Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Suvendu Attacks Mamata: ‘আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকুন’, মানহানির নোটিসের জবাব না মেলায় মমতাকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    Suvendu Attacks Mamata: ‘আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকুন’, মানহানির নোটিসের জবাব না মেলায় মমতাকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Attacks Mamata)। সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের জন্য গত শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীকে আইনজীবী মারফত একটি মানহানির নোটিস পাঠান তিনি। কিসের ভিত্তিতে মমতা ওই মন্তব্য করেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সেই প্রামাণ্য নথি চেয়েছিলেন শুভেন্দু। বিরোধী দলনেতার দেওয়া ওই সময়সীমা ইতিমধ্যে অতিক্রম করেছে। কিন্তু সেই চিঠির উত্তর মেলেনি। এবার তাই নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করলেন শুভেন্দু।

    ‘আদালতে দেখা হবে

    সমাজমাধ্যমে শুভেন্দু (Suvendu Attacks Mamata) লেখেন, “তাঁকে (মুখ্যমন্ত্রীকে) দেওয়া সময়সীমা এখন অতিক্রম হয়ে গিয়েছে, এবং মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আচরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে আমার নাম কয়লা কেলেঙ্কারিতে জড়িত বলে তাঁর কল্পিত অভিযোগগুলির কোনও স্পষ্ট প্রমাণ নেই ওনার কাছে, অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ তাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত তাই বিপাকে পড়ে তিনি কোনও উত্তর দিতে পারেননি।” বিরোধী দলনেতার দাবি, কী জবাব দেবেন, তা হয়তো মুখ্যমন্ত্রী বুঝে উঠতে পারেননি। মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে তিনি আরও লেখেন, “এবার উনি আদালতে আইনি পরিণতির সম্মুখীন হওয়ার জন্য প্রস্তুত হোন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এবার আপনার সাথে আদালতে দেখা হবে।”

    কেন শুভেন্দুর আইনি চিঠি

    অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীকে কয়লা দুর্নীতির সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Attacks Mamata) জড়িয়ে মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করেই এই আইনি চিঠি নন্দীগ্রামের বিধায়কের। চিঠিতে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামের ফলাফলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আই প্যাক-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডি তল্লাশি থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত। বৃহস্পতিবার এক বেনজির দৃশ্যের সাক্ষী থেকেছে বাংলা তথা গোটা দেশ। কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশির মাঝে ঢুকে মুখ্যমন্ত্রীকে ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিঁধে দাবি করেছিলেন, ইডি-র মাধ্যমে তাঁর দলের স্ট্র্যাটেজি, প্রার্থী তালিকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। যদিও ইডি বিবৃতি দিয়ে জানায়, কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় এই তল্লাশি চলছিল। গোটা দেশের ১০ জায়গায় তল্লাশি চলছিল। তার মধ্যে ৬টি বাংলায় ও চারটি দিল্লিতে। ইডির বক্তব্য, এই তদন্তে হাওয়ালা-যোগও উঠে আসে। আর এখানেই উঠে আসে আইপ্যাকের নাম। ইডির দাবি, ইন্ডিয়ান প্যাক কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেড, অর্থাৎ আইপ্যাকের মাধ্যস্থতার হাওয়ালায় ১০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। অভিযুক্ত বেশ কয়েকজনের বয়ানে এই প্রতীক জৈনের নাম উঠে এসেছে। সেই কারণেই তল্লাশি।

  • SIR in Bengal: তথ্যে অসঙ্গতি রাজ্যের ৯৪ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটারের! সবার কাছেই নোটিস পাঠাচ্ছে কমিশন

    SIR in Bengal: তথ্যে অসঙ্গতি রাজ্যের ৯৪ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটারের! সবার কাছেই নোটিস পাঠাচ্ছে কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR in Bengal) প্রক্রিয়ায় ৯৪ লক্ষ ভোটারের দেওয়া তথ্যে ব্যাপক অসঙ্গতি। বাংলার এসআইআর পর্বে তথ্য বিভ্রাটের নজির জনসম্মুখে তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন। কারওর বাবার নাম নেই, কারওর আবার বাবাই বদলে গিয়েছে। কারওর আবার বাবা-মায়ের সঙ্গে বয়সের ফারাক মাত্রাতিরিক্ত। কমিশন সূত্রে খবর, যাঁদের তথ্যগত অসঙ্গতি বা লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি ধরা পড়েছে, সেই ৯৪ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটারের কাছে নোটিস পাঠানো হচ্ছে । সেই মতো কাজও করছে সিইও দফতর (CEO West Bengal)।

    কাদের কোথায় গরমিল

    কমিশনের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, এসআইআর-এ (SIR in Bengal) অসঙ্গতিগুলি এক ধরনের নয়। তার মধ্যে রয়েছে পারিবারিক সম্পর্ক, বয়সের ব্যবধান ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত তথ্যের গরমিল। হিসেব বলছে—বাবার নামের গরমিল রয়েছে ৫০ লক্ষ ৯৩ হাজার ভোটারের। মা–বাবার সঙ্গে সন্তানের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার ভোটারের। মা–বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান ৫০ বছর বা তার বেশি ৭ লক্ষ ৮৫ হাজার ভোটারের। ঠাকুরদা ও নাতি–নাতনির বয়সের ফারাক মাত্র ৪০ বছর ২ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটারের। ‘প্রোজেনি ৬’ (একজন ভোটারের সঙ্গে ছয় জন উত্তরাধিকারীর নাম যুক্ত) ২৮ লক্ষ ৪৮ হাজার ভোটারের। সহজ কথায়, এসআইআর তালিকায় নিজের নাম তুলতে ছয় জনের নাম ব্যবহার করেছেন এই ভোটাররা। নির্বাচন কমিশনের এক সূত্রের বক্তব্য, এই ২৮ লক্ষ ৪৮ হাজারের মধ্যেই রয়েছেন সেই সব ভোটার, যাঁদের বয়স ৪৫ হলেও ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই।

    লজিকাল ডিসক্রেপেন্সি মানেই নাম বাতিল নয়

    কমিশন স্পষ্ট করেছে, লজিকাল ডিসক্রেপেন্সি মানেই নাম বাতিল, এমন নয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য যাচাই না হলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তার প্রভাব পড়তে পারে। সেই কারণেই নোটিস পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভোটারদের প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের চিহ্নিত তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র তালিকায় শুরুতে নাম ছিল প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের। তবে সংশোধিত তথ্য অনুযায়ী, তথ্যগত ‘অসঙ্গতি’র সংখ্যা আর ১ কোটি ৩৬ লক্ষ নেই। তা নেমে এসেছে ৯৪ লক্ষ ৫০ হাজারে।

    এখনও পর্যন্ত অবৈধ কতজন

    এখনও পর্যন্ত রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর যে শুনানি হয়েছে, তাতে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ছে ১১,৪৭২ জন ভোটারের নাম। এমনটাই বলছে কমিশনের সূত্র। সেই সূত্র অনুসারে, এখনও পর্যন্ত ৯,৩০,৯৯৩ জন ভোটারের শুনানি সম্পন্ন হওয়ার পরে তথ্য আপলোড করা হয়েছে। তার মধ্যে ‘অবৈধ’ বলে চিহ্নিত হয়েছেন ১১,৪৭২ জন ভোটার। কমিশন সূত্রে খবর, ইআরও-রা শুনানি ও নথি যাচাই করে দেখেছেন, ওই ভোটারেরা ‘অবৈধ’। ফলে তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত যে শুনানি হয়েছে, তাতে সবচেয়ে বেশি ‘অবৈধ’ ভোটার মিলেছে নদিয়ায়। এখনও পর্যন্ত শুনানির পরে দেখা গিয়েছে, সেখানে ‘অবৈধ’ ভোটারের সংখ্যা ৯,২২৮। এখনও পর্যন্ত যে শুনানি হয়েছে, কলকাতা দক্ষিণ এবং বাঁকুড়ায় এক জন ভোটারও ‘অবৈধ’ বলে চিহ্নিত হননি।

    ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যে এসআইআর শুনানি

    এর আগে খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় ৫৮ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। কমিশন জানিয়েছিল, ‘নো ম্যাপিং’ তালিকায় থাকা প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটারকে শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হবে। এ ছাড়া, আরও লক্ষাধিক ভোটারকে সন্দেহজনক হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। তাঁদেরও শুনানিতে হাজির হতে হবে বলে জানায় কমিশন। তাঁদের তথ্য যাচাই করে দেখে কমিশন। গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে শুনানি শুরু হয়েছে এখনও পর্যন্ত ৯ লক্ষের উপর ভোটারের শুনানি হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, তাঁদের মধ্যে ১১,৪৭২ জন ভোটার ‘অবৈধ’। তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। নির্বাচন কমিশনের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, আনম্যাপড শুনানি পর্ব ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে। এই পর্বে যাঁদের শুনানি হওয়ার কথা ছিল, সেই ৩২ লক্ষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ২৪ লক্ষ ব্যক্তি সরাসরি শুনানি প্রক্রিয়ায় উপস্থিত হয়েছেন। তবে বাকি প্রায় ৮ লক্ষ ভোটার শুনানিতে হাজির হননি। তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি কমিশন। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যে এসআইআর (SIR in Bengal) শুনানি চলবে, বলে জানায় কমিশন।

    বাড়ছে মাইক্রো অবজার্ভারদের সংখ্য়া

    শুনানি-পর্ব দ্রুত সারতে  রাজ্য়ে বাড়তে চলেছে মাইক্রো অবজার্ভারদের সংখ্য়াও। কমিশন সূত্রে খবর, বর্তমানে রাজ্য়ে রয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ মাইক্রো অবজার্ভার। এসআইআর (SIR in Bengal) প্রক্রিয়ায় গতি বাড়াতে দিল্লি থেকে আরও দু’হাজার মাইক্রো অবজার্ভার আসবেন। আগামী ১৫ জানুয়ারি হবে তাঁদের প্রশিক্ষণ। ফলত, মোট মাইক্রো অবজার্ভারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৬ হাজার ৬০০ জন।

  • Nipah Virus: করোনার তুলনায় বেশি বিপজ্জনক নিপা ভাইরাস! কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    Nipah Virus: করোনার তুলনায় বেশি বিপজ্জনক নিপা ভাইরাস! কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    রাজ্যজুড়ে নিপা ভাইরাসের চোখরাঙানি বাড়ছে। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের হাসপাতালে কর্মরত দুই নার্স আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছিল ইতিমধ্যেই। গত কয়েকদিন ধরে এক বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভর্তি আছেন তাঁরা। তাঁদের মধ্যে একজনের বাড়ি নদিয়ায় ও অপরজনের বাড়ি বর্ধমানের কাটোয়ায়। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা সঙ্কটজনক। জানা যাচ্ছে, ওই নার্স কোমায় রয়েছেন। এর মধ্যেই, আক্রান্ত সন্দেহে নতুন করে আরও বর্ধমানের ২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, আগে আক্রান্ত কাটোয়া নিবাসী নার্সকে যখন বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, তাঁর চিকিৎসায় থাকা এক হাউসস্টাফকে এবার নিপা সন্দেহে কলকাতার বেলেঘাটা আইডিতে ভর্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও এক নার্সকে ভর্তি করা হয়েছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তাই, নিপা ভাইরাস নিয়ে বাড়তি সতর্ক কেন্দ্রীয় সরকার।

    করোনা অতিমারির তুলনায় কতখানি বেশি বিপজ্জনক নিপা ভাইরাস?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাস মৃত্যু হারের নিরিখে করোনার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বিপজ্জনক হতে পারে। তাঁদের মতে, মৃত্যু হারের নিরিখে করোনা ভাইরাসের তুলনায় নিপা ভাইরাস বেশি বিপজ্জনক। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাসে আক্রান্তের মৃত্যুর হার ৬০ থেকে ১০০ শতাংশ। অর্থাৎ, নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে করোনা ভাইরাসের তুলনায় নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের ক্ষমতা কম। তাই করোনা ভাইরাসের মতো অতো দ্রুত এই ভাইরাস ছড়াবে না। এমনটাই আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সচেতনতা ও সতর্কতা জরুরি। যদি এই ভাইরাস নিজের প্রকৃতি পরিবর্তনে সক্ষম হয়, তাহলে পরিস্থিতি করোনা মহামারির তুলনায় আরও বেশি সঙ্কটজনক হয়ে উঠতে পারে।
    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, করোনা হাঁচি-কাশি এবং স্পর্শের মাধ্যমে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তো। নিপা ভাইরাসের সেই ক্ষমতা তুলনামূলক কম। আক্রান্তের সরাসরি স্পর্শের মাধ্যমেই এই রোগ একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে সংক্রামিত হচ্ছে। বিশেষত মূত্র, রক্ত কিংবা লালার মাধ্যমে এই রোগ সংক্রামিত হয়। তাই স্বাস্থ্যকর্মীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসায় মূল প্রতিবন্ধকতা হলো, এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ এখনও নেই। তাই নানান রকম পদ্ধতিতে এই রোগ প্রতিরোধের চেষ্টা করা হয়। তাই নিপা নিয়ে আতঙ্ক নয়। বরং সচেতনতা জরুরি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কেন এই সংক্রমণ নিয়ে কেন্দ্রের বাড়তি উদ্বেগ?

    রাজ্যে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ হতেই সক্রিয় কেন্দ্রীয় সরকার। সংক্রমণ যাতে না ছড়ায় তার জন্য নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথ উদ্যোগে কাজ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। নিপা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে বাড়তি তৎপর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। তার পিছনে মূল কারণ নিপার মৃত্যু হার। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিপার মৃত্যু হার অন্যান্য ভাইরাসঘটিত রোগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। এই ভাইরাস মানুষের মস্তিষ্ককে দ্রুত অক্ষম করে দেয়। ফলে শরীরের সমস্ত স্নায়ু কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যায়। একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যায়। তাই এই ভাইরাস অত্যন্ত বিপজ্জনক। নিপা সংক্রমণ ছড়ালে মৃত্যু বাড়বে। প্রথম থেকেই সংক্রমণ ঠেকাতে না পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। তাছাড়া এই সংক্রমণ ঠেকানোর মূল হাতিয়ার হলো প্রাথমিক পর্বেই রোগ নির্ণয়। একাধিক কেন্দ্রীয় সংস্থায় সেই শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।

    কোন ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জ্বর আর সর্দি, গলা ব্যথার মতো উপসর্গ একেবারেই অবহেলা করা যাবে না।‌ দ্রুত শারীরিক পরীক্ষা জরুরি। প্রশাসনিক মহলে আইসোলেশন নিয়ে কড়া পদক্ষেপ জরুরি।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তাই কোনো নিপা ভাইরাস আক্রান্তের চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের আলাদা ভাবে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো ভাবেই যাতে সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে না পরে সেই জন্য বাড়তি নজরদারি জরুরি।

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাদুরের পাশপাশি শুয়োরের দেহ থেকেও এই রোগ মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তাই আপাতত শুয়োরের মাংস খাওয়া উচিত হবে না বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন ফল থেকেও নিপা ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। কাটা ফল বা অর্ধেক খাওয়া ফল অথবা ফলে কোনো আঁচড় আছে দেখলে এই সময়ে তা কোনো ভাবেই খাওয়া উচিত নয়। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে। বারবার হাত ধোয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

  • JP Nadda: রাজ্যে নিপা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে বিশেষ কেন্দ্রীয় টিম গঠন নাড্ডার, সবরকম সাহায্যের আশ্বাস

    JP Nadda: রাজ্যে নিপা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে বিশেষ কেন্দ্রীয় টিম গঠন নাড্ডার, সবরকম সাহায্যের আশ্বাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নিপা ভাইরাসের (Nipah Cases) দুটি সন্দেহভাজন কেস শনাক্ত হয়েছে। ঠিক তারপরেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা (JP Nadda) পশ্চিমবঙ্গকে পূর্ণ কেন্দ্রীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। সেইসঙ্গে দ্রুত সংক্রমণ বিস্তারের রোধে একটি কেন্দ্রীয় পরিদর্শকের টিম গঠন করেছেন। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সব রকম ভাবে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে একযোগে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন।

    জাতীয় স্তরের জরুরি প্রোটোকল চালু (JP Nadda)

    ১১ জানুয়ারি কল্যাণীর এইমস-এর ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর ভাইরাস রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিতে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। আর এরপর থেকেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জাতীয় স্তরের জরুরি প্রোটোকল চালু করেছে। নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের (Nipah Cases) তথ্য পাওয়ার পরপরই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী নাড্ডা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যের ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কার্যকারী সমন্বয় কমিটি গঠন করেছেন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব, রাজ্যের মুখ্য সচিব এবং স্বাস্থ্য দফতরের মুখ্য সচিবের সঙ্গে প্রস্তুতি পর্যালোচনা এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ আলোচনাও করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী (JP Nadda)।

    কোন কোন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়

    রাজ্য সরকারকে সহায়তা করার জন্য পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় ভাইরোলজি ইনস্টিটিউট (পুণে), জাতীয় মহামারীবিদ্যা ইনস্টিটিউট (চেন্নাই), অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ (কলকাতা), এইমস কল্যাণী এবং পরিবেশ মন্ত্রকের বন্যপ্রাণী বিভাগ সহ শীর্ষস্থানীয় জনস্বাস্থ্য ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় স্তরের সমন্বয় টিম কাজ শুরু করেছে।

    দিল্লির জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের জনস্বাস্থ্য জরুরি অপারেশন সেন্টারকেও সক্রিয় করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা (JP Nadda) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে পরীক্ষাগার সহায়তা, সংক্রমণে নজরদারি, সংক্রমণ প্রতিরোধ প্রোটোকল এবং কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমগুলিকে সক্রিয় করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দলের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান, সন্দেহভাজনদের বিচ্ছিন্নকরণ এবং মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ (Nipah Cases) রোধে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    নিপা ভাইরাস একটি ‘জুনোটিক’ সংক্রমণ যা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সংক্রমণ দ্রুত মৃত্যুর প্রবণতাকে বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণকে বার বার গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে।

  • Enforcement Directorate: প্রতীক জৈনের বাড়িতে জোর করে ঢুকেছিলেন মমতা! সুপ্রিম কোর্টে কী কী জানাল ইডি?

    Enforcement Directorate: প্রতীক জৈনের বাড়িতে জোর করে ঢুকেছিলেন মমতা! সুপ্রিম কোর্টে কী কী জানাল ইডি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের আই প্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে জোর করে ঢুকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক কী কী করেছিলেন? সুপ্রিমকোর্টে বিশেষ অভিযোগ করে একাধিক দাবি করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (Enforcement Directorate)। জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার নগরপাল মনোজ ভার্মার বিরুদ্ধে ১৭ ধারায় মামলা দায়ের করেছে ইডি। আর্থিক দুর্নীতি মামলার তদন্তে জোর করে ঢুকে পরা এবং নথি, তথ্য-প্রমাণকে ছিনতাই করার অভিযোগ তুলেছে। একই ভাবে মামলার তদন্ত রিপোর্ট তৈরিতেও বাধা দেওয়া হয়েছে।

    ৩০৫ নম্বর ধারায় মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ (Enforcement Directorate)

    কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (Enforcement Directorate) নিজেদের পিটিশনে বলেছেন, “কোনও রকম অনুমতি ছাড়াই প্রতীক জৈনের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী-পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা জোর করে ঢুকে তদন্তের আওতায় থাকা নথি এবং ডিজিটাল ইনফরমেশন ছিনতাই করে নিয়ে গিয়েছে।” এই সব কিছুর সঙ্গে সম্পূর্ণ ঘটনার ভিডিও এবং ছবি পিটিশনের সঙ্গে পাঠানো হয়েছে। সেইসঙ্গে তদন্তকারী আধকারিকদেরকে ভয় দেখানো হয়েছিল। ফলে পঞ্চনামা করাও সম্ভব হয়নি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৫ নম্বর ধারায় মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগও আনা হয়। প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে তথ্য নিয়ে চলে যাওয়ার মানেই হল চুরি করা। রাজ্যের ডিজি এবং সিপির বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ রয়েছে।

    খরচ দেবেন রাজীব-মমতা দাবি ইডির

    মামলার গুরুত্বের কথা তুলে ধরে ইডি (Enforcement Directorate) দাবি করেছে, তদন্তে বাধা এবং অভিযান নিয়ে শেক্সপিয়ার সরণী এবং ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় ইডির অফিসারদের বিরুদ্ধে যে এফআইআর করা হয়েছে তা যেন সিবিআইয়ের হাতে হস্তান্তর করা হয়। একই ভাবে প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং অফিসের সমস্ত ফুটেজ যা পুলিশের কাছে রয়েছে তার সবটাই যেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী অফিসার ইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। মামলার যাবতীয় খরচ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজীব কুমারের ঘাড়ে যেন চাপানো দাবিও তোলা হয়। এই সমস্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট কী সিদ্ধান্ত নেয় তাই এখন দেখার।

    জোড়া মামলায় প্রথমেই মমতার নাম

    মমতার সবুজ ফাইল, ল্যাপটপ এবং নথি ছিনতাইকে ডাকাতির সঙ্গে তুলনা করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ২টি মামলাও দায়ের করেছে। একটি মামলা করেছে ইডি (Enforcement Directorate) এবং অপর আরেকটি মামলা দায়ের করেছে ইডির তিন অফিসার নিশান্ত কুমার, বিক্রম অহলাওয়াত এবং প্রশান্ত চাণ্ডিলা। সুপ্রিম কোর্টে জোড়া মামলার প্রথমটি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নামে। মামলায় দুই নম্বর পক্ষের নাম রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তারপরেই নাম রয়েছে রাজীব কুমারের।

    রাজীব কুমার ব্যাগটা গোছান

    ইডির (Enforcement Directorate) তদন্তে বাধা দেওয়ার ঘটনায় রাজ্যের তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, “কলকাতা পুলিশ নিজেই ফেঁসে বসে আছে। একটু আগেই আমি পেয়েছি, ইডি সুপ্রিম কোর্টে কেস ফাইল করেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং স্বরাষ্ট্র দফতর, পুলিশ দফতরের বিরুদ্ধে। মনোজ ভার্মা, রাজীব কুমার ব্যাগটা গোছান।”

  • Election Commission: “বোরকা” পরা ভোটারদের জন্য বুথে বিশেষ ব্যবস্থা, ১২টি বিকল্প পরিচয়পত্রে হবে ভোট, জানাল কমিশন

    Election Commission: “বোরকা” পরা ভোটারদের জন্য বুথে বিশেষ ব্যবস্থা, ১২টি বিকল্প পরিচয়পত্রে হবে ভোট, জানাল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বোরকা’ ব্যবহারকারি মহিলাদের ভোটদানের জন্য এবার বিশেষ ব্যবস্থা নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এ ধরনের মহিলা ভোটারদের ভোটার হিসেবে চিহ্নিতকরণের জন্য বুথে মহিলা ভোট কর্মী বা সহায়িকা থাকা বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ধর্মীয় প্রথা মেনে বা শালীনতা রক্ষার জন্য যে মহিলারা ‘বোরকা’ ব্যবহার করেন তাদের ধর্মীয় আচার বা প্রথা অথবা সংস্কার অক্ষুন্ন রেখে মহিলা নির্বাচন কর্মীরা বিধানসভা (West Bengal Assembly Election) কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভোটার হিসেবে তাদের চিহ্নিতকরণের কাজ করবেন। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তি জারি করে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    ১২টি বিকল্প পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ভোট দান (Election Commission)

    নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যাদের নাম রয়েছে অর্থাৎ চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যারা যোগ্য ভোটার হিসেবে গণ্য হয়েছেন, ভোটদানের জন্য সেই ভোটাররা নির্দিষ্ট সচিত্র ভোটার কার্ড বা এপিক কার্ড ছাড়াও আরও ১২টি বিকল্প পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। আসন্ন বিহার বিধানসভা (West Bengal Assembly Election) সাধারণ নির্বাচনসহ দেশের ৮টি বিধানসভার উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে এই নির্দেশিকা চালু ছিল। আগামী দিনে বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনগুলিতেও যেহেতু বিহার মডেল অনুসরণ করা হবে, তাই ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য যোগ্য ভোটাররা নির্দিষ্ট সচিত্র ভোটার কার্ড ছাড়াও এই ১২টি বিকল্প পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ভোটদান করতে পারবেন।

    নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিহার সহ ৮টি বিধানসভার উপনির্বাচন ক্ষেত্রগুলিতে ১০০ শতাংশ ভোটারের ‘ইলেকটর্স ফটো আইডেন্টিটি কার্ড’ (EPIC) রয়েছে। তাই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যে সমস্ত যোগ্য ভোটারের নাম নথিভুক্ত রয়েছে ভোট দিতে যাওয়ার সময় ভোটের বুথে যদি তাঁরা এই নির্দিষ্ট সচিত্র ভোটার কার্ড না নিয়ে গেলেও আরও ১২টি পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

    এই ১২টি বিকল্প পরিচয়পত্র হল—

    ১) আধার কার্ড

    ২) ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের জব কার্ড

    ৩) ব্যাঙ্ক অথবা পোস্ট অফিসের সচিত্র পাসবুক

    ৪) ভারতীয় পাসপোর্ট

    ৫) ড্রাইভিং লাইসেন্স

    ৬) আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য কার্ড অথবা কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রকের ইস্যু করা স্বাস্থ্য বীমা সংক্রান্ত স্মার্ট কার্ড

    ৭) প্যান কার্ড

    ৮) জাতীয় জনসংখ্যা পঞ্জির অন্তর্ভুক্ত জাতীয় রেজিস্ট্রার জেনারেলের ইস্যু করা স্মার্ট কার্ড

    ৯) সচিত্র পেনশন ডকুমেন্ট

    ১০) কেন্দ্র বা রাজ্য অথবা সরকারি কোম্পানিগুলির ইস্যু করা সার্ভিস আইডেন্টিটি কার্ড

    ১১) সাংসদ অথবা বিধায়কদের ইস্যু করা অফিসিয়াল আইডেন্টিটি কার্ড

    ১২) কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায়বিচার মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ইস্যু করা ইউনিক ডিসেবিলিটি আইডি (UDID) কার্ড

    ১৯৬০ সালের রেজিস্ট্রেশন অফ ইলেক্টরস রুলস

    উপরোক্ত এই ১২টি বিকল্প পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তখনই ভোট দেওয়া যাবে, যখন ওই ভোটার চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় (Election Commission) যোগ্য ভোটার হিসেবে বিবেচিত হবেন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নথিভুক্ত থাকতে হবে এ কথা বারবার উল্লেখ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ১৯৬০ সালের রেজিস্ট্রেশন অফ ইলেক্টরস রুলস অনুযায়ী এপিক কার্ড বা ভোটার কার্ড বুথে একজন যোগ্য ভোটারের চিহ্নিতকরণের কাজের জন্যই ব্যবহার করা হয়। সেক্ষেত্রে যদি কোন ভোটার এই সচিত্র ভোটার কার্ড (West Bengal Assembly Election) না নিয়ে ভোট দিতে চান তখন বিকল্প হিসেবে ১২ টি অনুরূপ পরিচয়পত্র দেখিয়ে তিনি ভোট দিতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট নির্বাচন আধিকারিকরা ভোটের বুথে সেই পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখে ভোটদানে অনুমতি দেবেন।

  • I-PAC Raid Case: ‘আইন নিজের হাতে নেওয়াই মমতার রীতি’, আই প্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের বিরুদ্ধে জোড়া মামলা ইডির

    I-PAC Raid Case: ‘আইন নিজের হাতে নেওয়াই মমতার রীতি’, আই প্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের বিরুদ্ধে জোড়া মামলা ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আই-প্যাক (I-PAC) মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে জরুরি শুনানির আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) গেল ইডি (Enforcement Directorate)। ইডির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে আইন নিজের হাতে নিচ্ছেন এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার কাজে বাধা দিতে রাজ্য পুলিশের ‘অপব্যবহার’ করছেন। আই প্যাক-কাণ্ডে রাজ্যের বিরুদ্ধে সোমবার জোড়া মামলা দায়ের করেছে ইডি। একটি মামলা ইডির তরফে দায়ের করা হয়েছে। অপর মামলাটি দায়ের করেছেন ইডির তিন আধিকারিক নিশান্ত কুমার, বিক্রম অহলওয়াত এবং প্রশান্ত চান্ডিলা। দুই মামলাতেই রাজ্যের পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) মনোজ কুমার বর্মা, কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায় এবং সিবিআইকে।

    আইন রক্ষকরাই অপরাধে যুক্ত

    ইডির আবেদনে বলা হয়েছে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দসই না হলে বা তাতে তাঁর দল, মন্ত্রী কিংবা ঘনিষ্ঠ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তথ্য উঠে আসার সম্ভাবনা থাকলে—তখনই একই ধরনের হস্তক্ষেপের ‘প্যাটার্ন’ দেখা যাচ্ছে। শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে ইডি উল্লেখ করেছে, পশ্চিমবঙ্গে এমন এক মারাত্মক পরিস্থিতি (Shocking situation in West Bengal) তৈরি হয়েছে যেখানে আইন রক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাই গুরুতর অপরাধে মদত দিচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যের ডিজিপি ও কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কথা তুলে ধরেছে ইডি। তাদের বক্তব্য, ২০১৪ সালের ললিতা কুমারী বনাম উত্তরপ্রদেশ সরকার মামলার রায়ের আলোকে এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের হওয়া বাধ্যতামূলক।

    তল্লাশিতে কীভাবে বাধা দেওয়া হয়

    ইডি জানিয়েছে, তারা যে আই-প্যাকের (I-PAC) প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের (Pratik Jain) বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিলেন তার জন্য যথেষ্ট কারণ ছিল। তদন্তে জানা গেছিল, ২০ কোটি টাকার বেশি ‘অপরাধলব্ধ অর্থ’ তারা পেয়েছে। কিন্তু সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব, ডিজিপি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার ও অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকরা একসঙ্গে সেখানে ঢুকে পড়েন বলে অভিযোগ। ইডির দাবি, ওই আধিকারিকরা তদন্তকারী অফিসারদের ভয় দেখান, হুমকি দেন এবং তল্লাশির সময় বাজেয়াপ্ত করা গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক প্রমাণ কেড়ে নেন। এমনকি তল্লাশি আর চালাতেও দেওয়া হয়নি। ইডির ভাষায়, এটি ছিল প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA) অনুযায়ী সংগৃহীত প্রমাণে সরাসরি হস্তক্ষেপ।

    সংবিধান ও আইনের শাসন অপমানিত

    ইডির স্পষ্ট বক্তব্য, সংগৃহীত প্রমাণের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপের যোগ নেই। তা সত্ত্বেও, মুখ্যমন্ত্রী ও শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের মাধ্যমে সেই প্রমাণ কেড়ে নেওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে ঘটায় সংবিধান ও আইনের শাসন চরমভাবে অপমানিত হয়েছে। ইডি আরও বলেছে, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্বে থাকায় রাজ্য পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করা অর্থহীন। এতে প্রকৃত তদন্ত না হয়ে প্রভাবশালীদের আড়াল করার চেষ্টা হবে। ইডির আবেদনে দাবি করা হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টে মামলার শুনানির সময়ও শাসক দলের সমর্থকেরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেন। এমনকি দলীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আদালতে ভিড় জমাতে বার্তাও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে আদালত শুনানি মুলতুবি রাখতে বাধ্য হয়।

    সিবিআই তদন্তের দাবি ইডি-র

    এই প্রেক্ষিতে ইডি শীর্ষ আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত সিবিআই-কে দিয়ে করানো হোক। ইডির মতে, এটি ‘রেয়ারেস্ট অফ রেয়ার’ পরিস্থিতি, যেখানে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ জরুরি—যাতে কোনও রাজনৈতিক নেতা ভবিষ্যতে প্রকাশ্যে আইন নিজের হাতে নেওয়ার সাহস না পান। ইডি আরও জানিয়েছে, তারা বহু-রাজ্য মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত একটি বৃহৎ মামলা তদন্ত করছেন। তদন্ত অনুযায়ী ২৭৪২.৩২ কোটি টাকার অপরাধমূলক অর্থ অবৈধ কয়লা খনি থেকে সরকারি কোষাগারে পৌঁছেছে। ইতিমধ্যেই ২০ কোটি টাকারও বেশি অপরাধমূলক অর্থের প্রাপ্তির প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।

    সুপ্রিম দুয়ারে ইডির আবেদন

    উল্লেখ্য এর আগেও আই প্যাক ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ইডি। শনিবার সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় একটি আবেদন করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কয়লা কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে, অভিযোগ জানিয়ে সিবিআই তদন্তের আর্জি জানিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আর্থিক তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, তাদের আধিকারিকদের আইনসম্মতভাবে তল্লাশি চালানো এবং কয়লা পাচার মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য বাজেয়াপ্ত করতে বাধা দেওয়া হয়। ইডি-র আরও দাবি, রাজ্যের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতেই সংশ্লিষ্ট ওই স্থানগুলি থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস জোর করে সরিয়ে নেওয়া হয়। আই প্যাক-কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টেও মামলা করেছে ইডি। সেই মামলার শুনানি ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতুবি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের আশঙ্কা ছিল যে, ইডি ওই মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে। সে কারণে সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করে রেখেছিল রাজ্য, যাতে সেখানে ইডির বক্তব্য একতরফা ভাবে না শোনা হয়। যদি ইডি মামলা করে, তা হলে দুই পক্ষের বক্তব্য যেন শোনা হয়, সেই জন্য দাখিল করা হয় ক্যাভিয়েট।

  • Suvendu Adhikari: “চা বাগানের শ্রমিকদের কাজের নথি এসআইআরে প্রামাণ্য”, শুভেন্দুর আবেদনে সিলমোহর কমিশনের

    Suvendu Adhikari: “চা বাগানের শ্রমিকদের কাজের নথি এসআইআরে প্রামাণ্য”, শুভেন্দুর আবেদনে সিলমোহর কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চা বাগানের নথিতেই ভোটার তালিকায় (SIR) তোলা যাবে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় পরিচয় এবং বাসস্থানের নথি হিসেবে চা বাগান এবং সিনকোনা বাগানের কর্মসংস্থানের রেকর্ড দেখানো যাবে। এবার মান্যতা দিলেন নির্বাচন কমিশন। বিজেপির তরফে উত্তরবঙ্গের চা বাগান এলাকায় এই দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে আগেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু আধিকারী (Suvendu Adhikari) তুলেছিলেন। এবার কমিশন মান্যতা দিয়েছে। গতকাল ১১ জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হয়েছে এই নির্দেশিকা।

    ভোট আপনাদের প্রকৃত শক্তি (Suvendu Adhikari)

    রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে বসবাসকারী জনজাতি, বনবাসী এবং বাগান শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে নথিগত সমস্যায় রয়েছে। এই জন্য তাঁদের ভোটাধিকার থেকেও বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। রাজ্য সরকার এই এলাকার মানুষকে বহুদিন ধরে ভোটাধিকার দেয়নি। বঞ্চনার শিকার শ্রমিকরা। নির্বাচন কমিশনের (SIR) সিদ্ধান্ত একটি বড় জয় এবার। এখন থেকে চা বাগান বা সিনকোনা বাগানে কর্মসংস্থানের নথি ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। আপানাদের ভোট আপনাদের প্রকৃত শক্তি।”

    ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ আমল থেকেই কাজে নিযুক্ত

    গত ৬ জানুয়ারি শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। এই চিঠিতে চাবাগান এবং সিনকোনা বাগানের কর্মসংস্থানের রেকর্ডকে পরিচয় ও বাসস্থানের সরকারি প্রমাণ হিসবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানান। প্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫০ অনুযায়ী সার্বজনীন প্রাপ্ত বয়স্ক ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে অন্তর্ভুক্তমূলক ও সঠিক ভোটার তালিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূল সরকার নানা টালবাহানা করে এই এলাকার জনগণকে প্রাপ্য ভোটাধিকার (SIR) থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে। শুভেন্দু বলেন, “উত্তরবঙ্গের বহু চা বাগান এলাকায় বহু শ্রমিকেরা পূর্বপুরুষরা ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ আমালে এই অঞ্চলে কাজ শুরু করেছিলেন। সেই সময়ের সরকারি নথির অভাব থাকায় একমাত্র নির্ভরযোগ্য রেকর্ড হিসেবে বাগান মালিকের নথিই সংরক্ষিত ছিল। স্বাধীনতার পর বংশ পরম্পরায় এই নথিগুলি তাঁদের পরিচয়, বাসস্থান এবং পরিবারের তথ্য। শ্রম সংক্রান্ত কল্যাণমূলক প্রকল্পে এই নথিগুলি কার্যত প্রমাণপত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।”

    কোন কোন এলাকায় প্রযোজ্য

    রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের সিইও দফতর একটি নির্দেশিকা পাঠিয়ে জানিয়েছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম তুলতে নির্দিষ্ট বাগানের কর্মসংস্থান নথি দেখালেই হবে। তবে সেই সঙ্গে দিতে গবে বাসস্থানের বৈধ প্রমাণপত্রও (SIR)। এগুলিদিলেই ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে আর কোনও সংশয় থাকবে না। এই নির্দেশিকা কেবলমাত্র উত্তরবঙ্গের সাত জেলা যথা- দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং কোচবিহারের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। এই এলাকার চা বাগান এবং সিনকোনা চা বাগানের জন্যই বেশি পরিমাণে প্রযোজ্য হবে।

    আগে ১১ নথি ছিল

    যদিও আগে নির্বাচন কমিশন ১১টি নথির কথা জানিয়েছিল। তাঁর মধ্যে আধার কার্ড এবং বিহারের এসআইআর নথি গ্রহণের কথা বলেছেন। এই এলাকার শ্রমিকরা বংশ পরম্পরায় উত্তরসূরী। নির্বাচন কমিশন শ্রমিকদের ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য কাজের কাগজে সিলমোহর দিয়ে উত্তরবঙ্গের সাত জেলার জেলাশাসককে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে।

    প্রান্তিক এলাকার মানুষের সুবিধা

    নির্বাচন কমিশন (SIR) পশ্চিমবঙ্গের সম্প্রতি মানুষের কথা ভেবে এসআইআর শুনানিতে প্রক্রিয়ায় আরও একটি বদল এনেছে কমিশন। রাজ্যের বিচ্ছিন্ন জনবসতি এবং প্রান্তিক মানুষের স্বার্থে ডিসেন্ট্রালইজড হিয়ারিং বা বিকেন্দ্রিত শুনানির অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। চা বাগানের কর্মীদের জন্য নির্বাচন কমিশন এই বিশেষ নথিকেও এখন মান্যতা দিয়েছে। প্রান্তিক মানুষের কথা ভেবে এসআইআর শুনানিতে এই নতুন নির্দেশিকা ব্যাপক ভাবে সহযোগিতা করবে বলে অনেকেই মত প্রকাশ করেছেন।

    ভোট শতাংশের তফাৎ মাত্র ১০ শতাংশ

    রাজ্যে এসআইআর নিয়ে প্রথম থেকেই  তৃণমূলের আপত্তি। খসড়া তালিকায় ইতিমধ্যে বাদ গিয়েছে ৫৮ লক্ষের বেশি নাম। লোকসভা ভোটে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির ভোট শতাংশের তফাৎ মাত্র ১০ শতাংশ। অপরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক সভায় নাম বাদ পরা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। দিল্লিতে মুখ্যনির্বাচন কমিশনার জ্ঞাণেশকুমারের সঙ্গে দেখা করে কমিশনকে নিশানা করেছিলেন অভিষেক। তবে পাল্টা বিজেপিও অবৈধ ভোটার প্রসঙ্গে সরব হয়েছে। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গাদের একজনের নামও তালিকায় থাকবে না বলে হুঁশিয়ারই দিয়েছে বঙ্গ বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

  • I-Pac: আইপ্যাকের অভিযানে দিল্লির সদর দফতরে রিপোর্ট পাঠাল ইডি, মমতার বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ

    I-Pac: আইপ্যাকের অভিযানে দিল্লির সদর দফতরে রিপোর্ট পাঠাল ইডি, মমতার বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইপ্যাক (I-Pac) অভিযানে বিস্তারিত রিপোর্ট দিল্লির সদর দফতরে পাঠাল ইডি (Enforcement Directorate)। তাতে সাফ জানানো হয়েছে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই তদন্তের নথি, ল্যাপটপ এবং হার্ডডিক্স ছিনতাই করে নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় বাহিনী, কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা ঠিক কেমন ছিল বিশদে জানতে চেয়ে রিপোর্ট করা হয়েছে। আর তার ভিত্তিতেই প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, বিবরণ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে ইডি।

    কপি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হবে (I-Pac)

    রাজ্যে কয়লা পাচার এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেনের তদন্ত করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যাপক বাধার সম্মুখীন হন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। সল্টলেক সেক্টর ফাইভ এবং লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাকের (I-Pac) কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। এই ঘটনার বিস্তৃত বিবরণ দিয়ে একটি রিপোর্ট তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এরপর দিল্লির ইডির (Enforcement Directorate) সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতরেও রিপোর্ট পাঠানো হতে পারে।

    ১২ টা ০৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে যান মমতা

    ঘটনার দিনের বিবরণ ইতিমধ্যেই একটি প্রেস বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছে ইডি। কলকাতা হাইকোর্টে যে মামলা করা হয়েছে তা মামলার নথিতে স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে। তবে ইডির দাবি, তল্লাশি চলাকালীন জোর করে গুরুত্বপূর্ণ নথি কেড়ে নিয়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বেআইনি আর্থিক মামলায় পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লির ১০টি জায়গায় তদন্তে বাধার অভিযোগ তুলেছে। সাংবিধানিক ক্ষমতাকে অবৈধভাবে ব্যবহার করে তাল্লাশি অভিযান চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিনতাই করে নিয়ে যান তিনি। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। ইতিমধ্যেই তারা আদালতে জানিয়েছে, প্রতীকের (I-Pac) বাড়িতে তল্লাশির সময় একাধিক ডিজিটাল নথি উদ্ধার করা হয়েছে। বেলা ১১ টা নাগাদ কলকাতা পুলিশের সাউথ ডিসি প্রিয়ব্রত রায় লাউডন ষ্ট্রিটের ওই বাড়িতে যান। পুলিশ কর্তার অবশ্য দাবি, ওই বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। পরে অবশ্য ইডির অফিসাররা সকলের পরিচয় এবং তল্লাশির কাগজপত্র দেখান। ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মনোজ বর্মাও। দুপুর ১২ টা ৫ মিনিট নাগাদ ঘটনাস্থলে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। নিজের অধিকার প্রয়োগ করে তদন্তের কাজে বাধা দেন। জোর করে ডিজিটাল নথি তুলে নিয়ে যান। ১২ টা ১৫ মিনিট নাগাদ ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে যান। তৃণমূলের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই মামলা করা হয়। পৃথকভাবে মামলা করা হয়েছে ইডির (Enforcement Directorate) তরফেও। আগামী ১৪ জানুয়ারি এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।

    পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন ইডির

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রিপোর্টে ইডির কাছে জানতে চেয়েছে, তল্লাশির (I-Pac) সময় কোন কোন সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছিল তদন্তকারীদের। রাজ্য পুলিশের ভূমিকাই কি ছিল? পুলিশ কতটা সক্রিয় ছিল? কেন্দ্রীয় বাহিনী ওই সময় কোন দায়িত্ব পালন করেছে। তাল্লাশির পর রাজ্যের শাসকদল কি ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে? এই সব বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। আইপ্যাক অভিযানের পরের দিনই আবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “এই তল্লাশি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল জানার লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থা অভিযান চালিয়েছে এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গোপনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।” অন্য দিকে, তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (Enforcement Directorate)। ইডি জানিয়েছে, “বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের কোনও যোগ নেই।”

    দুর্নীতির তদন্ত চান না মুখ্যমন্ত্রী?

    তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (Enforcement Directorate) পক্ষ থেকে বলা হয়, “সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তদন্ত প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং জোর করে গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।” ফলে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এবার পুরো ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। উল্লেখ্য আগেও তৃণমূলের নেতাদের দুর্নীতি ঢাকতে বিভিন্ন সময়ে ইডি-সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন, কাজে বাধা দিয়েছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যদি তদন্তে বাধা দেন তাহলে এই রাজ্যে দুর্নীতিগ্রস্থদের পাশে সরকার এই কথা বলতেই হয়। অন্তত এমনই অভিমত বিজেপির।

  • IPAC: “পুরো ঘটনাটি তৃণমূলের পরিকল্পিত”, বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর

    IPAC: “পুরো ঘটনাটি তৃণমূলের পরিকল্পিত”, বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৯ জানুয়ারি কোর্টরুমে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার জেরে ভেস্তে গিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে আইপ্যাক (IPAC) অভিযান হানা নিয়ে ইডির দায়ের করা মামলার শুনানি। হট্টগোল না থামায় এজলাস থেকে বেরিয়ে যান বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। এই মমলার পরবর্তী শুনানি হবে দিন সাতেক পরে। এহেন পরিস্থিতিতে তৃণমূলকেই নিশানা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, পুরো ঘটনাটি তৃণমূলের পরিকল্পিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া তৃণমূলের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের চ্যাটের স্ক্রিনশট তুলে ধরে এই দাবি করা হয়েছে। যদিও সেই স্ক্রিনশটের সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম। শুভেন্দুর দাবি, এটা পরিকল্পনা করেই করেছে তৃণমূল। এই পরিপ্রেক্ষিতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের চ্যাট ভাইরাল হয়েছে। তাতে লেখা, কোর্ট নম্বর ৫-এ সবাই চলে আসবেন। রাজ্যের বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, এরই পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কক্ষে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন তৃণমূলপন্থী আইনজীবীরা।

    বিচারপতির বক্তব্য (IPAC)

    বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ জানান, আদালতের পরিবেশ শুনানির (Suvendu Adhikari) উপযোগী ছিল না। বিচারপতির বক্তব্য (IPAC), “এজলাসে আইনজীবী থেকে শুরু করে উপস্থিত অন্যরা গোলযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁদের বারবার অনুরোধ করা হয় আদালতের মর্যাদা ও শিষ্টাচার রক্ষা করার জন্য। কিন্তু সেই অনুরোধ কারও কানে পৌঁছয়নি। তাই বাধ্য হয়েই আদালত মুলতুবি করা হল। আগামী ১৪ জানুয়ারি নতুন করে এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করা হল।” কথাগুলি বলেই এজলাস ছেড়ে চলে যান বিচারপতি।

    কবুল কল্যাণের

    এদিন তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করার কথা ছিল আইনজীবী তথা তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনিও বলেন, “খুব হইচই হচ্ছিল। বিচারপতি বলেছেন, ওই পরিবেশে তিনি শুনানি করেন না।” যদিও রাজ্যের বিরোধী দলনেতার দাবি, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এজলাসে ভিড় করে রাখা হয়েছিল। আর সেটা করেছিল তৃণমূল। শাসক দল অবশ্য সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে যে অর্ডার কপি সামনে এসেছে, তাতে বিচারপতি নিজে জানিয়েছেন শুক্রবার কোর্টরুমের ভেতরে ঠিক কী হয়েছিল।

    প্রসঙ্গত, হাইকোর্টে শুনানি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় (Suvendu Adhikari) শনিবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির আবেদন করেছে ইডি। যদিও তার আগেই রাজ্যের তরফে ক্যাভিয়েট দাখিল করা হয়েছে দেশের শীর্ষ আদালতে (IPAC)।

LinkedIn
Share