Israels: ভারতকে সঙ্গে নিয়ে হেক্সাগন প্রস্তাব নেতানিয়াহুর, প্রমাদ গুণছে পাকিস্তান!

Israels hexagon of alliances with india triggers panic in Pakistan

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্যালেস্তাইন প্রশ্নে ইসলামাবাদের আপসহীন অবস্থান এবং ইজরায়েলের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা ‘হেক্সাগন অব অ্যালায়ান্সেস’ প্রস্তাবের (Israels) বিরোধিতাকে আরও উসকে দিল। ইজরায়েল প্রস্তাবিত নতুন কৌশলগত কাঠামো ‘হেক্সাগন অব অ্যালায়ান্সেসে’ ভারতকে প্রকাশ্যে একটি (Pakistan) গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এতে পশ্চিম এশিয়া এবং তার বাইরেও পরিবর্তিত শক্তির সমীকরণ নিয়ে ইসলামাবাদের গভীর অস্বস্তি স্পষ্ট হয়েছে।

ইসলামাবাদের প্রতিক্রিয়া (Israels)

ইসলামাবাদের প্রতিক্রিয়া ছিল অস্বাভাবিক দ্রুত এবং কঠোর ভাষায়। মঙ্গলবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সেনেট ‘হেক্সাগন অব অ্যালায়ান্সেস’ প্রত্যাখ্যান করে একটি প্রস্তাব পাস করেছে বলে পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। সেনেট এই পরিকল্পনাকে অভিহিত করেছে “ইজরায়েলি দখলদার শক্তির নেতৃত্বের এক নিকৃষ্ট প্রবণতা, যা রাজনৈতিক ও আদর্শের ভিত্তিতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ন করতে চায়।” প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) পালওয়াশা মোহাম্মদ জাই খান। প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়, যা এই উদ্যোগের নিন্দায় বিরল রাজনৈতিক ঐক্যের ইঙ্গিত দেয়। প্রস্তাব নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পিপিপির এক নেতা বলেন, “ইসলামাবাদ ইজরায়েলি নেতৃত্বের অব্যাহত উসকানিমূলক পদক্ষেপ ও বিবৃতির তীব্র নিন্দা জানায়, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে, বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলির বিরুদ্ধে জোট গঠনের সাম্প্রতিক বক্তব্য (Israels)।”

পাকিস্তানের সেনেটে নিন্দা

পাকিস্তানের সেনেট শুধু জোট কাঠামোর নিন্দাতেই থেমে থাকেনি। ডন পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা “ভ্রাতৃপ্রতিম ইসলামি দেশগুলির সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা খর্ব করার যে কোনও ইজরায়েলি প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে (Pakistan)।” প্রস্তাবে ইজরায়েলের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ—সোমালিল্যান্ডকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত—নিয়েও তীব্র সমালোচনা করা হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইজরায়েল বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়। এর পর পাকিস্তান অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) এবং আরও ২০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে একযোগে এই পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করে, একে “আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি প্রকাশ্য ও স্পষ্ট অবজ্ঞা” বলে অভিহিত করে। সেনেট প্যালেস্তাইনের “অবিচ্ছেদ্য” আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের প্রতি ইসলামাবাদের “অটল” সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে এবং ১৯৬৭-পূর্ব সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি “স্বাধীন, কার্যকর ও ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত” প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়। পাশাপাশি “অধিকৃত অঞ্চল” থেকে পূর্ণ ইজরায়েলি প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয় (Israels)।

‘হেক্সাগন অব অ্যালায়ান্সেস’

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের আগে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের কৌশলগত ভিশনের অংশ হিসেবে ‘হেক্সাগন অব অ্যালায়ান্সেস’ ধারণা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এটি এমন দেশগুলিকে একত্রিত করবে যারা পশ্চিম এশিয়া ও তার আশপাশে উগ্রবাদী শক্তি ও অন্যান্য নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে একই মনোভাব পোষণ করে (Pakistan)। প্রস্তাবিত জোটে ইজরায়েল, ভারত, গ্রিস ও সাইপ্রাসের পাশাপাশি কয়েকটি আরব, আফ্রিকান ও এশীয় দেশ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, নেতানিয়াহু বলেন, “আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে আমরা পশ্চিম এশিয়ার ভেতরে বা চারপাশে এক ধরনের ‘হেক্সাগন’ জোটব্যবস্থা গড়ে তুলব।” তিনি আরও বলেন, “উদ্দেশ্য হল এমন একটি দেশসমূহের অক্ষ তৈরি করা, যারা বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য নিয়ে একমত—উগ্র শিয়া অক্ষ, যাকে আমরা কঠোরভাবে আঘাত করেছি, এবং উদীয়মান উগ্র সুন্নি অক্ষের বিরুদ্ধে।”

জোটের কাজ

এই জোট তিনটি মূল ক্ষেত্রে কাজ করবে—অর্থনৈতিক সহযোগিতা, কূটনৈতিক সমন্বয় ও নিরাপত্তা সহযোগিতা। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভারত–মধ্যপ্রাচ্য–ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডরের মতো উদ্যোগের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক। ইজরায়েলি নেতৃত্ব এটিকে ইরান ও তার আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক—যেমন হিজবুল্লাহ ও হুথি, যাদের সম্মিলিতভাবে “অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স” বলা হয়—এর প্রভাব মোকাবিলার দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো হিসেবে দেখছে। ইসলামাবাদের উদ্বেগের মূল কারণ হল ‘হেক্সাগন অব অ্যালায়ান্সেসে’ ভারতকে একটি কৌশলগত স্তম্ভ হিসেবে প্রকাশ্যে উল্লেখ করা। পাকিস্তান মনে করে, ইসরায়েল-সহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভারতের বাড়তে থাকা নিরাপত্তা (Israels) সহযোগিতা পশ্চিম এশিয়ায় তাদের নিজস্ব প্রভাবের জন্য সরাসরি চ্যালেঞ্জ এবং ইসলামাবাদের দৃষ্টিতে মুসলিম ঐক্যের ধারণা থেকে সরে যাওয়া (Pakistan)।

কূটনৈতিক পরিসর সম্প্রসারণ

পাকিস্তানের শাসক জোট এই জোট কাঠামোকে সৌদি আরব ও তুরস্ককে ঘিরে আঞ্চলিক সমীকরণের পরিবর্তনের সঙ্গেও যুক্ত করছে। নেতানিয়াহুর এই ঘোষণা আসে ইজরায়েল–ইরান উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এবং যখন পাকিস্তান ও সৌদি আরব নিজেদের যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। পাকিস্তানে জাতীয় প্রতিক্রিয়াগুলি প্যালেস্তাইনি সার্বভৌমত্বের প্রতি দীর্ঘদিনের দৃঢ় সমর্থন এবং অধিকৃত অঞ্চলে ইজরায়েলি পদক্ষেপকে বৈধতা দেওয়ার যে কোনও উদ্যোগের বিরোধিতার ধারাবাহিকতাই প্রতিফলিত করে। প্যালেস্তাইন ইস্যুতে ইসলামাবাদের আপসহীন অবস্থান এবং ইজরায়েলের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপের সমালোচনা ‘হেক্সাগন’ প্রস্তাবের বিরোধিতাকে আরও জোরদার করেছে (Israels)। ইজরায়েলের কাছে ‘হেক্সাগন অব অ্যালায়ান্সেস’ হল বৈরী শক্তির বিরুদ্ধে একটি কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষাকারী কাঠামো এবং অস্থির অঞ্চলে কূটনৈতিক পরিসর সম্প্রসারণের অংশ। ভারতের জন্য এই কাঠামোয় অন্তর্ভুক্তি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাইরে গিয়ে বহুপাক্ষিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের ইঙ্গিত বহন করে।

পাকিস্তানের উদ্বেগ

পাকিস্তানের উদ্বিগ্ন প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দেয় যে ইসলামাবাদ শুধু বিরক্তই নয়, বরং এটিকে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে কাঠামোগত পরিবর্তন হিসেবেই দেখছে—যা মুসলিম দেশগুলির মধ্যে পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে। এই কাঠামো ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা জোটে রূপ নিক বা কেবল সহযোগিতার ধারণাগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই থাকুক—এর রাজনৈতিক প্রতিধ্বনি ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে (Pakistan) ইসলামাবাদের মতো রাজধানীগুলিতে, যেখানে একে মুসলিম ঐক্য ও আঞ্চলিক ভারসাম্যের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে (Israels)।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share