Panchayat Election: তৃণমূলের একী অবস্থা! পাহাড়ে শাসকদল কত আসনে প্রার্থী দিয়েছে জানেন?

Panchayat_Election_(16)

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাহাড়ের প্রচুর উন্নয়ন করেছে রাজ্য সরকার। এমনই দাবি করেন শাসক দলের নেতা মন্ত্রীরা। অথচ সেই পাহাড়ে দ্বিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে (Panchayat Election) দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার জিটিএ সব আসনেই প্রার্থী দিতে পারল না তৃণমূল। রাজ্যের শাসকদলের পাহাড়ে কেন এই করুণ অবস্থা? যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায়ের  ঘনঘন পাহাড় সফর করে দাবি করেন তিনি পাহাড়ের ঢালাও উন্নয়ন করেছেন। পাহাড়ে এসে রাস্তায় বেরিয়ে দোকানে ঢুকে মোমো বানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের  বাড়িতে ঢুকে দাওয়ায় বসে  চা খেয়েছেন, রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা কোনও মায়ের কোল থেকে শিশুকে কোলে নিয়ে আদর করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায়ের পাহাড়বাসীর কাছে,’ আমি তোমাদের লোক ‘ প্রমাণের এই মরিয়া চেষ্টা ফ্ল্যাশের ঝলকানিতে ঝলমল করছে। কিন্তু, এসব করেও পাহাড়বাসীর মন নাড়া দিতে পারেনি তিনি। পাহাড়বাসীর আস্থা অর্জনে ব্যর্থ বলেই পঞ্চায়েত নির্বাচনে সারা পাহাড়ে ৫০ জন প্রার্থীও খুঁজে পায়নি মমতা বন্দ্যোপাধায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

পাহাড়ে কত আসনে প্রার্থী দিল তৃণমূল?

পাহাড়ে দ্বিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে (Panchayat Election) দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার জিটিএ এলাকায় গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতি মিলিয়ে মোট ১১১১ টি আসন রয়েছে। সেখানে সবমিলিয়ে তৃণমূল মাত্র ৪৯ টি আসনে প্রার্থী দিতে পেরেছে। দার্জিলিংয়ে ৭০ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫৯৮টি আসন রয়েছে। আর পাঁচটি পঞ্চায়েত সমিতিতে ১৫৬ টি আসন রয়েছে। সেখানে গ্রাম পঞ্চায়েতে ২৬ টি ও পঞ্চায়েত সমিতিতে ১৩ টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল। কালিম্পঙে ৪২ টি গ্রাম পঞ্চায়েতে ২৮১ টি আসন এবং  চারটি পঞ্চায়েত সমিতিতে ৭৬ টি আসন রয়েছে। সেখানে গ্রাম পঞ্চায়েতে ১০ টি আসনে প্রার্থী দিলেও পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূলের কোনও প্রার্থী নেই।

পঞ্চায়েত নির্বাচনে (Panchayat Election) পাহাড়ে কেন এই করুণ অবস্থা তৃণমূলের?

পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য,তৃণমূল কংগ্রেস পাহাড়ের মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকদিন আগেই হারিয়েছে নিজেদের ভুলে। কখনও বিমল গুরুং,কখনও অনিত থাপা,বিনয় তামাং কখনও আবার অনিত থাপার লেজ ধরার জন্যই পাহাড় থেকে তৃণমূল হারিয়ে গিয়েছে। বিমল গুরুঙ্গের নেতৃত্বে তীব্র আন্দোলন দমন করতে পুলিশের গুলিতে  ১৭ টি তরতাজা প্রাণ অকালে ঝরে পড়ার ঘটনা পাহাড়বাসী আজও মনে রেখেছে। দেশদ্রোহী মামলায় বিমল গুরুঙ্গকে পাহাড় ছাড়া করে অনিত- বিনয়কে পাহাড়ের নায়ক বানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আবার গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই বিমল গুরুঙ্গকে ‘কার্পেট বিছিয়ে’ পাহাড়ে ফেরার পথ করে দিয়েছেন।পাহাড়ের এক প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা বলেন, চোখের সামনে এ সব ঘটনা দেখে দেখে  মুখ্যমন্ত্রীর দলের প্রতি পাহাড়বাসীর কোনওদিনই আস্থা ছিল না। নীরব ক্ষোভ থেকে পাহাড়ের মানুষ তৃণমূলকে চিরস্থায়ীভাবে প্রত্যাখান করেছে। মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়ে এলে ভয়ে মানুষ ভিড় জমান।

কী বলছে তৃণমূল নেতৃত্ব?

পার্বত্য তৃণমূলের এক নেতা বলেন, দার্জিলিং পুরসভা এবং জিটিএ নির্বাচনেও তৃণমূল সব আসনে প্রার্থী দেয়নি। অনিত থাপার দলের সঙ্গে জোট করেছিল। একারণেই কেউ আর ত়ৃণমূল করতে চায় না। পাহাড়ে  তৃণমূলের অস্তিত্ব নেই।  যদিও দার্জিলিং জেলা ( পার্বত্য) তৃণমূলের সভানেত্রী শান্তা ছেত্রী বলেন, রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ ছিল পঞ্চায়েত নির্বাচনে (Panchayat Election) পাঁচ থেকে ছয় শতাংশ আসনে প্রার্থী দেওয়ার। যেখানে যেখানে আমাদের শক্তি রয়েছে সেখানেই প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই পাহাড়ে ভোট শান্তিতে হোক।

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share