Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Pakistan: ভুয়ো পিৎজা হাটের উদ্বোধন করে বিপাকে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী

    Pakistan: ভুয়ো পিৎজা হাটের উদ্বোধন করে বিপাকে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়া পিৎজা হাট রেস্তরাঁ উদ্বোধন করলেন পাকিস্তানের (Pakistan) প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মহম্মদ আসিফ। বুধবার সিয়ালকোট ক্যান্টনমেন্টে তিনি ওই পিৎজা হাটের (Fake Pizza Hut) উদ্বোধন করেন বলে দাবি করা হয়েছে ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলিতে। কিন্তু পাকিস্তানের বহু ঘটনার মতোই এই পিৎজা হাটটিও ছিল ‘ভুয়ো’। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ব্যাপক আড়ম্বর, বড় জনসমাগম, সাজসজ্জা ও গণমাধ্যমের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে খাজা আসিফ ওই ভুয়ো পিৎজা হাটের উদ্বোধন করছেন।

    প্রতিরক্ষামন্ত্রীর জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী ছবি (Pakistan)

    খবরে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী ছবিগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরই পিৎজা হাট পাকিস্তান একটি প্রকাশ্য বিবৃতি জারি করে জানায়, “সংশ্লিষ্ট আউটলেটটি ‘অননুমোদিত’ এবং তারা অন্যায়ভাবে পিৎজা হাটের নাম ও ব্র্যান্ডিং ব্যবহার করছে।” খাজা আসিফ যে ভুয়ো রেস্তোরাঁটির উদ্বোধন করেন, সেখানে আসল পিৎজা হাটের মতোই লাল রঙের থিম ও লোগো ব্যবহার করা হয়েছিল।

    পিৎজা হাট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

    পিৎজা হাট কর্তৃপক্ষ আরও জানান, ওই রেস্তরাঁটির সঙ্গে ইয়াম! ব্র্যান্ডসের কোনও সম্পর্ক নেই, তারা আন্তর্জাতিক রেসিপি, গুণমান বা নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে না এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সংস্থার দাবি, পাকিস্তানে পিৎজা হাটের মাত্র ১৬টি অনুমোদিত আউটলেট রয়েছে—এর মধ্যে ১৪টি লাহোরে এবং দুটি ইসলামাবাদে। সিয়ালকোটে তাদের কোনও আউটলেট নেই (Pakistan)।

    দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় মিম-নির্মাতাদের প্রিয় বিষয় হয়ে থাকা খাজা আসিফকে ঘিরে এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক স্তরে মিমের বন্যা বয়ে গিয়েছে। মার্কিন এই খাবার সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, “আমাদের ট্রেডমার্কের অপব্যবহার বন্ধ করা এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে” তারা (Fake Pizza Hut) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে (Pakistan)।

  • Sunita Williams: দীর্ঘ ২৭ বছরের কেরিয়ারে ইতি, নাসা থেকে অবসর নিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশ-কন্যা সুনীতা

    Sunita Williams: দীর্ঘ ২৭ বছরের কেরিয়ারে ইতি, নাসা থেকে অবসর নিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশ-কন্যা সুনীতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশচারী হিসেবে সুদীর্ঘ কেরিয়ার। একের পর এক মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। তাঁর বিচরণ ‘মহাবিশ্বে মহাকাশে মহাকালোর মাঝে’। মহাশূন্যে মোট ৬০৮ দিন কাটিয়ে নজির গড়েছেন তিনি। এবার অবসরের পালা। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস দীর্ঘ ২৭ বছরের যাত্রার পর অবসর নিলেন (Sunita Williams)। মঙ্গলবার সুনীতার অবসরের কথা ঘোষণা করল আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)। গত ২৭ ডিসেম্বর, ৬০ বছর বয়সে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এক বিবৃতি দিয়ে নাসা তাঁর অবসরের কথা জানায়।

    ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছেন

    নাসা জানিয়েছে, বড়দিনের পর পরই, গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে সুনীতার (Sunita Williams Retires) অবসর কার্যকর হয়েছে। অবসর গ্রহণ করেছেন ৬০ বছর বয়সি সুনীতা। নাসার তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মানুষের মহাকাশ অভিযানে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন সুনীতা। ভবিষ্যৎ মহাকাশ গবেষণার রূপকার তিনি। পৃথিবীর কক্ষপথের নিম্নভাগে বাণিজ্যিক অভিযানের পথ প্রশস্ত করেছেন’। নাসা কর্তা জ্যারেড আইজ্যাকম্যান তাঁর অবদানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “মানববাহী মহাকাশ অভিযানে সুনীতা উইলিয়ামস একজন পথিকৃৎ। বাণিজ্যিক মহাকাশ অভিযানের পথ তৈরি করা থেকে শুরু করে আইএসএস-এ নেতৃত্ব, সব ক্ষেত্রেই তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে যে ভূমিকা পালন করেছেন সুনীতা, তাতেই চন্দ্রাভিযান আর্টেমিস এবং মঙ্গল অভিযানের ভিত্তিস্থাপন হয়েছে। আগামী প্রজন্ম ওঁর থেকে অনুপ্রেরণা পাবে, স্বপ্ন দেখতে শিখবে। অবসরকালে অভিনন্দন জানাই ওঁকে। নাসা এবং দেশের যে সেবা করেছেন, তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ”

    শিকড় ভারতেই

    ম্যাসাচুসেটসে জন্ম হলেও সুনীতার (Sunita Williams) শিকড় ভারতের গুজরাটে। সুনীতার বাবা দীপক পান্ডিয়া পেশায় নিউরোঅ্যানাটমিস্ট। জন্ম গুজরাটের মেহসানার ঝুলাসন গ্রামে। পরে তিনি কর্মসূত্রে পাকাপাকি ভাবে আমেরিকায় চলে যান। যদিও ভারতে কখনই নিজের শিকড়কে ভুলে যাননি তিনি বা সুনীতা। স্লোভেনিয়ার বনি পান্ডিয়ার সঙ্গে বিয়ের পর আমেরিকা চলে যান দীপক। সেখানেই জন্ম সুনীতার। পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক সুনীতা মেলবোর্নের ফ্লরিডা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

    নাসায় যোগদান

    এক সাক্ষাৎকারে সুনীতা (Sunita Williams) জানিয়েছিলেন তিনি আসলে পশুচিকিৎসক হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষে যোগ দিয়েছিলেন মেরিল্যান্ডের ইউএস নেভাল অ্যাকাডেমিতে। সেখানে গিয়েও প্রথম আগ্রহের বিষয় ছিল ডাইভিং। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়েছিলেন একজন পাইলট অর্থাৎ বিমান চালক। সেখানেও তাঁর প্রথম পছন্দ ছিল জেট বিমান। কিন্তু তাঁর বদলে সুনীতাকে ওড়াতে দেওয়া হয় হেলিকপ্টার। হেলিকপ্টার এবং ফিক্সড-উইং পাইলট হিসাবে ৪০টি বিমানে মোট ৪,০০০ ঘণ্টারও বেশি সময় উড়ানের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। তবে সুনীতার জীবনের পথ বদলে দেয় জনসন স্পেস সেন্টার পরিদর্শন। স্পেস সেন্টার পরিদর্শনের সময়েই মহাকাশচারী জন ইয়ং-এর সংস্পর্শে আসেন মহাকাশ বিজ্ঞানে নজির সৃষ্টি করা এই অ্যাস্ট্রোনট। সেখান থেকেই সুনীতার স্বপ্নে হানা দেয় গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি। মহাকাশচারী প্রশিক্ষণের জন্য নাসার কাছে আবেদন পাঠালেও প্রথমবারে সফল হননি সুনীতা। কিছু যোগ্যতার অভাবে সুযোগ হারান তিনি। কিন্তু হার মানেননি মহাকাশ কন্যা। ততদিনে মহাকাশকেই নিজের মিশন বানানোর জেদ চেপে গিয়েছে তাঁর। পাইলট স্কুলে ফিরে নাসায় যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করেন তিনি। অবশেষে সব বাধা পেরিয়ে ১৯৯৮ সালের জুন মাসে ১৮ তম মহাকাশচারী দলের অংশ হিসাবে নাসায় যোগ দেন সুনীতা উইলিয়ামস। তার পর বাকিটা ইতিহাস।

    মহাকাশযাত্রার মহা কাহিনী

    সুনীতার (Nasa Astronaut Sunita Williams) মহাকাশযাত্রা শুরু ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে। ডিসকভারি শাটলে ভেসে প্রথমবার মহাকাশে পৌঁছন তিনি। এক্সপিডিশন ১৪/১৫–র ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি সেই মিশনে চারটি স্পেসওয়াক করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। ২০১২ সালে দ্বিতীয় মিশনে ১২৭ দিনের জন্য মহাকাশে ছিলেন এবং ওই অভিযানে তাঁকে মহাকাশ স্টেশনের কমান্ডারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে তাঁর তৃতীয় ও শেষ মহাকাশযাত্রা ছিল বোয়িং স্টারলাইনারে চড়ে আইএসএস-এ পৌঁছনো। তাঁর সঙ্গী ছিলেন নভশ্চর বুচ উইলমোর। মাত্র ১০ দিনের জন্য পরিকল্পিত সেই মিশন শেষ পর্যন্ত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় ১০ মাস ধরে আটকে যায়। অবশেষে ২০২৫ সালের মার্চে ২৮৬ দিন পর পৃথিবীতে ফেরেন তাঁরা। দীর্ঘ কর্মজীবনে মোট তিনটি মহাকাশ মিশন সম্পন্ন করেছেন সুনীতা উইলিয়ামস। মহাকাশে কাটিয়েছেন ৬০৮ দিন (608 days in space)-নাসার ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সময়। পাশাপাশি ৬২ ঘণ্টা ৬ মিনিটে মোট ৯টি স্পেসওয়াকের রেকর্ড রয়েছে তাঁর, যা যে কোনও মহিলা মহাকাশচারীর নিরিখে সর্বাধিক (Space Mission records)। এমনকি মহাকাশে ম্যারাথন দৌড় সম্পন্ন করা প্রথম মানুষও তিনিই।

    মহাকাশ কন্যার বিদায়ী সম্ভাষণ

    স্বামী মাইকেল এবং পোষ্যদের নিয়ে সংসার সুনীতার (Sunita Williams)। তবে সুনীতা জানিয়েছেন, মহাকাশই তাঁর সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। নিয়মের বেড়াজালে ৬০-এ পা দিতেই অবসরে মহাকাশ কন্যা। তবু আজও তাঁর বুকে বাসা বেঁধে রয়েছে আবারও ব্রহ্মাণ্ডে পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন তা তাঁর বিদায়ী সম্ভাষণেই স্পষ্ট। সুনীতা উইলিয়ামস বলেন, ‘‘যারা আমাকে চেনেন তাঁরা জানেন, মহাকাশ আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। নাসাতে কাজ করা এবং তিনবার মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার সুযোগ পাওয়াটা দারুণ সম্মানের। নাসায় আমার ২৭ বছরের অসাধারণ কেরিয়ারের মূল কারণ আমার সহকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া অসাধারণ ভালোবাসা এবং সমর্থন।’’ এখানেই শেষ নয়, দীর্ঘ কেরিয়ারে অসংখ্য গবেষণার কাজকে স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন, আধুনিক প্রযুক্তি টেকনিক, অ্যাডভান্স সায়েন্স চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপগুলিকে সম্ভব করে তুলেছে। আমি আশা করি আমরা যে ভিত্তি স্থাপন করেছি তা এই সাহসী পদক্ষেপগুলিকে আরও সহজ করবে। নাসা-এর পরবর্তী প্রজেক্টগুলি নতুন করে ইতিহাস লিখুক। আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করব।’’

    ফের মহাকাশে যাওয়ার ইচ্ছা

    নিজের অবসরের প্রসঙ্গে সুনীতা হাসতে হাসতে বলেন, “আমি অবশ্যই আবার মহাকাশে যেতে চাই। কিন্তু আমার স্বামী বোধহয় আমাকে ছাড়বেন না!” ভালোবাসার টানে কিছুদিন ঘরে কাটালেও সুনীতার এই কথায় রয়েছে অন্য ইঙ্গিত? তাহলে আবার কি মহাকাশে পাড়ি জমাবেন সুনীতা? নাসা ছাড়লেও বেসরকারি সংস্থার দরজা তো খোলা। কে বলতে পারে ফের হয়ত মহাবিশ্বে পাড়ি জমাবেন মহাকাশ-কন্যা।  তাঁর রেকর্ড-বুকে হয়তো জুড়ে যাবে সবথেকে বেশি বয়সে মহাকাশে পাড়ি জমানোর নজির!

  • Bangladesh: বাংলাদেশে এবার দুই মেধাবি পড়ুয়ার খুন, ইউনূসের রাজত্বে আর কত হিন্দু মায়ের কোল হবে খালি?

    Bangladesh: বাংলাদেশে এবার দুই মেধাবি পড়ুয়ার খুন, ইউনূসের রাজত্বে আর কত হিন্দু মায়ের কোল হবে খালি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের বাংলাদেশে (Bangladesh) দুই মেধাবি হিন্দু (Hindu Student) পড়ুয়ার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। একজনের মৃতদেহ সাতদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর নদীতে উদ্ধার হয়েছে। দ্বিতীয় জনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেস থেকে। দুই ক্ষেত্রে হত্যা করে আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনার শিকার বলে উল্লেখ করার চেষ্টা হয়েছে। তবে অভিযোগের তির কট্টর মৌলবাদী সংগঠনের দিকেই। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন তাই নির্বাচনের আগে সংখ্যা লঘু হিন্দুদের টার্গেট করে ভয় ভীতির পরিবেশ গড়তে চাইছে।

    কালীতলা শ্মশানের কাছে উদ্ধার দেহ (Bangladesh)

    শনিবার বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার একটি নদী থেকে নিখোঁজ এক কলেজ ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওইদিন বিকেলে নওগাঁ শহরের কালীতলা শ্মশানের কাছে একটি নদীতে মৃতদেহটি পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। পরে মৃতদেহটি অভির নামে শনাক্ত করা হয়। এই ছাত্র জেলার একটি সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা (ম্যানেজমেন্ট) বিভাগের ছাত্র। অনার্স ডিগ্রির চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিল।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর ছড়িয়ে পড়ে

    নিহতের পরিবার জানিয়েছে, ১১ জানুয়ারী ঝগড়ার পর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়ে যায়। মৃতদেহটি পাওয়া যাওয়ার পর, সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে অভির পরিবার খোঁজ করতে করতে নদীর তীরে ছুটে যায়। পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তার পরা পোশাক দেখে মৃতদেহটি শনাক্ত করে। তবে মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভি বগুড়া (Bangladesh) জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারের বাসিন্দা রমেশ চন্দ্রের ছেলে। নওগাঁ সদর থানার ওসি নিয়ামুল ইসলাম বলেন, “মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।”

    মেসে উদ্ধার মৃত দেহ!

    অন্যদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবি হিন্দু ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। যদিও কর্তৃপক্ষ দাবি করছে এই ঘটনার পেছনে কোনও সাম্প্রদায়িক কারণ নেই, কিন্তু হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ২১ জানুয়ারি রাতে ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Bangladesh) থিয়েটার বিভাগের ছাত্র আকাশ সরকারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ফরিদপুর জেলার বাসিন্দা ছিলেন। ১৮ জানুয়ারি পুরাতন ঢাকার একটি মেস থেকে তার ঝুলন্ত মৃতদেহ (Hindu Student) উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানালেও, সামাজিক মাধ্যমে এবং স্থানীয় স্তরে অভিযোগ উঠেছে যে এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যা। কট্টর মৌলবাদীরা তার ওপর বর্বরতা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই ধরনের ঘটনাগুলোকে ‘অসাম্প্রদায়িক’ বা সাধারণ অপরাধ হিসেবে গণ্য করছে। সরকারি তথ্যমতে, ২০২৫ সালে সংখ্যালঘুদের ওপর ঘটা ৬৪৫টি ঘটনার মধ্যে মাত্র ৭১টিকে সাম্প্রদায়িক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই পরিসংখ্যান মানতে নারাজ।

    বাংলাদেশে লাগাতার হিংসা অভ্যাহত

    বাংলাদেশের (Bangladesh) বিভিন্ন জেলায় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান হিংসা এবং খুনের ঘটনা ঘটেই চলছে। ধারাবাহিক এই হিংসাত্মক হামলায় বাংলাদেশজুড়ে কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত ১৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এবং চারটি মামলায় এখনও কোনও গ্রেফতার হয়নি। বেশ কয়েকটি হত্যার ঘটনা ঘটেছে উন্মত্ত জনতার সম্মিলিত আক্রমণে। তার সবচেয়ে নৃশংস ঘটনার মধ্যে রয়েছে দীপু চন্দ্র দাসকে হত্যা, যাঁকে ময়মনসিংহে পিটিয়ে হত্যা করে প্রকাশ্যে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। খোকন চন্দ্র দাসের ওপর পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতু হয় তাঁর।  যশোরে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগীকে হত্যা করা হয়, যার মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে নরসিংদীতে শরৎ মণি চক্রবর্তীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, যার ফলে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রণোদনা কর্মকার নামে একজন জুয়েলারিকে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। ফরিদপুরে মাছ ব্যবসায়ী উৎপল সরকারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, এবং তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ হেফাজতে প্রলয় চাকিকেও নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়।

    জানুয়ারিতেই লাগাতার হত্যাকাণ্ড

    রাজবাড়ীতে রিপন সাহা নামে এক হিন্দু পেট্রোল পাম্প কর্মীকে এসইউভি দিয়ে পিষে হত্যা করা। সিলেটে হিন্দু শিক্ষক বীরেন্দ্র কুমারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ। পাবনায় পুলিশ হেফাজতে হিন্দু সংগীতশিল্পী প্রলয় চাকীর মৃত্যু। চট্টগ্রামে সমীর কুমার দাস নামে এক অটোচালকের ওপর গণপিটুনি ও ছুরিকাঘাত। বাংলাদেশ (Bangladesh) হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মতে, গত ছয় সপ্তাহে অন্তত এক ডজন হিন্দু হত্যার শিকার হয়েছেন। ভারত সরকারও বাংলাদেশে হিন্দুদের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

  • India Bangladesh Relation: নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা! ভোটমুখী বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের পরিবার-পরিজনকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত ভারতের

    India Bangladesh Relation: নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা! ভোটমুখী বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের পরিবার-পরিজনকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাধারণ নির্বাচনের (Bangladesh General Elections) প্রস্তুতি চলছে বাংলাদেশে। প্রতিদিন হিন্দু হত্যার খবর আসছে। বাড়ছে ভারত বিদ্বেষ (India-Bangladesh Relations)। সেই আবহেই বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশন এবং অন্য কেন্দ্রে নিযুক্ত কর্মীদের পরিবারকে দেশে পাঠানোর পরামর্শ দিল কেন্দ্রীয় সরকার। ভোটমুখী বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিচার করেই এই পরামর্শ বিদেশ মন্ত্রকের। তবে এ-ও জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন এবং অন্যান্য কেন্দ্র খোলা থাকবে। সেখানে কাজও চলবে। শুধু বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে, সেখান থেকে কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের পরিবার, তাঁদের উপর নির্ভরশীল লোকজনকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিল ভারত।

    ভোটের আগে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশে। ওই দিন আবার গণভোটেরও ঘোষণা করেছে মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যেখানে ভাবী প্রধানমন্ত্রীদের কার্যকালের নির্দিষ্ট মেয়াদ, সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিধিতে সম্মতি জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। তার আগেই পদ্মাপার থেকে নিজের দেশের কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের পরিবারকে সরিয়ে নিচ্ছে ভারত। দিল্লি সূত্রে খবর, নির্বিঘ্নে এই ‘উদ্ধারকার্য’ চালানো হবে। বাংলাদেশে স্থিত ভারতীয় হাইকমিশন এবং অন্য সব মিশন থেকে কূটনীতিক এবং অন্য আধিকারিকদের পরিবার ও তাঁদের উপর নির্ভরশীলদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

    কবে ভোট বাংলাদেশে

    বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের সঙ্গে হবে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট। গত ১২ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন জমা নেওয়া হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি হয়েছে মনোনয়ন পরীক্ষার কাজ। মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তগুলির বিরুদ্ধে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করেছেন বাদ পড়া প্রার্থীরা। ১২-১৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে সেই আপিলগুলির যথার্থতা যাচাইয়ের কাজ চলেছে। চূড়ান্ত প্রার্থিতালিকা প্রকাশ এবং নির্বাচনী প্রতীক নির্ধারণ করা হবে বুধবার (২১ জানুয়ারি)। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারের পালা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।

    পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ, ‘নন-ফ্যামিলি’ পোস্টিং

    সাউথ ব্লকের তরফে জানানো হয়েছে, ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশন এবং অন্য পদে অধিষ্ঠিত যাঁরা, তাঁদের কাজকর্ম আগের মতোই চলবে। ঢাকায় হাইকমিশনের পাশাপাশি, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহি, সিলেটেও ভারতীয় কূটনীতিকরা মোতায়েন রয়েছেন। দিল্লি সূত্রে খবর, ভারতীয় কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের জন্য বাংলাদেশকে নন-ফ্যামিলি পোস্টিং (Non-Family Destination) ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের পরিবার নিয়ে গিয়ে থাকার অনুপযুক্ত বাংলাদেশ। পাকিস্তান আগে থেকেই ওই তালিকায় রয়েছে।

    কেন নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়

    শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ক্রমশ তলানিতে ঠেকেছে। পদ্মাপারে কূটনৈতিক কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়াতেও বাধা এসেছে লাগাতার। বিশেষ করে গত বছর ডিসেম্বেরে ইসলামি যুব নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে সেখানকার কট্টরপন্থীদের ভারতবিরোধী মনোভাব আরও প্রকট হয়েছে। লাগাতার হুমকি-হুঁশিয়ারি উড়ে আসছিল। হাদির খুনিরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে বলেও দাবি করা হয়। সেই নিয়ে গত ১৭ ডিসেম্বর মিছিল করে ভারতীয় হাইকমিশনে যায় ‘জুলাই ঐক্য মঞ্চ’। এমতাবস্থায় ভারতীয় কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণে ঢাকাকে বার্তাও দেয় দিল্লি। কিন্তু তার পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি তেমন। ওই সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারতের ডেপুটি হাইকমিশন ঘেরাওয়ের ডাক দেয় সে দেশের একটি গোষ্ঠী। ওই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই চট্টগ্রামে ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনের দফতর লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বিক্ষোভকারীদের হটাতে লাঠি চালায় এবং কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। উত্তেজনা ছড়ায় সিলেটেও। তার পরেই চট্টগ্রামের ভিসা-কেন্দ্র বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিলেটে ভারতের উপদূতাবাসের কাছেও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেন বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ।

    নির্বাচন ঘিরে অশান্তির আশঙ্কা

    নির্বাচন ঘিরেও অশান্তি বাঁধতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ইতিমধ্যেই। কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ দিল্লি। তাই বাংলাদেশ থেকে নিজেদের কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের পরিবারকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। বাংলাদেশের নির্বাচন (Bangladesh Election) ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ চলছে। ইতিমধ্যেই প্রধান প্রতিপক্ষ জামাত ইসলামের ও বিএনপি (BNP) জোট নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। তবে জামাত ও তাদের জোর শরিকদের তরফেই জোরালো অভিযোগ করা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের (Yunus) সঙ্গে দেখা করার পর জাতীয় নাগরিক পার্টি ইঙ্গিত করেছে তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নাও নিতে পারে। অন্যদিকে, জামাতের বক্তব্য অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন করার মতো পরিস্থিতি এখনও দেশে তৈরি হয়নি। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিএনপি নেতারাও। তারাও গুচ্ছ অভিযোগ করেছেন নির্বাচন নিয়ে। ‌যদিও এনসিপি এবং জামাতের সঙ্গে বিএনপির অভিযোগের ফারাক হলো তারা সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে কোনও রকম দোষারোপ করেনি। বরং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচন কমিশন কে সার্টিফিকেট দিয়েছেন। কিন্তু সমস্যা অন্যত্র। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানাচ্ছে ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই হিংসার সম্ভাবনা বাড়ছে। দেশটিতে হামলা, হত্যার ঘটনা অব্যাহত। ভোটের আগে ভারত বিরোধিতা চরমে উঠবে বলে নানা মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    সংখ্যালঘু হিন্দু-হত্যা চলছেই

    সম্প্রতি দফায় দফায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের উপর হামলার খবর আসতে শুরু করে বাংলাদেশ থেকে। ময়মনসিংহে বেধড়ক মারধরের পর পুড়িয়ে দেওয়া হয় দীপুচন্দ্র দাসকে। সেই নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই, অসম এবং ত্রিপুরাতেও প্রতিবাদ শুরু হয়। এর ফলে বাংলাদেশও সাময়িক ভাবে ভিসা পরিষেবা বন্ধ রাখে। তাদের তরফেও বাংলাদেশি কূটনীতিক ও আধিকারিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণের বার্তা আসে।

    ইউনূসের আমলে অপরাধ বেড়েছে

    বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সে দেশে অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছ। অপহরণের অভিযোগ ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বেড়েছে ৭১ শতাংশ। ডাকাতির অভিযোগও বেড়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ। আসন্ন ভোটপর্বে বড়সড় জয় নিয়ে বাংলাদেশে ক্ষমতা ফিরতে পারে তারেক রহমানের বিএনপি। এমনই আশা করা হচ্ছে। এর আগে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ভোট মিটলে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হয় কি না , সেদিকেই নজর রাখছে দিল্লি।

  • EU Chief: “আমরা একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে”, বললেন ইইউ প্রধান

    EU Chief: “আমরা একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে”, বললেন ইইউ প্রধান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।” মঙ্গলবার দাভোসে এ কথাই বললেন ইইউয়ের প্রধান (EU Chief) উরসুলা ফন ডার লায়েন। তিনি বলেন, “এখনও কিছু কাজ বাকি রয়েছে। তবে আমরা একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির (FTA) দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছি। কেউ কেউ একে সব চুক্তির জননী বলছেন। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি বাজার গড়ে উঠবে, যা বৈশ্বিক মোট জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশের প্রতিনিধিত্ব করবে।” ইইউর বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ ও বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

    ফন ডার লায়েনের বক্তব্য (EU Chief)

    ফন ডার লায়েন জানান, এই বাণিজ্য উদ্যোগের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগও যুক্ত রয়েছে। দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠক শেষে আগামী সপ্তাহান্তে তিনি ভারত সফরে যাবেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্যই হল, প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তিনি বলেন, “ইউরোপ ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করা এবং সহযোগিতা গভীর করার জন্য এখনও উল্লেখযোগ্য কাজ বাকি রয়েছে।” উরসুলা ফন ডার লায়েন (EU Chief) ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানে অন্যতম প্রধান অতিথি। ভারত সফরকালে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও লুইস সান্তোস দা কস্তার সঙ্গে তিনি যৌথভাবে ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ১৬তম ভারত-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের সভাপতিত্বও করবেন।

    প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি

    ভারতের সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তিকে ইউরোপের বৈশ্বিক কৌশলের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে ফন ডার লায়েন বলেন, “ইউরোপ বিশ্বজুড়ে অংশীদারদের সঙ্গে ব্যবসা করতে উন্মুক্ত এবং সক্রিয় সম্পৃক্ততা বজায় রাখবে।”
    তিনি বলেন, “ইউরোপ সব সময় বিশ্বকেই বেছে নেবে, এবং বিশ্বও ইউরোপকে বেছে নিতে প্রস্তুত”। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইইউর দৃঢ় সংকল্পের কথাও বলেন তিনি। প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও জানিয়েছিলেন, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, যার আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, তা হবে ভারতের স্বাক্ষরিত সবচেয়ে বড় চুক্তি। তিনি বলেন, “আমি এখন পর্যন্ত সাতটি চুক্তি সম্পন্ন করেছি, সবই উন্নত অর্থনীতির সঙ্গে। কিন্তু এটি হবে সব চুক্তির জননী।”

    গোয়েল এও বলেন, “আমরা একটি অত্যন্ত ভালো চুক্তি পাচ্ছি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আগ্রহের ক্ষেত্রগুলিতেও আমরা তাদের জন্য আকর্ষণীয় প্রস্তাব দিচ্ছি। এটি অবশ্যই উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক হতে হবে। সবচেয়ে ভালো দিক হল, আমরা একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করি না, আমাদের স্বার্থ ভিন্ন।” গোয়েলের আগে, বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল জানিয়েছিলেন, উভয় পক্ষ ২৪টি অধ্যায়ের মধ্যে ২০টির আলোচনা সম্পন্ন করেছে এবং ২৬ জানুয়ারির (FTA) মধ্যে আলোচনার বাকি অংশ শেষ করার চেষ্টা চলছে (EU Chief)।

  • Pakistan: পাকিস্তানে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ কমান্ডারের

    Pakistan: পাকিস্তানে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ কমান্ডারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে লস্কর-ই-তৈবার (এলইটি) (Lashkar E Taiba) শীর্ষ কমান্ডার আবদুল গফফারের। এর ফলে পাকিস্তানের মাটিতে একের পর এক জঙ্গির অস্বাভাবিক মৃত্যুর তালিকায় তাঁর নাম যুক্ত হল। জানা গিয়েছে, আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটে। তবে তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে পরিস্থিতি এখনও স্পষ্ট নয়, যা নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা মহলে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

    আবদুল গফফার (Pakistan)

    আবদুল গফফারকে লস্কর-ই-তৈবার একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হত। সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। এর আগে একটি ছবিতে তাঁকে দেখা গিয়েছিল লস্কর প্রতিষ্ঠাতা ও আন্তর্জাতিকভাবে ঘোষিত জঙ্গি হাফিজ সইদের ছেলের সঙ্গে। সেই ছবি গফফারের প্রভাব ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের অভ্যন্তরীণ মহলে তাঁর প্রবেশাধিকারকে স্পষ্ট করেছিল।গফফারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর লস্করের শীর্ষ নেতৃত্ব জোর ধাক্কা খেয়েছে বলে সূত্রের দাবি। এমনকি হাফিজ সইদও সম্পূর্ণভাবে হতবাক হয়ে গিয়েছেন। আরও এক শীর্ষ জঙ্গির আকস্মিক মৃত্যু পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে যেসব জঙ্গিগোষ্ঠী লালন-পালন করেছে, সেই গোটা জঙ্গি পরিকাঠামোর মধ্যেই ভয়ের আবহ তৈরি করেছে। গফফারের মৃত্যু একটি সুস্পষ্ট ও ক্রমবর্ধমান ধারার মধ্যেই পড়ছে। ২০২৫ সালের জুন মাসে ‘অর্গানাইজার’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত ৩২ জন জঙ্গি অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হয়েছে, যাদের বড় অংশই পাকিস্তানের ভেতরে মারা গিয়েছে। এদের মধ্যে লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদ এবং পাকিস্তান-সমর্থিত অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের উচ্চমূল্যের অপারেটিভরা রয়েছে, যারা ভারতে জঙ্গি হামলার জন্য দায়ী (Pakistan)।

    একের পর এক খতম

    বিভিন্ন সময় যাঁরা নিহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, সাইফুল্লাহ খালিদ। লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ জঙ্গি, সিন্ধে নিহত হন। বেঙ্গালুরুর আইআইএসসিতে গুলি চালানো এবং রামপুর সিআরপিএফ ক্যাম্পে হামলার মূল চক্রী বলে অভিযুক্ত ছিলেন তিনি (Lashkar E Taiba)। আবু কাতাল। হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, ঝিলমে গুলিতে নিহত হন। মুফতি শাহ মীর। পাকিস্তানের আইএসআই-ঘনিষ্ঠ ধর্মীয় নেতা, কুলভূষণ যাদব অপহরণ মামলায় অভিযুক্ত। খুন হয়েছেন বালুচিস্তানে। মাওলানা কাশিফ আলি। লস্করের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ও হাফিজ সইদের শ্যালক, অজ্ঞাত হামলাকারীদের হাতে নিহত। মুফতি ফয়্যাজ। জইশ-ই-মহম্মদের রিক্রুটার, অজ্ঞাত হামলাকারীদের হাতে মৃত্যু। আবদুল্লাহ শাহিন। লস্করের সিনিয়র (Pakistan) প্রশিক্ষক, রহস্যজনকভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু। হাজি উমর গুল। লস্করের অর্থদাতা,  সহযোগীদের সঙ্গে গুলিতে নিহত। হাবিবুল্লাহ। কুখ্যাত লস্কর রিক্রুটার,  অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের হাতে নিহত। আদনান আহমেদ। ২০১৬ সালের পাম্পোর সিআরপিএফ গণহত্যার মূল চক্রী, করাচিতে নিহত। ইউনুস খান। জইশ-ই-মহম্মদের রিক্রুটার, বাজৌরে গুলিতে নিহত। মোহাম্মদ মুজাম্মিল ও নঈমুর রহমান। লস্করের ক্যাডার,  সিয়ালকোটে গুলিতে নিহত। মওলানা রহিম উল্লাহ তারিক। জইশ-ই-মহম্মদের নেতা, করাচিতে খতম। আক্রম খান ওরফে আক্রম গাজি। লস্করের প্রাক্তন নিয়োগ প্রধান, বাজৌরে নিহত। খাজা শাহিদ। সুনজওয়ান হামলার সঙ্গে যুক্ত,  নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে শিরঃচ্ছিন্ন অবস্থায় উদ্ধার দেহ। আমির সরফরাজ তাম্বা। সরবজিৎ সিং হত্যাকাণ্ডে যুক্ত, লাহোরে নিহত। আসিম জামিল। উগ্রপন্থী ধর্মপ্রচারকের ছেলে, খানেওয়ালে নিহত। দাউদ মালিক। মওলানা মাসুদ আজহারের সহযোগী, উত্তর ওয়াজিরিস্তানে গুলিতে মৃত্যু (Lashkar E Taiba)।

    বিমান ছিনতাইয়ে যুক্ত

    এছাড়াও আইসি-৮১৪ বিমান (Pakistan) ছিনতাই, হিজবুল মুজাহিদিনের লজিস্টিক সহায়তা এবং পাকিস্তান থেকে পরিচালিত বিভিন্ন চরমপন্থী সেলের সঙ্গে যুক্ত বহু জঙ্গি একইভাবে অজ্ঞাত হামলাকারীদের হাতে নিহত হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডগুলি পাকিস্তানের জঙ্গি পরিকাঠামোর ভঙ্গুর ভিতকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। কয়েক দশক ধরে রাষ্ট্রীয় আশ্রয়ে দায়মুক্তির সঙ্গে কাজ করা জঙ্গি নেতারা এখন একের পর এক হিংস্র পরিণতির মুখোমুখি হচ্ছেন, যার ব্যাখ্যা বা স্বচ্ছ তদন্ত পাকিস্তান কোনওটিই করছে না। রহস্যজনক সড়ক দুর্ঘটনা, আকস্মিক গুলি চালানো এবং অজানা হামলা এখন যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

    দীর্ঘায়িত হচ্ছে তালিকা

    আবদুল গফফারের মৃত্যু আরও একবার এই ধারণাকে জোরালো করল যে, পাকিস্তান ক্রমশই সেই শক্তিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে, যাদের একসময় সে নিজেই সৃষ্টি করেছিল ও আশ্রয় দিয়েছিল। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার লড়াই বা নীরব ‘ক্লিন-আপ অপারেশন’, কারণ যাই হোক না কেন, ফল একই- শীর্ষ জঙ্গিরা একে একে খতম হচ্ছে (Lashkar E Taiba)। মৃত চরমপন্থীদের তালিকা যত দীর্ঘ হচ্ছে, বার্তাও তত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকতায় বেড়ে ওঠা সন্ত্রাসের বাস্তুতন্ত্র এখন নিজের দিকেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এতে সংগঠনের কমান্ডাররাই হয়ে উঠছেন সবচেয়ে বেশি অ-সুরক্ষিত। সেই তালিকায়ই সর্বশেষ সংযোজন, আবদুল গফফার (Pakistan)।

     

  • EU: ট্রাম্পের নয়া শুল্ক আরোপ, প্রতিশোধ নিতে তৈরি হচ্ছে ইউরোপ!

    EU: ট্রাম্পের নয়া শুল্ক আরোপ, প্রতিশোধ নিতে তৈরি হচ্ছে ইউরোপ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (EU) ঘোষিত নয়া শুল্ক আরোপের পর তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী বাণিজ্যিক প্রতিশোধমূলক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে (US Tariffs) ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গ্রিনল্যান্ডকে সমর্থন করা ইউরোপীয় দেশগুলির বিরুদ্ধে এই শুল্ক আরোপের ঘোষণার ফলে ২৭ সদস্যের এই জোটের নেতাদের মধ্যে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে এবং এর মধ্যে দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইউরোপ সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

    গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি (EU)

    এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিকে ঘিরে প্রথমবারের মতো ইইউ তাদের তথাকথিত ‘ট্রেড বাজুকা’ ব্যবহারের কথা ভাববে। শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন এবং ব্রিটেন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কোনও সমঝোতা না হলে ১ জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।” ট্রাম্প দাবি করেন, ডেনমার্কের অধীনস্থ এই ভূখণ্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। গ্রিনল্যান্ডের পক্ষে এসব ইউরোপীয় দেশের অবস্থানের পরেই এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং ওয়াশিংটন ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে বিরোধ তীব্রতর হয়েছে।

    ট্রেড বাজুকা’

    ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার ফলে কূটনৈতিক সম্পর্কে দ্রুত চাপ সৃষ্টি হয় এবং রবিবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় দেশগুলির প্রতিনিধিদের জরুরি বৈঠকে ডাকা হয় (US Tariffs)। বৈঠকে তাৎক্ষণিক পাল্টা পদক্ষেপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ বলেন, “ইইউর ‘ট্রেড বাজুকা’ প্রথমবারের মতো ব্যবহারের এখনই সময় (EU)।” ‘ট্রেড বাজুকা’ বলতে বোঝানো হয় অ্যান্টি-কোয়ার্শন ইনস্ট্রুমেন্ট (ACI)—একটি ব্যবস্থা, যার লক্ষ্য ইইউকে অ-ইইউ দেশগুলির অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় আরও সক্ষম করে তোলা। এই ব্যবস্থার আওতায় ইইউ পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে পারবে, ইউরোপের একক বাজারে মার্কিন কোম্পানিগুলির প্রবেশ সীমিত করতে পারবে এবং লাভজনক ইইউ চুক্তির দরপত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলির অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করতে পারবে। এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্যই হল স্পষ্ট বার্তা দেওয়া—ইইউ তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইইউ কর্তারা জানিয়েছেন, ‘ট্রেড বাজুকা’ কেবল শুল্ক আরোপেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এর মধ্যে রফতানি নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধও থাকতে পারে (EU)।

    সাময়িক বাণিজ্য সমঝোতা

    জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সাময়িক বাণিজ্য সমঝোতার কারণে যে ৯৩ বিলিয়ন ইউরোর পাল্টা শুল্ক আরোপ স্থগিত (US Tariffs) রাখা হয়েছিল, ইইউ এখন সেগুলি কার্যকর করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে। ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বর্তমান পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগের কোনও বিরোধেই এত কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপের কথা ভাবা হয়নি (EU)। পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ আলোচনার ওপর। তবে ইউরোপীয় নেতারা স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি শুল্কের হুমকি বহাল রাখে বা আরও বাড়ায়, তাহলে তারা দ্রুত পদক্ষেপ করতে প্রস্তুত। ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় রবিবার আটটি ইউরোপীয় দেশ যৌথ বিবৃতি দিয়ে গ্রিনল্যান্ডের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের সঙ্গে সম্পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি।” এতে আর্কটিক অঞ্চলে যৌথ নিরাপত্তা স্বার্থের কথাও জোর দিয়ে উল্লেখ করা হয়।

    আর্কটিক নিরাপত্তা

    ন্যাটোর সদস্য দেশগুলি জানায়, আর্কটিক নিরাপত্তা জোরদার করাকে তারা একটি অভিন্ন ট্রান্স-আটলান্টিক অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে (EU)। বিবৃতিতে এই বলেও সতর্ক করা হয়, ওয়াশিংটনের শুল্ক হুমকি দীর্ঘদিনের মিত্রতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং এর ফলে ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কে একটি বিপজ্জনক নিম্নমুখী চক্র শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে (US Tariffs)। ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কোস্তা বলেন, “নতুন শুল্ক হুমকির মুখে আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় ইইউ কঠোর অবস্থান নেবে। ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লেয়েনও একই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “শুল্ক আরোপ ইউরোপ–আমেরিকার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।” এদিকে, ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রবিবার ফোনে ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ন্যাটোভুক্ত মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা ভুল এবং এটি ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ককে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে (EU)।”

    ডাউনিং স্ট্রিটের বিবৃতি

    ডাউনিং স্ট্রিটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “উত্তর মেরু অঞ্চলের নিরাপত্তা ইউরো-আটলান্টিক স্বার্থ রক্ষার জন্য সব ন্যাটো মিত্রেরই অগ্রাধিকার।” এতে আরও বলা হয়, যৌথ ন্যাটো নিরাপত্তা জোরদারের চেষ্টা করার জন্য মিত্রদের ওপর শুল্ক চাপানো কোনওভাবেই যুক্তিযুক্তি ন্যায্য নয় (US Tariffs)। ইইউ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কোনও আপসের পথে হাঁটতে রাজি নয় তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকির জবাবে ইইউ নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা স্থগিত রাখবেন। গত বছরের জুলাই মাসে শুরু হওয়া এই আলোচনা স্থগিত বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন ইউরোপীয় পিপলস পার্টির সহ-সভাপতি সিগফ্রিড মুরেসেন (EU)। মুরেসেন জানান, ইইউ দ্রুত আমেরিকার সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত ছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইইউয়ে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার কথা ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করা। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আপাতত ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    বাণিজ্য আলোচনা

    প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা শুরু হয়েছিল গত বছরের জুলাই মাসে। একে ট্রান্সআটলান্টিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েই গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে(EU)। ট্রাম্পের দাবি, আর্কটিক অঞ্চলে চিন ও রাশিয়া তাদের প্রভাব বাড়াচ্ছে। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের মতে, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও বিপুল খনিজ সম্পদ একে আমেরিকার নিরাপত্তা স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে (US Tariffs)। ডেনমার্ক ও ইইউ ট্রাম্পের এই প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় জার্মানি, সুইডেন ও ফ্রান্স গ্রিনল্যান্ডে ছোট আকারের সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে বলেও অসমর্থিত একটি সূত্রের খবর। তাদের আশঙ্কা, ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপের মতো ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতেও আরও আক্রমণাত্মক কোনও পদক্ষেপ নিতে পারেন। ডেনমার্কও ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে।

    উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা

    কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ সতর্ক করে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যদি ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপ নেন, তাহলে উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (ন্যাটো) ভেঙে পড়তে পারে। একই সঙ্গে ইইউ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বিবেচনা করছে বলে জানা গিয়েছে (US Tariffs)। উল্লেখ্য, এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে গুগল, মেটা এবং এক্সের মতো মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। কারণ ইউরোপজুড়ে তাদের বিশাল ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িত। ইউরোপীয় কর্তাদের মতে, ওয়াশিংটনকে আরও উত্তেজনা বাড়ানো থেকে বিরত রাখতে শক্ত অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা জরুরি হতে পারে।

    ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মার্কিন ভোক্তারাই

    এদিকে, একাধিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের ফলে ইউরোপের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মার্কিন ভোক্তারাই। কারণ চড়া শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইউরোপীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। লেগো ও ফেরারির মতো বিলাসবহুল ও জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের দাম ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এই ক্রমবর্ধমান বিরোধ ন্যাটোর ভাঙন ঘটাতে পারে এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকেও আরও দুর্বল করে তুলতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক দেশই মনে করে আন্তর্জাতিক অংশীদার হিসেবে ট্রাম্পকে বিশ্বাস করা যায় না (US Tariffs)। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে কোনও চুক্তিতে পৌঁছনো বুদ্ধিমানের কাজ হবে না বলেও অভিমত। কারণ এই ধরনের অবস্থার মধ্যে আলোচনা চালিয়ে গেলে তা মার্কিন প্রশাসনের আরও একতরফা ও অস্থিতিশীল পদক্ষেপকে উৎসাহিত করবে বলেই আশঙ্কা।

     

  • Pak Forces: ৪০টি মসজিদ ধ্বংস করেছে পাকিস্তান, বিস্ফোরক বালোচ নেতা

    Pak Forces: ৪০টি মসজিদ ধ্বংস করেছে পাকিস্তান, বিস্ফোরক বালোচ নেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pak Forces) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বালোচ (Balochistan) জাতির শীর্ষ নেতা তথা মানবাধিকারকর্মী মীর ইয়ার বালোচ। ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশে একের পর এক মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে। মীর বলেন, “ইসলামাবাদ যখন পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর (পিওজেকে)-তে মসজিদ ‘প্রোফাইলিং’-এর অভিযোগ তুলে ভারতের সমালোচনা করছে, তখন একই সময়ে পাক সেনাবাহিনী বালুচিস্তানে প্রায় ৪০টি মসজিদ ধ্বংস করেছে।”

    পাকিস্তানকে তোপ (Pak Forces)

    কাশ্মীর জুড়ে মসজিদ, ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটিগুলির তথ্য সংগ্রহ বা প্রোফাইলিং করার ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনার প্রেক্ষিতেই মীর এই মন্তব্য করেন। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। ইসলামাবাদের ভিত্তিহীন ক্ষোভের তীব্র নিন্দা করে এই বালোচ নেতা বলেন, “পাকিস্তান একটি সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র এবং দেশটি হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিপীড়নে জড়িত”। এক্স হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে তিনি বলেন, “রিপাবলিক অব বালুচিস্তান পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারতের নীতিগত অবস্থানের পাশে সম্পূর্ণভাবে রয়েছে। যখন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ধর্মীয় ও জেহাদি উগ্রপন্থীদের ব্যবহার করে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের দমন ও ভীতিপ্রদর্শনের হাতিয়ার বানায়, তখন পাকিস্তানের কোনও নৈতিক অধিকার নেই ভারত, বালুচিস্তান, আফগানিস্তান বা অন্য কাউকে সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে উপদেশ দেওয়ার।”

    কী বললেন বালোচ নেতা

    মীর এও বলেন, “পাকিস্তানের বহিরাগত শক্তি বালুচিস্তান প্রজাতন্ত্রে প্রায় ৪০টি মসজিদ ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সরাসরি মসজিদে বোমা হামলা, কোরআন পোড়ানো এবং মসজিদের ইমাম বা প্রধানদের অপহরণ (Pak Forces)।” তিনি জানান, প্রথম শিকার হয়েছিল বালুচিস্তান প্রজাতন্ত্রের শাসকের মসজিদ, কালাতের খানের মসজিদ। প্রতিবেশী পাকিস্তানের আক্রমণকারী সেনাবাহিনী ট্যাঙ্ক নিয়ে ঢুকে সাধারণ মানুষের ওপর গোলাবর্ষণ ও কামানের শেল নিক্ষেপ করেছিল। আজও কালাতের খানের মসজিদে মর্টার শেলের চিহ্ন দেখা যায়, যা পাকিস্তানের নিষ্ঠুরতা, দখলদারিত্ব এবং অ-ইসলামিক আচরণের প্রমাণ।

    বালুচিস্তান পাকিস্তানের খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ হলেও অনুন্নত একটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ, যার সীমানা ইরানের সঙ্গে যুক্ত। বালোচ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সূচনা কয়েক দশক আগে, যেখানে বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন, প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং সম্পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি জানানো হয়। এই বিদ্রোহ কখনও তীব্র হয়েছে, কখনও কিছুটা কমেছে, তবে ইসলামাবাদের জন্য এটি দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গিয়েছে।

    ২০২৫ সালের মে মাসে বালোচ জাতীয়তাবাদী নেতারা পাকিস্তান থেকে বালুচিস্তানের (Balochistan) স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তবে অঞ্চলটি এখনও অস্থির। পাকিস্তানি সেনা ও বিদেশি প্রকল্পগুলিকে লক্ষ্য করে বিদ্রোহ অব্যাহত রয়েছে, যার মধ্যে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (Pak Forces) (সিপিইসি)-এর প্রকল্পগুলিও রয়েছে।

  • Hindu Businessman: বাংলাদেশে ফের খুন হিন্দু ব্যবসায়ী, পিটিয়ে হত্যা ৫৫ বছরের লিটন ঘোষকে

    Hindu Businessman: বাংলাদেশে ফের খুন হিন্দু ব্যবসায়ী, পিটিয়ে হত্যা ৫৫ বছরের লিটন ঘোষকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিবেশীর বাগান থেকে চুরি গিয়েছে কলার কাঁদি। তার জেরে নিছক সন্দেহের বশে শনিবার এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে (Hindu Businessman) খুন করা হল। বাংলাদেশের (Bangladesh) গাজিপুর জেলার ঘটনায় চাঞ্চল্য। মৃতের নাম লিটন চন্দ্র ঘোষ, বয়স ৫৫। কালীগঞ্জ এলাকায় রয়েছে তাঁর ‘বৈশাখী সুইটমিট অ্যান্ড হোটেল’। সেখানে এসেই দুষ্কৃতীরা পিটিয়ে মারে তাঁকে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পুলিশ একই পরিবারের তিন সদস্যকে আটক করেছে। তারা হল স্বপন মিঞা, তার স্ত্রী মাজেদা খাতুন এবং তাদের ছেলে মাসুম মিঞা।

    বচসা থেকে হাতাহাতি (Hindu Businessman)

    পুলিশ জানিয়েছে, মাসুমের একটি কলার বাগান রয়েছে। সেখান থেকে খোয়া যায় এক কাঁদি কলা। কলার খোঁজে করতে বেরিয়ে সে লিটনের হোটেলে পৌঁছে যায়। সেখানেও কলা ঝোলানো ছিল। সেই কলার কাঁদি তারই বাগানের বলে দাবি করতে থাকে মাসুম। এ নিয়েই দুপক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা শুরু হয়। পরে মাসুম ফিরে যায়। সকাল ১১টা নাগাদ মাসুম ফের হোটেলে এসে একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে হোটেলের এক কর্মচারীর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পরে মাসুমের বাবা-মাও ওই হোটেলে এসে হাজির হয়। তার পরেই শুরু হয় হাতাহাতি (Hindu Businessman)।

    অভিযুক্তরা লিটনকে ঘুষি ও লাথি

    পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা লিটনকে ঘুষি ও লাথি মারে। মারের চোটে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন লিটন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।এই ঘটনাটি এমন একটা সময়ে ঘটল, যখন বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে দেশে অন্তত ১৫ জন সংখ্যালঘু হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে, যা বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তবে এই ঘটনাটি বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক (Bangladesh) হিংসার ধারাবাহিকতার সঙ্গে যুক্ত কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেননি। লিটনের মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে অভিযুক্তদের (Hindu Businessman)।

    বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হিন্দু-নিধন…

    • ২ ডিসেম্বর: ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলায় ৩৫ বছর বয়সি হিন্দু মাছ ব্যবসায়ী উৎপল সরকারকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
    • ২ ডিসেম্বর: বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলায় ৪২ বছর বয়সি হিন্দু স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রণতোষ কর্মকারকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৭ ডিসেম্বর: রংপুর নিবাসী মুক্তিযোদ্ধা ৭৫ বছর বয়সি যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়কে তাঁদের বাড়িতে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
    • ১২ ডিসেম্বর: কুমিল্লা জেলায় ১৮ বছর বয়সি হিন্দু অটোরিকশা চালক শান্ত চন্দ্র দাসকে খুন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁর গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল এবং মরদেহটি একটি ভুট্টাক্ষেতে ফেলে রাখা হয়।
    • ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫: ময়মনসিংহে (ধর্ম অবমাননার অভিযোগে) দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করে জনতা।
    • ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫: রাজবাড়িতে জনতা অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যা করে।
    • ২৯-৩০ ডিসেম্বর ২০২৫: বজেন্দ্র বিশ্বাসকে (পোশাক কারখানায় কর্তব্যরত অবস্থায়) গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫: শরীয়তপুরে খোকন চন্দ্র দাসকে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং তারপর পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলা হয়। ৩ জানুয়ারি তিনি হাসপাতালে মারা যান।
    • ৫ জানুয়ারি ২০২৬: যশোরে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৫ জানুয়ারি ২০২৬: নরসিংদীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয় শরৎ চক্রবর্তী মণিকে।
    • ১১ জানুয়ারি ২০২৬: এক দল উন্মত্ত জনতা পিটিয়ে মেরে ফেলে বছর আঠাশের সমীর কুমার দাসকে। হামলার পর দুষ্কৃতীরা তাঁর অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
    • ১৬ জানুয়ারি ২০২৬: রাজবাড়ী জেলায় পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানির দাম না দিয়ে পালানোর সময় চলন্ত গাড়িকে আটকাতে গেলে চাপা দেওয়া হয় পেট্রোল পাম্পের কর্মী হিন্দু যুবক রিপন সাহাকে।
    • ১৭ জানুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশের গাজিপুর জেলার কালীগঞ্জে কলা নিয়ে বিবাদের জেরে হিন্দু ব্যবসায়ী লিটন চন্দ্র যোষকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
  • Donald Trump: আট ইউরোপীয় দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা ট্রাম্পের

    Donald Trump: আট ইউরোপীয় দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ইচ্ছের বিরোধিতা করায় এবার আটটি ইউরোপীয় দেশের (European Countries) বিরুদ্ধে নতুন করে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। শনিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক-সহ সাতটি ইউরোপীয় দেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে গ্রিনল্যান্ড, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, সম্পূর্ণ ও চূড়ান্তভাবে কেনার বিষয়ে কোনও চুক্তি না হলে, ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে সেই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।

    গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের ভূখণ্ডগত অধিকার (Donald Trump)

    ডেনমার্ক ছাড়াও যে সাতটি দেশের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হবে, সেগুলি হল নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড। এসব দেশ গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের ভূখণ্ডগত অধিকারের পক্ষে প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়েছে।ট্রাম্প বলেন, “২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই সব দেশ ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সব ধরনের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।”

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা

    ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করে এসব দেশ যে পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলিকে তিনি বিপজ্জনক বলে মনে করেন। জাতীয় নিরাপত্তা, উন্নত অস্ত্রব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক শান্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এর প্রতিক্রিয়ায়ই এই শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। ট্রাম্প ডেনমার্কের বিরুদ্ধে গ্রিনল্যান্ডের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তোলেন এবং বলেন, দেশটি মাত্র দুটি কুকুর-টানা স্লেজকে নিরাপত্তা হিসেবে ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, চিন ও রাশিয়া দ্বীপটির জন্য হুমকি স্বরূপ হয়ে উঠছে (Donald Trump)।

    গ্রিনল্যান্ড সফর

    ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডকে লক্ষ্য করে ট্রাম্প দাবি করেন (European Countries), এসব দেশের সাম্প্রতিক গ্রিনল্যান্ড সফর আমাদের গ্রহের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও অস্তিত্বের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তিনি এও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র গত ১৫০ বছর ধরে গ্রিনল্যান্ড কেনার চেষ্টা করে আসছে। বহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন, কিন্তু প্রতিবারই ডেনমার্ক তা প্রত্যাখ্যান করেছে।” ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে কোনও শুল্ক আরোপ না করেই এসব দেশকে ভর্তুকি দিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতার সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়টি যুক্ত করেন এবং বলেন, “সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচির আওতায় গ্রিনল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি (European Countries)।”

    কী বললেন ট্রাম্প

    ট্রাম্প বলেন, “এখন গোল্ডেন ডোম এবং আধুনিক যুগের আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রব্যবস্থার কারণে অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ‘দ্য ডোম’-সংক্রান্ত নিরাপত্তা কর্মসূচিতে শত শত বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করা হচ্ছে, যার মধ্যে কানাডার সম্ভাব্য সুরক্ষাও অন্তর্ভুক্ত। এই অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত কিন্তু জটিল ব্যবস্থা কোণ, পরিমাপ ও সীমানার কারণে কেবল তখনই সর্বোচ্চ সক্ষমতা ও দক্ষতায় কাজ করতে পারে, যখন এই ভূখণ্ড এর অন্তর্ভুক্ত হয় (Donald Trump)।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “ডেনমার্ক এবং অথবা সংশ্লিষ্ট যে কোনও দেশের সঙ্গে এই বিষয়ে অবিলম্বে আলোচনায় বসতে আমেরিকা প্রস্তুত।” তাঁর অভিযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক দশক ধরে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দান-সহ যা কিছু করেছে, তা সত্ত্বেও এসব দেশ অনেক কিছু ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে (European Countries)।

     

LinkedIn
Share