26/11 Convict: ‘‘ভারতের বড় জয়’’, ২৬/১১ হামলার অন্যতম চক্রী তাহাউরকে প্রত্যর্পণে সায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের

25_01_2025-tahawwur_rana_extradition_2025125_92013

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাস দমনে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বড় জয় ভারতের। ২৬/১১ মুম্বই হামলায় (26/11 Convict) অভিযুক্ত তাহা‌উর রানাকে (Tahawwur Rana) ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার অনুমতি দিল আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট। ফলে তাঁকে ভারতে ফেরাতে আর কোনও বাধা রইল না।  ২০০৮ সালে মুম্বইয়ে জঙ্গি হামলায় তাঁর যোগ পেয়েছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক তাহাউর রানাকে প্রত্যর্পণের চেষ্টা চালাচ্ছিল ভারত। আইনজীবী উজ্জ্বল নিকম  এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর কথায় সন্ত্রাসবাদ রুখতে এটা ভারতের বড় জয়।

আইনি লড়াইয়ে জয় ভারতের

আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টই ছিল তহাউর রানার শেষ ভরসা। এর আগে একাধিক নিম্ন আদালতে আইনি লড়াই হেরে যান তিনি। সান ফ্রান্সিসকোতে নর্থ সার্কিট আমেরিকান কোর্ট অফ আপিলেও হেরে গিয়ে শেষ পর্যন্ত মার্কিন শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মুম্বই হামলার অন্যতম অভিযুক্ত তাহাউর। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তাঁকে এ দেশে প্রত্যর্পণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। প্রথমে আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তা বিলম্বিত হচ্ছিল। প্রথমে নিম্ন আদালতে, তার পরে ওয়াশিংটনের প্রাদেশিক আদালতে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে আবেদন করেন রানা। কোথাও সুরাহা হয়নি। সান ফ্রান্সিসকোর আপিল আদালতেও প্রত্যর্পণের পক্ষেই রায় গিয়েছে। এ বার আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টও রানাকে প্রত্যর্পণের অনুমতি দিল। ১৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাহাউর রানা। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর দিনই তাহাউর রানার রিট পিটিশন খারিজ করে দেয় মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট।

প্রত্যর্পণের পথ প্রশস্ত

মুম্বই হামলার অন্যতম অভিযুক্ত ডেভিড কোলম্যান হেডলির সঙ্গী রানাকে পাওয়ার জন্য প্রায় দেড় দশক আগে ওয়াশিংটনের কাছে আবেদন জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। কিন্তু তাতে সায় মেলেনি। বরং পরবর্তীকালে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে যান। যদিও ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর পাকিস্তান থেকে আগত ১০ লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গির মুম্বইয়ে হামলার পরিকল্পনায় রানা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ছিল ভারতের। পরবর্তী সময়ে দ্বিপাক্ষিক বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে আবার রানাকে আমেরিকার থেকে ফেরত চায় ভারত। তার পরে ২০২০ সালের জুন মাসে মুম্বই নাশকতার ঘটনাতেই ফের রানাকে গ্রেফতার করে আমেরিকার পুলিশ। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালতে রানার তরফে জামিনের আবেদন জানানো হলেও বছর দেড়েক আগে তা খারিজ হয়ে গিয়েছিল। ফলে তাঁর প্রত্যর্পণের পথ প্রশস্ত হয়।

দোষী সাব্যস্ত তাহাউর

ইতিমধ্যেই আমেরিকার ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট তাহাউরকে দু’টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। প্রথমত, বিদেশি জঙ্গি সংগঠনকে মদত। দ্বিতীয়ত, ডেনমার্কে একটি সন্ত্রাস হামলার ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকা। তবে, ভারতে হামলার ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদীদের সাহায্যের যে অভিযোগ উঠেছিল, তাতে তাহাউরকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। প্রথম দু’টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় সাত বছর জেল খাটেন তাহাউর। তাঁকে মুক্তি দেওয়ার কথাবার্তা শুরু হতেই প্রত্যর্পণের আর্জি জানায় ভারত। নয়াদিল্লির যুক্তি ছিল, মুম্বই সন্ত্রাস হানায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ভারতের মাটিতে তাঁর বিচার হওয়া প্রয়োজন। ভারতের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে প্রথমে এক্সট্রাডিশন কোর্ট, তার পর সেখান থেকে ধাক্কা খেয়ে মার্কিন আপিল আদালতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানেও ধোপে টেকেনি তাঁর দাবি। ফলে সুপ্রিম কোর্টই একমাত্র রাস্তা ছিল তাঁর হাতে। এ বার বন্ধ হল সমস্ত রাস্তা। 

আরও পড়ুন: ১৭৯টি সম্প্রদায়কে এসসি, এসটি এবং ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ নীতি আয়োগের

ভারতে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু

২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বই হামলায় ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ছ’জন মার্কিন নাগরিকও। ওই হামলায় যোগ পাওয়া গিয়েছে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক রানার। বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন ৬৪ বছর বয়সি রানা। জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের কাছে রানার আবেদন খারিজ করে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছিল মার্কিন সরকারও। মার্কিন সলিসিটর জেনারেল এলিজাবেথ বি প্রিলোগার আগেই জানিয়েছিলেন যে, এই মামলায় প্রত্যর্পণ থেকে অব্যাহতি পাবেন না রানা। এবার শীঘ্রই তাঁকে ভারতে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। আইনজীবী উজ্জ্বল নিকম বলেন, ‘‘এটি ভারতের জন্য একটি বড় জয়। তাহাউর রানা হলেন সেই ব্যক্তি যিনি মুম্বই হামলার পিছনে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অনেক তথ্য জানেন।’’

ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার মসনদে দ্বিতীয়বার বসার পরই ২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম অভিযুক্ত তাহাউর রানাকে ভারতের হাতে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। ভারত-মার্কিন বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এটা ভারতের অন্যতম বড় জয় বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

 

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  WhatsappFacebookTwitterTelegram এবং Google News পেজ।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share