Nadia: স্বাধীনতা দিবসে শাড়িতে ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’ ফুটিয়ে তুলে শ্রদ্ধা নদিয়ার তাঁতশিল্পীর

Nadia_(6)

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক সময় তিনি ছিলেন সামান্য হস্তচালিত তাঁতি। নিজের উৎপাদনের কাপড় কলকাতার বিভিন্ন অলিগলিতে ফেরি করে বিক্রি করা মানুষটি আজ নদিয়া জেলার সাত হাজার হস্তচালিত তাঁত শিল্পীর অবলম্বন। তিনি নদিয়ার (Nadia) শান্তিপুরের ফুলিয়ার বীরেন কুমার বসাক। হস্তচালিত তাঁত শিল্পের ধারক, বাহক হিসাবে এখন সকলেই তাঁকে একনামে চেনেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজ্যপাল, দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি সকলের কাছে প্রশংসিত তিনি। রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পদ্মশ্রী সহ বিভিন্ন জাতীয়, আন্তর্জাতিক পুরস্কার রয়েছে তাঁর সংগ্রহে। তিনি শুধু একাই এগিয়ে চলেছেন তাই নয়, ২০১৭-১৮ এবং ১৯ সালের জাতীয় পুরস্কার এ বাংলায় ঘোষিত হয় মোট আটজনের নাম, যার মধ্যে বীরেনবাবুর পাঁচজন ছাত্র রয়েছেন সেই তালিকায়।

কোন কোন ব্যক্তিত্বদের অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে শাড়িতে?

সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর, ক্রীড়া জগতের যুবরাজ সৌরভ গাঙ্গুলী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র দামোদর মোদি সহ বিখ্যাত মানুষদের পোর্ট্রেট হাতে চালানো তাঁতে, জামদানি বুটিকের আদলে তিনি হুবহু ফুটিয়ে তুলেছেন অবয়ব। যার মধ্যে বেশিরভাগই তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে নদিয়ার এই তাঁত শিল্পীর (Nadia)। অন্যদিকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজি নজরুল ইসলাম, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এ পি জে আব্দুল কালাম, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু, জাতির জনক মহাত্মা গান্ধি, সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ, জাতীয় সেবিকা মাদার টেরেসা সহ বহু মহামানবের প্রতিকৃতি তাঁর অত্যন্ত কর্মদক্ষতা শিল্প নিপুণতা এবং ধৈর্যের ফলে সমাদৃত হয়েছে সারা দেশ জুড়ে।

“আজাদি কা অমৃত মহোৎসব” ফুটে উঠেছে তাঁতের শাড়িতে

স্বাধীনতা দিবস হোক বা প্রজাতন্ত্র দিবস, সরস্বতী পুজো, কিংবা বিশ্ব হস্ত চালিত তাঁত দিবস, কিংবা কোনও মহামানবের জন্ম অথবা মৃত্যু দিন। তিনি শ্রদ্ধা জানান ফাইন আর্ট জামদানি বুননের মাধ্যমে। এবারে স্বাধীনতার ৭৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে ছ মাস আগে থেকেই, তার সুদক্ষ হস্তচালিত তাঁত শিল্পীদের দিয়ে অসাধারণ শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তুলেছেন সিল্ক বারো হাত শাড়ির উপর। যেখানে আঁচলে রয়েছে ভারতবর্ষের মানচিত্র, এবং গত বছর ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের গৃহীত “আজাদি কা  অমৃত মহোৎসব” লেখা এবং লোগো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অন্যদিকে ৩৪ টি বিভিন্ন স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং দেশ বরেণ্য মহামানবের পোর্ট্রেট বুটি হিসাবে উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসাবে বুননের  মাধ্যমে সাজানো রয়েছে সমগ্র শাড়িতে।

কী বললেন বীরেনবাবু?

বীরেনবাবু বলেন, এই শাড়িটি আমি বিক্রির উদ্দেশ্যে তৈরি করিনি। দেশের ৭৬তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আমার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। আমার, ইচ্ছা দিল্লির ন্যাশনাল মিউজিয়ামে এই শাড়িটি সংরক্ষিত হোক সকলের দেখার উদ্দেশ্যে। সমগ্র পরিকল্পনা আমার হলেও প্রথমে ছবি আঁকার পর থেকে এই মহৎ কর্মকাণ্ড সম্পন্ন হয়েছে আমার কাছে থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নদিয়ার (Nadia) বিভিন্ন প্রান্তের হস্ত চালিত তাঁত শিল্পীদের শিল্প উৎকর্ষতায়।

 

দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share