মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চাকরি দেওয়ার নাম করে বেকার যুবক-যুবতী ও তাঁদের অভিভাবকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলেছেন তৃণমূল নেতা। টাকা তুলে তার পরিবর্তে চাকরি দেননি কাউকেই। টাকা তোলা এবং চাকরি না দেওয়ার অভিযোগ এনে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস অঞ্চল (Uttar Dinajpur) সভাপতির বাড়ির সামনে অবস্থানে বসলেন বিক্ষোভকারীরা।
উত্তর দিনাজপুরে (Uttar Dinajpur) অভিযোগ কী?
শনিবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে উত্তর দিনাজপুর জেলার (Uttar Dinajpur) রায়গঞ্জ ব্লকের কমলাবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কসবা-মহাশো এলাকায়। অবস্থান-বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অনিন্দ্য কুমার দাস অভিযোগ করেন, কৃষি দফতরের গ্রুপ সি পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রার্থী পিছু ১১ লক্ষ টাকা করে নিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি উত্তম ঘোষ, তাঁর ভাগ্নে মিঠুন ঘোষ এবং ভাই অনিল ঘোষ। কিন্তু এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও চাকরি তো জোটেইনি, উল্টে চাকরিপ্রার্থীরা নিজেদের টাকা ফেরত চাইলে টালবাহানা করা হচ্ছে। এর আগেও টাকা চাইতে গেলে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এক বিক্ষোভকারী সুমন কুমার নাথ বলেন, প্রায় ছয় মাস হল তাঁদের নাগালে পাওয়া যাচ্ছে না। টাকা নেওয়ার জন্য ভুয়ো ইন্টারভিউ এবং নকল নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করছেন তিনি। প্রার্থীদের অবিলম্বে সেই টাকা ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে এই আন্দোলন বলে জানানো হয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে এক অভিভাবক নৃপেন্দ্রনাথ দাস বলেন, উত্তম ঘোষের ভাগ্নে মিঠুন ঘোষ যে টাকা নিয়েছেন, সে কথা স্বীকার করা একটি ভিডিও রয়েছে আমাদের কাছে। আমরা পুলিশের কাছে যাব।
অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা মিঠুন ঘোষের বক্তব্য
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মিঠুন ঘোষ বলেন, আমার মামা উত্তম ঘোষ এলাকায় (Uttar Dinajpur) অনেকদিন ধরেই সুনামের সঙ্গে বসবাস করছেন। তিনি কোনও অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁর পরিবারকে কালিমালিপ্ত করতেই এই চক্রান্ত চালানো হচ্ছে। তবে মিঠুনের দেওয়া এক ভিডিওতে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ওঁদের কাছ থেকে আমি ১১ লক্ষ টাকা নিয়েছি। আজ শনিবার টাকা দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু আমি দিতে পারিনি। আগামী রবিবার ওঁদের ডেকে আমি মামার উপস্থিতিতে সব টাকা দিয়ে দেব। এরকম একটি বক্তব্য সামজিক মাধ্যমে ঘুরছে বলে জানা গেছে।
তৃণমূল নেতা উত্তম ঘোষের বক্তব্য
অপরদিকে উত্তম ঘোষ বলেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যে অভিযোগ। এর সাথে কোনও ভাবেই আমি যুক্ত নই। প্রমাণ করতে পারলে যা শাস্তি দেবে, তা মাথা পেতে নেওয়ার কথা বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন আমি বাড়িতেই (Uttar Dinajpur) ছিলাম। অসত্যকে আশ্রয় করে কীভাবে একটি অভিযোগ আনা যায়, সে বিষয়টি আমি লক্ষ করেছি। তবে মিঠুন ঘোষ তাঁর ভাগ্নে, একথা স্বীকার করেন উত্তম বাবু স্বয়ং। তিনি আরও বলেন, মিঠুনের টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি আমিও শুনেছি। কিন্তু আমার ভাগ্নের টাকা নেওয়ার সঙ্গে আমার কোনও যোগ নেই। এ ব্যাপারে আমার বদনাম করা হচ্ছে। আমি প্রয়োজনে মানহানি মামলা করব।
পুলিশের ভূমিকা
অন্যদিকে, এদিনের এই ঘটনার (Uttar Dinajpur) খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ছুটে আসে স্থানীয় কর্ণজোড়া ফাঁড়ির পুলিশ। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের আন্দোলন তুলে নেন এবং অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন বলে জানা গেছে। প্রতারিত ব্যক্তিরা কবে টাকা ফিরে পান, তাই এখন দেখার।
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।
Leave a Reply