মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামনেই ২০২৬ সালের বিধানসভা। ইতিমধ্যে বীরভূমে (Birbhum) নতুন রেলপথ বিস্তারকে কেন্দ্র করে চরম শোরগোল পড়েছে। সিউড়িতে গত ১০০ বছরে নতুন রেললাইন তৈরি হয়নি বলে আক্ষেপ করেন এলাকাবাসী। অবশেষে, বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের অনুরোধে সিউড়ি থেকে ঝাড়খণ্ডের নলা পর্যন্ত ৭৩ কিমি রেল লাইনের সমীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে রেল মন্ত্রক (Ministry of Railways)। যার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা। সেই রেল লাইন (নিয়েই শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধী তরজা। তৃণমূল অবশ্য বিজেপির যুক্তি মানতে নারাজ।
আমার কাঠবিড়ালীর ভূমিকা থাকল (Birbhum)
বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “রেল মন্ত্রক অনুমোদন দিয়েছে আমার প্রস্তাবে। আমার মতো ক্ষুদ্র এক বিজেপি নেতার কথায় রেল মন্ত্রক অনুমোদন দিয়েছেন। এটাতে আমি ভীষণ খুশি। মাননীয় রেলমন্ত্রী শ্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব মহাশয়কে হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন। আমার মতো এক সাধারণ কার্যকর্তার নিজের এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রয়াসকে এভাবে সমর্থন করার জন্য। গত কাল রেলবোর্ড সিউড়ি-বক্রেশ্বর-রাজনগর-নলা নতুন রেল লাইনের ফাইনাল লোকেশন সার্ভে বা সমীক্ষার কাজ এবং ডিটেল প্রজেক্ট রিপোর্ট তৈরির কাজে সম্মতি দিয়েছে। সেই অনুমোদনপত্র শেয়ার করলাম। আজ রাজনগরের মানুষের কাছে বড় আনন্দের দিন। গত ১০০ বছরে যা হয়নি এবার তা হবে। নরেন্দ্র মোদী সরকারই করবে। আপনাদের আশীর্বাদ প্রার্থনা করি। রাজনগরে রেল চলবে তা এক ঐতিহাসিক ক্ষণ, তাতে আমার কাঠবিড়ালীর ভূমিকা থাকল সেটা ভেবে আমারও আজ আনন্দের দিন।”
মোট ১৭৮ কিমি দৈর্ঘ্যের তিনটি নতুন রেল লাইন
রেল মন্ত্রক (Ministry of Railways) রাজ্যের রেল পরিকাঠামো উন্নয়নে আরও এক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রাজ্যে মোট ১৭৮ কিমি দৈর্ঘ্যের তিনটি নতুন রেল লাইন প্রকল্পের জন্য চূড়ান্ত লোকেশন সার্ভের অনুমোদন দিয়েছে রেলমন্ত্রক। যে তিনটি রুটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তা হল সিউরি—নালা ভায়া রাজনগর ও বক্রেশ্বর (Birbhum) ৭৩ কিমি। বক্রেশ্বরধাম একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থ কেন্দ্র, এতদিন শুধু সড়ক যোগাযোগ ছিল, এবার থেকে রেলপথের মাধ্যমে সংযুক্ত হবে। আরামবাগ-খানাকুল ২৭ কিমি এবং রসুলপুল-জঙ্গলপাড়া ৭৮ কিমি। এই তিন রেলপথে বীরভূম, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমান সংলগ্ন বিস্তীর্ণ অঞ্চলে রেল যোগাযোগ আরও দৃঢ় হবে।

Leave a Reply