Abhijit Gangopadhyay: ‘‘তৃণমূল আর বেশিদিন থাকবে না’’, ইস্তফা দিয়েই হুঙ্কার অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের

justice_ganguly

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে জল্পনার অবসান, বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগদানের কথা ঘোষণা করলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Gangopadhyay)। বিজেপিতে যোগদানের ঘোষণার পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘‘তৃণমূল আর বেশিদিন থাকবে না।’’ সংবাদমাধ্যমের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এও জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী হতে তিনি ভয় পান না। এদিন শাসক দলের এক নেতাকে ‘তালপাতার সিপাই’ বলে কটাক্ষ করেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Gangopadhyay)। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, ওই নেতা আসলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর (অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়) কটাক্ষ, ‘‘তালপাতার সিপাই কোন যুদ্ধে জিতেছেন জানিনা!’’ পাশাপাশি তিনি এও জানিয়েছেন, ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্র থেকে তিনি লড়তে ভয় পান না। এর পাশাপাশি দক্ষিণ কলকাতা আসনে দল তাঁকে প্রার্থী করলে লড়তে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি।

কেন অন্য কোনও দল নয়?

প্রসঙ্গত, রবিবারই অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Gangopadhyay) জানিয়েছিলেন, তিনি বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দিতে চলেছেন। কিন্তু কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন তা এদিন স্পষ্ট করেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সিপিএম-এ যোগ না দেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘‘আমি ধর্মে বিশ্বাস করি, ঈশ্বরে বিশ্বাস করি, তাই সিপিএম-এ যাইনি।’’ অন্যদিকে কংগ্রেস দলকে পারিবারিক জমিদারি বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। তৃণমূল প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘‘এটাকে কোনও রাজনৈতিক দল বলেই মনে করি না আমি, ওটা একটা যাত্রাপালা যার নাম- ‘মা মাটি মানুষ’।’’

তৃণমূলের শিক্ষা সংস্কৃতি ও বেড়ে ওঠার রীতির মধ্যে অনেক ত্রুটি রয়েছে

তৃণমূলের শিক্ষা সংস্কৃতি ও বেড়ে ওঠার রীতির মধ্যে অনেক ত্রুটি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিজেপিতে যোগদানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূলের মতো দুষ্কৃতী দলের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বিজেপির মতো সর্বভারতীয় দল দরকার।’’ তিনি এও জানিয়েছেন, বিজেপির ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব যা সিদ্ধান্ত নেবেন, তিনি সেটাই মেনে চলবেন। আর বিজেপি বলেছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা জিরো টলারেন্স।

কীভাবে বিজেপিতে?

কখন মনস্থির করলেন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে? এব্যাপারে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Gangopadhyay) বলেন, ‘‘আমি বিজেপিতে যাই, সেটা দুতরফেরই সিদ্ধান্ত। বিজেপির তরফ থেকে প্রস্তাব এসেছিল। আমিও এই বিষয়টা নিয়ে আগেই ভাবনাচিন্তা করেছিলাম। আমি সাত দিন ধরে ছুটিতে ছিলাম। আমি শেষ ওই সাত দিনেই চিন্তাভাবনা করেছি।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘বিজেপির সঙ্গে আমার আর আমার সঙ্গে বিজেপি শেষ ৫-৬ দিনের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে। আমি আদালতে ৭ দিন ছুটি নিই। এই ছুটি নেওয়ায় ক্ষতি কিন্তু আমারই হয়। কল্যাণ কিংবা কুণালের কিন্তু হয়নি ক্ষতি। যাতে কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে, তার জন্যই ছুটি নিয়েছিলাম। শুধু গতকাল আমি কোর্টে বসেছি, কতগুলো মামলা ছেড়ে দিতে হবে বলে।’’

রাজনীতিতে আসার অনুপ্রেরণা তৃণমূল!

তিনি আরও বলেন, ‘‘তৃণমূলই আমাকে রাজনীতিতে আসার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। শাসকদল আমাকে নানাভাবে অপমান করেছে। শাসকদলের মুখপাত্ররা আমাদের অপমানজনক মন্তব্য করেছেন। বিজেপিই তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছে। বিজেপি সর্ব ভারতীয় পার্টি। তাই বিজেপিতে যোগ দিয়েছি।’’

 

দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share