Suvendu Adhikari: “চা বাগানের শ্রমিকদের কাজের নথি এসআইআরে প্রামাণ্য”, শুভেন্দুর আবেদনে সিলমোহর কমিশনের

the-work-records-of-tea-garden-workers-are-authentic-in-the-sir-silmohor-commission-said-in-response-to-shuvendus-petition

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চা বাগানের নথিতেই ভোটার তালিকায় (SIR) তোলা যাবে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় পরিচয় এবং বাসস্থানের নথি হিসেবে চা বাগান এবং সিনকোনা বাগানের কর্মসংস্থানের রেকর্ড দেখানো যাবে। এবার মান্যতা দিলেন নির্বাচন কমিশন। বিজেপির তরফে উত্তরবঙ্গের চা বাগান এলাকায় এই দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে আগেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু আধিকারী (Suvendu Adhikari) তুলেছিলেন। এবার কমিশন মান্যতা দিয়েছে। গতকাল ১১ জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হয়েছে এই নির্দেশিকা।

ভোট আপনাদের প্রকৃত শক্তি (Suvendu Adhikari)

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে বসবাসকারী জনজাতি, বনবাসী এবং বাগান শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে নথিগত সমস্যায় রয়েছে। এই জন্য তাঁদের ভোটাধিকার থেকেও বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। রাজ্য সরকার এই এলাকার মানুষকে বহুদিন ধরে ভোটাধিকার দেয়নি। বঞ্চনার শিকার শ্রমিকরা। নির্বাচন কমিশনের (SIR) সিদ্ধান্ত একটি বড় জয় এবার। এখন থেকে চা বাগান বা সিনকোনা বাগানে কর্মসংস্থানের নথি ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। আপানাদের ভোট আপনাদের প্রকৃত শক্তি।”

ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ আমল থেকেই কাজে নিযুক্ত

গত ৬ জানুয়ারি শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। এই চিঠিতে চাবাগান এবং সিনকোনা বাগানের কর্মসংস্থানের রেকর্ডকে পরিচয় ও বাসস্থানের সরকারি প্রমাণ হিসবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানান। প্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫০ অনুযায়ী সার্বজনীন প্রাপ্ত বয়স্ক ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে অন্তর্ভুক্তমূলক ও সঠিক ভোটার তালিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূল সরকার নানা টালবাহানা করে এই এলাকার জনগণকে প্রাপ্য ভোটাধিকার (SIR) থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে। শুভেন্দু বলেন, “উত্তরবঙ্গের বহু চা বাগান এলাকায় বহু শ্রমিকেরা পূর্বপুরুষরা ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ আমালে এই অঞ্চলে কাজ শুরু করেছিলেন। সেই সময়ের সরকারি নথির অভাব থাকায় একমাত্র নির্ভরযোগ্য রেকর্ড হিসেবে বাগান মালিকের নথিই সংরক্ষিত ছিল। স্বাধীনতার পর বংশ পরম্পরায় এই নথিগুলি তাঁদের পরিচয়, বাসস্থান এবং পরিবারের তথ্য। শ্রম সংক্রান্ত কল্যাণমূলক প্রকল্পে এই নথিগুলি কার্যত প্রমাণপত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।”

কোন কোন এলাকায় প্রযোজ্য

রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের সিইও দফতর একটি নির্দেশিকা পাঠিয়ে জানিয়েছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম তুলতে নির্দিষ্ট বাগানের কর্মসংস্থান নথি দেখালেই হবে। তবে সেই সঙ্গে দিতে গবে বাসস্থানের বৈধ প্রমাণপত্রও (SIR)। এগুলিদিলেই ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে আর কোনও সংশয় থাকবে না। এই নির্দেশিকা কেবলমাত্র উত্তরবঙ্গের সাত জেলা যথা- দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং কোচবিহারের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। এই এলাকার চা বাগান এবং সিনকোনা চা বাগানের জন্যই বেশি পরিমাণে প্রযোজ্য হবে।

আগে ১১ নথি ছিল

যদিও আগে নির্বাচন কমিশন ১১টি নথির কথা জানিয়েছিল। তাঁর মধ্যে আধার কার্ড এবং বিহারের এসআইআর নথি গ্রহণের কথা বলেছেন। এই এলাকার শ্রমিকরা বংশ পরম্পরায় উত্তরসূরী। নির্বাচন কমিশন শ্রমিকদের ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য কাজের কাগজে সিলমোহর দিয়ে উত্তরবঙ্গের সাত জেলার জেলাশাসককে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে।

প্রান্তিক এলাকার মানুষের সুবিধা

নির্বাচন কমিশন (SIR) পশ্চিমবঙ্গের সম্প্রতি মানুষের কথা ভেবে এসআইআর শুনানিতে প্রক্রিয়ায় আরও একটি বদল এনেছে কমিশন। রাজ্যের বিচ্ছিন্ন জনবসতি এবং প্রান্তিক মানুষের স্বার্থে ডিসেন্ট্রালইজড হিয়ারিং বা বিকেন্দ্রিত শুনানির অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। চা বাগানের কর্মীদের জন্য নির্বাচন কমিশন এই বিশেষ নথিকেও এখন মান্যতা দিয়েছে। প্রান্তিক মানুষের কথা ভেবে এসআইআর শুনানিতে এই নতুন নির্দেশিকা ব্যাপক ভাবে সহযোগিতা করবে বলে অনেকেই মত প্রকাশ করেছেন।

ভোট শতাংশের তফাৎ মাত্র ১০ শতাংশ

রাজ্যে এসআইআর নিয়ে প্রথম থেকেই  তৃণমূলের আপত্তি। খসড়া তালিকায় ইতিমধ্যে বাদ গিয়েছে ৫৮ লক্ষের বেশি নাম। লোকসভা ভোটে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির ভোট শতাংশের তফাৎ মাত্র ১০ শতাংশ। অপরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক সভায় নাম বাদ পরা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। দিল্লিতে মুখ্যনির্বাচন কমিশনার জ্ঞাণেশকুমারের সঙ্গে দেখা করে কমিশনকে নিশানা করেছিলেন অভিষেক। তবে পাল্টা বিজেপিও অবৈধ ভোটার প্রসঙ্গে সরব হয়েছে। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গাদের একজনের নামও তালিকায় থাকবে না বলে হুঁশিয়ারই দিয়েছে বঙ্গ বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share