Uttar Pradesh: ৩০ বছর ধরে জাল পরিচয়পত্র নিয়ে ভারতে বাস করছিল পাকিস্তানি মা-মেয়ে! চরবৃত্তির উদ্দেশ্যে?

Uttar Pradesh Pakistani mother daughter illegal stay forged indian documents isi links

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মা ও মেয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মেরঠের পুলিশ। অভিযোগ, পাকিস্তানের নাগরিক হয়েও তারা প্রায় তিন দশক ধরে ভারতে বসবাস করছে। সমাজকর্মী রুখসানার অভিযোগ, মা ও মেয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ভারতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা জাল আধার কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড এবং ভারতীয় পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছে, পাকিস্তানের নাগরিকত্বও হাতছাড়া করেনি।

পুলিশ সুপারের বক্তব্য (Uttar Pradesh)

সংবাদ মাধ্যমে কথা বলতে গিয়ে পুলিশ সুপার অবিনাশ পাণ্ডে জানান, দিল্লি গেট এলাকায় বসবাসকারী ফারহাত মাসুদ নামে এক ব্যক্তির সম্পর্কে তাঁরা তথ্য পান। জানা যায়, সে পাকিস্তানে গিয়ে সাবা নামে এক মহিলাকে বিয়ে করে। ওই দম্পতির একটি কন্যাসন্তান পাকিস্তানেই জন্মগ্রহণ করেছে। সাবা ও তার মেয়ে, উভয়েই পাকিস্তানের নাগরিক। এসএসপি জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে যে অভিযুক্তরা বৈধ ভারতীয় নাগরিকত্ব ছাড়াই ভারতে বসবাস করছিলেন। সিটি সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশের পূর্ববর্তী অনুসন্ধানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় একটি আনুষ্ঠানিক এফআইআর দায়ের করা হয়। বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ চলছে।

প্রধান অভিযুক্ত

এফআইআরে সাবা মাসুদ ওরফে নাজি ওরফে নাজিয়া এবং তার মেয়ে আইমান ফারহাতকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতারণা, জালিয়াতি, জাল নথির ব্যবহার এবং অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শনের সঙ্গে সম্পর্কিত ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী জানান, সাবা পাকিস্তানে ফারহাত মাসুদকে বিয়ে করে। আইমানের জন্ম হয় ১৯৯৩ সালের ২৫ মে, পাকিস্তানে। তিনি আরও বলেন, “সাবা ভারতে ফিরে এলে আইমান সাবার পাকিস্তানি পাসপোর্টে ভারতে ঢুকে পড়ে, যেখানে তার নাম ও জন্মতারিখ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা রয়েছে।” রুখসানার দাবি (Uttar Pradesh), পাকিস্তানের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও মা ও মেয়ে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় ভারতীয় নাগরিকত্ব অর্জন না করেই মেরঠে বসবাস করছে। আইমান এ দেশেই পড়াশোনা করে, যদিও কখনওই বৈধ নাগরিকত্বের আবেদন করেনি। ভারতীয় পাসপোর্ট জোগাড়ের উদ্দেশ্যে জাল ও মনগড়া নথি প্রস্তুত করা হয়। সাবা মাসুদ ও নাজিয়া মাসুদ – এই দুই ভিন্ন নামে দুটি পৃথক ভোটার কার্ড জোগাড় করে। অভিযোগকারীর দাবি, এসব কর্মকাণ্ড পরিচয় গোপন ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে প্রতারণা করার শামিল।

নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ রুখসানার

রুখসানা তাঁর অভিযোগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগও উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, “অভিযুক্তরা জাল পাসপোর্ট ও নথির ভিত্তিতে একাধিকবার পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশে ঘুরেছে। সাবার বাবা হানিফ আহমেদ পাকিস্তানের নাগরিক।” রুখসানার দাবি, সে নাকি আইএসআইয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যার ফলে বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে যথেষ্ট সংবেদনশীল। অভিযোগকারীর দাবি, অভিযুক্তরা প্রকৃত পরিচয় গোপন করে দিল্লির সেনা সদর দফতর ও বিভিন্ন সরকারি দফতরে যাতায়াত করত। এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগকারীকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং অভিযুক্তরা রাজনৈতিক প্রভাব ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কথাও জানায়। তার জেরে কেউ তাদের সঙ্গে বিশেষ যোগাযোগ রাখেননি। যদিও শেষ রক্ষা হল না। শেষমেশ ধরাই পড়ে গেলেন (Uttar Pradesh)।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share