Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • PM Modi: “ইহুদি সম্প্রদায় ভারতীয় সমাজে পূর্ণাঙ্গভাবে অংশগ্রহণ করেছে”, ইজরায়েলের সংসদে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “ইহুদি সম্প্রদায় ভারতীয় সমাজে পূর্ণাঙ্গভাবে অংশগ্রহণ করেছে”, ইজরায়েলের সংসদে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতে নির্যাতন বা বৈষম্যের ভয় ছাড়াই বসবাস করেছে ইহুদি সম্প্রদায়।” বুধবার এমনই বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তিনি বলেন, “ইহুদি সম্প্রদায়, নিজেদের ধর্মবিশ্বাস সংরক্ষণ করেছে এবং সমাজে পূর্ণাঙ্গভাবে অংশগ্রহণ করেছে, এবং এই ইতিহাস আমাদের গর্বের উৎস।”

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী? (PM Modi)

    ইজরায়েলি পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এ ভাষণ দিতে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতে ইজরায়েলের দৃঢ়তা, সাহস এবং সাফল্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।” তিনি বলেন, “আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে আমরা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের বহু আগেই, দু হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো বন্ধনে আমরা যুক্ত ছিলাম। ‘বুক অফ এসথার’-এ (বাইবেলের ‘এস্থার পুস্তক’। হিব্রু বাইবেল এবং ওল্ড টেস্টামেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ বই)  ভারতের উল্লেখ রয়েছে ‘হোদু’ নামে। তালমুদে প্রাচীনকালে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের বিবরণ আছে। ইহুদি বণিকেরা ভূমধ্যসাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা সমুদ্রপথে যাতায়াত করতেন। তাঁরা সুযোগ ও মর্যাদার সন্ধানে এসেছিলেন। আর ভারতে এসে তাঁরা আমাদেরই একজন হয়ে গিয়েছিলেন।” তিনি বলেন, “ইহুদি সম্প্রদায় ভারতে নির্যাতন বা বৈষম্যের ভয় ছাড়াই বসবাস করেছে। তারা নিজেদের ধর্মবিশ্বাস রক্ষা করেছে এবং সমাজ গঠনে পূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করেছে। এই ইতিহাস আমাদের গর্বের বিষয় (PM Modi)।”

    ইহুদিদের অবদান

    প্রধানমন্ত্রী জানান, মহারাষ্ট্রের বেনে ইজরায়েল, কেরলের কোচিনি ইহুদি, কলকাতা ও মুম্বইয়ের বাগদাদি ইহুদি এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বনে মেনাশে—এঁরা সবাই ভারতের সমৃদ্ধিতে অবদান রেখেছেন (India Israel Link)। তিনি বলেন, “আমার নিজ রাজ্য গুজরাটে বেনে ইজরায়েলি এক পরিবার—মিস্টার ও মিসেস বেস্ট—একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এটি একটি চমৎকার বিদ্যালয়, এবং অবশ্যই এর নাম ‘বেস্ট স্কুল’!” প্রধানমন্ত্রী জানান, এডউইন মায়ার্স ভারতের ফিল্মস ডিভিশনকে রূপ দিয়েছিলেন এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি ছিলেন এক বিশাল ব্যক্তিত্ব। ডক্টর রিউবেন ডেভিড ছিলেন আহমেদাবাদের কঙ্কারিয়া চিড়িয়াখানার প্রতিষ্ঠাতা। অভিনেতা ডেভিড আব্রাহাম চেউলকর, যিনি ‘আঙ্কল ডেভিড’ নামে পরিচিত, সারা দেশে এক পরিচিত নাম হয়ে ওঠেন। ওয়াল্টার কাউফম্যান অল ইন্ডিয়া রেডিওর স্বাক্ষর সুর রচনা করেন। ডেভিড সাসুন বহু প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যা আজও ভারতীয় সমাজকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে (PM Modi)।

    প্রাণবন্ত ইহুদি সম্প্রদায়

    তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেএফআর জেকবের বীরত্বপূর্ণ অবদান সুপরিচিত। অবসর গ্রহণের পর তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। বহু কাপ চায়ের আড্ডায় আমরা ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক-সহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আরও অগণিত ব্যক্তি আছেন, যাঁদের অবদান ভারতের (PM Modi) সমৃদ্ধ জীবনবুননে গাঁথা রয়েছে (India Israel Link)।” প্রধানমন্ত্রী জানান, বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বহু ভারতীয় ইহুদি ইজরায়েলে পাড়ি জমান। তিনি বলেন, “আজ এখানে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক প্রাণবন্ত ইহুদি সম্প্রদায় বাস করছে। তাঁরা আধুনিক ইজরায়েল গঠনে—গবেষণাগার ও হাসপাতাল, শ্রেণিকক্ষ এবং যুদ্ধক্ষেত্র—সব জায়গায় অবদান রেখেছেন। তাঁরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, ইজরায়েল তাঁদের পিতৃভূমি, ভারত তাদের মাতৃভূমি। আমরা তাঁদের নিয়ে গর্বিত।”

    ইজরায়েল-ভারত সম্পর্ক

    তিনি (PM Modi) বলেন, “এই ভূমির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক রক্ত ও আত্মত্যাগেও লেখা আছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এই অঞ্চলে চার হাজারেরও বেশি ভারতীয় সৈনিক প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন। ১৯১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হাইফায় অশ্বারোহী বাহিনীর আক্রমণ সামরিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় (India Israel Link)।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মেজর ঠাকুর দলপত সিং, যিনি ‘হাইফার নায়ক’ হিসেবে স্মরণীয়, এই যৌথ ইতিহাসের প্রতীক।” তিনি এও বলেন, “আমার শেষ সফরে ভারতীয় সৈনিকদের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে পেরে আমি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হয়েছিলাম।”

    হলোকাস্ট

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গত মাসে আন্তর্জাতিক হলোকাস্ট স্মরণ দিবস পালন করেছে বিশ্ব। তিনি বলেন, “হলোকাস্ট মানব ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলির একটি। তবু সেই অস্থির সময়েও মানবতার কিছু উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখা গিয়েছিল। গুজরাটের নওয়ানগড়ের মহারাজা, যিনি জাম সাহেব নামেও পরিচিত, পোলিশ শিশুদের, যাদের মধ্যে ইহুদি শিশুরাও ছিল, আশ্রয় দিয়েছিলেন, যখন তাদের যাওয়ার আর কোথাও ছিল না। আমি জেনেছি, সম্প্রতি মোশাভ নেভাতিমে জাম সাহেবের একটি মূর্তি উন্মোচন করা হয়েছে (India Israel Link)। এই সম্মান ও স্মরণার্থে আপনাদের ধন্যবাদ (PM Modi)।”

  • PM Modi: ইজরায়েলে পৌঁছলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী, বিমানবন্দরেই বৈঠক নেতানিয়াহুর সঙ্গে

    PM Modi: ইজরায়েলে পৌঁছলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী, বিমানবন্দরেই বৈঠক নেতানিয়াহুর সঙ্গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ইজরায়েলের তেল আভিভে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণে এই সফর মোদির। সফরের লক্ষ্য হল দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দৃঢ় ও বহুমাত্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা (Israel)।

    গার্ড অব অনার (PM Modi)

    বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর প্রধানমন্ত্রী মোদিকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তাঁর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুকে সঙ্গে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন, যা দুই নেতার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। বিমানবন্দরে পৌঁছেই দুই প্রধানমন্ত্রী উষ্ণ আলিঙ্গন বিনিময় করেন। ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজারও প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। সফরের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি এই সফরকে দুই দেশের দৃঢ় ও বহুমাত্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার একটি সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন (PM Modi)।

    বিমানবন্দরেই বৈঠক

    বিবৃতিতে বলা হয়, “ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে দৃঢ় ও বহুমাত্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ও গতিশীলতার সাক্ষী হয়েছে।” এতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির কথাও তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী এও বলেন, “বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার অপেক্ষায় আছি (PM Modi)।” এদিন, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে মোদিকে আনুষ্ঠানিক স্বাগত অনুষ্ঠান শেষে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জেরুজালেমে মোদির কেনেসেট ভাষণের আগে বিমানবন্দরেই একটি বৈঠকে বসেন (Israel)।

    প্রকৃত বন্ধুত্ব

    নেতানিয়াহু হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, “এটি একটি বন্ধন, একটি প্রকৃত বন্ধুত্ব।” দফতরের প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তিনি মোদিকে “আমার মহান বন্ধু” বলে সম্বোধন করেন, যার জবাবে মোদি হেসে প্রতিক্রিয়া জানান (PM Modi)। এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “ইসরায়েলে পৌঁছেছি। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও মিসেস নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে আমাকে অভ্যর্থনা জানানোয় আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও ফলপ্রসূ ফলাফলের মাধ্যমে ভারত-ইসরায়েল বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে আমি আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি।”

     

  • Israels: ভারতকে সঙ্গে নিয়ে হেক্সাগন প্রস্তাব নেতানিয়াহুর, প্রমাদ গুণছে পাকিস্তান!

    Israels: ভারতকে সঙ্গে নিয়ে হেক্সাগন প্রস্তাব নেতানিয়াহুর, প্রমাদ গুণছে পাকিস্তান!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্যালেস্তাইন প্রশ্নে ইসলামাবাদের আপসহীন অবস্থান এবং ইজরায়েলের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা ‘হেক্সাগন অব অ্যালায়ান্সেস’ প্রস্তাবের (Israels) বিরোধিতাকে আরও উসকে দিল। ইজরায়েল প্রস্তাবিত নতুন কৌশলগত কাঠামো ‘হেক্সাগন অব অ্যালায়ান্সেসে’ ভারতকে প্রকাশ্যে একটি (Pakistan) গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এতে পশ্চিম এশিয়া এবং তার বাইরেও পরিবর্তিত শক্তির সমীকরণ নিয়ে ইসলামাবাদের গভীর অস্বস্তি স্পষ্ট হয়েছে।

    ইসলামাবাদের প্রতিক্রিয়া (Israels)

    ইসলামাবাদের প্রতিক্রিয়া ছিল অস্বাভাবিক দ্রুত এবং কঠোর ভাষায়। মঙ্গলবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সেনেট ‘হেক্সাগন অব অ্যালায়ান্সেস’ প্রত্যাখ্যান করে একটি প্রস্তাব পাস করেছে বলে পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। সেনেট এই পরিকল্পনাকে অভিহিত করেছে “ইজরায়েলি দখলদার শক্তির নেতৃত্বের এক নিকৃষ্ট প্রবণতা, যা রাজনৈতিক ও আদর্শের ভিত্তিতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ন করতে চায়।” প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) পালওয়াশা মোহাম্মদ জাই খান। প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়, যা এই উদ্যোগের নিন্দায় বিরল রাজনৈতিক ঐক্যের ইঙ্গিত দেয়। প্রস্তাব নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পিপিপির এক নেতা বলেন, “ইসলামাবাদ ইজরায়েলি নেতৃত্বের অব্যাহত উসকানিমূলক পদক্ষেপ ও বিবৃতির তীব্র নিন্দা জানায়, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে, বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলির বিরুদ্ধে জোট গঠনের সাম্প্রতিক বক্তব্য (Israels)।”

    পাকিস্তানের সেনেটে নিন্দা

    পাকিস্তানের সেনেট শুধু জোট কাঠামোর নিন্দাতেই থেমে থাকেনি। ডন পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা “ভ্রাতৃপ্রতিম ইসলামি দেশগুলির সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা খর্ব করার যে কোনও ইজরায়েলি প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে (Pakistan)।” প্রস্তাবে ইজরায়েলের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ—সোমালিল্যান্ডকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত—নিয়েও তীব্র সমালোচনা করা হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইজরায়েল বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়। এর পর পাকিস্তান অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) এবং আরও ২০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে একযোগে এই পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করে, একে “আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি প্রকাশ্য ও স্পষ্ট অবজ্ঞা” বলে অভিহিত করে। সেনেট প্যালেস্তাইনের “অবিচ্ছেদ্য” আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের প্রতি ইসলামাবাদের “অটল” সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে এবং ১৯৬৭-পূর্ব সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি “স্বাধীন, কার্যকর ও ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত” প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়। পাশাপাশি “অধিকৃত অঞ্চল” থেকে পূর্ণ ইজরায়েলি প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয় (Israels)।

    ‘হেক্সাগন অব অ্যালায়ান্সেস’

    ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের আগে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের কৌশলগত ভিশনের অংশ হিসেবে ‘হেক্সাগন অব অ্যালায়ান্সেস’ ধারণা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এটি এমন দেশগুলিকে একত্রিত করবে যারা পশ্চিম এশিয়া ও তার আশপাশে উগ্রবাদী শক্তি ও অন্যান্য নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে একই মনোভাব পোষণ করে (Pakistan)। প্রস্তাবিত জোটে ইজরায়েল, ভারত, গ্রিস ও সাইপ্রাসের পাশাপাশি কয়েকটি আরব, আফ্রিকান ও এশীয় দেশ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, নেতানিয়াহু বলেন, “আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে আমরা পশ্চিম এশিয়ার ভেতরে বা চারপাশে এক ধরনের ‘হেক্সাগন’ জোটব্যবস্থা গড়ে তুলব।” তিনি আরও বলেন, “উদ্দেশ্য হল এমন একটি দেশসমূহের অক্ষ তৈরি করা, যারা বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য নিয়ে একমত—উগ্র শিয়া অক্ষ, যাকে আমরা কঠোরভাবে আঘাত করেছি, এবং উদীয়মান উগ্র সুন্নি অক্ষের বিরুদ্ধে।”

    জোটের কাজ

    এই জোট তিনটি মূল ক্ষেত্রে কাজ করবে—অর্থনৈতিক সহযোগিতা, কূটনৈতিক সমন্বয় ও নিরাপত্তা সহযোগিতা। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভারত–মধ্যপ্রাচ্য–ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডরের মতো উদ্যোগের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক। ইজরায়েলি নেতৃত্ব এটিকে ইরান ও তার আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক—যেমন হিজবুল্লাহ ও হুথি, যাদের সম্মিলিতভাবে “অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স” বলা হয়—এর প্রভাব মোকাবিলার দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো হিসেবে দেখছে। ইসলামাবাদের উদ্বেগের মূল কারণ হল ‘হেক্সাগন অব অ্যালায়ান্সেসে’ ভারতকে একটি কৌশলগত স্তম্ভ হিসেবে প্রকাশ্যে উল্লেখ করা। পাকিস্তান মনে করে, ইসরায়েল-সহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভারতের বাড়তে থাকা নিরাপত্তা (Israels) সহযোগিতা পশ্চিম এশিয়ায় তাদের নিজস্ব প্রভাবের জন্য সরাসরি চ্যালেঞ্জ এবং ইসলামাবাদের দৃষ্টিতে মুসলিম ঐক্যের ধারণা থেকে সরে যাওয়া (Pakistan)।

    কূটনৈতিক পরিসর সম্প্রসারণ

    পাকিস্তানের শাসক জোট এই জোট কাঠামোকে সৌদি আরব ও তুরস্ককে ঘিরে আঞ্চলিক সমীকরণের পরিবর্তনের সঙ্গেও যুক্ত করছে। নেতানিয়াহুর এই ঘোষণা আসে ইজরায়েল–ইরান উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এবং যখন পাকিস্তান ও সৌদি আরব নিজেদের যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। পাকিস্তানে জাতীয় প্রতিক্রিয়াগুলি প্যালেস্তাইনি সার্বভৌমত্বের প্রতি দীর্ঘদিনের দৃঢ় সমর্থন এবং অধিকৃত অঞ্চলে ইজরায়েলি পদক্ষেপকে বৈধতা দেওয়ার যে কোনও উদ্যোগের বিরোধিতার ধারাবাহিকতাই প্রতিফলিত করে। প্যালেস্তাইন ইস্যুতে ইসলামাবাদের আপসহীন অবস্থান এবং ইজরায়েলের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপের সমালোচনা ‘হেক্সাগন’ প্রস্তাবের বিরোধিতাকে আরও জোরদার করেছে (Israels)। ইজরায়েলের কাছে ‘হেক্সাগন অব অ্যালায়ান্সেস’ হল বৈরী শক্তির বিরুদ্ধে একটি কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষাকারী কাঠামো এবং অস্থির অঞ্চলে কূটনৈতিক পরিসর সম্প্রসারণের অংশ। ভারতের জন্য এই কাঠামোয় অন্তর্ভুক্তি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাইরে গিয়ে বহুপাক্ষিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের ইঙ্গিত বহন করে।

    পাকিস্তানের উদ্বেগ

    পাকিস্তানের উদ্বিগ্ন প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দেয় যে ইসলামাবাদ শুধু বিরক্তই নয়, বরং এটিকে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে কাঠামোগত পরিবর্তন হিসেবেই দেখছে—যা মুসলিম দেশগুলির মধ্যে পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে। এই কাঠামো ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা জোটে রূপ নিক বা কেবল সহযোগিতার ধারণাগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই থাকুক—এর রাজনৈতিক প্রতিধ্বনি ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে (Pakistan) ইসলামাবাদের মতো রাজধানীগুলিতে, যেখানে একে মুসলিম ঐক্য ও আঞ্চলিক ভারসাম্যের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে (Israels)।

     

  • India Canada Relation: “ভারতের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কে গুরুত্ব”, কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লি আসছে শীর্ষ প্রতিনিধিদল

    India Canada Relation: “ভারতের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কে গুরুত্ব”, কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লি আসছে শীর্ষ প্রতিনিধিদল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দ্বিপাক্ষিক সফরে শুক্রবার ভারতে আসছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি (India Canada Relation)। এই সফরে শক্তি, খনিজ, পরমাণু সহযোগিতা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সহ একাধিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কানাডায় ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ পাটনায়েক জানিয়েছেন, এই সফর কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতির দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। কার্নির এই সফরে তাঁর সঙ্গে থাকছেন চারজন মন্ত্রিসভার সদস্য এবং দুই প্রদেশের প্রিমিয়ার (মুখ্যমন্ত্রী সমতুল্য)। কার্নির সঙ্গে থাকছে কানাডার উচ্চ পর্যায়ের এক প্রতিনিধিদল। এই উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতি থেকে স্পষ্ট, অর্থনীতি, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করাই এই সফরের প্রধান লক্ষ্য।

    অত্যন্ত সময়োপযোগী সফর

    কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দ জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারত সফরে যোগ দেবেন। তিনি বলেন, “বাণিজ্য বহুমুখীকরণ এবং কানাডিয়ানদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি, অর্থনীতির সব ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধি করাই আমাদের লক্ষ্য।” মঙ্গলবার অর্থ ও রাজস্বমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেনও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ভারত সফর নিশ্চিত করে বলেন, “একটি স্থিতিশীল কানাডিয়ান অর্থনীতির জন্য বাণিজ্যের বহুমুখীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও জানান, এই সফরের পর তিনি অস্ট্রেলিয়াতেও যাবেন। অটোয়ায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শ্যাম্পেন ভারত সফরকে “অত্যন্ত সময়োপযোগী” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, “ভারতের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক কানাডার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি জানান, ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে।

    অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে জোর

    কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী মনিন্দর সিধুও এই সফরে যোগ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করা, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কানাডিয়ান ব্যবসার জন্য নতুন বাজার উন্মুক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের রফতানি ৩০০ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বাড়ানোর যে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য, তা পূরণে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” সফরকালে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগুইন্টিও সফরে থাকবেন। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশ একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা করছে। ম্যাকগুইন্টি ভারতের পর অস্ট্রেলিয়া ও জাপান সফরেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন।

    দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতিটি দিক নিয়ে আলোচনা

    এছাড়াও কার্নির সঙ্গে ভারত সফরে আসবেন আলবার্টা প্রদেশের প্রিমিয়ার স্কট মো এবং নিউ ব্রান্সউইকের প্রিমিয়ার সুসান হল্ট। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা ম্যাট জেনারু-ও ভারতে আসছেন। তিনি এপ্রিল ২০২৪ সালের ফেডারেল নির্বাচনে কনজারভেটিভ হিসেবে নির্বাচিত হলেও সম্প্রতি লিবারেল দলে যোগ দেন। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সফরের পর এই প্রথম কোনও কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারতে আসছেন। অটোয়ায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ পাটনায়েক বলেন, “দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতিটি দিক নিয়েই এই সফরে আলোচনা হবে। আমরা একটি সমন্বিত প্যাকেজের দিকে তাকিয়ে আছি।” পাটনায়েকের কথায়, মার্ক কার্নির ভারত সফরে (Mark Carney India Tour) ইউরেনিয়াম সরবরাহ, তেল ও গ্যাস, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের পাশাপাশি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত একগুচ্ছ চুক্তি সই হতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হল প্রায় ২.৮ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার মূল্যের ১০ বছরের ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি।

  • PM Modi: প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইজরায়েলি সংসদে ভাষণ মোদির, তেরঙায় সেজে উঠেছে ‘নেসেট’

    PM Modi: প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইজরায়েলি সংসদে ভাষণ মোদির, তেরঙায় সেজে উঠেছে ‘নেসেট’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ইজরায়েলে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ২০১৭ সালের ঐতিহাসিক সফরের পর এটি তাঁর দ্বিতীয় ইজরায়েল সফর। বুধবার বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) ও তাঁর স্ত্রী সারা। প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বরণ করতে গোটা ইজরায়েল জুড়ে প্রস্তুতি চলছে। এই সফরে মোদি ইজরায়েলের সংসদ ‘নেসেট’-এ ভাষণ দেবেন। ইজরায়েলের আইনসভায় ভাষণ দেওয়া তিনিই হবেন প্রথম ভারতীয় নেতা। ইজরায়েলের সংসদ ভবন ত্রিবর্ণ পতাকার রঙে সজ্জিত করা হয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি মোদি ইয়াদ ভাশেমে—ইজরায়েলের হলোকস্ট স্মৃতিসৌধে—গিয়ে অ্যাডলফ হিটলারের নাৎসি জমানায় নিহত ৬০ লক্ষ ইহুদির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর তিনি ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠক করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করবেন।

    মোদি জমানায় ভারত-ইজরায়েল নৈকট্য (PM Modi)

    ১৯৫০ সালে ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় ভারত। যদিও তার পরেও কয়েক দশক ধরে সম্পর্ক ছিল সতর্ক ও সীমিত। মোদির আমলে সেই অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটে (Benjamin Netanyahu)। ২০১৭ সালে তাঁর সফর ছিল প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ইজরায়েল সফর, যা লো-প্রোফাইল সম্পর্ক থেকে প্রকাশ্য কৌশলগত অংশীদারিত্বে উত্তরণের সূচনা করে। এরপর থেকে প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা সহযোগিতা, উদ্ভাবন, কৃষি ও উচ্চপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৭ সালের সফর ছিল একটি মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত (PM Modi)।

    “দুই বৈশ্বিক নেতার শক্তিশালী জোট”

    নেতানিয়াহু একাধিকবার মোদিকে “প্রিয় বন্ধু” এবং ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ককে “দুই বৈশ্বিক নেতার শক্তিশালী জোট” বলে বর্ণনা করেছেন—যা ইজরায়েলে দলীয় বিভাজন পেরিয়ে সাড়া ফেলেছে। প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই সফর আগামী দশকের জন্য ভারত-ইজরায়েল কৌশলগত সহযোগিতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে। নেসেটে ভাষণ এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য আলোচনার ফল পশ্চিম এশিয়া এবং তার বাইরেও ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে (Benjamin Netanyahu)।

    মোদির বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় ইজরায়েলের বিরোধী দলও

    ইজরায়েলের বিরোধী শিবির আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট মেটানোর আহ্বান জানায় যাতে তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেসেট ভাষণে উপস্থিত থাকতে পারে। আজকের মেরুকৃত বিশ্বে এটি একটি বিরল ঘটনা। বিরোধী দলনেতা নেতানিয়াহুকে চিঠি লিখে অনুরোধ করেন, যেন মোদির সংসদীয় ভাষণে বিরোধীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয় এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থা যেন জাতীয় গুরুত্বের মুহূর্তকে ক্ষুণ্ণ না করে। চিঠিতে বলা হয়, “এমন এক ঐতিহাসিক ভাষণে নেসেট যেন বিরোধী দলের উপস্থিতি থেকে বঞ্চিত না হয় (PM Modi)।”

    অস্থির অঞ্চলে ধারাবাহিকতার প্রতীক মোদি

    এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে, ইজরায়েলে মোদিকে কেবল দলীয় রাজনীতির সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয় না, তাঁকে কৌশলগত ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইজরায়েলের রাজনৈতিক পরিসর জুড়ে মোদি এমন এক নেতা হিসেবে সম্মান পান, যিনি ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন, সংকটের সময় ইজরায়েলের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন, আবার একইসঙ্গে প্যালেস্তাইন ইস্যু ও গাজায় মানবিক উদ্বেগের ক্ষেত্রে ভারতের নীতিগত অবস্থানও বজায় রেখেছেন। এই ভারসাম্য তাঁকে একক কোনও ইজরায়েলি সরকারের গণ্ডির বাইরে গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে (Benjamin Netanyahu)। নেতানিয়াহুর কাছে মোদি একটি অস্থির অঞ্চলে ধারাবাহিকতার প্রতীক, বিরোধী শিবিরের কাছে তিনি সরকার-নিরপেক্ষ এক দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের প্রতীক। তাই মোদির নেসেট ভাষণের সময় বিরোধী নেতারাও উপস্থিত থাকতে চান। তাঁর ভাষণকে দলীয় রাজনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে নয়, বরং ইজরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থের দিকনির্দেশক বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে (PM Modi)।

     

  • PM Modi: ‘নমস্তে’! প্রথম পাতা জুড়ে মোদি, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বিশেষ প্রচ্ছদ ইজরায়েলি পত্রিকার

    PM Modi: ‘নমস্তে’! প্রথম পাতা জুড়ে মোদি, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বিশেষ প্রচ্ছদ ইজরায়েলি পত্রিকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তামাম বিশ্বে ক্রমেই গুরুত্ব বাড়ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। দ্বিতীয়বারের জন্য ইজরায়েলে যাচ্ছেন তিনি। তার আগে ইজরায়েলের সংবাদপত্র ‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট  ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে একটি বিশেষ প্রথম পৃষ্ঠা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পত্রিকার সম্পাদক-ইন-চিফ জিভিকা ক্লাইন ২৪ ফেব্রুয়ারি এক্স হ্যান্ডেলে এই বিষয়টি জানান।

    পত্রিকার সম্পাদকের আবেদন (PM Modi)

    তিনি লিখেছেন, “আগামীকালের পত্রিকা আমরা জেরুজালেমে মুদ্রণের জন্য পাঠিয়েছি, প্রধানমন্ত্রী @নরেন্দ্রমোদির ঐতিহাসিক ইজরায়েল সফর উপলক্ষে—২০১৭ সালের পর এটি তাঁর প্রথম সফর। এই উপলক্ষে এটি আমাদের বিশেষ @জেরুজালেম পোস্ট কভার। আপনাদের কী মনে হয়?” প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পাঠকদের আহ্বানও জানান তিনি। বুধবার ভারতীয় সময় বিকেল প্রায় ৪টায় প্রধানমন্ত্রী মোদি পৌঁছবেন ইজরায়েলে। ২০১৭ সালের পর এটি তাঁর প্রথম ইজরায়েল সফর। সফরকালে তিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি ইজরায়েলের সংসদ ‘কনেসেট’-এ ভাষণও দেবেন, যা হবে সেখানে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণ।

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, “দুই নেতা ভারত-ইজরায়েল কৌশলগত অংশীদারিত্বে অর্জিত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, কৃষি, জল ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও অর্থনীতি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করবেন। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়েও মতামত বিনিময় হবে।” ইজরায়েল-ইরান সংঘাত শুরু পর গাজার পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। সফরের আগে উভয় দেশই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সন্ত্রাস মোকাবিলায় গোয়েন্দা ও তথ্য আদান-প্রদান জোরদার-সহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দুই দেশ।

    মঙ্গলবার উভয় দেশ জোর দিয়ে বলেছে, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় “টেকসই ও সর্বাঙ্গীণ পদ্ধতিতে” সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজন। ভারত-ইজরায়েল যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাসবিরোধী ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘ, ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF) এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে সহযোগিতা মজবুত করার অঙ্গীকার পুনর্নবীকরণ করেছে দুই পক্ষ।” তেল আভিভাবের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে প্রকাশিত বিদায়ী বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ককে একটি দৃঢ় ও বহুমাত্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন।

     

  • PM Modi: ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা! ভারতকে সঙ্গে নিয়ে নয়া ‘ষড়ভুজ জোটের’ প্রস্তাব নেতানিয়াহুর, সঙ্গে আর কারা?

    PM Modi: ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা! ভারতকে সঙ্গে নিয়ে নয়া ‘ষড়ভুজ জোটের’ প্রস্তাব নেতানিয়াহুর, সঙ্গে আর কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তার আগেই জেরুজালেম থেকে এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক জোটের প্রস্তাব সামনে এসেছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) যাকে তিনি “হেক্সাগন অফ অ্যালায়েন্স” (ষড়ভুজ জোট) বলেছেন, তার রূপরেখা প্রকাশ্যে এনেছেন। নেতানিয়াহুর প্রস্তাবিত জোটের লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে (পশ্চিম এশিয়া) তাঁর ভাষায় “র‍্যাডিক্যাল অ্যাক্সিস” বা চরমপন্থী অক্ষশক্তির মোকাবিলা করা। তিনি ইজরায়েল, গ্রিস ও সাইপ্রাসের পাশাপাশি ভারতকে এই জোটের অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইজরায়েলি বিদেশ দফতরের ২২ ফেব্রুয়ারির বিবৃতি অনুযায়ী, আরও কিছু আরব, আফ্রিকান ও এশীয় দেশ এই কাঠামোর অংশ হতে পারে।

    ইজরায়েল-ইরান উত্তেজনা (PM Modi)

    এই ঘোষণা এমন একটা সময়ে এল যখন ইজরায়েল-ইরান উত্তেজনা বাড়ছে এবং পাকিস্তান ও সৌদি আরব ন্যাটোর ধাঁচে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে একত্রিত হয়েছে। এখানে তুরস্কও যোগ দিতে আগ্রহী। নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণে মোদি ২৫–২৬ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েলে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, এটি মোদির দ্বিতীয় ইজরায়েল সফর। মঙ্গলবার ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সফরকালে দুই নেতা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মত বিনিময় করবেন। ২২ ফেব্রুয়ারির মন্ত্রিসভা বৈঠকে নেতানিয়াহু এই ধারণার রূপরেখা তুলে ধরেন বলে ইজরায়েল সরকারের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    কী বললেন নেতানিয়াহু

    নেতানিয়াহু বলেন, “আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে আমরা মধ্যপ্রাচ্যের চারপাশে বা ভেতরে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলব—মূলত এটি হবে একটি হেক্সাগন জোট (PM Modi)।” তিনি বলেন, “এর মধ্যে থাকবে ভারত, আরব দেশসমূহ, আফ্রিকান দেশসমূহ, ভূমধ্যসাগরীয় দেশ (গ্রিস ও সাইপ্রাস) এবং এশিয়ার কিছু দেশ, যাদের নাম এখন উল্লেখ করছি না। আমি এটি সংগঠিতভাবে উপস্থাপন করব (Benjamin Netanyahu)।” নেতানিয়াহু বলেন, “উদ্দেশ্য হল এমন দেশগুলির একটি অক্ষ তৈরি করা, যারা চরমপন্থী অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ এবং লক্ষ্য নিয়ে একমত। তা সে চরমপন্থী শিয়া অক্ষই হোক, যাকে আমরা কঠোরভাবে আঘাত করেছি, অথবা উদীয়মান চরমপন্থী সুন্নি অক্ষ। এই দেশগুলির দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা এবং আমাদের সহযোগিতা বড় ফল দিতে পারে, পাশাপাশি আমাদের স্থিতিস্থাপকতা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পারে।”

    ‘হেক্সাগন’ জোটের আহ্বান

    এই কাঠামোর লক্ষ্য নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গভীর করা (PM Modi)। প্রসঙ্গত, নেতানিয়াহুর ‘হেক্সাগন’ জোটের আহ্বান তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি পশ্চিম ও দক্ষিণ এশিয়ায় চলমান এক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। ভারত-ইউএই-ইজরায়েল-গ্রিস সমঝোতার আগের আলোচনা থেকে ভিন্নভাবে, এটি প্রকাশ্য কৌশলগত নীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নেতানিয়াহু সরাসরি প্রতিপক্ষদের নাম উল্লেখ করেছেন এবং উদ্দেশ্যও স্পষ্ট করেছেন (Benjamin Netanyahu)। ইজরায়েলের এই প্রস্তাব এমন একটা সময়ে এসেছে যখন সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ স্বাক্ষরিত সৌদি-পাকিস্তান কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি অঞ্চলজুড়ে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি এক ধরনের “ইসলামিক ন্যাটো” (PM Modi)। নেতানিয়াহু এই নয়া জোটকে একটি পাল্টা ভারসাম্য হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, “চরমপন্থী শিয়া অক্ষ, যাকে আমরা কঠোরভাবে আঘাত করেছি, এবং উদীয়মান চরমপন্থী সুন্নি অক্ষ—উভয়ের বিরুদ্ধেই।”

    “র‍্যাডিক্যাল শিয়া অক্ষ”

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, “র‍্যাডিক্যাল শিয়া অক্ষ” বলতে মূলত ইরান ও তার সহযোগী গোষ্ঠী যেমন হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথিদের বোঝানো হয়েছে (Benjamin Netanyahu)। “উদীয়মান র‍্যাডিক্যাল সুন্নি অক্ষ” বলতে পশ্চিম এশিয়ায় আইএসআইএসের অবশিষ্টাংশ ও অন্যান্য জঙ্গি নেটওয়ার্ক-সহ চরমপন্থী হুমকিকে বোঝানো হয়েছে। এই জোটের গুরুত্ব হল, এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ভারত, ইউএই এবং ইজরায়েল বহু বছর ধরে সহযোগিতা করছে আব্রাহাম চুক্তি ও আই২ইউ২ (I2U2) গোষ্ঠীর মাধ্যমে। যদিও আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা চুক্তি ছিল না। প্রসঙ্গত, “হেক্সাগন” শব্দ ব্যবহার করে নেতানিয়াহু একটি কাঠামোবদ্ধ স্থাপত্যের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যেখানে গ্রিস, সাইপ্রাস, এশিয়া এবং আফ্রিকার আরও কিছু দেশ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে ভারতকে (Benjamin Netanyahu) কল্পনা করা হয়েছে প্রধান অংশীদার হিসেবে (PM Modi)।

     

  • PM Modi Israel Visit: ভারতকে আয়রন ডোম প্রযুক্তি দিতে প্রস্তুত, মোদির সফরের মুখে ইজরায়েলের প্রস্তাব ঘিরে আলোড়ন

    PM Modi Israel Visit: ভারতকে আয়রন ডোম প্রযুক্তি দিতে প্রস্তুত, মোদির সফরের মুখে ইজরায়েলের প্রস্তাব ঘিরে আলোড়ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইজরায়েল সফরের আগেই বড় কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বার্তা দিল তেল আভিভ। ইজরায়েল ঘোষণা করেছে, তারা ভারতের কাছে তাদের ‘আয়রন ডোম’ (Iron Dome) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রযুক্তি হস্তান্তরে প্রস্তুত। এই পদক্ষেপকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ভারত-ইজরায়েল দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

    বুধবার ২ দিনের সফরে ইজরায়েলে পৌঁছচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর একাধিক বিষয়ে কৌশলগত যৌথ অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। ভারতকে সঙ্গে নিয়ে সমমনস্ক ৬ দেশীয় ‘অক্ষ’ তৈরির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ইজরায়েল। এর পাশাপাশি, নয়াদিল্লির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও প্রযুক্তি বিনিময় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা। ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে বদ্ধপরিকর মোদি সরকার। আর এর জন্য ইজরায়েলি প্রযুক্তিই প্রথম পছন্দ নয়াদিল্লির সামরিক কর্তাদের। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর আস্থা রয়েছে কেন্দ্রের বর্তমান শাসকেরও। তাই মোদির এই সফরে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত আলোচনা সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে বলেই মনে করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল। তার আগে তেল আভিভের ‘আয়রন ডোম’-এর প্রস্তাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    ভারতকে কেন ‘আয়রন ডোম’ প্রস্তাব ইজরায়েলের?

    ইজরায়েলের কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাচ জানান, ভারত–ইজরায়েল প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে। বিশেষ করে ভারতে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, এটি শুধুমাত্র অস্ত্র কেনাবেচার চুক্তি নয়, বরং প্রযুক্তি বিনিময়, উদ্ভাবন ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পরিকল্পনা। ইজরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, উভয় দেশই সন্ত্রাসবাদ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকির মতো একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তাই, আয়রন ডোম প্রযুক্তি ভাগাভাগির ফলে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং একই সঙ্গে দেশীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষেত্রেও গতি আসবে। এই সহযোগিতার ফলে ভারত ও ইজরায়েলের বেসরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর মধ্যে বিনিয়োগ ও যৌথ প্রকল্পের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ভারতের স্বনির্ভর প্রতিরক্ষা উৎপাদন উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে।

    ‘গোল্ডেন হরাইজন’ ক্ষেপণাস্ত্রও দিতে ইচ্ছুক ইজরায়েল

    এর আগে, ইজরায়েল ভারতকে ‘গোল্ডেন হরাইজন’ (Golden Horizon) নামে একটি শক্তিশালী কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রস্তাব দেয় বলে জানা যায়। এটি হল যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক মিসাইল। (বলে রাখা ভাল, ভারত এখনও এই প্রযুক্তি করায়ত্ত করতে পারেনি।) এই ক্ষেপণাস্ত্র ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার, সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনা এমনকি পারমাণবিক কাঠামোও ধ্বংস করতে সক্ষম। প্রতিরক্ষা সূত্র জানায়, এর পাল্লা প্রায় ১,০০০ থেকে ২,০০০ কিলোমিটার এবং এটি ম্যাক ৫ (শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ দ্রুত) গতিতে উড়তে পারে। এই গতি বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। তুলনামূলকভাবে ভারতের মধ্যমণি বিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্রহ্মস ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের গতি ম্যাক ৩। গোল্ডেন হরাইজন চুক্তি চূড়ান্ত হলে এটি ভারতীয় বায়ুসেনার সুখোই-৩০ এমকেআই বহরে যুক্ত হতে পারে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের দূরপাল্লার হাইপারসনিক অস্ত্র দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

    ‘সুদর্শন চক্র’ প্রকল্পে ইজরায়েলি প্রযুক্তি

    ২০৩৫ সালের মধ্যে একটি নিজস্ব বহুস্তরীয় বিমান প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে ভারত, যার নাম ‘সুদর্শন চক্র’। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষা দেওয়া। এই প্রকল্পে আয়রন ডোম, অ্যারো (Arrow) ও ডেভিড’স স্লিং (David’s Sling)–এর মতো ব্যবস্থার সমমানের ইজরায়েলি প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। বারাক-৮ এমআর-এসএএম/এলআর-এসএএম প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), উন্নত সেন্সর নেটওয়ার্ক ও সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে যুক্ত করে একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলা হবে।

    নতুন অস্ত্র ও প্রযুক্তি কেনার পরিকল্পনা

    প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে, ইজরায়েল থেকে একাধিক অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারত  এর মধ্যে রয়েছে—

    স্পাইস-১০০০ (SPICE-1000) প্রিসিশন গাইডেড বোমা:

    • ● জিপিএস ও ইলেকট্রো-অপটিক্যাল গাইডেন্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে দূর থেকে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। খারাপ আবহাওয়া বা জিপিএস জ্যামিং অবস্থাতেও কার্যকর।

    র‌্যামপেজ (Rampage) এয়ার-টু-সারফেস ক্ষেপণাস্ত্র:

    • ● দীর্ঘ-পাল্লার সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা সুখোই-৩০ এমকেআই, মিগ-২৯, জাগুয়ার ও নৌবাহিনীর মিগ-২৯কে থেকে উৎক্ষেপণ করা যাবে। এটি তৈরি করেছে এলবিট সিস্টেম ও ইজরায়েল এরোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ।

    এয়ার লোরা (Air LORA) ক্ষেপণাস্ত্র:

    • ● এয়ার-লঞ্চড ব্যালিস্টিক বা কোয়াজি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা শত শত কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে এবং উৎক্ষেপণকারী যুদ্ধবিমানকে শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাল্লা থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখে।

    আইস ব্রেকার (Ice Breaker) মিসাইল সিস্টেম:

    • ● স্টেলথ বৈশিষ্ট্যযুক্ত দূরপাল্লার ক্রুজ মিসাইল, যা স্থল ও সমুদ্রের উচ্চ-মূল্যের লক্ষ্যবস্তুতে নিরাপদ দূরত্ব থেকে আঘাত হানতে সক্ষম। এটির নকশা অত্যন্ত স্টেলথি বা প্রায় অদৃশ্য এবং এটি মাটির কাছ দিয়ে ওড়ে, ফলে রেডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চোখ এড়িয়ে চলতে সক্ষম।

    আয়রন বিম (Iron Beam) লেজার অস্ত্র ব্যবস্থা:

    • ● ১০০ কিলোওয়াট ক্ষমতার হাই-এনার্জি লেজার অস্ত্র, যা স্বল্প-পাল্লার রকেট, মর্টার ও ড্রোন ধ্বংসে ব্যবহৃত হবে। এটি আয়রন ডোমের পরিপূরক হিসেবে তৈরি এবং প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক কম খরচে প্রতিরোধ সম্ভব করে। উল্লেখযোগ্য যে, ভারতের ডিআরডিও ইতিমধ্যেই মর্ক-২এ প্রকল্পের আওতায় ৩০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ডিরেক্টেড এনার্জি অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চূড়ান্ত হলে ভারত–ইজরায়েল সামরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণে ভারতের অবস্থান নতুনভাবে শক্তিশালী হবে।

  • Pakistan: রমজান মাসে পাকিস্তানে ফলের বাজারে আগুন, রাশ ধরতে ব্যর্থ সরকার

    Pakistan: রমজান মাসে পাকিস্তানে ফলের বাজারে আগুন, রাশ ধরতে ব্যর্থ সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য যাতে আম-আদমির নাগালের বাইরে না চলে যায়, সেজন্য মূল্য তালিকা প্রকাশ করেছে পাকিস্তান সরকার (Pakistan)। অভিযোগ, তার পরেও রমজান মাসে দোকানিরা এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করছেন (Price Hikes)। বাজারের এই পরিস্থিতি ঊর্ধ্বমুখী মূল্য নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। ফলে অকার্যকর তদারকির চাপ ভোক্তাদের ওপরই পড়ছে। ফল ও সবজি বিক্রেতা ভ্রাম্যমাণ ঠেলাগাড়ি ব্যবসায়ীরা সরকারি মূল্যতালিকা না দেখিয়েই ব্যবসা করছেন। কলা প্রতি ডজন ২০০-৩০০ পাকিস্তানি রুপিতে (PKR) বিক্রি হচ্ছে, যেখানে সরকারের নির্ধারিত মূল্য ২৩৭ রুপি। অবশ্য নিম্নমানের কলা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ রুপি প্রতি ডজন।

    আকাশ ছোঁওয়া দাম (Pakistan)

    পাক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ, তরমুজ বাজারে অপ্রতুল। যা মিলছে, তাও অত্যন্ত নিম্নমানের। তা সত্ত্বেও ক্রেতাদের প্রতি কেজি ৩০০ রুপি দিতে হচ্ছে, যেখানে সরকারি মূল্য ২৬২ রুপি প্রতি কেজি (Pakistan)। উচ্চমূল্যের কারণে অনেক খুচরো বিক্রেতা পাইকারি বাজার থেকে তরমুজ কিনতে যাচ্ছেন না। রমজানে জনপ্রিয় আর একটি ফল পেয়ারা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০-৩০০ রুপিতে, যদিও সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম ১৫০-১৫২ রুপি (Price Hikes)। আপেল ও ডালিমের সরকারি মূল্য যথাক্রমে ৩৪০ ও ২৩৯ রুপি প্রতি কেজি। অথচ এগুলিই বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ এবং ২৫০-৩০০ রুপি দামে (Pakistan)। বাজারে তরমুজ (ওয়াটারমেলন) প্রতি কেজি ১৫০-১৮০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে, যা সরকারি ১১৫ রুপির চেয়ে ঢের বেশি।

    কমলা লেবু প্রতি ডজন ৩০০-৪০০ রুপি

    উচ্চমানের বড় আকারের কমলা লেবু প্রতি ডজন ৩০০-৪০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে, যেখানে সরকারের নির্ধারিত মূল্য ১৩৬ রুপি। সবেদার সরকারি মূল্য প্রতি কেজি ১৫০ রুপি হলেও, খুচরো বিক্রেতারা নিচ্ছেন ২৫০-৩০০ রুপি প্রতি কেজি (Price Hikes)। পেঁয়াজ এবং আলুর দামও আকাশ ছোঁওয়া। এই দুই পণ্যের সরকারি মূল্য যথাক্রমে ৩৫ ও ২৩ রুপি প্রতি কেজি, যদিও বাজারে বিকোচ্ছে যথাক্রমে ৫০-৬০ এবং ৪০-৫০ রুপিতে। প্রশাসন জীবিত ব্রয়লার মুরগি ও মুরগির মাংসের খুচরো মূল্য যথাক্রমে ৩৩২ ও ৫০০ রুপি নির্ধারণ করেছে। যদিও এগুলি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ এবং ৫৫০-৬০০ রুপি দরে (Pakistan)।

     

  • Canada: কার্নির ভারত সফরের আগে ২৬/১১ হামলার মূলচক্রী তাহাউর রানার নাগরিকত্ব বাতিলের প্রস্তুতি কানাডার

    Canada: কার্নির ভারত সফরের আগে ২৬/১১ হামলার মূলচক্রী তাহাউর রানার নাগরিকত্ব বাতিলের প্রস্তুতি কানাডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২৬/১১ মুম্বই জঙ্গি হামলার মূলচক্রী তাহাউর রানার (Tahawwur Rana) নাগরিকত্ব বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা (Canada)। কয়েক দিনের মধ্যেই ভারত সফরে আসার কথা কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির। তাঁর সেই সফরের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে কানাডা তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের তোড়জোড় করছে। বর্তমানে ভারতে বন্দি রয়েছেন রানা। কানাডা সরকারের এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোও হয়েছে তাঁকে। বছর চৌষট্টির রানা জন্মেছিলেন পাকিস্তানে। পরে কানাডীয় নাগরিকত্ব নেন। ২০০৮ সালের মুম্বই জঙ্গি হামলার অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রী ডেভিড কোলম্যান হেডলি ওরফে দাউদ গিলানির ঘনিষ্ঠ সহযোগী। হেডলি মার্কিন নাগরিক।

    রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ (Canada)

    গ্লোবাল নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ রানার বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব অর্জনের ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য প্রদানের অভিযোগ এনেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০০১ সালে কানাডীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় রানা তাঁর বসবাস ও ভ্রমণ সংক্রান্ত ভুয়ো তথ্য দিয়েছিলেন। রানা দাবি করেছিলেন যে, তিনি আগের চার বছর অটোয়া ও টরন্টোয় বসবাস করেছেন—যা অভিবাসন কর্তাদের মতে অসত্য। তিনি আরও জানান যে, তিনি কানাডার বাইরে মাত্র ছ’দিন ছিলেন, অথচ জানা গিয়েছে, তিনি শিকাগোয় বসবাস করছিলেন। সেখানে সম্পত্তিও রয়েছে তাঁর (Canada)। অভিবাসন বিভাগ কথিত জালিয়াতি ও মিথ্যা তথ্য প্রদানের বিষয়ে একটি বিশদ প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে। এখন আদালতের হাতেই রানার কানাডীয় নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে। বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন (Tahawwur Rana) হলে রানা আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাগরিকত্ব হারাবেন বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

    রানা বর্তমানে তিহার জেলে

    চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনার পর পাক-বংশোদ্ভূত কানাডীয় ব্যবসায়ী রানা বর্তমানে তিহার জেলে আটক রয়েছেন, যেখানে তদন্তকারীরা তাঁকে বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ১০ এপ্রিল তাঁকে আমেরিকা থেকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হয়। এর আগে ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু করলে তাকে লস অ্যাঞ্জেলেসের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছিল। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে রানা সব ধরনের আইনি সুযোগ ব্যবহার করেছিলেন, যার ফলে প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হয়। সব আইনি পথ শেষ হলে তাঁকে ভারতে পাঠানো হয় এবং বিচার বিভাগীয় হেফাজতে নেওয়া হয় (Canada)।

    তদন্তকারীরা মামলার তদন্তে সংগৃহীত বিভিন্ন সূত্র খতিয়ে দেখছেন, যার মধ্যে রানা ও সহ-অভিযুক্ত ডেভিড কোলম্যান হেডলি ওরফে দাউদ গিলানির মধ্যে হওয়া বহু টেলিফোন কথোপকথনের প্রমাণও রয়েছে। হেডলি বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাজা ভোগ করছেন (Tahawwur Rana)। রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি হেডলি, লস্কর-ই-তৈবা, হরকত-উল-জিহাদি ইসলামি-সহ পাকিস্তানভিত্তিক অন্য সন্দেহভাজনদের সঙ্গে মিলে মুম্বইয়ে প্রাণঘাতী হামলার (Canada) পরিকল্পনা করেছিলেন।

     

LinkedIn
Share