BRICS Summit: হায়দরাবাদে চলছে ব্রিকস শ্রমিক সম্মেলন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় বৈশ্বিক ঐক্যের ডাক মনসুখ মাণ্ডব্যের

union-minister-urges-worker-centric-global-order-at-brics-summit

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হায়দরাবাদে চলছে পঞ্চদশ ব্রিকস (BRICS Summit) ট্রেড ইউনিয়ন ফোরাম শীর্ষ সম্মেলন। তিন দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য শ্রমিকের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবিক মর্যাদাকে কেন্দ্র করে (Worker Centric Global Order) ভবিষ্যতের বৈশ্বিক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এমন একটি শ্রমব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে উন্নয়নের সুফল প্রত্যেক শ্রমিকের কাছে পৌঁছবে, এবং তাঁদের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।”

মাণ্ডব্যর বক্তব্য (BRICS Summit)

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির প্রতিনিধিরা। তাঁদের উদ্দেশে মাণ্ডব্য বলেন, “ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের মূল ভাবনা হল স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্ব গড়ে তোলা। তাঁর মতে, শ্রমবাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এমন নীতি গ্রহণ করা জরুরি, যাতে শ্রমিকদের কল্যাণ এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।” তিনি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় এবং সুস্থ শিল্প সম্পর্ক বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে শ্রমিক সংগঠনগুলি। ভারতের শ্রমক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সংস্কারের বিষয়টিও তুলে ধরেন মাণ্ডব্য। তিনি জানান, চারটি নতুন শ্রম সংহিতা কার্যকর করার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ২৯টি পৃথক শ্রম আইনকে একত্রিত ও সরলীকৃত করা হয়েছে। এর ফলে শ্রমিকদের অধিকার আরও সুসংহত হয়েছে। নয়া ব্যবস্থায় সর্বজনীন ন্যূনতম মজুরির ব্যবস্থা, প্রত্যেক কর্মীর জন্য নিয়োগপত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক করা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধির মান আরও শক্তিশালী করা এবং গিগ ও প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কর্মীদের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ভারতের শ্রমব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন

তিনি আরও জানান, শ্রম প্রশাসনে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ভারতের শ্রমব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে। ই-শ্রম পোর্টালে ইতিমধ্যেই ৩১ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি অসংগঠিত শ্রমিকের নাম নথিভুক্ত হয়েছে। তাঁরা বিভিন্ন সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধাও সহজেই পাচ্ছেন। পাশাপাশি জাতীয় কর্মসংস্থান পরিষেবা পোর্টালের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে সম্ভাব্য নিয়োগকারী সংস্থা, কর্মসংস্থান কেন্দ্র এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সংযোগ আরও সহজ হয়েছে (BRICS Summit)। সামাজিক সুরক্ষার প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংস্থা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সামাজিক সুরক্ষা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এই সংস্থার সক্রিয় সদস্যসংখ্যা ৮ কোটিরও বেশি। একইভাবে কর্মচারী রাষ্ট্রীয় বিমা নিগম ১৫ কোটিরও বেশি বিমাকৃত ব্যক্তি এবং তাঁদের পরিবারের জন্য স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবা দিচ্ছে।” তিনি জানান, আরও বেশি মানুষের কাছে এই সুবিধা পৌঁছে দিতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে (Worker Centric Global Order)।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে যা বললেন মাণ্ডব্য

রীতিমতো পরিসংখ্যান তুলে ধরে মাণ্ডব্য বলেন, ভারতে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় থাকা মানুষের হার ২০১৫ সালে যেখানে মাত্র ১৯ শতাংশ ছিল, সেখানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে প্রায় ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে প্রায় ৯৪ কোটি মানুষ সামাজিক সুরক্ষার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। প্রাথমিক হিসেবে, ২০২৬ সালে এই সংখ্যা ১০০ কোটিরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর মতে, এটি দেশের শ্রমিক কল্যাণ ব্যবস্থার একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি জানান, গত দশ বছরে প্রায় ১৭ কোটি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনার মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে আরও সাড়ে ৩ কোটি আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং যুবসমাজের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি (BRICS Summit)।

ভারতের শ্রমনীতি

মাণ্ডব্য বলেন, “ভারতের শ্রমনীতি সরকার, নিয়োগকারী সংস্থা এবং শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। শ্রমনীতি তখনই কার্যকর হয়, যখন সরকারের পাশাপাশি নিয়োগকর্তা এবং শ্রমিক সংগঠন একসঙ্গে কাজ করে। এই অংশীদারিত্বই শ্রমিকদের প্রকৃত স্বার্থরক্ষা এবং শিল্পোন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করে (Worker Centric Global Order)।” উল্লেখ্য, তিন দিনের এই সম্মেলনে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার প্রতিনিধিরা শ্রমজগতের ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করবেন। সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ এবং বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থান ও শ্রমক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। মাণ্ডব্যের আশা, এই সম্মেলনের সুপারিশগুলি আগামী ব্রিকস শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীদের বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং সদস্য দেশগুলির মধ্যে আরও কার্যকর সহযোগিতার পথ সুগম করবে (BRICS Summit)।

কী বললেন সম্মেলনের চেয়ারম্যান

সম্মেলনের চেয়ারম্যান শ্রী সুনকারি মাল্লেশম বলেন, “ব্রিকস ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের মূল লক্ষ্য হল সদস্য দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং শ্রমিকদের কল্যাণে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা।” তাঁর মতে, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং কর্মপরিবেশের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে (Worker Centric Global Order)। প্রসঙ্গত, এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ৫০ জনেরও বেশি বিদেশি প্রতিনিধি এবং ভারতের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, শ্রম বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রায় ৭০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন। তিন দিনের এই সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ ভবিষ্যতে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির শ্রমনীতি, সামাজিক সুরক্ষা এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সহযোগিতাকে আরও সুসংহত করবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞমহলের (BRICS Summit)।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share