণ সূত্রধর বলেন, বাবন তো আমাদের দলের হয়ে কাজ করত। পরিবারে একটি দুর্ঘটনার জন্য ও বিপথে চলে গিয়েছিল। এখন সে নিজেকে শুধরে নিয়েছে। ও যাতে সঠিক বিচার পায়, তা আমরা দেখব।
সংগঠনের মধ্যে বেশি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, স্বীকার করলেন মাওবাদী নেতা
আর মাওবাদী নেতা বাবন সূত্রধর বলেন, মাওবাদী সংগঠনে নাম লেখালেও বোনের প্রতি অবিচারের বদলা এখনও নিতে পারিনি। বেশ কয়েক বছর আমি জেলও খেটেছি। আমার কাছে অস্ত্র ছিল না। পুলিশ তা গুঁজে দিয়েছে। আর মাওবাদীদের মধ্যে আরও বেশি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, খেয়োখেয়ি। তাই, তাদের পথ থেকে পিছিয়ে এসেছি।
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।
Leave a Reply