TMC: “কংগ্রেসের ভোটে আমি জয়ী হইনি”! তৃণমূলে যোগ দিয়ে বললেন সাগরদিঘির বিধায়ক

TMC_(37)

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাগরদিঘি উপ নির্বাচনে তৃণমূলকে (TMC) ধরাশায়ী করে কংগ্রেস প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস জয়ী হয়েছিলেন। বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট গড়েই এই বাজিমাত হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলের মত। সাগরদিঘিকে রোল মডেল করেই কংগ্রেস সামনের পঞ্চায়েত, লোকসভা ভোটে হারানো জমি ফিরে পাওয়ার মরিয়া চেষ্টা করছিল। উপ নির্বাচনের ফল ঘোষণার তিনমাস কাটতে না কাটতেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে সোমবার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন সাগরদিঘির বিধায়ক কংগ্রেসের বাইরন বিশ্বাস। পশ্চিম মেদিনীপুরে অভিষেকের নবজোয়ারের দলীয় ক্যাম্পে হাজির হয়ে তিনি তৃণমূলে যোগদান করেন। যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

কী বললেন বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস?

মন্ত্রী সুব্রত সাহার মৃত্যুর পর চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি সাগরদিঘিতে উপনির্বাচন হয়। আর সেই উপনির্বাচনে তৃণমূলের (TMC) প্রার্থী ছিলেন দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, কংগ্রেসের প্রার্থী ছিলেন বাইরন বিশ্বাস এবং বিজেপির প্রার্থী ছিলেন দিলীপ সাহা। ২ মার্চ ফল ঘোষণা হয়। সেই উপনির্বাচনে তৃণমূলকে হারিয়ে কংগ্রেস প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস জয়ী হন। এদিন ঘাটালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যাম্প অফিসে গিয়ে তিনি তৃণমূলে যোগদান করেন। বাইরন বলেন, “আরও বেশি করে উন্নয়ন করতেই আমি তৃণমূলে (TMC) যোগ দিয়েছি। সাগরদিঘির মানুষের কথা ভেবেই আমি দল বদলের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি বরাবরই তৃণমূলে ছিলাম। টিকিট না পেয়ে কংগ্রেসে গিয়েছি। আর তৃণমূলের লোকজন ভোট দিয়েছে বলেই এত বিপুল ভোটে আমি জয়ী হয়েছি।” তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, সাগরদিঘি তথা রাজ্যজুড়েই তাঁকে নিয়ে এই চর্চা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাসঘাতকতা করে থাকলে সেটা সময় বলবে। আমার বিশ্বাস, পরে আবার ভোট হলে আমি বেশি ভোটে জিতব। আর কংগ্রেসে থেকে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে পারছিলাম না। আমি তো কংগ্রেসের ভোটে জয়ী হইনি। আগে মানুষের জন্য কাজ করেছি। তাঁদের ভোটে আমি জয়ী হয়েছি।”

কী বললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি?

প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, “কংগ্রেস দল বাইরন বিশ্বাসকে চিনিয়েছে। আগে তৃণমূল (TMC) তোমার কাছে যায়নি। তোমার বাজারদর তৈরি করার পর তোমাকে নিয়ে বেচাকেনা হয়েছে। তাই, তুমি কংগ্রেস ছেড়ে চলে গিয়েছ। তাতে আমাদের আপত্তি নেই। তবে, কংগ্রেসকে গালিগালাজ কোরো না। আর বাইরনের মতো এই জেলা তথা রাজ্যের অনেক বিধায়ক তৃণমূলে গিয়েছে, তাতে কংগ্রেস শেষ হয়ে যায়নি। তৃণমূলের নগ্ন চেহারা আরও প্রকট হয়ে গেল। আর এতে আমাদের আরও বেশি জেদ চেপে গেল। কংগ্রেসের অবস্থা এখন অনেক ভালো। আমাদের এখন আর কেউ থামাতে পারবে না।”

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share